স্কুলের ডিভাইসে পর্ণো গ্রাফি দেখার অভিযোগে শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করল কর্তৃপক্ষ
ইংল্যান্ডে স্কুলের কাজের ইমেইল অ্যাকাউন্টে পর্ণো গ্রাফি ও যৌ ন উপকরণ সংরক্ষণ এবং কর্মঘণ্টায় স্কুলের ডিভাইস ব্যবহার করে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশের ঘটনায় এক শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ওই শিক্ষকের নাম উইলিয়াম শ্যাপার। তার বয়স ৪৯ বছর। তিনি লন্ডনের এলথাম কলেজ জুনিয়র স্কুলে ২০০৩ সাল থেকে কাজ করছিলেন। স্কুলের ইন্টারনেট মনিটরিং ব্যবস্থায় অনুপযুক্ত কিছু উপকরণ শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে দেখা যায়, শ্যাপার স্কুলের কাজের ডিভাইস ব্যবহার করে একাধিকবার পর্ণো গ্রাফিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিলেন। এসব ঘটনার কয়েকটি ঘটেছিল স্কুল চলাকালীন কর্মঘণ্টায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, তার স্কুলের Outlook 365 অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পর্ণো গ্রাফিক ও যৌ ন উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
বিষয়টি ধরা পড়ার পর শ্যাপার তার ব্রাউজারের ইন্টারনেট হিস্ট্রি ম্যানুয়ালি মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। কীভাবে এসব তথ্য মুছে ফেলা যায়, সে বিষয়ে তিনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে আসে।
২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন শ্যাপার প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ ধরনের কাজ করবেন না। তবে একই দিন সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিনি আংশিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেন।
শ্যাপার দাবি করেছিলেন, তিনি এসব উপকরণ দেখার সময় কোনো শিশু তাকে দেখে ফেলেনি। পেশাগত আচরণবিষয়ক প্যানেলও এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত করেনি।
তবে প্যানেল মনে করে, কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি বিষয়টি না দেখলেও স্কুলের ডিভাইস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে পর্ণো গ্রাফি ধরনের উপকরণে প্রবেশের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্যাপার স্কুলের ডিভাইস ব্যবহার করে অত্যন্ত অনুপযুক্ত উপকরণে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অসত্য তথ্যও দিয়েছিলেন। এসব কারণে তার আচরণ শিক্ষক পেশার প্রত্যাশিত মানদণ্ড থেকে গুরুতরভাবে বিচ্যুত হয়েছে বলে মনে করে প্যানেল।
প্যানেল তার আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য পেশাগত আচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, স্কুলের ডিভাইস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে এ ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শ্যাপার প্যানেলের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, ওই সময় তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে প্যানেল মনে করেছে, তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এই আচরণের সম্ভাব্য প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এলথাম কলেজ জুনিয়র স্কুল তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরে বিষয়টি ইংল্যান্ডের শিক্ষক পেশা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে যায়।
পেশাগত আচরণবিষয়ক শুনানিতে শ্যাপারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্তে তাকে ইংল্যান্ডে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করার কথা জানানো হয়।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে শ্যাপার ইংল্যান্ডের কোনো স্কুল, ষষ্ঠ-ফর্ম কলেজ, সংশ্লিষ্ট যুব আবাসন বা শিশুদের আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে পারবেন না।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে বহাল থাকবে এমন নয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্যাপার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৮ থেকে তার বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিলের আবেদন করতে পারবেন।
তবে আবেদন করার সুযোগ পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে।
পুরো ঘটনায় স্কুলের ডিভাইসের ব্যবহার, কর্মঘণ্টায় অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ এবং পরে তথ্য গোপনের চেষ্টাকে গুরুতর পেশাগত আচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে প্যানেল। এসব কারণেই শিক্ষক হিসেবে তার ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইংল্যান্ডে স্কুলের কাজের ইমেইল অ্যাকাউন্টে পর্ণো গ্রাফি ও যৌ ন উপকরণ সংরক্ষণ এবং কর্মঘণ্টায় স্কুলের ডিভাইস ব্যবহার করে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশের ঘটনায় এক শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ওই শিক্ষকের নাম উইলিয়াম শ্যাপার। তার বয়স ৪৯ বছর। তিনি লন্ডনের এলথাম কলেজ জুনিয়র স্কুলে ২০০৩ সাল থেকে কাজ করছিলেন। স্কুলের ইন্টারনেট মনিটরিং ব্যবস্থায় অনুপযুক্ত কিছু উপকরণ শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে দেখা যায়, শ্যাপার স্কুলের কাজের ডিভাইস ব্যবহার করে একাধিকবার পর্ণো গ্রাফিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিলেন। এসব ঘটনার কয়েকটি ঘটেছিল স্কুল চলাকালীন কর্মঘণ্টায়। তদন্তে আরও জানা যায়, তার স্কুলের Outlook 365 অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পর্ণো গ্রাফিক ও যৌ ন উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। বিষয়টি ধরা পড়ার পর শ্যাপার তার ব্রাউজারের ইন্টারনেট হিস্ট্রি ম্যানুয়ালি মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। কীভাবে এসব তথ্য মুছে ফেলা যায়, সে বিষয়ে তিনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে আসে। ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন শ্যাপার প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ ধরনের কাজ করবেন না। তবে একই দিন সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিনি আংশিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেন। শ্যাপার দাবি করেছিলেন, তিনি এসব উপকরণ দেখার সময় কোনো শিশু তাকে দেখে ফেলেনি। পেশাগত আচরণবিষয়ক প্যানেলও এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত করেনি। তবে প্যানেল মনে করে, কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি বিষয়টি না দেখলেও স্কুলের ডিভাইস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে পর্ণো গ্রাফি ধরনের উপকরণে প্রবেশের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়। প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্যাপার স্কুলের ডিভাইস ব্যবহার করে অত্যন্ত অনুপযুক্ত উপকরণে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অসত্য তথ্যও দিয়েছিলেন। এসব কারণে তার আচরণ শিক্ষক পেশার প্রত্যাশিত মানদণ্ড থেকে গুরুতরভাবে বিচ্যুত হয়েছে বলে মনে করে প্যানেল। প্যানেল তার আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য পেশাগত আচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, স্কুলের ডিভাইস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে এ ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শ্যাপার প্যানেলের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, ওই সময় তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে প্যানেল মনে করেছে, তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এই আচরণের সম্ভাব্য প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়নি। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এলথাম কলেজ জুনিয়র স্কুল তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরে বিষয়টি ইংল্যান্ডের শিক্ষক পেশা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে যায়। পেশাগত আচরণবিষয়ক শুনানিতে শ্যাপারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্তে তাকে ইংল্যান্ডে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করার কথা জানানো হয়। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে শ্যাপার ইংল্যান্ডের কোনো স্কুল, ষষ্ঠ-ফর্ম কলেজ, সংশ্লিষ্ট যুব আবাসন বা শিশুদের আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে পারবেন না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে বহাল থাকবে এমন নয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্যাপার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৮ থেকে তার বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিলের আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদন করার সুযোগ পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে। পুরো ঘটনায় স্কুলের ডিভাইসের ব্যবহার, কর্মঘণ্টায় অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ এবং পরে তথ্য গোপনের চেষ্টাকে গুরুতর পেশাগত আচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে প্যানেল। এসব কারণেই শিক্ষক হিসেবে তার ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ তারকা হোটেলের শৌচাগার ব্যবহার করতে না দেওয়ার লাইভে এসে নারীর ক্ষোভ
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধী জোটের, পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষার্থী ভিসায়
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বাড়ছে আইনি ঝুঁকি, একটি ভুলেই জেল ও ডিপোর্টেশন
ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিক আনোজান শিবারাসাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের একটি আপিল আদালত এই সাজা দেওয়ার পর তাঁর জীবন রক্ষায় কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। আনোজানের পরিবারও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমার আবেদন জানিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনোজান শিবারাসা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং কর্মসূত্রে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ধর্মীয় বিতর্কের সূত্র ধরে তিনি তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর একটি মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে। সেখানে এক মুসলিম তরুণকে একটি কুকুরকে লাথি দিতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে বিতর্ক শুরু হলে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আনোজান মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আনোজান ওই মন্তব্য মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। কিন্তু ততক্ষণে মন্তব্যটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ভাই হামসিদান শিবারাসা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ব্যক্তি ওই স্ক্রিনশট আনোজানের সৌদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে পাঠান। প্রতিষ্ঠানটি পরে বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর জুলাইয়ে আনোজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে সৌদির আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। পরে সাজা কমানোর জন্য তাঁর পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। মামলার মোড় ঘুরে যায় ১৭ সেপ্টেম্বর। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনের অধীনে আনোজানের বিচার চেয়ে পৃথক আপিল করে। আপিল আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করার পর তাঁর আগের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৮ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আনোজানের মামলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রিয়াদে শ্রীলঙ্কা দূতাবাস এবং কলম্বোতে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আনোজানের স্বার্থ রক্ষা এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ পরে দেশটির পার্লামেন্টে জানান, আনোজানের মৃত্যুদণ্ড কমানো বা বাতিলের জন্য আইনি ও কূটনৈতিক দুই পথেই চেষ্টা চলছে। সৌদি আরবের আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি উচ্চতর আদালতে আপিলের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এই মামলার আইনি ব্যয় শ্রীলঙ্কা সরকার বহন করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আনোজানের পরিবার গত ২১ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করে। পরিবারকে তিনি আশ্বস্ত করেন, মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সৌদি বাদশাহর কাছে সাধারণ ক্ষমার আবেদন জানানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তারা আনোজানের কোনো খবর পায়নি। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আনোজানের সাজা মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। দেশটির একটি চার সদস্যের আইনি প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে গিয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ বা সময়সূচি প্রকাশ করেনি। ফলে মামলাটি এখনো আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। আনোজানের ঘটনা আবারও বিদেশে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। একটি অনলাইন মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া ঘটনাটি এখন একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও আইনি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে শ্রীলঙ্কা সরকার শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে পারে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশি গ্রেফতার, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর গ্রেপ্তার, মুর্শিদাবাদে উত্তেজনা
নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসার পথে নারীদের ভয়াবহ নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার প্রায় সবাই
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার জানিয়েছেন, দুই দেশ আলোচনার এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে নতুন করে ছাড় দেওয়া বা নেওয়া উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। দুই দেশের লক্ষ্য ছিল বাজারে প্রবেশের বাধা কমানো, বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ভারসাম্যসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আলোচনার বর্তমান অবস্থান থেকে আরও এগিয়ে যাওয়া দুই দেশের জন্যই কঠিন। তিনি অবশ্য এটাও জানিয়েছেন, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং সুযোগ থাকলে উভয় পক্ষই আবার সমঝোতার জায়গা খুঁজে দেখতে পারে। বাণিজ্য আলোচনার সবচেয়ে বড় জটিলতার একটি হলো শুল্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য শুল্ককে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারতও মার্কিন বাজারে বড় রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই নীতির প্রভাব দুই দেশের আলোচনায় পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রুশ তেল কেনার প্রশ্ন। ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়াতে চায় এবং রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। ফলে ভারতের জন্য বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভারতের অবস্থান হলো, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক হিসেবে ভারতকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে কিনতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও তার প্রভাব পড়ে। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে তেল কেনার সুযোগ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপের কারণে দিল্লিকে এখন একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মার্কিন বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা—দুই দিকই বিবেচনা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে ভারতের পক্ষে বড় উদ্বৃত্ত রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। ওয়াশিংটন এই ব্যবধান কমাতে চায়। ভারতের অর্থমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন যে বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য শুধু শুল্ক আরোপ করা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে সমাধান খোঁজা উচিত বলে ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি বলেন, আলোচনা এখনো চলছে, তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও সময় প্রয়োজন।
আটতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়েও উঠে ফোনে ব্যস্ত নারী, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য
এপস্টেইন নথি তল্লাশি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে শরণাপন্ন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর