কারাগারে সারা শরিফের বাবার ওপর হামলা, দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
যুক্তরাজ্যে ১০ বছরের মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত উরফান শরিফের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। লন্ডনের হাই সিকিউরিটি বেলমার্শ কারাগারে উরফানের ঘাড় ও মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের প্রায় দেড় বছর পর এই চার্জ আনা হলো।
ব্রিটিশ ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই বন্দি হলেন ৪৭ বছর বয়সী স্টিভেন স্যানসম এবং ৩৯ বছর বয়সী অ্যাডাম ওয়াটসন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বেলমার্শ কারাগারে ঘটে যাওয়া ওই হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ২৬ আগস্ট তাদের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উরফান শরিফ নিজের সেলে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হন। হামলায় ধারালো করে নেওয়া টুনা মাছের ক্যানের ঢাকনা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ঘাড় ও মুখে কেটে যায়। তবে আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না এবং কারাগারের ভেতরেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর উরফানকে বেলমার্শ থেকে কাউন্টি ডারহামের হাই সিকিউরিটি ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের অনেককে এই কারাগারে রাখা হয়।
উরফান শরিফ বর্তমানে নিজের ১০ বছর বয়সী মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে উরফান এবং সারার সৎমা বেইনাশ বাতুলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। উরফানকে অন্তত ৪০ বছর এবং বেইনাশকে অন্তত ৩৩ বছর কারাগারে কাটানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
একই মামলায় সারার চাচা ফয়সাল মালিক হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও একটি শিশুর মৃত্যু ঘটানো বা মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট ইংল্যান্ডের সারের ওকিংয়ে পারিবারিক বাড়িতে সারা মারা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তার শরীরে একাধিক আঘাত, হাড় ভাঙা, পোড়ার দাগ এবং কামড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। পোস্টমর্টেমে চিকিৎসকেরা জানান, একাধিক আঘাত ও অবহেলার জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।
সারার মৃত্যুর পর উরফান, বেইনাশ এবং ফয়সাল পাকিস্তানে চলে যান। পাকিস্তানে পৌঁছে উরফান নিজেই ব্রিটিশ পুলিশকে ফোন করে মেয়েকে মারধরের কথা জানান। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে এলে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার রায় দেওয়ার সময় বিচারক সারা শরিফের ওপর দীর্ঘদিনের নির্যাতনকে সরাসরি ‘নির্যাতন ও যন্ত্রণার ধারাবাহিকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আদালত জানায়, সারার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার ফল ছিল না, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা অবহেলা ও বারবার শারীরিক নির্যাতনের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল।
এদিকে উরফানের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় নতুন করে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। অভিযুক্ত স্টিভেন স্যানসম ও অ্যাডাম ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। আগামী ২৬ আগস্ট তাদের প্রথম কোর্ট হিয়ারিংয়ের পর মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreদুই দশক ধরে বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে ওষুধ ও বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ; সম্পদ ও দেনমোহরের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল সম্ভাব্য উদ্দেশ্য ইরানে একাধিক স্বামীকে হত্যার দায়ে ৫৬ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অন্তত ১০ জন স্বামীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই নারীর নাম কোলথুম আকবারি। বয়স্ক পুরুষদের ধারাবাহিকভাবে বিয়ে করে হত্যার অভিযোগে তাকে ইরানের ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। মাজানদারান প্রদেশের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আকবারি তার একাধিক স্বামীকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ঘুমের ওষুধ এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অ্যালকোহল প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বয়স্ক পুরুষ। কর্তৃপক্ষের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীদের কাছ থেকে সোনা, নগদ অর্থ এবং বিয়ের সময় দেওয়া অন্যান্য সম্পদ নেওয়ার পর তাদের হত্যা করা হতো। আকবারির বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরালো হয় ২০২৩ সালে ৮২ বছর বয়সী স্বামী গোলামরেজা বাবায়ির মৃত্যুর পর। মৃত্যুর আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, আকবারি তাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে বাধ্য করছেন। এর কিছুদিন পরই তার মৃত্যু হয়। তদন্তের একপর্যায়ে আকবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি কতজনকে হত্যা করেছেন, তা নির্দিষ্টভাবে মনে করতে না পারার কথাও জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, আকবারি ইরানে প্রচলিত ‘সিগেহ’ বা অস্থায়ী বিবাহব্যবস্থা ব্যবহার করে বয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এসব চুক্তিভিত্তিক বিবাহে দেনমোহর বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ থাকায় তিনি সম্ভাব্যভাবে সেখান থেকেও অর্থনৈতিক সুবিধা নিতেন বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিভিন্ন শহরের বয়স্ক পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর কারণে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো দীর্ঘ সময় ধরা পড়েনি। একেকটি ঘটনা ভিন্ন এলাকায় ঘটায় হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আদালত ১০টি হত্যাকাণ্ডের জন্য ১০টি পৃথক মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। পাশাপাশি হত্যাচেষ্টার একটি মামলায়ও তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের আইন অনুযায়ী, হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার প্রতিশোধমূলক শাস্তি বা ‘কিসাস’ দাবি করতে পারে। জানা গেছে, নিহতদের ১০টি পরিবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে অন্তত একটি পরিবার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ‘দিয়াহ’ বা রক্তপণ গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের পরিবারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বা অন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইরানে মৃত্যুদণ্ড সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। আকবারির মামলাটি অবশ্য রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মূলত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টাকে কেন্দ্র করে। ইরানে এর আগেও নারী সিরিয়াল হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। মাহিন কাদিরি নামে এক নারীকে পাঁচজন নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০০৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় হেয়ারড্রায়ারের তাপের ফলে তিন মাসের মেয়ের মৃত্যু, দানব মায়ের ছয় বছরের জেল
কারাগারে সারা শরিফের বাবার ওপর হামলা, দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
যুদ্ধের সাফল্য প্রমাণ করেছে, ইসলাম বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে: ইরানের শীর্ষ কমান্ডার
ঘুমিয়ে থাকা একটি মেরুভাল্লুককে ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের হর্ন বাজিয়ে জাগানোর ঘটনায় নরওয়েতে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছে। মার্কিন মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৩০০ ডলার। নরওয়ের স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে চলতি আগস্টে ঘটনাটি ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি একটি নৌযানে করে স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নৌযানে থাকা লোকজন স্থলভাগে একটি মেরু ভাল্লুককে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। এরপর ওই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের ফগহর্ন বাজান। বিকট শব্দে মেরু ভাল্লুকটির ঘুম ভেঙে যায়। এরপর সেটি ওই স্থান ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্বালবার্ডের আইন অনুযায়ী, প্রয়োজন ছাড়া মেরু ভাল্লুককে বিরক্ত করা, আকৃষ্ট করা বা তাড়া করা নিষিদ্ধ। আইন ভাঙার দায়ে ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার জরিমানা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি জরিমানা মেনে নিয়ে অর্থ পরিশোধ করেছেন। নরওয়ের মূল ভূখণ্ড ও উত্তর মেরুর মাঝামাঝি আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত স্বালবার্ড ভাল্লুকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। সেখানে ভাল্লুক দেখার জন্য প্রতি বছর বহু পর্যটক গেলেও প্রাণীগুলোর কাছাকাছি যাওয়া বা তাদের স্বাভাবিক আচরণে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। স্বালবার্ডে মেরু ভাল্লুক ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে সুরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিশেষ আইনি সুরক্ষা পেয়ে আসছে। পর্যটন ও নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেরু ভাল্লুকের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাসহ বন্যপ্রাণী সুরক্ষার নিয়ম আরও গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বন্যপ্রাণীকে শুধু শারীরিকভাবে আঘাত করলেই আইন লঙ্ঘন হয় না। অপ্রয়োজনে শব্দ করে ভয় দেখানো বা বিশ্রামে থাকা প্রাণীকে স্থান পরিবর্তনে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও শাস্তিযোগ্য হতে পারে। এই ঘটনাতেও মেরু ভাল্লুকটির কোনো শারীরিক ক্ষতির খবর না থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটানোর কারণেই জরিমানা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর
পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আফ্রিদির
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গুরুতর ও বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির তালিকায় আরও ১৪টি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যুক্ত করেছে। এর ফলে কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস বা সিএএল তালিকায় মোট রোগ ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪টিতে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ১১ আগস্ট নতুন তালিকা ঘোষণা করে। এই কর্মসূচির আওতায় এমন গুরুতর রোগ ও মেডিক্যাল কন্ডিশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যেগুলো সাধারণত সোশ্যাল সিকিউরিটির ডিসঅ্যাবিলিটি সংজ্ঞা পূরণ করে। ফলে আবেদনকারীর কেস সাধারণ প্রক্রিয়ার তুলনায় দ্রুত পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়। নতুন যোগ হওয়া ১৪টি কন্ডিশনের মধ্যে রয়েছে অ্যাডেনাইলোসাক্সিনেট লাইয়েজ ডেফিসিয়েন্সির নিওনেটাল ফর্ম ও টাইপ ১, আইকার্ডি সিনড্রোম, বারাইতসার উইন্টার সিনড্রোম, বেয়ার স্টিভেনসন কিউটিস জাইরাটা সিনড্রোম, বোরিং ওপিটজ সিনড্রোম, সিএএসকে সম্পর্কিত জিন ডিসঅর্ডার, হেপাটোস্প্লেনিক টি সেল লিম্ফোমা, লাফোরা ডিজিজ, ম্যালিগন্যান্ট মাইগ্রেটিং পারশিয়াল সিজারস অব ইনফ্যান্সি, ওপিএইচএন১ সিনড্রোম, প্রাইমারি কার্ডিয়াক সারকোমা, প্রাইমারি ইন্ট্রাক্রানিয়াল ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা, মেটাস্টেসিসসহ ইউভিয়াল মেলানোমা এবং ওয়ারবার্গ মাইক্রো সিনড্রোম। এসবের মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত বিরল জেনেটিক ও নিউরোলজিক্যাল রোগ, আবার কয়েকটি গুরুতর ক্যানসার। অনেক ক্ষেত্রে রোগগুলো শিশু বয়সেই দেখা দেয় এবং রোগীর দৈনন্দিন জীবন, শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। সোশ্যাল সিকিউরিটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো জানিয়েছেন, ডিসঅ্যাবিলিটি প্রোগ্রামের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও মানসম্মত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কর্মসূচি গুরুতর রোগে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা কমিয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে তৈরি করা হয়েছে। সিএএল তালিকায় কোনো রোগের নাম থাকার অর্থ এই নয় যে আবেদন না করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক ডিসঅ্যাবিলিটি পেমেন্ট শুরু হয়ে যাবে। আবেদনকারীকে সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের জন্য আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল রেকর্ড জমা দিতে হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আবেদনকারীর রোগ নির্ণয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সাধারণ ডিসঅ্যাবিলিটি কেসের তুলনায় সিএএল কেসগুলো দ্রুত শনাক্ত ও প্রসেস করার ব্যবস্থা রয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, কেস দ্রুত প্রসেস হলেও আবেদনকারীকে সোশ্যাল সিকিউরিটি আইনের ডিসঅ্যাবিলিটি সংজ্ঞা পূরণ করতে হয় এবং আবেদন মূল্যায়নের মূল আইনি মানদণ্ড অপরিবর্তিত থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সোশ্যাল সিকিউরিটি। আবেদন জমা পড়ার পর সিস্টেম সম্ভাব্য কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কেস শনাক্ত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হেলথ আইটি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড সরাসরি পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে। ২০০৮ সালে কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কর্মসূচি চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এই দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণ ডিসঅ্যাবিলিটি আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মেডিক্যাল রেকর্ড সংগ্রহ, রোগের প্রভাব মূল্যায়ন এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে সময় লাগে। কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর ও সুস্পষ্ট কিছু রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা রোগী ও পরিবারের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। সিএএল সেই অপেক্ষা কমানোর একটি বিশেষ ব্যবস্থা। নতুন তালিকা প্রকাশের ফলে যাদের এসব ১৪টি রোগের কোনো একটি রয়েছে, তাদের জন্য আবেদন দ্রুত প্রসেস হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধুমাত্র রোগের নাম মিললেই বেনিফিট নিশ্চিত, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীর মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির যোগ্যতার অন্যান্য শর্তও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটির সম্পূর্ণ কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস তালিকায় এখন ৩১৪টি কন্ডিশন রয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, বিরল জেনেটিক রোগ, শিশুদের গুরুতর রোগ এবং স্নায়ুবিক সমস্যাসহ এমন বহু কন্ডিশন রয়েছে, যেগুলো গুরুতর ডিসঅ্যাবিলিটির সঙ্গে সম্পর্কিত। যারা ইতিমধ্যে ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের আবেদন করার কথা ভাবছেন এবং নতুন যোগ হওয়া কোনো কন্ডিশনে আক্রান্ত, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসার রেকর্ড প্রস্তুত রাখা এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অফিসিয়াল আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেস জমা দেওয়া। নতুন পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো, যোগ্য আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের জন্য স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হওয়ার সম্ভাবনা।
মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি
নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জাপানে ৪ জনের মৃত্যু, বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী