৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ১৮ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি; ধ্বংস হয়েছে ১ লাখের বেশি ঘরবাড়ি
মাত্র ৪০ দিনের যুদ্ধেই ইরানজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাতে আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, এই যুদ্ধে ইরানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সমান।
ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক বাড়ি রয়েছে। এছাড়া ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হামলার শিকার হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ইরানের সামরিক শক্তির ওপরও বড় আঘাত এসেছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র—খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ এবং শারাউদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ৫টি জ্বালানি সংরক্ষণাগারেও হামলা চালানো হয়েছে।
এই যুদ্ধের ফলে অনেক ইরানি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন এবং দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল-আরাবিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreতীব্র পেটব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর এক ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে বের করা হলো ৪০টি ছুরি। ২০১৬ সালের আগস্টে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের একটি হাসপাতালে ঘটে এই ঘটনা। ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশ সদস্য প্রায় দুই মাস ধরে একের পর এক ছুরি গিলে ফেলেছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করেন। পরে আরও পরীক্ষা করে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত ১২টি ছুরির সন্ধান পান তাঁরা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪০টি ছুরি। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকদের প্রথমে ধারণা হয়েছিল, তাঁর পাকস্থলীতে হয়তো টিউমার বা ক্যানসারজাতীয় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। এ কারণে তাঁর এন্ডোস্কপি ও সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, পাকস্থলীর ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ধাতব বস্তু। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো আসলে বিভিন্ন আকারের ছুরি। চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করা হয়। কিন্তু পাকস্থলীর ভেতরে আরও কিছু রয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকায় পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন আরও ১২টি ছুরির সন্ধান মেলে। সেগুলোও বের করে আনা হয়। ছুরিগুলোর সব কটিই একই অবস্থায় ছিল না। কিছু ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল, কিছু খোলা ছিল, আবার কয়েকটি মরিচা ধরে ভেঙেও গিয়েছিল। খোলা ছুরিগুলোর কোনো কোনোটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। এগুলোর ধারালো অংশ পাকস্থলীর দেয়ালে ক্ষত তৈরি করেছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীরের ভেতরে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণও হয়। চিকিৎসকদের কাছে ওই ব্যক্তি জানান, প্রথমবার ছুরি গেলার পর তাঁর অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে দিনে একটি করে ছুরি গিলতেন বলে জানান। কেন এমন করতেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক জতিন্দর মালহোত্রা জানান, তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে এ ধরনের ঘটনা আগে দেখেননি। রোগীর আচরণের পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাই অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না। এই ঘটনা চিকিৎসকদের কাছেও ছিল অত্যন্ত বিরল ও জটিল। শরীরের ভেতরে ধারালো বস্তু প্রবেশ করানো প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে। তাই এমন কোনো প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
রাত্রিকালীন শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার
প্রার্থনার মাঝেই খ্রিস্টান পরিবারে হা মলা, বাড়িতে তুলসী গাছ রেখে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ
ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে, মোদিকে প্রশ্ন করলেন ইলন মাস্ক
মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানি বিক্রি করে মিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা রাহুল ভোহরা। কিন্তু অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত খাবার ও শারীরিক অবহেলায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একদিন সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে কাটাতে হয় প্রায় এক সপ্তাহ। সেই অভিজ্ঞতার পর জীবনযাপন বদলে আবার ব্যবসায় ফেরেন রাহুল। পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুপারহিউম্যান কোম্পানির মূল্যায়ন পৌঁছায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলারে। মার্কিন সাময়িকী ফরচুনের ৪ অক্টোবর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে নিজের উদ্যোক্তা জীবনের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ৪২ বছর বয়সী রাহুল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বেড়ে ওঠা ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই উদ্যোক্তা মাত্র আট বছর বয়সে নিজে নিজে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখেন। পরবর্তী সময়ে ভিডিও গেম তৈরির কাজেও যুক্ত হন। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। ২০১০ সালে কয়েকজন সহপ্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে র্যাপোর্টিভ নামের একটি প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন রাহুল। এটি ছিল জিমেইলের সঙ্গে যুক্ত একটি সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইমেইলে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দেখতে পারতেন। প্রতিষ্ঠানটি একই বছর ওয়াই কম্বিনেটরের সামার ব্যাচে সুযোগ পায়। মাত্র পাঁচজনের দল নিয়ে শুরু হওয়া কোম্পানিটি দ্রুত লিংকডইনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নজরে আসে। তবে ব্যবসার ভবিষ্যৎ ও বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে পারছিলেন না রাহুল। প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিত খাবার খেতেন। কখনো পিৎজা, কখনো ব্রাউনি দিয়েই দিনের খাবার সারতেন। নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাসও ছিল না। দীর্ঘদিন কাজের চাপের মধ্যে থাকতে থাকতে সেই পরিস্থিতিকেই স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালের এক রাতে তীব্র বমি বমি ভাব ও অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভাঙে রাহুলের। অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজে যান তিনি। দুপুরে ব্যথা বেড়ে গেলে অফিস থেকে চার ব্লক দূরের একটি ফার্মেসিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথেই একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের বাইরে লুটিয়ে পড়েন। এক সহপ্রতিষ্ঠাতা ওষুধের ব্যবস্থা করলেও হাসপাতালে না গিয়ে আবার কাজে ফিরে যান তিনি। পরদিন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ শনাক্ত হয়। এতে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। রাহুলের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, একজন নার্স তাঁকে জানান, তাঁর শরীরের ভেতরের অবস্থা প্রকৃত বয়সের তুলনায় ১০ থেকে ২০ বছর বেশি বয়সী কারও মতো মনে হচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর কয়েক সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে বিশ্রাম নেন রাহুল। সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস কাজ থেকে দূরে ছিলেন। এরপর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন, নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করেন এবং ধ্যানকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেন। বিশেষ করে ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশন পদ্ধতি শেখেন তিনি। এখনো ব্যস্ততার মধ্যেও ধ্যানের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখেন বলে জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাহুলের প্রথম কোম্পানি র্যাপোর্টিভ অধিগ্রহণ করে লিংকডইন। আনুমানিক দেড় কোটি ডলারের এই চুক্তিতে প্রতিষ্ঠাতারা মিলিয়নিয়ার হন। প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগের প্রায় ২০ গুণ অর্থ ফেরত পান। অথচ প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ২০ মাসে কোম্পানিটির সরাসরি আয় হয়েছিল মাত্র ১৪ সেন্ট। প্রথম কোম্পানি বিক্রির পর ২০১৪ সালে কনরাড আরউইন ও বিবেক সোধেরাকে সঙ্গে নিয়ে সুপারহিউম্যান প্রতিষ্ঠা করেন রাহুল। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে ইমেইল ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করে পরিচিতি পায়। ২০২১ সালে বিনিয়োগ সংগ্রহের সময় কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়ায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলার। এটি রাহুলের ব্যক্তিগত সম্পদ কিংবা কোম্পানির বার্ষিক আয় নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সুপারহিউম্যান অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় গ্রামারলি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তখন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার এবং কর্মীসংখ্যা ছিল একশর বেশি। তবে অধিগ্রহণের মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। একই বছরের অক্টোবরে গ্রামারলি তার মূল কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে সুপারহিউম্যান রাখার ঘোষণা দেয়। ফরচুনকে রাহুল জানান, দ্বিতীয় কোম্পানি বিক্রির সময় আগের মতো শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। তাঁর মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত কাজ ও নিজের শরীরকে অবহেলা করাকে সাফল্যের পরিচয় মনে করা উচিত নয়। ব্যবসায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা বজায় রেখেও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সম্ভব। তবে তাঁর পরিবর্তিত জীবনযাপনই পরবর্তী ব্যবসায়িক সাফল্যের একমাত্র কারণ ছিল, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
নিজেদের বিয়ের ভোজ বাদ দিয়ে ৪ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাওয়ালেন তুর্কি নবদম্পতি
দ্রুত ইমাম মাহদীর আগমন হোক, ইরানের নিরাপত্তায় দোয়া কামনা মোজতবা খামেনির
চীনের রাস্তায় ময়লার নোংরা স্তূপ দেখে ভারতীয় পর্যটকের প্রশ্ন, শুধু ভারতই কেন বদনাম?
