- প্রচ্ছদ
- Topic
মুসলিম
জাপানে ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘদিন আরবি ভাষা ও কুরআন অধ্যয়ন করে ৮০ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেন উমর মিতা। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত তাঁর অনুবাদটি ছিল একজন জাপানি মুসলিমের করা প্রথম পূর্ণাঙ্গ কুরআন অনুবাদ। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম নেওয়া রিওইচি মিতা পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে উমর মিতা নাম ধারণ করেন। জাপানে ইসলামের ইতিহাসে তাঁর এই কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। ১৮৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাপানের ইয়ামাগুচি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। তাঁর পরিবার ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং সামুরাই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। শৈশব থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। ১৯১৬ সালে ইয়ামাগুচি কমার্শিয়াল কলেজ থেকে শিক্ষা শেষ করেন। শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে চীনে যান মিতা। সেখানে রেলওয়ে খাতে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। চীনে অবস্থানকালেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ধর্মীয় অনুশীলন ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে এই আগ্রহ তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে উৎসাহিত করে। চীনে মুসলিমদের সঙ্গে মেলামেশার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। তিনি ইসলামের ইতিহাস, ধর্মীয় শিক্ষা এবং মুসলিম সমাজ সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯২০ সালে জাপানের একটি সাময়িকীতে চীনের ইসলাম নিয়ে একটি প্রবন্ধও লেখেন। ইসলাম সম্পর্কে তাঁর প্রাথমিক অনুসন্ধানের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে এই লেখার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বাড়ে জাপানি মুসলিম ওমর ইয়ামাওকার জীবন ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর। ইয়ামাওকা ১৯০৯ সালে হজ পালনকারী প্রথম দিকের জাপানি মুসলিমদের একজন হিসেবে পরিচিত। তাঁর অভিজ্ঞতা ও লেখালেখি জাপানে ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ইসলাম নিয়ে অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানের পর ১৯৪১ সালে চীনের বেইজিংয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৮ বছর। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি উমর মিতা নাম ধারণ করেন। জীবনের এই পরিবর্তনের পর ইসলামের শিক্ষা ও ধর্মীয় সাহিত্য নিয়ে তাঁর কাজ আরও বিস্তৃত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে ফিরে তিনি মুসলিম সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এ সময় তাঁর সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন। কুরআনের মূল বক্তব্য যথাযথভাবে বোঝার জন্য তিনি বয়সের বাধা উপেক্ষা করে আরবি শেখার উদ্যোগ নেন। ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সফর করেন এবং ১৯৫৮ সালে পবিত্র হজ পালন করেন। পাকিস্তান ও সৌদি আরবে অবস্থানকালে আরবি ভাষা এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার সুযোগ পান। জাপানে এর আগেও পবিত্র কুরআনের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯২০, ১৯৩৭ ও ১৯৫০ সালে বিভিন্ন অনুবাদ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। ১৯৫৭ সালে জাপানি পণ্ডিত তোশিহিকো ইজুৎসু আরবি থেকে সরাসরি কুরআনের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেন। তবে এসব অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মুসলিম ছিলেন না। ফলে একজন জাপানি মুসলিম হিসেবে উমর মিতার অনুবাদ উদ্যোগ বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়। ১৯৬০ সালের দিকে তিনি কুরআন অনুবাদের কাজে নিবিড়ভাবে মনোযোগ দেন। অনুবাদের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাধারণ জাপানি পাঠকের কাছে কুরআনের বক্তব্য সহজবোধ্য করে তোলা। এজন্য শব্দ নির্বাচন, বাক্যগঠন এবং ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। জাপানি ভাষায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবযুক্ত অনেক শব্দ প্রচলিত থাকলেও কুরআনের ধর্মীয় ধারণা প্রকাশের ক্ষেত্রে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ ও পরিচিত জাপানি শব্দ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল অনুবাদের মাধ্যমে ইসলামের মূল বক্তব্য পাঠকের কাছে যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘ অধ্যবসায়ের পর ১৯৬৮ সালে অনুবাদের পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ করেন তিনি। তবে সেখানেই থেমে যাননি। অনুবাদের যথার্থতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধন ও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেন। ১৯৭০ সালে সংশোধিত পাণ্ডুলিপি মক্কাভিত্তিক মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেখানে ইসলামি পণ্ডিতদের মাধ্যমে অনুবাদটি পর্যালোচনা করা হয় বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। অবশেষে ১৯৭২ সালে তাঁর অনূদিত পবিত্র কুরআনের জাপানি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৮০ বছর। অনুবাদ শুরু থেকে প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় ১২ বছরের প্রচেষ্টায় তিনি এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেন, যা জাপানি মুসলিমদের ধর্মীয় সাহিত্যচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। এই অনুবাদের মাধ্যমে জাপানি ভাষাভাষী মুসলিম পাঠকদের জন্য একজন স্বদেশি মুসলিম অনুবাদকের কাজ থেকে কুরআনের অর্থ বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে জাপানে ইসলামি সাহিত্য অনুবাদের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়। উমর মিতা শুধু কুরআন অনুবাদের মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখেননি। ইসলামি শিক্ষা, সাহাবিদের জীবন ও ইসলামের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন। মুসলিম পাঠকদের পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জাপানি ভাষাভাষীদের জন্যও তাঁর সাহিত্যকর্ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর অনুবাদ পরবর্তী সময়ে সংশোধিত আকারেও প্রকাশিত হয়। ১৯৮২ সালে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। কুরআন অনুবাদের পাশাপাশি জাপানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা এবং মুসলিম সংগঠনের কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে দেশটির মুসলিম ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ১৯৮৩ সালের ২৯ মে উমর মিতা মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, চীনে ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধান, মধ্যবয়সে ইসলাম গ্রহণ এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে কুরআন অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন একটি ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষ্য বহন করে। জাপানে কুরআনের অনুবাদের ইতিহাসে উমর মিতার বিশেষ পরিচয় আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তিনি প্রথম ব্যক্তি নন যিনি জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেছিলেন, তবে প্রথম জাপানি মুসলিম অনুবাদক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত।
ভারতের আসাম রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে শওকত আলী নামে ৬৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর ও জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে রাজ্যের বিশ্বনাথ চারিয়ালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে পুরোনো ঘটনাটি নতুন করে প্রকাশিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শওকত আলী প্রায় ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় খাবার ও মাংসের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক বাজারে গরুর মাংস রান্না করে বিক্রি করার অভিযোগ তুলে একদল ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর ও অপদস্থ করা হয়। হামলায় আহত শওকত আলীকে পরে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কাদাপানিতে ভরা রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন শওকত আলী। তাঁকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। তাঁর কাছে গরুর মাংস বিক্রির লাইসেন্স আছে কি না, তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন কি না এবং আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে তাঁর নাম রয়েছে কি না, এসব জানতে চাওয়া হয়। শওকত আলীর পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে শাস্তি দেওয়ার নামে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করে। মুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শূকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। ফলে এ ধরনের আচরণ তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপরও আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এনডিটিভি সে সময় জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ঘটনার পর শওকত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। বাজার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমল থাপা নামের আরেক ব্যক্তিও হামলাকারীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পুলিশ দুটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৯ এপ্রিল ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আরও পাঁচজনকে আটক করে পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন আসাম পুলিশের মহাপরিচালক কুলধর শইকিয়া জানিয়েছিলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়ায়। