সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জলিল আখতার। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি সন্দেহে ৩ মাস আটক, বৈধ নথি নিয়ে জামিন পেলেন ৬৬ বছরের ভারতীয়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আটক থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী জলিল আখতার। উত্তর দিনাজপুরের এই বাসিন্দার আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন নথি যাচাইয়ের পর বৈধ বলে উল্লেখ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে জামিন দেওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।   জলিল আখতার উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, ১৯ জুন রাতে ডালখোলা থানার পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। তখন তাকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহ করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরদিন পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে তার পরিচয় প্রমাণের জন্য ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও প্যান কার্ডসহ বিভিন্ন নথি জমা দেন।   এরপর জলিলকে বিভিন্ন আটককেন্দ্রে রাখা হয় এবং পরে ইসলামপুরের কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়, তিনি ভারতের নাগরিক এবং তার পরিচয় ও বসবাসের পক্ষে দীর্ঘদিনের সরকারি নথি রয়েছে। তার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার পাশাপাশি ২০২৬ সালের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নথিতেও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে জলিলকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকসংক্রান্ত আইনে মামলা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাকে বাংলাদেশের দিকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পর তাকে বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং পরে তিনি আবার পুলিশের হেফাজতে ফিরে আসেন।   মামলার তদন্তের সময় জলিলের পরিবারের দেওয়া বিভিন্ন নথি যাচাই করা হয়। আদালতের কার্যক্রমে তার আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ডের বৈধতা নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তার বাবার নামে ১৯৬৭ সালের জমির নথিও পরিবার আদালতে জমা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ১৫ সেপ্টেম্বর ইসলামপুরের আদালত জলিলকে জামিন দেওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যান। জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। প্রয়োজনে তাকে নিয়মিত আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।   জলিলের পরিবার জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস ধরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আদালতে ছুটতে হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি থাকার পরও একজন বয়স্ক মানুষকে এতদিন আটক রাখায় তারা মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জলিল নিজেও মুক্তির পর তার নাগরিকত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   তবে জলিলের বিরুদ্ধে করা মামলার পুরো আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আদালতের জামিনের অর্থ হলো তিনি বিচারাধীন অবস্থায় মুক্ত থাকবেন; এটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। তদন্ত ও পরবর্তী আদালত কার্যক্রমের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।   সূত্র: দ্য অবজারভার পোস্ট

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভারতের পুরো কাস্টমার সাপোর্ট টিমকে মাত্র পাঁচ মিনিটের অনলাইন বৈঠকে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে ৮০ কর্মী ছাঁটাই! ভারতীয় পুরো টিমকে চাকরিচ্যুত

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আর্থিক প্রযুক্তি কোম্পানির ভারতে থাকা প্রায় ৮০ কর্মীকে মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি অনলাইন বৈঠকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভারতের এক কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের বরাত দিয়ে এ ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই একই বৈঠকে পুরো ভারতীয় গ্রাহকসেবা দলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়। তবে ঘটনার সব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ওই কর্মীর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ভারতীয় কর্মীদের অফিসে না গিয়ে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছিল। এর কারণ হিসেবে কর্মীদের জানানো হয়, বিষয়টি কোম্পানির কার্যক্রমসংক্রান্ত। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কাজ শুরু করার প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে পুরো দলের সদস্যদের একটি গুগল মিটে যোগ দিতে বলা হয়।   বৈঠক শুরু হওয়ার পর কর্মীদের জানানো হয়, ভারতের পুরো গ্রাহকসেবা দলের চাকরি শেষ করা হয়েছে। কর্মীর দাবি, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৮০ জনকে ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানানো হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে একসঙ্গে এত কর্মী চাকরি হারানোর ঘটনায় তারা হতবাক হয়ে পড়েন। চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা ওই কর্মী জানিয়েছেন।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা এবং বহুজাতিক কোম্পানির ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে প্রায় ৮০ জন কর্মীকে একসঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে চাকরি হারানোর কথা জানানোর অভিযোগটি ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মী আরও দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে ভারতীয় দলের কাজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে কর্মীটির দাবি, ভারতীয় দলের সদস্যরা চাকরি ধরে রাখার জন্য নিয়মিত অতিরিক্ত পরিশ্রম করতেন। এ বিষয়ে কোম্পানির বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা কর্মীদের কাজের মূল্যায়নের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই কর্মীর বক্তব্যের ভিত্তিতে কোম্পানিটির নাম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লুভাইন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ছোট ব্যবসার জন্য অনলাইন ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবা দিয়ে থাকে। তবে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কোম্পানির পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বা এর সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।   ছাঁটাইয়ের পর কর্মীরা ক্ষতিপূরণ বা চাকরি হারানোর সুবিধা হিসেবে কী পাবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই কর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, সব কর্মীর জন্য একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।   প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতে বিশ্বজুড়ে কর্মী কমানোর প্রবণতা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভারতের ওই দলের ছাঁটাইয়ের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   বর্তমানে পুরো ঘটনাটির মূল ভিত্তি একজন কথিত সাবেক কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বর্ণনা। তাই প্রায় ৮০ কর্মীকে ছাঁটাই, ছাঁটাইয়ের কারণ, পাঁচ মিনিটের বৈঠক এবং চাকরি হারানোর পর কর্মীদের প্রাপ্য সুবিধা নিয়ে ওঠা দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্যের বদলে অভিযোগ ও কর্মীর ব্যক্তিগত বর্ণনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড
১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড! মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

একজন মানুষের কাছে ক্রেডিট কার্ড থাকতে পারে কতটি? পাঁচটি, দশটি কিংবা কয়েক ডজন। কিন্তু ভারতের মণীশ ধামেজার কাছে ছিল ১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড। এই সংখ্যার জন্য ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল হায়দরাবাদে তাকে ‘সবচেয়ে বেশি বৈধ ক্রেডিট কার্ডের সংগ্রহ’-এর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড দেওয়া হয়। গিনেসের সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, যাচাইয়ের সময় কার্ডগুলোর সবই বৈধ ছিল।    মণীশের এই বিপুল সংগ্রহ শুধু কার্ড জমিয়ে রাখার জন্য নয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে দেওয়া তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কার্ডের আলাদা আলাদা সুবিধা কাজে লাগান তিনি। পুরস্কার পয়েন্ট, বিমানযাত্রার মাইল, ক্যাশব্যাক, বিমানবন্দরের লাউঞ্জ, রেলওয়ে লাউঞ্জ, হোটেল সুবিধা, ভ্রমণ, খাবার, কেনাকাটার ভাউচার, সিনেমার টিকিট, গলফ সেশন এবং জ্বালানির সুবিধার মতো নানা ধরনের অফার তিনি ব্যবহার করেন।    একটি কার্ডে যে সুবিধা বেশি, অন্য কার্ডে সেটি নাও থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা কার্ড ব্যবহারের কৌশল নিয়েছেন মণীশ। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণ, কেনাকাটা, জ্বালানি বা হোটেলের মতো আলাদা খরচের জন্য তিনি আলাদা কার্ড ব্যবহার করেন। প্রতিটি কার্ডের নিয়ম, বিলিং সাইকেল ও পুরস্কার সুবিধা বুঝে ব্যবহার করাই তার ব্যবস্থাপনার অন্যতম দিক।    মণীশের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০৫ সালে তিনি প্রথম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুরু করেন। ধীরে ধীরে কার্ডের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২০২১ সালে তা ১,৬৩৮-এ পৌঁছায়। গিনেসের রেকর্ডের সময় এই ১,৬৩৮টি কার্ডই বৈধ হিসেবে যাচাই করা হয়।    ২০১৬ সালে ভারতের নোটবন্দির সময়ও ক্রেডিট কার্ড তার কাজে এসেছিল বলে গিনেসকে দেওয়া বক্তব্যে মণীশ জানিয়েছেন। ওই সময় নগদ টাকার সংকটের মধ্যে তিনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেন চালিয়ে যান। গিনেসের রেকর্ড পাতাতেও তার এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে।    এত বিপুল সংখ্যক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হিসাব রাখা। প্রতিটি কার্ডের বিলিং সাইকেল, পেমেন্টের সময়সীমা, ফি এবং পুরস্কারের শর্ত আলাদা হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মণীশের ক্ষেত্রে নিয়মিত হিসাব রাখা এবং সময়মতো বিল পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের কয়েকটি প্রতিবেদনে তাকে বকেয়া ঋণ ছাড়াই কার্ড ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মণীশ ধামেজার রেকর্ডের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ১,৬৩৮ এবং রেকর্ডটি অর্জনের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২১। পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে তার বর্তমান কার্ডের সংখ্যা আরও বেশি বলে বিভিন্ন দাবি প্রকাশিত হলেও, সেগুলোকে নতুন গিনেস রেকর্ড হিসেবে ধরা যায় না। গিনেস নিজেই জানিয়েছে, রেকর্ড প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে এবং সব পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে প্রকাশিত হয় না।    মণীশের ঘটনা দেখায়, ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বাড়ানোই মূল বিষয় নয়, বরং প্রতিটি কার্ডের শর্ত ও সুবিধা বোঝা এবং সময়মতো বিল পরিশোধ করাই গুরুত্বপূর্ণ। তার ১,৬৩৮টি কার্ডের রেকর্ডটি অবশ্যই ব্যতিক্রমী। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সংখ্যক ক্রেডিট কার্ড মানেই অতিরিক্ত সুবিধা নয়। হিসাবের জটিলতা, ফি, সুদ ও বকেয়া এড়াতে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী কার্ড ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: এনডিটিভি

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ,
আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ, দুই দেশই কূটনীতিক তলব

আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌযানের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই একে অপরের কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌযান উচ্চগতিতে একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি চলে আসে এবং অনিরাপদ ও অপেশাদার কৌশলে চলার কারণে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।    ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ ওয়ারাইচকে তলব করে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি নৌযানের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই দেশের সামরিক চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানায়।    তবে পাকিস্তানের বক্তব্য ভিন্ন। ইসলামাবাদ বলেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান নৌবাহিনীর নিয়মিত মহড়ার সময় ঘটনাটি পাকিস্তানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ঘটে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় নৌযান বিপজ্জনকভাবে খুব কাছে এসে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল চালানোর ফলে দুই নৌযানের সংঘর্ষ হয়।    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এ ঘটনায় ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে। ইসলামাবাদ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৯১ সালের দুই দেশের সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।    সংঘর্ষের স্থান নিয়েও দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ভারত বলছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, ঘটনাটি তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার দায় কার - এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারি বর্ণনা পরস্পরবিরোধী।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর এবং কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তবে এবারের নৌ সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    গুরুত্বপূর্ণ: সংঘর্ষের কারণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্য আলাদা। তাই কোনো পক্ষের অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখানো হচ্ছে না।   সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল
ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল, অতঃপর বরখাস্ত

ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবল অস্ত্র হাতে ইনস্টাগ্রাম রিল তৈরি করে পোস্ট করার অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। কনস্টেবল দীপক বাঙ্গারকে সম্মেলনের সময় মধ্য দিল্লির একটি পাঁচ তারকা হোটেলের ছাদে স্নাইপার হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। তার পোস্ট করা অন্তত দুটি ভিডিও পুলিশের নজরে আসার পর বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ।    দীপক বাঙ্গার দিল্লি পুলিশের উত্তর-পশ্চিম জেলার ফরেনার্স সেলের সদস্য। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের অবস্থানের জন্য নির্ধারিত একটি হোটেলের ছাদে তাকে স্নাইপার ডিউটিতে রাখা হয়েছিল। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনকে ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।    পুলিশের কাছে আসা ভিডিওগুলোর একটিতে বাঙ্গারকে সিভিল পোশাকে দেখা যায়। তার গায়ে ছিল ব্রিকস সম্মেলনের পরিচয়পত্র এবং কোমরে ছিল সার্ভিস পিস্তল। আরেকটি ভিডিওতে তাকে হোটেলের ছাদ থেকে স্নাইপার রাইফেলের স্কোপ দিয়ে তাকাতে দেখা যায়। ভিডিওতে আশপাশের ভবন ও স্থাপনাও দৃশ্যমান ছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্যের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে উচ্চ নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় অস্ত্র, নিরাপত্তা অবস্থান ও আশপাশের এলাকার দৃশ্য ধারণ করে প্রকাশ করার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।   দিল্লি পুলিশ পরে বাঙ্গারকে ব্রিকসের নিরাপত্তা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্ত করে। তাকে উত্তর-পশ্চিম জেলায় ফিরিয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওগুলো কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ ও পোস্ট করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।    পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভিডিও ধারণের সময় তিনি ঠিক কোন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।    ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশ ও অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কারণে নয়াদিল্লিতে সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল বিশেষভাবে জোরদার। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়টি দিল্লি পুলিশের জন্য আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য
৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য

ভারতের গুজরাটে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর তদন্ত করতে গিয়ে ৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্টের একটি বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ডের তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনের সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা এক ক্রেতার যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে গুজরাট পুলিশ।     গুজরাট পুলিশের সাইবার তদন্ত শুরু হয় ১০ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাজ্য সরকারের একটি দপ্তরে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়। ওই বার্তায় গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও হুমকির আওতায় আনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে হুমকিটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করা হয়।   হুমকির ই-মেইলের ডিজিটাল সূত্র অনুসরণ করে তদন্তকারীরা বিহারের ভাগলপুরে পৌঁছান। সেখানে রোশন কুমার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি যে তথ্য দেন, তার ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর থেকে গুলশন কুমার সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গুলশন দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে অন্যদের কাছে সরবরাহ করছিলেন।   তদন্তে উদ্ধার হওয়া ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ডই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্ট সরকারি অফিস, স্কুল, কলেজ ও আদালতে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধে ব্যবহারের জন্য তৈরি ও সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে উদ্ধার হওয়া সব অ্যাকাউন্ট বাস্তবে বোমা হামলার হুমকিতে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।   এই তদন্তে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে গুজরাট পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশে থাকা একজন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। ওই ব্যক্তি জিমেইল অ্যাকাউন্টের কয়েকটি চালান কিনেছিলেন এবং ভুয়া হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠাতে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এসব লেনদেনের কিছু অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।   তবে বাংলাদেশে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তার নাগরিকত্বও প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ সরকার বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাটিকে আপাতত ভারতের পুলিশের তদন্তে উঠে আসা সম্ভাব্য আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   তদন্তকারীদের আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক জিমেইল অ্যাকাউন্ট কীভাবে তৈরি ও পরিচালনা করা সম্ভব হলো। গুজরাট পুলিশের সাইবার অপরাধ কর্মকর্তা বিবেক ভেদার মতে, উদ্ধার হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর প্রতিটিতেই দুই ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল। এত বড় পরিসরে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে গিয়ে কীভাবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটিও এখন তদন্তের অংশ।   এই ঘটনায় গুগলকেও তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে গুজরাট পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে চান, কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালিত হলো এবং গুগলের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলো। পুলিশ গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়।   গুগলের পক্ষ থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে গুজরাট পুলিশ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক ই-মেইল অ্যাকাউন্টের উৎস, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সাইবার অপরাধের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর বদলি হলেন বুশরা বানো। ছবি: সংগৃহীত
‘ইনশাআল্লাহ’, 'জাজাকাল্লাহ' বলায় বিতর্ক, ভারতে নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানোকে বদলি করা হয়েছে একটি ভিডিওকে ঘিরে বিতর্কের কয়েক দিনের মধ্যেই। ২০২১ ব্যাচের এই আইপিএস কর্মকর্তাকে খড়্গপুরের পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রকাশিত ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর একটি সংগঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বদলিটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই ভিডিওতে বুশরা বানো মূলত নিজের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হওয়ার গল্প তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। সেখানে তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং একাডেমির সহায়তার কথা বলেন। নিজের বক্তব্যের শুরুতে তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন।    ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ করে। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্যে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। তারা প্রশ্ন তোলে, ভিডিওতে ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো জাতীয় সম্ভাষণ ব্যবহার না করে কেন ইসলামী অভিবাদন ও ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।    অভিযোগের পরই বুশরা বানোর বদলির ঘটনা সামনে আসে। ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়। একই প্রশাসনিক আদেশে পার্থ ঘোষকে খড়্গপুরের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং শুভেন্দু মণ্ডলকে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।    তবে বুশরা বানোর বদলির কারণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবান্নের পক্ষ থেকে বদলিটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি বিতর্ক এবং বদলির সময়ের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও সেটিকে সরকারি সিদ্ধান্তের নিশ্চিত কারণ হিসেবে বলা যাচ্ছে না।    বুশরা বানোর কর্মজীবনের পথও বেশ উল্লেখযোগ্য। উত্তরপ্রদেশের কনৌজে জন্ম নেওয়া এই কর্মকর্তা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পিএইচডি করেন। পরে সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ভারতে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।    ২০১৮ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় ২৭৭তম স্থান অর্জন করে তিনি ভারতীয় রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে নির্বাচিত হন। তবে সে সময় দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কারণে ওই চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। পরের বছর আবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৩৪তম স্থান অর্জন করেন এবং ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে নির্বাচিত হন। পরে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে যোগ দিয়ে হুগলি গ্রামীণ এলাকায় সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চলতি বছরের জুনে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান এবং খড়্গপুরে দায়িত্ব নেন।    বুশরা বানোর বদলিকে ঘিরে এখন মূল বিতর্ক হচ্ছে একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বা জনসমক্ষে বক্তব্যে ধর্মীয় অভিব্যক্তি ব্যবহারের সীমা নিয়ে। অভিযোগকারী সংগঠনটি এটিকে সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারের কারণে একজন কর্মকর্তার প্রশাসনিক বদলির সঙ্গে বিষয়টির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বদলির সঙ্গে অভিযোগের সরাসরি সম্পর্কের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগের ২১ নেতা
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগের ২১ নেতা

আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জন নেতা মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত থাকবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার সংবাদমাধ্যমটিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা মতবিনিময় করবেন।   মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা থাকছে না। অর্থাৎ আলোচনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্দিষ্ট করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।   এদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি এই বৈঠকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করেছিল।    Source: টাইমস অব বাংলাদেশ;

