আন্তর্জাতিক সংবাদ

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ‘তুরুপের তাস’ হরমুজ প্রণালি; কেন এটি পারমাণবিক শক্তির চেয়েও ভয়াবহ?

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ৪০ দিনের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সত্য সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। বিবিসির ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স সংবাদদাতা জিয়ার গোলের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।   সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সামরিক স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়, তখন তেহরান তাদের রণকৌশল বদলে ফেলে। তারা প্রচলিত যুদ্ধের বদলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের সিংহভাগ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন যে, এই পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়া সম্ভব। গত কয়েক সপ্তাহে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। মূলত এই চাপের মুখেই ওয়াশিংটন নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত সামরিক শক্তির চেয়েও এই জলপথ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ইরানকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার | ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ‘অগ্রহণযোগ্য’, বসতি স্থাপন বন্ধের দাবি বেলজিয়ামের

ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের নীতি অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে বেলজিয়াম। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, পশ্চিম তীরে নতুন করে বসতি স্থাপনের ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের বাধার মুখে ফেলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননের সাথে আলোচনা শুরুর খবর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ইতিবাচক হলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ পরিস্থিতিকে আবারও ঘোলাটে করে তুলছে। অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রেভোট দোষীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন যে, ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের উস্কানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে বর্তমান ইসরায়েলি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের কাজ বহুগুণ ত্বরান্বিত হয়েছে যা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও কূটনৈতিক বিতর্ক চলছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বরাবরই ইসরায়েলি এই তৎপরতাকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে আসছে তবে এরপরেও নতুন করে আরও ৩৪টি বসতি স্থাপনের গোপন ঘোষণা উত্তেজনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বেলজিয়ামের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ফিলিস্তিন ইস্যুতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার এবং তারা ইসরায়েলের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের পক্ষপাতি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক এই চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে এই অঞ্চলের মানচিত্র ও শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার লাশ ফেরত দিল রাশিয়া

দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বড় ধরনের মরদেহ বিনিময় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাশিয়া তাদের হেফাজতে থাকা ১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ হস্তান্তর করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।   ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দি বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনাকারী সমন্বয় কেন্দ্র টেলিগ্রাম বার্তায় জানায়, তারা ১ হাজারটি মরদেহ গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে রুশ সংবাদমাধ্যম আরবিসি জানিয়েছে, বিনিময়ে ইউক্রেনও ৪১ জন নিহত রুশ সেনার মরদেহ রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। রুশ আইনপ্রণেতা শামসাইল সারালিয়েভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   রণক্ষেত্রে দুই পক্ষেই প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এই ধরনের বিনিময়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহত সেনাদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে শেষ বিদায়ের জন্য পৌঁছে দিতে দুই দেশই নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের সমন্বয় করে আসছে।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে ৪ অভিবাসীর মৃত্যু; ডিঙি থেকে সাগরে পড়ে মর্মান্তিক পরিণতি

উত্তর ফ্রান্সের উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে যাওয়ার চেষ্টাকালে নৌকা থেকে পড়ে ৪ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে ফ্রান্সের ক্যালে অঞ্চলের ইকুাইহেন ও একল্ট সৈকতের মাঝামাঝি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   স্থানীয় মেয়র ক্রিশ্চিয়ান ফোরক্রয় জানান, প্রায় ৩০ জনের একটি অভিবাসী দল একটি ইনফ্ল্যাটেবল ডিঙি নৌকায় ওঠার চেষ্টা করার সময় বিপদে পড়ে পানিতে তলিয়ে যান। মৃতদের মধ্যে দুজন নারী এবং দুজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আরও এক অভিবাসীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল অভিবাসী সাগরে পড়ে গেলেও ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি না থেমে বাকিদের নিয়ে ব্রিটেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে।   পুলিশ জানিয়েছে, মানবপাচারকারীরা নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘ট্যাক্সি-বোট’ কৌশল ব্যবহার করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৭৭৬ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। এই বিপজ্জনক পারাপার রোধে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে 'ওয়ান ইন, ওয়ান আউট' চুক্তি থাকলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।   অভিবাসন নিয়ে এই প্রাণহানি এবং নিয়মিত অনুপ্রবেশ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শুধু সীমান্ত পাহারা দিয়ে এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়; অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও আইনি পথ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান | ছবি: সংগৃহীত
আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারে: লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলকে ইরানের কড়া বার্তা

