সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

আমার বয়স ৪২, বছরে আয় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি! তবুও আমি ধনী নই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১১:২৫
বছরে ছয় অঙ্কের বেতন পেয়েও জীবনযাত্রার ব্যয় ও করের চাপে ব্রিটেনের অনেক মানুষ নিজেকে ধনী ভাবছেন না | ছবি: সংগৃহীত
বছরে ছয় অঙ্কের বেতন পেয়েও জীবনযাত্রার ব্যয় ও করের চাপে ব্রিটেনের অনেক মানুষ নিজেকে ধনী ভাবছেন না | ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ বেতন পেলেই যে কেউ ধনী হয়ে যান, এমন ধারণা এখন আর বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। যুক্তরাজ্যে ক্রমেই বাড়ছে এমন এক শ্রেণির মানুষের সংখ্যা, যারা ভালো আয় করলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, করের চাপ এবং ঋণের বোঝার কারণে উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলতে পারছেন না। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা এই শ্রেণিকে বলছেন ‘হেনরি’ বা—‘হাই আর্নার, নট রিচ ইয়েট’।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরে ছয় অঙ্কের বেতন পাওয়া অনেক পেশাজীবীও এখন খরচ কমাতে ব্যবহৃত পোশাক কেনাবেচার জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ভিনটেড ব্যবহার করছেন। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু অর্থ সাশ্রয়ের উপায় নয়, বরং আর্থিক পরিকল্পনারও একটি অংশ।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আয়ের পরও ধনী হতে না পারার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে লন্ডনসহ বড় শহরগুলোতে বাড়িভাড়া বা আবাসন ঋণের কিস্তি, সন্তানদের দেখভালের খরচ, কর এবং দৈনন্দিন ব্যয় আয়ের বড় অংশ গ্রাস করে নেয়। ফলে ভালো বেতন থাকা সত্ত্বেও অনেকের হাতে সঞ্চয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। 

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আরেকটি বড় সমস্যা হলো ‘লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন’। অর্থাৎ আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যায়। বড় বাড়ি, দামি গাড়ি, বিলাসী ভ্রমণ ও উচ্চমানের জীবনধারা ধরে রাখতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের সুযোগ কমে যায়। 

 

এমন বাস্তবতায় অনেক উচ্চ আয়ের মানুষ ব্যবহৃত পোশাক ও বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম ভিনটেডের মতো সেবা ব্যবহার করছেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপজুড়ে ব্যবহারকারীরা নতুন পোশাক কেনার পরিবর্তে ব্যবহৃত পোশাক কিনে মোট ২১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করেছেন। একই সময়ে গড় হিসেবে নতুন পণ্যের তুলনায় প্রায় ৭২ শতাংশ কম দামে ফ্যাশন পণ্য কিনেছেন ব্যবহারকারীরা।

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু উচ্চ আয় করাই যথেষ্ট নয়; সেই আয়ের একটি বড় অংশ নিয়মিত সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং সম্পদ গঠনে ব্যয় করাই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। অন্যথায় উচ্চ বেতন থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বছরের পর বছর ‘হেনরি’ শ্রেণিতেই থেকে যেতে পারেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ‘দ্য স্টারি নাইট’ বা ‘তারাভরা রাত’ চিত্রকর্মটি নিয়ে নতুন গবেষণা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাতের আকাশে লুকিয়ে কোন রহস্য, ভ্যান গঘের বিখ্যাত ছবিতে নতুন চমক