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের শুধুই নিরামিষ আপ্যায়ন, ‘৮০% আমিষভোজী’ বলে মোদি সরকারকে রাহুলের খোঁচা

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার পরিবেশন করাকে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই মেনু নিয়ে সমালোচনা করে দাবি করেছেন, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। তাঁর মন্তব্যের পর বিজেপি পাল্টা কংগ্রেসকে খাবার নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগে আক্রমণ করেছে।   শনিবার রাতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের অংশ হিসেবে এই জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের জন্য ভারতীয় খাবারের একটি দীর্ঘ তালিকা রাখা হয়েছিল। তবে পুরো মেনুতেই ছিল নিরামিষ পদ, কোনো আমিষ খাবার রাখা হয়নি।   নৈশভোজের মেনুতে ছিল খান্ডভি মিল্লে, খুম্ব গালৌটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, গাজর বিন পোরিয়াল, বাজরার পোলাও ও বিটের রায়তার মতো বিভিন্ন পদ। মিষ্টান্নে ছিল পুরোনো দিল্লির ফলের ক্রিম ও জিলাপি এবং শাহদুত ফিরনি। মেনুটিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরামিষ খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল।   এই খাবারের তালিকা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, ‘রেকর্ডের জন্য’ ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। একই পোস্টে তিনি ভারতীয় আমিষ খাবারকে সুস্বাদু উল্লেখ করেন এবং নিজের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তৈরি ছোলে ভাটুরের কথাও বলেন। তাঁর মন্তব্যকে অনেকেই ব্রিকস নৈশভোজের নিরামিষ মেনু নিয়ে সরকারের প্রতি রাজনৈতিক খোঁচা হিসেবে দেখেছেন।   তবে রাহুল গান্ধীর উল্লেখ করা ৮০ শতাংশের হিসাবকে সরাসরি সরকারি বা প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি তাঁর পোস্টে এই সংখ্যার কোনো সূত্র দেননি। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য জরিপের তথ্যেও পুরো দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ আমিষভোজী, এমন সরাসরি তথ্য পাওয়া যায় না। বরং এনএফএইচএস-৫ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারীদের ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ অন্তত কখনো মাছ, মুরগি বা মাংস খান। ফলে ৮০ শতাংশের বক্তব্যটি রাহুলের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।   রাহুলের মন্তব্যের পর কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতা নৈশভোজের মেনু নিয়ে আপত্তি জানান। দলটির নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপির খাদ্যসংক্রান্ত পছন্দ এখন আন্তর্জাতিক অতিথিদের ক্ষেত্রেও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে হলে নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি আমিষ খাবারও রাখা উচিত ছিল।   কংগ্রেস নেতা ওয়ারিস পাঠানও একই ধরনের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, নিরামিষ খাবার পরিবেশনে আপত্তি নেই, কিন্তু ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, মাংস, মুরগি ও মাছও ভারতের খাদ্যবৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   অন্যদিকে বিজেপি এই সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত বলে পাল্টা আক্রমণ করেছে। দলটির নেতারা বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অথচ কংগ্রেস এসব বিষয় বাদ দিয়ে নৈশভোজের খাবারের তালিকাকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এনেছে।   বিজেপির নেতাদের বক্তব্য, নিরামিষ মেনু ভারতের নিজস্ব খাদ্য ও সংস্কৃতির একটি অংশকে তুলে ধরেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও কংগ্রেসের সমালোচনাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি অতিথিরা ভারতীয় নিরামিষ খাবার উপভোগ করেছেন।   বিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের ফলাফল ও নয়াদিল্লি ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে কংগ্রেস খাবারের মেনু নিয়ে বিতর্ক করছে। দলটির নেতারা এটিকে ভারতের কূটনৈতিক অর্জনকে খাটো করার চেষ্টা হিসেবেও তুলে ধরেছেন।   ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজে নিরামিষ খাবার পরিবেশনের ঘটনা অবশ্য ভারতের আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোতে সম্পূর্ণ নতুন নয়। তবে এবার বিষয়টি বিশেষভাবে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে রাহুল গান্ধীর ৮০ শতাংশ আমিষভোজীর দাবি এবং কংগ্রেসের খাদ্যবৈচিত্র্য নিয়ে সমালোচনার কারণে।   ফলে ব্রিকসের মূল কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে নৈশভোজের মেনুও ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে কংগ্রেস বলছে, আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির পূর্ণ বৈচিত্র্য তুলে ধরা উচিত ছিল। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, সম্মেলনের অর্জনকে পাশ কাটিয়ে খাবার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে বিরোধীরা।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের মধ্যপ্রদেশে গরুকে লাথি দেওয়ার অভিযোগে এক মুসলিম বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে অপমানের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে প্রকাশ্যে গরুকে সিজদা দিতে মুসলিম বৃদ্ধকে বাধ্য করল হিন্দু চরমপন্থীরা

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার জামনারে গরুকে লাথি দেওয়ার অভিযোগে এক মুসলিম বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে অপমান ও গরুর সামনে সিজদা করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই বৃদ্ধকে গরুর সামনে নত হয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।   স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের নাম জামিলউদ্দিন। তিনি গুনা ক্যান্টনমেন্টের বাসিন্দা এবং কাজের জন্য পিকআপে করে জামনারে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বাড়িতে মালামাল নামানোর সময় রাস্তার ওপর থাকা একটি গরুকে সরানোর চেষ্টা করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি গরুটিকে পা দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনাটি পাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়।   এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মীসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কিছু পরিবার ওই বৃদ্ধকে সাময়িকভাবে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। পরে তাকে গরুর সামনে নিয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধ গরুর সামনে মাটির দিকে ঝুঁকে আছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাকে মাটিতে নাক ঘষতে, গরুর সামনে সিজদা করতে এবং গরুর পা স্পর্শ করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তার সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   জামনার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ মেহরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গরুটিকে সরানোর উদ্দেশ্যে বৃদ্ধ পা দিয়ে আঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তিনি গরুর সামনে ক্ষমা চান। পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   অন্যদিকে জামিলউদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তার বক্তব্য নেওয়ার পরিবর্তে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার অভিযোগ, তাকে লিখে দিতে বলা হয়েছিল যে তিনি কোনো আইনি ব্যবস্থা চান না এবং স্বেচ্ছায় ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, প্রকাশ্যে কাউকে অপমান বা কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে।   মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গরুকে ঘিরে বিরোধ অতীতেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণ হয়েছে। তবে জামনারের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী
এআই চাকরি কেড়ে নিতে পারে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