নেদারল্যান্ডসে পশু জবাইয়ের আগে অচেতন করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির কৃষি ও প্রাণিকল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিলভিও এরকেন্স ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অচেতন না করে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার পক্ষে ব্যক্তিগত অবস্থান জানিয়েছেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি বলেন, প্রাণিকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া নেদারল্যান্ডসে এ ধরনের জবাইয়ের প্রচলন থাকা উচিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই অবস্থান মুসলিম সম্প্রদায় কিংবা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। ডাচ সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএনএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল ভিভিডির রাজনীতিক এরকেন্স বলেছেন, পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালসের পক্ষ থেকে আনা আইন প্রস্তাবটি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। প্রস্তাবটি পাস হলে নেদারল্যান্ডসে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও আগে অচেতন করার বাধ্যবাধকতা কার্যকর হতে পারে। তবে দেশটিতে হালাল মাংস কিংবা ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আলোচনাটি মূলত জবাইয়ের আগে পশুকে অচেতন না করার প্রচলিত ব্যতিক্রমী অনুমতি তুলে দেওয়া নিয়ে। এরকেন্স বলেন, নেদারল্যান্ডস প্রাণিকল্যাণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। অথচ ধর্মীয় কারণে এখনো কিছু ক্ষেত্রে পশুকে অচেতন না করে জবাই করার অনুমতি রয়েছে। এই অবস্থাকে তিনি অসংগতিপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রথমে অচেতন করা হয়। কিন্তু কিছু ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু সচেতন থাকা অবস্থায় গলা কাটা হয়। এতে পশু অতিরিক্ত যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করতে হলে সেটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করতে হবে, যাতে আদালতে তার বৈধতা টিকে থাকে। নেদারল্যান্ডসে হালাল ও কোশের পদ্ধতিতে পশু জবাই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ হালাল জবাইয়ের ধর্মীয় শর্ত অনুযায়ী পশু সচেতন থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন। একইভাবে ইহুদি সম্প্রদায়ের কোশের জবাইয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষ ধর্মীয় বিধান রয়েছে। তবে সব হালাল জবাই অচেতন না করে সম্পন্ন হয়, এমন নয়। কিছু হালাল পদ্ধতিতে পশুকে সাময়িকভাবে অচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়, যদি তা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। প্রতিমন্ত্রী এরকেন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ধর্মীয় পদ্ধতিতে জবাই করা পশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ইতোমধ্যে অচেতন করা হয়। তাই তিনি মনে করেন, অচেতন করার ব্যবস্থা রেখে ধর্মীয় জবাই পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। এদিকে প্রাণিকল্যাণ নিয়ে কাজ করা রাজনৈতিক দল পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালস নতুন করে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে অচেতন না করে পশু জবাই বন্ধে একটি সংশোধিত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে ধর্মীয় কারণে বিদ্যমান ব্যতিক্রমী অনুমতি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবে আইন কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট জবাইখানাগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য দেড় বছর সময় দেওয়ার কথাও রয়েছে। দলটির যুক্তি, পশু জবাইয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা কমাতে সব ক্ষেত্রেই অচেতন করার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি। গত ৬ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়। সেখানে ডেঙ্ক দলের সংসদ সদস্য দোগুকান এরগিন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এরগিন বলেন, অচেতন না করে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাই বন্ধ করার উদ্যোগ মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেক মুসলিম ও ইহুদি নাগরিক উদ্বিগ্ন হয়েছেন বলেও জানান তিনি। জবাবে এরকেন্স বলেন, সরকার হালাল বা কোশের খাবার নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনাটি কেবল নেদারল্যান্ডসের ভেতরে অচেতন না করে পশু জবাইয়ের অনুমতি থাকবে কি না, সেই প্রশ্নকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও বিদেশ থেকে হালাল ও কোশের মাংস আমদানি বন্ধ হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত বিধানের কারণে এ ধরনের পণ্য আমদানি অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সর্বশেষ কোরবানির ঈদের সময় নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৭০ শতাংশ হালাল জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে অচেতন করার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই এবং প্রাণিকল্যাণের বিষয়টি একসঙ্গে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে অচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আইন করে একই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হলে ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে। নেদারল্যান্ডসের তুর্কি ফেডারেশনও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংগঠনটির বিবৃতিতে সভাপতি মুরাত গেদিক বলেন, ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ ঠেকাতে প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হতে পারে। তিনি মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে প্রাণিকল্যাণবিষয়ক সংগঠন ডিয়েরেনবেসখেরমিং প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সংগঠনটি ৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ায় জানায়, অচেতন না করে পশু জবাই বন্ধের আইন প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে অচেতন করার বাধ্যবাধকতা নিয়ে আগে থেকেই আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। নেদারল্যান্ডসেও বিষয়টি নতুন নয়। পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালস ২০১১ সালে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। সে সময় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেলেও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কার্যকর নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়নি। এবার নতুন প্রস্তাবটি ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি হলো পশু জবাইয়ের সময় যন্ত্রণা কমিয়ে প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করা। অন্যটি হলো মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার। প্রতিমন্ত্রী এরকেন্স জানিয়েছেন, সরকার নিজে এ মুহূর্তে হালাল বা কোশের জবাই নিষিদ্ধ করার কোনো বিল প্রস্তুত করেনি। পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালসের উদ্যোগে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে এলে সরকার সেটির আইনগত ও বাস্তব দিক পর্যালোচনা করবে। শেষ পর্যন্ত আইনটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তাবটির আইনি গ্রহণযোগ্যতার ওপর। ফলে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসে হালাল মাংস নিষিদ্ধ হয়েছে কিংবা ধর্মীয় পদ্ধতিতে সব ধরনের পশু জবাই বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু অচেতন না করে পশু জবাইয়ের অনুমতি প্রত্যাহারের সম্ভাব্য আইন। নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে নেদারল্যান্ডসে প্রাণিকল্যাণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও থামছে না শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ, টানা তৃতীয় সপ্তাহে আন্দোলন
৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা