- প্রচ্ছদ
- Topic
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেকের পরিচয় হয় মাদুরাই বিমানবন্দরে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের সময় রাবেক তাকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেখান থেকে শুরু হওয়া পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং পরে সম্পর্কে গড়ায়। বর্তমানে তারা বিবাহিত এবং একটি সন্তানের বাবা-মা। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা জটিলতার কারণে স্বামী-স্ত্রীকে এখনো স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরাই বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রাপথেই লোরেনা ও রাবেকের মধ্যে প্রথম ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির হলেও সম্পর্কটি ধীরে ধীরে গভীর হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যও একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাবেক মুসলিম এবং লোরেনা ক্যাথলিক। দুই পরিবারের মধ্যেও শুরুতে ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও তাদের একসঙ্গে বসবাসের পথ সহজ হয়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় নিজের পরিবার ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেখানে থাকেন, আর রাবেক ভারতে অবস্থান করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্বামীর যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পার্টনার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে। এর মধ্যেই তাদের ঘরে আসে সন্তান। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান জন্ম দিলেও ভিসা না থাকায় রাবেক সেই সময় সেখানে যেতে পারেননি। ফলে সন্তানের জন্মের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে পায়নি পরিবারটি। পরে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পন্ন হওয়ার পর রাবেক তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। বর্তমানে লোরেনা ও রাবেককে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সময় ভাগ করে চলতে হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করে শেষ পর্যন্ত একই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ও জড়িত। অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসার সরকারি আবেদন ফি বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর বাইরে আইনজীবী বা মাইগ্রেশন এজেন্টের সহায়তা নিলে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে লোরেনা ও রাবেকের ক্ষেত্রে মোট খরচ ঠিক কত হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠিত পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরোপুরি ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়েও দ্বিধায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের জন্য সমস্যাটি শুধু ভিসার নয়, বরং কোথায় পরিবার হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গেও জড়িত। তাদের গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তঃদেশীয় প্রেম, বিয়ে, ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য এবং অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রা থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক কীভাবে দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিয়ে ও পরিবারে রূপ নিয়েছে, সেই গল্পই এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির কিছু নির্দিষ্ট তথ্য, যেমন সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা সন্তানের নাম, নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় সেগুলো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের নাত্তাই জাতীয় উদ্যানে এককভাবে পাহাড়ি পথে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৮ বছর বয়সী লিলি হুপারের মরদেহ আট দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা মরদেহ উদ্ধারের পর ভুল যোগাযোগের কারণে কিছু সময়ের জন্য তার পরিবারকে জানানো হয়েছিল, লিলিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে সেই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়। লিলি হুপার ১২ আগস্ট সকালে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওকডেল এলাকার বাড়ি থেকে একা পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন। তার গন্তব্য ছিল সিডনি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বন ও পাহাড়ি এলাকা। পুলিশ জানিয়েছিল, সেদিন সকালে তিনি বনাঞ্চল থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবার তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করে। রাত প্রায় ১১টার দিকে উদ্ধারকারী দল নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বোনাম পিক হাঁটার পথের কাছে ওয়াংগান্ডেরি রোডে তার গাড়িটি খুঁজে পায়। গাড়ি পাওয়া গেলেও লিলির কোনো সন্ধান মিলছিল না।এরপর শুরু হয় ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, রাজ্য জরুরি পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী, বন ও জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা এতে অংশ নেয়। পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন। ড্রোন, হেলিকপ্টার, বিশেষ উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর, ঘোড়া ও ট্রেইল বাইক ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ঘন বন, খাড়া ঢাল ও দুর্গম পথের কারণে অভিযান পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও লিলির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে ২০ আগস্ট অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা বনাঞ্চলের ভেতর একটি মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ জানায়, মরদেহটি লিলি হুপারের বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্তকরণ ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া তখনও সম্পন্ন হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিতের কথা জানায়নি। মরদেহ উদ্ধারের পরই ঘটে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। অনুসন্ধান দলের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ব্যবহৃত একটি বার্তা ভুলভাবে বোঝা হয়। উদ্ধার অভিযানের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করার জন্য ব্যবহৃত সংকেত বা কোডের অর্থ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে এমন তথ্য পৌঁছে যায় যে লিলিকে জীবিত পাওয়া গেছে। সেই তথ্য তার পরিবারকেও জানানো হয়। এরপর নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনসও সংসদে লিলিকে জীবিত উদ্ধারের খবর ঘোষণা করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, আগের তথ্যটি সঠিক ছিল না। পরে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুল খবরটি জানার পর লিলির পরিবার কয়েক মিনিটের জন্য ভেবেছিল তাদের মেয়ে জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে। এরপর প্রকৃত খবর জানার পর সেই আশাই পরিণত হয় গভীর শোকে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশও স্বীকার করেছে যে যোগাযোগের ভুলের কারণে পরিবারকে প্রথমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। লিলির পরিবার পুরো অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ, জরুরি সেবাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য উদ্ধারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। আট দিন ধরে শত শত মানুষ দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি এখন শুধু লিলির মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; অনুসন্ধান অভিযানের সময় কীভাবে ভুল তথ্য তৈরি হলো এবং যাচাই না করেই তা কীভাবে পরিবার ও জনসমক্ষে পৌঁছে গেল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুতর যোগাযোগ বিভ্রাট এড়াতে প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। লিলি হুপারের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোকের সৃষ্টি করেছে। আট দিনের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তার পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো;যে মুহূর্তে তারা মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলেন, তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আশার জায়গা নিয়েছে এক অপূরণীয় শোক।