সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আয়ারল্যান্ড এক হবে, দাবি ট্রাম্পের! পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৮:২৭
আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিতর্ক
আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিতর্ক

আয়ারল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ এক হয়ে গেলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ড সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা করে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে নিজের সমর্থনের কথা জানান তিনি।


উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ, আর আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন দেশ। এই দুই অংশকে এক করার বিষয়টি বহু বছর ধরে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, তিনি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চান না। এরপরই নিজের মত জানিয়ে বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান।


ট্রাম্প বলেন, “আমি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চাই।” তার মতে, দুই অংশ এক হয়ে গেলে সেটি সবার জন্যই একটি বড় অর্জন হবে।


আয়ারল্যান্ডকে এক করার প্রশ্নে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। যারা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে রাখতে চান, তারা মূলত ইউনিয়নিস্ট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে।


১৯৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩০ বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলেছে। এই সময়টি ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত। ১৯৯৭ সালের মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটে।


এই চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে গণভোট হলে দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এক হওয়ার পক্ষে ভোট দিলেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে।


তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। বিষয়টি আপাতত আলোচনার বাইরে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গুড ফ্রাইডে চুক্তির নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।


ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, “এটা শেষ পর্যন্ত ঘটবেই।” এরপর পাশে থাকা আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এটি এগিয়ে নিতে আপনারা সঠিক মানুষকে পেয়েছেন।”


ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হওয়ায় এ বিষয়ে ব্রিটেনেরও অবশ্যই কিছু বলার থাকবে। তবে তার প্রশ্ন, আয়ারল্যান্ড এক হলে সেটি খারাপই বা হবে কেন।


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নতুন করে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারা বার্নহ্যামের আগস্টের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, এই মুহূর্তে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ বিষয়ে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় নেই।


শনিবার সকালে আয়ারল্যান্ডে পৌঁছান ট্রাম্প। ডাবলিনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।


ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভেরও আয়োজন করা হয়। ডাবলিনের পাশাপাশি ডুনবেগ ও শ্যানন বিমানবন্দরেও প্রতিবাদের পরিকল্পনা ছিল। ডুনবেগে ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন একটি গলফ কোর্স রয়েছে।


তবে বিক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানতেন না। তিনি বলেন, “আমি কোনো বিক্ষোভ দেখিনি।” আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


রোববার ট্রাম্প ডুনবেগে তার গলফ কোর্সে যাবেন এবং সেখানে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন।


দিনের শেষ দিকে মার্কিন দূতাবাসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, আয়ারল্যান্ড এক করার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নটি তাকে বেশ কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। তিনি বলেন, এমন প্রশ্নের উত্তর যেভাবেই দেওয়া হোক, সেটি নিয়ে খবর হবেই।


তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া তার কাছে “খুবই চমৎকার” একটি বিষয়। এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসিরও সৃষ্টি হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বিশেষ আদালতের রায়ে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক দেশ থেকে বহিষ্কৃত আফগান নারী নাজিরা হাজি জাদা। ছবি: সংগৃহীত
৩০ বছর পর প্রথমবার ‘সন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ বছর আগে তৈরি করা বিশেষ ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’ প্রথমবারের মতো ব্যবহার করে এক আফগান নারীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী নাজিরা হাজি জাদাকে ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে ডিপোর্ট করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। তবে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত হননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনায় পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করেছিলেন।   নাজিরা হাজি জাদা টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে বসবাসকারী যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় ১৫ জুলাই ২০২৬। এর আগে জুলাই মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৩০ জুলাই বিশেষ আদালতের প্রথম শুনানিতে হাজির করা হয়। এই আদালত ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলেও এরপর প্রায় তিন দশক ধরে কোনো মামলায় ব্যবহার করা হয়নি।   এই বিশেষ আদালত তৈরির উদ্দেশ্য ছিল এমন অ-মার্কিন নাগরিকদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, যাদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে এবং সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। প্রচলিত অভিবাসন আইনের আওতায় কাউকে বহিষ্কার করতে যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, এই আদালতে তার কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের কাছে থাকা গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পুরোপুরি অভিযুক্ত ব্যক্তির সামনে প্রকাশ না করেই তা ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।   নাজিরার মামলায় তাঁর আইনজীবীরা শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শ্রেণিবদ্ধ প্রমাণ তাঁরা পুরোপুরি দেখতে বা পরীক্ষা করতে পারছেন না। ফলে নাজিরার বিরুদ্ধে সরকারের অভিযোগ যথাযথভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। প্রতিরক্ষা পক্ষ আদালতের এই প্রক্রিয়াকে যথাযথ আইনি অধিকার বা ‘ডিউ প্রসেস’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরা তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমাদ তাওহেদির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইএস-অনুপ্রাণিত হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করেছিলেন। পরিকল্পনাটি ছিল ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের দিন ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলা চালানো। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে ও জামাতা পরে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ এবং তাওহেদি ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। তদন্তকারীদের অভিযোগ ছিল, তারা নির্বাচনের দিন হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। আবদুল্লাহ তখন ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। পরে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং ১৫ বছরের কারাদণ্ড পান। তাঁর জামাতা তাওহেদিও আইএসকে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংগ্রহসংক্রান্ত সন্ত্রাসবাদী অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   নাজিরার বিরুদ্ধে অবশ্য কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত এই বিশেষ আদালতের মাধ্যমে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সরকারের হাতে থাকা প্রমাণের মধ্যে প্রায় অর্ধ টেরাবাইট নথি নাজিরার আইনজীবীদের দেওয়া হয়েছিল। তবে মামলার সঙ্গে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যও জড়িত ছিল, যা পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।   মামলাটি শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, নাজিরা গত আগস্টে নিজেকে ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং আপিলের অধিকারও ছেড়ে দেন। এরপর বিশেষ আদালতের প্রধান বিচারক জোয়ান এন. এরিকসেন ২০ আগস্ট তাঁর বহিষ্কারের আদেশ অনুমোদন করেন। আদেশটি নাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পৌঁছানোর পর ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।   নাজিরার আইনজীবীরা স্পষ্ট করেছেন, তাঁর বহিষ্কারে সম্মতি দেওয়াকে এই বিশেষ আদালতের বৈধতার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের এমন একটি আদালতের সামনে হাজির করা হচ্ছে যেখানে সরকারের ব্যবহৃত সব প্রমাণ তাদের বা তাদের আইনজীবীদের দেখানো হয় না। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই আদালতের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠলে এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।   অন্যদিকে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দেয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই প্রথম মামলাটি দেখিয়েছে যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় সব আইনি উপায় ব্যবহার করতে পারে।   নাজিরার মামলার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক নিষ্ক্রিয় থাকা এই বিশেষ আদালত কার্যত প্রথমবারের মতো ব্যবহার হলো। তবে এই আদালত ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মামলাটি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালতের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও গোপন প্রমাণ ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে যে দীর্ঘ আইনি লড়াই হতে পারত, সেটিও আপাতত হয়নি।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৯:১৫
আমেরিকান পণ্য বয়কটে কানাডার সুপারমার্কেটে বদলে যাচ্ছে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা

আমেরিকান পণ্য বয়কট করছেন কানাডিয়ানরা, নতুন দেশ থেকে পণ্য আনছে সুপারমার্কেটগুলো

আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিতর্ক

আয়ারল্যান্ড এক হবে, দাবি ট্রাম্পের! পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়

হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধের দাবি ট্রাম্পের

ট্রাম্পকে হুতিদের অনুরোধ, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন না’

গ্র্যাজুয়েশনের আনন্দঘন মুহূর্তে হাসিমুখে ডিডি হেইস, নতুন জীবনের পথে পা রাখার বিশেষ দিনে
গৃহহীন শিক্ষার্থীকে স্কুলে রাখতে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক, পরে হলেন সেই ছাত্রেরই অভিভাবক

