- প্রচ্ছদ
- Topic
ভারত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের তথ্য সংগ্রহ এবং কথিত জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম)–সংশ্লিষ্ট একটি গুপ্তচর চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সোমবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডল ও তার সহযোগী অর্পিতা সরকারের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এ নিয়ে এই মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যর পরিচয় হয়। পরে তাকে কথিত গুপ্তচর নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে মূল হোতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রধান অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের রুট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধির তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী সংস্থা। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য সরকার তার জন্য একটি বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ির ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত জইশ-ই-মোহাম্মদ, আইএসআই কিংবা গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
ভারতের মহারাষ্ট্রে প্রবল বন্যার পানির স্রোতে একটি গাড়ি নদীতে ভেসে গেলে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গাড়িতে থাকা বাবা অভিনাশ খান্দারে শেষ মুহূর্তে একটি গাছ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বাঁচলেও তার স্ত্রী ও দুই ছোট মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শুক্রবার তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের আহিলইয়ানগর জেলায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয় পরিবারটি। ওই এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে কুপ্তি নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায় এবং নদীর ওপরের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে সেতুর ওপর কতটা পানি রয়েছে এবং স্রোতের তীব্রতা কতটা—তা বুঝতে পারেননি গাড়িচালক। ফলে গাড়িটি সেতুর ওপর উঠতেই প্রবল স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর মাঝামাঝি ভেসে যায়। এ সময় অভিনাশ খান্দারে দ্রুত গাড়ি থেকে বের হয়ে একটি গাছের ডাল আঁকড়ে ধরতে সক্ষম হন। তবে তার স্ত্রী ও দুই কন্যা গাড়িসহ স্রোতে ভেসে যান। অসহায়ভাবে তাদের ভেসে যেতে দেখা ছাড়া তার আর কিছুই করার ছিল না। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। সারারাত তল্লাশি চালানোর পর শুক্রবার নদী থেকে ওই নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভারী বর্ষণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বন্যা ও আকস্মিক পানির স্রোতে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে এবং জলাবদ্ধ বা তলিয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক সেনাসদস্যকে (ইউএস আর্মি ভেটেরান) বিয়ে করার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক ভারতীয় নারী। তিনি দাবি করেন, সামরিক সদস্যের জীবনসঙ্গী হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভিডিওতে ওই নারী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যের স্ত্রী হিসেবে তিনি দ্রুত গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। তার ভাষ্য, সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য বিদ্যমান কিছু প্রশাসনিক সুবিধার কারণেই আবেদনটি স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, তিনি বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি প্রদর্শন করছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, সাধারণ অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার বাস্তবতার সঙ্গে তার অভিজ্ঞতার মিল নেই। অন্যদিকে অনেকেই ওই নারীর পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের মতে, তিনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এবং কোথাও দাবি করেননি যে সবার ক্ষেত্রেই একই সময়ে গ্রিন কার্ড পাওয়া সম্ভব। তাই তাকে সমালোচনা করা অযৌক্তিক। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তির সময় আবেদনকারীর ক্যাটাগরি, নথিপত্রের সম্পূর্ণতা, নিরাপত্তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সুবিধা বা দ্রুত প্রক্রিয়া থাকলেও, তা সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ভিডিওটি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা, সামরিক পরিবারের জন্য বিদ্যমান সুবিধা এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার বৈষম্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তবে ঘটনার জেরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এক নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে গত ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা গোটা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও তারা অপমান করেছে।” ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “গালিগালাজ করে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের সঠিক পথ দেখাই। সবাই মিলে ভারতের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করি।” তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পক্ষে নন বলেও জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, তরুণ বয়সে মানুষ ভুল করতে পারে এবং সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকা উচিত। মোদি বলেন, “সমাজে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা আমি বুঝি। কিন্তু এই তরুণদের দূরে ঠেলে দেওয়া বা আদালতে টেনে হয়রানি করা কোনো সমাধান নয়। এরা আমাদেরই সন্তান। ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।” ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিও তাদের প্রতি সহনশীল ও উদার মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নোয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে শান্তিভঙ্গের উসকানি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মানহানির বিষয় রয়েছে। পরে জিরো এফআইআরের বিধান অনুযায়ী মামলাটি তদন্তের জন্য দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষার শালীনতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং আইন প্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমার আহ্বানও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের নীতি হলো, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই অবস্থান এমন সময়ে জানানো হলো, যখন সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা বা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তারিখ জানানো হয়নি। এদিকে একই বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সদস্যদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সেবা সীমিত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করে ভারত। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ভিসা সেবাও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার অবস্থান, প্রত্যর্পণ অনুরোধ এবং ভিসা কার্যক্রম এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি কথিত পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই নথিতে দাবি করা হয়, ‘ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার’ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে ভারত সরকার এটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। ভারতের সরকারি তথ্যসংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ইউনিট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জারি করা হয়নি। এতে ব্যবহৃত স্বাক্ষরও নরেন্দ্র মোদির প্রকৃত স্বাক্ষর নয়। পিআইবি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলেছে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাক্ষর করা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো চিঠি জারি করেননি এবং এতে তার কোনো স্বাক্ষরও নেই।” ভাইরাল নথিতে ভারতের জাতীয় প্রতীক অশোক চক্র এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের মতো একটি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে এমনভাবে ভাষা ব্যবহার করা হয়, যাতে এটি সরকারি নথি বলে মনে হতে পারে। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি জাল নথি এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। পিআইবি জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে, এ ধরনের কোনো নথি বা দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার আগে অবশ্যই সরকারি উৎস থেকে তথ্য যাচাই করতে হবে। সংস্থাটি বলেছে, ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করাই দায়িত্বশীল আচরণ। এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একাধিক ভুয়া ভিডিও ও ভুয়া নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস–সংক্রান্ত বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তার নামে একটি এআই-নির্মিত ভিডিওও ভাইরাল হয়েছিল। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। পরে পিআইবি জানায়, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ভুয়া তথ্য ও এআই-নির্মিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সিদ্ধান্ত, নির্বাচন বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ভুয়া নথি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অবমাননা করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনতে নতুন আইন প্রণয়নের পথে এগিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ লক্ষ্যে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যসভায় কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি পাস হয়। এখন এটি লোকসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে বিলটি আইনে পরিণত হবে। বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় রাজ্যসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী সদস্যরা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ চললেও স্পিকার অধিবেশন চালিয়ে যান এবং সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে উঠলে বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করে। বিলের জবাবি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সম্মান এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু বিপ্লবী ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মৃত্যুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্ব অপরিসীম। কংগ্রেস কেন এ সংগীতের বিরোধিতা করছে, তা তার বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-সহ জাতীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা বা অসম্মানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে এসব জাতীয় প্রতীক অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর এটি লোকসভার অনুমোদন এবং পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নতুন আইন কার্যকর হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। এ বিষয়ে জবাব দিতে মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিভাগের প্রধানকে তলব করেছে দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটি)। মেটা ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত ভুল বলে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, পোস্টটি ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকার বলছে, শুধু ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না; কীভাবে এমন ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করা হলে কিছু সময়ের জন্য সেটির দৃশ্যমানতা সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণান বলেন, মেটা ভুল স্বীকার করেছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সরকার সন্তুষ্ট নয়। তার ভাষায়, “তারা বলেছে ভুল হয়েছে এবং ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাই।” সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মেটা জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট যাচাই ব্যবস্থার একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মূল পোস্টটিও ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সরকারের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, যদি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মেটার উচিত দ্রুত তাদের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। কারণ, কোটি কোটি ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রবাহ পরিচালনা করা একটি প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে এ ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী প্রথম প্রকাশ্যে এ ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও কীভাবে সীমাবদ্ধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা কী দেখবেন বা দেখবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেই। এই ঘটনার মধ্যেই ভারতে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে সরকারি নজরদারি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ব্যবহারকারী নাম (ইউজারনেম) সুবিধা এবং ইনস্টাগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ করা একটি সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পর তা পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ভিডিওটি আবারও বহাল করা হয়। এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র জানান, ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদিকে ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ভারত সরকার। কী কারণে ভিডিওটি সরানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটা ও ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক প্রধানদের কাছেও সমন পাঠিয়েছে। ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। সেই আন্দোলনের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি সেলফি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশিত এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
কারগিল যুদ্ধের প্রায় ২৭ বছর পর প্রথমবারের মতো ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের গোপন সামরিক সহযোগিতার নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তা। তাদের দাবি, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানকে উন্নত লক্ষ্যনির্ধারণ প্রযুক্তি দিয়ে সক্ষম করে তুলতে ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে সহায়ক হয়েছিল। কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমসের সাবেক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আমি এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সাবেক যুদ্ধবিমানচালক ও মিরাজ স্কোয়াড্রনের সাবেক কমান্ডার শ্লোমো। এটি ভারতীয় গণমাধ্যমে তাদের প্রথম প্রকাশ্য সাক্ষাৎকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ভারতের মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানে ইসরায়েলের তৈরি ‘লাইটেনিং’ টার্গেটিং পড সংযোজনের কাজ শুরু হয়। কারগিল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই প্রকল্প জরুরি সামরিক অভিযানে পরিণত হয় এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘অপারেশন সফেদ সাগর’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাবেক কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল থেকে প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের একটি দল দ্রুত ভারতে পৌঁছে দিন-রাত কাজ করে। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল ফ্রান্সের তৈরি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান, ইসরায়েলের লক্ষ্যনির্ধারণ প্রযুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি লেজার-নির্দেশিত বোমার মধ্যে সমন্বয় ঘটানো। এই প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ফলে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাহাড়ি এলাকায় আরও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। শ্লোমোর দাবি, বিশেষ করে টাইগার হিলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সফল হামলা তাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তার ভাষায়, ওই হামলা ছিল কারগিল যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো ঘটনা। তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বেরও প্রশংসা করেন। আমি জানান, ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে তিনি শতাধিকবার ভারত সফর করেছেন। তার মতে, সেই সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠেছিল, তা শুধু সামরিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল।
ভারতের হরিয়ানার পানিপথে ভাঙা পায়ের হাড়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানোর পর এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহত গুড্ডি দেবী সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের হাড় ভেঙে গত ২৪ জুলাই পানিপথের একটি বেসরকারি পার্ক হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, তাকে অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলেও পরদিন চিকিৎসকেরা তাদের জানান যে তার হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছে। গুড্ডি দেবীর ছেলে কুলদীপ অভিযোগ করেন, স্টেন্ট বসানোর আগে পরিবারের কোনো সদস্যের সম্মতি নেওয়া হয়নি। এমনকি সম্মতিপত্রে পরিবারের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকদের অবহেলা, প্রতারণা এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের কারণেই গুড্ডি দেবীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেন স্বজনরা। ঘটনার পর পানিপথের সেক্টর ২৯ থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পার্ক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপ্না তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জানিয়েছেন, পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
ভারত সীমান্তসংলগ্ন দুটি বিমানঘাঁটিতে চীন অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি ও স্যাটেলাইট ইমেজিং প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর (Vantor)-এর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই তথ্য দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনের শেষ ভাগ এবং জুলাইয়ের শুরুতে তোলা উপগ্রহ চিত্রে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের হোটান বিমানঘাঁটিতে সাতটি এবং তিব্বতের দামশিয়ুং বিমানঘাঁটিতে আরও চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। হোটান বিমানঘাঁটি লাদাখের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে, দামশিয়ুং বিমানঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। প্রতিবেদনটি বলছে, ভারতের মুখোমুখি কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমান প্রকাশ্য বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশী এনডিটিভিকে বলেন, হোটান ও দামশিয়ুং ঘাঁটিতে জে-২০-এর উপস্থিতি দেখায় যে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স (PLAAF)-এর নিয়মিত সক্ষমতায় পরিণত হয়েছে। তার মতে, ভারতের জন্য এখন কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা আরও জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ। জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ চীনের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান। এর বিশেষ নকশা ও কম রাডার প্রতিফলনের সক্ষমতার কারণে এটি শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই স্টিলথ প্রযুক্তি আকাশযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে। ভারতের বর্তমান বহরে থাকা রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ কিংবা মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উন্নত হলেও এগুলো স্টিলথ প্ল্যাটফর্ম নয়। ভারত বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিমান পূর্ণাঙ্গভাবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সেটিও প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে। এদিকে চীনের জে-২০ উৎপাদনের গতিও দ্রুত বাড়ছে। দ্য ওয়ার জোন-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে চীনের হাতে প্রায় ৫০টি জে-২০ থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-এর মধ্যে পৌঁছেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, বেইজিং বছরে ১২০টিরও বেশি জে-২০ তৈরি করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের বহরে এক হাজারের কাছাকাছি স্টিলথ যুদ্ধবিমান থাকতে পারে। এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা আম্বালা ও হাসিমারা ঘাঁটিতে মোতায়েন আছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল কেনার চুক্তি হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য আরও ১১৪টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ এবং মিগ-২৯ বহরের আধুনিকায়ন কর্মসূচিও চলমান। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চীনের উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উপগ্রহ চিত্রে যুদ্ধবিমান দেখা গেলেও তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বা সংঘাতের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে একে নিশ্চিতভাবে দেখার সুযোগ নেই। সীমান্ত পরিস্থিতি ও সামরিক মোতায়েন নিয়ে দুই দেশই নিয়মিত নজরদারি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভকে ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সহিংসতায় জড়িত বেশিরভাগ ব্যক্তি শিক্ষার্থী নন। তাঁর অভিযোগ, তারা জামায়াতপন্থি ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে। শুভেন্দু বলেন, “এই ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শিক্ষার্থী নয়। তাদের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।” তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সূত্রপাত হয় নিট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। গত শুক্রবার বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সম্প্রতি প্রণীত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অভিযুক্তদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা “তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম মনে রাখবে।” এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও শুভেন্দু দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত করা প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন এবং তাদের সঙ্গে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে অবৈধ মাদরাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ওবিসি সনদসংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই নিয়ন্ত্রণ এবং শব্দদূষণবিরোধী পদক্ষেপের কারণে কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা সহিংসতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সংবাদকর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষাব্যবস্থা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজ্যভিত্তিক ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এতে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধানের কথাও বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ তাদের বিভিন্ন দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে পশ্চিমবঙ্গের এই ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে এক মুসলিম দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা নামের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ওই চিকিৎসকের দাবি, এর আগে ওই দম্পতিকে ভারত থেকে একবার বিতাড়িত করা হয়েছিল এবং তারা বেআইনিভাবে আবারও দেশে প্রবেশ করেছে। গত বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ঘটা এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেঙ্গালুরুতে নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনাকারী ডা. নগেন্দ্রাপ্পা বুধবার সকালে ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করেন। নাসরিনা পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রথমেই তাদের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হিন্দিতে গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর নাসরিনাকে টেনেহিঁচড়ে মারধরের পাশাপাশি তার স্বামী বিলালের ওপরও চড়াও হন তিনি। বিলালের মাথা ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারেন ওই চিকিৎসক। এমনকি ঘটনাটি পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বেলান্দুর থানা-পুলিশ ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং ওই দম্পতির জাতীয়তা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি। এদিকে, গ্রেফতারের ঠিক আগেই অভিযুক্ত চিকিৎসক নিজেই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তাকে দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে অভিযুক্ত করে গায়ে হাত তুলতে দেখা যায়। বিপরীতে ভুক্তভোগী বিলালকে স্থানীয় কন্নড় ভাষায় উত্তর দিয়ে বলতে শোনা যায় যে, তিনি গত ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতেই বসবাস করছেন। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শুক্রবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক।
ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে তরুণদের উদ্দেশে প্রকাশ করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ইনস্টাগ্রাম রিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করেছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি ইনস্টাগ্রামে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ভিউ পাওয়া রিলের নতুন বিশ্বরেকর্ড। মোদি সম্প্রতি সেলফি-ধাঁচের একটি ভিডিও বার্তায় পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিয়ে কথা বলেন। ভিডিওটি প্রকাশের একদিনের মধ্যেই ৩০৩ মিলিয়নের বেশি ভিউ অতিক্রম করে। এর আগে ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ভিউয়ের রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার ও স্ট্রিমার আইশোস্পিডের একটি ইনস্টাগ্রাম রিলের দখলে, যা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মোদি আরেকটি রিল প্রকাশ করে দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। একই সময়ে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক রাতেই তার অনুসারী প্রায় ১০ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ কোটিরও বেশি হয়েছে। ভারতে সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে মোদির ভাইরাল রিলকে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর একটি নতুন ডিজিটাল কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এখন পর্যন্ত এ ভিউসংখ্যাকে কেন্দ্র করে কোনো আনুষ্ঠানিক "বিশ্বরেকর্ড" ঘোষণা করেনি। রেকর্ডের দাবিটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অব্যাহতির পর এবার সেই শূন্য পদে নতুন মুখ এনেছে কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সাবেক মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর বিজেপি সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই রদবদলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। বর্তমানে প্রহ্লাদ ভেঙ্কটেশ জোশী কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর পাশাপাশি এখন থেকে তিনি দেশের শিক্ষা খাতেরও তদারকি করবেন। ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তন করা এই পাঁচবারের সংসদ সদস্যকে দলের শীর্ষ মহলে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে উত্তর কর্ণাটকের একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ কৈশোরেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ধারওয়াদ-হুব্বালী লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পা রাখেন এবং এরপর থেকে প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে জয় ধরে রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০১৯ সালে মোদির প্রথম মেয়াদের মন্ত্রিসভায় তিনি সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী এবং কয়লা ও খনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় কর্ণাটকের প্রভাবশালী লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়তে হলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা সহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সেই সংকট দ্রুত কেটে যায়। সমস্ত রাজনৈতিক বাধা ও সমালোচনা পেরিয়ে তিনি কর্ণাটক রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ভারতের মহারাষ্ট্র শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬) প্রশ্নফাঁস মামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়। পরে পুনে বিমানবন্দরে আনা হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) এর আগে উত্তর প্রদেশের আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই গোপনে সেটির কপি বাইরে পাচার করা হয়। বিজেন্দ্র গুপ্ত গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ছাপাখানার কর্মী নরেশকুমার পুরানচাঁদ মাহোর ছাপার সময় গোপনে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে সেটি ছাপাখানার সাবেক কর্মী সঞ্জয় কুমার শর্মা এবং আরেক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকেই প্রশ্নপত্র বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তের হাতে যায় এবং তিনিই পুরো প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেন। পুলিশের ভাষ্য, সঞ্জয় কুমার শর্মা আগে ওই ছাপাখানার প্যাকেজিং বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং সোনু কুমারও একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় তারা প্রশ্নপত্রে অবৈধভাবে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কৌঁসুলি সুমিত যাদব আদালতে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেন্দ্র গুপ্তের যোগাযোগ, প্রশ্নফাঁসের বিনিময়ে অর্থ লেনদেন এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা জানতে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে রিমান্ডের অনুমতি দেন। এদিকে তদন্তের সময় গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় মারাঠে জানান, কার্তুজগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো নিজের কাছে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র টিইটি পরীক্ষা রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তদন্তকারীরা এখন পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং প্রশ্নপত্র কতজনের কাছে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
ভারতের উত্তরপ্রদেশে একই যুবকের সঙ্গে তিন তরুণীর বিয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নতুন আইনি মোড় নিয়েছে। শুরুতে তাদের আপন তিন বোন বলা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তারা দুই বোন ও তাদের এক কাজিন। তাদের একজনের বয়স শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিতে মাত্র ১৫ বছর পাওয়া যাওয়ায় পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিশু কল্যাণ কমিটি। গত ১৭ জুলাই উত্তরপ্রদেশের অমরোহা জেলার হাসানপুর এলাকার চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে বিকাশ নামের এক যুবকের সঙ্গে ওই তিন তরুণীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভিডিওতে তিনজনকে শাড়ি ও ঘোমটা পরে বরের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে বিকাশ তাদের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং অগ্নিকে সাক্ষী রেখে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের কাউকে দেখা যায়নি। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষকে আপন তিন বোন বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী অনুসন্ধানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন বোন এবং অন্যজন তাদের কাজিন। তারা অমরোহার ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য নিয়মিত রিল ও ভিডিও তৈরি করতেন। বিকাশ তাদের ভিডিও ধারণের কাজ করতেন। গত কয়েক মাস একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তিন তরুণীর দাবি, শৈশব থেকে তারা একসঙ্গে থেকেছেন এবং বিয়ের পর আলাদা হওয়ার কথা মেনে নিতে পারছিলেন না। সে কারণেই তারা একই ব্যক্তির সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাদের এই দাবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও কোনোভাবেই বিয়েটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনি স্বীকৃতি দেয় না। ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী, বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করার সুযোগ নেই। ফলে একই ব্যক্তির সঙ্গে একাধিক নারীর এমন বিয়ের আইনি বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সন্তোষ ওরফে ছাভির বয়স। তিনি নিজেকে ১৮ বছর বয়সী দাবি করলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিতে তার বয়স ১৫ বছর পাওয়া গেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এরপর অমরোহার শিশু কল্যাণ কমিটি পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ভারতের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, কোনো মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে তাকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তার বিয়ে বাল্যবিবাহের আওতায় পড়ে। এ ধরনের বিয়েতে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, বিয়ে পরিচালনাকারী এবং যারা বিয়েতে সহায়তা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর কয়েকটি হিন্দু সংগঠনও ঘটনার বিরোধিতা করে। সমালোচনার জবাবে তিন তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, তারা নিজেদের ইচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভালো আছেন। তারা পৌরাণিক কাহিনিতে একাধিক স্ত্রীর নজির থাকার কথাও উল্লেখ করেন। তবে আইনজ্ঞদের মতে, পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক কোনো দৃষ্টান্ত বর্তমান ভারতীয় বিবাহ ও বাল্যবিবাহবিরোধী আইনের বিকল্প হতে পারে না। ব্যক্তিগত সম্মতির দাবি থাকলেও নাবালিকার ক্ষেত্রে সেই সম্মতি আইনগতভাবে বৈধ বলে বিবেচিত হয় না। ঘটনাটি এখন আর শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত একটি অস্বাভাবিক বিয়ের দাবি নয়। নাবালিকার সম্পৃক্ততা এবং বহুবিবাহের অভিযোগ সামনে আসায় এটি প্রশাসনিক ও আইনি তদন্তের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি কাভার করতে গিয়ে পেলেটের আঘাতে আহত এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ঘটনার পরও তাঁর শরীরের ভেতরে ৩০টি পেলেট রয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণা, চিকিৎসা ব্যয় এবং পেশাগত ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সাংবাদিক বিক্ষোভস্থলে দায়িত্ব পালন করার সময় আহত হন। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীর থেকে সব পেলেট অপসারণ করতে পারেননি। বর্তমানে শরীরে রয়ে যাওয়া পেলেটের কারণে তিনি নিয়মিত ব্যথা অনুভব করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সাংবাদিকটি বলেন, “আমার শরীরের ভেতরে এখনও ৩০টি পেলেট রয়েছে। প্রতিদিন ব্যথা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করছিলাম।” তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তিনি যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তিনি আহত হন। তবে দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, তারা ভিড় নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। এদিকে সাংবাদিকের অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু। একসময় ২২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা টেকরিওয়াল। ‘জেটসেটগো’ (JetSetGo)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তিনি এখন ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ। ২০২১ সালে ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর নারীদের তালিকায় স্থান পাওয়া কনিকাকে সম্প্রতি দেখা গেছে জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র পঞ্চম মৌসুমে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকাতেও জায়গা করে নেন। মাড়োয়ারি পরিবারে জন্ম নেওয়া কনিকার শৈশব কেটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি একটি সচ্ছল পরিবারে বিয়ে করবেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী কনিকা ভিন্ন স্বপ্ন দেখতেন। স্নাতক পড়তে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তার শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা। কনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক চিকিৎসক তাকে খুব অল্প সময় বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পরে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ক্যানসারকে পরাজিত করেন। এক সাক্ষাৎকারে কনিকা বলেন, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, জীবন খুবই ছোট। তাই অন্যের প্রত্যাশা নয়, নিজের স্বপ্নকেই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই তাকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে—বেসরকারি জেট পরিষেবা খাতে। ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। কনিকার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শুরু করতে তিনি নিজের পকেট থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে কোম্পানিটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টার বহর পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন শিল্পপতি পুনিত ডালমিয়া এবং সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরাও। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইসহ একাধিক শহরে রয়েছে কোম্পানির কার্যক্রম। তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পুরুষ-প্রধান এভিয়েশন শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কনিকার ভাষায়, অনেকেই তাকে ব্যবসার বদলে ‘কাপকেক বানানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে তাকে অহংকারী বলা হতো, যেখানে একই আচরণের জন্য পুরুষ উদ্যোক্তাদের ‘উদ্যমী’ হিসেবে দেখা হতো। সব বাধা অতিক্রম করেই আজ তিনি ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কনিকা টেকরিওয়াল হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। ২০২৬ সালের মে মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। কনিকার জীবনের গল্প আজ শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়; বরং এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম।
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একদিকে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে বিদ্যমান আইনে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সংশোধনী অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁস, সংঘবদ্ধ পরীক্ষা জালিয়াতি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকার শিগগিরই সংশোধনী বিলটি সংসদে উপস্থাপন করতে পারে। এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে রয়টার্স ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সরকার এ দাবিতে সাড়া দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। কেন্দ্রের অবস্থান হলো, কেবল একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার আনাই সরকারের অগ্রাধিকার। সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কয়েক দফা আলোচনা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। লাদাখভিত্তিক সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর চলমান অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে তাঁর অনশন প্রত্যাহারের সঙ্গে নিট আন্দোলনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একসূত্রে দেখানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগ ওঠায় দেশটির পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এবার সেই আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কঠোর আইন অপরাধ দমনে সহায়ক হলেও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শুধু শাস্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হবে। রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বললেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।