সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফিলিস্তিনের শাসনভার ফিলিস্তিনিদের হাতেই ন্যস্ত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে চীন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং এই জোরালো বার্তা প্রদান করেন।   তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, ফিলিস্তিনিরাই নিজেদের দেশ পরিচালনা করবে এবং এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিম তীরের সার্বিক উন্নয়ন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। ফিলিস্তিন সংকটের একটি চিরস্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের জন্য যত দ্রুত সম্ভব 'দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক' সমাধানের ফর্মুলায় ফিরে যাওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   জাতিসংঘ বা নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এককভাবে কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোকে চরম অন্যায় আখ্যা দিয়ে হান ঝেং বলেন, যেকোনো বিরোধ কেবল আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা বুদ্ধিমানের কাজ। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৃহৎ শক্তিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।   মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি রক্ষার্থে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চেইন সচল রাখার বিষয়েও তিনি জোর দেন।   ফিলিস্তিন ইস্যুর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সংকট নিয়েও অধিবেশনে কথা বলেন চীনের এই শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীন নিজস্ব উদ্যোগে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া কিউবার ওপর থেকে সব ধরনের একতরফা ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকি অবিলম্বে তুলে নেওয়ারও জোরালো দাবি জানান তিনি।   আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গে হান ঝেং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার যেন কেবল মানবকল্যাণেই নিবেদিত হয়। বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান
নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের কোনো বিকল্প নেই বলে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে ঐকমত্য পোষণ করেছে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য টু-স্টেট সলিউশন’।   গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জোটের কো-চেয়ারদের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   ‘নিউইয়র্ক ঘোষণাপত্র’ গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী এবং গাজার বোর্ড অব পিস-এর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০টি রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই সমাধানের পেছনে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হওয়ায় সমাধানের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।   বৈঠক শেষে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, উচ্ছেদ, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।   একইসঙ্গে পবিত্র স্থানগুলোতে ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি। বিবৃতিতে ফিলিস্তিন নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় ব্যক্ত করে বলা হয়, গাজা এবং পশ্চিম তীরসহ পূর্ব জেরুজালেম মূলত একটি একক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। গাজাকে কোনোভাবেই পশ্চিম তীর থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না এবং একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে এর পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।   ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা আনা সম্ভব।   ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর চলমান আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ নিয়েও বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আটকে রাখা সব রাজস্ব তহবিল ফিলিস্তিনকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দাতা সংস্থাগুলোকে সরাসরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।   গাজায় দ্রুত ও নিরাপদে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং জাতিসংঘ ও এর সংস্থাগুলোর, বিশেষ করে ইউএনআরডব্লিউএ-এর (UNRWA) মাধ্যমে পুনর্গঠন কাজ শুরু করার ওপর জোর দিয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স। গাজায় যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার পাশাপাশি হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সবশেষে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার যেমন অটুট রয়েছে, তেমনি ইসরায়েলকে বুঝতে হবে যে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করে কখনোই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘে আব্বাস: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়বে ফিলিস্তিনিরা
জাতিসংঘে আব্বাস: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়বে ফিলিস্তিনিরা

ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজেদের মাতৃভূমি কোনোভাবেই ছাড়বে না এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতিও মেনে নেবে না বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। একই সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে যোগ দিতে পারেননি আব্বাস। তবে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের সামনে ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে এই জোরালো বার্তা তুলে ধরেন তিনি।   ভাষণে আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্তিকরণ রোধ এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।   ইসরায়েলের অব্যাহত ভূমি দখলের তীব্র সমালোচনা করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করা এবং নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকার সক্ষমতা ধ্বংস করার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই দখলদারিত্ব চালানো হচ্ছে।   গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মাহমুদ আব্বাস বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবিচারের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিরা হত্যা, ধ্বংস ও অনাহারের শিকার হচ্ছে। গাজা উপত্যকায় নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানকার আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল থেকে শুরু করে মসজিদ-গির্জাসহ সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।   গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, পশ্চিম তীরকে খণ্ডিতকরণ এবং দখলদার বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মাহমুদ আব্বাসের এই ভার্চুয়াল বক্তব্য প্রদানের অনুমোদনের পক্ষে ১৫২টি দেশ ভোট দেয়, বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩টি এবং ৪টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা

ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই ঘোষণা দেন তিনি। নতুন সহায়তার ৮ কোটি কানাডীয় ডলার গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২ কোটি কানাডীয় ডলার শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যয় করা হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তার অর্থ খাদ্য ও পুষ্টি, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যবহার করা হবে। আর শান্তি ও নিরাপত্তা খাতের অর্থের একটি অংশ ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে। কানাডা বর্তমানে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে।   কার্নি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে গাজাতেও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনা করবে কানাডা। দেশটি বহু বছর ধরে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহায়তা করে আসছে। নতুন অর্থায়নের ২ কোটি কানাডীয় ডলারের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।   জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বক্তব্যে কার্নি ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এমন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কানাডার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।   নতুন অর্থায়নের ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের মানবিক ও সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজন মেটাতে কানাডার মোট সহায়তার প্রতিশ্রুতি ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি হয়েছে। কানাডা সরকারের হিসাবে, এই অর্থের বড় অংশ জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা।   এর আগে চলতি বছরের জুনে কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছিল। সেই অর্থের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা উদ্যোগের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল।   এদিকে নতুন সহায়তা ঘোষণার সময় গাজা ও পশ্চিম তীরে কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কানাডার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত নথিতে দেশটির অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি সহায়তা প্রকল্প ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব প্রকল্পের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে কানাডা কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে আলাদা আলোচনা রয়েছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে কানাডার নতুন সহায়তার ঘোষণা ফিলিস্তিনের মানবিক পরিস্থিতি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যেই এসেছে। কানাডা বলছে, নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে একদিকে জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটানো হবে, অন্যদিকে শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগেও সহায়তা করা হবে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন পেদ্রো সানচেজ। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যার’ তীব্র নিন্দা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে স্পেনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।   সানচেজ বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় যে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, স্পেন তার ‘গণহত্যা’কে কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই নিন্দা করছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একই সঙ্গে ইউক্রেন, লেবানন ও ইরানসহ বিভিন্ন সংঘাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।   স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে স্পেন বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসী যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে। তার সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধানের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।   গাজা প্রসঙ্গে সানচেজের অবস্থান নতুন নয়। স্পেন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্পেন সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ ও বিমানকে স্পেনের বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়।   স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার জন্য আইনি কাঠামো আরও শক্ত করার পদক্ষেপও নিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা জোরদারের কথাও জানিয়েছে মাদ্রিদ।   জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে সানচেজ শুধু গাজার পরিস্থিতি নয়, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে যুদ্ধের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। স্পেনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের আগে সানচেজ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে গাজা, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।   এদিকে, গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘গণহত্যা’ শব্দটির ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।   তবে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে তার বক্তব্যে দেশটির সামরিক অভিযানকে সমর্থন করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন এবং সমালোচকদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন। ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।   গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়েও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত রাখা এবং ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ।   গাজা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থান ইউরোপের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশটি ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং এরপর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে।   জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সানচেজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গাজা নিয়ে স্পেনের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার বিষয়ে স্পেনের নীতিগত অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   সূত্র: স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতিসংঘ, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় খাবারের বিনিময়ে ১৪ বছরের মেয়েকে বিক্রি, ধ র্ষকের সঙ্গেও জোরপূর্বক বিয়ে
গাজায় খাবারের বিনিময়ে ১৪ বছরের মেয়েকে বিক্রি, ধ র্ষকের সঙ্গেও জোরপূর্বক বিয়ে

