সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে হত্যা, সম্পদ হাতিয়ে নিতেন; দুই দশকে ১০-এর বেশি হত্যাকাণ্ডে একাধিক মৃত্যুদণ্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১২:২৩
দুই দশকে একাধিক স্বামীকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ইরানের কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক উইডো’ কুলসুম আকবারি। ছবি: সংগৃহীত
দুই দশকে একাধিক স্বামীকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ইরানের কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক উইডো’ কুলসুম আকবারি। ছবি: সংগৃহীত

দুই দশক ধরে বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে ওষুধ ও বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ; সম্পদ ও দেনমোহরের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল সম্ভাব্য উদ্দেশ্য

 

ইরানে একাধিক স্বামীকে হত্যার দায়ে ৫৬ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অন্তত ১০ জন স্বামীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

 

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই নারীর নাম কোলথুম আকবারি। বয়স্ক পুরুষদের ধারাবাহিকভাবে বিয়ে করে হত্যার অভিযোগে তাকে ইরানের ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে।

 

মাজানদারান প্রদেশের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আকবারি তার একাধিক স্বামীকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ঘুমের ওষুধ এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অ্যালকোহল প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বয়স্ক পুরুষ।

 

কর্তৃপক্ষের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীদের কাছ থেকে সোনা, নগদ অর্থ এবং বিয়ের সময় দেওয়া অন্যান্য সম্পদ নেওয়ার পর তাদের হত্যা করা হতো।

 

আকবারির বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরালো হয় ২০২৩ সালে ৮২ বছর বয়সী স্বামী গোলামরেজা বাবায়ির মৃত্যুর পর। মৃত্যুর আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, আকবারি তাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে বাধ্য করছেন। এর কিছুদিন পরই তার মৃত্যু হয়।

 

তদন্তের একপর্যায়ে আকবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি কতজনকে হত্যা করেছেন, তা নির্দিষ্টভাবে মনে করতে না পারার কথাও জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, আকবারি ইরানে প্রচলিত ‘সিগেহ’ বা অস্থায়ী বিবাহব্যবস্থা ব্যবহার করে বয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এসব চুক্তিভিত্তিক বিবাহে দেনমোহর বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ থাকায় তিনি সম্ভাব্যভাবে সেখান থেকেও অর্থনৈতিক সুবিধা নিতেন বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।

 

তদন্তকারীদের মতে, বিভিন্ন শহরের বয়স্ক পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর কারণে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো দীর্ঘ সময় ধরা পড়েনি। একেকটি ঘটনা ভিন্ন এলাকায় ঘটায় হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

আদালত ১০টি হত্যাকাণ্ডের জন্য ১০টি পৃথক মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। পাশাপাশি হত্যাচেষ্টার একটি মামলায়ও তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ইরানের আইন অনুযায়ী, হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার প্রতিশোধমূলক শাস্তি বা ‘কিসাস’ দাবি করতে পারে। জানা গেছে, নিহতদের ১০টি পরিবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে অন্তত একটি পরিবার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ‘দিয়াহ’ বা রক্তপণ গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে।

 

তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের পরিবারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বা অন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

ইরানে মৃত্যুদণ্ড সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

 

আকবারির মামলাটি অবশ্য রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মূলত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টাকে কেন্দ্র করে।

 

ইরানে এর আগেও নারী সিরিয়াল হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। মাহিন কাদিরি নামে এক নারীকে পাঁচজন নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০০৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
এআইয়ের বিপদকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও
এআইয়ের বিপদকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কোনো ‘ভুয়া খবর’ বা ‘ফেক নিউজ’ নয়; বরং এসব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও। সোমবার চার দিনের ফ্রান্স সফর শেষে রোমে ফেরার পথে বিমানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   কীভাবে এআইয়ের বিপর্যয়কর ঝুঁকি থেকে মানবতাকে রক্ষা করা যায় এবং এ বিষয়ে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে পোপ লিও এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময়ে এই সতর্কবার্তা দিলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের বিপদকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত ইতিহাসের প্রথম পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিও তাঁর ১৬ মাসের মেয়াদে শুরু থেকেই এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে আসছেন। এমনকি তিনি তাঁর প্রথম ‘এনসাইক্লিকাল’ বা পোপের আনুষ্ঠানিক পত্রটিও এআই এবং এর প্রভাব থেকে মানবতাকে রক্ষার ওপর উৎসর্গ করেছিলেন।   সংবাদ সম্মেলনে পোপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদেরও তীব্র সমালোচনা করেন, যারা এআই প্রযুক্তির ওপর কোনো ধরনের সুরক্ষাবলয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধী। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের উদাহরণ টেনে পোপ লিও সংশয় প্রকাশ করেন।   কারণ তিনি একদিকে এআই মডেলে নিরাপত্তা বেষ্টনী যুক্ত করার কথা বললেও, অন্যদিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন এবং এআই নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।   পোপ নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এআই প্রযুক্তিকে মানবতার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন পোপ লিও। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে ভ্যাটিকানের সেতুবন্ধন তৈরির অংশ হিসেবে, গত মে মাসে ভ্যাটিকানে অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এআই বিষয়ক তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পত্র প্রকাশ করেন।   বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সোমবার পোপ লিও বলেন, রাজনৈতিক নেতা, এআই বিশেষজ্ঞ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এআই যাতে মানবতা ধ্বংসের মতো কোনো বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সংলাপ ও গবেষণার ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে পোপ সতর্ক করে বলেন, “আমরা শুধু হাত গুটিয়ে বসে থেকে এমন ভান করতে পারি না যে, কিছুই ঘটবে না। আমাদের এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৭:৫৩
কানাডার অ্যালকোহল-মোটরসাইকেলসহ ১০০ কোটি ডলারের পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

