সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

থানার সামনেই পাথরের আঘাতে মুসলিম যুবক খুন, দাড়ি-টুপি দেখে টার্গেট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৪
সাইখুন খান
সাইখুন খান

রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় থানার সামনে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে ৪০ বছর বয়সী সাইখুন খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বারোদা মেও থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। 

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বারাওয়াস গ্রামের বাসিন্দা সাইখুন খান নিজের মোটরসাইকেলের জন্য টায়ার কিনতে বারোদা মেও বাজারে যাচ্ছিলেন। সকাল প্রায় ১০টার দিকে তিনি বারোদা মেও থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত হর্ষ মূর্তিকার তাকে থামায়। এরপর তাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে পাথর দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

 

গুরুতর আহত সাইখুনকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আলওয়ারের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। 

 

ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত হর্ষকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে হাজির করে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, সাইখুন ও অভিযুক্তের মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে এবং তার মনোরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করার কথা জানানো হয়েছে। 

 

তবে নিহতের পরিবার হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারণ থাকার অভিযোগ তুলেছে। সাইখুনের ভাই ইরশাদ খানের দাবি, তার ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পরিবারের সন্দেহ, সাইখুনের দাড়ি ও টুপি দেখে তাকে মুসলিম হিসেবে শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ; তদন্তে ধর্মীয় পরিচয় হত্যার কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। 

 

পুলিশ অবশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ নাকচ করেছে। আলওয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলার স্থানটি থানার ভেতর থেকে সরাসরি দেখা যায় না এবং চিৎকার শুনে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন। 

 

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বারোদা মেও থানার সামনে এবং আলওয়ার জেলা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভের সময় আলওয়ার-ভরতপুর সড়কেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। 

 

ঘটনাটি নিয়ে ভারতের বিরোধী কংগ্রেস নেতারাও পুলিশের ভূমিকা ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘটনার তদন্তের প্রমাণ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত। 

 

সাইখুন খানকে থানার সামনে পাথর দিয়ে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তারও হয়েছে। কিন্তু হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো দুটি ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে—পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অভিযুক্তের সম্ভাব্য মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আর পরিবারের অভিযোগ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাকে টার্গেট করা হতে পারে। তদন্ত ও মেডিকেল/আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সাইখুন খান
থানার সামনেই পাথরের আঘাতে মুসলিম যুবক খুন, দাড়ি-টুপি দেখে টার্গেট

রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় থানার সামনে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে ৪০ বছর বয়সী সাইখুন খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বারোদা মেও থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বারাওয়াস গ্রামের বাসিন্দা সাইখুন খান নিজের মোটরসাইকেলের জন্য টায়ার কিনতে বারোদা মেও বাজারে যাচ্ছিলেন। সকাল প্রায় ১০টার দিকে তিনি বারোদা মেও থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত হর্ষ মূর্তিকার তাকে থামায়। এরপর তাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে পাথর দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।    গুরুতর আহত সাইখুনকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আলওয়ারের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।    ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত হর্ষকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে হাজির করে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, সাইখুন ও অভিযুক্তের মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে এবং তার মনোরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করার কথা জানানো হয়েছে।    তবে নিহতের পরিবার হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারণ থাকার অভিযোগ তুলেছে। সাইখুনের ভাই ইরশাদ খানের দাবি, তার ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পরিবারের সন্দেহ, সাইখুনের দাড়ি ও টুপি দেখে তাকে মুসলিম হিসেবে শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ; তদন্তে ধর্মীয় পরিচয় হত্যার কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।    পুলিশ অবশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ নাকচ করেছে। আলওয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলার স্থানটি থানার ভেতর থেকে সরাসরি দেখা যায় না এবং চিৎকার শুনে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন।    এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বারোদা মেও থানার সামনে এবং আলওয়ার জেলা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভের সময় আলওয়ার-ভরতপুর সড়কেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।    ঘটনাটি নিয়ে ভারতের বিরোধী কংগ্রেস নেতারাও পুলিশের ভূমিকা ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘটনার তদন্তের প্রমাণ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত।    সাইখুন খানকে থানার সামনে পাথর দিয়ে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তারও হয়েছে। কিন্তু হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো দুটি ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে—পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অভিযুক্তের সম্ভাব্য মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আর পরিবারের অভিযোগ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাকে টার্গেট করা হতে পারে। তদন্ত ও মেডিকেল/আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৪
শিবির ছেড়ে নিজ এলাকায় ফিরছেন সিরিয়ার বা স্তু চ্যুত পরিবারগুলো