ভারতে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক নারী, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির চাকরি কেড়ে নিতে পারে বলে তার আশঙ্কা। ম্যাচমেকার ও ডেটিং কোচ ওএন্দ্রিলা কাপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। কাপুরের দাবি, ওই নারী তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। বিষয়টি ভারতের বিয়ের বাজারে পেশা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   কাপুর জানান, ভারতীয় ম্যাচমেকিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা পছন্দের পাত্রদের তালিকায় ওপরের দিকে ছিলেন। ভালো বেতন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা ভিসার সম্ভাবনার কারণে অনেক পরিবার এই পেশার পাত্রদের বাড়তি গুরুত্ব দিত। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে একের পর এক ছাঁটাই এবং এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের খবরের মধ্যে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এবার সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ হিসেবে ওই নারীর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।   কাপুরের ৫ সেপ্টেম্বরের পোস্টে বলা হয়, ওই নারী তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করবেন না, কারণ এআই তার চাকরি নিয়ে নিতে পারে। কাপুর বলেন, ম্যাচমেকার হিসেবে তিনি নানা ধরনের পছন্দ ও শর্ত শুনেছেন, তবে এই কারণটি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। তার প্রশ্ন, এআইয়ের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আসলে কোন পেশা পুরোপুরি নিরাপদ?   কাপুরের মতে, এআইয়ের প্রভাব এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফাইন্যান্স, ডিজাইন, কনসাল্টিং, আইন, হেলথকেয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শুধু বর্তমান পেশার নাম দেখে ভবিষ্যতের চাকরির নিরাপত্তা বিচার করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তার বক্তব্য, একজন মানুষকে বিয়ের ক্ষেত্রে আগামী ৪০ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট চাকরি বেছে নেওয়া হচ্ছে না, বরং এমন একজন সঙ্গী বেছে নেওয়া হচ্ছে, যিনি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন।   কাপুর আরও বলেন, চাকরির পদবি বা পেশা সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কোনো শিল্পে পরিবর্তন আসতে পারে, আবার নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনও পাল্টে যেতে পারে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু পেশার স্থায়িত্বকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ভুল নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে। তার মতে, কঠোর পরিশ্রম, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা, আর্থিক দায়িত্বশীলতা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা একজন জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   কাপুরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ওই নারীর উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, একটি নির্দিষ্ট পেশাকে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যৎ অনিরাপদ ধরে নিয়ে পুরো পেশার মানুষকে বিয়ের জন্য অযোগ্য ভাবা ঠিক নয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন যখন প্রায় সব খাতেই প্রভাব ফেলছে, তখন জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বর্তমান চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তির দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আর্থিক দায়িত্বশীলতাও বিবেচনা করা উচিত।   তবে ঘটনাটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা বড় পরিসরের জরিপের ফল নয়। এটি কাপুরের সঙ্গে কথা বলা এক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বর্ণনা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এআই ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশার কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চললেও এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী

ভারতের উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার হারদৌলি গ্রামে দীর্ঘদিনের ৫জি নেটওয়ার্ক সমস্যার জেরে এক টেলিকম টেকনিশিয়ানকে মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় টেকনিশিয়ান আদিত্য ভান সিংকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক সমস্যার অভিযোগ দেখতে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন সিং। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে এবং ৫জি সংযোগের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। একপর্যায়ে তাকে টাওয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় প্রায় দুই বছর ধরে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা চলছে। সেখানে একটি বেসরকারি টেলিকম টাওয়ার স্থাপিত থাকলেও ৫জি সেবা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও নেটওয়ার্ক কাজ করত না বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে ফোন কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছিলেন বাসিন্দারা।    পুলিশ জানিয়েছে, বাসিন্দাদের একটি অংশ ৫জি প্যাকেজের জন্য অর্থ দিলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি ছিল, টেলিকম কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত টেকনিশিয়ানকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অবশ্য সিংকে ছেড়ে দেওয়া হয়।    পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সিং প্রায় তিন মাস আগে ওই টেলিকম কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ওই টাওয়ারে সেটিই ছিল তার প্রথম সফর। স্থানীয়দের দাবি, এর আগে কয়েক মাস ধরে সেখানে কোম্পানির কোনো কর্মী আসেননি। ফতেহপুরের পুলিশ সুপার অভিমন্যু মাঙ্গলিকের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখেছিলেন।    ঘটনার পর সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে। ঘটনাস্থলে থাকা সাতজনকে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের মধ্যে ছয়জনকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে তারা জামিনে মুক্তি পান। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে বৈঠকে বসেছেন সদস্য দেশগুলোর নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে ঐক্যের বার্তা, সামনে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতপার্থক্য

নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈঠকে বসেছেন। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্মেলনটি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জোটটি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর কণ্ঠ আরও শক্তিশালী করা এবং বিশ্বব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী বা মাল্টিপোলার করার লক্ষ্য সামনে রাখছে।   ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা এখন ১১ এবং জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে প্রতিনিধিত্ব করে।   ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধই সম্মেলনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ইরান ২০২৪ সালে ব্রিকসের সদস্য হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ জোটটির ভেতরের মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত থাকায় এবং চীন, ভারত ও অন্যান্য সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকায় আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলোতে ব্রিকসের জন্য অভিন্ন অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।   এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে একটি যৌথ অবস্থান তৈরি করা জোটটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   তবে মতপার্থক্যের মধ্যেও ব্রিকস নিজেদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। জোটটির অন্যতম লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বাড়ানো এবং পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক আর্থিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে আরও বিকল্প তৈরি করা।   সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহযোগিতার মতো বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও ব্রিকসের দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ভারতের জন্য এবারের সম্মেলন বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। একদিকে নয়াদিল্লির চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গেও ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। ফলে ভারত ব্রিকসকে পশ্চিমবিরোধী সামরিক বা রাজনৈতিক জোট হিসেবে না দেখে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।   ব্রিকসের সম্প্রসারণ জোটটির বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ালেও একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও বাড়িয়েছে। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলো একই প্ল্যাটফর্মে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   তারপরও ব্রিকস নেতারা গ্লোবাল সাউথের জন্য আরও শক্তিশালী ভূমিকা এবং একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। সম্মেলনের শেষ দিনে তাই মূল প্রশ্ন হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামলে ব্রিকস কতটা কার্যকরভাবে ঐক্যের বার্তা দিতে পারে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও কতটা বাড়াতে পারে।    সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
অনুমোদন ও অবকাঠামোগত অনিয়মের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
মাদ্রাসার অনুমোদন নিয়ে কড়াকড়ি, পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টিতে বন্ধের নোটিস, শোকজ আরও ১০০টি

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোর ওপর সরকারি সমীক্ষার পর ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দিয়েছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিস বা শোকজ করা হয়েছে। রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদন, অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।    রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, বন্ধের নোটিস পাওয়া ২৫২টি প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নেই। অন্যদিকে শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের অবস্থান ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পর্যালোচনার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, জুনের শুরু থেকে পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় এই সমীক্ষা চালানো হয়। এতে মাদ্রাসাগুলোর অনুমোদন, অবকাঠামো, পরিচালন ব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলো যাচাই করা হয়েছে। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা মাদ্রাসাগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।    সমীক্ষায় প্রায় ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিপরীতে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি বা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন কিংবা অ্যাফিলিয়েশন ছাড়া চলছে বলে প্রশাসনিক তথ্যে উঠে এসেছে। বিশেষ করে খারিজি মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম ও বৈধতা যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলা ও কলকাতা এলাকার মাদ্রাসাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন, পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যা, অবকাঠামো এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা হয়েছে। পরে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল আছে কি না, তা যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্তকারী দলও পাঠানো হয়।    প্রশাসনের প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যা কম থাকা, নির্ধারিত স্কুল পাঠ্যক্রম থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি এবং প্রশাসনিক নিয়ম না মানার মতো বিষয় উঠে এসেছে। এসব কারণেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জেলা হিসেবে মালদহে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। এরপর উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৩২টি এবং মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় প্রায় ২৫টি করে মাদ্রাসা রয়েছে।    এদিকে কয়েকটি মাদ্রাসায় ‘ভারতবিরোধী’ শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে একটি সরকারি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতি রাজমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কিছু প্রতিষ্ঠানে কথিত উগ্রপন্থী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, সব মাদ্রাসাকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়।    রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যাচাই ও পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে কিংবা সরকারি নিয়ম মানছে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ও আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ কোরিয়ায় সহকর্মীর বিয়েতে গিয়ে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক ভারতীয় নারী। ছবি: সংগৃহীত
কোরিয়ান বিয়েতে খাবারের আগে দিতে হয় উপহার, টোকেন না থাকায় আটকে গেলেন ভারতীয় নারী

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক কোরিয়ান সহকর্মীর বিয়েতে গিয়ে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক ভারতীয় নারী। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে লাঞ্চ করতে যাওয়ার সময় তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সহকর্মীকে খাবারের হলের প্রবেশপথে আটকে দেওয়া হয়। কারণ, তাঁদের কাছে ছিল না প্রয়োজনীয় টোকেন।   দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি গবেষণাগারে কাজ করা ওই ভারতীয় নারী তাঁর কোরিয়ান ল্যাবমেটের বিয়েতে ভারতের ও শ্রীলঙ্কার দুই জ্যেষ্ঠ সহকর্মীর সঙ্গে যোগ দেন। তিনজনেরই এটি ছিল প্রথম কোনো কোরিয়ান বিয়েতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা। বিয়েতে যাওয়ার সময় তাঁদের জানা ছিল, নবদম্পতিকে দেওয়ার জন্য টাকা বা উপহারের খাম সঙ্গে রাখতে হবে।    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা যখন লাঞ্চ হলের দিকে যাচ্ছিলেন, তাঁরাও তাঁদের সঙ্গে সেখানে যান। কিন্তু প্রবেশের সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের কাছে একটি টোকেন দেখতে চান। বিষয়টি প্রথমে তাঁরা বুঝতে পারেননি। নিরাপত্তাকর্মীরা ইংরেজি জানতেন না, আর ওই অতিথিরাও কোরিয়ান ভাষা ভালোভাবে বুঝতে পারছিলেন না। পরে তাঁরা তাঁদের কোরিয়ান ল্যাবমেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।   তখন তাঁরা জানতে পারেন, ওই বিয়ের ভেন্যুতে অতিথিদের খাবারের হলে যাওয়ার আগে রিসেপশন কাউন্টারে টাকা বা উপহারের খাম জমা দিতে হয়। এর বিনিময়ে দেওয়া হয় একটি টোকেন। সেই টোকেন দেখিয়েই খাবারের জায়গায় প্রবেশ করতে হয়। ভারতীয় নারী ও তাঁর সহকর্মীরা খামটি সঙ্গে রেখেছিলেন, কিন্তু সেটি আগে জমা না দেওয়ায় তাঁদের কাছে টোকেন ছিল না।   পরে বিষয়টি তাঁদের কোরিয়ান সহকর্মী বিয়ের ভেন্যুর কর্মীদের বুঝিয়ে বললে সমস্যার সমাধান হয়। তাঁরা রিসেপশন কাউন্টারে খাম জমা দিয়ে টোকেন নেন এবং এরপর লাঞ্চ হলে প্রবেশ করেন। পুরো ঘটনাটি ওই ভারতীয় নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।   ভারতীয় বিয়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থার পার্থক্যই তাঁকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ভারতে অতিথিরা সাধারণত নবদম্পতিকে টাকা বা উপহার নিজেদের সুবিধামতো দেন এবং খাবার খাওয়ার জন্য আলাদা কোনো টোকেন দেখাতে হয় না। কোরিয়ান বিয়েতে উপহার দেওয়ার সঙ্গে খাবারের প্রবেশাধিকার যুক্ত থাকায় তাঁর কাছে বিষয়টি বেশ অচেনা মনে হয়েছে।   তবে কোরিয়ান বিয়েতে নগদ উপহার দেওয়ার রীতি নতুন নয়। বিভিন্ন বিয়ের ভেন্যুতে অতিথিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ, নাম নথিভুক্ত করা এবং খাবারের জন্য টোকেন বা কুপন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। ভেন্যু ও বিয়ের আয়োজনভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে, তাই এটিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিটি বিয়ের বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিটিশ শাসন নিয়ে মার্কিন শিল্পীর মন্তব্য ভাইরাল
‘ভারত দরিদ্র ছিল না’, ব্রিটিশ শাসন নিয়ে মার্কিন শিল্পীর মন্তব্য ভাইরাল