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আসামে ১৯৫০ সালের গবাদিপশু সংরক্ষণ আইন কার্যকর ছিল। ওই আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট পশুচিকিৎসকের অনুমোদন সাপেক্ষে গবাদিপশু জবাইয়ের বিধান ছিল। তবে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর বা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কিছু খেতে বাধ্য করার অধিকার কারও নেই। উল্লেখ্য, ঘটনাটি ২০২৬ সালের নয়। এটি ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের একটি ঘটনা, যা সম্প্রতি আবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই ঘটনায় তদন্তের পর চূড়ান্ত বিচারিক ফলাফল কী হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধে মসজিদে জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় ২০২০ সালের রমজানে মুসলিমদের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল জার্মানির বার্লিনের একটি লুথেরান গির্জা। শহরের ক্রয়ৎসবার্গ এলাকায় অবস্থিত মার্থা লুথেরান চার্চের এ উদ্যোগ আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। বার্লিনের নয়ক্যোলন এলাকায় অবস্থিত দার আসসালাম মসজিদে সাধারণত শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম কার্যকর থাকায় একসঙ্গে মাত্র ৫০ জনের মতো মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুযোগ ছিল। ফলে রমজান মাসে বিশেষ করে জুমার নামাজের জন্য জায়গার সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে কাছাকাছি অবস্থিত মার্থা লুথেরান চার্চ মুসল্লিদের জন্য নিজেদের প্রার্থনাকক্ষ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। গির্জার ভেতরে মুসল্লিরা আরবি ভাষায় জুমার নামাজ আদায় করেন। তাঁদের মাথার ওপর ছিল ভার্জিন মেরির ছবি সংবলিত রঙিন কাচের জানালা, যা দৃশ্যটিকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়। দার আসসালাম মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ তাহা সাবরি এ উদ্যোগকে কঠিন সময়ে সংহতি ও সহমর্মিতার নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সংকটের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। গির্জার যাজক মনিকা ম্যাথিয়াসও মুসলিমদের নামাজের আয়োজনে অংশ নেন। ভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছ থেকে শেখা, তাঁদের বিশ্বাসকে বোঝা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। ২০২০ সালের মে মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে ঘটনাটি। করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে ধর্মীয় উপাসনালয়ের সীমিত সক্ষমতা যে মানুষের ধর্মীয় চর্চায় বাধা তৈরি করেছিল, এ উদ্যোগ তার একটি বাস্তব উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয়, সংকটের সময় ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা পেরিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। মসজিদে জায়গার অভাবে মুসল্লিদের নামাজ আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও গির্জার এ সহযোগিতায় তাঁরা জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। মহামারির কঠিন সময়ে বার্লিনের এই উদ্যোগ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থান, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও অমুসলিম বা পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকত্ব গ্রহণ করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ। সৌদি আরবের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও দাঈ শায়খ আসিম আল-হাকিমের এমন একটি বিতর্কিত ফতোয়া ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দেওয়া তাঁর এই ফতোয়াটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় ভাইরাল হলে বিশ্বব্যাপী অবস্থানরত মুসলিম অভিবাসী ও ডায়াসপোরাদের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শায়খ আসিমের যুক্তি হলো, পশ্চিমা কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের যে আনুষ্ঠানিক শপথ নিতে হয়, তা একজন মুসলিমের মূল ধর্মীয় আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তবে ইসলামি আইন বিশ্লেষক ও সমালোচকরা এই ফতোয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত বিদেশি মুসলিমদের স্থায়ী নাগরিকত্ব প্রদান করে না। ফলে উন্নত জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, মৌলিক মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষার স্বার্থেই অনেক মুসলিম পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকত্ব গ্রহণে বাধ্য হন। সমালোচকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র কুরআনের কোথাও পাসপোর্টের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পরিবর্তনের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ফলে কুরআন-সুন্নাহর সরাসরি আদেশের সঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিগত ফতোয়ার পার্থক্য নিয়ে সাধারণ মুসলিম ও চিন্তাবিদদের মাঝে নতুন করে ধর্মীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভারতের আসামের তিন জেলায় দুই দিনের অভিযানে ১ হাজার ১০০টির বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম স্ক্রল। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশ বাংলাভাষী মুসলিম। প্রশাসনের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমির দখল সরাতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, সরকারই তাঁদের পরিবারকে কয়েক দশক আগে সেখানে বসতি গড়তে দিয়েছিল। স্ক্রলের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ১৭ অক্টোবর নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। পরদিন নগাঁওয়ের লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ছয় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙার কথা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান এক জ্যেষ্ঠ বন কর্মকর্তা। একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল নূর স্ক্রলকে বলেছেন, অভিযানে ১০টির বেশি মসজিদও ভাঙা হয়েছে। তাঁর দাবি, এগুলোর কয়েকটি ৫০ বছরের বেশি পুরোনো। মসজিদের সংখ্যা ও বয়সের তথ্যটি তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের হিসাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে লুতুমারি বনাঞ্চল থেকে ৫৬৩টি পরিবার উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। অভিযানের সমালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। নিজের বাড়ি হারানো ৪৪ বছর বয়সী আবদুল নূরের দাবি, ভূমিহীন হওয়ায় তাঁদের পূর্বপুরুষদের ১৯৭৪ সালে সরকার সেখানে পুনর্বাসন করেছিল। সে সময় প্রায় ৩০০ পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। উচ্ছেদ ঠেকাতে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন নূর। গত জুনেও লুতুমারি লংজাপের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপল। সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, বন বিভাগের কাজে যুক্ত এসব পরিবারকে পুরোনো তাউঙ্গিয়া বন ব্যবস্থাপনার আওতায় বসতি গড়তে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাঁদের সাধারণ দখলদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করার জন্য ফালাক সুফি স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন যোগ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এই বৃত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন, উপবৃত্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয় ফি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে ভর্তির জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনের শেষ সময় ১৫ জানুয়ারি ২০২৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অধীনে কেভর্কিয়ান সেন্টারের নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের সঙ্গে এই বৃত্তি যুক্ত। ডন ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের সংরক্ষিত বিবরণে এসব তথ্য পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা বৃত্তিটির