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লাকোটা ইস্ট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রব বার্নসাইড জানতে পারেন, তার শিক্ষার্থী ল্যান্ডেরিয়াস ‘ডিডি’ হেইস অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মায়ের সঙ্গে থাকা সম্ভব ছিল না, আর বাবার মোবাইল হোমে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়লে কখনো গাড়িতে হিটার চালিয়ে রাত কাটাত ডিডি। তবুও সে স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। ডিডির জুনিয়র বছরে স্কুলে একটি চিঠি আসে। সেখানে জানানো হয়, তার মা নতুন ঠিকানায় চলে গেছেন এবং সেই ঠিকানা স্কুল জেলার বাইরে। জেলা কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, ডিডি আর লাকোটা ইস্টে পড়তে পারবে না। কিন্তু বার্নসাইড শুধু কাগজপত্রের ভিত্তিতে তাকে স্কুল থেকে বাদ দিতে রাজি হননি। তিনি ডিডিকে স্কুলে আসতে দেন। এরপর বার্নসাইডকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং তার সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ৩১ বছরের শিক্ষাজীবনের পর তিনি প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে চাকরি হারানোর পরও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। তিনি বলেন, একজন তরুণের জীবনের মূল্য দিয়ে কোনো কিছু পরিমাপ করা যায় না। এর মধ্যেই বার্নসাইড তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেলকে ডিডির পরিস্থিতির কথা জানান। অ্যাঞ্জেল তাকে তাদের সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। ডিডির মায়ের সম্মতিতে সে বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। পরে রব ও অ্যাঞ্জেল তার আইনি অভিভাবক হন। ডিডি পরে নতুন একটি স্কুল থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে। সেই অনুষ্ঠানে দর্শকসারিতে ছিলেন রব ও অ্যাঞ্জেল - যাদের ডিডি এখন ‘পপস’ ও ‘মা’ বলে ডাকে। বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও এখন অনেকটা নিজের পরিবারের মতো; বার্নসাইড দম্পতির অন্য সন্তানরাও তাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছে। ডিডির সামনে এখন নতুন লক্ষ্য - এভিয়েশন মেকানিক হওয়া। অন্যদিকে, বার্নসাইডের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ অধ্যায়টি চাকরি হারানোর মধ্য দিয়ে হলেও, তার একটি সিদ্ধান্ত একজন গৃহহীন তরুণকে দিয়েছে নিরাপদ একটি পরিবার, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং নতুন ভবিষ্যতের সুযোগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৬:৩৪
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল ১৮৯৪ সালের পুরোনো ম্যাগাজিন

১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ম্যাগাজিন ফেরত, বেঁচে গেল ১২ হাজার ডলারের জরিমানা

ইরফান আল-হুসাইনি—স্মৃতিতে বেঁচে থাকা এক তরুণের করুণ পরিণতি

স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি, ১৪ হাজার স্বাক্ষর- তবু দাফন হয়ে গেল ইরফানের

তাসিয়া ফরচুনের স্মরণে ফুল ও খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন

পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গাছে ঝুলছিল তাসিয়া, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা না থাকলেও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়। সিটির অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা হলো এনওয়াইসি কেয়ার। এটি কোনো স্বাস্থ্যবিমা নয়। যারা মেডিকেইড বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই কিংবা বিমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এনওয়াইসি কেয়ারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, টিকা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায়। পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো খরচ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব। এ কর্মসূচির জন্য কোনো মাসিক সদস্য ফি বা প্রিমিয়াম দিতে হয় না।   এনওয়াইসি কেয়ারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান জানতে চাওয়া হয় না। তবে আবেদনকারীর নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস, পরিচয়, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় বিমার খরচ বহন করতে না পারলে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা যায়। হাসপাতালের আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বললে নিজের যোগ্যতা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব।   ম্যানহাটানে স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এনওয়াইসি ফ্রি ক্লিনিকও একটি বিকল্প। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত এই ক্লিনিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের বিনা খরচে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৬ ইস্ট ১৬তম স্ট্রিটে অবস্থিত এই ক্লিনিকে সাধারণত আগে থেকে সময় নিতে হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান সময়সূচি ও রোগী গ্রহণের নিয়ম নিশ্চিত করা উচিত।   ইস্ট হারলেম এলাকায় মাউন্ট সিনাইয়ের ইস্ট হারলেম হেলথ আউটরিচ পার্টনারশিপও স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়।   নিউইয়র্কে আরও কিছু শিক্ষার্থী পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টেকের পিলার্স এনওয়াইসি কমিউনিটি ফ্রি ক্লিনিক হারলেম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়। স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থানও এসব সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো থেকেও কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা নেওয়া যায়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা, এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ, জরুরি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন। অধিকাংশ সেবা সরাসরি গিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   টিকা ও যক্ষ্মা চিকিৎসার জন্যও সিটির আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদান কেন্দ্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে কম খরচে বা বিনা খরচে কিছু টিকা দেওয়া হয়। যক্ষ্মা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিনা খরচে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে।   কুইন্সসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রথমে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে কথা বলা ভালো। সেখানে এনওয়াইসি কেয়ার, আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার জন্য আপনি যোগ্য কি না, তা যাচাই করে দেওয়া যেতে পারে।   তবে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কম খরচের ক্লিনিকের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা নির্বিশেষে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৯১১ নম্বরে কল করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যেতে হবে।   প্রবাসীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ না করে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা সিটি পরিচালিত আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সময়সূচি, সেবার ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:৪৩
সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প

৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'

২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের

২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের

বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই

বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই

0 Comments