নিউইয়র্কভিত্তিক ট্যাটু শিল্পী জেমা ফেরার জুলকা বর্তমানে ভারতের জয়পুর সফরে রয়েছেন। ভারত সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক ইনস্টাগ্রাম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওগুলোতে তিনি ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।   জেমার বক্তব্যের অন্যতম বিষয় ছিল পশ্চিমা বিশ্বে ভারতকে উপস্থাপনের ধরন। তাঁর দাবি, বিদেশি চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ভারতকে প্রায়ই দারিদ্র্য, অতিরিক্ত ভিড় ও নিম্নমানের জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়। একই সময়ে যোগ, আয়ুর্বেদ, মেডিটেশন, মণ্ডলা, ভারতীয় বস্ত্র ও কারুশিল্পের মতো ভারতীয় ঐতিহ্য পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস প্রসঙ্গে জেমা বলেন, দেশটি একসময় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টেক্সটাইল শক্তি ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় তুলা, মসলিন ও সিল্ক আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় উৎপাদকদের তুলনায় ব্রিটিশ নির্মাতারা সুবিধা পায় এবং এর প্রভাব পড়ে দেশটির তাঁতি ও কারিগরদের জীবিকায়।   এখানেই জেমার সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি আসে। তিনি বলেন, ভারত “দরিদ্র ছিল না”, বরং দীর্ঘ সময় ধরে দেশটিকে দরিদ্র করে ফেলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বাণিজ্যনীতি ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বিপুলসংখ্যক তাঁতি ও কারিগর জীবিকা হারান। এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।   ভারতের সংস্কৃতি নিয়েও জেমা সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে তৈরি বা অনুপ্রাণিত অনেক কিছু বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও এগুলোর সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় মানুষ ও সম্প্রদায় সবসময় যথেষ্ট স্বীকৃতি ও সম্মান পান না। তিনি বলেন, কোনো সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি সেই সংস্কৃতির মানুষদের অবমাননা করা উচিত নয়।   ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অহিংস ধারারও প্রশংসা করেন জেমা। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারত অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিল এবং অস্ত্র বা ব্যাপক রক্তপাত ছাড়াই একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।   জেমা আরও জানিয়েছেন, ভারত সফরের পর দেশটির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। নিজের শিল্পের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে আরও কাজ করার ইচ্ছার কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর ভিডিওগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা ও বিতর্ক - দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
গণেশ বারাইয়া ছবি: সংগৃহীত
উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট, বলা হয়েছিল ডাক্তার হওয়া সম্ভব নয় - আজ তিনিই রোগী দেখছেন

ভারতের গুজরাটের গণেশ বারাইয়া ছোটবেলা থেকেই ডোয়ার্ফিজমের কারণে নানা বাধা ও বিদ্রূপের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর উচ্চতা প্রায় ৩ ফুট, ওজন প্রায় ২০ কেজি এবং তিনি ৭২ শতাংশ লোকোমোটর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি।   ২০১৮ সালে গণেশ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এনইইটি পাস করেন। কিন্তু এমবিবিএসে ভর্তির সময় তৎকালীন মেডিকেল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে আপত্তি তোলে। তাঁর উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসা পেশার দায়িত্ব পালন করা কঠিন হতে পারে বলে তাঁকে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়।   গণেশ তখন হাল ছাড়েননি। তাঁর স্কুলের অধ্যক্ষ ড. দলপতভাই কাটারিয়া ও ট্রাস্টি রেভাতসিং সারভাইয়ার সহযোগিতায় তিনি প্রথমে গুজরাট হাইকোর্টে যান। সেখানে পরাজয়ের পর মামলাটি পৌঁছায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে।    ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট গণেশ ও একই ধরনের মামলায় থাকা অন্য আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেয়। আদালত জানায়, প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, ২০১৬-এর বিধানকে মেডিকেল কাউন্সিলের সুপারিশের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএসে ভর্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।   এরপর ২০১৯ সালে গণেশ এমবিবিএসে ভর্তি হন এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালে তিনি ভাবনগরের সির-টি হাসপাতালের ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছিলেন।   এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁর বহু বছরের সংগ্রামের আরেকটি বড় অধ্যায় শেষ হয়। গণেশ ভাবনগরের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে প্রথম চাকরি শুরু করেন। ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদনে তাঁকে সির তখতসিংজি জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।   যে উচ্চতাকে একসময় তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই গণেশই চিকিৎসক হয়ে রোগীদের সেবা করছেন। তাঁর গল্প এখন শুধু একজন মানুষের ডাক্তার হওয়ার লড়াই নয় - প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকেও প্রশ্ন করার একটি উদাহরণ।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে বস্তি এলাকা আড়াল করতে রাস্তা জুড়ে দেওয়া হয়েছে কাপড়ের পর্দা। ছবি: সংগৃহীত
পুতিন-জিনপিংরা আসতেই কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হলো দিল্লির বস্তি!

