- প্রচ্ছদ
- Topic
ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহতে পর কীয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক নারী ও এক পুরুষকে প্রকাশ্যে ১০০টি করে বেত্রা ঘাত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাদের এই শাস্তি কার্যকর করা হয়। বেত্রা ঘাতের সময় ওই নারী ব্যথায় কাতর হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে কর্মকর্তারা তাকে ধরে দাঁড় করান। পুরুষটির ক্ষেত্রেও ৬০টি বেত্রা ঘাত দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে কিছু সময়ের জন্য শাস্তি স্থগিত রাখা হয়। পরে তাকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে বাকি ৪০টি বেত্রা ঘাত দেওয়া হয়। এভাবে তার মোট ১০০টি বেত্রা ঘাতের সাজা সম্পন্ন করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুগলকে গত মাসে বান্দা আচেহ শরি য়া আদালত পর কীয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০০টি করে বেত্রা ঘাতের সাজা দেন। আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় শরি য়া আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর রয়েছে। বিয়ে ছাড়া যৌ ন সম্পর্কসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীনে বেত্রা ঘাতের মতো শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রকাশ্যে শাস্তি কার্যকরের সময় ওই নারীকে তীব্র ব্যথায় কষ্ট পেতে দেখা যায়। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত ছবিতে একপর্যায়ে তাকে হাত তুলে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। পরে তিনি হাঁটু গেড়ে পড়ে গেলে কর্মকর্তারা তাকে ধরে উঠিয়ে নেন। তার সঙ্গে থাকা পুরুষটিকেও বেত্রা ঘাতের সময় ব্যথায় কুঁকড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম AJNN-এর বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানায়, পুরুষটির ৬০টি বেত্রা ঘাত সম্পন্ন হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্বেগ তৈরি হয়। আচেহ জেলা অ্যাটর্নি অফিসের সাধারণ অপরাধ বিভাগের প্রধান দারমা মুস্তিকা বলেন, তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়ে থাকতে পারে অথবা তিনি বেত্রা ঘাত সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই তাকে কিছু সময় বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে শাস্তি আবার শুরু করে বাকি ৪০টি বেত্রা ঘাত সম্পন্ন করা হয়। ওই দিন মোট ১০ জনকে প্রকাশ্যে বেত্রা ঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়। বাকি আটজনকে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য নন—এমন নারী ও পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশার অভিযোগে ১৬ থেকে ২১টি পর্যন্ত বেত্রা ঘাত করা হয়। আচেহর শরি য়া আইনে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নন এমন নারী ও পুরুষের নির্দিষ্ট ধরনের মেলামেশার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আচেহতে বেত্রা ঘাত সাধারণত জনসম্মুখে করা হয়। মসজিদের আশপাশ, পার্ক বা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এই শাস্তি কার্যকর হতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাতেও সেখানে মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে দেখা যায়। আচেহতে জুয়া, মদ্যপান, বিয়ে ছাড়া যৌ ন সম্পর্ক এবং শরি য়া আইনে নিষিদ্ধ বিভিন্ন আচরণের জন্য বেত্রা ঘাতের বিধান রয়েছে। প্রদেশটি ২০০১ সালে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা পাওয়ার পর শরি য়া আইন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। এরপর থেকে ধর্মীয় আইনভিত্তিক অপরাধের ক্ষেত্রে স্থানীয় আদালত ও কর্তৃপক্ষ এই বিধান প্রয়োগ করে আসছে। তবে এই ধরনের প্রকাশ্য বেত্রা ঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংগঠন এই শাস্তিকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর বলে সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি প্রকাশ্যে অপমানের বিষয়টিও মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে আচেহর স্থানীয় কর্মকর্তারা এই শাস্তিকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখেন এবং অপরাধ ঠেকাতে এর প্রতিরোধমূলক ভূমিকার কথা বলে থাকেন। ফলে আচেহতে প্রকাশ্য বেত্রা ঘাত এখনো স্থানীয় আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বিতর্কিত অংশ হিসেবে কার্যকর রয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি সেই ব্যবস্থারই সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ।
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া একটি যাত্রীবাহী ফেরির সন্ধান পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিন শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। রোববার স্থানীয় সময় ভোররাত প্রায় ২টার দিকে ফেরিটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল। এ সময় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফেরিটি বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটির সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধার অভিযানে একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ আরোহীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও ফেরিতে থাকা বাকি আরোহীদের সবার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্ঘটনাস্থলে তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি দ্বীপপুঞ্জের দেশ। দেশটির বিভিন্ন দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেরি ও অন্যান্য নৌযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নৌপথের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। তবে দেশটিতে নৌপথে দুর্ঘটনার ঘটনাও নিয়মিত ঘটে। বৈরী আবহাওয়া, নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কখনো কখনো অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো বিষয় এসব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফলে বড় কোনো ফেরি দুর্ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্তমান ঘটনায় দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ফেরিটি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বৈরী আবহাওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন হবে। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ আরোহীদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কাও রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ ও ফেরিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। সূত্র: বিবিসি, আরটিভি অনলাইন।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব কালিমান্তানের বালিকপাপন শহরে ফজরের নামাজে ইমামতি করার সময় সিজদায় থাকা অবস্থায় মারা গেছেন হ. আন্দি শামসুল বাহরি। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি মসজিদ জামি আল-উলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দি শামসুল বাহরি ফজরের নামাজের প্রথম রাকাতে সিজদায় যান। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও তিনি সিজদা থেকে উঠছিলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে পেছনের কয়েকজন মুসল্লি তার অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সামনের দিকে পড়ে যান। এরপর প্রথম সারির এক মুসল্লি এগিয়ে এসে ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জামাতের নামাজ শেষ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। ফুটেজটি প্রায় ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেটিক জানিয়েছে। মসজিদটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আন্দি শামসুল বাহরি মসজিদ জামি আল-উলার নিয়মিত ইমামদের একজন ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সদালাপী ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বালিকপাপনের একটি ফার্মেসির মালিক ছিলেন এবং স্থানীয় মুসল্লিদের অসুস্থতার সময় ওষুধ নিয়ে পরামর্শ দিতেন। ইন্দোনেশিয়ার আন্তারা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর সময় আন্দি শামসুল বাহরির বয়স ছিল ৫৯ বছর। নামাজের শুরুতে তাকে স্বাভাবিক ও সুস্থই মনে হয়েছিল। তবে ফাতিহা পড়ার সময় তিনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গিয়েছিলেন বলে মসজিদসংশ্লিষ্ট একজনের বরাতে জানানো হয়। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সিজদায় তার মৃত্যুর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ঘটনাটিকে ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। তবে কোনো ব্যক্তির পরকালীন মর্যাদা বা পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর ওপরই ন্যস্ত।
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের কারণে দু'দিন বন্ধ থাকার পর দেশটির প্রধান প্রধান বিমানবন্দরগুলো আবার চালু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় পুনরায় ফ্লাইট চলাচলে ফের বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া বিমানবন্দর বন্ধের ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়, যার মধ্যে ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এতে ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। যোগাযোগমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান, ‘রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা ও হালিম পারদানা কুসুমা বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের দুটি ছোট বিমানবন্দর মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সুমাত্রার ল্যাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন ২-সহ তিনটি বিমানবন্দর মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এর আগে গত রবিবার থেকে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ২,৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েন।‘ তিনি আরও বলেন,’বাতাসের দিক পরিবর্তনশীল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও বিমানে ছাই জমা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা এবং রানওয়ে পরিষ্কার করার জন্য বাড়তি সময় নেওয়া হয়। এছাড়া সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দরে আটকে থাকা ১৭৮টি বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।‘ সান্দা প্রণালীতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি গত রবিবার থেকে একটানা অগ্ন্যুৎপাত ঘটানোর পর মঙ্গলবার সকালেও সক্রিয় ছিল। সকাল ৫টা ০৮ মিনিট ও ৫টা ৩৪ মিনিটে দুটি ছোট অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়। ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানান, পরিস্থিতি আগের মতো ভয়াবহ না হলেও সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে। আগ্নেয়গিরিটিকে সতর্কতার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে রাখা হয়েছে এবং ৩ কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এসব অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব আগের তুলনায় কম। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।‘ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জাভার মালাং থেকে রোববার সকাল থেকে জাকারিয়া ফেরার চেষ্টা করা ৪৬ বছর বয়সী ফিন্না জানান, ‘বারবার ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন হওয়ায় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তিনি দুটি আন্তঃনগর ট্রেনে রাতভর যাত্রা করে সোমবার ভোর ৩টায় জাকারিয়ায় পৌঁছান।‘ উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালে বিখ্যাত ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সমুদ্র থেকে উঠে আসে এই 'আনাক ক্রাকাতাউ' (ক্রাকাতাউয়ের সন্তান)। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরির একাংশ ধসে পড়ে সৃষ্ট সুনামিতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' এলাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ১২০টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাইয়ের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরসহ পাঁচটি বিমানবন্দর আবার চালু হয়েছে। তবে আগ্নেয়গিরিটি এখনো সক্রিয় থাকায় নতুন করে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার আবার বিমান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। জাকার্তার আরেকটি বিমানবন্দর হালিম পেরদানাকুসুমা, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের আরও দুটি বিমানবন্দরও পুনরায় চালু হয়েছে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে রোববার থেকে বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এ ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে ৬২২টি ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে বন্ধ থাকার সময় ১৭৮টি বিমান মাটিতে আটকে ছিল। বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার আগে এসব বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনাও পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। আনাক ক্রাকাতাউ থেকে মঙ্গলবার ভোরেও নতুন কয়েকটি ছোট অগ্ন্যুৎপাতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ছাইয়ের উচ্চতা ও বাতাসের গতিপথের ওপর নির্ভর করে এসব অগ্ন্যুৎপাত আবারও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। আনাক ক্রাকাতাউ জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটি জুলাই থেকেই ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও জেলেদের সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আনাক ক্রাকাতাউ মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে সুনামি সৃষ্টি হলে ৪৩০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। এবারের অগ্ন্যুৎপাতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো গণউচ্ছেদের নির্দেশও দেওয়া হয়নি। তবে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় স্কুল কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের পর আকাশে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ে জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রোববারের এই অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ১৫ হাজার ২০০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাভা ও সুমাত্রার মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়ায় শুক্রবার থেকেই অস্বাভাবিক আগ্নেয়গিরি কার্যকলাপ দেখা যাচ্ছিল। রোববার ভোরে প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে অগ্ন্যুৎপাত হয়। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে লাভার ঝলকও দেখা গেছে। অগ্ন্যুৎপাতের ছাই জাকার্তা, বানতেন, পশ্চিম জাভা ও ল্যাম্পুংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একটি ছাইয়ের মেঘ প্রায় ৬ হাজার ১০০ মিটার উচ্চতায় এবং আরেকটি প্রায় ১৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছায়। বিমান চলাচলের জন্য আগ্নেয় ছাই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। দেশটির ব্যস্ততম বিমানবন্দর সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কয়েক ঘণ্টার জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখে। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ২০৯টি ফ্লাইট মুভমেন্ট এবং প্রায় ২২ হাজার ৮০০ যাত্রী এই পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হন। আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইট সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়েছে। হংকং, সিডনি, আমস্টারডাম, সিউল, দোহা ও কুয়ালালামপুরের ফ্লাইটও বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ছাইয়ের কারণে মানুষের চোখে জ্বালাপোড়া ও অন্যান্য অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কয়েকটি এলাকায় স্কুলের কার্যক্রম বাতিল এবং জেলেদের মাছ ধরায় বিরতি দিতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাস্ক ও চোখের সুরক্ষা ব্যবহার, বাইরে চলাচল কমানো এবং ছাই পড়ার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগ্নেয়গিরির সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও জারি করা হয়নি। আনাক ক্রাকাতোয়া ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর সমুদ্র থেকে গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ২০১৮ সালে এর অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রা উপকূলে অন্তত ৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। দেশটির অন্তত চারটি অঞ্চলে এসব ঘটনা ঘটেছে। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শিশুদের অপুষ্টি দূর করার এই কর্মসূচি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের তানা তোরাজায় প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হন। স্থানীয় সরকারের প্রধান জাদরাক তমবেগ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্য জাভা, পূর্ব জাভা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে আরও ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পূর্ব জাভার আরেকটি এলাকায় এর আগে ২৫৬ শিক্ষার্থী স্কুলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কমনাস হাম, পুলিশকে বিষয়গুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকারও মানবাধিকারের অংশ। খাবার প্রস্তুত ও বিতরণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের পরিচালিত পুষ্টি কর্মসূচি তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন। কমিশন একই সঙ্গে যেসব রান্নাঘর থেকে দূষিত বা অনিরাপদ খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থা কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। সংস্থাটির প্রধান সুদারিয়োনো বৃহস্পতিবার বলেছেন, খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে শুক্রবার নির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন কোনো কারণ না জানিয়ে স্থগিত করা হয় এবং নতুন তারিখও জানানো হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি চালু করেন। শিশুদের অপুষ্টি