সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সৌদিতে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সিধারী বিদেশিরা পাচ্ছেন চাকরি বদল, সম্পত্তি কেনাসহ ১০ সুবিধা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৯:৭
সৌদি আরবে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়া বিদেশিরা পরিবারসহ বসবাস ও চাকরি বদলসহ ১০ ধরনের সুবিধা পান। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়া বিদেশিরা পরিবারসহ বসবাস ও চাকরি বদলসহ ১০ ধরনের সুবিধা পান। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়া বিদেশিরা পরিবারের সঙ্গে বসবাস, বেসরকারি খাতে চাকরি বদল এবং নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি কেনাসহ ১০ ধরনের অধিকার ও সুবিধা পান। দেশটির প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি আইনে এসব সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সুবিধাগুলোর তালিকা তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম লেজিট। এটি সৌদিতে থাকা সব বিদেশির জন্য নতুন কোনো ঘোষণা নয়; সুবিধাগুলো প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি অনুমতিপ্রাপ্তদের জন্য প্রযোজ্য। 

 

আইন অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সৌদি আরবে থাকতে পারেন। বিধি মেনে আত্মীয়দের জন্য ভিজিট ভিসার আবেদন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গৃহকর্মী নিয়োগের সুযোগও রয়েছে। পরিবারের আওতায় স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন; সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসংক্রান্ত শর্ত প্রযোজ্য। 

 

সম্পত্তির ক্ষেত্রে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানার জন্য নির্ধারিত জায়গা কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে মক্কা, মদিনা ও সীমান্ত এলাকায় সম্পত্তির মালিকানার ওপর বিধিনিষেধ আছে। মক্কা ও মদিনায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে সর্বোচ্চ ৯৯ বছর পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার পাওয়া যেতে পারে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সৌদি আইনে অনুমোদিত অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ রাখার সুযোগও রয়েছে। 

 

প্রিমিয়াম রেসিডেন্সিধারী এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ ও ওই খাতের মধ্যে চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন। তবে সৌদি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত পেশায় এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়। চাকরিসংক্রান্ত প্রযোজ্য ফি ও অন্যান্য নিয়মও মানতে হবে।

 

যাতায়াতের সুবিধার মধ্যে রয়েছে আলাদা এক্সিট বা পুনঃপ্রবেশ ভিসা ছাড়াই সৌদি আরব ত্যাগ ও সেখানে ফিরে আসার অধিকার। সৌদির প্রবেশ ও বের হওয়ার পয়েন্টে নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত লেন ব্যবহারের সুযোগও তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আইন মেনে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যায়। 

 

প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পেতে আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে। সৌদি আইনে বৈধ পাসপোর্ট, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, অপরাধের রেকর্ড না থাকার প্রমাণ এবং নির্ধারিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনসহ কয়েকটি মৌলিক শর্ত উল্লেখ আছে। অনুমোদনের পর প্রযোজ্য ফি পরিশোধ ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের শর্তও পূরণ করতে হয়। 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে অস্বাভাবিক গুটি শনাক্ত হওয়ায় শিগগিরই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হবে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ চতুর্দশ লিও, ফুসফুসে ধরা পড়েছে গুটি

