কোরিয়ান বিয়েতে খাবারের আগে দিতে হয় উপহার, টোকেন না থাকায় আটকে গেলেন ভারতীয় নারী
দক্ষিণ কোরিয়ায় এক কোরিয়ান সহকর্মীর বিয়েতে গিয়ে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক ভারতীয় নারী। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে লাঞ্চ করতে যাওয়ার সময় তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সহকর্মীকে খাবারের হলের প্রবেশপথে আটকে দেওয়া হয়। কারণ, তাঁদের কাছে ছিল না প্রয়োজনীয় টোকেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি গবেষণাগারে কাজ করা ওই ভারতীয় নারী তাঁর কোরিয়ান ল্যাবমেটের বিয়েতে ভারতের ও শ্রীলঙ্কার দুই জ্যেষ্ঠ সহকর্মীর সঙ্গে যোগ দেন। তিনজনেরই এটি ছিল প্রথম কোনো কোরিয়ান বিয়েতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা। বিয়েতে যাওয়ার সময় তাঁদের জানা ছিল, নবদম্পতিকে দেওয়ার জন্য টাকা বা উপহারের খাম সঙ্গে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা যখন লাঞ্চ হলের দিকে যাচ্ছিলেন, তাঁরাও তাঁদের সঙ্গে সেখানে যান। কিন্তু প্রবেশের সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের কাছে একটি টোকেন দেখতে চান। বিষয়টি প্রথমে তাঁরা বুঝতে পারেননি। নিরাপত্তাকর্মীরা ইংরেজি জানতেন না, আর ওই অতিথিরাও কোরিয়ান ভাষা ভালোভাবে বুঝতে পারছিলেন না। পরে তাঁরা তাঁদের কোরিয়ান ল্যাবমেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তখন তাঁরা জানতে পারেন, ওই বিয়ের ভেন্যুতে অতিথিদের খাবারের হলে যাওয়ার আগে রিসেপশন কাউন্টারে টাকা বা উপহারের খাম জমা দিতে হয়। এর বিনিময়ে দেওয়া হয় একটি টোকেন। সেই টোকেন দেখিয়েই খাবারের জায়গায় প্রবেশ করতে হয়। ভারতীয় নারী ও তাঁর সহকর্মীরা খামটি সঙ্গে রেখেছিলেন, কিন্তু সেটি আগে জমা না দেওয়ায় তাঁদের কাছে টোকেন ছিল না।
পরে বিষয়টি তাঁদের কোরিয়ান সহকর্মী বিয়ের ভেন্যুর কর্মীদের বুঝিয়ে বললে সমস্যার সমাধান হয়। তাঁরা রিসেপশন কাউন্টারে খাম জমা দিয়ে টোকেন নেন এবং এরপর লাঞ্চ হলে প্রবেশ করেন। পুরো ঘটনাটি ওই ভারতীয় নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
ভারতীয় বিয়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থার পার্থক্যই তাঁকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ভারতে অতিথিরা সাধারণত নবদম্পতিকে টাকা বা উপহার নিজেদের সুবিধামতো দেন এবং খাবার খাওয়ার জন্য আলাদা কোনো টোকেন দেখাতে হয় না। কোরিয়ান বিয়েতে উপহার দেওয়ার সঙ্গে খাবারের প্রবেশাধিকার যুক্ত থাকায় তাঁর কাছে বিষয়টি বেশ অচেনা মনে হয়েছে।
তবে কোরিয়ান বিয়েতে নগদ উপহার দেওয়ার রীতি নতুন নয়। বিভিন্ন বিয়ের ভেন্যুতে অতিথিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ, নাম নথিভুক্ত করা এবং খাবারের জন্য টোকেন বা কুপন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। ভেন্যু ও বিয়ের আয়োজনভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে, তাই এটিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিটি বিয়ের বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের গুজরাট রাজ্যে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির চেষ্টার মামলায় তিন মুসলিম ব্যক্তিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ওয়াসিম কুরেশি, মোহাম্মদ রফিক কুরেশি ও আসফাক বাহেলিম। রায় ঘোষণার সময় বিচারক হিন্দুধর্মে গরুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ বি আর রাজপুত মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত গরু জবাই এবং এর মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। গুজরাট অ্যানিমেল প্রিজারভেশন সংশোধনী আইন এবং প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস অ্যাক্টসহ সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় তাঁদের দণ্ডিত করা হয়। তবে মামলার ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছিল এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, হিন্দুধর্মে গরুর বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। এই গুরুত্ব সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা গরু জবাই এবং এর মাংস বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন বলে আদালত মনে করেন। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মনুস্মৃতি ও বেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গরুকে ঘিরে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের কথাও উল্লেখ করেন। ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক হিন্দুধর্মের কিছু বিশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে গরুকে বিশ্বজননী হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেন। তিনি গরুর মধ্যে ৩৩ কোটি দেবতার অধিষ্ঠান রয়েছে বলে প্রচলিত বিশ্বাসেরও উল্লেখ করেন। তবে এসব বক্তব্য আদালতের রায়ে উদ্ধৃত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বিচারকের পর্যবেক্ষণের অংশ। এগুলো কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। বিচারক আরও পর্যবেক্ষণ দেন, আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে গরুর অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে। গরু সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গরু বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা পরিসংখ্যান আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, তা প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভারতের গুজরাট রাজ্যে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে। গুজরাট অ্যানিমেল প্রিজারভেশন আইনের ২০১৭ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে গরু জবাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করা হয়। সংশোধিত আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য ন্যূনতম দশ বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি গরুর মাংস পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রিসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রেও পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। ভারতে গরু জবাইয়ের আইন রাজ্যভেদে ভিন্ন। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গরু ও অন্যান্য গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর আলাদা বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। গুজরাটে গরু সংরক্ষণের আইন বিশেষভাবে কঠোর। ফলে গরু জবাইয়ের মামলায় সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে। এই মামলায় আদালত তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে কী যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল, তাঁদের আইনজীবীরা কী বক্তব্য দিয়েছেন কিংবা রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতের বিচারব্যবস্থায় দায়রা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা চাইলে আইন অনুযায়ী তাঁদের সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে এই মামলায় আপিল দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। গুজরাটের এই রায়ে তিন ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিচারকের ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ বিশেষভাবে সামনে এসেছে। আদালতের সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রচলিত গরু সংরক্ষণ আইনের প্রয়োগ এবং গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব নিয়ে বিচারকের পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে রায়ের চূড়ান্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
২৮ মিনিট হার্টবিট বন্ধ থাকার পর বেঁচে ফেরেন তিনি, জানান মৃত্যুর সময় যা যা দেখেছেন
যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ৬০০ মানুষের মানবসেবায় প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাইহানা আহমেদ
লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণে ২ বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ, ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভে নরওয়েকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্যের জবাব দিয়েছে দেশটির পর্যটন সংস্থা। তবে পাল্টা কোনো কঠোর বক্তব্য না দিয়ে ব্যতিক্রমী পথ বেছে নিয়েছে নরওয়ে। দেশটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন পাবলিক টয়লেটের ছবি প্রকাশ করে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করেছে সরকারি পর্যটন প্রচার সংস্থা ভিজিট নরওয়ে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রচারণা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার (২৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে একটি নির্বাচনী সমাবেশে। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প নরওয়ের সমালোচনা করেন এবং দেশটিকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নরওয়ে থেকে অভিবাসী নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ নেই। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, নোবেল পুরস্কার নিয়ে অসন্তোষ থেকেই তিনি দেশটির বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর নরওয়ের পর্যটন সংস্থা ভিজিট নরওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। সেখানে ট্রাম্পের ব্যবহৃত অবমাননাকর শব্দের প্রসঙ্গ তুলে সংস্থাটি জানায়, নরওয়েতে সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে চমৎকার কিছু টয়লেট রয়েছে। পোস্টের সঙ্গে দেশটির পাহাড়, নদী, সমুদ্রতীর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিভিন্ন স্থানে নির্মিত পাবলিক টয়লেটের ছবি যুক্ত করা হয়। ব্যঙ্গাত্মক এই প্রচারণার মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনাকেই পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে সংস্থাটি। ভিজিট নরওয়ের ওয়েবসাইটেও দেশটির আকর্ষণীয় পাবলিক টয়লেটগুলো নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এগুলো কি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর টয়লেট? ট্রাম্পের পরিচিত রাজনৈতিক স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ অনুসরণ করে টয়লেট নিয়েও রসিকতা করা হয়েছে। পর্যটকদের উদ্দেশে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব স্থাপনা শুধু প্রয়োজন মেটানোর জায়গা নয়, বরং দেখার মতো পর্যটন আকর্ষণও। নরওয়ের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সেনজা দ্বীপের একটি বিশেষ নকশার টয়লেটও প্রচারণায় স্থান পেয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত দ্বীপটিতে অবস্থিত স্থাপনাটি পর্যটকদের কাছে ‘গোল্ডেন টয়লেট’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া পাহাড়ি রাস্তা, সমুদ্রতীর এবং ফিয়র্ডের পাশে নির্মিত বেশ কয়েকটি টয়লেটের ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। ফিয়র্ড হলো হিমবাহের প্রভাবে তৈরি পাহাড়ঘেরা গভীর ও সরু জলপথ, যা