অ্যাম্বুলেন্স আটকে দিল ইসরায়েলি বাহিনী, গর্ভের সন্তান হারালেন ফিলিস্তিনি মা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক চৌকিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক ফিলিস্তিনি নারী তাঁর গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াফার প্রতিবেদনে কারইউত এলাকার অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা বাশার আল-কারইউতির বরাতে বলা হয়, নাবলুসের দক্ষিণে আওয়ারতা সামরিক চৌকিতে ইসরায়েলি বাহিনী অ্যাম্বুলেন্সটির চলাচল বন্ধ করে দেয়। চৌকির ফটক বন্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় সেখানে আটকে ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ভুগছিলেন। সংকটাপন্ন অবস্থাতেও তাঁকে তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনারা অ্যাম্বুলেন্সের ইঞ্জিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে ভেতরে থাকা চিকিৎসা-সহায়তা সরঞ্জামও বন্ধ হয়ে যায়।
পরে অ্যাম্বুলেন্সটিকে হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা ওই নারীর জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হলেও গর্ভের সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলাচলের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গত দুই দিনে রামাল্লাহ, নাবলুস ও হেবরনসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক সামরিক চৌকি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি চৌকিতেও চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির আগে শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল শহরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে ঘিরে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। এরপর পশ্চিম তীরজুড়ে সামরিক অভিযান ও গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান আরও বিস্তারের হুমকি দিয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার চওড়া একটি গাড়ি তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন ইতালির মেকানিক আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। অবাক করার বিষয় হলো, গাড়িটি শুধু প্রদর্শনীর জন্য তৈরি কোনো মডেল নয়, এটি সত্যিকার অর্থেই চালানো যায়। ১৯৯৩ সালের একটি পুরোনো ফিয়াট পাণ্ডা গাড়ি কেটে নতুনভাবে তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর উদ্ভাবনকে বিশ্বের সবচেয়ে সরু চালানো যায় এমন গাড়ি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। ২০২৫ সালের ২১ জুন ইতালির বাগনোলো ক্রেমাস্কোতে গাড়িটির মাপ যাচাই করা হয়। পরে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০২৭ সংস্করণেও জায়গা পায় গাড়িটি। গাড়িটি তৈরির গল্প শুরু হয় ২০২৪ সালে। সে সময় ১৯৯৩ সালের একটি ফিয়াট পাণ্ডা আসে মারাজ্জির পরিবারের পুরোনো গাড়ি ভাঙা ও যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহারের প্রতিষ্ঠানে। গাড়িটি ভেঙে ফেলার কথা থাকলেও মারাজ্জি ভিন্ন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। ছোটবেলা থেকেই ফিয়াট পাণ্ডা গাড়ির প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তাই গাড়িটিকে নতুন জীবন দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন তিনি। নিজের এই প্রকল্পের নাম দেন ‘পাণ্ডা পের উনো’, যার অর্থ একজনের জন্য পাণ্ডা। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রথমে গাড়িটির দরজা ও পাশের বিভিন্ন অংশ খুলে ফেলেন মারাজ্জি। এরপর গাড়ির মাঝখান বরাবর একটি বড় অংশ কেটে বাদ দেন। দুই পাশের অবশিষ্ট কাঠামো আবার জোড়া লাগিয়ে তৈরি করেন সরু একটি গাড়ি। এ জন্য নতুনভাবে তৈরি করতে হয় গাড়ির ছাদ, সামনের বনেট, পেছনের দরজা ও জানালার কিছু অংশ। পুরো কাজের সবচেয়ে কঠিন ধাপ ছিল গাড়ির দুই পাশের কাঠামো এমনভাবে জোড়া লাগানো, যাতে সেটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে পারে। প্রায় এক বছরের পরিশ্রমে শেষ হয় এই ব্যতিক্রমী প্রকল্প। এত পরিবর্তনের পরও গাড়িটির প্রায় ৯০ শতাংশ যন্ত্রাংশ নেওয়া হয়েছে পুরোনো ফিয়াট পাণ্ডা থেকেই। তবে আগের পেট্রোল ইঞ্জিন সরিয়ে বসানো হয়েছে ছোট একটি ইলেকট্রিক মোটর ও ব্যাটারি। গাড়ির ভেতরে রয়েছে ছোট স্টিয়ারিং হুইল এবং চালকের বসার জায়গা। সামনে হেডলাইট, পেছনে লাইট এবং টার্ন সিগন্যালও সচল রাখা হয়েছে। দেখতে অস্বাভাবিক সরু হলেও গাড়িটি নিজের শক্তিতেই চলতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার। সাধারণ একটি ফিয়াট পাণ্ডার প্রস্থ প্রায় ১ দশমিক ৪৬ মিটার। সেখানে মারাজ্জির তৈরি গাড়িটির প্রস্থ মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ মূল গাড়ির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এত সরু হওয়ার কারণে গাড়িটি চালানোর সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে বাঁক নেওয়ার সময় এর স্থিতিশীলতা সাধারণ গাড়ির মতো নয়। তবে মারাজ্জির উদ্দেশ্য ছিল না দ্রুতগতির কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের গাড়ি তৈরি করা। পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ কাজে লাগিয়ে ব্যতিক্রমী একটি সচল গাড়ি তৈরি করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। গাড়িটি প্রথমে ইতালির