২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হলেন গ্রিসের নারী
গ্রিসের এক দম্পতি ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করে রাখা ভ্রূণ ব্যবহার করে কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। এর কয়েক মাস আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের ২১ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছিল। সন্তানের মৃত্যুর পর নতুন করে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও গ্রিসের আইনে নারীদের আইভিএফের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর হওয়ায় তাদের সামনে ছিল সময়ের কঠিন চাপ।
৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপতি-তজেলেপি সেপ্টেম্বরের শুরুতে এথেন্সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্য ব্যবহৃত ভ্রূণটি ২০০৪ সালের ১৭ মার্চ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভ্রূণটি সংরক্ষণের পর থেকে শিশুটির জন্ম পর্যন্ত সময় ছিল ২২ বছর পাঁচ মাসেরও বেশি।
ক্রিস্টিনা ও তার স্বামী কনস্তান্তিনোস রাপতিকে প্রায় ৩০ বছর আগে পরিচয়ের পর বিয়ে করেন। সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও তিন বছর সফল না হওয়ায় তারা আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৪ সালে প্রথমবারের চেষ্টাতেই ক্রিস্টিনা গর্ভবতী হন এবং একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তাদের ছেলে জর্জ একই ভ্রূণ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের একজন ছিল।
তবে প্রসবের সময় জটিলতার কারণে জর্জকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দিতে হয়। চিকিৎসকেরা তখন ক্রিস্টিনাকে ভবিষ্যতে আরেকটি সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার জরায়ুর গঠনসংক্রান্ত কিছু উদ্বেগের কারণে দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তাদের জানানো হয়। ফলে আরও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দম্পতি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে আইভিএফের সময় তৈরি হওয়া অবশিষ্ট ১২টি ভ্রূণ তারা ক্লিনিকে সংরক্ষণ করে রাখেন।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ২১ বছর বয়সী জর্জ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েন ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোস। কিন্তু সেই সময়ই তারা সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর কথা আবার ভাবতে শুরু করেন।
ক্রিস্টিনা বলেন, ছেলেকে হারানোর পর তারা মনে করেছিলেন, আরেকটি সন্তান হয়তো তাদের জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার শক্তি দেবে। তার স্বামীও মনে করতেন, জর্জ চাইত তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক এবং পরিবার হিসেবে সুখী হওয়ার চেষ্টা করুক।
কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি চাপ তৈরি হয়। গ্রিসের আইনে নারীদের সহায়ক প্রজনন বা আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ বয়স ৫৪ বছর। ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় সহায়ক প্রজনন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন হয়। ২০২২ সালের আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রিসে এই বয়সসীমা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫৪ করা হয়েছিল।
ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় ক্রিস্টিনাকে। ২৩ ডিসেম্বর একটি ভ্রূণ তার জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক কনস্তান্তিনোস পান্তোসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ভ্রূণটি ২০০৪ সালের একই ব্যাচের ছিল, যে ব্যাচ থেকে জর্জও জন্মেছিল।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভধারণের পুরো সময়টি প্রত্যাশার তুলনায় ভালোভাবেই এগিয়েছে। ৩৯ সপ্তাহ দুই দিন পর ক্রিস্টিনা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪৯ কেজি। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়ার এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাহিত্যে এর আগে ১৮ বছর তিন মাস এবং ১৭ বছর সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফল জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত ছিল।
শিশুটির জন্মের পর পরিবারটির দীর্ঘ শোকের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ক্রিস্টিনা বলেন, মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তে তাদের মনে হয়েছে যেন আবার আলো ফিরে এসেছে। তার স্বামীর ভাষায়, এই সন্তান তাদের জীবনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দিয়েছে।
তবে মেয়ের জন্মের পরও তাদের আরেকটি ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পথে বাধা রয়েছে। তাদের আরও নয়টি ভ্রূণ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে এবং তারা মেয়েটির জন্য একজন ভাই বা বোন চান। কিন্তু গ্রিসের বর্তমান বয়সসীমার কারণে ক্রিস্টিনা দেশটিতে আর আইভিএফ করতে পারবেন না। তাই আইন পরিবর্তন না হলে তারা বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রিসের আইভিএফ আইন পরিবর্তনের দাবিও উঠেছে। চিকিৎসক পান্তোস মনে করেন, বয়সসীমা প্রয়োজন হলেও তা শুধু জন্মতারিখের ওপর নির্ভর করে কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, চিকিৎসাগত পরিস্থিতি এবং পারিবারিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
গ্রিসে সন্তান জন্মদানের বয়সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রথমবার মা হওয়ার গড় বয়স ছিল ৩১ দশমিক ২ বছর, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ছিল ২৯ দশমিক ৯ বছর।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বেশি বয়সে গর্ভধারণের সঙ্গে বাড়তি ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণেই গ্রিসে ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন ও চিকিৎসাগত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোসের কাছে নতুন সন্তান তাদের হারানো ছেলের বিকল্প নয়। বরং ছেলেকে হারানোর পরও জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে তারা মেয়ের জন্মকে দেখছেন।
সূত্র: Newsweek
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreলন্ডন থেকে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে হ্রদের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম (২০) নামে এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৬ সেপ্টেম্বর এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাঈম লন্ডন থেকে দুই বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আরটিভি অনলাইন জানিয়েছে, একটি লেকের পাশে ওজু করার সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান তিনি। নাঈম সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে। নাঈম পানিতে পড়ে যাওয়ার পর পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তিনি পানিতে নেমে নাঈমকে খুঁজতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ লেকে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে।y প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধানের পর নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওয়েলসের একটি হ্রদে ২০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ অনুসন্ধান চালানোর কথা জানানো হয়েছিল। নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। নাঈমের মামা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পরিবার জানতে পারে স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে। খবর পাওয়ার পর নাঈমের বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পূর্ব লন্ডন থেকে দ্রুত ওয়েলসের উদ্দেশে রওনা হন। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান নাঈম যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার বাবা কেন্দ্রীয় কৃষক দলের একজন সদস্য বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে। নাঈমের মরদেহ ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়েলস থেকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তার জানাজার সময় ও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে। ওয়েলসের প্রাকৃতিক হ্রদ ও জলাশয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নিয়মিত সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে ঠান্ডা পানি, প্রবল বাতাস, পানির গভীরতা এবং তলদেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সাঁতার জানা ব্যক্তিদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সূত্র: আরটিভি অনলাইন, দ্য ডেইলি ড্যাজলিং ডন
২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হলেন গ্রিসের নারী
‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’: যোগী আদিত্যনাথ
ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, হতে চান প্রধানমন্ত্রী
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে সড়ক প্রশস্ত করতে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাতভর অবস্থান করেছেন স্থানীয় মুসলিমরা। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান রোববার রাতেও চলছিল। মসজিদের একটি অংশ সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সোমবার উচ্চ আদালতে শুনানির কথা রয়েছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উজ্জয়িনী পৌর কর্তৃপক্ষ একটি সড়ক প্রশস্ত করছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও যানজট সামলাতে কাজটি প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সড়কের সীমানার মধ্যে শাহী মসজিদের একটি অংশ পড়েছে। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, ভবনটি ১৩৯০ সালে নির্মিত। তাঁর আশঙ্কা, মসজিদের সামান্য অংশ ভাঙলেও পুরো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় মুসলিমরা মসজিদ অক্ষত রেখে সড়কের কাজ করার দাবি জানিয়েছেন। মসজিদটির বয়স নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য থাকায় ‘৬০০ বছরের পুরোনো’ দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। গত ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একক বেঞ্চ পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা দুটি আবেদন খারিজ করে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এরপর উচ্চ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন করেছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা। বিক্ষোভের মধ্যে মসজিদের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবারের শুনানির আগে মসজিদের অংশ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের
গোপনে উড়োজাহাজে আবুধাবি গেলেন নেতানিয়াহু, বৈঠক করলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে
কানাডিয়ান কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ, আমেরিকা- কানাডা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আটক
হরমুজ প্রণালিতে একটি সামুদ্রিক জাহাজে ইরানের ছোড়া জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় আট মার্কিন মেরিন আহত হয়েছেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আট মেরিনের মধ্যে সাতজন তালিকাভুক্ত সদস্য এবং একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা একটি ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং দলের অংশ হিসেবে ওই জাহাজে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর আহতদের ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থতা এবং মাথায় আঘাতজনিত সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের কয়েকজন মাথাব্যথাসহ মস্তিষ্কে আঘাতের মতো উপসর্গ অনুভব করেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর ছিল না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আটজনই আবার দায়িত্বে ফিরে যান। ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেরিনরা ওই সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে ছিলেন না। মার্কিন কর্মকর্তারা জাহাজটির মালিকানা বা ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে শুধু একটি সামুদ্রিক জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ওই জাহাজে থাকা মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি আরও জানিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার বিষয়ে সে সময় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক হতাহত সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে আহত আট মেরিনের তথ্য যুক্ত করা হয়। পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম বা ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, এই আটজনকে যুক্ত করার পর ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ৮৬১ জনে পৌঁছায়। ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, একই সময়ে আরও ২৯ জন মার্কিন নৌসদস্যের তথ্য যোগ হওয়ায় মোট আহতের সংখ্যা এক সপ্তাহে ৩৭ জন বেড়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক সদস্য আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে অনেক সময় বিলম্ব হতে পারে। কোনো আঘাতের উপসর্গ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় এবং তথ্যভান্ডার তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় এমন বিলম্ব হয়। প্রকাশ্য ডিসিএএস তথ্যভান্ডারে ওই আট মেরিন কোথায়, কখন এবং কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। হরমুজ প্রণালি সামরিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। জুলাইয়ে সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানি হামলার পরও প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে। সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত আট মেরিন গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না এবং হামলার পর দ্রুত দায়িত্বে ফিরে যান। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংঘাতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের হতাহতের প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: এনবিসি নিউজ
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ১০০ বছর বয়সে মারা গেছেন
অস্ট্রেলিয়ায় নৌপথে আসা ৩০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পেলেন স্থায়ী ভিসা