শিবির ছাড়ছেন সিরিয়ার বা স্তু চ্যুতরা, জানুয়ারি থেকে ফিরেছেন ৬০ হাজারের বেশি

গাজায় প্রায় তিন বছরের যুদ্ধে ফিলিস্তিনি নি হ তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে

গাজায় ফিলিস্তিনি নি হ তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়াল, আ হ ত ১ লাখ ৭৫ হাজার

টানা ভারী বৃষ্টিতে পানির নিচে ব্যাংককের সড়ক, ডুবে গেছে যানবাহনও

৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবল ব্যাংকক, দুর্যোগকবলিত ৫০ জেলা

নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির দাবিতে ২ অক্টোবরের কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক
২ অক্টোবরের নির্বাচন কমিশনবিরোধী কর্মসূচিতে সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তিনি নিজে ওই কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি।   ককরোচ জণতা পার্টি বা সিজেপি ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে এই কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।   ওয়াংচুক বলেন, দেশের জবাবদিহি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার যেকোনো উদ্যোগই সমর্থনের যোগ্য। তবে তিনি মনে করেন, কোনো আন্দোলন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।   তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে গেলে গণতন্ত্রের আর কী অবশিষ্ট থাকে?   সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন ওয়াংচুক। উদাহরণ হিসেবে লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। জবাবদিহি ও ন্যায়ের জন্য কাজ করা সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।   ২ অক্টোবরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করে ওয়াংচুক বলেন, এ দিন মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার আদায়ের যে পদ্ধতি গান্ধী অনুসরণ করেছিলেন, তা বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   ওয়াংচুকের এই বক্তব্য এসেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে ভোটার নিবন্ধন, নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।   তবে নির্বাচন কমিশন এই প্রতিবেদনের পর জানিয়েছে, এসআইআর–সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত তিন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সংশোধন প্রক্রিয়ায় নোটিশ পাওয়া ভোটারদের সহায়তায় কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেসব ভোটারের তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য বা ম্যাপিং-সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বুথ লেভেল কর্মকর্তাদের বাড়িতে গিয়ে সহায়তা করার ব্যবস্থাও রয়েছে।   এদিকে বিরোধী দলগুলোর একটি অংশও এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে। ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠক করে এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।   ২ অক্টোবরের কর্মসূচিটি মুম্বাই থেকে শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। ওয়াংচুকের সমর্থন থাকলেও তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৫:৫১
বিনা পয়সায় সাইকেল মেরামত, কৃতজ্ঞতায় দোকানির জন্য খাবার নিয়ে ফিরলেন সোনম।

হারানো ব্যাগ অক্ষত ফেরত, এবার বিনা পয়সায় সাইকেল মেরামত - জাপানিদের মানবিকতায় মুগ্ধ ভারতীয় নারী

গ্যাং ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি নিজেদের উদ্যোগে এগিয়ে আসছেন রিওর বাসিন্দারা

পুলিশি অভিযানে শতাধিক প্রাণ হা নি র পর গ্যাং ঠেকাতে রিওবাসীর নতুন উদ্যোগ

সৌদি আরবে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে

সৌদিতে অভিযান চলছেই, এক সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হলো ১২,৬২৮ জন

জার্মানিতে ৬ লাখের বেশি নিবন্ধিত শূন্যপদ, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্যও রয়েছে চাকরি খোঁজার সুযোগ
জার্মানিতে ৬ লাখের বেশি চাকরির সুযোগ, কারা পাবেন অপরচুনিটি কার্ড

জার্মানিতে শ্রমবাজারে এখনো বিপুল সংখ্যক চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংস্থাটিতে ৬ লাখ ৫৩ হাজারটি শূন্যপদ নিবন্ধিত ছিল। দক্ষ কর্মীদের জন্য এসব সুযোগের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’।   অপরচুনিটি কার্ড মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি আবাসন অনুমতি। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বাইরের দেশের যোগ্য নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে উপযুক্ত কাজ খুঁজতে পারেন। সাধারণত এই কার্ড সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়।   এই সময়ে চাকরিপ্রার্থীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। চাকরি খোঁজার অংশ হিসেবে কোনো নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের ট্রায়াল কাজও করার সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া গেলে অপরচুনিটি কার্ডের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য অন্য ধরনের আবাসন অনুমতির আবেদন করা যায়।   অপরচুনিটি কার্ড পাওয়ার প্রধানত দুটি পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি দক্ষ কর্মী হিসেবে সরাসরি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পয়েন্ট পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না।   দ্বিতীয় পথ হলো পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজ দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি অথবা অন্তত দুই বছরের পেশাগত প্রশিক্ষণের যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি জার্মান ভাষায় অন্তত এ১ অথবা ইংরেজিতে অন্তত বি২ পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন। এরপর বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাজ্ঞান, জার্মানির সঙ্গে পূর্বের সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়া হয়। মোট অন্তত ৬ পয়েন্ট পেলে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা যায়।   তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণও দিতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে ব্লকড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ১ হাজার ৯১ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ থাকার প্রমাণ দেখানো যায়, অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যভাবে আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়।   জার্মানিতে আগে থেকেই উপযুক্ত চাকরির প্রস্তাব পাওয়া উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্লু কার্ড। এর জন্য সাধারণত জার্মান বা সমমানের স্বীকৃত উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা এবং অন্তত ছয় মাসের উপযুক্ত চাকরির প্রস্তাব প্রয়োজন। ২০২৬ সালে সাধারণ ক্ষেত্রে ব্লু কার্ডের জন্য ন্যূনতম বার্ষিক মোট বেতনের শর্ত ৫০ হাজার ৭০০ ইউরো।   ব্লু কার্ডধারীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও তুলনামূলক দ্রুত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ২৭ মাস যোগ্য চাকরিতে কাজ ও পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখার পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করা যায়। জার্মান ভাষায় বি১ পর্যায়ের দক্ষতা থাকলে এই সময় কমে ২১ মাস হতে পারে।   তবে জার্মানির ৬ লাখ ৫৩ হাজার নিবন্ধিত শূন্যপদকে সরাসরি বিদেশি কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত চাকরি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিতে নিবন্ধিত মোট চাকরির চাহিদার সংখ্যা। কোন পেশায় বিদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট চাকরির যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার শর্ত এবং আবেদনকারীর ভিসা ও আবাসন অনুমতির ওপর।   জার্মানিতে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য তাই অপরচুনিটি কার্ড চাকরি খোঁজার একটি সম্ভাব্য পথ হলেও আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি, ভাষাজ্ঞান, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক সক্ষমতার শর্তগুলো যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:১৪
ফিলিপাইনে নারী যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ই-ট্যাক্সিচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আজীবনের জন্য বাতিল করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ট্যাক্সিচালকের লাইসেন্স আজীবন বাতিল

চকলেট দেওয়ার কথা বলে প্যাকেট খুলতেই দুবাইয়ের এক প্রতিষ্ঠানের কর্মীর হাতে উঠে এলো নতুন আইফোন ১৮। ছবি: সংগৃহীত

চকলেট দেয়ার কথা বলে অফিসের সব কর্মীকে চমকে দিয়ে আইফোন উপহার বসের

ইরাকের একটি মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ চলাকালীন হঠাৎ ভেতরে ঢুকে পড়ে দুটি হরিণশাবক। ছবি: সংগৃহীত

নামাজের কাতারে অপ্রত্যাশিত দুই অতিথি, শান্তভাবেই সামলালেন মুসল্লিরা

0 Comments