লক্ষ্য, যাঁদের পক্ষে এই আর্থিক সহায়তা ছাড়া স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করা কঠিন। নির্বাচনে নারী আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত বৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক বিবেচনার মধ্যে পড়লেও শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া বা নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী হওয়াই বৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা ও বৃত্তির নির্বাচনী শর্ত পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে উপবৃত্তির ন্যূনতম পরিমাণ ৩৭ হাজার ১৩২ মার্কিন ডলার। এটি একটি শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তি, দুই বছরের মোট অর্থ নয়। পাশাপাশি টিউশন, শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভিস ফি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বহনের কথা বলা হয়েছে। সহায়তা অব্যাহত রাখতে গ্র্যাজুয়েট স্কুলের নির্ধারিত একাডেমিক মান বজায় রাখতে হবে। আবেদন করতে আগ্রহীদের এনওয়াইইউর গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অ্যাপ্লিকেশন রিসোর্স সেন্টারে গিয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অনলাইন আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি এবং বৃত্তি বিবেচনার নির্দেশনা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। মূল লেখায় জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট ও একাডেমিক নথির যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ আবেদনতালিকা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামভিত্তিক নির্দেশনাই প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করবে। এই বৃত্তি এনওয়াইইউর সব বিষয়ের মাস্টার্সের জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্বাচিত নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরাই এর আওতায় বিবেচিত হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সুবিধার বাইরে বিমানভাড়া, ভিসা ফি বা ব্যক্তিগত সব ব্যয়ও বহন করা হবে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিমসহ কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে ভারতের চলমান ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য নতুন করে যাচাই এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার এবং একাধিকবার নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিতে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা কিংবা তথ্যের অসংগতির কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ পড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু মুসলিম, অভিবাসী শ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহে সমস্যায় পড়া মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রায় ১৩ কোটি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে বাদ পড়া ১৩ কোটি মানুষের সবাই মুসলিম নন। তাঁদের মধ্যে ঠিক কতজন মুসলিম এবং কতজন বৈধ ভোটার, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক মুসলিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। দলটির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে। বুধবার নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরাও অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লির পাশাপাশি তেলেঙ্গানা, বিহার ও বেঙ্গালুরুতেও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুলভাবে বাদ পড়া বৈধ নাগরিকদের নাম পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ঝাড়খণ্ডসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ভোটারদের নাম একসঙ্গে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবাল অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও ওড়িশাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হিন্দুও রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য বারবার জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা নয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানিয়েছিল, ভোটার তালিকায় কারও ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে ধর্মের ভিত্তিতে কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তার সরকারি হিসাবও নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যু, স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন, একাধিক নিবন্ধন এবং নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার মতো কারণে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করলেই চলবে না। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে তাঁকে যথাযথ নোটিশ দেওয়া, আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা এবং সহজে নাম পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। এই বিতর্ক ইতোমধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক আবেদন উঠেছে। আদালতে আবেদনকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমস্যায় পড়ছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আপত্তি ও সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে নির্বাচন কমিশন নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব পড়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে লাখ লাখ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে ভারতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তও দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মুসলিম মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখার মধ্যে সেখানে প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সুক্কোত উপলক্ষে নিরাপত্তার কথা জানিয়ে মসজিদ ও পুরোনো শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা WAFA-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে প্রবেশ করেন। এ সময় হেবরনের পুরোনো শহরের কয়েকটি সড়ক ও পাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। মসজিদের পরিচালক মু’তাজ আবু সুনেইনা জানান, ওই দিন ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রশাসনিক কর্মীদেরও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারিত ভিডিওতে বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে তালমুদিক ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা করতে দেখা যায়। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও তাঁদের সঙ্গে সেখানে যান। মসজিদ বন্ধের কথা জানিয়ে WAFA বলেছে, কর্তৃপক্ষ সুক্কোত উৎসবের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছে। এ সময় মসজিদে যাওয়ার পথের সামরিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেটগুলোও বন্ধ করা হয়। পুরোনো শহরের কয়েকটি বাজার বন্ধ রাখার পাশাপাশি আশপাশের পাড়ায় চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। উৎসব ও বিশেষ সময়ে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ রেখে বসতি স্থাপনকারীদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া নিয়ে এর আগেও বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবে শিক্ষকতার কাজে গিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে কথোপকথন এবং কোরআনে ঈসা (আ.)-এর বর্ণনা জানার পর ইসলাম গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন ‘সিস্টার ডেইজি’। তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয় যাত্রার কথা ২০২৬ সালের ৭ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা হয়। ডেইজির বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে বড় হয়েছেন। পরে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রি-স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সেখানে যান। তাঁর কাছে ওই চাকরি ছিল শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে শেখানোরও একটি সুযোগ। তিনি বলেন, বাইবেল ও জপমালা নিয়ে একটি স্যুটকেস সঙ্গে করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে যিশু ও তাঁর অলৌকিক ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেইজি কোরআনে ঈসা (আ.)-এর উল্লেখ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে, শিশুকালে তাঁর কথা বলার বর্ণনা ডেইজিকে বিস্মিত করেছিল বলে তিনি সাক্ষাৎকারে জানান। তাঁর দাবি, এই বিষয়টি তিনি গির্জায় শেখেননি। এরপর খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলাম সম্পর্কে আরও জানতে শুরু করেন ডেইজি। ঈশ্বরের ধারণা এবং যিশুর ভূমিকা নিয়ে দুই ধর্মের ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ইসলামের তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ধারণায় স্পষ্টতা খুঁজে পান বলে জানান। ইসলামে ঈসা (আ.)-কে সম্মানিত নবী হিসেবে মানা হয়। ডেইজির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর প্রেরিত নবী হিসেবে বোঝার পর তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। খ্রিষ্টধর্ম শেখানোর উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত নিজের বিশ্বাস নিয়ে অনুসন্ধান ও আত্মবিশ্লেষণের যাত্রায় রূপ নেয়। তাঁর ধর্মান্তরের বিবরণটি ব্যক্তিগত সাক্ষ্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ‘এবি ২০১৭’ শীর্ষক একটি বিলে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি কার্যকর করেন। সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। আইনসভার বিভিন্ন ধাপে অনুমোদনের পর গত ৩০ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার উভয় কক্ষে বিলটি পাস হয় এবং পরবর্তীতে গভর্নরের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনের আওতায় ইসলামি চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা হিসেবে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এই সরকারি স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে, ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা আদালত বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে। আইনে ঈদকে বিচারিক ছুটির তালিকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে, ফলে ঈদের দিন আদালত বা বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে এই আইনে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘অনুমোদিত অনুপস্থিতি’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে নিজেদের সিদ্ধান্তে ঈদের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও উৎসব পালনের বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত মেনে সরকারি কর্মীরা ঈদ উপলক্ষে আট ঘণ্টার ছুটির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের অবকাশ বা ব্যক্তিগত ছুটি থেকে সমন্বয় করা যাবে। অ্যাসেম্বলি সদস্য আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন এবং সিনেটর আইশা ওয়াহাবসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে অনন্য স্বীকৃতি পেল, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় থানার সামনে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে ৪০ বছর বয়সী সাইখুন খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বারোদা মেও থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বারাওয়াস গ্রামের বাসিন্দা সাইখুন খান নিজের মোটরসাইকেলের জন্য টায়ার কিনতে বারোদা মেও বাজারে যাচ্ছিলেন। সকাল প্রায় ১০টার দিকে তিনি বারোদা মেও থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত হর্ষ মূর্তিকার তাকে থামায়। এরপর তাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে পাথর দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। গুরুতর আহত সাইখুনকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আলওয়ারের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত হর্ষকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে হাজির করে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, সাইখুন ও অভিযুক্তের মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে এবং তার মনোরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করার কথা জানানো হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারণ থাকার অভিযোগ তুলেছে। সাইখুনের ভাই ইরশাদ খানের দাবি, তার ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পরিবারের সন্দেহ, সাইখুনের দাড়ি ও টুপি দেখে তাকে মুসলিম হিসেবে শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ; তদন্তে ধর্মীয় পরিচয় হত্যার কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ অবশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ নাকচ করেছে। আলওয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলার স্থানটি থানার ভেতর থেকে সরাসরি দেখা যায় না এবং চিৎকার শুনে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বারোদা মেও থানার সামনে এবং আলওয়ার জেলা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভের সময় আলওয়ার-ভরতপুর সড়কেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে ভারতের বিরোধী কংগ্রেস নেতারাও পুলিশের ভূমিকা ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘটনার তদন্তের প্রমাণ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত। সাইখুন খানকে থানার সামনে পাথর দিয়ে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তারও হয়েছে। কিন্তু হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো দুটি ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে—পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অভিযুক্তের সম্ভাব্য মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আর পরিবারের অভিযোগ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাকে টার্গেট করা হতে পারে। তদন্ত ও মেডিকেল/আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ইসলাম গ্রহণের আগে নারীর অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শারিফা কার্লো। নিজের লেখা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কিশোর বয়সে এমন একটি গোষ্ঠীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, যারা তাঁকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়িয়ে মুসলিম নারীদের মধ্যে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাঁর নিজের বিশ্বাসই বদলে যায়। ১৯৮৫ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। শারিফা কার্লোর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি যখন কিশোরী ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়ার পরামর্শ দেন। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশরে দূতাবাসে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম নারীদের সঙ্গে কাজ করা এবং তাঁদের তৎকালীন নারী অধিকার আন্দোলনের দিকে উৎসাহিত করা। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে গিয়ে শুরুতে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মটির দুর্বলতা খুঁজে বের করা। কিন্তু তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পড়াশোনা যত এগোয়, ইসলামের বার্তা তাঁকে তত বেশি আকৃষ্ট করতে থাকে। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বক্তব্য তাঁর কাছে যুক্তিসংগত মনে হতে শুরু করে। ইসলাম সম্পর্কে নিজের ধারণা যাচাই করতে তিনি খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব নিয়েও পড়াশোনা করেন। তাঁর প্রকাশিত বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অধ্যাপকের কাছ থেকে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস ও বাইবেলের বিভিন্ন ভাষার উৎস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। প্রায় তিন বছর ধরে ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনার পর এক মুসলিম ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর নিজের লেখায় উল্লেখ রয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর পরিবারের প্রতিক্রিয়াও ছিল কঠিন বলে জানিয়েছেন শারিফা। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় তাঁর বাবা জার্মানিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের খবর জানালে বাবা তাঁকে জার্মানিতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেন এবং ফিরে না এলে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এই বক্তব্যের অনুরূপ বিবরণ তাঁর ২০০৭ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক লেখাতেও রয়েছে। হিজাব পরার বিষয়টিও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিরোধের কারণ হয়ে ওঠে বলে শারিফা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা তাঁকে একটি ফেরারি গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, তবে শর্ত ছিল তাঁকে হিজাব খুলতে হবে। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনার বিবরণ পরবর্তী বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও তাঁর জীবনের গল্প নিয়ে প্রকাশিত লেখাতেও এসেছে। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর পড়াশোনার পথও সহজ ছিল না বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে শারিফা দাবি করেন, হিজাব পরার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে এসব ঘটনার স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক নথি সহজে পাওয়া যায় না, তাই বিষয়গুলো তাঁর নিজের বর্ণনা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে শারিফা কার্লো আল আন্দালুসিয়া নামে তিনি ইসলাম নিয়ে লেখালেখি ও বক্তৃতার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর নামে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখায় ইসলামি বিশ্বাস, হিজাব, রমজান ও মুসলিম জীবনের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২৫ সালে কুয়েত টাইমসেও তাঁর নামে রমজানের বিভিন্ন ঐতিহ্য নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ইসলাম গ্রহণের গল্পের মূল অংশটি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বিভিন্ন ইসলামি প্রকাশনা ও বক্তৃতার মাধ্যমে প্রচারিত হয়ে আসছে। তবে গোষ্ঠীটি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠান ছিল, সেটির সরকারি পরিচয় বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে শারিফা কার্লোর নিজের বক্তব্যকেই প্রধান উৎস হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