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা ভারতের নয়াদিল্লিতে জড়ো হয়েছেন ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনকে সামনে রেখে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকাগুলো সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি বস্তি ও নিম্নআয়ের বসতিগুলো আড়াল করতে পর্দা ও অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী দল আম আদমি পার্টি বা আপ।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কার্টুন প্রকাশ করে আপ। সেখানে ‘ভিশন ২০৪৭’ লেখা একটি আয়নার সামনে উন্নত ও সাজানো দিল্লির ছবি দেখানো হয়েছে। আয়নার বাইরের অংশে দেখানো হয়েছে বস্তি, আবর্জনা এবং অস্থায়ী ঘরবাড়ি। এই ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে রাজধানীর দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র আড়াল করার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছে দলটি।   আপ তাদের পোস্টে বলেছে, বস্তি পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখলে বাস্তবতা বদলে যায় না। দলটি বিষয়টিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্কের সঙ্গেও তুলনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তি আড়াল করা অনেকটা ২ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বলে দেখানোর মতো।   দিল্লিতে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকাগুলো আড়াল করার ঘটনা নতুন নয়। এবারের ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা কিছু বস্তি ও বসতির সামনে বড় পর্দা এবং অস্থায়ী ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন এসেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের যাতায়াতের পথে রাজধানীর দারিদ্র্যের দৃশ্য যাতে চোখে না পড়ে, সে জন্য এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে দিল্লিতে ব্যাপক সৌন্দর্যায়ন কার্যক্রমও চালানো হয়েছে। বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ হোটেল এবং সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের সঙ্গে সংযোগকারী বিভিন্ন সড়কে আলোকসজ্জা, ব্রিকসের প্রচারসামগ্রী ও নানা ধরনের সাজসজ্জা করা হয়েছে। বিভিন্ন গোলচত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক গাছও বসানো হয়েছে।   সম্মেলন ঘিরে দিল্লির নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ভারত মণ্ডপম, বিদেশি অতিথিদের অবস্থানের হোটেল এবং তাদের চলাচলের নির্ধারিত রুটে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।   ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর ভারতে সফর করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও দিল্লিতে উপস্থিত হয়েছেন।   আন্তর্জাতিক এই আয়োজনের কারণে দিল্লিকে আরও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বস্তি আড়ালের বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। আপের অভিযোগ, পর্দা বা স্ক্রিন দিয়ে দরিদ্র মানুষের বসতি আড়াল করা হলে সেখানে বসবাসকারী মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রার সমস্যাগুলো দূর হয় না।   ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লির এই সাজসজ্জা ও বস্তি আড়ালের বিতর্ক এখন আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে ভারতের রাজধানীকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। তবে বস্তি আড়ালের পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
বড় বেতনের চাকরি ছেড়ে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন শারদেন্দু তিওয়ারি
২৭ বছরেই ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছাড়লেন অ্যামাজনের তরুণ, যোগ দিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে

২৭ বছর বয়সেই বছরে প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ভারতের লখনউয়ের তরুণ শারদেন্দু তিওয়ারি। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসেও কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তারপরও ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   শারদেন্দু তিওয়ারি এখন গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন পেয়েছেন। বড় অঙ্কের বেতন ও ভালো ক্যারিয়ার ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তার গল্পটি আলোচনায় এসেছে।   লখনউতে বেড়ে ওঠা তিওয়ারি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে চণ্ডীগড়ের পিইসি থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সময় তার ক্যারিয়ার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে এয়ারবাসেও সুযোগ পান তিনি।   তবে প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়ে উঠলেও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তার কখনো হারিয়ে যায়নি। ছোটবেলা থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তার আগ্রহ ছিল। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবা অনারারি ক্যাপ্টেন রাজ কুমার তিওয়ারির। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরে ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন।   বাবার সামরিক জীবনের প্রভাবেই তিওয়ারির মধ্যেও সেনাবাহিনীতে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। চাকরি ও আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর পরও তিনি সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার বাছাই প্রক্রিয়ায় কয়েকবার ব্যর্থ হলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান।   শেষ পর্যন্ত টেকনিক্যাল এন্ট্রি রুটে গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিওয়ারি। প্রযুক্তি খাতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   প্রশিক্ষণের সময়ও তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। একাধিক ক্যাডেট দায়িত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র আন্ডার অফিসার পদে দায়িত্ব পান তিনি, যা একাডেমিতে ক্যাডেটদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।   প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে তিওয়ারির কাছে অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে দেশের সেবা করার দীর্ঘদিনের স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে ভারত চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায়
মোদি-শি বৈঠক ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের সম্পর্ক। ব্রিকস সম্মেলনে ১১টি দেশের নেতারা অংশ নিলেও ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হতে পারে মোদি-শির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ছয় বছর পর নাথু লা পাস দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী দেশগুলো থেকে ভারতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত বাণিজ্যনীতি এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার দুই বড় অর্থনীতির দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে চীনের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে কম শুল্ক সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও ভারতের আগ্রহ রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত শুল্ক আরোপ করে, যা চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের ওপর আরোপিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের তুলনায় কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-শি বৈঠকে চীনে ভারতীয় পণ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও আলোচনায় আসতে পারে। ভারতের ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো চীন থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে। পোশাক, চামড়া, ইলেকট্রনিকস, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পণ্যে চীন ভারতের অন্যতম প্রধান আমদানি উৎস। ইনস্টিটিউট ফর স্টাডিজ ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ দশমিক ২ শতাংশ আসে চীন থেকে। ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ব্রিকসের মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও নতুন উৎপাদন অংশীদারত্বের সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন, সহজ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে। তবে চীনের বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ভারতীয় ব্যবসার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পে চীনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এখনো বড় বাধা। তবুও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই মোদি-শি বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো ব্রিকস জোটের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি
২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে ৪৭ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ ও চারজন নারী।   রাত প্রায় ৮টার দিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের বাড়ি নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায়।   বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে ভারতের তামিলনাড়ুতে প্রবেশ করেন। পরে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করার সময় স্থানীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।   ভারতের আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ড শেষ করার পর তাদের তামিলনাড়ুর আত্তুর, সালেম ও তিরুচিরাপল্লির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের পর ভারত সরকার তাদের দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ট্রাভেল পারমিট দেয়।   বাংলাদেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ উইমেন ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের দায়িত্ব নেয় এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।   এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও দুই বছর বা তার বেশি সময় ভারতের কারাগারে থাকার পর কয়েক দফায় বাংলাদেশি নাগরিকদের বেনাপোল দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০