লেবাননে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ হামলাকে "প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।   প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইসরায়েলি এই আগ্রাসনকে "প্রতারণা এবং সম্ভাব্য চুক্তিগুলো না মানার একটি বিপজ্জনক লক্ষণ" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে চলমান শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়বে। লেবাননের জনগণের প্রতি তেহরানের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, "ইরান তার লেবানিজ ভাই-বোনদের কখনোই একা ফেলে যাবে না।"   একইসাথে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমাদের হাত এখনো (বন্দুকের) ট্রিগারেই আছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।   উল্লেখ্য, বুধবার বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধে বিল পাশ করাচ্ছেন  বার্নি স্যান্ডার্স
ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধে বিল পাশ করাচ্ছেন বার্নি স্যান্ডার্স

ইসরায়েলে আমেরিকার পক্ষ থেকে দেওয়া সব ধরনের সামরিক সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে আগামী সপ্তাহে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং একই সাথে ইরান যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন। স্যান্ডার্স দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্ররোচিত করে এই বিপর্যয়কর যুদ্ধে টেনে এনেছেন যা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, ইসরায়েলকে আর কোনোভাবেই আমেরিকার সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করার সুযোগ দেওয়া যায় না এবং যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। স্যান্ডার্স তার দীর্ঘদিনের অবস্থানে অনড় থেকে জানান যে, ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আমেরিকা আর অন্ধভাবে অস্ত্রের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করতে পারে না। তিনি মনে করেন যে, গাজা ও ইরানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং এর জন্য মূলত ওয়াশিংটনের একতরফা অস্ত্র সরবরাহকেই দায়ী করা হচ্ছে। আমেরিকার বেশ কয়েকজন ক্ষমতাধর নীতিনির্ধারক অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন যে ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করা হোক যাতে করে এই ভয়াবহ সংঘাত আর বেশি দীর্ঘস্থায়ী না হয়। বার্নি স্যান্ডার্স অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার রয়েছেন এবং বর্তমান ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে তিনি মানবসভ্যতার জন্য এক বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন যে, ইসরায়েলের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে না পারলে আমেরিকার সেনাবাহিনী আগামীতে আরও বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটে পড়তে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হবে। নেতানিয়াহু সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে আমেরিকার সাধারণ করদাতাদের অর্থের বিশাল অপচয় হচ্ছে বলে তিনি তার বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রতিটি স্তরে। আগামী সপ্তাহে সিনেটে এই বিশেষ প্রস্তাবটি পেশ করার পর সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন কারণ রিপাবলিকানরা এর ঘোর বিরোধী। যদি স্যান্ডার্সের এই প্রস্তাব কোনোভাবে পাস হয় তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘদিনের রণকৌশলকে আমূল বদলে দিতে পারে এবং ইসরায়েলের ওপর এক বিশাল আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে। বর্তমানে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে বিশাল মেরুকরণ দেখা দিয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষও যুদ্ধের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে রাজপথে নেমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। স্যান্ডার্স বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, অস্ত্র পাঠানোর মাধ্যমে এই অসম যুদ্ধের অংশীদার হওয়া আমেরিকার জন্য এক ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে যা দ্রুত সংশোধন করা জরুরি। সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহের এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের ভেতরে এবং বাইরে এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এখন।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
দীর্ঘ ৪০ দিন শেষে খুলে দেওয়া হলো পবিত্র আল-আকসা মসজিদের সব কটি প্রবেশদ্বার
দীর্ঘ ৪০ দিন শেষে খুলে দেওয়া হলো পবিত্র আল-আকসা মসজিদের সব কটি প্রবেশদ্বার