পবিত্র মক্কা আল-মুকাররমা ও মদিনা আল-মুনাওয়ারার নিরাপত্তার প্রতি কোনো ধরনের হুমকি কিংবা সেখানে হামলার চেষ্টা করা হলে বিশ্বের মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিবৃতিতে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মক্কা ও মদিনা বিশ্ব মুসলিমের কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত ও পবিত্রতার স্থান। এই দুই নগরী মুসলিম উম্মাহর আবেগ, বিশ্বাস ও ভালোবাসার কেন্দ্র। ফলে সেখানে কোনো ধরনের হামলা, আগ্রাসন কিংবা নিরাপত্তার প্রতি হুমকি গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রতি হুমকি এবং যেকোনো হামলার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান কায়কোবাদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে পবিত্র ভূমির মর্যাদা রক্ষায় মুসলমানরা জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকবে। ধর্মমন্ত্রী পবিত্র আল-হারামাইনের দুই ইমামের বক্তব্যের প্রতিও দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা পুরো মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত দায়িত্ব। পবিত্র ভূমির বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন বা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগণের অবস্থান তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশ আপসহীন। একই সঙ্গে বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্র ও মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে মক্কা আল-মুকাররমা ও মদিনা আল-মুনাওয়ারার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা হামলার অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করার জন্য মুসলিম রাষ্ট্র ও জনগণের ঐক্য প্রয়োজন। বিবৃতির শেষাংশে পবিত্র দুই নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সংহতি ও কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন ধর্মমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার মিক্সড মার্শাল আর্টস ফাইটার অ্যাম্বার লেইব্রক ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেজান্টনে মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বে-তে ২১ জুলাই তিনি শাহাদাহ পাঠ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওই মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার। এরপর থেকে তাকে নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নিতে দেখা গেছে। অ্যাম্বার লেইব্রক ইস্ট বে এলাকায় বেড়ে ওঠেন এবং পেশাদার এমএমএ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি বেলাটর এমএমএ ও প্রফেশনাল ফাইটার্স লিগে প্রতিযোগিতা করেছেন। মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বের তথ্য অনুযায়ী, লারিসা পাচেকোর সঙ্গে একটি লড়াইয়ের পর তিনি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার প্রশিক্ষক ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্য মুজিব হামিদ তাকে ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয় অ্যাম্বারের মধ্যে। ২০২৩ সালের ২১ জুলাই তিনি মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বেতে শাহাদাহ পাঠ করেন। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন তিনি। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনেও তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে। ইসলাম গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অ্যাম্বার জানান, জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে গেছে এবং নিজের দ্বীন খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। তিনি আরও জানান, জীবনের ঘটনাগুলোকে নতুনভাবে দেখার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নিতে শুরু করেন। কেন্দ্রটির বিভিন্ন কার্যক্রমেও পরে তাকে যুক্ত হতে দেখা যায়। নারীদের আত্মরক্ষা ও বক্সিং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কয়েকটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষক হিসেবেও অংশ নিয়েছেন। নিজের আধ্যাত্মিক যাত্রা নিয়ে অ্যাম্বার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও লিখেছিলেন, জীবনের সবকিছু নিজের নির্ধারিত সময়ে ঘটবে এমন নয়, বরং আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের ওপর তিনি বিশ্বাস রাখতে শিখেছেন। তার এই বক্তব্য ইসলাম গ্রহণের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার নামে বিভিন্ন দীর্ঘ বক্তব্যের সবগুলো হুবহু উদ্ধৃতি হিসেবে নিশ্চিত করা যায় না। তাই তার ইসলাম গ্রহণ, শাহাদাহ পাঠ এবং পরবর্তী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টের নিশ্চিত তথ্য ও সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনকেই নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইসলাম গ্রহণের পরও অ্যাম্বার তার পেশাগত পরিচয় ধরে রেখেছেন। ক্রীড়া ও ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি নতুন ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে তার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটিতেও আলোচনায় এসেছে। মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের চিত্র নিয়ে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২০ শতাংশই শৈশবে অন্য ধর্ম বা ধর্মহীন পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। পরবর্তীতে তারা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। জরিপের আওতাভুক্ত ১৩টি দেশের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের এই হার যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। গবেষণার তথ্যমতে, নতুন ধর্মান্তরিত হওয়া এসব মুসলিমের ১৭ শতাংশ শৈশবে অন্য কোনো ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন, যাদের একটি বড় অংশই এসেছেন খ্রিষ্টান পরিবার থেকে। বাকি ৩ শতাংশের শৈশবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় ছিল না। জীবনের নানা পর্যায়ে ইসলামের একত্ববাদ, প্রার্থনার নিয়ম, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা ধীরে ধীরে এই ধর্মটি গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের ইসলাম গ্রহণের যে দাবিটি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ নির্দিষ্ট করে সেই বার্ষিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত না করলেও দীর্ঘমেয়াদে ধর্ম পরিবর্তনের এই বৃহৎ ও ধারাবাহিক চিত্রটি তুলে ধরেছে। তবে গবেষণায় এ-ও বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে মুসলিম জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। ইসলাম গ্রহণের পাশাপাশি ধর্ম ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও সেখানে রয়েছে, যা অনেকটাই পরস্পরকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। বরং দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামো সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান মার্কিন মুসলিম সমাজের এক-পঞ্চমাংশই যে নতুন করে ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন, তা সেখানকার মুসলিম কমিউনিটির একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবেই স্বীকৃতি পাচ্ছে।
