সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

২৭ বছরেই ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছাড়লেন অ্যামাজনের তরুণ, যোগ দিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৭:৫৬
বড় বেতনের চাকরি ছেড়ে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন শারদেন্দু তিওয়ারি
বড় বেতনের চাকরি ছেড়ে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন শারদেন্দু তিওয়ারি

২৭ বছর বয়সেই বছরে প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ভারতের লখনউয়ের তরুণ শারদেন্দু তিওয়ারি। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসেও কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তারপরও ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

 

শারদেন্দু তিওয়ারি এখন গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন পেয়েছেন। বড় অঙ্কের বেতন ও ভালো ক্যারিয়ার ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তার গল্পটি আলোচনায় এসেছে।

 

লখনউতে বেড়ে ওঠা তিওয়ারি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে চণ্ডীগড়ের পিইসি থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সময় তার ক্যারিয়ার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে এয়ারবাসেও সুযোগ পান তিনি।

 

তবে প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়ে উঠলেও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তার কখনো হারিয়ে যায়নি। ছোটবেলা থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তার আগ্রহ ছিল। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবা অনারারি ক্যাপ্টেন রাজ কুমার তিওয়ারির। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরে ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন।

 

বাবার সামরিক জীবনের প্রভাবেই তিওয়ারির মধ্যেও সেনাবাহিনীতে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। চাকরি ও আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর পরও তিনি সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার বাছাই প্রক্রিয়ায় কয়েকবার ব্যর্থ হলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান।

 

শেষ পর্যন্ত টেকনিক্যাল এন্ট্রি রুটে গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিওয়ারি। প্রযুক্তি খাতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

 

প্রশিক্ষণের সময়ও তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। একাধিক ক্যাডেট দায়িত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র আন্ডার অফিসার পদে দায়িত্ব পান তিনি, যা একাডেমিতে ক্যাডেটদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে তিওয়ারির কাছে অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে দেশের সেবা করার দীর্ঘদিনের স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
'আমার স্বামীকে ভোট দেন, নাহলে আমরা সবাই মারা যাব' ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নেতানিয়াহুর স্ত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি কথিত ফাঁস হওয়া ফোনালাপ ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আলট্রা-অর্থোডক্স বা অতি রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ সময় সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি নিয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের কথা শুনে তাঁকে বিরক্তি প্রকাশ করতে শোনা যায় বলে জানিয়েছে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়্যাল নিউজ।   ফাঁস হওয়া বলে দাবি করা ওই কথোপকথনে নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, “আমাকে বলুন, তারা কি পাগল হয়ে গেছে? তারা কি বামপন্থি সরকার চায়?” প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন নেতানিয়াহু। ওই কর্মী তাঁকে জানান, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আলট্রা-অর্থোডক্স ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।   কথোপকথনের সময় নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকেও পেছন থেকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায়, “কিন্তু আমরা সবাই মারা যাব!” তবে রেকর্ডিংটির সত্যতা এবং কথোপকথনের পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   ইসরায়েলের রাজনীতিতে আলট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের সমর্থন দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অতি রক্ষণশীল ইহুদি পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি দেশটিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এই অব্যাহতি নিয়ে বিরোধের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং নেতানিয়াহুর জোট সরকারের ঐক্য ধরে রাখার প্রচেষ্টাও জটিল হয়েছে। আলট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সমর্থন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ সম্প্রদায়ের ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।   ফাঁস হওয়া ফোনালাপের বক্তব্য সেই রাজনৈতিক চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রেকর্ডিংয়ের সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কথোপকথনটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১:৩৭
ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ নেতানিয়াহুর

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভ য়াবহ সং ঘর্ষ, প্রাণহানি বেড়ে অন্তত ৬৪, আ হত ৮০ জনের বেশি

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভ য়াবহ সং ঘর্ষ, প্রাণহানি বেড়ে অন্তত ৬৪, আ হত ৮০ জনের বেশি

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো, পেলেন মার্কিন ভিসা

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো, পেলেন মার্কিন ভিসা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হা মলার পর ইরানের ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের হিসাব পাচ্ছে না আইএইএ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হা মলার পর ইরানের ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের হিসাব পাচ্ছে না আইএইএ