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ‘দ্য স্টারি নাইট’ বা ‘তারাভরা রাত’ চিত্রকর্মটি নিয়ে নতুন গবেষণা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২২ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকেরা চিত্রকর্মটিতে দেখা আকাশের বিন্যাসের সঙ্গে ১৮৮৯ সালের বাস্তব আকাশের অবস্থার তুলনা করেছেন। গবেষণার লক্ষ্য ছিল, ছবিটির পরিচিত আকাশদৃশ্য কোনো নির্দিষ্ট রাতের আকাশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল কি না, তা আরও ভালোভাবে বোঝা।   ভ্যান গঘ ১৮৮৯ সালে ফ্রান্সের সাঁ-রেমি অঞ্চলে অবস্থানকালে এই বিখ্যাত চিত্রকর্মটি আঁকেন। ছবিতে ঘূর্ণায়মান আকাশ, উজ্জ্বল তারা, চাঁদ এবং নিচে একটি শান্ত জনপদের দৃশ্য রয়েছে। এর রঙ, রেখা ও আবেগপূর্ণ উপস্থাপনা বহু বছর ধরে শিল্পপ্রেমী ও গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   গবেষকেরা ঐতিহাসিক সময়, আকাশের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অবস্থান এবং ছবিতে থাকা দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক পরীক্ষা করেছেন। এ ধরনের গবেষণায় জ্যোতির্বিজ্ঞান ও শিল্প-ইতিহাসের তথ্য একত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে কোনো চিত্রকর্মের সঙ্গে বাস্তব আকাশের মিল পাওয়া গেলেই সেটি হুবহু বাস্তব দৃশ্যের অনুলিপি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। শিল্পীর কল্পনা, স্মৃতি এবং সৃজনশীল পরিবর্তনও ছবির অংশ হতে পারে।   ‘তারাভরা রাত’ শুধু একটি রাতের আকাশের ছবি নয়; এটি শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও প্রকৃতিকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রকাশ। নতুন গবেষণা চিত্রকর্মটির সম্ভাব্য বাস্তব অনুপ্রেরণা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, তবে এর শৈল্পিক ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৫:৫৪
মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে শ্রীলঙ্কা উপকূলে আটকে থাকা জাহাজের অসুস্থ ইরানি নাবিকদের উদ্ধার করে গল বন্দরে আনা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন অবরোধে আটকা ৪০ ইরানি নাবিককে উদ্ধার করে দেশে ফেরাল শ্রীলঙ্কা

উত্তরপ্রদেশের শ্মশানঘাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি ঘিরে কথিত কালোজাদুর আয়োজনের অভিযোগে চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

শ্মশানে মোদির ছবি ঘিরে কালোজাদুতে আটক চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর, তদন্তে পুলিশ

জাপানে ইসলামকে কাছ থেকে জানার আমন্ত্রণ মুসলিমদের, টোকিও মসজিদে অমুসলিমদের মিলনমেলা

জাপানে ইসলামকে কাছ থেকে জানার আমন্ত্রণ মুসলিমদের, টোকিও মসজিদে অমুসলিমদের মিলনমেলা

রাশিয়ায় পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের আবেদনের ছবিতে মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রাখার শর্তে মুসলিম নারীদের হিজাব পরার অনুমতি আগে থেকেই রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের ছবিতে মিলল আনুষ্ঠানিকভাবে হিজাবের অনুমতি

রাশিয়ায় পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের আবেদনের ছবিতে মুসলিম নারীরা হিজাব পরতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান রাখাসহ বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা হলেও রাশিয়ায় এই অনুমতি আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের বিধিমালায় বিদেশি নাগরিকত্বপ্রার্থীদের জন্যও ধর্মীয় কারণে মাথা ঢেকে ছবি জমা দেওয়ার সুযোগ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২১ মার্চ জারি করা ১২৫ নম্বর আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অপরিচিত মানুষের সামনে মাথা অনাবৃত রাখা সম্ভব না হলে তিনি ধর্মীয় পোশাক পরেই নাগরিকত্বের আবেদনের ছবি জমা দিতে পারবেন। ওই আদেশ ৫ মে থেকে কার্যকর হয়। ফলে মুসলিম নারীদের হিজাব খুলে ছবি তোলার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে শর্ত হলো, হিজাব বা মাথার কাপড় দিয়ে মুখের স্বাভাবিক আকৃতি আড়াল করা যাবে না।   বিধিমালায় বলা হয়েছে, ছবিতে আবেদনকারীর মুখের সম্পূর্ণ গঠন স্পষ্টভাবে বোঝা যেতে হবে। বিশেষ করে কপাল, চোখ ও থুতনি এমনভাবে দৃশ্যমান রাখতে হবে, যাতে পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা না হয়। হিজাব বা স্কার্ফ দিয়ে থুতনির পুরোটা কিংবা কোনো অংশ ঢেকে রাখা যাবে না। একইভাবে মুখের আকৃতি আড়াল করে এমন পোশাক পরেও ছবি জমা দেওয়া যাবে না। এসব শর্ত পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছবি গ্রহণ না করার সুযোগ রাখে।   নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য ছবির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ বাই ৪ সেন্টিমিটার। আবেদনকারীকে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তুলতে হবে। ছবির পটভূমি হতে হবে সাদা এবং সেখানে কোনো ছায়া বা অপ্রয়োজনীয় বস্তু থাকা চলবে না। চোখ স্পষ্টভাবে খোলা থাকতে হবে এবং চুল দিয়ে চোখ ঢেকে রাখা যাবে না। ছবিতে মুখের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ডিজিটাল সম্পাদনাও গ্রহণযোগ্য নয়।   এই সুবিধা শুধু মুসলিম নারীদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়ার বিধিমালায় ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ধর্মীয় মাথার পোশাক পরে ছবি জমা দিতে পারবেন। তবে সাধারণ ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে টুপি কিংবা মাথার অন্য কোনো পোশাক পরার ক্ষেত্রে এই বিশেষ ছাড় প্রযোজ্য নয়।   রাশিয়ায় ধর্মীয় পোশাক পরে সরকারি নথির ছবি তোলার অধিকার নিয়ে বিতর্কের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ২০০৩ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ধর্মীয় কারণে মাথা ঢেকে পাসপোর্টের ছবি তোলার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিমালায় ধর্মীয় মাথার পোশাক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়। ২০২৪ সালে নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত আলাদা বিধিমালায় বিদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক প্রচারণায় এটিকে ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ নতুন অনুমতি হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।   রুশ পার্লামেন্টের নিরাপত্তা ও দুর্নীতিবিরোধী কমিটির সদস্য বিসুলতান খামজায়েভ ২০২৪ সালে জানিয়েছিলেন, এই বিধানের উদ্দেশ্য ধর্মীয় ঐতিহ্য পালনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিচয় শনাক্তকরণ ও ভিডিও নজরদারি ব্যবস্থায় মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও মুখ ঢেকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি।   রাশিয়ার সরকারি বিধিমালার এই ব্যবস্থা দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক এবং ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদন করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব ব্যবহার করেন এমন নারীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ছবি জমা দিতে পারবেন। তবে হিজাব পরার অনুমতি মানেই নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত সহজ করা নয়। নাগরিকত্বের আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য আইনি যোগ্যতা আগের মতোই পৃথকভাবে যাচাই করা হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১০:৮
১৪ বছর বয়সে সংঘটিত কথিত অপরাধের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৯ বছর বয়সী যুবক হাসান জাকি আল ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছর বয়সের করা এক অপরাধের জন্য সৌদিতে ২৯ বছরের যুবকের মৃত্যুদণ্ড

নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব

নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান, তবে শর্তে অনড় তেহরান

শীতের আগে গ্যাসের মজুত নিয়ে চাপে ইউরোপ
শীত আসার আগেই গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগে ইউরোপ, যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তে পারে জ্বালানির দাম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় শীতের আগে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে ইউরোপ। সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে শীত মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার সময় সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল ইউরোপের গ্যাস সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর সতর্কবার্তায় শীতের আগে জ্বালানি মজুতের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো শীতকালে ঘরবাড়ি গরম রাখা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানা সচল রাখতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভর করে। ফলে শীত শুরুর আগে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত করা দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে বা আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে মজুত পূরণের পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। এতে একই পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহ করতেও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন অঞ্চলের একটি। এ অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন, পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহের খরচ ও সময়—দুটিই বেড়ে যেতে পারে। ইউরোপের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ অঞ্চলটির দেশগুলোকে শীতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আগেভাগে গ্যাসের মজুত নিশ্চিত করতে হয়। সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে মজুত বাড়ানোর প্রতিযোগিতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জ্বালানি বিলে। গ্যাসের দাম বাড়লে শুধু পরিবারগুলোর ব্যয়ই বাড়ে না, উৎপাদন খরচও বেড়ে যায় বিভিন্ন শিল্পে। বিশেষ করে যেসব কারখানায় গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বা কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে। জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে পণ্য ও সেবার দামেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে ইউরোপের গ্যাস পরিস্থিতি নির্ভর করবে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, আন্তর্জাতিক সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক থাকে, বাজারে বিকল্প জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং দেশগুলো কত দ্রুত মজুত বাড়াতে পারে—এসব বিষয়ের ওপর। সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন দেখা দিলে শীতের চাহিদা মেটাতে ইউরোপকে আরও বেশি ব্যয় করতে হতে পারে। ফাতিহ বিরলের সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন শীতের প্রস্তুতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে গ্যাসের মজুত পূরণ, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা ইউরোপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২০:১২
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড় বার্তা ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার আহ্বান

যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড় বার্তা ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার আহ্বান

কলম্বিয়ার আমাজন অরণ্যে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন ছোট ভাইবোনকে নিয়ে ৪০ দিন প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে ছিল ১৩ বছরের লেসলি মুকুতুই। ছবি: সংগৃহীত

আমাজনে ৪০ দিন তিন ভাইবোনকে আগলে রেখেছিল ১৩ বছরের লেসলি, বেঁচে ছিলেন প্রত্যেকেই

জন্মের পরই নবজাতকের মুখে ঘন কালো গোঁফ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

জন্মের পরই নবজাতকের মুখে ঘন কালো গোঁফ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

0 Comments