ভারত

ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে ভারতের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাইকমিশনার রিয়াজ ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।   দিনের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের খবর মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ পৃথক পোস্টে জানায় জয়শঙ্কর ও রিয়াজ। জয়শঙ্কর পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে হাইকমিশনার রিয়াজ বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন লাভের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানানো হয়েছে।   সন্ধ্যায় হাইকমিশনার রিয়াজ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সর্বত্র বন্ধু থাকলেও কোথাও সুবিধা পাচ্ছে না ভারত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতির ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ভারত। এই সময়ে দেশটি বিশ্বের প্রায় সব প্রভাবশালী জোট ও সংস্থায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। কোয়াডের মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মাধ্যমে চীনের সঙ্গে, ব্রিকসের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে এবং আইটুইউটুর মাধ্যমে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি।   নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, ভারতের কৌশল ছিল জাতীয় স্বার্থে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, তবে কারো সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ না হওয়া। এই ভারসাম্য রক্ষার কূটনীতিই দীর্ঘদিন ধরে দেশটির বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে পরাশক্তিগুলোকে লক্ষ্য করে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে—প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাস দমন এবং দেশের জন্য তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এই তিন ক্ষেত্রেই নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস সরবরাহে।   এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির জন্য পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ইতোমধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর ফলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে দুটি ভারতীয় গ্যাসবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এখনো ভারতের ২২টি জাহাজ ওই অঞ্চলের জলসীমায় আটকা রয়েছে।   এই জাহাজগুলো শুধু মোদির আহ্বানেই মুক্ত হবে না। ভারতের কাছে জব্দ ইরানের তিনটি জাহাজ ফেরত দেওয়া বা তেহরানে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর বিনিময়ে জাহাজগুলো মুক্ত করা যেতে পারে। তেহরানের আস্থা অর্জন করতে হলে ভারতের জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের নাজুকতা মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমার কারণে ভারতকে কিছু রাশিয়ান তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে নয়াদিল্লি যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ছাড় বজায় থাকবে কি না, তা অনিশ্চিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
রাশিয়া পাকিস্তানকে কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব
রাশিয়া পাকিস্তানকে কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব

ভারতের পর এবার পাকিস্তানকেও কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাকিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যালবার্ট খোরেভ জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখায়, তাহলে মস্কো দেশটিকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত।   সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো জ্বালানি খাত। এই খাতে যে কোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে।   তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি ‘জটিল ও অপ্রত্যাশিত’। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই জ্বালানি তেলের যোগান নিশ্চিত করতে সমস্যার মুখে পড়েছে।   এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা পর্যায়েও পড়েছে; পাকিস্তান ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। খোরেভ বলেন, বর্তমান উত্তেজনা কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা পূর্বানুমান করা কঠিন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ২৯১ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করে মমতা বললেন, দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ২৯৪টির মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন দলের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।   দার্জিলিংয়ের বাকি তিনটি আসন মিত্র দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বিজেপিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এবার ২২৬টি আসনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করবে তৃণমূল। গত নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি এবং বিজেপি ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছিল।   বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তারা সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে না নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “সাহস থাকলে সামনে এসে লড়াই করুন, আড়ালে থেকে কোনো লাভ হবে না।”   তিনি আরও বলেন, “দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না,” এবং দাবি করেন, জনগণ এবার বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।   এবারের প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নতুন মুখ ও বিনোদন জগতের তারকাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, ব্রাত্য বসু ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিনোদন অঙ্গন থেকে প্রার্থী হয়েছেন রাজ চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাভলি মৈত্র।   সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ৫২ জন নারী, ৯৫ জন তপসিলি সম্প্রদায়ের এবং ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। বিভিন্ন বয়সের প্রার্থীদের সমন্বয়ে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের ভারসাম্য রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, মার্কিন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক কমিশন (USCIRF)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে কেবল ‘ভ্রান্ত’ নয়, বরং একটি ‘নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত’ দলিল হিসেবে অভিহিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই প্রতিবেদনে ভারতের বাস্তব চিত্রকে আড়াল করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা এই রিপোর্টটি দেখেছি। এটি পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভারতের পক্ষ থেকে এটি সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে।" প্রতিবেদনে যা ছিল এবং ভারতের কড়া জবাব উল্লেখ্য যে, USCIRF-এর প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি শর্ত হিসেবে রাখারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জয়সওয়াল বলেন, যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বরং কমিশন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ভারতের সমালোচনা করার আগে কমিশনের উচিত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দেওয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ইরান ভারতের কাছে তিনটি ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল
ইরান ভারতের কাছে তিনটি ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কিত নতুন কূটনৈতিক ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ইরান ভারতের কাছে তিনটি জাহাজ—অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি—ফেরত চেয়েছে। পাশাপাশি, ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধও জানানো হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে।   জাহাজগুলোর মধ্যে স্টেলার রুবি ইরানের মালিকানাধীন, আর আল জাফজিয়া ও অ্যাসফেল্ট স্টার যথাক্রমে মালি ও নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই জাহাজগুলো জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড, কারণ তাদের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনটি জাহাজ মুম্বাই বন্দরে রয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনটি জাহাজ ফেরত চাওয়া হয় এবং ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ও ইরানি সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো মন্তব্য করেননি।   হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে চলাচল করা তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির জন্য এই পথ অপরিহার্য।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাঙ্কার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, তবে ভারতের জাহাজে কোনো হামলা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোকে নিরাপদ রাখা হবে।   ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়ম জয়শঙ্কর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, এই নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং এতে কোনো ‘লুকোছাপা’ নেই।   এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেওয়ার বিনিময়ে ভারতের কাছে তিনটি তেলের ট্যাংকার ছাড়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে আটক এসব ট্যাংকার মুক্তির বিষয়ে তেহরান নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনা করছে।   ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিল, জাহাজগুলো পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তর বা শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফারের সঙ্গে জড়িত ছিল।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তেহরান ট্যাংকার ছাড়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে চায়নি।   এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়শোয়াল বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।   যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ও ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।   রান্নার গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় এসব জাহাজ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী ভারত। দেশটির মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।   ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামের তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল। আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী এবং বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণ দু'দফায়, যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রোববার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মাত্র দুই দফায়। আগামী ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ করা হবে এবং আগামী ৪ঠা মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে আট দফায় ভোট হলেও এবার নজিরবিহীনভাবে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। কমিশনারের মতে, প্রক্রিয়ার সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত। একইসাথে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরিতেও ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এক নজরে ভোটের তফশিল: প্রথম দফা (২৩শে এপ্রিল): উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলসহ মোট ১৫টি জেলায় ভোট। জেলাগুলো হলো— কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম। দ্বিতীয় দফা (২৯শে এপ্রিল): দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ভোট। জেলাগুলো হলো— কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান। ফলাফল: ৪ঠা মে। ভোটের আগে 'ভোটার তালিকা' কাঁটা নির্বাচন ঘোষণা হলেও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বর্তমানে 'বিবেচনাধীন' অবস্থায় রয়েছে। হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা এই তালিকা খতিয়ে দেখছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন যে, "কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না, আবার কোনো অবৈধ নাম তালিকায় থাকবে না।" ভোট গ্রহণের আগে পর্যন্ত যাদের নাম নিষ্পত্তি হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। লড়াই যখন অস্তিত্বের ও পরিবর্তনের ২০২৬-এর এই নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিজেপির জন্য এটি মহাকরণ দখলের লড়াই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার', 'কন্যাশ্রী' ও ডিএ বৃদ্ধির মতো জনমুখী প্রকল্প; অন্যদিকে বিজেপির তোলা 'দুর্নীতি', 'নারী নিরাপত্তা' ও 'পরিবর্তন'-এর ডাক— দুই শিবিরের প্রচারেই এখন উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আক্রমণ এবং তৃণমূলের পাল্টা হুঙ্কার আসন্ন নির্বাচনকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। শেষ পর্যন্ত বাংলার জনতা কাকে বেছে নেয়, এখন সেটাই দেখার।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: অনলাইন।
মমতার বাড়ি ঘিরে বিজেপি নেতার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক রাজ্য সফরের দিনই রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।   রোববার (১৫ মার্চ) সকালে কলকাতার নিউটাউনের ইকো পার্কের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে।   এর আগে ব্রিগেড ময়দানে আয়োজিত বিজেপির এক সমাবেশে দলের তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই বক্তব্যের পর দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।   দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাইরের কারও প্রয়োজন নেই; তাদের নিজেদের কর্মীরাই যথেষ্ট। তিনি দাবি করেন, গোটা বাংলায় তারা রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন এবং এ জন্য দলীয় কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   তার মতে, দলের কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও রাজনৈতিকভাবে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, কলকাতায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা গেলে তা সারা রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।   শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, বিষয়টি ‘নাটক’ হতে পারে। তিনি অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার মামলায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ করে ভাঙচুর চালিয়েছিল—বর্তমান ঘটনাও সেই ধরনের হতে পারে।   দিলীপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, তাদের দলের বাসে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছে এবং তৃণমূল কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না। সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।   প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা হিসাব’—এখানে হিসাব মানে শুধু অর্থনৈতিক হিসাব নয়; অতীতে যে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে তারও জবাব দিতে হবে।   তার মন্তব্যে আরও বিতর্ক তৈরি হয় যখন তিনি বলেন, যদি শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে, তবে অন্য জায়গাতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি কালীঘাট, এমনকি মদন মিত্র বা চেতলার মতো এলাকাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন থাকায় অনেকেই এ মন্তব্যকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।   দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, অতীতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার ওপরও পশ্চিমবঙ্গে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় তিনি নিজেও গাড়িতে ছিলেন বলে দাবি করেন। তার মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন নয়।   অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির নেতাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণেই বিজেপি এখন হুমকির ভাষা ব্যবহার করছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় বিজেপির ওপর চাপ বাড়ছে।   তৃণমূলের আরও অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপির সংগঠন দুর্বল এবং দলটির ভেতরে বিভাজন রয়েছে। তাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে রাজনৈতিক লাভ তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।   অন্যদিকে বিজেপি বলছে, তারা তৃণমূলের ‘সন্ত্রাসী রাজনীতি’র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতপূর্ণ। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজ্যের দুই প্রধান শক্তি—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে তৃণমূলের দাবি, বাংলার মানুষ শেষ পর্যন্ত সহিংস রাজনীতিকে সমর্থন করবে না এবং ভোটের মাধ্যমেই এর জবাব দেবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইতেকাফ অবস্থায় মসজিদে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ভারতজুড়ে উত্তেজনা

পবিত্র রমজানের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার নতুন ঘটনা ঘটেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফে থাকা মুসল্লিদের সময় গভীর রাতে একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।   স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, পালওয়াল জেলা–এর টিকরি ব্রাহ্মণ গ্রামে অবস্থিত একটি মসজিদের জানালা ভেঙে ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে।   সেই সময় মসজিদের ইমাম জুবের এবং আরও তিনজন—ইকবাল, হানিফ ও সোহেল—ইতিকাফ পালন করছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়া ও তাপ অনুভব করে তারা জেগে ওঠেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।   ঘটনার পর ইমাম জুবেরের অভিযোগের ভিত্তিতে রামরূপসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পালওয়ালের পুলিশ সুপার বরুণ সিংলা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এতে বিশেষ অপরাধ ইউনিট ও সাইবার সেলকে যুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় কুমার জানান, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলছে। তাদের অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে মুসলিমদের হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে।   এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জুমার নামাজে বাধা দেওয়া, রাস্তায় নামাজ পড়া মুসল্লিদের ওপর হামলা, মসজিদ ভাঙচুর এবং গরুর মাংস বহনের সন্দেহে মুসলিম নাগরিকদের মারধর বা হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
মন্দিরে সূর্যকুমার ইয়াদভ, জয় শাহ ও গৌতম গম্ভীর
বিশ্বজয়ের ট্রফি মন্দিরে: ফের বিতর্কে উত্তাল ভারতীয় ক্রিকেটমহল

ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পরদিন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব এবং কোচ গৌতম গম্ভীর ট্রফি নিয়ে স্থানীয় একটি হনুমান মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে যান। আর এই ঘটনাকেই ‘ভারতীয় দলের জন্য লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ও বর্তমান তৃণমূল সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ। বিতর্কের সূত্রপাত ও কীর্তি আজাদের কড়া সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কীর্তি আজাদ লিখেছেন, "শেম অন টিম ইন্ডিয়া। ১৯৮৩ সালে আমরা যখন কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, সেই দলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের খেলোয়াড় ছিল। আমরা ট্রফি মাতৃভূমি ভারতে এনেছিলাম, কোনো মন্দিরে নয়।" তিনি আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকেও আক্রমণ করে বলেন, "দলটা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে, জয় শাহের পরিবারের নয়। সিরাজ কেন মসজিদে বা সঞ্জু কেন চার্চে ট্রফি নিয়ে যাননি? এই ট্রফি ১৪০ কোটি ভারতীয়র, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নয়।" এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর পডকাস্টে মুখ খুলেছেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেন, "এই ধরনের মন্তব্য আমাদের ছেলেদের সাফল্যের আনন্দকে ছোট করে দেয়। আমরা ট্রফি জিতেছি, উৎসব করছি—এটাই বড় কথা। এসব বিতর্ক দলের জন্য হিতকর নয়।" অন্যদিকে, ক্রিকেটার ঈশান কিষান সাংবাদিকদের জানান, মাঠের জয় নিয়ে প্রশ্ন করাই শ্রেয়, কে কী ব্যক্তিগত মন্তব্য করলেন তা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই। কীর্তি আজাদের সুরেই কথা বলেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য তারিক আনোয়ার। তিনি মনে করেন, ট্রফি নিয়ে ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার কোনো পরম্পরা নেই এবং এটি ভুল দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। তবে পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, "ভারতের পরিচয় সনাতনী সংস্কৃতির সঙ্গেই যুক্ত।" শিবসেনা নেতা কৃষ্ণা হেগড়ে এবং আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য হরভজন সিংও কীর্তি আজাদের সমালোচনা করেছেন। হরভজনের মতে, "খেলা আর রাজনীতিকে আলাদা রাখা উচিত। কে কোথায় আশীর্বাদ নিতে যাবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত আস্থার বিষয়।" প্রেক্ষাপট ও কীর্তি আজাদের পরিচয় কীর্তি আজাদ ভারতের হয়ে ৭টি টেস্ট ও ২৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ১৯৯১-৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই দিল্লি রঞ্জি ট্রফি জেতে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য থাকাকালীন এমএস ধোনি ও গৌতম গম্ভীরের মতো তারকারা সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাদি হত্যার আসামিদের ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রণধীর জয়সওয়াল

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।  বৃহস্পতিবারের এই ব্রিফিংয়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর, ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান উঠে আসে। হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কিংবা বাংলাদেশি তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান জয়সওয়াল। তিনি জানান, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে যে বিবৃতি দিয়েছে, তার বাইরে নতুন করে বলার কিছু নেই। অর্থাৎ, বিষয়টি বর্তমানে আইনি বা রাজ্য সরকারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এদিকে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধানের ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি ভারতে এসেছিলেন। রাইসিনা ডায়ালগের ফাঁকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ বা আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে মোদী সরকার। জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরণের অনুরোধ করেছে। ভারতের নিজস্ব চাহিদা এবং শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৭ সাল থেকে নুমালিগড় শোধনাগার হয়ে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। গত বুধবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রীর বৈঠকেও এই সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ভারতীয় ট্যাঙ্কার চলাচলে ইরানের অনুমতির দাবি

ভারত নিজেদের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটায় যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, সেই জলপথ পার হওয়ার জন্য ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে ইরান অনুমতি দেবে বলে বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে ইরানের বাইরের একটি সূত্র এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে তিনবার কথা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ আলোচনাটি ছিল জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে।     সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সায়াল বলেন, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সময়ের আগে হয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোন আলাপের পর ইরান ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।   ভারতের এস. জয়শঙ্কর ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের অনিরাপদ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তবে কোনো পক্ষই ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তির কথা উল্লেখ করেনি।     এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল নিয়ে প্রথম ভারতীয় জাহাজ হিসেবে ‘শেনলং’ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এই সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কারটি ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের জন্য তেল বহন করে এনেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর দুই পাশে প্রায় ৭৭৮ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।   যুদ্ধ শুরুর পর একটি ইরানি জাহাজ ভারতের বন্দরে ভেড়ার পর সেখান থেকে ১৮৩ জন ইরানি নাবিককে ভারত নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নৌ-মহড়া শেষে তিনটি ইরানি জাহাজকে ভারত ডক করার অনুমতি দেয়, যার মধ্যে একটি পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে ডুবে যায় এবং অন্যটি শ্রীলঙ্কার সহায়তা চেয়েছে।   গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তেহরান সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বুধবার ভারতগামী একটি থাই জাহাজে হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারত এখন বিকল্প হিসেবে রাশিয়া থেকে আরও বেশি তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা
সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি চেয়ে চিঠি দিল বাংলাদেশ

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে যে পরিমাণ জ্বালানি আসে, তার বাইরেও জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি সহায়তা চেয়ে ভারত সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপদকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সাথে জ্বালানি মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সম্বলিত চিঠিটি তারা গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে সরাসরি ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ৮০ হাজার টন সরবরাহের কথা রয়েছে।  আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ভারতের এই অতিরিক্ত সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: এআই । সংগৃহীত
ভারত থেকে দেশে এলো ৫ হাজার টন ডিজেল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও। এমন এক জরুরি পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজানুর রহমান বার্তা সংস্থা এএনআই-কে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি কোনো আকস্মিক সাহায্য নয়, বরং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিরই একটি অংশ। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া 'ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন' প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে নিয়মিত এই জ্বালানি আমদানি করা হয়। চুক্তির বিস্তারিত ও বর্তমান সরবরাহ: বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা: প্রতি বছর পাইপলাইনের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল আসার কথা। প্রথম ছয় মাসের লক্ষ্য: চুক্তি অনুযায়ী জুন মাসের মধ্যে ৯০ হাজার টন ডিজেল পৌঁছাবে। সাম্প্রতিক চালান: মঙ্গলবার ৫ হাজার টনের একটি চালান দেশে পৌঁছেছে। বিপিসি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই প্রথম ছয় মাসের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ ডিজেল বাংলাদেশে চলে আসবে। বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে ভারতের এই দ্রুত সরবরাহ দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
শত্রু যখন বন্ধু, তেলের অগ্নিমূল্য ঠেকাতে ট্রাম্পের তুরুপের তাস পুতিন

একসময়ের ‘শাস্তি’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষার ‘ওষুধ’। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  যে রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারতের জন্যই রুশ তেল কেনার পথ প্রশস্ত করল হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ভারতের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সময় শর্ত ছিল যে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেলের চালান অনায়াসেই কিনতে পারবে।  কূটনৈতিক মহলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
দক্ষিণের কোচি শহরে আইআরআইএস লাভান নোঙর করে আছে।
ইরানি নৌযানকে আশ্রয় দিল ভারত

শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নয়াদিল্লি। ইরানি নৌযান 'আইআরআইএস লাভান'-কে ভারতের কোচি বন্দরে নোঙর করার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে মোদী সরকার।  শনিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বার্ষিক 'রাইসিনা ডায়ালগ' অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত বুধবার থেকে কেরালার কোচি বন্দরে অবস্থান করছে ইরানি এই নৌযানটি। একই দিনে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের অপর একটি ফ্রিগেট 'দেনা'-তে বিধ্বংসী হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যাতে অন্তত ৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের আবেদন জানানো হলে ভারত এই সিদ্ধান্ত নেয়। এস জয়শঙ্কর বলেন, "আইনি জটিলতা যাই থাক না কেন, আমরা স্রেফ মানবিকতার খাতিরে এই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি আমরা সঠিক কাজটিই করেছি।" তিনি আরও জানান, জাহাজগুলো এর আগে ভারতের নৌ মহড়ায় অংশ নিলেও বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা পরিস্থিতির ভুল দিকে আটকা পড়েছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, ইরানি নৌবাহিনীকে নির্মূল করাই বর্তমানে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। এমন উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের এই 'মানবিক' অবস্থান বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজ 'আইরিস ডেনা'র নিহত ইরানি নাবিকদের মরদেহ একটি যানবাহন থেকে নামাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। গালে, বুধবার ৪ঠা মার্চ ২০২৬।
তোপের মুখে মোদি, ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিতে যে কারনে লজ্জায় পড়েছে ভারত