নরওয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দেশটির ন্যাশনাল সিনিক রুটস কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন পর্যটনপথে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নরওয়েজিয়ান পাবলিক রোডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগে সাধারণ বিশ্রামাগারকেও আকর্ষণীয় স্থাপত্যের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থাপনা স্থাপত্যশৈলীর জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে নরওয়ে নিজেদের পর্যটন অবকাঠামোর একটি ব্যতিক্রমী দিক বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেকে ভিজিট নরওয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এভজেনিয়া এগোরোভা জানান, কখনো কখনো সামান্য রসিকতা এবং নরওয়ের অসাধারণ স্থাপত্যই যথেষ্ট। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ট্রাম্পের মন্তব্যকে সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কে না নিয়ে ইতিবাচকভাবে দেশের পর্যটন প্রচারের সুযোগ হিসেবে দেখেছে সংস্থাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উদ্যোগে অনেক ব্যবহারকারী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব বার্গেনের অলংকারশাস্ত্র ও যোগাযোগবিষয়ক অধ্যাপক ইয়েন্স শেল্ডসেনও পর্যটন সংস্থার এই কৌশলের প্রশংসা করেছেন। এনআরকেকে তিনি বলেন, হাস্যরসের মাধ্যমে কঠোর বক্তব্যের গুরুত্ব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। তাঁর মতে, আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জবাবে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে রসিকতার আশ্রয় নেওয়া কখনো কখনো বেশি কার্যকর হতে পারে। নরওয়ের পর্যটন সংস্থার প্রতিক্রিয়াকে তিনি সেই কৌশলের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নরওয়ের সরকার নেয় না। এই পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করে স্বাধীন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। ফলে কোনো ব্যক্তিকে পুরস্কার দেওয়া বা না দেওয়ার জন্য নরওয়ের সরকারকে দায়ী করার সুযোগ নেই। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি একাধিকবার এই পুরস্কার পাওয়ার দাবি তুলেছেন। চলতি বছর পুরস্কার না পাওয়ার পরও তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। মিশিগানের সমাবেশে নরওয়ে থেকে অভিবাসী নিতে না চাওয়ার কথা বললেও এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে এখন পর্যন্ত সরকারি নিষেধ
ব্রিটেনে নাপিতের দোকানে ইমিগ্রেশন অভিযান, পালাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
১৩ বছরের কিশোরীকে ধ র্ষ ণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশির খোঁজে লন্ডন পুলিশ
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাহত ও চিকিৎসাবঞ্চিত শিশুদের চিকিৎসার্থে এক লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই তহবিলের পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা। যুক্তরাজ্যের অলাভজনক সংস্থা নজুম স্পোর্টসের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এক দাতব্য অনুষ্ঠান থেকে বিপুল এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবল ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই অর্জনের কথা নিশ্চিত করেছেন। গত রোববার যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে নজুম স্পোর্টসের উদ্যোগে এই বিশেষ দাতব্য অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। মুসলিম অ্যাথলেটদের সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি অনুষ্ঠানে হামজাকে নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এর পাশাপাশি মুসলিম খেলোয়াড়দের স্বাক্ষরিত জার্সি, পদক ও বিভিন্ন স্মারক নিলামে তোলা হয়। এই নিলামের মূল আকর্ষণ ছিল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটির হয়ে জেতা ঐতিহাসিক ট্রফি ও স্মারকগুলো। এর মধ্যে তার এফএ কাপজয়ী জার্সিটি সাত হাজার পাউন্ড এবং কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদকটি তিন হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। অনুষ্ঠানটির টিকিট বিক্রি এবং নিলাম থেকে পাওয়া পুরো অর্থ ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের একটি দাতব্য সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে হামজা চৌধুরী জানিয়েছেন, এই তহবিলের সম্পূর্ণ অর্থ গাজার শিশুদের জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ সংস্থাটি গাজার শিশুদের জরুরি সহায়তা প্রদান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। হামজা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, স্বল্প সময়ে আয়োজিত এই নিলাম থেকে অর্জিত তহবিল গাজার বিশাল দুর্ভোগের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য হলেও, প্রতিটি ছোট প্রচেষ্টাই বড় পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে। এদিকে, মাঠের বাইরে এমন মহতী ও মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি হামজা বর্তমানে জাতীয় দলের হয়েও মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে না পারলেও, প্রধান কোচ টমাস ডুলির ভাষ্যমতে ৯ নভেম্বর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সিতে তাকে দেখার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব
আফগানিস্তানে এক বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে আফিম উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিরছেন কৃষকেরা