- প্রচ্ছদ
- Topic
আন্তর্জাতিক সংবাদ
নেপালে এক অবিশ্বাস্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ১০৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই ঘটনাকে এক সত্যিকারের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন সবাই। গত ২৮ আগস্ট আলেকজান্ডার লোপেজের করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চোখের পলকেই ওই বৃদ্ধার বাড়িটি ধসে পড়েছিল। চারপাশের সব কিছু মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট্ট ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শ্বাস নেওয়াও তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অবস্থায় টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি সেখানে একেবারে নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন। বাইরে তখন উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের এক একটি স্তর সাবধানে সরিয়ে তাকে খুঁজছিল। তারা জানতেন না যে নিচে কোনো জীবিত মানুষ আছেন নাকি কেবল একটি মৃতদেহ পাওয়া যাবে। বুকের ওপর ধসে পড়া বাড়ির বিশাল ওজন নিয়ে বৃদ্ধা কেবল অপেক্ষাই করছিলেন। তার চিৎকার করার কোনো শক্তি ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বেঁচে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছিল। উদ্ধারকর্মীরা সেন্সরের মাধ্যমে ক্ষীণ প্রাণের স্পন্দন শনাক্ত করে তাদের কাজ চালিয়ে যান। বৃদ্ধার যেন কোনো আঘাত না লাগে, সে জন্য শেষ কয়েক মিটার তারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে খালি হাতেই মাটি ও ইটপাথর সরানোর কাজ করেন। অবশেষে যখন ধ্বংসস্তূপের শেষ ব্লকটি সরানো হয়, তখন উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করা ওই বৃদ্ধা তখনও বেঁচে আছেন এবং তার জ্ঞান রয়েছে। জীবনের ১০৫টি বছর পার করে এসে তিনি গত ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর যতটা কাছাকাছি ছিলেন, এর আগে হয়তো কখনোই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি তিনি। নেপালের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এমন সফল উদ্ধার অভিযান মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। সূত্র: আলেকজান্ডার লোপেজের প্রতিবেদন
কলম্বিয়ার কালি শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তিন বোনের দুইজন, যারা জন্ম থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন, একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একসঙ্গে বিদেশেও ভ্রমণ করেছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় তিন বোনের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন শুধু ২৩ বছর বয়সী আনিয়া মারিয়া। ১৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কালি শহরের একটি ভবন ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন আনিয়া মারিয়া, তার তিনজনের মধ্যে দুই বোন সোফিয়া ও ইসাবেলা এবং তাদের বাবা-মা হাইরো হার্নান সাভেদ্রা ও ভিক্টোরিয়া কাইসেদো। পরিবারের আরেক সদস্যও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে আনিয়া মারিয়ার বাবা-মাকে খুঁজে পান। পরে তার বোন সোফিয়ার সন্ধান মেলে। সর্বশেষ ইসাবেলাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও তখন তিনি আর বেঁচে ছিলেন না। ১৩ আগস্ট রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আনিয়া মারিয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন। তার শ্রোণিতে একাধিক হাড় ভেঙেছে এবং দুই হাতেও আঘাত রয়েছে। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কালি শহরের ইমবানাকো ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজন ও বন্ধুরা হাসপাতালে তার পাশে রয়েছেন। তিন বোনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি সময় ফ্রান্সেও কাটিয়েছেন। বন্ধু ও স্বজনদের কাছে তারা ছিলেন সব সময় একসঙ্গে থাকা তিন বোন। এই দুর্ঘটনার আগে তাদের জীবন ছিল অনেকটাই পরস্পরকে ঘিরে। একসঙ্গে পড়াশোনা, ঘোরাঘুরি এবং পারিবারিক সময় কাটানো ছিল তাদের জীবনের নিয়মিত অংশ। কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই পরিবারের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। কলম্বিয়ার এই ভূমিকম্পে কালি শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ২৮১ জন নিহত, প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন আহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রয়েছে। ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আনিয়া মারিয়ার পরিবারের এই ঘটনা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। যে তিন বোন জন্ম থেকে একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে এখন একজনই বেঁচে আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিয়া মারিয়াকে ঘিরে এখন তার স্বজন ও বন্ধুরাই হয়ে উঠেছেন প্রধান ভরসা। সূত্র: ইউওএল, দ্য সান।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিসাউকি কাউন্টিতে একাধিক স্থানে সংঘটিত গুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর সন্দেহভাজনকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। মিশিগান স্টেট পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে এপি, আপ নর্থ লাইভ এবং অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগে মিসাউকি কাউন্টির একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্ত চলাকালে পুলিশ আরও দুটি পৃথক স্থানে মরদেহ খুঁজে পায়। এর মধ্যে একটি মরদেহ হুইটলক লেকের কাছের বনাঞ্চলে এবং আরেকটি একটি পৃথক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এতে নিহতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়। ঘটনার পর ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যানকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে মিশিগান স্টেট পুলিশ। তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে সতর্কবার্তা দিয়ে এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে হুইটলক লেকের কাছাকাছি তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হলে সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে। মিশিগান স্টেট পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, "এটি শুধু তদন্তকারীদের জন্য নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাব এবং তদন্তে যা সামনে আসবে, সে বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত জানানো হবে।" কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় এবং সন্দেহভাজনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। নিহতদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর পরিচয় জানানো হবে। হামলার উদ্দেশ্যও এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং একাধিক অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। সূত্র: এপি, আপ নর্থ লাইভ, মিশিগান স্টেট পুলিশ।
রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে নিজের দত্তক ছেলেকে বিয়ে করার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন ৫৩ বছর বয়সী এক নারী। এই বিয়ের পর দেশটির শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষ তার হেফাজতে থাকা আরও পাঁচ দত্তক সন্তানকে সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাশিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাতারস্তানের বাসিন্দা আইসিলু চিঝেভস্কায়া মিনগালিম নামের ওই নারী ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল চিঝেভস্কিকে বিয়ে করেছেন। ড্যানিয়েলের সঙ্গে তার পরিচয় হয় যখন ছেলেটির বয়স ছিল ১৩ বছর। সে সময় তিনি একটি এতিমখানায় সংগীত শেখাতেন এবং সেখানেই ড্যানিয়েলের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ড্যানিয়েল ১৪ বছর বয়সে পৌঁছালে আইসিলু তাকে আইনগতভাবে দত্তক নেন এবং নিজের সন্তান হিসেবে লালন-পালন করতে শুরু করেন। প্রায় আট বছর পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এই সিদ্ধান্ত শিশু অধিকার ও পরিবার কল্যাণ সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে আইসিলু বলেন, "আমাদের সম্পর্ক খুবই সুন্দর। আমরা একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারি না। আমরা একই মানসিকতার মানুষ।" গত সপ্তাহে তাতারস্তানের রাজধানী কাজানের একটি রেস্তোরাঁয় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের পরপরই শিশু কল্যাণ কর্মকর্তারা আইসিলুর হেফাজতে থাকা আরও পাঁচ দত্তক সন্তানকে সরিয়ে নেন। তাদের মধ্যে একজন ছেলে ও চারজন মেয়ে রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের কেউ সরকারি পরিচর্যা কেন্দ্রে, আবার কেউ তাদের জৈবিক আত্মীয়দের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আইসিলু। তিনি দাবি করেছেন, সন্তানদের আবারও নিজের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। তার ইচ্ছা, পরিবারের সবাইকে নিয়ে মস্কোতে চলে যাওয়া, যেখানে তারা আরও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইসিলুর আগের একটি বিয়ে থেকে একজন জৈবিক সন্তান রয়েছে। তবে তাকে নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জানা যায়, একটি টেলিভিশন প্রকল্পের কাজে এতিম শিশুদের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই আইসিলু একে একে একাধিক শিশুকে দত্তক নেওয়া শুরু করেন। রাশিয়ায় এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে দেশটির আরেক নারী মেরিনা বালমাশেভা নিজের সাবেক সৎছেলেকে বিয়ে করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হন। তিনি আগে ওই তরুণের বাবার স্ত্রী ছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সাবেক সৎছেলের সঙ্গে সংসার শুরু করেন এবং তাদের সন্তানও রয়েছে। সেই ঘটনাও সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। আইসিলু ও ড্যানিয়েলের বিয়ে আইনগত, নৈতিক ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দত্তক সম্পর্কের সীমা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি। সূত্র: ডেইলি মেইল।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত এক হোটেলে এক রাত কাটানোর পর ছারপোকার ভয়ংকর কামড়ের শিকার হয়েছেন হান্নাহ স্টিফেনসন নামের এক নারী। ৩১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের দাবি, ক্যামব্রিজের ট্রাভেলজ হোটেলে এক রাত থাকার পর তার হাত, পা, বুক ও মুখমণ্ডল ছারপোকার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শেয়ার করা ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক মাধ্যম টিকটকে এক পোস্টে স্টিফেনসন তার কামড়ে ফুলে যাওয়া লাল দাগের ছবি শেয়ার করে লেখেন, "এই হোটেলে এক রাতের জন্য ছিলাম। সকালে উঠে দেখি প্রচণ্ড চুলকানি আর বালিশে রক্তের দাগ। এমনকি আমি ছারপোকাগুলো স্বচক্ষে দেখেছি।" পোস্টটিতে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক ভিউ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যামব্রিজের নিউমার্কেট রোডে অবস্থিত ওই হোটেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তার এই দুর্দশার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই অবস্থায় আমাকে একটা পারিবারিক বিয়েতে অংশ নিতে হয়েছে। জঘন্য এই কামড়ের দাগ ঢাকতে নতুন জামাকাপড় কিনতে হয়েছে। একটানা চুলকানির কারণে আমি কয়েক সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, এমনকি আমার প্যানিক অ্যাটাকও হয়েছে।" প্রাথমিকভাবে দ্য পোস্টের মন্তব্যের অনুরোধে ট্রাভেলজ ইউকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। তবে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বাজেট হোটেল ব্র্যান্ডটি জানিয়েছে, "স্টিফেনসনের এমন অভিজ্ঞতার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। এমন ঘটনা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা আমরা বুঝতে পারছি।" গত ২৬ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার বদলে ট্রাভেলজ হোটেলে একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন স্টিফেনসন। তিনি বলেন, "ক্যামব্রিজের সুন্দর জায়গা ও পাবগুলোতে খুব ভালো সময় কাটিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছারপোকার কামড়ে সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। রক্ত আর ছারপোকাগুলো দেখার আগে আমি বুঝতেই পারিনি কী হয়েছে।" তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তার মুখ ও হাতের লালচে ফোলা দাগগুলো কমেনি। এ সময় তাকে প্রচুর অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ খেতে হয়েছে, যা তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যার কারণে অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেননি। এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাস করা এই ইনফ্লুয়েন্সার বলেন, "ক্যামব্রিজের মতো জায়গায় এমন কিছু ঘটবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।" তবে টিকটকে তার পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিফেনসন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রাভেলজ হোটেল থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার (২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৩ লাখ টাকা) গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, "এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আমার শত্রুরও যেন না হয়।" তিনি আশা করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচ্ছন্নতা ও ছারপোকা দমনের ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে। ট্রাভেলজ হোটেলের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "আমাদের গ্রাহকদের নিরাপত্তা সবার আগে। পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ এবং তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা বিশেষজ্ঞ পরিচালিত কঠোর ব্যবস্থা বজায় রাখি। কোনো হোটেলে এমন অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার আশেপাশের রুমগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দিই।" ছারপোকার সমস্যা শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, আমেরিকাতেও প্রকট। সম্প্রতি ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের এক দর্শনার্থী ফ্লোরিডায় তাদের রিসোর্টে থাকার সময় ছারপোকার কামড় খাওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, ছারপোকার উপদ্রবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে শিকাগোর পরই লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থান। গবেষকদের মতে, ছারপোকার কামড় সাধারণত ব্যথাহীন হলেও এর ফলে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া এটি মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত এমনকি মারাত্মক অ্যালার্জির কারণও হতে পারে।
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি জনগণকে ধৈর্য, সংযম ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অস্থিরতার এই পরিস্থিতি কাটিয়ে জাতীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তিনি নাগরিক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতি শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সহিংসতার ঘটনায় একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে একটি হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। শোভাযাত্রায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুইজন নিহত হন। পরে বৃহস্পতিবার পাশের সিরাহা জেলায় কারফিউ চলাকালেও বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনজনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুনসারি ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষা করা এবং সর্বনিম্ন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সবার দায়িত্ব। কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।” তিনি আরও বলেন, সরকার ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবে এবং তদন্তে কোনো ধরনের পক্ষপাত করা হবে না। নেপালের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তরাই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। অতীতে স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও অবনতি ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের পর হত্যার দায়ে তার মা আলেকজান্দ্রা ওয়াকার এবং মায়ের সঙ্গী হ্যারিসন সিম্পসনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায়ে ওয়াকারকে অন্তত ২২ বছর এবং সিম্পসনকে অন্তত ২৮ বছর কারাভোগের পর মুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। সিম্পসন শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে দুজনই শিশু নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। ইংল্যান্ডের টিসসাইড ক্রাউন কোর্টে শুনানিতে উঠে আসে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মারা যাওয়া দুই বছরের ইসাবেল রোজ ওয়েলশ দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ২১টি হাড় ভাঙা, ৯৭টি নরম টিস্যুর আঘাত এবং আরও একাধিক গুরুতর জখমের প্রমাণ পাওয়া যায়। আদালতে উপস্থাপিত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগে শিশুটির ওপর বারবার সহিংস নির্যাতন চালানো হয়েছিল। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন ইসাবেলের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন হ্যারিসন সিম্পসন। পরে শিশুটি গুরুতর আহত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তার মা আলেকজান্দ্রা ওয়াকার ইন্টারনেটে "আমার ছোট শিশুর রক্তপাত কেন হচ্ছে" লিখে তথ্য খোঁজেন। আদালতে উপস্থাপিত নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই সময় তিনি বাড়ির ভেতরে এদিক-ওদিক হাঁটছিলেন এবং জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। আদালতে আরও জানানো হয়, ঘটনার সময় ওয়াকার তার মেয়েকে নাম ধরে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন, "তুমি আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছ।" তবে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করতে তিনি বিলম্ব করেন। প্রসিকিউশনের দাবি, শিশুটির অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠার অনেক পরে, পরিবারের এক সদস্যের পরামর্শে তিনি জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেন। পরে প্যারামেডিকরা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মামলার শুনানিতে ইসাবেলের নানি ক্লেয়ার ওয়াকার জানান, মৃত্যুর আগের কয়েক দিনে নাতনির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি শিশুটিকে খুবই প্রাণবন্ত, বুদ্ধিমান এবং সুস্থ স্বাভাবিক হিসেবে জানতেন। তবে শেষ দিকে তার শরীরে একের পর এক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। একটি পর্যায়ে শিশুটির পা ভেঙে যাওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল। পরে বাড়িতে গিয়ে তার পিঠেও আঘাতের দাগ দেখতে পান বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি। তদন্তে উঠে আসে, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে জোরে ঝাঁকানো হয়েছিল এবং শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে আঘাত করা হয়েছিল। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আঘাতই তার মারাত্মক মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হয়। আদালতে আরও বলা হয়, শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনার বর্ণনা আদালত সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করে এবং শিশুর মর্যাদা ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখে। ওয়াকার ও সিম্পসন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তারা হত্যা, শিশু নির্যাতন, শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী হওয়া এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং তদন্তের তথ্য পর্যালোচনা করে জুরি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের পর যুক্তরাজ্যে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীরা বলেছেন, পরিবার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। সোমবার ভোরে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয় বলে জানায় মস্কোর প্রশাসন। একই সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, শহরের দিকে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব স্থানে ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে সেখানে জরুরি সেবা পাঠানো হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান কয়েকটি বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো, ডোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকভস্কি সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করে। পরে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পক্ষ থেকে সেগুলো পুনরায় চালুর কথা জানানো হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সার্বিকভাবে রাতভর ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত ড্রোনও রয়েছে। এর আগে কয়েক দিন আগেই মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন আঘাত হানে, যা ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর শহরটিতে অন্যতম বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এতে একজন মিশরীয় ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন। সুমি অঞ্চলের প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু, তার ৩৬ বছর বয়সী বাবা এবং ৭৩ বছর বয়সী দাদি। একই ঘটনায় শিশুটির মা ও দুই ভাইবোন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি কৃষি স্থাপনায় যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। এছাড়া রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল শহরে সব ধরনের উন্মুক্ত আকাশের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে সাধারণ জ্বালানি বিক্রি সীমিত করে শুধুমাত্র সরকারি ও জরুরি পরিষেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রুশ নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পালাউ ও বেলিজ পতাকাবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তুরস্কের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে এক মিশরীয় ক্রু নিহত এবং কয়েকজন নাবিককে লাইফবোটে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিশ্বের ৯৩টি দেশের পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ কাটছাঁট করে অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। এতদিন এই সুবিধার আওতায় দেশটির বিমানবন্দরে নেমেই ৬০ দিনের ভিসা পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকায়েও সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ নিয়ে অনেক বিদেশি পর্যটক থাইল্যান্ডে এসে সেটির অপব্যবহার করছেন। মূলত এই অবৈধ অপব্যবহার রোধ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার ভিসার মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিনে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছে। থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অন-অ্যারাইভাল ভিসার পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসার নিয়মকানুনও আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে দেশে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা প্রকৃত উদ্দেশ্যেই থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন কি না তা নিশ্চিত করা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের অবকাশযাপনের জন্য থাইল্যান্ড অন্যতম প্রধান ও আকাঙ্ক্ষিত একটি গন্তব্য। তবে সম্প্রতি ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের আগমন কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১ কোটি ১৪ লাখ বিদেশি পর্যটক এসেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।