ভারত মহাসাগরের অতন্দ্র প্রহরী হওয়ার যে উচ্চাভিলাষী দাবি ভারত করে আসছিল, সম্প্রতি এক মার্কিন হামলায় তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। গত বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস দেনা’ (IRIS Dena) ডুবে যাওয়ার ঘটনা ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রদানের সক্ষমতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক নৌ-মহড়া ‘মিলান’-এ অংশ নিয়ে ফেরার পথে লঙ্কার জলসীমার মাত্র ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে আক্রান্ত হয় ইরানি জাহাজটি। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই হামলাকে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলায় অন্তত ৮০ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক নিখোঁজ রয়েছেন। মোদি সরকারের ‘গার্ডিয়ান’ ইমেজে ধাক্কা: মাত্র কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় নৌবাহিনীকে ভারত মহাসাগরের ‘গার্ডিয়ান’ বা অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু নিজের ঘরের আঙিনায় ভারতের আমন্ত্রিত এক ‘অতিথি’ জাহাজকে রক্ষা করতে না পারা বা হামলার বিষয়ে আগে থেকে কোনো তথ্য না থাকা নয়াদিল্লির জন্য কৌশলগতভাবে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। কৌশলগত উভয়সংকট: প্রাক্তন নৌ-কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন এক কঠিন ‘ক্যাচ-২২’ পরিস্থিতিতে। প্রশ্ন উঠেছে, ভারত কি এই মার্কিন হামলার কথা আগে থেকে জানত? যদি জানত, তবে তা বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। আর যদি না জানত, তবে তা ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ সীমাবদ্ধতাকেই প্রকট করে তোলে। অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ আল জাজিরাকে বলেন, “যদি ভারত এই হামলা সম্পর্কে অন্ধকারে থেকে থাকে, তবে তা ওয়াশিংটনের সাথে আমাদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে চিন্তার কারণ।” কূটনৈতিক নীরবতা ও সমালোচনা: ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর ভারতীয় নৌবাহিনী একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিলেও মার্কিন হামলার বিষয়ে কোনো নিন্দা বা কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমনকি নিহত ইরানি নাবিকদের প্রতি শোক প্রকাশে মোদি সরকারের ‘অনীহা’ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন যে, মোদি সরকার ভারতের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে দেশের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি ধ্বংস করছে। আঞ্চলিক প্রভাবের ভবিষ্যৎ: বিশ্লেষক শ্রীনাথ রাঘবন মনে করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত ভারতের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ‘জোট নিরপেক্ষ’ আন্দোলনের নেতা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়তে পারে। ভারত মহাসাগরকে নিজের প্রভাব বলয় হিসেবে দাবি করা নয়াদিল্লির জন্য ‘আইরিস দেনা’ ডুবির ঘটনা কেবল একটি সামরিক বিপর্যয় নয়, বরং একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরাজয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
রণক্ষেত্র ভারত মহাসাগর: পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সাথে আলাপ জয়শঙ্করের

ভারত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় ইরানি রণতরি নিমজ্জিত হওয়া এবং জ্বালানি সংকটের চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে জরুরি টেলিফোন আলাপ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।  যদিও এই আলোচনার বিস্তারিত এখনো কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি, তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের আয়োজিত নৌ-মহড়া থেকে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ডুবে যায়। এই ভয়াবহ ঘটনায় শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী ৩০ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করলেও ৮০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বহু নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা। ইরান বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধের হুমকি দেওয়ায় ভারতের তেল আমদানিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।  উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ওপর ভারতের জ্বালানি খাত ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ইংল্যান্ডকে ধোঁয়া দেখিয়ে ফাইনালে ভারত

টানা ২৫৩ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ভারতের টিম সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনালে উঠে গেছে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সেমিফাইনাল ম্যাচে ভারত টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে।   ইংল্যান্ডের শুরু ভালো ছিল না। মাত্র ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল চাপে পড়ে। ৯৫ রানে চতুর্থ উইকেটও হারানো পরে জ্যাকব ব্যাথেল ব্যাটে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেননি। ব্যাথেল ৪৫ বলে ১০৫ রানের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ইনিংসের শেষ ওভারে ব্যাথেলের রান আউটের পর ইংল্যান্ডের জয়লাভের আশা শেষ হয়ে যায়।   ভারতের ব্যাটসম্যানরা রানের পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ডের সামনে দারুণ চাপ তৈরি করে। সাঞ্জু স্যামসন ৪২ বলে ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। শিবম দুবে ২৫ বলে ৪৩, ইশান কিশান ১৮ বলে ৩৯, তিলক ভার্মা ৭ বলে ২১ এবং হার্দিক পান্ডিয়া ১২ বলে ২৭ রানে অবদান রাখেন।   ফাইনালে ভারত আগামী রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0