ইন্দোনেশিয়ায় যমজ দুই বোনের একজন মুসলিম অন্যজন ক্যাথলিক, ভিন্ন ধর্মেও অটুট ভালোবাসা
একই মায়ের গর্ভে জন্ম, বেড়ে ওঠাও একই পরিবারে। কিন্তু বড় হয়ে ধর্মীয় জীবনে দুই ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার যমজ দুই বোন। একজন ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন, অন্যজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মের সন্ন্যাসিনী। একজন পবিত্র মক্কায় হজ পালন করেছেন, অন্যজন নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন ধর্মীয় সাধনা ও অনাথ শিশুদের সেবায়। ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও তাঁদের পারস্পরিক ভালোবাসা এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
ক্যাথলিক সংবাদ সংস্থা এজেনজিয়া ফিদেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যমজ দুই বোনের বাড়ি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে। দেশটির এই অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং খ্রিষ্টানরা সংখ্যালঘু। এমন একটি সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা দুই বোন নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করছেন।
দুই বোনের একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারী। তিনি ইসলামের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণ করেন এবং পবিত্র মক্কায় হজ পালন করেছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিশ্বাস তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্য বোন সিস্টার তারসিসিয়ানা এম। তিনি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংঘ ‘ডটার্স অব আওয়ার লেডি অব দ্য স্যাক্রেড হার্ট’-এর সদস্য। ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলের মেরাউকে শহরে একটি এতিমখানায় সেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এতিম শিশুদের পরিচর্যায় সময় ব্যয় করেন তিনি।
দুই বোনের জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য থাকলেও সেই ভিন্নতা তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেনি। এজেনজিয়া ফিদেসের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁরা একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করেন। নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেও পরিবারের সদস্য হিসেবে গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।
দুজনের কাছে পরিবার এখনো এমন একটি জায়গা, যেখানে তাঁরা নিজেদের বিশ্বাসের পার্থক্য ভুলে নয়, বরং সেই পার্থক্যকে সম্মান করেই একে অপরের কাছে ফিরে আসেন। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে তাঁদের যমজ বোনের সম্পর্ক এবং পারিবারিক বন্ধন সমান গুরুত্ব বহন করে।
ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ধর্মের অনুসারী সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠা এমন আরও পরিবার রয়েছে। এজেনজিয়া ফিদেসের একই প্রতিবেদনে পশ্চিম জাভার একটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মা-বাবা কনফুসীয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করলেও তাঁদের সন্তানদের পরিবারে ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী রয়েছেন। ধর্মীয় উৎসবের সময় পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।
ইন্দোনেশিয়ার যমজ দুই বোনের জীবনেও একই ধরনের পারস্পরিক শ্রদ্ধার চিত্র দেখা যায়। একজনের কাছে ইসলামের ধর্মীয় অনুশাসন গুরুত্বপূর্ণ, অন্যজনের কাছে ক্যাথলিক সন্ন্যাসজীবন ও মানবসেবা। কিন্তু নিজেদের বিশ্বাস অনুসরণের জন্য কাউকে পারিবারিক সম্পর্ক ত্যাগ করতে হয়নি।
এই দুই বোনের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে অবশ্য কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মুসলিম বোনের পূর্ণ নাম, তাঁদের বয়স, শৈশবের বিস্তারিত ঘটনা কিংবা কীভাবে দুজন ভিন্ন ধর্মীয় পথ বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, একজন হজ পালন করেছেন, অন্যজন ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী হিসেবে এতিম শিশুদের সেবায় যুক্ত। ধর্মীয় বিশ্বাসের এই পার্থক্য সত্ত্বেও যমজ দুই বোনের ভালোবাসা এবং পারিবারিক সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
সূত্র: এজেনজিয়া ফিদেস।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreএকই মায়ের গর্ভে জন্ম, বেড়ে ওঠাও একই পরিবারে। কিন্তু বড় হয়ে ধর্মীয় জীবনে দুই ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার যমজ দুই বোন। একজন ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন, অন্যজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মের সন্ন্যাসিনী। একজন পবিত্র মক্কায় হজ পালন করেছেন, অন্যজন নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন ধর্মীয় সাধনা ও অনাথ শিশুদের সেবায়। ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও তাঁদের পারস্পরিক ভালোবাসা এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রয়েছে। ক্যাথলিক সংবাদ সংস্থা এজেনজিয়া ফিদেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যমজ দুই বোনের বাড়ি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে। দেশটির এই অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং খ্রিষ্টানরা সংখ্যালঘু। এমন একটি সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা দুই বোন নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করছেন। দুই বোনের একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারী। তিনি ইসলামের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণ করেন এবং পবিত্র মক্কায় হজ পালন করেছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিশ্বাস তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্য বোন সিস্টার তারসিসিয়ানা এম। তিনি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংঘ ‘ডটার্স অব আওয়ার লেডি অব দ্য স্যাক্রেড হার্ট’-এর সদস্য। ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলের মেরাউকে শহরে একটি এতিমখানায় সেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এতিম শিশুদের পরিচর্যায় সময় ব্যয় করেন তিনি। দুই বোনের জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য থাকলেও সেই ভিন্নতা তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেনি। এজেনজিয়া ফিদেসের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁরা একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করেন। নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেও পরিবারের সদস্য হিসেবে গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক ধরে রেখেছেন। দুজনের কাছে পরিবার এখনো এমন একটি জায়গা, যেখানে তাঁরা নিজেদের বিশ্বাসের পার্থক্য ভুলে নয়, বরং সেই পার্থক্যকে সম্মান করেই একে অপরের কাছে ফিরে আসেন। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে তাঁদের যমজ বোনের সম্পর্ক এবং পারিবারিক বন্ধন সমান গুরুত্ব বহন করে। ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ধর্মের অনুসারী সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠা এমন আরও পরিবার রয়েছে। এজেনজিয়া ফিদেসের একই প্রতিবেদনে পশ্চিম জাভার একটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মা-বাবা কনফুসীয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করলেও তাঁদের সন্তানদের পরিবারে ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী রয়েছেন। ধর্মীয় উৎসবের সময় পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। ইন্দোনেশিয়ার যমজ দুই বোনের জীবনেও একই ধরনের পারস্পরিক শ্রদ্ধার চিত্র দেখা যায়। একজনের কাছে ইসলামের ধর্মীয় অনুশাসন গুরুত্বপূর্ণ, অন্যজনের কাছে ক্যাথলিক সন্ন্যাসজীবন ও মানবসেবা। কিন্তু নিজেদের বিশ্বাস অনুসরণের জন্য কাউকে পারিবারিক সম্পর্ক ত্যাগ করতে হয়নি। এই দুই বোনের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে অবশ্য কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মুসলিম বোনের পূর্ণ নাম, তাঁদের বয়স, শৈশবের বিস্তারিত ঘটনা কিংবা কীভাবে দুজন ভিন্ন ধর্মীয় পথ বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, একজন হজ পালন করেছেন, অন্যজন ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী হিসেবে এতিম শিশুদের সেবায় যুক্ত। ধর্মীয় বিশ্বাসের এই পার্থক্য সত্ত্বেও যমজ দুই বোনের ভালোবাসা এবং পারিবারিক সম্পর্ক অটুট রয়েছে। সূত্র: এজেনজিয়া ফিদেস।
ব্রিটেনে বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষা করতে হবে ১০ থেকে ১৫ বছর
অবৈধভাবে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা, চালককে জরিমানা
"কয়েক মাস যুদ্ধ করি নি" ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোতে ভুয়া ইমিগ্রেশন ল ফার্ম পরিচালনা করে অভিবাসীদের প্রতারণা এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ব্রাজিল ও কিউবার নাগরিক। তাঁদের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড, ভিসা জালিয়াতি, ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং অনুমোদনহীন অভিবাসীদের নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অরল্যান্ডোভিত্তিক লিগ্যাসি ইমিগ্রা সলিউশনস এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিত। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ, অ্যাসাইলাম এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন সুবিধা পেতে আগ্রহী অভিবাসীদের তারা আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিত। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের ভুল ও অসম্পূর্ণ আইনি পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডকুমেন্ট জাল করত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাগনার সোয়ারেস ডি আলমেইদা ও তাঁর স্ত্রী জুলিয়ানা কোলুচি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আলমেইদা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ব্যবসাটির মালিক ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই সময় প্রতিষ্ঠানটি অভিবাসীদের ইমিগ্রেশন আবেদন ও আইনি সহায়তার নামে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার দাবি করত। অভিযোগপত্রে ৫৪ বছর বয়সী আলমেইদা, ৪৭ বছর বয়সী জুলিয়ানা কোলুচি, ৩৪ বছর বয়সী লুকাস ফেলিপে ত্রিনদাদে সিলভা এবং ৩৫ বছর বয়সী রোনালদো ডি ক্যাম্পোসের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্র ও ওয়্যার ফ্রডের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণা এবং অনুমোদনহীন অভিবাসীদের নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। জাল তথ্য ও নথিপত্র ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি নেই, এমন ব্যক্তিদের জেনেশুনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও চার কর্মীর বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড ও ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। সব মিলিয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ফেডারেল অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের অফিস প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় শেরিফ জন মিনা জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন বছরে দুই কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। অভিযোগকারী কয়েকজন গ্রাহকের প্রত্যেকে আড়াই হাজার থেকে ২৬ হাজার ডলার পর্যন্ত হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশই ব্রাজিলীয় নাগরিক বলে স্থানীয় তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন। ফেডারেল আইনে ওয়্যার ফ্রড এবং এর ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর, বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণার ষড়যন্ত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং অনুমোদনহীন অভিবাসীদের বেআইনিভাবে নিয়োগের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, আইআরএসের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, ইউএসসিআইএস, আইসিই, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে মামলাটির তদন্ত করছে। ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটর বিয়াঙ্কা বানসাল মামলাটি পরিচালনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত আইনি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনজীবীর লাইসেন্স যাচাই করার গুরুত্বও সামনে এনেছে ঘটনাটি। ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে বৈধভাবে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট স্টেট বার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, ফেডারেল অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস, ২ নভেম্বর ২০২৬; ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো
বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের ফ্রান্সে পাচার, ২১ জনের মোট ৮৪ বছরের বেশি কারাদণ্ড
মোবাইলে হঠাৎ পারমাণবিক হামলার বার্তা, হ্যাকারদের কবলে ইউক্রেনের জরুরি অ্যাপ
ভারতের পাঞ্জাবে মসজিদ নির্মাণে জমি দান, ফের আলোচনায় ৭৫ বছর বয়সী শিখ বৃদ্ধা
যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমান পাঁচ বছরের পরিবর্তে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য অপেক্ষার সময়সীমা ১০ বছর করার পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের পার্লামেন্টে নতুন অভিবাসন নীতির বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়ার কথা। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখনো সবার জন্য কার্যকর হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানিয়েছে, সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে শুধু নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেই চলবে না। আবেদনকারীর কর্মসংস্থান, কর প্রদান, আইন মেনে চলা এবং ব্রিটিশ সমাজে অবদানের বিষয়ও বিবেচনা করা হবে। নতুন ব্যবস্থাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের স্কিলড ওয়ার্কারসহ বেশ কয়েকটি ভিসা ক্যাটাগরিতে সাধারণত পাঁচ বছর পর আইএলআরের জন্য আবেদন করা যায়। তবে সব ভিসায় একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। নতুন পরিকল্পনায় অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য এই সময়সীমা দ্বিগুণ করে ১০ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, উচ্চ আয় কিংবা বিশেষ অবদানের ভিত্তিতে কিছু অভিবাসী তুলনামূলক কম সময়েও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। প্রস্তাবের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশগুলোর একটি হলো বিদেশি কেয়ার ওয়ার্কারদের স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা। আগের পরিকল্পনায় কিছু কেয়ার ওয়ার্কার এবং অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতার পেশায় কর্মরত অভিবাসীদের জন্য ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষার বিধান রাখা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কেয়ার ওয়ার্কারদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়। নতুন নিয়ম ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত অভিবাসীদের ওপর প্রযোজ্য হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে যাঁরা পাঁচ বছরের নিয়ম অনুসরণ করে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের জন্য পরিবর্তনটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নীতি ও সম্ভাব্য ট্রানজিশনাল ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এর আগে জানিয়েছেন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি শুধু অবস্থানের মেয়াদের ভিত্তিতে নয়, বরং অভিবাসীর অবদান ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, কেয়ার সেক্টরের প্রতিনিধিসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কঠোর নিয়মের কারণে গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদেশি কর্মী ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। বাংলাদেশিসহ যুক্তরাজ্যে কর্মরত বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে যাঁরা বর্তমানে পাঁচ বছরের আইএলআর রুটে রয়েছেন, তাঁদের সবার অপেক্ষার সময় ইতিমধ্যে ১০ বছর হয়ে গেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। চূড়ান্ত নিয়ম, কার্যকরের তারিখ এবং পুরোনো আবেদনকারীদের জন্য কোনো ছাড় থাকবে কি না, তা সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। নিউজ সোর্স: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রয়টার্স, স্কাই নিউজ।
গাজায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য গরম খাবার বিতরণ করল সৌদি আরব
সোভিয়েত পতনের চেয়েও বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা, গ্যাসসংকটে পড়তে পারে ইরান