শ্রীলংকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালিয়ে ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করেছে সাইবার অপরাধীরা। এটি এখন পর্যন্ত দেশটির কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘটা সবচেয়ে বড় সাইবার অর্থচুরির ঘটনা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় দেশটির পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হার্শানা সুরিয়াপেরুমা জানান, চুরি হওয়া এই অর্থটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার একটি ঋণ পরিশোধের জন্য পাঠানোর কথা ছিল। তবে নিয়মিত তদন্তের সময় দেখা যায়, নির্ধারিত সেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব থেকে হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে গেছে। তদন্তে আরও উঠে আসে যে, অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার আগে অপরাধীরা প্রথমে মন্ত্রণালয়ের ই-মেইল সার্ভারে অনুপ্রবেশ করেছিল। বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক ফৌজদারি তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সহায়তাও চেয়েছে শ্রীলঙ্কা। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা এই রহস্যজনক অর্থ লেনদেনের বিষয়ে অবগত আছেন এবং লঙ্কান কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। ২০২২ সালের চরম অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে দেশটি যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে এই বিশাল অংকের অর্থ চুরি লঙ্কান অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, জাতীয় আর্থিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার ঝুঁকি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে।
ইরান যদি নতুন শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি তেহরানকে এই সতর্কবার্তা দেন। হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ইরানের আর কোনো কার্যকর নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই। তিনি বলেন, এই প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন। এছাড়া তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন চীন ইরানে কোনো প্রকার অস্ত্র পাঠাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, তবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ইরানে প্রবেশকারী ও বের হওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ইরানকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেগসেথ হুঁশিয়ারি দেন যে, ভুল পথ বেছে নিলে দেশটির বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাত ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়বে। মূলত ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ ও হুমকির পথ বেছে নিয়েছে পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আর্ট মিউজিয়াম থেকে তুরস্কের প্রাচীন নগরী স্মির্নার একটি ঐতিহাসিক মার্বেল ভাস্কর্য উদ্ধার করে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, পঞ্চম শতাব্দীতে নির্মিত এই মহামূল্যবান নিদর্শনটি এখন ইজমির প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হচ্ছে। তুরস্কের সংস্কৃতি মন্ত্রী মেহমেত নুরি এরশয় জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং ১৯৩৪ সালের খনন কাজের ঐতিহাসিক নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি স্মির্নার প্রাচীন অ্যাগোরা থেকে সংগৃহীত। বিশেষজ্ঞদের মতে, থিওডোসিয়াস আমলের এই অনন্য শিল্পকর্মটি এক সময় অবৈধ পথে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল যা তুরস্কের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি ছিল। ডেনভার আর্ট মিউজিয়ামের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে গঠনমূলক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রাচীন প্রত্নসম্পদটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। মন্ত্রী এরশয় এই জটিল প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত গবেষক ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় তাদের এই আপসহীন অভিযান আগামীতেও অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে অব্যাহত থাকবে। ঐতিহাসিক এই মার্বেল ভাস্কর্যটি এখন তুরস্কের পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইজমিরে পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রাচীন প্রত্নসম্পদ ফিরিয়ে আনার যে বৈশ্বিক আন্দোলন শুরু হয়েছে, তুরস্কের এই বিজয় সেই প্রচেষ্টারই একটি সফল উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারের এই ধারা আগামীতে তুরস্কের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যেই চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীন সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বেইজিংয়ে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বুধবার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরের তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। পুতিনের এই সফরে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘চীন-রাশিয়া মৈত্রী চুক্তি’ পুনরায় নবায়ন করা হবে। এটি দুই পরাশক্তির মধ্যকার সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। লাভরভ জানিয়েছেন যে, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে ইতিমধ্যে তাদের চূড়ান্ত এজেন্ডা তৈরি করছেন। হরমজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চীনে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে রাশিয়া এখন বিশেষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বড় ধরণের পরিকল্পনা করছে। লাভরভ বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকের পর জানিয়েছেন যে, মস্কো এখন চীনের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ও কৌশলগত শরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অত্যন্ত আগ্রহী। গত বছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পুতিনের এই আসন্ন সফর সেই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই মাইলফলককে সামনে রেখে দুই দেশই পশ্চিমা বিশ্বের চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো সংকল্প ব্যক্ত করেছে। মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্ভাব্য সম্মেলনটি বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরণের মেরুকরণ ঘটাবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রতিটি স্তরে।
ইরানি বন্দরে আমেরিকার কঠোর নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লোহিত সাগরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রুদ্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার জানিয়েছে, আমেরিকা যদি তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। জেনারেল আলী আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন আগ্রাসন চলতে থাকলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো দেশের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেওয়া হবে না। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ঘোষণা করেছিল যে, তারা ইরানের সব বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং সব দেশের জাহাজের ওপর সমভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন। সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই মার্কিন সীমানা পার হতে পারেনি এবং ছয়টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। গদর উপসাগর থেকে রাস আল হাদ্দ পর্যন্ত বিশাল এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। ফলে ওমান সাগর থেকে আরব সাগরে জাহাজ চলাচলের প্রধান রুটটি এখন কার্যত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নৌ-ট্রাফিক ডাটা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমজ প্রণালী দিয়ে অন্তত ১৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। যার মধ্যে গ্যালাক্সি গ্যাস, অল নাজির এবং গ্রিসের বেশ কিছু তেল ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ও তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক জাহাজ সংঘাত এড়াতে মাঝপথ থেকে ফিরে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার কঠোর হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবরোধের মাধ্যমে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হলে সেটি চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই আবদুল্লাহির এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিল। ইরানের এই হুমকি এমন সময়ে এলো যখন দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংলাপের প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ‘কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও নতুন বৈঠকের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রবিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকটি ফলপ্রসূ না হলেও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে। বাঘায়ি বলেন, “ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরানের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং পরবর্তী বার্তাগুলোতেও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আজই পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করতে পারে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের আশঙ্কার জবাবে মুখপাত্র আবারও দাবি করেন, তাদের এই প্রকল্প সম্পূর্ণ ‘শান্তিপূর্ণ’। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইরান নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত থেকে যায়।
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার স্কুল শুটিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) কাহরামানমারাস প্রদেশের ওনিকিশুবাত জেলার ‘আয়সার চালিক মিডল স্কুলে’ এক ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। কাহরামানমারাস প্রদেশের গভর্নর মুকেররেম উনলুয়ের জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলাকারী ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং সে তার বাবার (একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা) লাইসেন্সকৃত পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে স্কুলে এসেছিল। গভর্নর জানান, হামলাকারী নিজেও এই ঘটনায় নিহত হয়েছে। আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থীকে স্কুল ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করতে দেখা গেছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রী আকিন গুরলেক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন এবং এই সংক্রান্ত সংবাদের ওপর সাময়িক সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এর মাত্র একদিন আগে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শানলিউরফা প্রদেশের সিভরেক জেলার একটি ভোকেশনাল হাই স্কুলে এক সাবেক ছাত্রের গুলিতে ১৬ জন আহত হয়েছিল, যে হামলাকারী পরে আত্মহত্যা করে। তুরস্কে সাধারণত এ ধরণের স্কুল শুটিং অত্যন্ত বিরল হলেও দুই দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি রক্তক্ষয়ী ঘটনা পুরো দেশজুড়ে স্কুল নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনী পরিচালনার শীর্ষ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন একজন নারী। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) অস্ট্রেলীয় সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েলকে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে মনোনীত করার বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী জুলাই মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ৫৫ বছর বয়সী সুসান। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ’ হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এই নিয়োগকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এক ‘গর্বের মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুসান কয়েলের প্রায় চার দশকের সামরিক ক্যারিয়ারে আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ মোকাবিলায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, সুসানের এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, এমন এক সময়ে এই নিয়োগ এলো যখন অস্ট্রেলীয় বাহিনীতে পদ্ধতিগত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২১ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী ও সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর নেতৃত্বেও বড় ধরণের রদবদল আনা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল। সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমানে জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাসে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রথমবারের মতো আমরা একজন নারীকে সেনাপ্রধান হিসেবে দেখতে যাচ্ছি।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে “গভীর ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সুসান কয়েলের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সদস্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে।” ৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর যেকোনো শাখার নেতৃত্বে আসা তিনিই প্রথম নারী। এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী পদ্ধতিগত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগের মুখে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়ের করা একটি যৌথ মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাজার হাজার নারী সদস্যকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই বাহিনী। বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে রয়েছেন ১৮.৫ শতাংশ নারী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে একই দিনে সামরিক নেতৃত্বে আরও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (এডিএফ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করছে।
হরমজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের দীর্ঘসূত্রতা সহসাই কাটছে না। পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও জাহাজ মালিক এবং বিমাকারীরা এখনও এই রুটে চলাচলের ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন না। গ্লোবাল মার্কেট অ্যানালিস্ট লালে আকোনার জানান, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর ভরসা করে খালি জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে চাইছে না। বর্তমানে প্রায় ৪০০ তেলের ট্যাঙ্কার উপসাগরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে, বিপরীতে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে মাত্র ১০০টি জাহাজ। শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ এই জলপথ খুলে দিলেও বাজার স্বাভাবিক হতে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কেবল জ্বালানি তেল নয়, বিশ্বের ৩০ শতাংশ সারের সরবরাহ এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। গত ছয় সপ্তাহের সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেলের উৎপাদনও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ মজুত করার জায়গা নেই। নতুন জাহাজ না আসা পর্যন্ত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য এবং সংকটের স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাইতির উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক 'সিটাডেল লাফেরিয়ের' দুর্গে বার্ষিক উৎসব চলাকালীন এক ভয়াবহ পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে শনিবার হাজার হাজার পর্যটক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের প্রধান জঁ অঁরি পেতি জানান, দুর্গের প্রবেশপথে প্রচণ্ড ভিড় এবং সেই সাথে বৃষ্টি পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ভিড় সামলাতে পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপের গুঞ্জন থেকেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই তরুণ ও শিক্ষার্থী। হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-আইমে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জর্জরিত হাইতির জন্য এই ঘটনা এক নতুন শোকের ছায়া নিয়ে এসেছে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।