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিট নিয়ে নতুন একটি আবাসিক প্রকল্পে আগ্রহীদের মালিকানা নিতে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহ নামের এই প্রকল্পটি রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিংয়ের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন একটি কোম্পানি। প্রকল্পটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিটে বিলাসবহুল আবাসনের পাশাপাশি ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের হোটেলধাঁচের সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিং ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রকল্পটির ১২০টি ইউনিটের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের নিবন্ধন শুরু করেছে। প্রকল্পটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও মালিকানার আগ্রহ জানাতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখনো ইউনিটগুলোর বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। নিবন্ধনের পর সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে ইউনিটের আকার, মূল্য এবং পেমেন্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রকল্পটির অবস্থান মসজিদে নববীর একেবারে পাশে রুয়া আল মদিনাহ উন্নয়ন এলাকার মধ্যে। প্রকল্পের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, কিছু আবাসিক ইউনিট থেকে মসজিদে নববীর আংশিক দৃশ্যও দেখা যাবে। মদিনার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত নকশার সঙ্গে আধুনিক বিলাসবহুল আবাসনের সমন্বয় করা হয়েছে। ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহকে মদিনার প্রথম ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্সেস প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ১২০টি আবাসিক ইউনিটের পাশাপাশি একই কমপ্লেক্সে ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের হোটেল সুবিধাও রয়েছে। বাসিন্দাদের জন্য ফেয়ারমন্টের আতিথেয়তা সেবা এবং বিভিন্ন রেসিডেন্ট সার্ভিস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিকরা ফেয়ারমন্টের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে কনসিয়ার্জ ও অন্যান্য হোটেলধাঁচের সেবা রয়েছে। এছাড়া অ্যাকোরের মালিকানা সুবিধা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫ হাজার ৬০০টির বেশি হোটেল ও রিসোর্টে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বিদেশি মুসলিমদের জন্য মালিকানার সুযোগ। সৌদি আরবের নতুন নন-সৌদি প্রপার্টি মালিকানা আইনে মক্কা ও মদিনা শহরে বিদেশি ব্যক্তিদের সম্পত্তি মালিকানা মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি নাগরিক নন এমন মুসলিম ব্যক্তিরা নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে মদিনায় সম্পত্তি মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই সুযোগ সৌদিতে বসবাসকারী মুসলিমদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে নির্দিষ্ট প্রকল্প ও ভৌগোলিক এলাকার নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। সৌদি আরবের নন-সৌদি প্রপার্টি মালিকানা ব্যবস্থা ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় সৌদির বাইরে বসবাসকারী নন-সৌদি নাগরিকরাও নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পত্তি মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মক্কা ও মদিনায় মালিকানার ক্ষেত্রে মুসলিম হওয়ার শর্ত রয়েছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। মদিনায় বিদেশি মুসলিমদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ তৈরি হলেও শহরের যেকোনো স্থানে যেকোনো সম্পত্তি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নন-সৌদি মালিকানা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা এবং সরকারের নির্ধারিত নিয়মের আওতায় রয়েছে। তাই কোনো বিদেশি ক্রেতাকে চূড়ান্তভাবে সম্পত্তি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মালিকানা অধিকার এবং সরকারি নিবন্ধনের শর্ত যাচাই করতে হবে। ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিষয়টি নিশ্চিত, তা হলো ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিটের জন্য আগ্রহ নিবন্ধন শুরু হয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো নির্দিষ্ট মূল্যকে প্রকল্পটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিং সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের একটি কোম্পানি এবং মদিনায় মসজিদে নববীর আশপাশে বৃহৎ নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য মদিনায় হোটেল, আবাসিক স্থাপনা, বাণিজ্যিক এলাকা, জনপরিসর ও পর্যটন অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন। মসজিদে নববীর কাছাকাছি একটি আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডের আবাসিক ইউনিটের মালিকানার সুযোগ চালু হওয়ায় প্রকল্পটি সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি মুসলিম ক্রেতাদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে এটি মূলত আগ্রহ নিবন্ধনের পর্যায়ে রয়েছে। ইউনিটের চূড়ান্ত দাম, বিক্রয় প্রক্রিয়া, পেমেন্ট পরিকল্পনা এবং মালিকানার বিস্তারিত শর্ত পরবর্তী পর্যায়ে প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী যেসব মুসলিম সুদ বা রিবা এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, গাড়ি কেনা কিংবা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে সুদ না দিয়েও এসব সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামি স্কলার ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামতেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কিছু বিকল্প ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি আর্থিক চুক্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই যে অবশ্যই সুদ দিতে হবে, এমন নয়। যেসব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সাধারণ কেনাকাটার ওপর সুদ না দেওয়ার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার জন্য গ্রেস পিরিয়ড থাকে। তবে সব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড থাকা বাধ্যতামূলক নয় এবং কার্ডভেদে শর্ত আলাদা হতে পারে। অর্থাৎ, কেউ যদি এক মাসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ১ হাজার ডলারের কেনাকাটা করেন এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো ১ হাজার ডলার পরিশোধ করেন, তাহলে গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য থাকা অবস্থায় ওই কেনাকাটার জন্য সুদ দিতে হয় না। কিন্তু পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করে শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে সুদ আরোপ হতে পারে। ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রেও সাধারণ কেনাকাটার মতো নিয়ম প্রযোজ্য নয় এবং সেখানে দ্রুত সুদ শুরু হতে পারে। এই বাস্তবতার সঙ্গে ইসলামি ফিকহের কিছু মতামতেরও মিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম জুরিস্টস অব আমেরিকা বা এএমজেএর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রয়োজনের বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ছাড় রয়েছে। ব্যবহারকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন এবং সুদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি করবেন না। এএমজেএর আরেকটি সিদ্ধান্তেও গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করার শর্তে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতির কথা বলা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডকে ইসলামি স্কলাররা সুদমুক্ত বা শরিয়াহসম্মত বলে ঘোষণা করেছেন। বরং বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ। বিশেষ করে যে চুক্তিতে বিলম্ব হলে সুদ দিতে হয়, সেটি গ্রহণ করা নিয়ে আলেমদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই কোনো কার্ড নেওয়ার আগে তার চুক্তি, সুদের শর্ত, গ্রেস পিরিয়ড, ক্যাশ অ্যাডভান্সের নিয়ম এবং বিলম্বিত পেমেন্টের শর্ত ভালোভাবে দেখা জরুরি। গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন ক্রেতাদের সামনে কিছু বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা ও ডিলার সময় সময় নির্দিষ্ট গাড়ি, নির্দিষ্ট মেয়াদ ও নির্দিষ্ট যোগ্যতার ক্রেতাদের জন্য শূন্য শতাংশ বা ০ শতাংশ এপিআর ফাইন্যান্সিং অফার করে। তবে এ ধরনের অফার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ভালো ক্রেডিট স্কোর, নির্দিষ্ট গাড়ির মডেল, ডাউন পেমেন্ট, ঋণের মেয়াদ কিংবা অন্য কোনো শর্ত থাকতে পারে। ইসলামি ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মঞ্জের কাহফের প্রকাশিত ফতোয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রে ০ শতাংশ গাড়ি ফাইন্যান্সিং নিয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া যায়। একটি ক্ষেত্রে তিনি এমন গাড়ি কেনার ব্যবস্থা অনুমোদনযোগ্য বলেছেন, যেখানে ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে সুদের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই এবং ডিলার নিজস্ব খরচের অংশ হিসেবে অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করে। তার ব্যাখ্যায় মূল বিষয় হলো ক্রেতার সঙ্গে করা চুক্তির প্রকৃতি। আরেকটি ফতোয়ায় ড. মঞ্জের কাহফ যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ফাইন্যান্সিং এড়িয়ে চলার কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন গাড়ি ডিলারের কাছ থেকে ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে বাজারের অফার এবং চুক্তির শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির অফার শরিয়াহসম্মত কি না, তা চুক্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ০ শতাংশ এপিআর লেখা থাকলেই কোনো গাড়ির ফাইন্যান্সিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। চুক্তিতে বিলম্বের সুদ, অতিরিক্ত চার্জ, মালিকানা, লিজের কাঠামো এবং অন্যান্য শর্ত কী আছে, তা দেখতে হবে। একইভাবে কোনো ডিলার যদি গাড়ির দাম বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিস্তিতে বিক্রি করে, সেটি সরাসরি সুদভিত্তিক ঋণের সমান কি না, তা