‘আমি মারা গেলে মা ও ভাইয়ের কী হবে’, ভিডিও বার্তা দিয়ে যুবকের আ ত্মহ ত্যা
ভারতের মহারাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট উঁচু কোনকানকাদা পাহাড় থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল নামের এক যুবক। গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা এবং ভারতীয় ডাক বিভাগের এই কর্মী মৃত্যুর আগে ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা রেখে গেছেন। সেই ভিডিওতে তিনি নিজের সাবেক স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে চরম হতাশার কথা ব্যক্ত করেন।
জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিয়ের মাত্র আট মাসের মাথায় তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী একটি মামলা করেন, যেখানে ৯ অক্টোবর তাকে আদালতেও হাজিরা দিতে হয়েছিল। বিশ্বরাজসিংহের অভিযোগ, সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর মতবিরোধকে অতিরঞ্জিত করে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পারিবারিক সহিংসতার রূপ দিয়েছে।
এমনকি তার মা এবং ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধেও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার নিয়েও প্রতারণা করেছে। এই আইনি লড়াই ও মিথ্যা অপবাদের কারণে তিনি মানসিক, আর্থিক ও সামাজিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
আত্মহত্যার আগে ভিডিও বার্তায় ভেঙে পড়া এই যুবক বলেন, যখন জীবনে আর কোনো আশা অবশিষ্ট থাকে না, তখন পরিস্থিতি মানুষকে ভেতর থেকে শেষ করে দেয়। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তিনি তার মা ও কিশোর ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মিথ্যা মামলায় জড়ানো আমার মা ও ভাইয়ের কী হবে?" তবে ভিডিওতে বিশ্বরাজসিংহের তোলা এসব অভিযোগের সত্যতা বা অপর পক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসৌদি আরবে একের পর এক হামলার পর দেশটিতে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে কর্মরত অজরুরি সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলা এবং বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাতের ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং আটজন আহত হন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। এ ছাড়া সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের কাছে ড্রোন হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দুইজন নিহত ও আরও দুইজন আহত হন। এসব ঘটনার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, সৌদি আরবে হুতি গোষ্ঠীর হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় অজরুরি মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসও সম্ভাব্য হামলা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। তবে এই নির্দেশের অর্থ সৌদি আরবে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে—এমন নয়। এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির তেলক্ষেত্র, রপ্তানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি খরচের ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি দামে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের স্থায়িত্ব, আন্তর্জাতিক বাজার এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কাজ করেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হলে তাঁদের কর্মস্থলে যাতায়াত, বিমান চলাচল ও দেশে ফেরার পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, বিমান সংস্থার সর্বশেষ ঘোষণা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। এখন পর্যন্ত মার্কিন নির্দেশটি সৌদি আরবে নিযুক্ত নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য। এটি সৌদি আরব থেকে সব বিদেশি নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ নয়। পরিস্থিতির পরবর্তী পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে নিরাপত্তা সতর্কতা আরও বাড়ানো হবে কি না।
ফসলহানি ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত সুদান, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের জীবন
কোরআনের শিক্ষা তুলে ধরে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যের নিন্দা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ওমানের সাগরে গোলাপি আভার ডলফিন, প্রজাতি শনাক্ত করলেন বিশেষজ্ঞরা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খাবার সংগ্রহের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠছে। খাদ্যসহায়তা কমানোর পরিকল্পনা, বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহ বন্ধ থাকার খবর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে দরিদ্র ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই অনেক পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থের সংকটে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) গাজায় তাদের সহায়তা কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটির সহায়তাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে কমে ১১ লাখে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই কর্মসূচির নিয়মিত সহায়তার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসিক খাদ্যপ্যাকেট ও আটা বিতরণের আওতাভুক্ত মানুষের সংখ্যা ১১ লাখ থেকে কমিয়ে ছয় লাখে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির সহায়তায় পরিচালিত কমিউনিটি রান্নাঘরগুলোতে