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় খাদ্যের বিনিময়ে নারীদের বিক্রি করা হচ্ছে এবং ধর্ষণের শিকার নারীদের জোরপূর্বক তাদের ধর্ষকদের সাথেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক দুটি প্রতিবেদনে গাজার নারীদের চরম অমানবিক এই করুণ চিত্র উঠে এসেছে। এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার গুরুত্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।   জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে গাজাজুড়ে বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ১২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপত্যকাটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (জিবিভি) ৬৮ শতাংশেরই শিকার হচ্ছেন ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী নারীরা।   গবেষকরা জানিয়েছেন, গাদাগাদি করে থাকা অপর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র এবং খাদ্য, সুপেয় পানি ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর চরম অভাব মানুষের মধ্যে যে মাত্রার মানসিক চাপ তৈরি করেছে, তারই সরাসরি প্রভাব পড়ছে নারীদের ওপর। মানসিক ও আবেগীয় নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক ও যৌন সহিংসতা এবং জোরপূর্বক বাল্যবিয়ের ঘটনা সেখানে নিত্যদিনের স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।   গাজা সিটি ও খান ইউনিসের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত ২৩০ জন নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি দ্বিতীয় প্রতিবেদনে আরও লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে। স্কুল থেকে রূপান্তরিত এক আশ্রয়কেন্দ্রের এক নারী জানান, সামাজিক কলঙ্ক ও লজ্জা এড়াতে অনেক ধর্ষণের শিকার মেয়েকে তাদের ধর্ষকের সাথেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।   এমনকি স্কুলে কোনো ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে পরদিনই সেখানে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন দেখা যায়। আরেক নারী জানান, এক পিতা কেবল দুই বস্তা আটার বিনিময়ে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছেন, যাতে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারে।   এছাড়া অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিচ্ছে এই আশায় যে, স্বামীরা হয়তো জনাকীর্ণ ক্যাম্পে থাকা ধর্ষকদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে পারবে। যুদ্ধক্ষেত্রে এতিম হওয়া অনেক কিশোরীকে তাদের অভিভাবকরা নিজেদের খরচের হাত থেকে বাঁচতে খুব অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন।   গাজার প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবারের প্রধান এখন নারীরা, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে বিধবা ও সিঙ্গেল মাদাররা যৌন নিপীড়ন ও শোষণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে ইউএনএফপিএ জানিয়েছে। গাজা সিটির এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এক বিধবা নারী মাথা গোঁজার জন্য একটি তাঁবুর খোঁজ করতে গেলে ক্যাম্পের এক প্রতিনিধি তাকে রাতে তার সাথে থাকার বিনিময়ে তাঁবু দেওয়ার কুপ্রস্তাব দেয়।   ইসরায়েল ও হামাসের চলমান সংঘাতের কারণে গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত এবং উপত্যকাটির প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমি বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   এই চরম মানবিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বুধবার ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গাজা উপত্যকার জন্য একটি বহুমুখী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস'। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে আগামী ছয় মাসে প্রায় ২৪৫ কোটি (২.৪৫ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা হবে।   অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্যে ৬৬টি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পুরো গাজার এই পুনর্গঠন কাজ শেষ করতে সব মিলিয়ে মোট ৭১০০ কোটি (৭১ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গর্ভবতী অবস্থায় আ টক, কারাগারেই কন্যাসন্তানের জন্ম ফিলিস্তিনি নারীর
গর্ভবতী অবস্থায় আ টক, ইসরায়েলি কারাগারেই কন্যাসন্তানের জন্ম ফিলিস্তিনি নারীর

ফিলিস্তিনি নারী বন্দি দানা জুদেহ ১৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের ডেমন কারাগারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নাবলুস গভর্নরেটের ইরাক আল তাইয়েহ এলাকার ৩৫ বছর বয়সী এই নারীকে গর্ভবতী অবস্থায় আ টক করা হয়েছিল এবং পরে ছয় মাসের প্রশাসনিক আ টকাদেশে রাখা হয়। তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।   মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ডেমন কারাগারে দানা জুদেহ সন্তান জন্ম দেন। ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাকে আ টকের সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাকে প্রশাসনিক আ টকাদেশের আওতায় রাখা হয়, যার মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আ টক রাখা সম্ভব।   জুদেহর প্রশাসনিক আ টকাদেশের মেয়াদ ছিল ছয় মাস। ফিলিস্তিনি কমিশন অব ডিটেনিজ অ্যান্ড এক্স-ডিটেনিজ অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, তার আ টকাদেশ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। প্রসবের পর তাকে ও নবজাতককে চিকিৎসার জন্য রামাল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   জুদেহর পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গর্ভাবস্থায় তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা তার গর্ভাবস্থায় আ টক রাখা এবং কারাগারের ভেতরে সন্তান প্রসবের পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও কারা প্রশাসনকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জুনে জানিয়েছিল, ডেমন কারাগারে জুদেহসহ তিনজন গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারী আ টক ছিলেন। তখন সংগঠনটি বলেছিল, গর্ভবতী বন্দিদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাবার ও মানসিক সহায়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সময়ে সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিল।   প্রশাসনিক আ টক ফিলিস্তিনি বন্দিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত ব্যবস্থা। এতে অভিযোগ বা পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে আ টক রাখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে সেই আ টকাদেশ নবায়নও করা হয়। জুদেহর ঘটনাটি গর্ভবতী বন্দিদের চিকিৎসা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমন কারাগারে আ টক নারীদের মধ্যে মা ও গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। বন্দিদের চিকিৎসা, খাবার, পরিবার-সাক্ষাৎ এবং কারাগারের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো নিয়মিত অভিযোগ করে আসছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই ফিলিস্তিনি পক্ষের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   দানা জুদেহর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায় পর্যন্ত তিনি আ টক ছিলেন এবং সন্তান জন্মের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার নবজাতক কন্যার জন্ম কারাগারের ভেতরে হওয়ায় বন্দি নারীদের জন্য গর্ভকালীন চিকিৎসা ও প্রসবকালীন নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও সামনে এসেছে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন একদল স্থানীয় শিল্পী
মঞ্চে অভিনয় নাকি বাস্তব জীবন! গাজার অভিনেতাদের কাছে দুটোই এক

গাজায় মঞ্চে উঠলেই তারা অন্য কোনো চরিত্র হয়ে যান—এমন নয়। যে ভয়, শোক, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা প্রতিদিন বেঁচে আছেন, মঞ্চে উঠে সেই জীবনই আবার অভিনয় করতে হয় তাদের। কারও চরিত্র একজন অসহায় বাবা, কারও চরিত্র যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া এক নারী, আবার কেউ অভিনয় করছেন এমন এক চিকিৎসকের ভূমিকায়, যিনি নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পারছেন না। তাই গাজার এই অভিনেতাদের কাছে অভিনয় আর বাস্তব জীবনের সীমারেখা যেন প্রায় মুছে গেছে।   এই বাস্তবতাকে মঞ্চে তুলে ধরতেই তৈরি হয়েছে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটক। যুদ্ধের মধ্যেই নাটকটির মহড়া ও মঞ্চায়ন করেছেন আটজন অভিনেতা। তাদের কেউ নিজের বাড়ি হারিয়েছেন, কেউ পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, কেউ আবার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় বদলেছেন। মঞ্চে তারা যে গল্প বলেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়।   ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরার দিন শুরু হয় ভোর ৬টার দিকে। গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা কাদ্দুরা রান্না ও গরম থাকার জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেন। এক কেজি কাঠের দাম প্রায় ৭ শেকেল বা ২ ডলার। সামর্থ্য না থাকলে ধ্বং স হয়ে যাওয়া বাড়ির কাঠ, কার্ডবোর্ড কিংবা অন্য কিছু সংগ্রহ করে আগুন জ্বালাতে হয় তাকে।   পরিবারের জন্য খাবার রান্না ও আগুন জ্বালানোর পর হাতে লেগে থাকা কালো ছাই ধুয়ে ফেলেন কাদ্দুরা। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে তাকে যেতে হয় মহড়ার জায়গায়। ধ্বং স স্তূপে ভরা প্রধান সড়ক এড়িয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে তিনি গাজা সিটির রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাছে পৌঁছান। সেখানে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুর ভেতর চলছে নাটকের মহড়া।   কাদ্দুরার চরিত্র একজন চিকিৎসকের। যুদ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে আটকা পড়া সেই চিকিৎসককে নিজের সন্তানকে বাঁচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোলে থাকা শিশুটির পা কেটে ফেলতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত শিশুটি মা রা যায়।   দৃশ্যটি অভিনয়ের হলেও এর পেছনে রয়েছে গাজার এক বাবার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাই শিশুটিকে কোলে নেওয়ার সময় নিজের সন্তানদের কথাই মনে পড়ে কাদ্দুরার। মঞ্চে চরিত্রটি ধরে রাখতে পারলেও একপর্যায়ে নিজের সন্তানদের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় ১৫ মিনিট এক পাশে বসে থাকার পর আবার মহড়ায় ফিরতে হয় তাকে।   যু দ্ধের আগে কাদ্দুরা ক্যামেরার পেছনে কাজ করতেন। স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু উত্তর গাজার আল-তাওয়ামে ই স রা য়ে লি হামলায় তার বাড়ি ধ্বং স হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভাড়া করা একটি বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ত্রিপলের নিচে একটি কক্ষে বসবাস করছেন তিনি।   ধ্বং স স্তূপ থেকেই তৈরি নাটকের মঞ্চ   নাটকটির পরিচালক আলী আবু ইয়াসিন গাজায় প্রায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তার নাটক গাজার বাইরেও মঞ্চস্থ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যু দ্ধে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বং স হয়েছে।   ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ও শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি ভবন রয়েছে।   থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবু ইয়াসিনের সামনে প্রশ্ন ছিল—নাটক তৈরি হবে কোথায়? শেষ পর্যন্ত উত্তর খুঁজে নেওয়া হয় তাঁবু, ধ্বং স স্তূপ আর অস্থায়ী জায়গার মধ্যেই।   ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটকের কাজ শুরু হয় একটি নাট্যলেখার কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যু দ্ধের কারণে কেউ আ হ ত হন, কেউ বাস্তুচ্যুত হন, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে চলে যান। শেষ পর্যন্ত আটজন এই নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসেন।   প্রথম দিকে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুতে মহড়া হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ছোট কক্ষে চলে যায় মহড়া। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল সীমিত। সেট তৈরির জন্য নতুন কাঠ কেনার সুযোগ না থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠের টুকরো ব্যবহার করেন অভিনেতারাই।   পরিচালক আবু ইয়াসিনের ভাষায়, নাটকটি যেন ধ্বং স স্তূপের নিচ থেকেই উঠে এসেছে।   বাস্তব জীবনের ভয়ই হয়ে উঠেছে অভিনয়ের অংশ   অভিনেত্রী ইমান ওদা নাটকে হানিন নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। নয় বছর অপেক্ষার পর সন্তান ধারণ করা হানিন যু দ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করছে—এটাই তার চরিত্র।   একদিন মহড়ার মাঝেই কাছাকাছি বি স্ফো রণ ঘটে। ভবন কেঁপে ওঠে, ধুলা ঢুকে পড়ে মহড়ার জায়গায়। অভিনেতারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর প্রায় সবাই প্রথমে ফোন হাতে নেন—পরিবার নিরাপদে আছে কি না, সেটি জানার জন্য।   ওদা বলেন, যু দ্ধ তাদের শুধু অভিনয়ের গল্প দেয়নি, আকাশের শব্দ বোঝার অভিজ্ঞতাও দিয়েছে। হেলিকপ্টার বা নজরদারি ড্রোনের শব্দ শুনলে তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। তবু অনেক সময় সেই শব্দের মধ্যেই মহড়া চালিয়ে যেতে হয়।   ওদার নিজের বাবার নাম ছিল ইউসুফ। যু দ্ধের সময় তিনি মা রা যান। পরে যে কবরস্থানে তাকে দা ফ ন করা হয়েছিল, সেটিও বুলডোজার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবার তার কবরের অবস্থান আর খুঁজে পায়নি। তাই নাটকে ‘নিখোঁজ ইউসুফ’ নামের একটি চরিত্রের কথা উঠতেই ওদা কান্নায় ভেঙে পড়েন।   আরেক অভিনেতা তামের নাজমের জীবনও নাটকের গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। নাটকে তিনি খালেদ নামে এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি বহু বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করার পর যু দ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন।   বাস্তব জীবনেও নাজমের নিজের বাড়ি ধ্বং স হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। বন্ধুর বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি, রাস্তার পাশ কিংবা তাঁবু—বিভিন্ন জায়গায় দিন কাটিয়েছেন তারা। যু দ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়।   তাই মঞ্চে খালেদের চরিত্রে অভিনয় করার সময় নাজমের নিজের জীবনই সামনে চলে আসে। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে নিয়ে বাস্তবে যে ভয় তিনি অনুভব করেছেন, মঞ্চে সেই ভয়ই আবার অভিনয় করতে হয় তাকে।   অবশেষে মিলল একটি থিয়েটার   অনেক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গাজা সিটির আল-ওয়েহদা স্ট্রিটের এ এম কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির মঞ্চায়নের সুযোগ হয়। কয়েক মাস তাঁবু, খোলা জায়গা ও ছোট কক্ষে মহড়া করার পর অবশেষে তারা একটি থিয়েটার মঞ্চে ফিরতে পারেন।   ১৯ জুলাই প্রথমবার দর্শকদের সামনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রবেশ ছিল বিনামূল্যে।   মঞ্চে ওঠার আগে অভিনেতাদের ভ য় ছিল—বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে, আশপাশে হামলা হতে পারে কিংবা মাঝপথে নাটক বন্ধ করে দিতে হতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক বা মেকআপের ব্যবস্থাও ছিল না। বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু থেকে পাওয়া সাধারণ পোশাক এবং মোবাইল ফোনের আলোয় যতটুকু সম্ভব, সেটুকু দিয়েই প্রস্তুতি নেন তারা।   এরপর আলো নিভে যায়। কাদ্দুরা মঞ্চে চিকিৎসক হয়ে ওঠেন, ওদা হয়ে যান যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া হানিন, আর নাজম অভিনয় করেন পরিবারকে হারানোর আতঙ্কে থাকা খালেদের চরিত্রে।   ৫০ মিনিট ধরে মঞ্চে চলতে থাকে গাজার মানুষের যু দ্ধকালীন জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি। দর্শকদের মধ্যে ছিলেন নাজমের পাঁচ বছরের মেয়েও। মঞ্চে বাবাকে ধুলায় ঢাকা ও ছেঁড়া পোশাকে দেখে সে কেঁদে ফেলে। পরে বাবাকে জানায়, মঞ্চে তার কান্না দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন বাড়িতেও একইভাবে দুশ্চিন্তা করেন।   পরবর্তীতে নাটকটি গাজার বিভিন্ন এলাকায় মঞ্চস্থ করা হয়। দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে এর প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের হলেই পাঁচ শতাধিক মানুষ নাটকটি দেখেন।   পরিচালক আলী আবু ইয়াসিনের কাছে এই নাটক শুধু বিনোদন নয়। তার মতে, থিয়েটার ধ্বং স করা গেলেও মানুষের গল্প, অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতাকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যায় না। তাই থিয়েটার হল না থাকলেও রাস্তা বা অন্য কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে নাটক করা সম্ভব।   মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পরও অবশ্য অভিনেতাদের গল্প শেষ হয় না। কাদ্দুরা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ির দিকে ফেরেন। সাত বছরের মেয়ে শাম ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে কোলে করে নিয়ে হাঁটতে হয়।   রাতের অন্ধকারে পথ দেখাতে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করেন। দূরে তখনও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায়। ছাদে থাকা ছোট ঘরে পৌঁছে শামকে শুইয়ে দেন কাদ্দুরা। অন্য সন্তানরা তখনও খাবারের অপেক্ষায়।   দিনের শুরুতে যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন পরিবারের জন্য, রাতেও সেই আগুনের কাছেই ফিরে আসেন তিনি। আবার আগুন জ্বালান কাদ্দুরা। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের জন্য রাতের খাবার রান্না শুরু করেন।   মঞ্চে ৫০ মিনিটের অভিনয় শেষ হলেও বাস্তব জীবনের সেই গল্প থেকে যায়। কারণ গাজার এই অভিনেতাদের কাছে পর্দা নামলেও যু দ্ধের বাস্তবতা থামে না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। ছবি: সংগৃহীত
'গাজায় ইসরায়েলের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়': মঞ্চে কেঁদে বললেন এড শিরান

গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টে কথা বলার সময় গাজায় বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। শনিবার রাতে লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টের শুরুতে এ বক্তব্য দেন শিরান।   এটি ছিল র‍্যাপার ম্যাকলমোরকে নিজের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের প্রথম কনসার্ট। ম্যাকলমোর এর আগে মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিতর্কে জড়ান। তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী শিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ান।   কনসার্টে নিজের বক্তব্যের শুরুতে শিরান বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে রাজনৈতিক সংগীতশিল্পী হিসেবে তুলে ধরতে চাননি। তার সংগীত ও পরিবেশনা যেন বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং রাজনীতির পরিবর্তে মানবিকতার কথা বলে, সেটিই তিনি চেয়েছেন।   তবে গাজা পরিস্থিতিকে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলে জানান। শিরান বলেন, এটি একটি মানবিক সংকট এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন করতে পারছেন না।   ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ওই দিনের একটি সংগীত উৎসবে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে শিরান বলেন, এর সঙ্গে ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বেদনার বিষয়ও জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি।   মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন শিরান। তিনি বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতেও যে অবিচার চলছে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।   নিজের বক্তব্যে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন শিরান। তিনি বলেন, এই সংঘাত নিয়ে কথা বলা তার জন্য সহজ নয়। তবে মানবিক সংকটের কারণে তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারছেন না।   এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, গাজা ও ফিলিস্তিনের পক্ষে তার বক্তব্যের পর সফর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের নয়, বরং সফরের আয়োজকদের সিদ্ধান্ত ছিল।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের অন্য কয়েকজন শিল্পীও শিরানের সঙ্গে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে ছিলেন অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম, বেওগা এবং ফিনিয়াস। তাদের কেউ কেউ ম্যাকলমোরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।   এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় শিরানের কনসার্টের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন কনসার্টস্থলের কাছে সমাবেশের আয়োজন করে।   তবে বিতর্কের মধ্যেও শিরান সফর চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে তিনি বলেন, ভক্তদের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই উদ্বোধনী শিল্পী ছাড়াই তিনি মঞ্চে উঠেছেন।   মঞ্চে তিনি আরও বলেন, কোনো শিল্পীর পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার ধারণা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেলেও মুক্ত সমাজে এটি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বক্তব্যের পর দর্শকদের কাছ থেকে করতালি পান শিরান। এরপর তিনি নিয়মিত পরিবেশনায় ফিরে গিয়ে ‘ক্যাসল অন দ্য হিল’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক পরে তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ফিলিভয়েস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য ১০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ১০ লাখ ডলার দিচ্ছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল

ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোরের ১০ লাখ ডলারের অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকা ও শিশুদের শিক্ষামূলক কনটেন্ট নির্মাতা মিস র‍্যাচেল। তাঁর আসল নাম র‍্যাচেল অ্যাকুরসো। ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থায় এই অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   ১৭ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মিস র‍্যাচেল জানান, ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের অনুদানের সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ দিতে চান তিনি। তাঁর অনুদান যাবে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ডে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে।   মিস র‍্যাচেল তাঁর পোস্টে শিশুদের সুরক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে জনপরিচিত ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি অন্য ধনী তারকাদেরও একই ধরনের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ইউটিউবে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া মিস র‍্যাচেলের ২১ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক রয়েছে।   ম্যাকলমোর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এ উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া তাঁর ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনের মধ্যে দান করবেন। এই ঘোষণা আসে তাঁকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্রের সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর।   এর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পরে তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাঁকে এড শিরানের সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।   ম্যাকলমোরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন গায়িকা পিংকও। তিনি ইহুদি দর্শকদের অনুভূতির বিষয়টি তুলে ধরে ম্যাকলমোরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ২০১৪ সালে ম্যাকলমোরের একটি বিতর্কিত পোশাক পরার ঘটনাও উল্লেখ করেন। ওই ঘটনার জন্য ম্যাকলমোর তখন প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন।   পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ইহুদি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বার্তা শান্তি, ভালোবাসা এবং সব মানুষের মর্যাদা, সম্মান ও সমতার পক্ষে।   এদিকে এড শিরান জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চাপের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিরান একই সঙ্গে বলেছেন, সংঘাত নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত রয়েছে, তবে তিনি সেগুলো প্রকাশ্যে না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের আরও কয়েকজন সহযোগী শিল্পী সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে ফিনিয়াস, অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম ও বিওগা রয়েছেন।   ম্যাকলমোরের অনুদানের ঘোষণার পর মানবিক সহায়তায় অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিরান ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটও। প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের অর্থ কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে, তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়।   মিস র‍্যাচেলের অনুদানের ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের উদ্যোগটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তায় বিনোদন জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ন্যাশনাল

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
এড শিরানের 'লুপ ট্যুর' থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
এড শিরানের সফরের ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করবেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর

মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর জানিয়েছেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনকে দান করবেন তিনি। ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ওই সফর থেকে তাকে বাদ দেওয়ার কয়েক দিন পর এই ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর।   ম্যাকলমোর, যার আসল নাম বেন হ্যাগার্টি, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে তার পাওয়া পুরো ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনি জনগণকে সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংগঠনে দেওয়া হবে।   একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটকেও একই পরিমাণ অর্থ দান করার আহ্বান জানিয়েছেন ম্যাকলমোর। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষার বিষয়ে তারা একমত হতে পারেন।   ক্রাফট সোমবার নিশ্চিত করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দিতে তিনি শিরানের ওপর চাপ দিয়েছিলেন। ক্রাফটের মালিকানাধীন গিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোরের পরিবেশনাও বন্ধ করা হয়। এর কারণ হিসেবে ক্রাফট ম্যাকলমোরের কথিত ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীকের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন।   ম্যাকলমোর বলেন, এই অর্থ দানের বিষয়টি তাকে ঘিরে তৈরি বিতর্ক বা ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়। বরং তিনি এমন বাবা-মায়েদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান, যারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়াই সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, প্যারামেডিক, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের কথাও উল্লেখ করেন, যারা বারবার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফিরে যাচ্ছেন।   ম্যাকলমোর তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনি কিশোর মুহাম্মদ আল-জিনাতির মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, আহত এক ব্যক্তিকে সহায়তা করতে যাওয়ার সময় এক দিন আগে ইসরায়েলি হামলায় ওই কিশোর নিহত হয়। ম্যাকলমোর বলেন, সে একজন শিশু ছিল এবং তার বেঁচে থাকার কথা ছিল।   তিনি আরও বলেন, শুধু ত্রাণ সহায়তা দিয়ে এই পরিস্থিতির সমাধান করা সম্ভব নয়। যে পরিস্থিতির কারণে এই সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি মানুষের তৈরি এবং এর জন্য দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য আর অপেক্ষা করতে হওয়া উচিত নয় বলেও জানান ম্যাকলমোর।   চলতি মাসের শুরুতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন এবং তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন। এরপর তাকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়।   ম্যাকলমোর এর আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ১৩ বছরের বন্ধু শিরান তাকে জানিয়েছেন, ক্রাফট অন্য স্টেডিয়াম মালিকদের নিয়ে ম্যাকলমোরের বিরুদ্ধে বয়কটের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ না দিলে এই বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।   তবে শিরান এই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ, তিনি নিজে নন।   শিরান আরও বলেন, এই সংঘাত নিয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। তিনি তা প্রকাশ্যে না বললেও তার অর্থ এই নয় যে তার কোনো মতামত নেই। তিনি নিজের প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক মঞ্চের পরিবর্তে নিরাপদ ও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে রাখতে চান বলেও জানান।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর

এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ট্যুরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া এই অর্থ ছয়টি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পর রবার্ট ক্রাফট জানিয়েছেন, এড শিরান ও তিনি প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে ওই অঞ্চলের মানবিক সহায়তায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   ফিলিস্তিনের পক্ষে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অংশ থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ম্যাকলমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চান।   ম্যাকলমোর জানান, তাঁর ১০ লাখ ডলারের পুরো নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি এবং আনেরা।   ম্যাকলমোর একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে তাঁর অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফট একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি জানান, এড শিরান তাঁকে ফোন করে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রাফট নিজেও আরও ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানান।   ক্রাফটের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকলমোরের প্রকাশ্য আহ্বানের আগেই শিরানের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিরান ২০ লাখ ডলার দিতে চেয়েছেন এবং তিনি নিজেও একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিরান অন্যান্য স্টেডিয়াম মালিকের সঙ্গেও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও ক্রাফট জানান।   এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সঙ্গে সফরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে।   পরবর্তী সময়ে ম্যাকলমোর জানান, সফরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিক তাঁকে সঙ্গে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অবস্থান নিয়েছেন। সফরের প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপও জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে ম্যাকলমোর আর অংশ নেবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক তাঁর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন।   এড শিরান পরে স্পষ্ট করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ও প্রোমোটারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের বাকি উদ্বোধনী শিল্পীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং বেওগা সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁরা ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন।   রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল। ম্যাকলমোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ম্যাকলমোরের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি এখন সংগীতাঙ্গনের বাইরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিকও ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।   তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবিক সহায়তার বিষয়টি। ম্যাকলমোর তাঁর ট্যুরের আয় থেকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাফটের বিবৃতি অনুযায়ী, শিরান ও ক্রাফটের পক্ষ থেকে আরও ৪০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফলে তিন পক্ষের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট ৫০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও কোন কোন সংস্থা তা পাবে, বিশেষ করে শিরান ও ক্রাফটের ঘোষিত ৪০ লাখ ডলারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান-