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো হদিস মিলছে না। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর আইএইএর পরিদর্শকেরা ইরান ছাড়তে বাধ্য হলে পারমাণবিক উপাদানগুলোর সুনির্দিষ্ট হিসাব যাচাই করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।   মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো এক ব্রিফিংয়ে এই গুরুতর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জানান, সুরক্ষা চুক্তির আওতায় থাকা এসব পারমাণবিক উপাদান অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।   পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ইরানকে নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হলো। গত মাসে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদে ২৩টি দেশের সমর্থনে একটি প্রস্তাব পাস করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হয়। তবে তেহরান শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বেআইনি' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   গ্রোসি জানান, সামরিক হামলার পর পরিদর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের প্রত্যাহার করা হলে যাচাই কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে আইএইএর পরিদর্শকেরা গত কয়েক মাস ধরেই ইরানে ফিরে গিয়ে তাদের অসমাপ্ত কাজ শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন।   ইরানের পারমাণবিক সংকট সমাধানে আঞ্চলিক কূটনীতির কথাও তুলে ধরেন আইএইএ প্রধান। তিনি ওমান, পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে জানান, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পৃষ্ঠপোষকতায় কায়রো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।   এই চুক্তি সামরিক হামলার পর ইরানের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ নিরসন এবং পারমাণবিক যাচাই কার্যক্রম পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করেছিল। হামলায় ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, নাতাঞ্জের প্রধান ও পরীক্ষামূলক কেন্দ্র, ইসফাহান কমপ্লেক্স এবং খোন্দাবের ভারী পানি গবেষণা চুল্লি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দূরবর্তী নজরদারি ব্যবস্থায় এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণের কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও, প্রকৃত অবস্থা জানতে সরাসরি পরিদর্শনের কোনো বিকল্প নেই বলে সতর্ক করেন গ্রোসি।   সার্বিক উদ্বেগের মধ্যেও বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছে আইএইএ। সেখানে বর্তমানে পরিদর্শকেরা কাজ করছেন এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি আগামী বছরের শুরুতে নতুন শুষ্ক সংরক্ষণাগারে স্থানান্তরের বিষয়ে ইরানি আণবিক শক্তি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে।   তবে ইসফাহান জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তেহরানের সাড়া মেলেনি। আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, আইএইএর যাচাই কার্যক্রম ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কূটনৈতিক সমঝোতা সম্ভব নয়। পারস্পরিক আস্থা ফেরাতে এবং বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে তিনি ইরানের বৈধ নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে তেহরানকে ধাপে ধাপে কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৭:৪৭
ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো জোটেরই নেই ৬১ আসন, বাড়ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো জোটেরই নেই ৬১ আসন, বাড়ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

কস্টারিকায় অপরাধের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে ঢুকল প্রথম বন্দিরা

কস্টারিকায় অপরাধের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে ঢুকল প্রথম বন্দিরা

সাইবার প্রতারণায় বছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার হারাচ্ছেন মার্কিনিরা,বাংলাদেশকে উদীয়মান কেন্দ্র বলছে জাতিসংঘ

সাইবার প্রতারণায় বছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার হারাচ্ছেন মার্কিনিরা,বাংলাদেশকে উদীয়মান কেন্দ্র বলছে জাতিসংঘ

জীবন বাঁচাতে বুকসমান পানিতে উদ্ধারকারীরা
বন্যায় বিচ্ছিন্ন বাড়ি, ১২ বার খিঁচুনি নবজাতকের, জীবন বাঁচাতে বুকসমান পানিতে উদ্ধারকারীরা

চারদিকে বন্যার পানি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা প্লাবিত। ঝড়ের কারণে উড়তে পারছে না উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ। আর ঘরের ভেতরে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছে মাত্র দুই সপ্তাহ বয়সী একটি শিশু। একের পর এক খিঁচুনিতে আক্রান্ত নবজাতককে নিয়ে উদ্বেগে সময় কাটাচ্ছিলেন তার মা-বাবা। অবশেষে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে শিশুটির কাছে পৌঁছান উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের সান হুয়ান কাউন্টির।    ২৩ অক্টোবরের রাতের এই ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারে নিউ মেক্সিকো ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বন্যায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রচলিত পথে বাড়িটিতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আকাশপথে উদ্ধারের সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উদ্ধারকারী দলের তিন সদস্য দুর্গম ভূখণ্ড পেরিয়ে পায়ে হেঁটে শিশুটির কাছে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, শিশুটি ইতিমধ্যে ১২ বার খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়েছে।    এই সংকটের সময় রাজ্য পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ফোনে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। উদ্ধারকারী দল পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত নির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিকল্প পথ ব্যবহার করে শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার রাত প্রায় ১টা ১৫ মিনিটে মা ও শিশুকে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য ব্লুমফিল্ডের জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    শিশুটির বাবা কোরি ফ্র্যাঙ্ক সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিজের সন্তানকে এমন অবস্থায় দেখতে তাঁর ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। উদ্ধারকারীদের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, দুর্যোগের মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা যেভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তাঁদের কাছে অনেক বড় বিষয়।    পরবর্তী প্রতিবেদনে জানা যায়, শিশুটিকে আলবুকার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তার মস্তিষ্কের অবস্থা যাচাই করতে একাধিক স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষার কথা জানানো হয়। তবে শিশুটির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।    এই উদ্ধার অভিযান ছিল আরও বিস্তৃত বন্যা পরিস্থিতির অংশ। নিউ মেক্সিকোর বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে বহু মানুষকে উদ্ধার করতে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো, আর অনেক পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়।    একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর এই প্রচেষ্টা মনে করিয়ে দেয়, দুর্যোগের সময় জরুরি সেবা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও উদ্ধারকর্মীদের সাহস কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিপদের মুহূর্তে একটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের এই প্রচেষ্টা মানবিকতার এক হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:৩৯
মেক্সিকোর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গুয়াদালাহারায় খাবার পানির তীব্র সংকট ও দূষিত পানির সরবরাহের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকোর পানির সংকট যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় সতর্কবার্তা

স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো ১৬ অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশিও

স্পেন থেকে বাংলাদেশিসহ ১৬ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সং ঘ র্ষ, প্রাণ হা নি বেড়ে অন্তত ৩৯ জনে, বাড়ছে উদ্বেগ

0 Comments