ফিয়াট পাণ্ডাপ্রেমীদের বিভিন্ন আয়োজনে প্রদর্শন করা হয়। পরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটির প্রস্থ পরিমাপ করে। ২০২৫ সালের ২১ জুন অর্জিত এই রেকর্ডের বিস্তারিত ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংস্থাটি। সেখানে নিশ্চিত করা হয়, মারাজ্জির তৈরি গাড়িটি বিশ্বের সবচেয়ে সরু চালানো যায় এমন গাড়ি। গিনেসের ২০২৭ সংস্করণে জায়গা পাওয়ার পর গাড়িটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে গাড়িটি চালানো সম্ভব হলেও সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন নেই। এটি মূলত গাড়ি প্রদর্শনী, বিশেষ আয়োজন এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। মারাজ্জি নিজেও তাঁর এই উদ্ভাবনকে সৃজনশীল প্রকৌশলচর্চার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, রেকর্ডের বইয়ে জায়গা পাওয়া তাঁর জন্য সম্মানের। ভাঙার জন্য ফেলে রাখা একটি পুরোনো গাড়িকে নতুনভাবে তৈরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়ার এই ঘটনা দেখিয়েছে, প্রচলিত যন্ত্রাংশ দিয়েও ব্যতিক্রমী কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব।
পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ১০ বছরের শিশু, পরীক্ষায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা! চলছে তদন্ত
যু দ্ধের সাফল্য নাকি ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা, ইসরায়েলের নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে যাচ্ছে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বিদ্যুতের সংকট, খাবারের অভাব আর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি তরুণ কারিম আয়াদ, আলখোদারি। রাতে একটি ছোট সৌরশক্তিচালিত বাতির আলোয় বসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হলেও প্রতিদিন পাঠ্যবই পড়া, লেকচারের নোট পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মনে রাখার চেষ্টা করেন এই শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দৈনন্দিন সংগ্রামের কিছু মুহূর্ত তুলে ধরার পর তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা মানুষের নজরে এসেছে। গাজার বাসিন্দা কারিমের বয়স ২০ বছর বলে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও যুদ্ধ তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কারিম জানিয়েছেন, একসময় ঘরে বসে স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে পরিবারের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সেই সুযোগ আর নেই। এখন সীমিত আলো, বিদ্যুতের অভাব এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের সংকটের মধ্যেই তাঁকে পড়াশোনা চালাতে হচ্ছে। পড়ার জন্য ছোট একটি জায়গা তৈরি করে সেখানেই সময় কাটান তিনি। নিজের নামে পরিচালিত একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের আবেদনে কারিম লিখেছেন, তিনি গাজার একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং ছোট একটি সৌরশক্তিচালিত বাতির আলোয় বসেই নিজের কথা লিখছেন। তাঁর ভাষায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা যে এত কঠিন সংগ্রামে পরিণত হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি। যুদ্ধের মধ্যে কখনো মোমবাতির আলোয়, কখনো সামান্য আলোর ব্যবস্থা করে পড়াশোনা করেছেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য থেকে সরে আসতে চান না এই তরুণ। কারিমের বর্ণনা অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। বাবার বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সেই বাড়ির সঙ্গে হারিয়ে যায় তাঁর পড়ার ঘর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও। পরে বাবার সহযোগিতায় সাধারণ কাঠ ও হাতের কাছে পাওয়া উপকরণ দিয়ে একটি ছোট পড়ার টেবিল তৈরি করেন তিনি। এই টেবিল আর সামান্য আলোর ব্যবস্থাই এখন তাঁর পড়াশোনার অন্যতম ভরসা। পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি নিজের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন কারিম। শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কারিম জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এমনকি যুদ্ধের কঠিন সময়ের মধ্যে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতায় উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর এসব শিক্ষাগত অর্জনের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক হয়ে ভবিষ্যতে মানুষের সেবা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। কারিমের এই সংগ্রাম গাজার শিক্ষা ব্যবস্থার বৃহত্তর সংকটের একটি উদাহরণ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে উপত্যকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। দীর্ঘদিন নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত থাকার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বহু শিশু আবার অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং নিরাপদ পরিবেশের সংকট এখনো কাটেনি। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও প্রায় দুই লাখ শিশু তখনো কোনো ধরনের নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় আসতে পারেনি। অন্যদিকে প্রায় পাঁচ লাখ শিশু জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনেক জায়গায় তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় পাঠদান চলছে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং শিক্ষা উপকরণের অভাবে উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরাও স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছেন না। গাজায় বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তিচালিত বাতি ও চার্জিং ব্যবস্থা অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব ছোট যন্ত্রের সাহায্যে রাতে ঘরে আলো জ্বালানো, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু পরিবারের পক্ষে এমন সাধারণ সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকেই সীমিত সুযোগের মধ্যে নিজেদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কারিমের প্রত্যাশা, একদিন পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন তিনি। যুদ্ধ তাঁর পরিবার, বাড়িঘর এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করলেও চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেননি। ছোট একটি সৌরবাতির আলোয় তাঁর প্রতিদিনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা গাজার তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
কানাডায় নারীকে পাচার ও ধর্ষণ, দুই বাংলাদেশির ১৪ ও ৪ বছরের কারাদণ্ড
ইউরোপে নিজের নতুন দেশ প্রতিষ্ঠা করে ২১ বছরের তরুণ পেলেন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সম্মাননা
নতুন গাড়ি কিনে বাড়ির সামনে রাখলেন, সকালে দেখলেন আঁচড়ে ভরা! এক রাতেই আনন্দ পরিণত হতাশায়
ভারতের মধ্যপ্রদেশে বাড়ির তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পানের পিক ফেলতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজ্যের বিদিশা জেলার গঞ্জবাসোদা শহরের গায়ত্রী নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম প্রভুলাল গুপ্তা। তাঁর বয়স ৬৫ বছর বলে স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আবাসিক ভবনের একেবারে কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন থাকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নবদুনিয়া ও টিভি নাইন হিন্দির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক একটার দিকে গঞ্জবাসোদা শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গায়ত্রী নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রভুলাল গুপ্তা একটি নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে পানের পিক বাইরে ফেলতে তিনি বারান্দা থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ সময় ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়া ১১ কেভি বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে আসেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুতের প্রচণ্ড ঝটকায় তাঁর শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর প্রভুলাল গুপ্তা বারান্দার কিনারায় আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে জরুরি সেবা ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার পর উদ্ধারকারীরা তাঁর মরদেহ নিচে নামান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয় পুলিশ এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। নিহত প্রভুলাল গুপ্তা মূলত মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি গঞ্জবাসোদার গায়ত্রী নগরে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং নির্মাণকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি যে ভবনে অবস্থান করছিলেন, সেটির নির্মাণকাজ চলছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে বিদ্যুতের সংস্পর্শ ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, আবাসিক ভবনের অত্যন্ত কাছ দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের লাইন চলে গেছে। এতে বাসিন্দাদের পাশাপাশি ভবনের নির্মাণশ্রমিকেরাও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বিপজ্জনক এই লাইন সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। বাড়ির মালিক পদ্মা চিড়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য তিনি আগেও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছিলেন। কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনেও লাইনটি সরানো হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। স্থানীয় কাউন্সিলর মনীশ বিশ্বকর্মাও এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিদ্যুতের খুঁটি, তার ও অন্যান্য সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গুরুতর এই দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে বাড়ির এত কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন থাকার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। ঘটনাটি আবাসিক ভবন ও নির্মাণাধীন স্থাপনার আশপাশে হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের লাইন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
রাতের আকাশে লুকিয়ে কোন রহস্য, ভ্যান গঘের বিখ্যাত ছবিতে নতুন চমক
মার্কিন অবরোধে আটকা ৪০ ইরানি নাবিককে উদ্ধার করে দেশে ফেরাল শ্রীলঙ্কা