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারছেন না আব্বাস।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পিএ ও পিএলও কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আলোচনার বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাচ্ছে।   ওয়াশিংটনের আরও অভিযোগ, ইসরায়েলিদের ওপর হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মার্কিন আইনেরও লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা হয়েছে।   তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের নিয়মিত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। জাতিসংঘের সদর দপ্তর চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি মিশনের বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে তাদের নিয়মিত কূটনীতিক ও কর্মীরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।   গত বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মাহমুদ আব্বাসসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৪৫-৫ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যাতে ভিসা না পাওয়ায় আব্বাসের সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে ভিডিও বা আগে থেকে ধারণ করা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।    জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৪৭ সালের সদর দপ্তর চুক্তি নিয়ে এ সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ২০২৫ সালে বলেছিলেন, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে আসা কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তাদের মতে, সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।    এদিকে এ বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।   ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে না পারায় এবারও তার বক্তব্য কীভাবে জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৫ সালে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশেষ ব্যবস্থায় আব্বাসের রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচারের অনুমতি দিয়েছিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল দেওয়ানি অধিকার মামলা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের হয়রানিতে নীরব থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মাহমুদ খলিল

ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল দেওয়ানি অধিকার মামলা করেছেন। সোমবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের দীর্ঘদিনের হয়রানি, হুমকি ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। খলিলের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিষ্ক্রিয়তা তাকে ও অন্য শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করেছে।   মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। খলিলের সঙ্গে আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি মামলায় অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার কারণে তারা নিয়মিত হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অভিযোগ যথাযথভাবে আমলে নেয়নি। মামলায় কলাম্বিয়ার বিরুদ্ধে বৈষম্য, হয়রানির বিষয়ে উদাসীনতা এবং অভিযোগ করার পর প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।    খলিল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক ও উদাসীন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও হয়রানির বিষয়ে সহায়তা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। মামলায় বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঘটনা ঘটে।    খলিলের মামলায় ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কলাম্বিয়ার ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে একটি ট্রাক ঘোরানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের অনলাইনেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো ও তাদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ নিরুৎসাহিত করার অংশ হিসেবে দেখছেন বাদীরা।    এরপর গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও ক্যাম্প গড়ে ওঠে। খলিল তখন বিক্ষোভকারীদের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন এবং শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগের দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের অনেক কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।    এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ খলিলকে তার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা আটক করেন। সে সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলেন। খলিল যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছিল না। আটকের পর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়।    খলিল প্রায় ১০৪ দিন ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তার প্রথম সন্তানের জন্ম হয় এবং তিনি সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে ২০২৫ সালের জুনে তিনি হেফাজত থেকে মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি।    ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস খলিলের বহিষ্কার-সংক্রান্ত আপিল খারিজ করে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেয়। এরপর তার আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আবেদন করেন। একই সঙ্গে তার পৃথক ফেডারেল মামলার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। মে মাসে তার আইনজীবীরা জানান, তৃতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনা চাইবেন।    কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নতুন মামলার নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও সদস্য যেন নিরাপদ, স্বাগত ও সহায়তা পাওয়ার মতো পরিবেশে থাকতে পারেন, সেটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বৈষম্য ও হয়রানি থেকে ক্যাম্পাস কমিউনিটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অভিযোগ এলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।    খলিলের নতুন মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মামলাটিতে আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী সংগঠনের ওপর নেওয়া কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার দাবিও রয়েছে। এখন আদালতে অভিযোগগুলোর আইনগত ভিত্তি ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় কতটা রয়েছে, সেটিই পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত হবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইস রায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রতীকী চিত্র
ইস রায়েলের কারাগারে ৩৭ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, ১৯ জনের বিরুদ্ধে নেই কোনো অ ভি যোগ

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইস রায়েলের কারাগারে ৩৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আ টক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে মানবাধিকারবিষয়ক এই বেসরকারি সংগঠন জানায়, তাদের মধ্যে ১৯ জনকে কোনো অ ভি যোগ বা বিচার ছাড়াই প্রশাসনিক আ টকাদেশের আওতায় রাখা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যু দ্ধ শুরুর পর এসব সাংবাদিককে আ টক করা হয়। সাংবাদিকতার কাজ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রে প্তার, কা রাদণ্ড, একাকী ব ন্দিত্ব ও বিভিন্ন মা মলার মুখোমুখি করছে বলেও অ ভি যোগ করেছে সংগঠনটি। সর্বশেষ আ টক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন মুয়াথ আম্মারনা ও সাবরি জিবরিন। বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেথলেহেমে তাদের বাড়িতে অ ভি যান চালিয়ে ইস রায়েলি বা হিনী তাদের গ্রে প্তার করে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির ভাষ্য, সাংবাদিকতার কাজের কারণে আম্মারনাকে এর আগেও ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার টার্গেট করেছে। এবার তৃতীয়বারের মতো তাকে আ টক করা হয়েছে। সাংবাদিক ও লেখক মাহমুদ ফাতাফতার মা মলার কথাও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। ইস রায়েলের ভাষায় ‘উ স কানি’ দেওয়ার অ ভি যোগে তাকে ৪৮ মাসের কা রাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের অ ভি যোগে দেওয়া কঠোর সাজাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘উ স কানি’ দেওয়ার অ ভি যোগ ক্রমেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ‘গোপন নথি’র ভিত্তিতে সাংবাদিকদের প্রশাসনিক আ টকেও রাখা হচ্ছে বলে অ ভি যোগ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ১৯ জন সাংবাদিক প্রশাসনিক আ টকাদেশে রয়েছেন। অর্থাৎ ইস রায়েলের কারাগারে থাকা মোট সাংবাদিকের প্রায় ৫১ শতাংশই কোনো মা মলা বা বিচার ছাড়াই এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বন্দি সাংবাদিক বুশরা আল-তাওয়িলের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। ৩৩ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে উত্তর ইস রায়েলের ডেমন কারাগার থেকে মধ্যাঞ্চলের রামলা কারাগারে একাকী ব ন্দিত্বে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নারী ফিলিস্তিনি ব ন্দিদের ওপর ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি আরও বেড়েছে বলেও অ ভি যোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, খাবারের ঘা টতি, চিকিৎসা না দেওয়া ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি নারী ব ন্দিদের একাকী রাখাসহ নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির ভাষ্য, আ টক সাংবাদিকরাও অন্যান্য ফিলিস্তিনি ব ন্দির মতো ক্ষু ধা, চিকিৎসার অবহেলা, নি র্যাতন, নিপী ড়ন, একাকী ব ন্দিত্ব এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সংগঠনটির আরও অ ভি যোগ, সাংবাদিকদের শুধু গ্রে প্তার বা কা রাবন্দি করেই নয়, হ ত্যা, নি খোঁজ করে দেওয়া এবং কাজের সময় সরাসরি হা মলার মাধ্যমেও টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি ও ইস রায়েলি কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকাশ সীমিত করার একটি ধারাবাহিক নীতির অংশ হিসেবেই এসব করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইস রায়েলি বা হিনীর অ ভি যান ও হা মলা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনায় হ ত্যা, গ্রে প্তার, বাড়িঘর ও যানবাহনে হা মলা, মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত করা, কৃষিজমি ধ্বংস, কৃষকদের ওপর বিধিনিষেধ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মতো ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার সংগঠনটি জানায়, এর আগের এক সপ্তাহে পশ্চিম তীরজুড়ে ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে আ টক করেছে ইস রায়েলি বা হিনী। তাদের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে আ টক ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর বাইরে গাজা থেকেও হাজারো ফিলিস্তিনিকে আ টক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনি দুই নারী যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানালেন তুর্কি ট্যাক্সিচালক। ছবি: সংগৃহীত
'আপনারা আমার বোন', ফিলিস্তিনি দুই নারীর কাছ থেকে ভাড়া নিলেন না ট্যাক্সিচালক

ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সিতে যাত্রা শেষে ভাড়া দিতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন দুই ফিলিস্তিনি নারী। ট্যাক্সিচালক তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ জানতে চাইলে তিনি তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ভাই। আপনারা আমার বোন।’   দুই নারী ট্যাক্সি থেকে নামার সময় ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চালক টাকা নিতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি তাদের নিজের বোনের মতো উল্লেখ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা দেন।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অল্প সময়ের এই ঘটনাকে অনেকে তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের মানুষের মধ্যকার সামাজিক ও মানবিক সংহতির একটি ছোট্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।   ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তুরস্কের জনগণের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী ও ভ্রমণকারী ফিলিস্তিনিরাও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।   তবে ওই ট্যাক্সিচালকের পরিচয়, ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে এবং ভিডিও বা পোস্টটির মূল উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন সাংবাদিক রুলা জেব্রিয়াল। ছবি: সংগৃহীত
হাকিম জেফরিসকে ‘বানর’ বলায় সমালোচনার মুখে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক রুলা জিবরিয়েল

মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক দলের নেতা হাকিম জেফরিসকে ‘এআইপ্যাকের বানর’ বলে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও লেখক রুলা জিবরিয়েল। জেফরিস কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তাঁর এই মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসসহ একাধিক ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা। পরে নিজের ব্যবহৃত শব্দকে ‘অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর’ বলে ক্ষমা চেয়েছেন জিবরিয়েল।   শুক্রবার বামপন্থী ভাষ্যকার ওয়াজাহাত আলীর ‘দ্য লেফট হুক’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে জিবরিয়েল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিসের ইসরায়েল-সমর্থন নিয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি জেফরিসকে আমেরিকান-ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা এআইপ্যাকের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ তুলে ‘এআইপ্যাকের কেনা ও বেতনভুক্ত বানর’ বলে অভিহিত করেন।   জিবরিয়েল বলেন, ‘হাকিম’ একটি আরবি নাম, যার অর্থ নিরাময়কারী। কিন্তু তাঁর ভাষায়, জেফরিস নিরাময়কারী নন, বরং বিভাজন তৈরি করছেন। এরপরই তিনি ওই বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করেন। একই আলোচনায় জেফরিসকে ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ অর্থাৎ অন্যের হয়ে কাজ করা ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন। মন্তব্যটি করার পর পডকাস্টের সঞ্চালক ওয়াজাহাত আলী বিষয়টির বর্ণবাদী অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ‘বানর’ শব্দটির সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভয়াবহ বর্ণবাদী অর্থ জড়িয়ে আছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জিবরিয়েল নিজেই বলেছেন যে তাঁর মন্তব্যের পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল না।   এরপর নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জিবরিয়েল বলেন, তিনি জাপানের ‘তিন জ্ঞানী বানর’-এর কথা মনে করে ওই শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেই প্রচলিত প্রতীকে তিনটি বানরকে যথাক্রমে না দেখা, না শোনা এবং না বলার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা কংগ্রেসের কৃষ্ণাঙ্গ সদস্যদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস এক বিবৃতিতে জিবরিয়েলের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হাকিম জেফরিসকে ‘বানর’ বা ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ বলা বর্ণবাদমুক্ত কোনো বক্তব্য হতে পারে না। তাদের ভাষায়, রাজনৈতিক ডান বা বাম, কোনো পক্ষ থেকেই কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।   বিষয়টি নিয়ে জেফরিসের পক্ষে সরব হন নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি রিচি টরেসও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে ‘বানর’ বলা বর্ণবাদী। রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, এ ধরনের ভাষার নিন্দা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিবরিয়েলের মন্তব্যের পর তাঁর সমালোচনায় শুধু কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস বা টরেসই নন, আরও কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা যোগ দেন। প্রতিনিধি পিট আগুইলারও বলেন, জেফরিসকে ‘বানর’ ও ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ বলা স্পষ্টতই বর্ণবাদী এবং বিপজ্জনক।   সমালোচনার মুখে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের বক্তব্য নিয়ে ক্ষমা চান জিবরিয়েল। তবে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তিনি জেফরিসের এআইপ্যাক-সম্পর্কিত সমালোচনাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে জেফরিস এআইপ্যাকের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন বলে তিনি ক্ষুব্ধ। এরপর তিনি স্বীকার করেন, জেফরিসকে বর্ণনা করতে যে শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর ছিল এবং সেটি ব্যবহার করা উচিত হয়নি। শেষে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।   তবে এই ক্ষমা চাওয়াকেও অনেকে পুরোপুরি গ্রহণ করেননি। কারণ, ক্ষমা চাওয়ার বক্তব্যেই জিবরিয়েল জেফরিস ও এআইপ্যাক নিয়ে তাঁর মূল রাজনৈতিক সমালোচনা আবারও তুলে ধরেছেন। ফলে বিতর্কটি শুধু একটি শব্দের ব্যবহার নিয়ে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক রাজনীতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা এবং বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   হাকিম জেফরিস বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক দলের সংখ্যালঘু নেতা এবং কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিক। তাঁর ইসরায়েলনীতি নিয়ে বামপন্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী মহলে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। তবে সমালোচকেরাও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করলে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হয়। এদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে জেফরিসের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
৩ বছরে গাজায় ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইল

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৫ জন।   শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গাজ্জার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।   চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজ্জার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ১৭ জন নিহতের মরদেহ পৌঁছেছে। এর মধ্যে নতুন করে নিহত হয়েছেন ৫ জন। এছাড়া আগের হামলায় আহত হয়ে পরে মারা গেছেন আরও একজন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জনের মরদেহ। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজ্জায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। ওই সময়ের পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৬৪ জনে পৌঁছেছে। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   এদিকে, নিহতের তালিকা যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে গত আগস্ট মাসে আরও ১৬০ জনের নাম সামগ্রিক নিহতের পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে গাজ্জায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে।   চিকিৎসা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, গাজ্জার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বহু নিহত ও আহত ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং সড়কে পড়ে আছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারছে না। ফলে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।   হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে উদ্ধারকারী ও চিকিৎসাকর্মীদের।   চিকিৎসা সূত্রগুলোর আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হলে গাজ্জায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ মামলা

ফিলিস্তিনি এক বন্দির ওপর গুরুতর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা দেশটির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল, প্রায় ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদেরসহ পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করার কয়েক মাস পর এ মামলা করা হলো।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ‘ফোর্স ১০০’ রিজার্ভ ইউনিটের ওই তিন সেনা ডানপন্থি আইনি সহায়তা সংগঠন হনেনুর মাধ্যমে জেরুজালেমের একটি আদালতে মামলাটি করেছেন। মামলায় ইসরায়েল রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, সামরিক পুলিশ, ইসরায়েল পুলিশসহ মোট ১৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   ২০২৪ সালের ৫ জুলাই দক্ষিণ ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক আটককেন্দ্রে এক ফিলিস্তিনি বন্দির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ঘটনায় পাঁচ রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় ওই বন্দিকে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে লাথি মারা, পায়ে মাড়ানো, লাঠি দিয়ে পেটানো এবং মাটিতে টেনে নেওয়া হয়। তাকে বারবার টেজারও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   অভিযোগে আরও বলা হয়, এক সেনা ধারালো বস্তু দিয়ে বন্দির মলদ্বারের কাছে আঘাত করেন, এতে তার রেকটামে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। বন্দির সাতটি পাঁজর ভেঙে যায়, ফুসফুসে ছিদ্র হয় এবং শরীরের ভেতরে ব্যাপক আঘাত লাগে। পরে তার বৃহদান্ত্রে অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং সাময়িকভাবে স্টোমা স্থাপন করা হয়েছিল।   ঘটনার ভিডিও পরে প্রকাশ্যে আসে। ২০২৪ সালের আগস্টে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২তে আটককেন্দ্রের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সম্প্রচার করা হলে ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ফুটেজটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছিল।   তবে চলতি বছরের ১২ মার্চ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি অ্যাডভোকেট জেনারেল ইতাই অফির পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের প্রমাণভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মামলার প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আসামিদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্দি গাজায় ফিরে যাওয়ায় তার সাক্ষ্য ও মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল।   অভিযোগ প্রত্যাহারের পর এবার ওই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন উল্টো রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। মামলায় তারা দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মিথ্যা সন্দেহ তৈরি করা হয়েছে, বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও অন্যায়ভাবে মামলা করা হয়েছে।   মামলায় বিভিন্ন দাবির মধ্যে যৌন অপরাধের অভিযোগের কারণে ক্ষতির জন্য ১৫ লাখ শেকেল, ১৫ দিনের কথিত বেআইনি আটকের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার শেকেল, মানহানির জন্য ৩০ লাখ শেকেল এবং কথিত অন্যায় অভিযোগপত্রের জন্য ১০ লাখ শেকেল চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল।   এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রমাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন ক্ষতিপূরণ মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত সাত বছরের শিশু ইসরা আল-হিসি। ছবি: সংগৃহীত
জীবন শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলি বুলেট কেড়ে নিল ফিলিস্তিনি শিশুর নিষ্পাপ শৈশব

মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান।   ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে।   সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৪৯, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ আরও হাজারো

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে নয়জনের মরদেহ পৌঁছেছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর আহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে আরও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।   মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলা বা অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন।   এদিকে গাজায় নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সংগঠনটি ৩১৭টি নথিভুক্ত ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই অনুমান করেছে।   সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্লেষণ করা ৩১৭টি ঘটনার মধ্যে ৩০২টি ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তি ছিলেন পুরুষ এবং ১৫টি ঘটনায় ছিলেন নারী। এসব ঘটনার মধ্যে ৪১ জন শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ১৭ জন মানুষও ছিলেন। গাজা শহরে নথিভুক্ত ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি ৮৯টি। এরপর উত্তর গাজায় ৭৪টি, খান ইউনিসে ৫৯টি, মধ্য গাজায় ৩৭টি এবং রাফাহতে ৩২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ৭৬টি ঘটেছে বাড়িতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বা কোনো এলাকার অবরোধের সময়। আরও ৬০টি ঘটনা ঘটেছে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের সময়। বাস্তুচ্যুতি কিংবা সামরিক তল্লাশিচৌকি অতিক্রমের সময় ৪২টি এবং খাবার খোঁজা বা মানবিক সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় ৩৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   এ ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র অবরোধ বা দখল এবং রোগী স্থানান্তরের সঙ্গে ২২টি ঘটনা যুক্ত ছিল। সাংবাদিক বা মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি আলাদাভাবে জানিয়েছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষ চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকতে পারেন। তবে এসব ঘটনাকে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।   নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে এর আগে ফিলিস্তিনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ১১ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ বা জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নারী ও শিশু ছিলেন।   ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্র নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পেতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থারও আহ্বান জানানো হয়েছে।   এদিকে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধের ফলে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে।   সূত্র: ডেইলি সাবাহ

তাবাস্সুম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০