ফিলিস্তিনি

মেক্সিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেলিসা ব্যারেরা। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার চাওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই: মেলিসা ব্যারেরা

মেক্সিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেলিসা ব্যারেরা বলেছেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং গাজায় ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ পড়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে বিনোদন জগতের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।   ‘লাতিনো ইউএসএ’কে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ব্যারেরা উপস্থাপক মারিয়া হিনোজোসার সঙ্গে কথা বলার সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রযোজকদের হাতে তিনি ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নে সম্মতি জানান। তিনি বলেন, এমন পরিণতির মুখোমুখি হওয়া তিনিই প্রথম নন এবং শেষও নন।   ব্যারেরার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার এবং গাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে আরও অনেক মানুষ পেশাগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে তিনি যেসব ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের নাম বা নির্দিষ্ট চাকরি হারানোর ঘটনা এই প্রতিবেদনের প্রাপ্ত তথ্য থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   ব্যারেরাকে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘স্ক্রিম ৭’ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ‘স্ক্রিম’ এবং ‘স্ক্রিম ৬’ সিনেমায় স্যাম কার্পেন্টার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্পাইগ্লাস মিডিয়া জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যারেরার কিছু পোস্টকে তারা ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখাবে না।    সেই সময় ব্যারেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজা ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এর মধ্যে কয়েকটি পোস্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ তোলা হয়েছিল এবং গাজার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছিল। স্পাইগ্লাস এসব বক্তব্যের কিছু অংশকে ইহুদিবিদ্বেষ এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের সীমা অতিক্রমকারী হিসেবে দেখেছিল।    ব্যারেরা অবশ্য তখন ইহুদিবিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার নিন্দা করেছিলেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছিলেন, মানবাধিকার, স্বাধীনতা, শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলা থেকে তিনি সরে আসবেন না। তার বক্তব্য ছিল, নীরব থাকা তার জন্য কোনো বিকল্প নয়।    ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ পড়ার পর ব্যারেরার ক্যারিয়ার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। ২০২৪ সালে তিনি জানান, বরখাস্ত হওয়ার পর প্রায় ১০ মাস বড় ধরনের অভিনয়ের প্রস্তাব অনেকটাই কমে গিয়েছিল। পরে তিনি নিজের ক্যারিয়ার, মূল্যবোধ এবং জনসমক্ষে নিজের অবস্থান প্রকাশের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করার কথা বলেন।    ব্যারেরা ‘লাতিনো ইউএসএ’র সঙ্গে আগেও কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি মেক্সিকোর টেলিনোভেলা থেকে হলিউডে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পথ, অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ এবং নিজের অবস্থান প্রকাশে জনপ্রিয়তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।    ‘স্ক্রিম’ থেকে তার বাদ পড়ার ঘটনা সে সময় হলিউডে ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে। ব্যারেরার পাশাপাশি অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনসহ আরও কয়েকজন বিনোদন ব্যক্তিত্ব ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কারণে পেশাগত প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছিলেন।    ব্যারেরার সর্বশেষ মন্তব্যে সেই পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হলো, কোনো শিল্পী বা পেশাজীবী আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মানবাধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলে সেই মতপ্রকাশের কারণে তার পেশাগত সুযোগ কতটা প্রভাবিত হতে পারে। আর এ কারণেই ‘স্ক্রিম’ থেকে বাদ পড়ার ঘটনা ঘিরে তার অভিযোগ এখনও হলিউডে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ হয়ে আছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