কমানো এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকার দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। তবে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই খাবারের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার মধ্যে মধ্য জাভার লাসেমে ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় খাবার হিসেবে দেওয়া ভাজা মুরগি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। খাবার ভোরে রান্না করে দুপুরে পরিবেশন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায়ও ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যায়। জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একটি রান্নাঘর ৩০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে সরকারি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে স্কুলে পৌঁছানোর মতো কারণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে সমস্যার ব্যাপকতা সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার চেয়েও বেশি হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস হনোরিস স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা নিয়ে সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কমনাস হামও এর আগে কর্মসূচিটির পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জুনে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় সংস্থাটি বলেছিল, বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সুপারিশও করেছিল কমিশন। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তানা তোরাজার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মা এস্টার পাতানদুং রয়টার্সকে বলেছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা হলো কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক সরকার যেন বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি বাতিল করে। জনসমর্থনের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইন্দোনেশীয় এই কর্মসূচির কার্যক্রমে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন। অসন্তুষ্টদের অনেকেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে চালু হওয়া উদ্যোগটি বড় পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় খাবারের নিরাপত্তা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের আহ্বানের পর সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাকার্তার পালমেরাহ এলাকায় ২০১৫ সালের মার্চে জব্দ করা ৩ দশমিক ৩ টন গাঁজা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে পুলিশ। আগুনের ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের আবাসিক এলাকায় পৌঁছে যায়। এতে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তির কথা জানান। ১১ মার্চ পালমেরাহ পুলিশ স্টেশনের মাঠে জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংসের এই আয়োজন করা হয়। মাদক ধ্বংসের প্রক্রিয়াটি প্রত্যক্ষ করতে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক এবং পশ্চিম জাকার্তার কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা গাঁজার বিশাল স্তূপে আগুন দেওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া কোন দিকে যাবে, সে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। আগুন জ্বলার পর ধোঁয়া প্রথমে ওপরে উঠলেও বাতাসের কারণে দ্রুত আশপাশের বসতবাড়ির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা স্থানীয়দের কয়েকজন পরে মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার কথা জানান। একজন বাসিন্দা বলেন, মাস্ক না পরায় তার মাথাব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ধোঁয়ার তীব্র গন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়। সাংবাদিকদের মধ্যেও একই ধরনের অস্বস্তির খবর পাওয়া যায়। পুলিশের এই অভিযান ছিল জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংসের অংশ। ওই দিন ৩ দশমিক ৩ টন গাঁজার পাশাপাশি প্রায় ১ দশমিক ৮ কেজি মেথামফেটামিন এবং ২ হাজার ৫৩৮টি এক্সট্যাসি বড়িও ধ্বংস করা হয়। গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলেও অন্য মাদকগুলো ব্লেন্ড করে নষ্ট করা হয়েছিল। ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থার এক প্রতিনিধি জানান, অল্প সময়ের জন্য ওই ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসায় দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ঘটনাটি পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এমনকি পরবর্তী বছরগুলোতে মাদক ধ্বংসের পদ্ধতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় আলোচনার সময় ২০১৫ সালের পালমেরাহর ঘটনাটিও উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে। ২০১৮ সালে পুলিশের এক কর্মকর্তাও জানান, ওই ঘটনার পর মাদক ধ্বংসের স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবা হয়েছিল। মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে প্রমাণ নষ্ট করা এবং জনসাধারণের সামনে প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখাই ছিল পুলিশের উদ্দেশ্য। তবে পালমেরাহর ঘটনায় দেখা যায়, জব্দ করা মাদক প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করার সময় আশপাশের মানুষের অনিচ্ছাকৃত ধোঁয়া গ্রহণের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক, ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূকম্পন ও আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাজেওকেও এলাকার কাছে সমুদ্রের নিচে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং অনেক মানুষ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিক্কা, নাজেওকেও, মাঙ্গারাই ও পূর্ব মাঙ্গারাই। সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছেন। ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছিল। উদ্ধারকাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে হাজার হাজার সামরিক ও পুলিশ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানো, আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফটারশক অব্যাহত থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভূমিকম্পে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল। বর্তমান ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনটি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভূমিকম্পে ফ্লোরেস অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি এলাকায় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ দুইজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে। পরে বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ শনাক্ত হলেও বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। প্রবল কম্পনের সময় আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। নাজেওকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফ্লোরেস ও আশপাশের অঞ্চলও অতীতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো চলছে। ফলে নিহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শরিয়াহ আইনের অধীনে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের শাস্তি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিয়ে ছাড়া যৌন সম্পর্ক, জুয়া এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত নারী-পুরুষদের প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা দেখতে স্থানীয়দের বড় একটি ভিড় জড়ো হয়। ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ আচেহ, যেখানে জাতীয় আইনের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক বিশেষ বিধান কার্যকর রয়েছে। সেখানে ইসলামি আইনের অধীনে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের জনসম্মুখে মঞ্চে দাঁড় করিয়ে নির্ধারিত নিয়মে বেত্রাঘাত করা হয়। শাস্তি কার্যকর হওয়ার সময় অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কেউ কেউ ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। আচেহে শরিয়াহ আইনের আওতায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মদ্যপান, জুয়া এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের মতো শাস্তির সমালোচনা করে আসছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের শাস্তি মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আচেহর এই বিশেষ আইন প্রয়োগের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, আচেহর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শরিয়াহ আইন প্রদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অংশ এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই এসব আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। আচেহে শরিয়াহ আইন চালুর ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ২০০১ সালে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের অংশ হিসেবে প্রদেশটিকে ইসলামি আইন প্রয়োগের সুযোগ দেয়। এরপর ধীরে ধীরে সেখানে শরিয়াহভিত্তিক বিধান চালু হয়। তবে আচেহর এই আইন নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার ভেতরেও বিতর্ক রয়েছে। একদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার যুক্তি দেওয়া হয়, অন্যদিকে মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সমালোচকরা। প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিয়মিত আলোচনার জন্ম দেয়, কারণ এটি ধর্মীয় আইন, রাষ্ট্রীয় আইন এবং মানবাধিকারের সীমারেখা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করে।
ভারত ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যাস্ট্রা (Astra) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। ভারতীয় সরকারের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দিনের জাকার্তা সফরের সময় এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ঘোষণা আসে। ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চুক্তিটির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটি ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হতে যাচ্ছে। ব্রহ্মোস বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। অন্যদিকে অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র ইন্দোনেশিয়ার রাশিয়ান নির্মিত সুখোই যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্মকর্তারা। এই চুক্তির পাশাপাশি ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বন্দর উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই করেছে। উভয় দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’ (Comprehensive Strategic Partnership)-এর নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে নয়, বরং চুক্তির প্রেক্ষাপটই ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত প্রভাবের মধ্যে ভারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং এখন ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের উত্তর মালুকু প্রদেশের উপকূলে শুক্রবার সকালে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর মালুকুর তোবেলো এলাকার প্রায় ৫৮ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২০ কিলোমিটার গভীরে। গভীরতায় সংঘটিত হওয়ায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের কম্পন উত্তর মালুকুর বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ও ভবন থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো ভবন ধসে পড়া, অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য পরাঘাতের বিষয়টি মাথায় রেখে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ সবসময় নজরদারি অব্যাহত রাখে। শুক্রবারের এই ভূমিকম্পের পর উত্তর মালুকু অঞ্চলে উদ্ধারকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং সুনামিরও কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পাপুয়া অঞ্চলে এক মার্কিন বেসামরিক পাইলটকে গুলি করে হত্যার পর তার পরিচালিত বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে অঞ্চলটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি)। ঘটনাটি নতুন করে পাপুয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকট ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো এলাকায় অবতরণের পর মার্কিন নাগরিক পাইলট নিকোলাস এফ. গোসেলিনকে হত্যা করা হয়। এরপর তার বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তাদের সদস্যরাই এ হামলা চালিয়েছে। তার অভিযোগ, ওই অঞ্চলে বেসামরিক বিমান ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের পরিবহন করা হচ্ছিল। সেই কারণেই তারা বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি বলেন, পাপুয়া অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করা যেকোনো বেসামরিক বিমান তাদের কাছে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতেও যদি কোনো বিমান সেনাসদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানটি অবতরণের আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিমানটি সাতজন যাত্রী বহনের সক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। তবে হামলার সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিমানটি যে বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানকার পরিচালকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর। পাইলটের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়েও শর্ত দিয়েছে টিপিএনপিবি। সংগঠনটির দাবি, মরদেহ নিতে হলে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী বা পুলিশের সদস্যদের ছাড়া বেসামরিক প্রতিনিধিদের এলাকায় প্রবেশ করতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানে ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। ১৯৬৯ সালে বিতর্কিত এক গণভোটের মাধ্যমে অঞ্চলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সেখানে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, এ সংঘাতে বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া সরকার বলছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে। এর আগেও বিদেশি পাইলটদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে একই সংগঠন নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে অপহরণ করে প্রায় ১৯ মাস আটক রাখে। দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ মার্কিন পাইলট নিহতের ঘটনায় পাপুয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় মানবাধিকারকর্মীর ওপর নৃশংস অ্যাসিড হামলার ঘটনায় চার সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি সামরিক আদালত। বুধবার প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রায়ে বিচারক জানান, দোষী সাব্যস্ত চার কর্মকর্তাকে যথাক্রমে তিন বছর, আড়াই বছর, দুই বছর ও দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা দেশটির সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সদস্য। মামলার তথ্য অনুযায়ী, কমিশন ফর মিসিং পারসন্স অ্যান্ড ভিকটিমস অব ভায়োলেন্সের (কন্ট্রাস) উপ-সমন্বয়ক আন্দ্রি ইউনুসের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। গত এপ্রিলে রাজধানী জাকার্তায় এই মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে গত মার্চে জাকার্তার সড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় আন্দ্রি ইউনুসের ওপর হামলা হয়। আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার দিকে অ্যাসিড ছুড়ে মারলে তিনি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পাশাপাশি তার মুখ ও শরীরের ২০ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে যায়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সমালোচনার মুখে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান পদত্যাগ করেন, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো হয়নি। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে জাতিসংঘের বিশেষ দূত মেরি ললার এটিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, আন্দ্রি ইউনুস ইন্দোনেশিয়ায় বেসামরিক প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসছিলেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দেশটিতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় শাস্তির নজির খুবই কম। এ কারণে তিনি শুরু থেকেই সামরিক আদালতের পরিবর্তে বেসামরিক আদালতে বিচার চেয়েছিলেন এবং আদালতের ওপর অনাস্থা জানিয়ে কোনো শুনানিতে উপস্থিত হননি। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ইন্দোনেশিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সামরিক বাহিনীর জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করবে।
দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত তিন ইন্দোনেশীয় সেনার নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে ইন্দোনেশিয়া। লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, সোমবার বানি হাইয়ানের কাছে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে দুজন শান্তিরক্ষী নিহত এবং দুজন আহত হন। এর আগে রবিবার গভীর রাতে আদচিত আল-কুসায়রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজন ইন্দোনেশীয় সৈন্য প্রাণ হারান। এই হামলায় অন্য এক শান্তিরক্ষী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিরক্ষীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন’ মেনে চলার কঠোর বার্তা দিয়েছে জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত এক বিবৃতিতে জানান, শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংঘাতরত পক্ষগুলোকে অবশ্যই শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা দিতে হবে। হামলাগুলোকে ‘জঘন্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো। তিনি ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং দ্রুত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।