চুক্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে। প্রচলিত মর্টগেজের পরিবর্তে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো কাঠামো ব্যবহার করে থাকে। ডিমিনিশিং মুশারাকায় সাধারণভাবে ক্রেতা এবং ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাড়ির মালিক হন। ক্রেতা মাসিক পেমেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ কিনে নেন। শেষ পর্যন্ত বাড়ির সম্পূর্ণ মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে আসে। মুরাবাহায় ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়ি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে একটি নির্দিষ্ট মোট মূল্যে বিক্রি করে। আর ইজারায় লিজ বা ভাড়া ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকতে পারে। বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে এএমজেএর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনার পর এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নির্দিষ্ট শর্তে শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের পর্যালোচনায় মুরাবাহা, ডিমিনিশিং মুশারাকা এবং ইজারার মতো চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরও সাম্প্রতিকভাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়া কোম্পানির ডিমিনিশিং পার্টনারশিপ বা ধীরে ধীরে মালিকানা হস্তান্তরভিত্তিক হোম ফাইন্যান্সিং চুক্তি পর্যালোচনা করে সেটিকে ইসলামি আইনের অধীনে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছে। তবে কমিটি একই সঙ্গে স্বাধীন শরিয়াহ তদারকি বোর্ড রাখার পরামর্শ দিয়েছে এবং চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এএমজেএর আগের পর্যালোচনায় মুবরাক মর্টগেজের মুরাবাহা চুক্তিকেও শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। তবে একই প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট করেছে, কোনো কোম্পানির চুক্তি পরিবর্তিত হলে আগের ফতোয়ার অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ইসলামিক ফাইন্যান্সের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই সেটির বর্তমান চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ধরে নেওয়া যাবে না। এখানে ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামিক ফাইন্যান্স মানে শুধু প্রচলিত সুদের নাম পরিবর্তন করা নয়। প্রকৃত মালিকানা কার, সম্পদের ঝুঁকি কে বহন করছে, লাভ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, বিলম্ব হলে কী হচ্ছে, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব কার এবং চুক্তি শেষ হলে সম্পদের মালিকানা কীভাবে হস্তান্তর হবে, এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য বাস্তব কিছু পথ রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করে সুদ এড়ানোর সুযোগ কিছু ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞ শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছেন। গাড়ির ক্ষেত্রে প্রকৃত ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিং কিংবা চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী শরিয়াহসম্মত বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আর বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মুরাবাহা, ইজারা ও ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে চালু রয়েছে। তবে এগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য আর্থিক কিংবা ধর্মীয় সিদ্ধান্তের নির্দেশনা নয়। একজনের জন্য যে ব্যবস্থা উপযুক্ত হতে পারে, অন্যজনের জন্য তা নাও হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামি ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং চুক্তির সামান্য পরিবর্তনেও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে। তাই সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন কেউ ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পুরো চুক্তি ভালোভাবে পড়ুন, মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে তা হিসাব করুন, সব ধরনের ফি ও জরিমানার শর্ত দেখুন এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য ও বিশ্বস্ত ইসলামি স্কলার বা ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থার তথ্যও যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রস্তাবিত মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ৮ হাজার বর্গমিটার জমিতে প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যাওয়ার পর আন্দোলন ও ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে। মেস্ত্রের ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত করাতকলের জমিতে মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি। জমিটি কিনে সেখানে একটি বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া ভেনিসের নতুন কেন্দ্র-ডানপন্থি মেয়র সিমোনে ভেনতুরিনি প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে দেন। মেয়রের বক্তব্য, প্রস্তাবিত স্থাপনাটি আকারে অনেক বড় এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক একীভূত হওয়ার বিষয়েও আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। ইতালীয় ভাষা শেখা, নারীদের সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর মতো বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। মেয়রের অবস্থানে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বলছেন, ভেনিস ও মেস্ত্রে এলাকায় বসবাসরত মুসলিমদের জন্য একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত নামাজের স্থান প্রয়োজন। তাদের দাবি, আগের প্রশাসনের সময় থেকেই ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকার জমিটি ধর্মীয় কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আলোচনায় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য বলছে, আগের পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কমিউনিটির প্রতিনিধি প্রিন্স হাওলাদার জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামতে পারেন। এমনকি ধর্মঘটের মাধ্যমে ফিনক্যানতিয়েরি শিপইয়ার্ডসহ স্থানীয় পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রভাব ফেলার কথাও তিনি বলেছেন। ভেনিস, মেস্ত্রে ও মারঘেরার বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কারণে এমন কর্মসূচি স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কমিউনিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিআইএল ধর্মঘটের এমন উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করলেও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের দাবিতে এ ধরনের ধর্মঘটকে সমর্থন করছে না। এদিকে বিরোধের মধ্যেই ৩০ আগস্ট দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র ও বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রস্তাবিত মসজিদের আকার ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। প্রকল্পের নকশা আরও ছোট করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। মসজিদ প্রকল্পটি নিয়ে ইতালির রাজনীতিতেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দ্য লিগ দলের নেতা মাত্তেও সালভিনি মসজিদ নির্মাণের দাবিতে ধর্মঘটের হুমকির সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে কেন্দ্র-বামপন্থি রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ বাংলাদেশি মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভেনিস অঞ্চলে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশিরা রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ক্যাফে এবং শিল্প খাতসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। মেস্ত্রের প্রস্তাবিত মসজিদ তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অবস্থান, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সূত্র: বিডিনিউজ ২৪
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের মধ্যে শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। প্রচলিত মর্টগেজের বিকল্প হিসেবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক শরিয়া ভিত্তিক লোন নিয়ে কাজ করে তার মধ্যে ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রচলিত সুদভিত্তিক লোনের পরিবর্তে লিজ বা ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। ইজারার একটি প্রচলিত কাঠামো হলো ‘লিজ টু ওন’ বা ‘লিজ টু পারচেজ’, যেখানে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন সম্পত্তি গ্রাহকের কাছে লিজ দেওয়া হয় এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকে। প্রচলিত মর্টগেজে একজন ক্রেতা ব্যাংক বা লেন্ডারের কাছ থেকে অর্থ লোন নিয়ে বাড়ি কেনেন এবং সেই টাকার ওপর ইন্টারেস্ট পরিশোধ করেন। অন্যদিকে, ইজারা কাঠামোতে সম্পত্তির মালিকানা ও লিজের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মাসিক পেমেন্ট নির্ধারণ করা হয়। তবে ইজারা ফাইন্যান্সের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স এবং প্রচলিত মর্টগেজের পার্থক্য সম্পর্কে ইজারা লোন নিয়ে কাজ করা ফাইন্যান্সিং অফিসার খন্দকার জামিল বলেন, “রেগুলার মর্টগেজে যখন আপনি বাড়ি কেনেন, ওই বাড়িতে আপনার ইন্টারেস্ট ইনভলভ থাকে। অর্থাৎ আপনি ধরেন ৫০০,০০০ ডলার লোন নিলেন, প্রতি মাসে আপনাকে যে পেমেন্ট করতে হবে, তার একটি অংশ যাবে ৫০০,০০০ ডলারের লোনের অংশ হিসেবে, আর বাকিটা যাবে ইন্টারেস্ট হিসেবে।” ইজারা পদ্ধতি সম্পর্কে খন্দকার জামিল বলেন, “ইজারা ইসলামী ফাইন্যান্স হচ্ছে লিজ টু ওন পদ্ধতি। এখানে ইন্টারেস্ট বিষয়টি ইনভলভ থাকে না। এটা কাজ করে এরকম যে ইজারা একটা ট্রাস্ট গঠন করে, বাড়ির মালিকানা থাকে ট্রাস্টের নামে এবং আপনি একজন টেন্যান্ট হিসেবে বাড়িতে বসবাস করেন।” তিনি আরও বলেন, “প্রতি মাসে আপনি যে পেমেন্ট দেবেন, পেমেন্টের একটি অংশ লোনের অংশ হিসেবে যাবে আর বাকিটা রেন্ট হিসেবে যাবে। এখানে আপনি ইন্টারেস্ট পেমেন্ট করছেন না। এখানে আপনি রেন্টের মাধ্যমে প্রফিটটা পে করছেন।” ইজারা কাঠামোর ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা, লিজের শর্ত এবং মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চুক্তির ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সাধারণ ইজারা নীতিতে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বা লেসর সম্পত্তির মালিক হিসেবে সেটি গ্রাহকের কাছে লিজ দেয়। লিজ টু ওনকাঠামোয় পরবর্তীতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকে। খন্দকার জামিলের ব্যাখ্যায়, দুই ব্যবস্থার মূল পার্থক্য হলো প্রচলিত মর্টগেজে ঋণের ওপর ইন্টারেস্ট পরিশোধ করা হয়, আর ইজারা কাঠামোয় সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য রেন্টভিত্তিক পেমেন্টের মাধ্যমে ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ইজারা ফাইন্যান্সিং পণ্য শরিয়াহসম্মত কি না, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চুক্তির সম্পূর্ণ কাঠামো, মালিকানা ব্যবস্থা, রেন্ট, প্রফিট এবং অন্যান্য শর্ত আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষামূলক সফরে মসজিদে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ফেডারেল মামলায় নাম এসেছে মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর। ২০২৫ সালের শরতে স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে নেওয়া হয়েছিল। ওই সফরকে কেন্দ্র করে পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী। মামলায় বিলুর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। ‘কমিউনিটি মেম্বার্স ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামে একটি গ্রুপের সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবক ও বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী মামলাটি করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ওই সফরে শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়া হয়, মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের ইসলামি ধর্মীয় যুব কর্মসূচির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন ধারণার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছিল যে ইসলাম বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সফরের সময় শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা এবং অভিভাবকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া সেসব ছবি অনলাইনে প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মামলায় জাহরা বিলুর নাম আসার কারণ হলো, তিনি ওই সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বিলু কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা CAIR-এর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক। নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, তাকে একজন আমেরিকান মুসলিম নারী হিসেবে তার নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিলু মামলাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, পাবলিক স্কুলে ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু নিরপেক্ষতার অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে দূরে রাখা নয়। তিনি বলেন, মসজিদ পরিদর্শন, মুসলিমদের নামাজ দেখা কিংবা ইসলাম সম্পর্কে শেখা আর শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করা এক বিষয় নয়। পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, ধর্ম বিষয়ে স্কুলের শিক্ষা একাডেমিক হতে হবে, ধর্মীয় আচার পালনের উদ্দেশ্যে নয়। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার বা অবমূল্যায়ন করাও স্কুলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা চলমান থাকায় ডিস্ট্রিক্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি এবং জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, মামলাকারীরা বলছেন, সফরটি শুধু ধর্ম সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং ইসলামকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাবলিক স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। তবে সফরে অংশ নেওয়া অন্তত একজন শিক্ষার্থী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, এটি ছিল ধর্ম সম্পর্কে একটি বৃহত্তর শিক্ষামূলক ইউনিটের অংশ, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানানো হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে শেখা, কাউকে ধর্মান্তরিত করা নয়। ফলে মামলাটিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন দাঁড়িয়েছে, পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সম্পৃক্ত করার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কোথায়। ফেডারেল আদালতে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমে সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিমদের অজুর সময় এবং এশীয় সম্প্রদায়কে চাল ধোয়ার ক্ষেত্রে পানির অপচয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফওয়াট'। 'ওয়াটার এফিসিয়েন্সি ইন ফেইথ অ্যান্ড ডাইভার্স কমিউনিটিজ' শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাউথ স্টাফোর্ডশায়ার ওয়াটার, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিনিটি অনুষদ এবং কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেমব্রিজে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে মুসলিমদের নামাজের আগে অজুর জন্য মাত্র এক লিটার পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। অফওয়াটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনেকেই কল ছেড়ে অজু করতে গিয়ে ১২ লিটার পর্যন্ত পানি খরচ করেন। সংস্থাটির মতে, অজুর সময় এক লিটারের বোতল ব্যবহার করলে প্রতিদিন একজনের প্রায় ৫৫ লিটার পর্যন্ত পানি সাশ্রয় হতে পারে। এই প্রচারণার মাধ্যমে কেমব্রিজে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ৯০০ লিটার পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এশীয়দের চাল ধোয়ায় পানি সাশ্রয়ের কৌশল শেখাতে করদাতাদের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড খরচ করে যুক্ত করা হয় ২০১৪ সালের মাস্টারশেফ বিজয়ী শেফ পিং কুম্বসকে। তিনি এক ভিডিও বার্তায় জানান, অনেকেই পরিষ্কার পানি বের না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ-সাতবার চাল ধুয়ে থাকেন, যা আদতে অপ্রয়োজনীয়। তবে অফওয়াটের এই অভিনব উদ্যোগটি ব্রিটেনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসে পরিবর্তনের উপদেশ দেওয়ার চেয়ে পানি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর উচিত নিজেদের ত্রুটিপূর্ণ পাইপ ও অবকাঠামো মেরামতের দিকে নজর দেওয়া। গত জুলাইয়ে গ্রিনপিস ইউকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিদিন ছিদ্রযুক্ত পাইপের কারণে প্রায় ২.৮৭ বিলিয়ন লিটার পানি অপচয় হয়, যা দিয়ে এক হাজার ১৫০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল ভর্তি করা সম্ভব। ক্যাবিনেট অফিসের শ্যাডো মিনিস্টার মাইক উড এই প্রকল্পের পেছনে করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করে জানান, মানুষ এমনিতেই পানির বিল বৃদ্ধিতে চাপে আছে; সেখানে এমন প্রকল্পে জনগণের টাকা খরচ করা মোটেও যৌক্তিক নয়। তীব্র বিতর্কের মুখে অফওয়াটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ায় জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যেই একাধিক ধর্মীয় গোষ্ঠী ও দাতব্য সংস্থার সঙ্গে এই পাইলট প্রকল্পটি চালানো হয়েছিল। এটি কারও ওপর বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেয়নি বা ধর্মীয় রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপ করেনি। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে পানির ব্যবহার কমাতে গত জুন মাসে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ নামে একটি পৃথক প্রচার অভিযানও শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।