হামাসের কাছে কোনো ইসরায়েলি বন্দি না থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের শিন বেত প্রধান। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে শীর্ষ পর্যায়ের ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আলোচনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   হারেৎসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হাতে থাকা মরদেহগুলোর বেশিরভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে এসব মরদেহের মধ্যে বেসামরিক ফিলিস্তিনিও রয়েছেন। মরদেহগুলো ভবিষ্যতে কোনো বন্দি বা মরদেহ বিনিময় চুক্তিতে ইসরায়েলের জন্য আলোচনার হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখা ইসরায়েলের নতুন কোনো নীতি নয়। পশ্চিম তীর ও গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে রাখার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বহু বছর ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে।   হারেৎসের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে কোনো বিনিময় চুক্তির প্রয়োজন হলে এসব মরদেহকে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।   মরদেহ আটকে রাখার এই নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে মৃতদের মর্যাদা রক্ষা এবং যথাযথভাবে তাদের দাফন বা সৎকারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। স্বজনের মৃত্যুর পরও মরদেহ ফিরে না পাওয়ায় অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করতে পারছে না। একই সঙ্গে মরদেহগুলোকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা সামরিক দর-কষাকষিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   হারেৎসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মরদেহের বিষয়টি এখন ভবিষ্যৎ বিনিময় আলোচনার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মরদেহ আটকে রাখার নীতি নতুন করে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার মহলের নজরে এসেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা ফিলিস্তিনি যুবকের সন্ধান মিলল ইসরায়েলি সেনার ইনস্টাগ্রামের ছবিতে
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা ফিলিস্তিনি যুবকের সন্ধান মিলল ইসরায়েলি সেনার ইনস্টাগ্রামের ছবিতে

প্রায় ২১ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এক তরুণ ফিলিস্তিনির জীবিত থাকার প্রথম প্রমাণ মিলেছে এক ইসরায়েলি সেনার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করা ছবিতে। ছবিটি শনাক্ত করার পর তার পরিবার নিশ্চিত হয়েছে যে, নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত এক সময় তিনি জীবিত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন এবং তাকে কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রাখা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্ন এখনও অজানা।   নিখোঁজ তরুণের নাম মাহমুদ আতাল্লাহ আল-দ্রিমলি (২২)। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ছবিতে তাকে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই নারী ইসরায়েলি সেনার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ছবিটি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর মাহমুদ গাজা সিটিতে ফেরার চেষ্টা করার সময় নিখোঁজ হন। সে সময় উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে বিভক্তকারী নেতজারিম করিডোরের নিয়ন্ত্রণে ছিল ইসরায়েলি বাহিনী।   ছবিটি মাহমুদের জীবিত থাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এলেও, তার বর্তমান অবস্থান, শারীরিক অবস্থা কিংবা তিনি আটক রয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার পরিবার এবং মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বহু ফিলিস্তিনির নিখোঁজ হওয়া, আটক থাকা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তুলে ধরেছে। মাহমুদ আল-দ্রিমলির ঘটনাও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৫ মাস বয়সী শিশু জায়েদ নোফাল। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে তিন সন্তানকে হারানোর পর এবারের হামলায় সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকেও হারালেন ফিলিস্তিনি মা

গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে ১৫ মাস বয়সী শিশু জায়েদ নোফাল। তার মৃত্যু শুধু আরেকটি প্রাণহানির ঘটনা নয়; এটি এমন এক মায়ের জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো সব আশা ভেঙে পড়ার গল্প, যিনি এর আগে একই যুদ্ধে নিজের তিন ছেলেকেও হারিয়েছিলেন।   ৩৮ বছর বয়সী ফাতিমা নোফাল জানান, ২০ জুলাই গভীর রাতে প্রচণ্ড গরমে জানালার পাশে ঘুমিয়ে ছিল তার ছেলে জায়েদ। রাত প্রায় ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে বিমান হামলা হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শিশুটি মারা যায়। হামলায় ফাতিমা নিজেও আহত হন। তার দুই মেয়ের একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং আরেকজনও আহত হয়।   ফাতিমার জীবনে এটি প্রথম নয়। ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর আল-জাওয়াইদা এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার পর আরেকটি বিমান হামলায় তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে আমিন, ১১ বছর বয়সী হামজা এবং মাত্র ২২ দিনের নবজাতক আহমেদ নিহত হয়। সেই হামলায় স্বামীর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।   তিন সন্তান হারানোর প্রায় ১০ মাস পর ফাতিমা জানতে পারেন, তিনি আবার সন্তানসম্ভবা। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেয় জায়েদ। পরিবারটির কাছে সে ছিল নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, যুদ্ধের অন্ধকারে একটুকরো আলো। পরিবারের সদস্যরা তার নাম নিহত ভাইদের নামে রাখতে চাইলেও ফাতিমা নতুন নামই বেছে নিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, ছেলেটির নিজের মতো একটি জীবন হোক। কিন্তু সেই স্বপ্নও মাত্র ১৫ মাসেই শেষ হয়ে যায়।   ফাতিমা বলেন, জায়েদ তার পুরো জীবন ঘরের ভেতরেই কাটিয়েছে। যুদ্ধের কারণে তাকে কখনো পার্কে বা খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তার সমবয়সী অনেক আত্মীয়ও আগের হামলায় নিহত হয়েছে।   জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় শত শত শিশু নিহত হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র জেমস এল্ডার এ পরিস্থিতিকে “যুদ্ধবিরতির এক নির্মম ও প্রাণঘাতী বিভ্রম” বলে মন্তব্য করেছেন। ইউনিসেফের মতে, গাজায় শিশুদের নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার সংকট এখনো তীব্র।   এদিকে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, তারা এমন প্রমাণ পেয়েছে যা থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, হামাসের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়।   ফাতিমা নোফালের কাছে অবশ্য কোনো তদন্ত, পরিসংখ্যান বা প্রতিবেদন তার চার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। আহত মেয়ের পাশে হাসপাতালে বসে এখন তিনি শুধু ভাবছেন, ছোট মেয়েটিকে কীভাবে জানাবেন—যার জন্য সে অপেক্ষা করছে, সেই ছোট ভাই জায়েদ আর কখনো ফিরে আসবে না।

