আন্তর্জাতিক

তুরস্কে দুই দিনে দ্বিতীয়বার স্কুল শুটিং; গুলিতে নিহত ৪, আহত ২০

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ২১:১১
তুরস্কে স্কুলে গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নিচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। ছবি: এএফপি
তুরস্কে স্কুলে গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নিচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। ছবি: এএফপি

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার স্কুল শুটিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) কাহরামানমারাস প্রদেশের ওনিকিশুবাত জেলার ‘আয়সার চালিক মিডল স্কুলে’ এক ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। কাহরামানমারাস প্রদেশের গভর্নর মুকেররেম উনলুয়ের জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

হামলাকারী ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং সে তার বাবার (একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা) লাইসেন্সকৃত পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে স্কুলে এসেছিল। গভর্নর জানান, হামলাকারী নিজেও এই ঘটনায় নিহত হয়েছে। আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থীকে স্কুল ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করতে দেখা গেছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রী আকিন গুরলেক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন এবং এই সংক্রান্ত সংবাদের ওপর সাময়িক সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

 

এর মাত্র একদিন আগে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শানলিউরফা প্রদেশের সিভরেক জেলার একটি ভোকেশনাল হাই স্কুলে এক সাবেক ছাত্রের গুলিতে ১৬ জন আহত হয়েছিল, যে হামলাকারী পরে আত্মহত্যা করে। তুরস্কে সাধারণত এ ধরণের স্কুল শুটিং অত্যন্ত বিরল হলেও দুই দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি রক্তক্ষয়ী ঘটনা পুরো দেশজুড়ে স্কুল নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় মেক্সিকোর বিশেষ স্বাস্থ্য ও ভ্রমণ সতর্কতা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র সফরে ডায়রিয়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করল মেক্সিকো

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ভ্রমণকারীদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে মেক্সিকো। মেক্সিকোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, বহুরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া এই পরজীবীজনিত সংক্রমণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।    মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভ্রমণ সতর্কতায় ঝুঁকির মাত্রা ‘মাঝারি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে গন্তব্য এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যেখানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের প্রাদুর্ভাবের খবর রয়েছে।    স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ভ্রমণের সময় নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া, ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বোতলজাত, ফুটানো বা পরিশোধিত পানি পান করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।    মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর অন্তত দুই সপ্তাহ নিজের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখতে হবে। এ সময় ডায়রিয়া বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে এবং চিকিৎসককে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।    সাইক্লোস্পোরিয়াসিস একটি অন্ত্রের সংক্রমণ, যা সাইক্লোস্পোরা নামের পরজীবীর মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত খাবার বা পানীয় গ্রহণের ফলে এই রোগ হতে পারে। এর প্রধান উপসর্গ হলো দীর্ঘস্থায়ী পানিযুক্ত ডায়রিয়া, পাশাপাশি পেটব্যথা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, অবসাদ ও ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বহুরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণের উৎস শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে কিছু অঙ্গরাজ্যে বিক্রি হওয়া নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের সঙ্গে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৪:৫৯
সিরিয়ার মার্কিন বিশেষ বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে আইআরজিসি-র হামলা চালানোর দাবি। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের, তেল-গ্যাস রপ্তানি বন্ধের হুঁশিয়ারি

ভয়াবহ বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে সাধারণ কাপড়ের মাস্কের পরিবর্তে এন৯৫ মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। ছবি: সংগৃহীত

দাবানলের ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি, যে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করতে হুথিদের বার্তা ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা হলে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বন্ধের হুমকি হুথিদের

দীর্ঘ ১৮ বছরের গবেষণার পর কঙ্গোর রেইনফরেস্টে কালো লোম ও উজ্জ্বল কমলা রঙের ঠোঁটের নতুন প্রজাতির বানর আবিষ্কার। ছবি: সংগৃহীত
কমলারঙা ঠোঁট, রহস্যময় ডাক, ১৮ বছর পর মিলল জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা নতুন বানরের প্রজাতি

কঙ্গোর ঘন রেইনফরেস্টে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা কালো লোম ও উজ্জ্বল কমলা রঙের ঠোঁটবিশিষ্ট এক নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, আধুনিক যুগে সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রাইমেট বা বানরজাতীয় প্রাণী আবিষ্কার অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত হয়েছে।   গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের লোমামি ন্যাশনাল পার্কে ২০০৮ সালে সংরক্ষণকর্মীরা প্রথম প্রাণীটিকে দেখতে পান। তবে তোলা ছবিটি স্পষ্ট না হওয়ায় সেটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রায় এক দশক পর আবার ক্যামেরায় ধরা পড়লে গবেষকদের সন্দেহ হয়, এটি হয়তো আগে কখনও নথিভুক্ত না হওয়া একটি নতুন প্রজাতি।   স্থানীয় বালাঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রাণীটির নাম দিয়েছে ‘লিকওয়েলি’। পরে গবেষণার মাধ্যমে এর বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয় ‘কোলোবাস কঙ্গোয়েনসিস’ বা ‘সি. কঙ্গোয়েনসিস’, যার নামকরণ করা হয়েছে কঙ্গো অববাহিকার নামে।   ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক জুনিয়র আমবোকো এবং তার সহকর্মীরা ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রাণীটির ওপর মাঠপর্যায়ে গবেষণা চালান। তারা বানরগুলোর চলাফেরা, ডাক, আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ৫২টি গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে ছবিও দেখান। তবে মাত্র আটটি গ্রামের মানুষ প্রাণীটিকে চিনতে পারেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় এটি শিকার করে খাদ্য হিসেবে খাওয়া হয়।   গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ১৫ পাউন্ড ওজনের এই বানর গাছে ২০ সদস্য পর্যন্ত দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। চকচকে কালো লোম, পশ্চাৎদেশে সাদা দাগ এবং মুখ ও নাকের চারপাশে উজ্জ্বল কমলা রঙের বৃত্তই এর সবচেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য। অন্য কোলোবাস বানরের তুলনায় এর মাথার লোমের গঠনও ভিন্ন।   গবেষকদের ধারণা, মুখের কমলা রঙের এই চিহ্ন একই প্রজাতির সদস্যদের একে অপরকে শনাক্ত করতে অথবা সঙ্গী আকর্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া অন্য কোলোবাস বানরের তুলনায় এদের ডাকও আলাদা। গভীর গর্জন ও নাক দিয়ে বের হওয়া বিশেষ ধরনের শব্দ এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   গবেষণার সময় শিকারিদের কাছ থেকে জব্দ করা মৃত প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করে বিজ্ঞানীরা ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন। পরে জাদুঘরে সংরক্ষিত অন্যান্য কোলোবাস বানরের নমুনার সঙ্গে তুলনা করে নিশ্চিত হন, এটি সত্যিই সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি।   গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় আবিষ্কৃত এটি মাত্র পঞ্চম নতুন বানর প্রজাতি। বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, এর নিকটতম আত্মীয় ব্ল্যাক কোলোবাস বানর থেকে প্রায় ৫০ লাখ বছর আগে এদের বিবর্তনগত বিচ্ছেদ ঘটে।   গবেষকরা প্রাণীটিকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন। কারণ এটি খুব সীমিত এলাকায় বাস করে এবং বন উজাড় ও শিকারের কারণে এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ১:৪০
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নেই, দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ হামলা, স্যাটেলাইট চিত্রে মিলল ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ

আলজেরিয়ার এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

আলজেরিয়ার এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের হাতুড়িপেটায় নিহত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের হাতুড়িপেটায় নিহত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী

দক্ষিণ আফ্রিকার হাইডেলবার্গ এলাকায় দোকানে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েকদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. জসীম উদ্দীন। তার মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে হাইডেলবার্গ এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন মো. জসীম উদ্দীন। গত শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার দোকানে প্রবেশ করে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।   হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   জানা গেছে, নিহত মো. জসীম উদ্দীনের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায়।   ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। হামলার কারণ বা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর ডাকাতি, ছিনতাই ও সহিংস হামলার ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রবাসী নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।   মো. জসীম উদ্দীনের মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৭:৬
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জাতিসংঘে যত সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাব এসেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: দাবি ইরানের

মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোর

একটি নয়, দুটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোর

আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক হওয়া গাজাগামী মানবিক সাহায্যবাহী নৌবহরের নারী কর্মীকে বন্দিশালায় নির্যাতনের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি কারাগারে জার্মান অধিকারকর্মীকে ধর্ষণ, তদন্তের দাবিতে আইনি লড়াই

0 Comments