প্রতিদিন রান্না করা খাবারের পরিমাণও আড়াই লাখ থেকে দেড় লাখে নামতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে নিয়ে। যেসব পরিবার নিয়মিত খাদ্যসহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য সহায়তা কমে যাওয়া মানে খাবারের পরিমাণ কমানো, কোনো কোনো বেলা না খেয়ে থাকা কিংবা অন্য জরুরি খরচ কমিয়ে খাবার কেনার চেষ্টা করা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত পাঁচ সন্তানের এক মায়ের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, খাদ্যসহায়তা কমে গেলে সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। গাজার খাদ্যসংকটের পেছনে শুধু সহায়তার ঘাটতি নয়, বাজারে পণ্য সরবরাহের সমস্যাও গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধ থাকার কারণে আটা, ডিমসহ প্রয়োজনীয় খাবার কেনার খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মানবিক খাদ্যসহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়া ৪৪ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, আগের ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে গেছে। একই সময়ে ৪৫ শতাংশ পরিবার অন্তত একবার সম্পূর্ণ খাবারশূন্য হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুর দিকে গাজায় প্রতিদিন রান্না করা খাবারের উৎপাদন কমে প্রায় ছয় লাখ ১৪ হাজারে নেমে আসে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় লাখ ৯৫ হাজার। অর্থের সংকটসহ বিভিন্ন বাধা খাদ্যসহায়তা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার না পেলে শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গাজার পরিস্থিতিতে তাই শুধু খাবারের পরিমাণ বাড়ানো নয়, শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার, নিরাপদ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। জাতিসংঘের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার শিশু অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য ভর্তি হচ্ছিল। এ তথ্য গাজার শিশুদের পুষ্টিগত ঝুঁকির গুরুত্ব তুলে ধরে।খাদ্যের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এমন স্থানে বসবাস করছেন, যেগুলো মাঝারি থেকে উচ্চ বন্যাঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে চার লাখের বেশি মানুষ উচ্চঝুঁকির এলাকায় আছেন। শীত ও বৃষ্টির মৌসুম সামনে রেখে আশ্রয়, কম্বল, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু অর্থের ঘাটতি, সরবরাহের সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তাজনিত বাধার কারণে সহায়তা কার্যক্রম চাহিদার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। গাজার এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, খাদ্য ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশু ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইতালিতে বিক্ষোভের সময় তরুণের অশালীন ইঙ্গিতে মধ্যমা দেখিয়ে আলোচনায় যাজক
চেন্নাইয়ে তরুণের পকেটে টাকা না পেয়ে অ্যাপে ঋণ করিয়ে এটিএম থেকে টাকা তুলে নিল ছিনতাইকারীরা
মেগান মার্কেলের বাবার বিরুদ্ধে শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি রাখার অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বের হওয়ার সময় হোঁচট খেয়েছিলেন কনে। তখন বর তাঁকে অপমানজনক কথা বললে তিনি ফিরে গিয়ে বিচারকের কাছে বিয়ে বাতিলের দাবি জানান। কুয়েতের সংবাদমাধ্যম কিউ৮ নিউজের ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তী বিভিন্ন সংবাদে সময়টি তিন মিনিট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিউ৮ নিউজের বিবরণ অনুযায়ী, ওই যুগল বিয়ের চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় কনের পা হোঁচট খায়। সে সময় স্বামী তাঁকে ‘বোকা’ অর্থে অপমানজনক একটি শব্দ বলেন। কথাটি শুনে কনে বিচারকের কাছে ফিরে যান এবং বিয়ের চুক্তি বাতিলের দাবিতে অনড় থাকেন। ওই প্রতিবেদনেই অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের বিচ্ছেদের কথা জানানো হয়। ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয়। ২০১৯ সালে খবরটি প্রকাশের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এনডিটিভি ও দ্য টাইমস কুয়েতও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেসব প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়, পুরোনো ঘটনাটি তখন আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সংবাদমাধ্যমের বিবরণ অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক ব্যবহারকারী ওই নারীর সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান। তাঁদের মন্তব্যে দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব উঠে আসে। তবে এসব প্রতিক্রিয়া ব্যক্তিগত মতামত, ঘটনার স্বাধীন প্রমাণ নয়। ঘটনাটিকে কুয়েতের সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী বিয়ে হিসেবে বর্ণনা করা হলেও কিউ৮ নিউজের মূল প্রতিবেদনে দম্পতির নাম, আদালতের পরিচয় কিংবা কোনো নথি দেওয়া হয়নি। সেখানে নির্দিষ্টভাবে তিন মিনিটও বলা হয়নি, উল্লেখ ছিল কয়েক মিনিটের কথা। ফলে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বিয়ের রেকর্ড’ কিংবা ঠিক তিন মিনিটে বিচ্ছেদের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
জেরুজালেমে গভীর রাতে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা
৪৭ সুপারভাইজারকে ইমেইল, সাড়া দিলেন মাত্র ৩ জন, তবে মিলল ৮০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ড