তাবাস্সুম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
৬৫ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণের রায় স্থগিত চেয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনের আবেদন। ছবি সংগৃহীত
৬৫ কোটি ডলারের রায় স্থগিত চেয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনের আবেদন

ইসরায়েলে অতীতে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন নাগরিকদের পক্ষে দেওয়া ৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের রায় সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর একটি নিম্ন আদালত সম্প্রতি এই রায় পুনর্বহাল করায় ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে এই জরুরি আপিল করা হলো।   ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ আদালতের নথিপটে জানিয়েছে যে, এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ বর্তমানে পরিশোধ করতে হলে তা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন সরকারের প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাগুলোকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলমান থাকা অবস্থায় অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।   উল্লেখ্য, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে জেরুজালেমে সংঘটিত বিভিন্ন হামলায় ৩৩ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকান পরিবারগুলো এই মামলা করেছিল। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হামলার শিকার ব্যক্তিদের মার্কিন আদালতে বিচার পাওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রণীত ‘অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাক্ট’ বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় মামলাটি দায়ের করা হয়।   এর আগে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডেরাল আদালত আপিলের ভিত্তিতে মূল রায়টি বাতিল করেছিল। তবে পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেস আইন সংশোধন করার পর সুপ্রিম কোর্ট গত বছর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসে দ্বিতীয় ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ওই রায় পুনর্বহাল করতে সম্মত হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা তখন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন যে এর ফলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে  ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত
গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ভারত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলে অন্তত ২ হাজার ৫৯৬টি চালানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঠানো চালানগুলোর মধ্যে ছিল মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলা, ড্রোনের ওয়ারহেড, সাঁজোয়া যানের উপাদান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। অ্যামনেস্টির দাবি, এসব চালানের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার বিস্ফোরক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।    অ্যামনেস্টি বলেছে, তারা উন্মুক্ত বাণিজ্য তথ্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত রক্ষণশীল পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করেছে। ফলে প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়েও ভারতের প্রকৃত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটির ধারণা। প্রতিবেদনে ভারতের নয়টি কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিবেচনায় ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে সহায়তার শামিল হতে পারে। তিনি দেশগুলোর প্রতি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানান।  প্রসঙ্গত, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে একাধিক দেশের নীতির সমালোচনা করে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারতের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টির সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
দুই নারী ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যা
দুই নারী ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যা, চলতি বছরে প্রাণ গেল ১৬ সেনাসদস্যের