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসানোর জন্য করা আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের পক্ষে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পিটিশনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাকেম্বায় অবস্থিত মসজিদটির পরিচালনাকারী লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের মে মাসে ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলে নতুন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালেও আবেদনটি নথিভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ২০ মিটার উঁচু মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনাটি মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারের জন্য। তবে আজান কতক্ষণ এবং কত দূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক পিটিশনে সপ্তাহে একবার শুক্রবার দুপুরে সর্বোচ্চ তিন মিনিট আজান প্রচারের কথা বলা হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আজান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় প্রয়োজন ও লাকেম্বার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তারা বলছে, শব্দের মাত্রা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে। তবে কাউন্সিলের কাছে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তিতে শব্দদূষণ, আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনের নজির তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলও শব্দের মাত্রা নিয়ে জমা দেওয়া বিভিন্ন মূল্যায়নের অসঙ্গতিসহ কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে স্বাধীন অ্যাকুস্টিক পর্যালোচনাও করা হয়েছে। কাউন্সিলর বারবারা কুরি প্রস্তাবটির অন্যতম বিরোধী। তার বক্তব্য, বিতর্কটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং আবাসিক ও কর্মসংস্থান এলাকায় বাইরে থেকে উচ্চ শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম নিশ্চিত করার বিষয়। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে বাইরে প্রচারিত শব্দ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। এটি লাকেম্বা মসজিদের প্রথম আবেদন নয়। ২০২৫ সালে একই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচারের একটি আবেদন করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সেই আবেদন ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় প্ল্যানিং প্যানেল প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় জনমত গ্রহণে পাওয়া ৩২৯টি মতামতের মধ্যে ৩২৮টিই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল। এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে আবার আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। নতুন আবেদনটির নম্বর ডিএ-৫১৮/২০২৬। সরকারি প্ল্যানিং পোর্টালে আবেদনটির অবস্থা এখনো বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বর্তমান আবেদন নিয়ে বিতর্কের একদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমান সুযোগের প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে আবাসিক এলাকার শব্দ ও জনস্বাচ্ছন্দ্য রক্ষার দাবি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে শব্দের মাত্রা, আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় পরিকল্পনা বিধি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে হালাল খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হচ্ছে বড় বাজার। একটি জাতীয় প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। ‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’-এ দেশটির ইসলামী অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, মুসলিমদের ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এখন আর ছোট বা বিশেষায়িত বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর অর্থনীতির একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অংশে পরিণত হচ্ছে। এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার ও তাদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা। প্রতিবেদনে বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি মুসলিমবান্ধব পর্যটন। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ফলে হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও মুসলিমবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন খাতে আরও বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ হালাল ধারণাটি শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন নতুন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইসলামী অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হালাল পণ্য রফতানি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে হালাল মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে। এই রফতানি বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে হালাল খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ভোক্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক হালাল বাজারও দেশটির কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি খাতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো অপেক্ষাকৃত ছোট। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছে। শরিয়াহসম্মত বাড়ি কেনার অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও কাঠামোগত পার্থক্য এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে আছে। প্রতিবেদনে ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও কার্যকর ও সমন্বিত হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় রফতানি সহায়তা। অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাবৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বাজারের বিকাশ, যেখানে ধর্মীয় চাহিদার সঙ্গে পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। ফলে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা এখন দেশটির মূলধারার ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হয়ে উঠছে। ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ব্যয় থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের হালাল রফতানি - পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতি আর ছোট কোনো বিশেষায়িত বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী কয়েক বছরে এটি দেশটির আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ডেলিভারির কাজে যুক্ত গিগ কর্মীদের জন্য এক যুগান্তকারী নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় এসব কর্মীর জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশি বেতন এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই নিয়মের ফলে দেশটির অন্তত আড়াই লাখ ডেলিভারি কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার শ্রম ও শিল্প খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন' (এফডব্লিউসি) গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এই যুগান্তকারী আদেশের অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, গিগ কর্মীদের প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ৩১ দশমিক ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার (যা প্রায় ২২ দশমিক ১১ মার্কিন ডলার) মজুরি দিতে হবে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি হলো ঘণ্টায় ২৬ দশমিক ৪৪ ডলার। অর্থাৎ, এখন থেকে ডেলিভারি কর্মীরা সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। কাজের সময়ের হিসাব কীভাবে হবে, সেটিও আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একজন কর্মী যখন কোনো কাজের অর্ডার বা ‘জব’ গ্রহণ করবেন এবং সেটি গ্রাহকের কাছে সফলভাবে ডেলিভারি করে শেষ করবেন কেবলমাত্র এই মধ্যবর্তী ‘ব্যস্ত সময়টুকু’ (এনগেজড টাইম) মজুরির হিসাবের আওতায় আসবে। মজুরির পাশাপাশি কর্মীদের সুরক্ষায় বিমার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন নিয়মে ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার জন্য একটি ‘যৌক্তিক ও ন্যূনতম মাত্রার’ বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিমার আওতা ঠিক কতটুকু হবে, তা আদেশে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। অন্যদিকে, ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত নিজস্ব যানবাহনের ‘থার্ড-পার্টি’ বা তৃতীয় পক্ষের বিমা করার দায়িত্ব আগের মতোই কর্মীদের নিজেদের কাঁধেই থাকছে। গিগ অর্থনীতিতে কর্মীদের সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ সামনে এল। এর আগে গত জুনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) গিগ কর্মীদের বেতন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো একটি বাধ্যতামূলক কর্মসংস্থান মানদণ্ড গ্রহণ করেছিল। আইএলও-এর সেই মানদণ্ডগুলো অবশ্য এখনো বিভিন্ন দেশের সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের এই আদেশকে দেশের গিগ অর্থনীতির জন্য একটি "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। উবার ইটস এবং ডোরড্যাশ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে টিডব্লিউইউ-এর জাতীয় সম্পাদক মাইকেল কেইন বলেন, "অস্ট্রেলিয়ায় গিগ কর্মীদের অনেক দিন ধরেই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিবেশের সুযোগ-সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছিল। আগামী সোমবার থেকে তারা সম্পূর্ণ বিশ্বমানের একগুচ্ছ অধিকার ও সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করা হবে।" শুধু রেস্তোরাঁর খাবারই নয়, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহেও যুক্ত হয়েছে উবার ইটস ও ডোরড্যাশ। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম প্রমাণ করে যে কর্মীদের জোরালো সুরক্ষা এবং গিগ কাজের নমনীয়তা দুটি বিষয়ই একসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রেড ইউনিয়ন ও গিগ কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। সাধারণ কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গিগ কর্মীকে সাধারণত 'স্বাধীন চুক্তিনামা'র ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে। ফলে তারা প্রচলিত শ্রম আইনের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এই বৈষম্য দূর করতে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সেন্টার-লেফট বা মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বেশ কিছু আইন পাস করে। ওই আইনগুলোর মাধ্যমেই মূলত ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনকে গিগ কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ও বিমার মানদণ্ড নির্ধারণের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখা গেল এই নতুন আদেশের মাধ্যমে।
চীনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিয়ারস্টন প্রকল্পসহ অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতের কয়েকটি প্রকল্পে মার্কিন আগ্রহ বাড়ছে। সিয়ারস্টন প্রকল্পটি নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে স্ক্যান্ডিয়ামের বড় মজুত রয়েছে। স্ক্যান্ডিয়াম বিমান, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে অস্ট্রেলিয়ার সানরাইজ এনার্জি মেটালস। প্রকল্পটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চাহিদার কারণে। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সিয়ারস্টন প্রকল্প থেকে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১৫ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড কেনার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করে। প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান হতে পারে এই পরিমাণ। স্ক্যান্ডিয়াম বর্তমানে মূলত চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে স্ক্যান্ডিয়াম খনন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার প্রকল্পগুলো ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। সিয়ারস্টন প্রকল্পে উচ্চ বিশুদ্ধতার স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৬০ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব কমানো এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সিয়ারস্টনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ডাব্বো অঞ্চলের বিরল মাটি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্প নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিমান ও উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ এখন শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ট্রেলিয়া হয়ে উঠছে চীনের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নির্ভরযোগ্য উৎস গড়ে তোলার অন্যতম অংশীদার।
প্রকাশ্যে নারীদের আঁটসাঁট বা টাইট ব্যায়ামের পোশাক (অ্যাক্টিভওয়্যার) পরা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের এক নারী। জিমের পোশাক পরে শপিংমল বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো শালীনতা পরিপন্থি কি না, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো দুই ভাগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই যেমন ওই নারীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, তেমনি অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘নারীবিদ্বেষী’ মানসিকতার অভিযোগ তুলেছেন। অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডটএইউ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পপি নামের ওই টিকটকার সম্প্রতি কুইন্সল্যান্ডের টাউনসভিলের একটি সুপারমার্কেটের ভেতর থেকে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি প্রকাশ্যে নারীদের খুব ছোট শর্টস বা টাইট লেগিংস পরার তীব্র সমালোচনা করেন। পোশাকগুলো নারীদের শারীরিক গঠনকে দৃষ্টিকটুভাবে ফুটিয়ে তোলে বলে দাবি করেন তিনি। ভিডিওতে পপি বলেন, “যেসব নারী এ ধরনের অ্যাক্টিভওয়্যার বা ছোট শর্টস পরেন, আমি মনে করি এটা দারুণ ব্যাপার। আপনারা আত্মবিশ্বাসী এবং আপনাদের শারীরিক গঠনও সুন্দর। কিন্তু আপনারা কি বুঝতে পারেন যে হাঁটার সময় আপনাদের আঁটসাঁট পোশাকের কারণে গোপনাঙ্গের আকার স্পষ্টভাবে বোঝা যায়? আমাকে এসে বলবেন না যে আমি কেন ওদিকে তাকিয়েছি। কেউ যদি এমন পোশাক পরে আমার দিকে হেঁটে আসে, তাহলে না তাকিয়ে উপায় কী?” নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে এই টিকটকার পরিস্থিতিটিকে একজন পুরুষের টাইট প্যান্ট পরার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “এটা অনেকটা এমন যে, একজন পুরুষ খুব টাইট প্যান্ট পরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন এবং তার গোপনাঙ্গ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।” পপির এই স্পষ্টভাষী ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়তে থাকে। দর্শকরা এই ইস্যুতে স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদল তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, জনসমক্ষে শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মন্তব্যকারী লেখেন, “তিনি একদম ঠিক কথা বলেছেন জনসমক্ষে ভদ্রতা বলে একটা কথা আছে।” আরেকজন লেখেন, “অবশেষে কেউ একজন সত্যি কথাটা বলল। আমি এই নতুন ট্রেন্ডকে ঘৃণা করি, জিমের পোশাক কেবল জিমেই মানায়।” কেউ কেউ প্রকাশ্যে এমন পোশাক পরাকে ‘জঘন্য’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে অনেকেই পপির এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, পপি নিজেই একজন নারী হয়ে অন্য নারীদের পোশাক নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অন্তর্নিহিত নারীবিদ্বেষের লক্ষণ। সমালোচনাকারীদের একজন বলেন, “শারীরিক গঠন দেখা যাওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই। আমরা সবাই এভাবেই পৃথিবীতে এসেছি।” অন্য একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার পছন্দ না হলে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকুন এবং নিজের কাজে মন দিন। আমি অনেক কষ্ট করে নিজের শরীর এমন সুন্দর করেছি, কারও কথায় আমি আমার পোশাক পরিবর্তন করব না।” অনেকেই আবার জানান, জিমে ব্যায়াম শেষ করার পর নারীদের অনেক সময় কেনাকাটা করতে দোকানে যেতে হয়। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন রাখেন, “জিমে ওয়ার্কআউট করার পর কি আমাদের আগে বাড়ি গিয়ে পোশাক বদলাতে হবে? অনেক মেয়েরই ব্যস্ততা থাকে এবং জিম শেষ করেই বাজার করতে হয়।” পপির মন্তব্যের সঙ্গে মানুষ একমত হোক বা না হোক, তাঁর এই ভিডিওটি অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের পোশাক পরার অভ্যাস নিয়ে একটি বড় আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষ করে 'অ্যাথলিজার' বা ব্যায়াম ও ক্যাজুয়াল পোশাকের মিশ্রণ কীভাবে ধীরে ধীরে দেশটির নাগরিকদের এক প্রকার অঘোষিত দৈনন্দিন পোশাকে পরিণত হয়েছে, সেটিই নতুন করে সামনে এসেছে। বাণিজ্যিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিবিআরই-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ট্রেন্ডটি মূলত মানুষের কাজ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের প্রতিফলন। বর্তমানে রিমোট এবং হাইব্রিড কাজের সুযোগ বাড়ায় মানুষ এমন পোশাক খুঁজছে, যা পরে জুম মিটিং থেকে শুরু করে সন্তানদের স্কুল থেকে আনা বা দ্রুত কেনাকাটা সবই স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়। বিখ্যাত ব্র্যান্ড চোবানি-এর উদ্যোগে পরিচালিত একটি জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ৬০ বছরের কম বয়সী ৮২ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান ব্যায়াম, ঘরে অবস্থান বা বাইরে যাওয়ার জন্য সাধারণ পোশাক হিসেবে অ্যাক্টিভওয়্যার পরেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের পোশাক পরেন। তাই বিতর্ক যা-ই হোক না কেন, জিমের পোশাক যে এখন দৈনন্দিন ফ্যাশনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানিকে স্ক্যান্ডিয়াম খনিজের বিশ্বের প্রথম প্রাথমিক খনি নির্মাণে ৪০ কোটি ডলারের শর্তসাপেক্ষ ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ এই বিরল খনিজের সরবরাহে চীনের আধিপত্য থাকায় বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে খনি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর পেন্টাগন এই ঋণ প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে খনি থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার খনি কোম্পানি সানরাইজ এনার্জি মেটালস জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের ফিফিল্ডে প্রস্তাবিত খনিটি পশ্চিমা দেশগুলোর স্ক্যান্ডিয়াম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির নাম ‘সাইয়ার্সটন স্ক্যান্ডিয়াম প্রকল্প’। স্ক্যান্ডিয়াম প্রতিরক্ষা খাত, উড়োজাহাজ এবং তথ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত একটি বিরল খনিজ। এটি সাধারণত অন্যান্য খনিজ উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। অ্যালুমিনিয়ামকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নমনীয়তা, তাপ ও ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে স্ক্যান্ডিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্ক্যান্ডিয়াম ঘনত্ব থাকা অঞ্চলগুলোর একটি। বর্তমানে স্ক্যান্ডিয়ামের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের আধিপত্য রয়েছে। গত বছর প্রতিরক্ষা পণ্যের ক্ষেত্রে চীন স্ক্যান্ডিয়ামসহ বিরল খনিজের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরবরাহ উৎস খুঁজতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। এতে দুই দেশ বিভিন্ন প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সানরাইজ এনার্জি মেটালস গত বছর মার্কিন প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। ওই চুক্তির আওতায় খনিটি চালু হওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছরে উৎপাদিত স্ক্যান্ডিয়ামের ২৫ শতাংশ লকহিড মার্টিনকে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। স্ক্যান্ডিয়াম মহাকাশ প্রযুক্তি এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিতেও ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে খনিজটির সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ব্যাটারি খাতের একাধিক প্রকল্পে মোট ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এর লক্ষ্য দেশে এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও শিল্পনীতিকে শক্তিশালী করা। অস্ট্রেলিয়ার স্ক্যান্ডিয়াম প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ কোটি ডলারের শর্তসাপেক্ষ ঋণও একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনের নিয়ন্ত্রিত সরবরাহব্যবস্থার বাইরে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের নতুন উৎস তৈরিই প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ বা অ্যাডভার্স পজেশন আইনের সুযোগ নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি বাড়ির মালিকানা পাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী মার্গারেট কোলকুহুনকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ছেলে অ্যান্ড্রু কোলকুহুনকে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে মার্গারেটের স্বামী ও সিডনির সাবেক আইনজীবী পিটার কোলকুহুন অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আলোচিত এ মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিডনির গ্লেব এলাকার ৬১ বয়েস স্ট্রিটের একটি বাড়ি। আদালতের নথি ও অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মালিক ছিলেন আনসিস নিল্যান্ডস। ১৯৯৫ সালে তার মৃত্যুর পর সম্পত্তিটির উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসে অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে মালিকের অনুমতি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ও একচ্ছত্র দখলের প্রমাণ দিতে হয়। এ ব্যবস্থাই সাধারণভাবে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ নামে পরিচিত। মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা সম্পত্তিটির দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন তথ্য দিয়েছিলেন, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল ছিল না। বিশেষ করে তারা দাবি করেছিলেন, ২০০০ সালের নভেম্বরের দিকে বাড়িটির প্রকৃত দখল নিয়েছিলেন। এই সময়সীমা তাদের অ্যাডভার্স পজেশন দাবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি তখন পুরোপুরি পরিত্যক্ত ছিল না। বিচারক অ্যালিস্টার অ্যাবাডি মামলার তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুকে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। মার্গারেট ২০০৪ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার রেন্ট আদায় করেছিলেন বলেও আদালতে উঠে আসে। পরবর্তীতে সম্পত্তিটির মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ২০২২ সালে গ্লেবের বাড়িটি প্রায় ৩.৬৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক মার্গারেট ও তার ছেলের আচরণের সমালোচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতারণামূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্গারেট ২০২৭ সালের অক্টোবরে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন। অ্যান্ড্রুকে কারাগারে না পাঠিয়ে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে তার পারিবারিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নয় সন্তানের প্রধান দেখাশোনাকারী। অন্যদিকে পিটার কোলকুহুনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে আদালত সেই অভিযোগ প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে প্রমাণিত হয়নি বলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। মামলাটি অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কারণ অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে সম্পত্তি দাবি করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের এমন নজির অত্যন্ত বিরল। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে দেশটিতে এ ধরনের প্রথম সফল ফৌজদারি মামলার নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রায় একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এনেছে। অ্যাডভার্স পজেশন নিজে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের সমার্থক নয়। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে এর মাধ্যমে মালিকানা দাবি করা সম্ভব। কিন্তু সেই দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য দখলের সময়কাল বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা উপস্থাপন করলে তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চার্লভিলে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী এবং ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় রক্তমাখা এক ছোট শিশুকে উদ্ধার করে মানবিক সাহসিকতার নজির গড়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ডেইলি মেইল ও কুইন্সল্যান্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ছোট শহরে। পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার পর এক গুরুতর হামলার খবর পেয়ে জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে তারা একটি সহিংস পরিস্থিতির মুখে পড়ে এবং অস্ত্রের আশঙ্কায় সরে যেতে বাধ্য হয়। তবে ওই সময়ই এক কর্মকর্তা বাড়ির সামনের সিঁড়ির কাছে রক্তে ভেজা এক শিশুকে দেখতে পান। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশুটিকে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসেন। পরে শিশুটিকে পুলিশের গাড়ির পাশে বসিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় ওই কর্মকর্তাকে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী ম্যাকেনজি-গ্রেস স্মিথ Courier Mail-কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাটি শিশুটিকে এমনভাবে ধরে রেখেছিলেন, যেন সে ঘটনাস্থলের দিক না তাকায়। তার ভাষায়, ওই কর্মকর্তা এক হাতে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন এবং অন্য হাত দিয়ে তার মুখ সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে শান্ত ছিল, যদিও তার টি-শার্টে রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিশুটি পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিল। ঘটনাস্থলে পরে বিশেষায়িত পুলিশ দল পৌঁছে বৃহস্পতিবার ভোর ১টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে জুলিয়া ব্রান্সডন (২৩) এবং মাইকেল ওয়াল্টকে (৪৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশের সহকারী কমিশনার ম্যাথিউ ভ্যান্ডারবাইল ওই কর্মকর্তার পদক্ষেপকে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইল বলেন, ঘটনাটি খুবই জটিল এবং নিহত দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার আগে ওই ঠিকানায় পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ তাদের কাছে ছিল না। তদন্তে জানা গেছে, জুলিয়া ব্রান্সডন ও মাইকেল ওয়াল্টকে চার্লভিলের ওই বাড়ি কিনেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে। এর আগে তারা বান্ডাবার্গভিত্তিক প্রতিবন্ধী সহায়তা প্রতিষ্ঠান এম.আর. এবিলিটি সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং ইউনিভার্সাল সাপোর্ট কো-অর্ডিনেশন নামে দুটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ডেইলি মেইলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুলিয়ার এক আত্মীয় রব ব্রান্সডনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল। আরও জানা গেছে, জুলিয়া গর্ভবতী ছিলেন এবং তার সন্তানের সঙ্গেও তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পরে বন্ধুদের বরাতে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাটির পর স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেশী ভেরোনিকা হিকসন বলেন, নিজেদের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকেই এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভয় পেয়ে যান। অন্যদিকে চার্লভিলের মেয়র শন র্যাডনেজ বলেন, ছোট এই শহরের মানুষ ঘটনাটিতে গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর ভাষায়, “এই শিশুটি বেঁচে গেছে”—এটি স্বস্তির বিষয়, তবে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন। চার্লভিলের মতো ছোট জনপদে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু তদন্তের বিষয় নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের মানসিক আঘাতেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইলও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ, স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয় মানুষদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা জেটস্টার আগামী বছর থেকে কেবিনের ওভারহেড বিনে হাতব্যাগ বা ক্যারি অন ব্যাগ রাখার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নীতির আওতায় টিকিটের মূল ভাড়ায় শুধু সিটের নিচে রাখা যায় এমন একটি ছোট ব্যক্তিগত ব্যাগ বহনের সুযোগ থাকবে। বড় ব্যাগ ওভারহেড বিনে রাখতে চাইলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এয়ারলাইনটির ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। রুটভেদে ওভারহেড বিন ব্যবহারের ফি ২৫ থেকে ৫২ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই ফি পরিশোধ করলে যাত্রীরা “প্রায়োরিটি ক্যারি অন” সুবিধাও পাবেন, যার মাধ্যমে আগে বিমানে ওঠার সুযোগ মিলবে। তবে যাত্রীরা বিনা খরচে একটি ছোট ব্যাকপ্যাক, হ্যান্ডব্যাগ বা ল্যাপটপ ব্যাগ সঙ্গে নিতে পারবেন, যদি সেটি সামনের সিটের নিচে রাখা যায়। একই সঙ্গে কেবিন ব্যাগের আগের ৭ কেজি ওজনসীমাও তুলে দেওয়া হচ্ছে, ফলে নতুন নিয়মে ওভারহেড বিনে রাখা ব্যাগের সর্বোচ্চ ওজন হবে ১০ কেজি। জেটস্টারের প্রধান নির্বাহী স্টেফানি টালি বলেছেন, ওভারহেড বিন নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপ ও বিশৃঙ্খলা কমানো এবং দ্রুত বোর্ডিং নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার ভাষ্য, যাত্রীরা যাতে কেবল প্রয়োজনীয় সেবার জন্যই অর্থ পরিশোধ করেন, সেই লক্ষ্যেই নতুন মূল্যনীতি চালু করা হচ্ছে। তবে ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, মূল টিকিটের দাম কমানো ছাড়াই আগে যে সুবিধা ছিল, সেটির জন্য এখন অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তারা এটিকে যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন বহু বছর ধরেই ক্যারি অন ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত ফি নিয়ে আসছে। জেটস্টারের এই সিদ্ধান্ত সেই একই ব্যবসায়িক মডেলের অনুসরণ হলেও অস্ট্রেলিয়ায় এটি প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ (H5) বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির অন্যতম পরিচিত ‘লিটল পেঙ্গুইন’ উপনিবেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের আশঙ্কা, ভাইরাসটি মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডা সৈকতের পেঙ্গুইন উপনিবেশে পৌঁছালে সেখানে থাকা পেঙ্গুইনের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মারা যেতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রতি প্রথমবারের মতো বন্যপ্রাণীর মধ্যে বার্ড ফ্লুর কারণে ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই সতর্কতা সামনে এসেছে। মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডা উপকূলে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ‘লিটল পেঙ্গুইন’ বাসা বেঁধে থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শত শত দর্শনার্থী সৈকতে ভিড় করেন সমুদ্র থেকে এই ছোট আকারের পেঙ্গুইনগুলোর তীরে ফিরে আসার দৃশ্য দেখতে। ‘লিটল পেঙ্গুইন’ বিশ্বের সবচেয়ে ছোট প্রজাতির পেঙ্গুইন। এদের উচ্চতা সাধারণত প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন জনসংখ্যা রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপ আইল্যান্ডের উপনিবেশটি সবচেয়ে বড়। সেন্ট কিল্ডার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর্থকেয়ার সেন্ট কিল্ডার সভাপতি লানা অস্টিন বলেন, তাদের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী উপনিবেশটির ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পেঙ্গুইন মারা যেতে পারে। তবে এইচ৫ ভাইরাসটি পেঙ্গুইনের ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর দেশটিতে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বন্য সামুদ্রিক পাখির মধ্যে এইচ৫ ভাইরাসের ৭৮টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ঘটনা ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত হয়েছে। সোমবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের কাছে বাউডিন রকস দ্বীপে বার্ড ফ্লুর কারণে বন্যপ্রাণীর প্রথম গণমৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়। আকাশপথে নজরদারির সময় সেখানে প্রায় ৫০টি মৃত এবং ৩০টি অসুস্থ পাখি দেখা যায়। পরে পরীক্ষায় পাঁচটি গ্রেটার ক্রেস্টেড টার্ন ও একটি সিলভার গালের নমুনায় এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ নেলসনের কাছে গ্লেনেলগ নদীর মোহনা এবং লরেন্স রকস এলাকায় আরও অসুস্থ ও মৃত সামুদ্রিক পাখির সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়। সেখানকার নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভিক্টোরিয়ার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা গ্রেম কুক বলেন, গত সপ্তাহে যেখানে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি সংক্রমণের ঘটনা দেখা গিয়েছিল, এখন সেখানে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং এর প্রভাবও বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াটও সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আরও বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, বন্য পাখি ও প্রাণীর চলাচল বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় প্রাণীপ্রজাতির টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে। ২০২১ সাল থেকে ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে এই এইচ৫ ভাইরাস। এর আগে যুক্তরাজ্যেও ২০২১ ও ২০২২ সালে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে বিপুলসংখ্যক সামুদ্রিক পাখির মৃত্যু হয়েছিল। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার খামারের মুরগি বা হাঁস-মুরগির মধ্যে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু এলাকায় খামারের পাখিগুলোকে ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে প্রায় ১৪ কোটি খামারের পাখি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখনো বিরল। সাধারণত আক্রান্ত পাখি বা তাদের বিষ্ঠার সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লারা হেরেরো জানান, পোলট্রি খামারের কর্মী এবং বন্যপ্রাণী পরিচর্যাকারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এদিকে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জনগণকে অসুস্থ বা মৃত পাখি স্পর্শ না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এমন কোনো পাখি দেখা গেলে দ্রুত জরুরি প্রাণীরোগ হটলাইনে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে ভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণ সহজ হয়।
বাহ্যিক রূপ আর শারীরিক সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো যখন সামান্য প্রতিকূলতায় ভেঙে পড়ে, তখন বিশ্বজুড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এক দম্পতির ভালোবাসা। আগুনে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে যাওয়া ও দুই হাতের সাতটি আঙুল হারানোর পরও প্রেমিকার পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছিলেন এক যুবক। শুধু পাশে থাকা নয়, প্রেমিকার পরিচর্যা করার জন্য নিজের স্বপ্নের চাকরি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। অনন্য এই দম্পতি হলেন অস্ট্রেলিয়ার তুরিয়া পিট ও মাইকেল হসকিন। ঘটনার সূচনা ২০১১ সালে। পেশায় খনি প্রকৌশলী ও অ্যাথলেট তুরিয়া পিট অস্ট্রেলিয়ার কিম্বার্লি অঞ্চলে ১০০ কিলোমিটারের একটি কঠিন আল্ট্রা-ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন। দৌড়ানোর মাঝপথে হঠাৎ পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের তীব্র শিখা ঘিরে ধরে তুরিয়াকে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তাপে ঝলসে যায় তার শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার এতটাই অবক্ষয় ঘটেছিল যে, চিকিৎসকেরা তাকে প্রায় এক মাস কৃত্রিম কোমা বা চিকিৎসাজনিত অচেতন অবস্থায় রাখতে বাধ্য হন। কোমা থেকে ফেরার পর শুরু হয় বেঁচে থাকার আরেক কঠিন সংগ্রাম। শরীরের ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে, দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাকে দুই শতাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার দুই হাত মিলিয়ে মোট সাতটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছিল। তবে তুরিয়ার এই অন্ধকার সময়ে আশার আলো হয়ে পাশে ছিলেন তার জীবনসঙ্গী মাইকেল হসকিন। ২০০৯ সাল থেকেই গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে ছিলেন এই যুগল। মাইকেল পেশায় ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তুরিয়ার দুর্ঘটনার পর তিনি বুঝতে পারেন, এই মুহূর্তে তুরিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাকে। প্রেমিকার পাশে থাকার তাগিদে মাইকেল নিজের পুলিশের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন এবং নিজেকে তুরিয়ার সার্বক্ষণিক সেবক হিসেবে নিয়োজিত করেন। হাসপাতালের বিছানা থেকে শুরু করে বাড়িতে ফেরার পর তুরিয়ার প্রতিদিনের ক্ষতের ড্রেসিং বদলে দেওয়া, ওষুধ খাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিচর্যার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেন মাইকেল। সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়টি এসেছিল তুরিয়ার চিকিৎসার শুরুর দিকেই। তুরিয়া যখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন ও মৃত্যুর মাঝে ঝুলছিলেন, ঠিক তখনই মাইকেল তার জন্য একটি বিয়ের এনগেজমেন্ট রিং কিনে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে মাইকেলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তুরিয়ার এমন বিপর্যস্ত চেহারার পর কখনো কি তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা মাথায় এসেছিল? জবাবে মাইকেল ভালোবাসার এমন এক সংজ্ঞা দিয়েছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মাইকেল বলেছিলেন, "আমি তো তার রূপকে নয়, ভালোবেসেছিলাম তার আত্মা আর চরিত্রকে।" দীর্ঘ চিকিৎসা, পুনর্বাসন আর মানসিক লড়াই শেষে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তুরিয়া ও মাইকেল। আগুনে তুরিয়ার শারীরিক গঠনের অনেক কিছু বদলে গেলেও মাইকেলের ভালোবাসা আর বিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে এই দম্পতির সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। আগুনের নির্মম শিখা তুরিয়ার শরীর পুড়িয়ে দিলেও, তাদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে ছাই করতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার কিয়ামা শহরের একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রায় ১৫০ বছর পর ফেরত এসেছে একটি বই। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত ‘অ্যান্টিকুইটিস অব এথেন্স’ নামের বইটি সম্প্রতি একটি বাড়ি সংস্কারের সময় বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ইটের গাঁথুনির ভেতরে রাখা একটি চায়ের বাক্স থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে গত সপ্তাহে সেটি লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন জানান, পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী হিসাব করলে বইটি দেরিতে ফেরত দেওয়ার জরিমানা দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার, যা প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের সমান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। তিনি জানান, ১৮৭২ সালে লাইব্রেরি চালুর সময় বইটির ভেতরের প্রচ্ছদে উল্লেখ ছিল, প্রতি সপ্তাহে তিন পেন্স হারে বিলম্ব ফি আদায় করা হবে। সেই নিয়ম অনুসারেই এত বছরের জরিমানার হিসাব করা হয়েছে। তবে ১৮৭০-এর দশকের ধার রেজিস্টার সংরক্ষিত না থাকায় শেষবার কে বইটি নিয়েছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। সে সময় একটি পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্য পড়তে জানলে তারা সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার নিতে পারতেন। পাশাপাশি আগের বই ফেরত না দেওয়া বা জরিমানা পরিশোধ না করলে নতুন বই দেওয়া হতো না। মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছেও বই ইস্যু করা হতো না। মিশেল হাডসনের ধারণা, বিপুল অঙ্কের জরিমানা এড়াতেই হয়তো বইটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন চিমনির পাশে পড়ে থাকায় বইটিতে পানির দাগও লেগেছে। তার মতে, লাইব্রেরি চালুর কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে গিয়েছিল। লাইব্রেরির প্রাথমিক এক হাজার বইয়ের সংগ্রহে এটি ৫০৬ নম্বর বই হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। বর্তমানে বইটি লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ভবিষ্যতে বইটি আর কাউকে ধার দেওয়া হবে না, কারণ এটি ফিরে পেতে আর ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চায় না।
অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ এখন শুধু ভাড়া পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বলে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আবাসন বাজার, সংক্রান্ত বিশ্লেষণ ও ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থসহ বড় শহরগুলোতে ভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে সাপ্তাহিক মধ্যম ভাড়া গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে শূন্য বাসার হার খুবই কম থাকায় ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। উচ্চ সুদের হার, নতুন আবাসন নির্মাণের ধীরগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভাড়ার জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির সংকট বাজারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। ফলে অনেক পরিবারকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি শুধু বাড়িভাড়ার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন করে তুলছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে বিনিয়োগ সম্পর্কিত কর নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন ভাড়ার সম্পত্তি কেনা থেকে সরে আসছেন বলে আবাসন খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তাদের মতে, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নয়, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণ, ভাড়ার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। অন্যথায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসন–সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দাদার ৫৬ লাখ ডলারের সম্পত্তি থেকে প্রায় ১০ লাখ ডলার দাবি করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী টিয়ানা বার্লো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্ট তাকে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে বিচারক এলিজাবেথ পেডেন মন্তব্য করেন, টিয়ানার দাবিতে ‘অযৌক্তিক অধিকারবোধ’ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রকাশিত আদালতের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, টিয়ানার দাদা টেরেন্স বার্লো ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। এরপর তিনি পারিবারিক সম্পত্তিতে অতিরিক্ত অংশ পাওয়ার দাবিতে মামলা করেন। তার দাবি ছিল, দাদা তার কাছে কেবল দাদা ছিলেন না, বরং বাবার মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। সে কারণেই দাদার সম্পত্তি থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। মামলায় টিয়ানা আদালতের কাছে দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার, নতুন গাড়ি কেনার জন্য ৫৫ হাজার ৫০০ ডলার, আগের গাড়ির ঋণ পরিশোধে ১১ হাজার ১২৭ ডলার, ভবিষ্যতে আইভিএফ চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ হিসেবে ১০ হাজার ডলার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়ের জন্য আরও ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার চেয়েছিলেন। টেরেন্স বার্লোর মোট সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে সিডনির বুরানিয়ারে অবস্থিত সমুদ্রতীরবর্তী পারিবারিক বাড়িটির মূল্য ছিল প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া শোল বে এলাকায় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রের বাড়ির মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ডলার। আদালতে টিয়ানা দাবি করেন, সম্পত্তির পরিমাণ এত বেশি যে পরিবারের সবাইকে দেওয়ার পরও তার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে। শুনানিতে উঠে আসে, টিয়ানার মা ১৭ বছর বয়সে তাকে জন্ম দেন। জীবনের প্রথম কয়েক বছর তিনি দাদা-দাদির সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। পরে মায়ের সঙ্গে থাকলেও ১৫ বছর বয়সে আবার দাদার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং এরপর থেকেই সেখানে ভাড়ামুক্তভাবে বসবাস করছিলেন। এই সময়ে টিয়ানা একাধিক হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করান। আদালতে জানানো হয়, তার চিকিৎসার বিভিন্ন খরচ বহন করেছিলেন দাদা টেরেন্স এবং দাদি ফে মেরি বার্লো। স্কুলের ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়েও তারা সহায়তা করেছিলেন। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা টিয়ানার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, টেরেন্স একজন স্নেহশীল দাদার দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু কখনোই অভিভাবকের ভূমিকা নেননি। বিচারক এলিজাবেথ পেডেন রায়ে বলেন, টিয়ানা দীর্ঘদিন দাদা-দাদির কাছ থেকে থাকার জায়গা, খাবার, পোশাক ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তবে এসব ছিল একজন দাদার স্বাভাবিক উদারতা। এতে বাবা-মেয়ের মতো সম্পর্কের প্রমাণ মেলে না। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, টিয়ানা দাদার বাড়িতে দীর্ঘদিন ভাড়ামুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই সময়ে তার অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় খরচের পরিবর্তে তিনি আয়ের বড় অংশ ব্যক্তিগত ও বিলাসী ব্যয়ে ব্যয় করেছেন। মামলার সময় টিয়ানা একটি প্রতিষ্ঠানে স্টোর ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পান। আদালতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, তার মাসিক আয় ছিল ৪ হাজার ৩৪২ ডলার। তবে তিনি দাবি করেন, মাসিক ব্যয় আয়ের চেয়ে প্রায় ৫৬৭ ডলার বেশি। তার ব্যয়ের তালিকায় প্রতি মাসে খাবার ও পানীয়ের জন্য ১ হাজার ডলার, কেনাকাটা ও ব্যক্তিগত ব্যয়ে ১ হাজার ৫০০ ডলার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ৫৩০ ডলার এবং বিনোদনে ৩০০ ডলার দেখানো হয়েছিল। বিচারক এসব হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে টিয়ানার ব্যয়ের হিসাব বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। যেমন শুরুতে তিনি গণপরিবহনে সপ্তাহে ১০০ ডলার ব্যয়ের কথা বললেও পরে সেটি ব্যাখ্যা ছাড়াই মাসে ৯০০ ডলারে উন্নীত করেন। একইভাবে চিকিৎসা ব্যয়ের দাবিও আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রমাণে সমর্থিত হয়নি। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার জন্য আইভিএফ চিকিৎসার সম্ভাব্য ব্যয় হিসেবে ১০ হাজার ডলার চাওয়ার দাবিও আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের মতে, ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তা প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্য টিয়ানা উপস্থাপন করতে পারেননি। রায়ে বিচারক আরও বলেন, শুনানির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিয়ানা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে গেছেন। পরে এসে তিনি নিজেই তার দাবির পরিমাণ কমিয়ে আনেন। এতে বোঝা যায়, মামলার শুরুতে করা দাবিগুলো বাস্তবসম্মত ছিল না। সব দিক বিবেচনা করে আদালত টিয়ানাকে সম্পত্তি থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারক মন্তব্য করেন, টিয়ানা আর্থিকভাবে অসহায় নন। তার স্থায়ী চাকরি রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার প্রমাণও আদালতে পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘কোডিং ফেস্ট ২০২৬’-এ ‘বেস্ট প্রজেক্ট ইন এআই ফর এডুকেশন’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি (ইউএফটিবি)। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বুদ্ধিমান, সহজলভ্য এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করে তোলার লক্ষ্যে তৈরি করা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘শিক্ষাই’-এর (Sikkhai) জন্য এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেছে প্রতিষ্ঠানটির একদল তরুণ গবেষক। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি এই বিশ্বমঞ্চে ইউএফটিবি দলের জমা দেওয়া চারটি গবেষণাপত্রই সম্মেলনে গৃহীত হওয়ার অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে। গৃহীত এই গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ইইজি (EEG) সিগন্যাল ব্যবহার করে নিউরো-সিম্বলিক এআইভিত্তিক সহায়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্লকচেইন প্রযুক্তির সমন্বয়ে নিরাপদ ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম এবং পরিবেশবান্ধব আইওটি-ভিত্তিক (IoT) স্মার্ট কৃষি সমাধান। বহুমুখী গবেষণার এই স্বীকৃতি দলটির অসামান্য মেধা ও একাগ্রতার প্রমাণ দেয়। প্রযুক্তি বিশ্বে এমন অভাবনীয় সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং গবেষণার মানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তরুণ গবেষকদের এই মেধা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রমাণ করে যে, বিশ্বমানের গবেষণায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও এখন বিশ্বের বুকে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটি। ২০২৭ সালের রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম (আরটিপি) স্কলারশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই স্কলারশিপের মাধ্যমে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স (এমফিল) এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে মারডক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে এই বৃত্তির আওতায় আবেদন করা যাবে। বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের তত্ত্বাবধানে গবেষণার সুযোগ এবং বৈশ্বিক গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। মাস্টার্স (গবেষণাভিত্তিক) প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণি অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের গবেষণার সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। সাধারণত প্রথম শ্রেণি বা আপার সেকেন্ড ক্লাস অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি, স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা গবেষণার দক্ষতা প্রমাণ করে এমন সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হবে। আবেদন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সম্পূর্ণ আবেদন গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অফিসে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মারডক ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেতে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন।
'জবরদস্তিমূলক শ্রম' রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলীয় পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ নতুন বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আলবানিজ সরকার। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে, জবরদস্তিমূলক শ্রমবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার তালিকায় থাকা ৫৪টি দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। চীন, ব্রাজিল, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় তিনটি রপ্তানি পণ্য—যেমন গরুর মাংস ও স্বর্ণ এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা জবরদস্তিমূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল। তিনি বলেন, আধুনিক দাসপ্রথা ও জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ার আইন বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং এই শুল্ক সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। উপ-প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মারলেসও মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে 'বোকামি' বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, অস্ট্রেলিয়াকে কানাডা বা যুক্তরাজ্যের মতো কম শুল্কের (১০%) তালিকায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। দেশটির ব্যবসায়ী ও কৃষিখাতের শীর্ষ সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা ও ভিত্তিহীন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বর্তমানে এই নতুন শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন খরচ এবং আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের এক দম্পতি। নিজেদের বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ঋণমুক্ত জীবন শুরু করতে পারবেন। ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের বাসিন্দা ক্রিস্টি-গ্লোরি গ্যালো (কেজি) এবং তার স্বামী রিকার্ডো পারাটা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইতালির তুসকানি অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর লুক্কায় বসবাস শুরু করবেন। দম্পতির দুই সন্তানের বয়স ১১ ও ৭ বছর। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করেছেন তারা। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, তারা অল্প বয়সেই বিয়ে করেছেন, বাড়ি কিনেছেন, ব্যবসা শুরু করেছেন, ব্যবসা বিক্রিও করেছেন, সম্পত্তি সংস্কার করেছেন এবং পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি দুই সন্তানকে বড় করেছেন। জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রচলিত সব পথই অনুসরণ করেছিলেন তারা। কিন্তু এত কিছুর পরও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক স্বস্তি পাননি। তার ভাষায়, "আমরা বসে নিজেদের প্রশ্ন করলাম, এত চেষ্টা করার পরও কেন মনে হচ্ছে আমরা এগোতে পারছি না?" ক্রিস্টি-গ্লোরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্টাইলিং খাতে কাজ করেন। অন্যদিকে রিকার্ডো শিক্ষা খাতে কর্মরত। তারা জানান, প্রতিদিনের খরচ বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো জীবনযাত্রা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "প্রতিবার বিল এলে গভীর শ্বাস নিতে হতো। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সেটাও দেখে নিতে হতো।" তিনি আরও বলেন, তার স্বামীর আয়ের ওপর করের বোঝাও অনেক বেশি হয়ে উঠেছিল। গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে খরচ কমানোর জন্য পরিবারটি নানা উদ্যোগ নেয়। বিনোদনমূলক অনলাইন সেবার সদস্যপদ বাতিল করা, সন্তানের ফুটবল ক্লাব পরিবর্তন করা, অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, "আমরা বিলাসবহুল গাড়ি চালাই না। খুব সাধারণভাবেই জীবন কাটিয়েছি। তারপরও মনে হয়েছে শুধু খরচ কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।" শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নেন, জীবনযাত্রাকে আরও সীমাবদ্ধ না করে বরং নতুন দেশে নতুনভাবে শুরু করবেন। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ ছিল আবাসনের দামের বিশাল পার্থক্য। দম্পতি জানান, ২০২৩ সালে তারা গোল্ড কোস্টে ৫ লাখ ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। পরে সেটি সংস্কার করেন। বর্তমানে বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কাছাকাছি। অন্যদিকে ইতালির লুক্কায় তারা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) মূল্যের সম্পূর্ণ সংস্কার করা তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, বাড়িটিতে নতুন পাইপলাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জানালা ও তাপ নিরোধকসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা আগে থেকেই রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত সংস্কারের প্রয়োজন হবে না। অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি করলে ইতালির নতুন বাড়ি কেনার পরও তাদের হাতে সঞ্চয় থাকবে এবং সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত জীবন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা। পরিবারটির ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পথ সহজ হয়েছে রিকার্ডোর ইতালীয় বংশসূত্রের কারণে। তিনি ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দুই সন্তানও দ্বৈত নাগরিকত্ব অর্জন করেছে। আর ক্রিস্টি-গ্লোরি স্বামীর মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন এবং তিন বছর পর ইতালির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তিনি স্বীকার করেন, এই সুযোগ সবার জন্য সহজলভ্য নয়। ক্রিস্টি-গ্লোরি আরও জানান, জীবনে দুবার মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, "এ ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে বদলে দেয়।" তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারটি যখন নতুন জীবনের সুবিধা-অসুবিধার তালিকা তৈরি করে, তখন সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ৪০ বছর বয়সে পৌঁছে এই সুযোগ না নেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হওয়া। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "ওটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।" নতুন জীবনে তারা সন্তানদের নিয়ে আরও বেশি সময় বাইরে কাটাতে, সাইকেল চালাতে, ফুটবল খেলতে এবং ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চান। তিনি বলেন, "এখন প্রথমবারের মতো ভবিষ্যতের চাকরি নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে অনেক হালকা লাগছে। আমরা আর ঋণের বোঝা নিয়ে বাঁচব না।" সূত্র: ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্কুলের ছুটিতে সন্তানদের আনন্দ দিতে বারবিকিউ করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এক মা। মার্শম্যালো ভাজার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ তার শরীরে আগুন ধরে যায়। ১১ বছরের ছেলে এবং ৭ বছরের মেয়ের চোখের সামনেই ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা, যা শেষ পর্যন্ত ওই নারীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। শার্লট রোজ-অ্যান হিল নামের ওই নারী তার বাড়ির উঠানে সন্তানদের জন্য এই বিশেষ আয়োজন করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার ছেলে ও মেয়ে কাছেই ছিল এবং পুরো ঘটনাটি তারা অসহায়ভাবে প্রত্যক্ষ করে। শার্লটের কাজিন বিয়াঙ্কা হিল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাচ্চারা সে সময় অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। মায়ের গায়ে আগুন দেখে ছোট্ট মেয়েটি তার জীবনের সর্বোচ্চ শক্তিতে চিৎকার করে বাবাকে ডাকে, যিনি ওই সময় কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মাত্র ১১ বছর বয়সী ছেলে নিজের জ্যাকেট দিয়ে মায়ের গায়ের আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। শার্লটের স্বামী দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। আগুনে শার্লটের মুখ ও হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তার অবস্থার হয়তো উন্নতি হচ্ছে। তিনি চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে ফোনে সন্তানদের সাথে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শার্লটের মৃত্যু তার পরিবারের জন্য আরও বেশি হৃদয়বিদারক, কারণ ছোটবেলায় তিনি নিজেও তার মায়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছিলেন। বিয়াঙ্কা জানান, শার্লট কখনোই চাননি তার সন্তানরা একই ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাক। অত্যন্ত দয়ালু ও হাসিখুশি স্বভাবের শার্লট সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে যেকোনো কিছু করতে পারতেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে চারপাশের মানুষের সহানুভূতি, ভালোবাসা ও একটি সুন্দর সমাজকাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।