ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শতাব্দীপ্রাচীন ‘লাল বড়দারি’ ভবনের ভেতরে থাকা একমাত্র মসজিদটি সিলগালা করে দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল ক্যাম্পাস, অন্যদিকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইবাদত নিশ্চিত করতে হিন্দু সহপাঠীদের বুক পেতে দেওয়ার ঘটনা এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরাজীর্ণ অবকাঠামোর দোহাই দিয়ে ২০০ বছরের পুরোনো লাল বড়দারি ভবনটি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ওয়েল্ডিং করে সিলগালা করে দেয়। এতে কয়েক দশক ধরে সেখানে নামাজ পড়ে আসা মুসলিম শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। এর প্রতিবাদে সমাজবাদী ছাত্রসভা (এসসিএস), এনএসইউআই এবং এআইএসএ-র মতো ছাত্রসংগঠনগুলো আন্দোলনে নামে।
আন্দোলন চলাকালে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম শিক্ষার্থীরা যখন তালাবদ্ধ ভবনের বাইরে রাস্তায় নামাজ আদায় শুরু করেন, তখন পুলিশি বাধার আশঙ্কায় এক অভাবনীয় কাজ করেন হিন্দু শিক্ষার্থীরা। তাঁরা নামাজের সময় মুসলিম সহপাঠীদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে একটি শক্তিশালী ‘মানবঢাল’ তৈরি করেন। উপস্থিত হিন্দু ছাত্ররা একে ‘গঙ্গা-যমুনা তেহজিব’ বা হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে ভাইরাল হয়।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলেই এই পদক্ষেপ। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি সুপরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অপচেষ্টা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ত্রাণের কম্বল বিতরণে বিজেপি নেতার বৈষম্য:
একদিকে যখন ছাত্ররা সম্প্রীতির নজির গড়ছেন, অন্যদিকে ভারতের রাজস্থানে বিজেপি নেতার ধর্মীয় বিদ্বেষের এক ন্যাক্কারজনক চিত্র সামনে এসেছে। টঙ্ক-সাওয়াই মাধোপুর কেন্দ্রের সাবেক বিজেপি সংসদ সদস্য সুখবীর সিং জৌনপুরিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যায়, তিনি অভাবীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন। কিন্তু এক নারী যখন তাঁর পরিচয় মুসলিম হিসেবে জানান, তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই নেতা।
তিনি ওই নারীকে কম্বল না দিয়ে সরিয়ে দেন এবং দম্ভোক্তি করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালি দেওয়া কাউকে কোনো সহায়তা দেওয়া হবে না।” এমনকি এটি তাঁর ব্যক্তিগত অনুদান হিসেবে দাবি করে তিনি কিছু নারীর কাছ থেকে কম্বল ফিরিয়েও নেন। রাজস্থান বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা টিকারাম জুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে মানবতার জন্য চরম অবমাননাকর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
একই দেশের ভেতর ভ্রাতৃত্ব আর বিদ্বেষের এই দুই চিত্র বর্তমানে ভারতজুড়ে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে পথ দেখিয়েছেন, সেটিই প্রকৃত ভারতের রূপ।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শতাব্দীপ্রাচীন ‘লাল বড়দারি’ ভবনের ভেতরে থাকা একমাত্র মসজিদটি সিলগালা করে দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল ক্যাম্পাস, অন্যদিকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইবাদত নিশ্চিত করতে হিন্দু সহপাঠীদের বুক পেতে দেওয়ার ঘটনা এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরাজীর্ণ অবকাঠামোর দোহাই দিয়ে ২০০ বছরের পুরোনো লাল বড়দারি ভবনটি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ওয়েল্ডিং করে সিলগালা করে দেয়। এতে কয়েক দশক ধরে সেখানে নামাজ পড়ে আসা মুসলিম শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। এর প্রতিবাদে সমাজবাদী ছাত্রসভা (এসসিএস), এনএসইউআই এবং এআইএসএ-র মতো ছাত্রসংগঠনগুলো আন্দোলনে নামে। আন্দোলন চলাকালে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম শিক্ষার্থীরা যখন তালাবদ্ধ ভবনের বাইরে রাস্তায় নামাজ আদায় শুরু করেন, তখন পুলিশি বাধার আশঙ্কায় এক অভাবনীয় কাজ করেন হিন্দু শিক্ষার্থীরা। তাঁরা নামাজের সময় মুসলিম সহপাঠীদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে একটি শক্তিশালী ‘মানবঢাল’ তৈরি করেন। উপস্থিত হিন্দু ছাত্ররা একে ‘গঙ্গা-যমুনা তেহজিব’ বা হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে ভাইরাল হয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলেই এই পদক্ষেপ। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি সুপরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অপচেষ্টা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রাণের কম্বল বিতরণে বিজেপি নেতার বৈষম্য: একদিকে যখন ছাত্ররা সম্প্রীতির নজির গড়ছেন, অন্যদিকে ভারতের রাজস্থানে বিজেপি নেতার ধর্মীয় বিদ্বেষের এক ন্যাক্কারজনক চিত্র সামনে এসেছে। টঙ্ক-সাওয়াই মাধোপুর কেন্দ্রের সাবেক বিজেপি সংসদ সদস্য সুখবীর সিং জৌনপুরিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যায়, তিনি অভাবীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন। কিন্তু এক নারী যখন তাঁর পরিচয় মুসলিম হিসেবে জানান, তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই নেতা। তিনি ওই নারীকে কম্বল না দিয়ে সরিয়ে দেন এবং দম্ভোক্তি করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালি দেওয়া কাউকে কোনো সহায়তা দেওয়া হবে না।” এমনকি এটি তাঁর ব্যক্তিগত অনুদান হিসেবে দাবি করে তিনি কিছু নারীর কাছ থেকে কম্বল ফিরিয়েও নেন। রাজস্থান বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা টিকারাম জুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে মানবতার জন্য চরম অবমাননাকর হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই দেশের ভেতর ভ্রাতৃত্ব আর বিদ্বেষের এই দুই চিত্র বর্তমানে ভারতজুড়ে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে পথ দেখিয়েছেন, সেটিই প্রকৃত ভারতের রূপ।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও মার্কিন সামরিক বলয় বৃদ্ধির মধ্যেই চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল কেনার চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইরান। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। ছয়জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের তৈরি 'সিএম-৩০২' (CM-302) মডেলের এই মিসাইল কেনার প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যদিও সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে তা এই অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মিসাইলের সক্ষমতা: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই সিএম-৩০২ মিসাইলটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এর পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এটি অত্যন্ত নিচু দিয়ে এবং শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে উড়তে সক্ষম, যার ফলে যেকোনো আধুনিক যুদ্ধজাহাজের রাডার বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া এর পক্ষে সহজ। মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এটি একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেন এই চুক্তি? আলোচনাটি অন্তত দুই বছর আগে শুরু হলেও, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পায়। গত গ্রীষ্মে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরাইসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বেইজিং সফর করেন, যা আগে প্রকাশ পায়নি। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিজ বলেন, "ইরান যদি এই সুপারসনিক সক্ষমতা অর্জন করে, তবে এটি গেম-চেঞ্জার হয়ে দাঁড়াবে। এই মিসাইলগুলো ইন্টারসেপ্ট করা বা মাঝপথে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।" বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও ইরানের উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনী বড় ধরনের মোতায়েন শুরু করেছে। হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার হুমকির মধ্যেই তেহরান তার মিত্রদের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, "ইরানের তার মিত্রদের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তিগুলোর যথাযথ ব্যবহার করার উপযুক্ত সময় এটি।" তবে এই চুক্তির আওতায় ইরান কতটি মিসাইল কিনছে বা এর অর্থমূল্য কত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। বেইজিং এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেনেভায় আসন্ন পরমাণু আলোচনা এবং মার্কিন চাপের মুখে ইরান নিজেকে সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
আমেরিকার পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়েছে স্মরণকালের ভয়াবহ তুষারঝড়। প্রকৃতি যেন এক নিমেষেই থমকে দিয়েছে আধুনিক জনজীবন। নিউ ইয়র্ক থেকে ম্যাসাচুসেটস—সবখানেই এখন কেবল সাদা বরফের স্তূপ। কোথাও কোথাও বরফের উচ্চতা ৩ ফুটের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, যা ভেঙে দিয়েছে গত কয়েক দশকের সব রেকর্ড। বিপর্যস্ত আকাশপথ: প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত ৫,০০০-এর বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জেএফকে এবং লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের প্রায় ৯৮ শতাংশ ফ্লাইটই বন্ধ রাখতে হয়েছে। রেকর্ড ভাঙা তুষারপাত: রোড আইল্যান্ডে প্রায় ৯৪ সেন্টিমিটার তুষারপাত হয়েছে, যা ১৯৭৮ সালের রেকর্ডকেও হার মানিয়েছে। নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কেও প্রায় ১৯ ইঞ্চি বরফ জমেছে। অন্ধকারে জনপদ: তীব্র ঝড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিউ জার্সি ও ম্যাসাচুসেটসের প্রায় ৬ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্ধকারে ডুবে আছে। ভয়াবহ 'হোয়াইট-আউট': দৃশ্যমানতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় কানেকটিকাট এবং ম্যাসাচুসেটসে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যান চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন গভর্নররা। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই অঞ্চলটি। মঙ্গলবারও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর (NWS)।