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের দুই নারী সেনা আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে চলমান বছরের প্রথম সাত মাসেই আত্মহত্যা করা কর্মরত ইসরায়েলি সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।   ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র হারেৎজ-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে মিসর-ইসরায়েল সীমান্তে মোতায়েন করা বারদেলাস ব্যাটালিয়নের এক নারী সেনা আত্মহত্যা করেন।   গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর মাত্র কয়েকদিন আগে, রোববার মধ্য ইসরায়েলের রামাত হাশারনের কাছে গ্লিলট সামরিক ঘাঁটিতে কর্মরত ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের আরেক নারী সেনা আত্মহত্যা করেন। জানা গেছে, ওই নারী সেনা সেনাবাহিনীর একটি অত্যন্ত গোপনীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।   পরপর ঘটা এই দুই আত্মহত্যার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যেই সামরিক পুলিশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হারেৎজ-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন কর্মরত সেনাসদস্যের পাশাপাশি যুদ্ধে অংশ নেওয়া নিয়মিত ও রিজার্ভ ফোর্সের অন্তত আরও ৯ জন সেনা ছুটিতে বা দায়িত্বে না থাকা অবস্থায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।   সেনাবাহিনীতে এই মানসিক বিপর্যয় ও আত্মহত্যার প্রবণতা গত বছরও বেশ প্রকট ছিল। হারেৎজ-এর আগের একটি প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মোট ২২ জন কর্মরত ইসরায়েলি সেনা আত্মহত্যা করেছিলেন। গত ১৫ বছরের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে এক বছরে এটিই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক আত্মহত্যার ঘটনা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
লিয়ানের ভিডিওর জবাবে গাজার শিশু ও ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে আবেগঘন বার্তা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজার একটি ভবনের দেয়ালে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ম্যুরাল এঁকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ফিলিস্তিনি কিশোরী লিয়ান আল-কাওকা। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বয়ং সানচেজ ভিডিওবার্তায় লিয়ান, গাজার শিশু এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতি ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন।    ভিডিওতে লিয়ান বলেন, এটি শুধু একটি দেয়ালচিত্র নয়; বরং গাজার মানুষের পক্ষ থেকে স্পেনের জনগণ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক অবস্থানের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বার্তা স্পেনের মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং গাজার মানুষের অনুভূতি তুলে ধরবে।    এর জবাবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে পেদ্রো সানচেজ লিয়ান এবং ম্যুরাল তৈরিতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এত কষ্ট ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তারা স্পেনের প্রতি ভালোবাসার যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তা স্পেনের মানুষের জন্য গভীরভাবে স্পর্শকাতর।   গাজার শিশু ও তাদের পরিবারের উদ্দেশে সানচেজ বলেন, “স্পেনের পুরো সমাজ তোমাদের কথা শুনছে, তোমাদের দেখছে, তোমাদের কথা ভাবছে এবং তোমাদের ভুলে যায়নি।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই গাজার শিশুরা ভয়মুক্ত পরিবেশে আবার স্কুলে ছবি আঁকতে পারবে এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।    স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে লিয়ান আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, জীবনে এই প্রথম কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী তার নাম ধরে ভিডিওবার্তার জবাব দিয়েছেন। ভাষা আলাদা হলেও মানবিক অনুভূতির কোনো সীমান্ত নেই উল্লেখ করে তিনি স্পেনের জনগণ, প্রধানমন্ত্রী এবং ম্যুরাল তৈরিতে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।    গাজা যুদ্ধ নিয়ে শুরু থেকেই ইউরোপের অন্যতম উচ্চকণ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত পেদ্রো সানচেজ। তিনি বারবার যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে স্পেন নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, যা গাজা ইস্যুতে দেশটির অবস্থানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
আওয়ারতা সামরিক চৌকির ফটক বন্ধ থাকায় সংকটাপন্ন অবস্থাতেও অ্যাম্বুলেন্সটি ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় আটকে ছিল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
অ্যাম্বুলেন্স আটকে দিল ইসরায়েলি বাহিনী, গর্ভের সন্তান হারালেন ফিলিস্তিনি মা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক চৌকিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক ফিলিস্তিনি নারী তাঁর গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   ওয়াফার প্রতিবেদনে কারইউত এলাকার অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা বাশার আল-কারইউতির বরাতে বলা হয়, নাবলুসের দক্ষিণে আওয়ারতা সামরিক চৌকিতে ইসরায়েলি বাহিনী অ্যাম্বুলেন্সটির চলাচল বন্ধ করে দেয়। চৌকির ফটক বন্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় সেখানে আটকে ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ভুগছিলেন। সংকটাপন্ন অবস্থাতেও তাঁকে তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনারা অ্যাম্বুলেন্সের ইঞ্জিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে ভেতরে থাকা চিকিৎসা-সহায়তা সরঞ্জামও বন্ধ হয়ে যায়।   পরে অ্যাম্বুলেন্সটিকে হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা ওই নারীর জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হলেও গর্ভের সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলাচলের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   গত দুই দিনে রামাল্লাহ, নাবলুস ও হেবরনসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক সামরিক চৌকি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি চৌকিতেও চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।   এই পরিস্থিতির আগে শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল শহরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে ঘিরে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। এরপর পশ্চিম তীরজুড়ে সামরিক অভিযান ও গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান আরও বিস্তারের হুমকি দিয়েছেন।   সূত্র: আনাদোলু

তাবাস্সুম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
২ ইসরায়েলি নিহতের ঘটনায় দুই দিনে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার
২ ইসরায়েলি নিহতের ঘটনায় দুই দিনে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে ১২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ফিলিস্তিন সেন্টার ফর প্রিজনারস অ্যাডভোকেসি’ (সামিদুন) এ তথ্য জানিয়েছে।   সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীরের নাবলুস, তুলকারেম ও হেবরন এলাকায় সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা।   সম্প্রতি একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের জমিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো।   সামিদুনের অভিযোগ, অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং আটকদের মাঠপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করেছে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি অভিযানে ইসরায়েলি সেনাদের পাশাপাশি সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাও অংশ নিয়েছে। এসব অভিযান সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   সামিদুন ইসরায়েলি বাহিনীর এই অভিযানকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক নীতির অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংগঠনটি বলেছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান চাপ ও সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।   ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।   অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আল-আকসা সংলগ্ন নিজের বাড়ির সামনে ফিলিস্তিনি নারী আয়েশা মসলুহি। ছবি: সংগৃহীত
আল-আকসার পাশের ছোট্ট ঘরের জন্য ১০ লাখ ডলারের প্রস্তাব, ফিরিয়ে দিলেন ফিলিস্তিনি নারী

দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মসজিদ আল-আকসা সংলগ্ন নিজের এক কক্ষের ছোট্ট বাড়ি বিক্রির জন্য দেওয়া ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনি নারী আয়েশা মসলুহি। তিনি বলেছেন, নিজের জন্মভূমি ও বাড়িঘর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।   তুরস্কভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়েশা মসলুহি জানান, মসজিদ আল-আকসা ও বোরাক স্কয়ারের কাছাকাছি অবস্থিত তার ছোট্ট বাড়িটি কেনার জন্য কয়েক দফায় বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেছেন।   আয়েশা বলেন, এক পর্যায়ে তিনি প্রস্তাবদাতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, "মাত্র এক কক্ষের একটি ছোট বাড়ির জন্য কেন এত বড় অঙ্কের অর্থ দিতে চান?" জবাবে ওই ব্যক্তি নাকি বলেন, তারা একটি বাড়ি দিয়ে শুরু করতে চান। একবার একটি বাড়ি কিনতে পারলে ধীরে ধীরে আশপাশের আরও বাড়ি অধিগ্রহণ করা সহজ হবে।   এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে আয়েশা বলেন, "ইনশাআল্লাহ, তারা সেই শুরু করার সুযোগ পাবে না।" তিনি আরও বলেন, "যে নিজের মাতৃভূমি বিক্রি করে, সে নিজের সম্মান, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসও বিক্রি করে দেয়। আমি আশা করি, কেউই নিজের ভূমি শুধু অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেবে না।"   আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়েশার বাড়িটি পূর্ব জেরুজালেমের এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যা ধর্মীয় ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই সম্পত্তিটি নিয়ে আগ্রহ দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন ও অর্থায়নের মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমে সম্পত্তি কেনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।   আয়েশা মসলুহি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের প্রতি আল-আকসা মসজিদের প্রতি আগ্রহ ও উপস্থিতি বজায় রাখার আহ্বানও জানান। তার ভাষায়, শুধু নামাজের সময় নয়, সব সময়ই আল-আকসা প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত থাকা প্রয়োজন। তিনি তুরস্কের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আল-আকসা ও জেরুজালেমের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা নানাভাবে সমর্থন দিয়ে আসছেন।   উল্লেখ্য, পূর্ব জেরুজালেমের মর্যাদা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত একটি বিষয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ পূর্ব জেরুজালেমকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, ইসরাইল পুরো জেরুজালেমকে তার রাজধানী বলে দাবি করে। এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে শহরটিতে ভূমি, আবাসন ও বসতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো প্রায়ই আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ

দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা এবং দুটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে নাবলুসের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম তীরে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল প্রবেশ করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রতিহত করতে বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে সেখানে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারান। নিহত দুই সেনার একজন স্থানীয় নিরাপত্তা সমন্বয়কের দায়িত্বেও ছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সংঘর্ষের সময় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান। তবে পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও কার গুলিতে কারা নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।   এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর রোববার ভোরে পশ্চিম তীরের কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলার অভিযোগ ওঠে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে কুসরা গ্রামে একটি সদ্য নির্মিত মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রামের পরিষদপ্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি বলেন, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘ইহুদি প্রতিশোধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে যায়। নিহত এক ইসরায়েলির নামও সেখানে লেখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।   ওয়াদি বলেন, ২০১১ সাল থেকে কুসরা গ্রাম বারবার হামলার শিকার হয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   একই দিনে তুলকারেম শহরের দক্ষিণ-পূর্বে কুর গ্রামের একটি মসজিদেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গ্রামের পরিষদ সদস্য ফারিদ জিয়ুসির ভাষ্য, ভোরে তিনজন বসতিস্থাপনকারী মসজিদটিতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। তবে মুসল্লিরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় তা মসজিদের মূল অংশে ছড়িয়ে পড়েনি। ওই মসজিদের দেয়ালেও হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা হয়েছে বলে তিনি জানান।   ঘটনার পর কুসরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে অগ্নিসংযোগের আলামত ও গ্রাফিতি দেখতে পেয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ধর্মীয় স্থাপনায় হামলাসহ এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এলাকায় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।   পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অধিকাংশ দেশ ও জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ফিলিস্তিনিরা গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকদের একটি অংশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও হামলার আশঙ্কা করছেন, আর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন যানবাহনে হামলা এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, সালফিত ও কালকিলিয়া গভর্নরেটকে সংযুক্তকারী সড়কে বসতি স্থাপনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ফিলিস্তিনিদের চলাচলকারী একাধিক গাড়িতে পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    ওয়াফা আরও জানায়, কালকিলিয়ার পূর্বাঞ্চলের আন-নবি ইলিয়াস গ্রামের প্রবেশপথে ইসরায়েলি বাহিনী একটি লোহার গেট বন্ধ করে রেখেছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে উল্লেখযোগ্য বাধার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।    অন্যদিকে, তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খিরবেত আল-রাস আল-আহমার এলাকায় এক ফিলিস্তিনির ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী আরেফ দারাঘমেহ ওয়াফাকে জানান, ফিলিস্তিনি নাগরিক সুলেইমান জামিল বানি ওদেহকে আটকে রেখে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ে যায় বসতি স্থাপনকারীরা।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।    এদিকে, রয়টার্সের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিম তীরে নিহত ফিলিস্তিনিদের একটি অংশ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।    উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ওই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ বলে জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ মনে করলেও ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হ ত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি I ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হ ত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের ‘তেল’ গ্রামে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর পাল্টা আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই এক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে গুলি করে হত্যা করে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পাল্টা তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।   হত্যাকাণ্ড ও সংঘাতের পর রাতভর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক অভিযান ও তাণ্ডব চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। অভিযানের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে আরও কয়েকশ সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্তা ও হয়রানি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তেল গ্রামে অবৈধ সেটেলারদের সাথে সংঘাতের পর সেখান থেকেই ১১ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অন্তত ৮০ জনের বেশি মানুষকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   অন্যদিকে, পশ্চিমতীরের জেনিন এলাকায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আটককৃত সকলেই আন্তর্জাতিক কিংবা স্থানীয়ভাবে 'ওয়ান্টেড' তালিকায় ছিল এবং সশস্ত্র সংগঠন হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিস্ফোরক দিয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়, তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি দখলদার বাহিনী।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন
ইসরাইলিদের তাণ্ডবে আগুনে পুড়ল ফিলিস্তিনি গ্রাম, ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রাম সাররায় শতাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর হামলায় একাধিক বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর আতঙ্কে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে ফিরে এসে পোড়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআনের কপি উদ্ধার করেন।    স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, শুক্রবার রাতে প্রায় ২০০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নাবলুস শহরের পশ্চিমে অবস্থিত সাররা গ্রামে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বহু পরিবারের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  হামলার পর পুরো এলাকাজুড়ে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে আগুন নেভার পর তারা ফিরে এসে পোড়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করেন। অনেকেই আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআন উদ্ধার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।    এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই নাবলুসের কাছে তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। ঘটনার পর পুরো নাবলুস অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করে ইসরায়েলি বাহিনী, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং পরে সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়।    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ধরনের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরি
ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যে আটক ভারতীয় গবেষককে ফের বন্দি করতে চেয়েও ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন

ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের কারণে গত বছর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরিকে ফের হেফাজতে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বৃহস্পতিবার ২-১ ভোটে দেওয়া রায়ে ফোর্থ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস সুরিকে মুক্ত রাখার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে মামলাটি ভার্জিনিয়া থেকে টেক্সাসে স্থানান্তরের সরকারের দাবিও নাকচ করেছে আদালত।   এই রায় শুধু সুরির ব্যক্তিগত মামলার জন্য নয়, ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আটকাদেশের বৈধতা সরাসরি ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন কি না, সেই বৃহত্তর আইনি প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের মামলায় অন্য দুটি ফেডারেল আপিল আদালত বিপরীত সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ইউএস সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।   ভারতীয় নাগরিক বদর খান সুরি ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল ফেলো। তিনি একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ICE তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রায় ছয় সপ্তাহ তাকে টেক্সাসের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।   সুরির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তার গ্রেপ্তারের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে তার যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি বিরূপ পরিণতি তৈরি করতে পারে বলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্ধারণ করেছিলেন। সরকার তার সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম এবং ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের বিষয়টিও সামনে এনেছিল।   সুরি ও তার আইনজীবীরা সরকারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার মতামত প্রকাশ এবং তার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক স্ত্রীর পারিবারিক যোগাযোগের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সরকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধতা দাবি করে আসছে।   ২০২৫ সালের মে মাসে ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সুরিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। বিচারক তার হেফাজত নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং মামলাটি ভার্জিনিয়ার পরিবর্তে টেক্সাসে পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নেয়।   ২৩ জুলাই ফোর্থ সার্কিটের তিন বিচারকের প্যানেল ২-১ সিদ্ধান্তে সরকারের আপিল প্রত্যাখ্যান করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেন, সুরির মতো কোনো ননসিটিজেন তার চলমান ইমিগ্রেশন মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা না করেই হেফাজতের বৈধতা নিয়ে ফেডারেল আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।   এখানেই মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে, হেবিয়াস কর্পাস। শতাব্দীপ্রাচীন এই আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে সরকারি হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তি আদালতের কাছে জানতে চাইতে পারেন, তাকে আটকে রাখার বৈধ আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না।   ফোর্থ সার্কিটের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেছেন, ইমিগ্রেশন মামলা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেই আইনি সুরক্ষা কার্যত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। কারণ ইমিগ্রেশন মামলা নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মোহসেন মাহদাভির
গ্রিন কার্ডও বাঁচাতে পারল না, ডিপোর্টেশনের মুখে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাভির বিরুদ্ধে আবারও বহিষ্কার কার্যক্রম চালানোর পথ খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। সর্বশেষ এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচিত অভিবাসন মামলায় নতুন মোড় এসেছে।    মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক সেকেন্ড ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায়ে ভারমন্টের একটি নিম্ন আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। আপিল আদালতের মতে, ফেডারেল জেলা আদালত অভিবাসন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই মামলায় হস্তক্ষেপ করেছিল, যা তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল। তবে আদালত মাহদাভির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এসব বিষয় অভিবাসন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।    মোহসেন মাহদাভি পশ্চিম তীরের বাসিন্দা এবং ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি গাজা যুদ্ধবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার দিতে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে এক ফেডারেল বিচারক তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন।    মাহদাভির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তাদের দাবি, আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে তাকে আটক বা বহিষ্কার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বলছেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।    সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক অ-মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মাহদাভির মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম আবারও অভিবাসন আদালতে এগিয়ে যাবে, যদিও তার সামনে এখনও আইনি আপিলের সুযোগ রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
খলিল আল-হাইয়া
ফিলিস্তিনি হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া, হামাস অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয় ইঙ্গিতে কঠোর অবস্থান

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খলিল আল-হাইয়া-কে নির্বাচিত করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়।   আল-হাইয়া দায়িত্ব নিচ্ছেন হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে সিনওয়ার নিহত হন।   হামাসের গাজা শাখার সাবেক প্রধান এবং সংগঠনটির অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে পরিচিত খলিল আল-হাইয়া দীর্ঘদিন ধরেই কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যু এবং পরে সিনওয়ারের নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উঠে আসেন।   হামাসের নেতৃত্বের দৌড়ে সাবেক রাজনৈতিক প্রধান খালেদ মেশআল-এর নামও আলোচনায় ছিল। তবে আল-হাইয়াকে তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর অবস্থানের নেতা হিসেবে দেখা হয়।   হামাসের নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হলেও ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে তা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত গাজা, পশ্চিম তীর, ইসরায়েলের কারাগারে থাকা হামাস সদস্য এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী পরিষদ আল-হাইয়াকে সংগঠনের নেতৃত্বে নির্বাচিত করে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন হামাসের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এর মাধ্যমে সংগঠনটি জানিয়ে দিল, তারা এখনই নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটতে প্রস্তুত নয় এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত হামাস, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি।   দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সংঘাতে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে পশ্চিম তীরে নিহত এক ফিলিস্তিনি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি তরুণ

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সঙ্গে ফিলিস্তিনের অনেক মানুষও ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। তবে সেই আনন্দের মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।   স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রোববার (স্থানীয় সময়) পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দেইর জারির শহরে এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম বা বয়স প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই তরুণ আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর দেইর জারির এবং আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।   এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের বিষয়টি আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। গাজার বহু মানুষ ক্যাফে, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও খোলা জায়গায় একসঙ্গে বসে স্পেনের ম্যাচ উপভোগ করেছেন। অনেকের মতে, গাজা ইস্যুতে স্পেন সরকারের অবস্থান এবং দেশটির প্রতি সংহতির অনুভূতির কারণেই স্পেনের প্রতি তাদের সমর্থন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।   অধিকৃত পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামরিক অভিযান, নিরাপত্তা তল্লাশি, বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।   বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, ঠিক সেই সময় পশ্চিম তীরে ঘটে যাওয়া এই প্রাণহানির ঘটনা অঞ্চলটির চলমান অস্থিরতা ও মানবিক সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলা। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় জানাজারত অবস্থায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৪

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল।   স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় অবস্থিত আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পর মরদেহ বহন করছিলেন শোকাহত স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় সেখানে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হলে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।   হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী সেলকে’ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি সত্ত্বেও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।   এদিন গাজার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। আজ-জাওয়ায়দা এলাকায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এছাড়া নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে গোলাবর্ষণে আরও একজনের মৃত্যু হয়।   গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই দিনে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।   আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির দাবি থাকা সত্ত্বেও মে মাস থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা বেড়েছে। সংস্থাটির হিসাব বলছে, গত মাসে ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ। এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত নয় মাসে গাজায় অন্তত ২৭৪ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।   অন্যদিকে, ইসরাইলের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান শুধুমাত্র হামাসের সশস্ত্র সদস্য ও সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
Men carry the body of one of several victims who were killed after a police station was was hit by Israeli bombardment in the Jabalia camp.
গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৫, যুদ্ধবিরতির পর বেড়েছে হামলার মাত্রা

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় একটি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ট্যাংকের গোলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় একজন এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলার খবর দিয়েছেন।   এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই বলছে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই তারা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে।   ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। হামাস তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।   অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলার সংখ্যা ৪০টির বেশি ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা।   সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী গবেষণা ব্যবস্থাপক নাসের খদুর বলেছেন, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে পারেন।   ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তপারের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উভয় পক্ষের এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০