কানাডার অ্যালকোহল-মোটরসাইকেলসহ ১০০ কোটি ডলারের পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিরুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষোভ

ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিরুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষোভ

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী, দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী, দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি

মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা,  নিহত অন্তত ৫০
মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হা মলা, নি হত অন্তত ৫০

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত এক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং আরও ৫৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর তথ্য উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, সোমবার রাখাইনের কিয়াউকতাও টাউনশিপ এলাকার একটি জনবহুল বাজার ও সেতু লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী এই বিমান হামলা চালায়।   অঞ্চলটি বর্তমানে একটি জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার জেরেই সামরিক বাহিনী এমন ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সোমবার জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে কিসসাপনাদি (যা কালাদান সেতু নামেও পরিচিত) এবং স্থানীয়ভাবে ‘ইন্ডিয়ান মার্কেট’ নামে পরিচিত একটি ব্যস্ত বাজারে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা হয়। হামলার সময় বাজারটিতে ক্রেতা, বিক্রেতা, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।   ফলে হতাহতদের একটি বড় অংশই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক। কালাদান নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় শহর কিয়াউকতাওয়ে চালানো এই হামলাটিকে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের অন্যতম প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।   মিয়ানমারে গত কয়েক বছর ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষত ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারকে জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কয়েকটি জাতিগত বিরোধী গোষ্ঠী।   এর পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা দীর্ঘকাল ধরেই জান্তা বাহিনীর চরম নিপীড়ন ও সামরিক অভিযানের শিকার হয়ে আসছেন। সামরিক বাহিনীর অব্যাহত নির্যাতন ও দমন-পীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক নিজ দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:১৪
ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত বিদায়, ২০ বছরের সামরিক অধ্যায়ের অবসান

ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত বিদায়, ২০ বছরের সামরিক অধ্যায়ের অবসান

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে, কারিগরি আলোচনা চালাচ্ছে ভারত: রণধীর জয়সোয়াল

নরওয়ের একটি সড়কে চলন্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের নতুন গাড়ির বাজারে পেট্রল-ডিজেল প্রায় উধাও, বৈদ্যুতিক গাড়ি ৯৮ শতাংশ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় নিজের বিনোদনের জন্য জেট স্কি চালিয়ে গ্রেফতার ব্যক্তি, বাহন বাজেয়াপ্ত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে আটক করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ এনেছিল পুলিশ। পরে আদালত জেট স্কিটিও বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংককের প্লাবিত একটি রাস্তায় ওই ব্যক্তিকে জেট স্কি চালাতে দেখা যায়। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, যানটি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করবে।   পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম নিয়ে থাই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার বাথ জরিমানা করা হয়েছে। কারাদণ্ড কার্যকর না করে স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত জেট স্কি বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দিয়েছেন।   কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাংককের বহু রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার মধ্যেই জেট স্কি চালানোর ঘটনাটি ঘটে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১০:৪১
সাবেক আইনজীবী ক্যাথরিন থিওডোটুর প্রিয় বিড়াল রিটা

বিড়াল কেড়ে নেওয়ার পর মৃ ত্যু, ম র দে হ দেখতে আদালতে মালিকের মা ম লা

প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা স ন্ত্রা সবাদ ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা : জয়শঙ্কর

কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা,  আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭

কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা, আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭

0 Comments