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে একটি অস্বাভাবিক গুটি শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক প্রার্থনার সময় নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী পোপ। তিনি জানিয়েছেন, গুটিটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হয়েছে এবং ফুসফুসের নির্দিষ্ট একটি অংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ভ্যাটিকান নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় পোপের ফুসফুসে গুটিটি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেয়। তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করে গুটিটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন পোপ লিও।   রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষের উদ্দেশে পোপ জানান, তাঁর ফুসফুসে শনাক্ত হওয়া গুটিটি খুব প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চিকিৎসকেরা মনে করছেন, এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। তিনি নিজেও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসরণ করতে সম্মত হয়েছেন।   ভ্যাটিকানের প্রেস অফিসের মুখপাত্র মাত্তেও ব্রুনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসার জন্য পোপকে ইতালির রাজধানী রোমের জেমেলি হাসপাতালে নেওয়া হবে। অস্ত্রোপচারের পর প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে।   তবে অস্ত্রোপচারের নির্দিষ্ট দিন কিংবা চিকিৎসাপদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পোপের ফুসফুসে শনাক্ত হওয়া গুটিটি ঠিক কী ধরনের, সে বিষয়েও ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত রোগনির্ণয় জানানো হয়নি।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফুসফুসের নডিউল বলতে ফুসফুসের টিস্যুতে তৈরি হওয়া ছোট অস্বাভাবিক অংশকে বোঝায়। সাধারণত বুকের এক্স-রে কিংবা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে এ ধরনের গুটি শনাক্ত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো কোনো উপসর্গ ছাড়াই শরীরে থাকতে পারে।   চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসে গুটি শনাক্ত হওয়া মানেই ক্যানসার নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের গুটি ক্যানসারবিহীন হতে পারে। তবে গুটির আকার, অবস্থান এবং রোগীর অন্যান্য শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা পরবর্তী পরীক্ষা কিংবা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।   পোপ লিওর ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও গুটিটি ক্যানসার কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাঁর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছে বলে দাবি করার কোনো ভিত্তি নেই। অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে গুটিটির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   এদিকে রোমের জেমেলি হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে পোপদের চিকিৎসার জন্য পরিচিত। ১৯৮১ সালের মে মাসে পোপ দ্বিতীয় জন পলের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর হাসপাতালটিতে পোপদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও ভ্যাটিকানের ধর্মীয় নেতাদের চিকিৎসায় হাসপাতালটি ব্যবহৃত হয়েছে।   পোপ লিওর পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসও জীবদ্দশায় একাধিকবার এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ফুসফুসসংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ৮৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।   পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত হন চতুর্দশ লিও। তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত প্রথম মার্কিন নাগরিক। তাঁর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। জন্মনাম রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট।   ১৯৮২ সালে যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পরবর্তী সময়ে ক্যাথলিক চার্চের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে পোপ নির্বাচিত হন।   পোপ লিও সাধারণত সক্রিয় জীবনযাপন করেন। নিয়মিত টেনিস খেলা এবং সাঁতারের মতো শারীরিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর আগে থেকে গুরুতর কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকার তথ্য জানা যায়নি। তবে বর্তমান চিকিৎসার বিষয়ে ভ্যাটিকান সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে।   অস্ত্রোপচারের খবর প্রকাশের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি পোপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আসন্ন চিকিৎসার সময় তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত সংহতি প্রকাশ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।   এদিকে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির মধ্যেও আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক সফরের পরিকল্পনা বহাল রেখেছেন পোপ। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফর করার কথা রয়েছে তাঁর। তবে অস্ত্রোপচার ও সুস্থ হয়ে ওঠার সময়সূচি সফরে কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   রোববারের প্রার্থনায় পোপ লিও তাঁর জন্য প্রার্থনা করা এবং আধ্যাত্মিকভাবে পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে আসন্ন অস্ত্রোপচারের আগে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে প্রার্থনা কামনা করেন।   ভ্যাটিকানের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পোপের অস্ত্রোপচার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চিকিৎসকেরা প্রায় এক সপ্তাহের হাসপাতাল-পরবর্তী সুস্থতা পুনরুদ্ধারের সময়ের কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি চিকিৎসার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   ফুসফুসে শনাক্ত হওয়া গুটিটি প্রাথমিক পর্যায়ে এবং নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পোপ নিজেই। তবে গুটিটির প্রকৃতি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এটিকে ক্যানসার কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট রোগ হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। আপাতত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১০:২০
পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ায় অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা শেন সাইবার। ছবি: সংগৃহীত

ফিলাডেলফিয়ায় অস্ত্রধারীর খবরে গিয়ে অতর্কিত গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, সহকর্মী ১২ বার গুলিবিদ্ধ

আশ্রয়ের আবেদনের জন্য ভুয়া প্রমাণ তৈরির অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি সংগঠন ‘আপনজন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

সমকামী সাজিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনে সহায়তার অভিযোগ বাংলাদেশি ট্রান্স নারীর বিরুদ্ধে

সৌদি আরবে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়া বিদেশিরা পরিবারসহ বসবাস ও চাকরি বদলসহ ১০ ধরনের সুবিধা পান। ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সিধারী বিদেশিরা পাচ্ছেন চাকরি বদল, সম্পত্তি কেনাসহ ১০ সুবিধা

Abbas Araghchi Minister of Foreign Affairs of Iran
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ঝুঁকি: আরাঘচি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বিশেষ করে তেল স্থাপনা, শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বহু বছর ধরে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   রোববার ১১ অক্টোবর তেহরানে পরিবেশ ধ্বংস ও যুদ্ধাপরাধবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন আরাঘচি। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতিকে মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।   আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের সময় পানি, মাটি, বাতাস, বন, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের যে ক্ষতি হয়, তা লড়াই থামলেই শেষ হয়ে যায় না। এসব ক্ষতির প্রভাব বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ইরানের পাশাপাশি গাজা ও লেবাননের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   ইরানে তেল স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ইউএনইপির মার্চ মাসের বিবৃতির কথা তুলে ধরেন আরাঘচি। নূর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’র প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।   ইউএনইপি গত ১৩ মার্চ জানিয়েছিল, দূর থেকে পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তেহরানসহ শহর ও শহরসংলগ্ন এলাকায় তেল স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বলন্ত তেলের ধোঁয়ায় থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক শ্বাসের সঙ্গে শিশুদের শরীরেও প্রবেশ করছে বলে উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি।   ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত আগুনের দূষণ মাটি ও পানিতে ছড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানিতে পৌঁছাতে পারে। ফসলেও দূষক জমা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এসব ছিল সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সংস্থাটির মার্চের মূল্যায়ন।    সম্মেলনে আরাঘচি যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষতি স্বাধীনভাবে নথিবদ্ধ করা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়ন, ক্ষতিপূরণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ব্যাপক পরিবেশ ধ্বংস বা ‘ইকোসাইডকে’ পৃথক আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আইনি ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনায় ইরানের সমর্থনও জানান তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৭:১
অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হাঞ্জানি

ব্রিটেনে ক্যানসার গবেষণার নেতৃত্বে মুসলিম অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হাঞ্জানি

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, তীব্র নিন্দা ঢাকার

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আত্মত্যাগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর ঘটনা স্মরণ করা হয়

গির্জায় প্রার্থনারত খ্রিস্টানদের বাঁচাতে বো মা সরাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন মুসলিম যুবক

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক গ্রেট উমাইয়া মসজিদ দীর্ঘ ১৩ বছর পর
যুদ্ধের ক্ষত সারিয়ে ১৩ বছর পর খুলল সিরিয়ার ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদ

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক গ্রেট উমাইয়া মসজিদ দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবার মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ শেষে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক পুনরুদ্বোধন হয়। গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই স্থাপনা ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে আলেপ্পোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র আবার সচল হলো।   সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল গারিব, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর বলেন, বহু বছরের ধ্বংসযজ্ঞের পর মসজিদটিকে নগরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের সময় এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও স্থাপত্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   আল গারিব মসজিদটির দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, উমাইয়া আমল থেকে এটি আলেপ্পোর ইতিহাসের অংশ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলেম, ধর্মীয় বক্তা ও চিন্তাবিদদের মিলনস্থল হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। সিরিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবেও মসজিদটির ভূমিকা স্মরণ করেন তিনি।    ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আলেপ্পোয় সংঘর্ষের সময় মসজিদ ও আশপাশের এলাকা যুদ্ধের সম্মুখভাগে পরিণত হয়। গোলাবর্ষণ ও অগ্নিকাণ্ডে নামাজের কক্ষ, বারান্দা, প্রবেশপথ এবং স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ভেঙে পড়ে ঐতিহাসিক মিনারটি। সেটি ধ্বংসের দায় নিয়ে তৎকালীন সরকারি বাহিনী ও বিরোধী পক্ষ পরস্পরকে অভিযুক্ত করেছিল।    মসজিদটির সংস্কার অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হয়নি। ইউনেসকোর কাছে জমা দেওয়া পুরোনো নথিতেও ধ্বংসাবশেষ সরানো, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মজবুত করা এবং মিনারের পাথর সংরক্ষণের কাজের বিবরণ রয়েছে। ফলে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগকে শুধু ২০২৪ সালের পরের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    সিরীয় সংবাদমাধ্যম এনাব বালাদির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলেপ্পোর ওয়াকফ অধিদপ্তর নিজের তত্ত্বাবধানে সংস্কারকাজ পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ কাজের মধ্যে ছিল বারান্দা, আঙিনার পাথরের মেঝে, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও অজুখানা সংস্কার। মিনার পুনর্নির্মাণে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা মূল পাথরের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত প্রাচীন আলেপ্পো নগরীর অন্যতম প্রধান নিদর্শন।    পুনরুদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আল রিফাই জানান, ওয়াকফ মন্ত্রণালয় মসজিদগুলোতে কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় পাঠচক্র আয়োজনের কর্মসূচি প্রস্তুত করেছে। আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশোও আশা প্রকাশ করেন, পুনরায় চালু হওয়া উমাইয়া মসজিদ ইবাদতের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা ফিরে পাবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৩:৩০
কাপড় ইস্ত্রির ব্যবসা থেকে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি আয় করেন অরুণ

কাপড় ইস্ত্রি করেই তার মাসে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা আয়

ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা

ইরানের বন্দর ছেড়ে আসা পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন যুদ্ধবিমানের হা মলা

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১২, আহত ৩০৯; প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি

0 Comments