শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা
শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। নতুন দায়িত্বে তিনি সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং মানুষের আস্থা তৈরির কৌশল নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ, সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও মানুষের সুস্থতা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তিনি।
নতুন এই দায়িত্ব পূর্ণকালীন নয়। অতিথি বক্তৃতা দেওয়া, বিশেষ ক্লাস নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে অবদান রাখবেন আরডার্ন।
নিজের নতুন ভূমিকা সম্পর্কে আরডার্ন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কীভাবে আরও ভালোভাবে উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মার্ক স্কট বলেন, নিউজিল্যান্ডকে একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় আরডার্ন দেখিয়েছেন, সহমর্মিতা ও দৃঢ়তা পরস্পরের বিপরীত নয়। বরং এই দুটি গুণ একে অপরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
গত জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছিলেন আরডার্ন। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক নেতা কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতিতে নেতৃত্ব দিলেও সাধারণ মানুষ সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। প্রচলিত রাজনীতির প্রতি অসন্তোষের কারণে অনেক ভোটার মূলধারার বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলেও মনে করেন তিনি।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে পাঁচ বছরের বেশি সময় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরডার্ন। একই সময়ে তিনি দেশটির লেবার পার্টির নেতৃত্বেও ছিলেন। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় নিউজিল্যান্ডকে বেশ কয়েকটি বড় সংকট মোকাবিলা করতে হয়। এর মধ্যে ছিল ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং করোনাভাইরাস মহামারি।
২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিতি পান আরডার্ন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দেওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সরকারপ্রধানও তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জননেতৃত্ব ও প্রযুক্তি পরিচালনাব্যবস্থা নিয়ে ফেলোশিপ করেন তিনি। পরে ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর স্মৃতিকথা ‘এ ডিফারেন্ট কাইন্ড অব পাওয়ার’।
চলতি বছরের শুরুতে স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও মেয়ে নেভেকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস শুরু করেন আরডার্ন। সেখানে শহরের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ৫৩ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারে একটি বাড়িও কিনেছেন তাঁরা।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে এবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreশিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। নতুন দায়িত্বে তিনি সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং মানুষের আস্থা তৈরির কৌশল নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ, সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও মানুষের সুস্থতা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তিনি। নতুন এই দায়িত্ব পূর্ণকালীন নয়। অতিথি বক্তৃতা দেওয়া, বিশেষ ক্লাস নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে অবদান রাখবেন আরডার্ন। নিজের নতুন ভূমিকা সম্পর্কে আরডার্ন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কীভাবে আরও ভালোভাবে উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মার্ক স্কট বলেন, নিউজিল্যান্ডকে একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় আরডার্ন দেখিয়েছেন, সহমর্মিতা ও দৃঢ়তা পরস্পরের বিপরীত নয়। বরং এই দুটি গুণ একে অপরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। গত জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছিলেন আরডার্ন। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক নেতা কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতিতে নেতৃত্ব দিলেও সাধারণ মানুষ সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। প্রচলিত রাজনীতির প্রতি অসন্তোষের কারণে অনেক ভোটার মূলধারার বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলেও মনে করেন তিনি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে পাঁচ বছরের বেশি সময় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরডার্ন। একই সময়ে তিনি দেশটির লেবার পার্টির নেতৃত্বেও ছিলেন। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় নিউজিল্যান্ডকে বেশ কয়েকটি বড় সংকট মোকাবিলা করতে হয়। এর মধ্যে ছিল ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং করোনাভাইরাস মহামারি। ২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিতি পান আরডার্ন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দেওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সরকারপ্রধানও তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জননেতৃত্ব ও প্রযুক্তি পরিচালনাব্যবস্থা নিয়ে ফেলোশিপ করেন তিনি। পরে ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর স্মৃতিকথা ‘এ ডিফারেন্ট কাইন্ড অব পাওয়ার’। চলতি বছরের শুরুতে স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও মেয়ে নেভেকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস শুরু করেন আরডার্ন। সেখানে শহরের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ৫৩ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারে একটি বাড়িও কিনেছেন তাঁরা। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে এবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির
দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনার রাস্তা! হাঁটার সুযোগ পাবেন সাধারণ পর্যটকেরাও
মায়ের জন্মদিনের সংখ্যা বদলে দিল ভাগ্য! লটারিতে ৩১৪ কোটি টাকা জিতলেন ভারতীয় তরুণ
যুক্তরাজ্যে জিন তাড়ানোর নামে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে বাংলাদেশি নাগরিক কমর উদ্দিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন দেশটির একটি আদালত। ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল লেস্টার ক্রাউন কোর্ট এ সাজা ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় ৬৮ বছর বয়সী কমর উদ্দিন নিজেকে ইমাম ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ এবং তিনটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম লেস্টার মার্কারির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক তরুণীর শরীর থেকে কথিত অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য তাঁকে লেস্টার শহরের একটি বাড়িতে ডেকে আনা হয়। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করতেন, কমর উদ্দিন আধ্যাত্মিক চিকিৎসার মাধ্যমে তরুণীকে সুস্থ করতে পারবেন। চিকিৎসার কথা বলে তরুণীকে তাঁর শোবার ঘরে নিয়ে যান কমর উদ্দিন। সেখানে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিশেষ আচার পালনের আয়োজন করেন। এ সময় তরুণীর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। পরিবারের এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করেন তিনি। আদালতে জানানো হয়, ঘটনার সময় তরুণী পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুতে শোকাহত ছিলেন। তাঁর মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিলেন কমর উদ্দিন। নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে অশুভ আত্মা ফিরে আসবে বলেও তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ অস্বীকার করলেও তরুণীর শারীরিক পরীক্ষায় সংগ্রহ করা নমুনায় কমর উদ্দিনের ডিএনএ পাওয়া যায়। আদালতে এই ফরেনসিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে জুরিবোর্ড তাঁকে দুটি ধর্ষণ ও তিনটি যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে। ঘটনার পর পুলিশ কমর উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্য ছেড়ে জার্মানিতে পালিয়ে যান। পরে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাঁকে জার্মানি থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। রায় ঘোষণার সময় বিচারক টিমোথি স্পেন্সার কমর উদ্দিনের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁকে প্রতারক, ভণ্ড এবং নিজের ধর্মের জন্য কলঙ্ক বলে উল্লেখ করেন বিচারক। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অসহায় এক তরুণীকে সাহায্য করার পরিবর্তে তিনি তাঁর ওপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছেন। বিচারক আরও বলেন, তরুণীর পরিবার তাঁকে বিশ্বাস করে বাড়িতে ডেকেছিল। বিশেষ করে তরুণীর বাবা তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। বাংলাদেশি নাগরিক কমর উদ্দিন বিবাহিত এবং ১১ সন্তানের বাবা। তিনি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন মসজিদে কাজ করার দাবি করেছিলেন। আদালতে তিনি স্বীকার করেন, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। মামলার সরকারি কৌঁসুলি রিচার্ড থ্যাচার জানিয়েছিলেন, কারাদণ্ড ভোগের পর কমর উদ্দিনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে তাঁর পরবর্তী অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০১৮ সালের এ মামলাটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে একজন অসহায় তরুণীর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের আদালতের দেওয়া একটি উল্লেখযোগ্য রায়।
খুনের মামলা এড়াতে নিজের মৃত্যুর নাটক, এআই দিয়ে বানালেন শেষকৃত্যের ছবি
প্রেমিকার কাছে প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়ি বানালেন ইতালির মেকানিক! প্রস্থ মাত্র ৫০ সেন্টিমিটার
পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা গেল, মাত্র ১০ বছর বয়সী এক শিশু প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আর্জেন্টিনার সান্তিয়াগো দেল এস্তেরো প্রদেশে ঘটেছে এই ঘটনা। শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার মায়ের ৩৩ বছর বয়সী সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। শিশুটির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে ও এল ত্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শিশুটিকে তার মা সান্তিয়াগো দেল এস্তেরো প্রদেশের কোলোনিয়া ডোরা হাসপাতালে নিয়ে যান। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র পেটব্যথার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় অন্য একটি প্রতিবেদনে ঋতুস্রাব শুরু না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে পরীক্ষা করার সময় চিকিৎসক বুঝতে পারেন, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তী পরীক্ষায় গর্ভধারণের সময়কাল আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় মাস বলে ধারণা করা হয়। চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি ধরা পড়ার পর শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি তার সৎবাবা হিসেবে পরিচিত মায়ের সঙ্গীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানায়। বিষয়টি জানার পর চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপরই শুরু হয় তদন্ত। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করার নির্দেশ দেন মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর গিলের্মো ফারিয়াস। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আভেয়ানেদা জেলার একটি গ্রামীণ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাড়িতে তিনি শিশুটি ও তার মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পরীক্ষা করে অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে শিশুটির বক্তব্য, চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে নারী ও শিশু সুরক্ষাসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও যুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, আর্জেন্টিনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এল লিবারেলের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তির আটকসংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক গ্লাদিস লিলিয়ানা লামি তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রায় ৩০ দিন পর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী কি না, তা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল নোটিসিয়েরো সেভেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিশুটির নানি জানান, তিনি আগে থেকেই মেয়েকে ওই ব্যক্তির ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তা কখনো ভাবেননি। শিশুটির একজন শিক্ষকও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্কুলে তার আচরণে এমন কোনো অস্বাভাবিকতা তিনি লক্ষ্য করেননি, যা থেকে নির্যাতনের বিষয়টি বোঝা সম্ভব হতো। শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এল লিবারেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন এবং গর্ভধারণের পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। শিশুটির বয়স ও ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তার পরিচয় এবং পরিবারের শনাক্তযোগ্য ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। এদিকে তদন্তকারীরা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণ এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
যু দ্ধের সাফল্য নাকি ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা, ইসরায়েলের নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে যাচ্ছে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা