চিকিৎসার টাকা দিতে পারেননি, কৃতজ্ঞতায় জীবন বাঁচানো চিকিৎসককে নিজের পোষা দুটি মুরগিই দিলেন কৃষক
চিকিৎসা সেবায় অর্থই যে সব নয়, মানবিকতাই যেখানে মুখ্য—এমনই এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হলো বলিভিয়া। গুরুতর প্রস্টেটের সমস্যায় আক্রান্ত এক বয়স্ক কৃষকের জীবন বাঁচাতে কোনো প্রকার ফি ছাড়াই বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এক মানবিক চিকিৎসক।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মুহূর্তে সেই চিকিৎসককে উপহার দেওয়ার মতো কোনো টাকা বা মূল্যবান সম্পদ কৃষকের ছিল না। তাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্বল দুটি পোষা মুরগি চিকিৎসকের হাতে তুলে দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অসুস্থতার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ওই কৃষক যখন হাসপাতালে এসেছিলেন, তখন চিকিৎসকরা জানান অবিলম্বে তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে জর্জরিত কৃষকের পক্ষে সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটানো একেবারেই অসম্ভব ছিল।
অসহায় কৃষকের এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে মুখ ফিরিয়ে নেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। বরং নিঃস্বার্থভাবে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই সফলভাবে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। নতুন জীবন ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ধন্যবাদ জানাতে দুটি পোষা মুরগি নিয়ে চিকিৎসকের সামনে হাজির হন তিনি। কৃষকের এই সরল ও অকৃত্রিম উপহার দেখে চিকিৎসকও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
স্মৃতিচারণ করে চিকিৎসক জানান, তার প্রয়াত বাবাও একসময় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা করতেন। তখন অনেক রোগী অর্থের সংস্থান করতে না পেরে পরম ভালোবাসায় মুরগি, ডিম কিংবা নিজেদের ফলানো কৃষিপণ্য দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন।
দুটি মুরগির আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু নিঃস্ব একজন কৃষকের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কাছে তা যেকোনো মূল্যবান উপহারের চেয়েও অনন্য হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের প্রেস্টনে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী কার্লা জর্জেস্কুকে হত্যার দায়ে তাঁর সৎবাবা নাথান ওয়েন্সকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালতের জুরি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রায় দেওয়া হয়। ল্যাঙ্কাশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন ৩৪ বছর বয়সী ওয়েন্স। ২৩ অক্টোবর তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্লা ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রেস্টনের শিক্ষার্থী আবাসন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়। সেদিন ছিল তাঁর ২০তম জন্মদিন। রোমানিয়ার বুখারেস্টে জন্ম নেওয়া কার্লা ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসাসেবায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন বলে তাঁর শিক্ষকেরা জানিয়েছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে হার্টলপুল থেকে প্রেস্টনে যান ওয়েন্স। কার্লার মায়ের ফেলে আসা পার্স নিতে যাচ্ছেন বলে তাঁকে বার্তা দেন। মায়ের সঙ্গে আসছেন বলেও বোঝান তিনি। এই অজুহাতে কার্লার আবাসনে প্রবেশ করে তাঁর কক্ষে যান ওয়েন্স। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সেখানে কার্লার ওপর সহিংস ও যৌন হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল সাজিয়ে আত্মহত্যার ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওয়েন্স। পুলিশ প্রথমে সেই সম্ভাবনা বিবেচনা করলেও ঘটনাস্থলে অসংগতি দেখে আরও তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভির ফুটেজও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়েন্স হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করায় মামলাটি বিচারে যায়। তিনি আদালতে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেননি। সব সাক্ষ্যপ্রমাণ শোনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনার শেষে জুরি তাঁকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। তদন্তে কার্লার প্রতি তাঁর যৌন আসক্তির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। কার্লার মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে স্মরণ করে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর শিক্ষকেরা তাঁকে আন্তরিক, মেধাবী ও উৎসাহী শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শোক প্রকাশ করে এবং ঘটনায় প্রভাবিত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার কথা জানায়। সূত্র: ল্যাঙ্কাশায়ার পুলিশ ও আইটিভি নিউজ
শত শত শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে ব্রিটেনের আজীবন সম্মাননা পেলেন পাকিস্তানি মুসলিম চিকিৎসক
যুদ্ধের মধ্যে শৈশব হারাচ্ছে গাজার শিশুরা, ৬০ হাজার শিশু হারিয়েছে বাবা-মাকে
সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ ভারতীয় নি হত, আ হত ২ বাংলাদেশিসহ ৮ জন
চীনের সুঝৌ শহরে ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের হাতে জন্মদাগ দেখে তাকে নিজের হারিয়ে যাওয়া মেয়ে হিসেবে শনাক্ত করেন এক নারী। ২০২১ সালের ৩১ মার্চের এই ঘটনার বিবরণ সে সময় সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনে ওই নারীর জন্মদাত্রী মেয়ে হলেও বর ছিলেন তার দত্তক নেওয়া সন্তান। ফলে শেষ পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের আয়োজন চলার সময় কনের হাতের একটি জন্মদাগ বরের মায়ের নজরে আসে। বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মেয়ের হাতেও একই ধরনের দাগ ছিল বলে তার মনে পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি কনের মা-বাবার কাছে জানতে চান, তারা মেয়েটিকে দত্তক নিয়েছিলেন কি না। প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়, কনেকে বড় করে তোলা মা-বাবা তখন জানান, প্রায় দুই দশক আগে রাস্তার পাশে একটি শিশুকে পেয়ে তারা তাকে নিজের মেয়ের মতো লালনপালন করেন। এই তথ্য জানার পর বিয়ের অনুষ্ঠানেই মা-মেয়ের পুনর্মিলন ঘটে। চীনা সংবাদমাধ্যম সোহু নিউজের বরাতে দ্য স্টারও ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে পরিচয় সামনে আসার পর কনের মনে বরকে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। তিনি নিজের ভাইকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে। তখন বরের মা জানান, হারানো মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ার পর তিনি একটি ছেলেকে দত্তক নিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমের বিবরণ অনুযায়ী, বর ও কনের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক না থাকায় বিয়ের আয়োজন এগিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটির আবেগঘন বিবরণ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও পরিচয় নিশ্চিত করার ডিএনএ পরীক্ষা বা দত্তক নেওয়ার আইনি নথির তথ্য উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে দেওয়া হয়নি। ফলে মা-মেয়ের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের বিবরণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা যায়। এটি ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি ঘটনা।
ইংল্যান্ডে ২০ বছর গ্যারেজে পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমান বিক্রি হলো ২৪ হাজার ডলারে
মুসলমানদের সংখ্যা বাড়াতে ৫৮ সন্তানের পিতা সাদিক, সবার নামও মনে থাকে না, সন্তানরা ঘুমায় ক্ষুধা নিয়ে
হরমুজ প্রণালিতে সাত তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিপদে
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে সীমান্তে আবারও বিশালাকার লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে সীমান্তে নতুন সামরিক অবস্থান ও প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিউল হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে তাদের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম ইয়ো জং বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী এসব লাউডস্পিকার সক্রিয় করা হবে। এর আগে বুধবার রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের সেনা দুর্গ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন কিম ইয়ো জং। এ সময় তিনি জানান, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক বার্তা সম্প্রচার এবং সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কিম ইয়ো জং স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এসব গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং উত্তর কোরিয়ার বাহিনী বিনা দ্বিধায় নির্মমভাবে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাতিসংঘ কমান্ডের সহায়তায় অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিম ইয়ো জংয়ের এই কড়া প্রতিক্রিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের বৈরিতা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে সিউল এ কথাও স্পষ্ট করেছে যে, উত্তর কোরিয়া তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ কোরিয়াও এর সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব দেবে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে ডিএমজেড সীমান্তে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ঐতিহাসিকভাবেই দুই দেশ এই সীমান্তে প্রচারযুদ্ধের অংশ হিসেবে বড় আকারের লাউডস্পিকার ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, কিম ইয়ো জংয়ের হুমকির অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকারগুলো তাৎক্ষণিকভাবেই চালু হয়ে যাবে, তবে এ ঘোষণা সিউল প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট তৈরি করেছে। সীমান্তে লাউডস্পিকার পুনরায় চালুর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই কোরিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা যে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার পর রাশিয়ার কারাগার থেকে ৪ বছর পর মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক
জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে এবার প্রমাণ করতে হবে, তিনি ‘বেপরোয়া ব্যয়’ করেন না