দীর্ঘ ৪০ দিনের কঠোর সামরিক অবরোধ ও বিধিনিষেধ শেষে অবশেষে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের সব কটি প্রবেশদ্বার। বৃহস্পতিবার ভোররাতে আজানের সঙ্গে সঙ্গে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি পবিত্র হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন যা ছিল গত দেড় মাসের মধ্যে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন দৃশ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের জন্য এই পবিত্র ধর্মীয় স্থানটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। মসজিদের গেট খুলে দেওয়ার পর শত শত মুসল্লিকে চত্বরে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আনন্দে চোখের জল ফেলতে দেখা যায় প্রতিটি কোণে। দীর্ঘ বিরতির পর আজই প্রথম আল-আকসা প্রাঙ্গণে কোনো বড় জামাতবদ্ধ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে শিশু ও বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অবরোধ চলাকালে গত ৬ এপ্রিল ইসরায়েলের উগ্রপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই মসজিদ প্রাঙ্গণে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন। ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসায় হতে পারেনি যা ছিল ১৯৬৭ সালের পর প্রথম কোনো অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। কেবল মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনাই নয় বরং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অত্যন্ত পবিত্র চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকারও দীর্ঘ এই সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত এই মসজিদটি বন্ধ থাকাকালীন সময়ে কেবল নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও সাধারণদের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। ইসরায়েলি সরকার এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও মসজিদটি শেষ পর্যন্ত এই সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে কি না তা নিয়ে ছিল বিশাল অনিশ্চয়তা। ভোরবেলা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ আল-আকসার চত্বরে ভিড় করেন এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন সুযোগ পেয়ে পরম শান্তি ও স্বস্তি অনুভব করেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দীর্ঘকালীন ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা ও পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগে থেকেই তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝেই এই ধর্মীয় স্থানটি খুলে দেওয়াকে অনেক বিশ্লেষক সাময়িক উত্তেজনা প্রশমনের একটি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন। বর্তমানে মসজিদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুরো পুরনো শহর এলাকায় অতিরিক্ত ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে করে যেকোনো বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পবিত্র এই স্থাপনাটি খুলে দেওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং সেখানে নির্বিঘ্নে ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। দখলদার বাহিনীর এমন বৈরী আচরণের পর পবিত্র এই চত্বরটি ফিরে পেয়ে ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন যে ধর্মীয় স্বাধীনতাই তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ের সবচাইতে বড় শক্তি। পুরনো জেরুজালেমের অলিগলিতে আজ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং প্রতিটি ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের দীর্ঘদিনের হারানো অধিকার ফিরে পেয়ে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে উঠেছে আজ।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার ব্রায়ান হেগসেথ | ছবি: সংগৃহীত
ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' ঐতিহাসিক বিজয়: পিট হেগসেথ

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: বুধবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে পিট হেগসেথ বলেন, 'অপারেশন এপিক ফিউরি ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও ব্যাপক বিজয় যেকোনো মানদণ্ডেই এটি একটি বড় সামরিক সাফল্য।' তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং বহু বছর ধরে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। হেগসেথ বলেন, ট্রাম্পের কঠোর হুমকির মুখে ইরান আলোচনায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং তেল-জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতো, যা তারা প্রতিরোধ করতে পারত না। ট্রাম্পও যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের 'সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত বিজয়' হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ-এর মধ্যস্থতায় নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবুও হেগসেথ দাবি করেন, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এদিকে যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, যুদ্ধবিরতি আপাতত একটি বিরতি মাত্র এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবার দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং শতাধিক নৌযান ও হাজারো সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। তবে এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে ‘খুব শিগগিরই’ সরাসরি বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের সংঘাতের অবসানে বড় অগ্রগতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘খুব শিগগিরই’ সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেন। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটি খুব শিগগিরই ঘটবে, আসলে—খুব দ্রুতই এটি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।” তবে সম্ভাব্য এই শান্তি আলোচনায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত না-ও থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের প্রতিনিধি দলে তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। ট্রাম্প জানান, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারী দল পাকিস্তানের নেতাদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে এই বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। এর আগে মঙ্গলবার সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে স্থায়ী চুক্তির একটি সম্ভাব্য রূপরেখা হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবের কিছু দাবি বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।   যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি এখন মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয়ত, ইরানের মাটির নিচে লুকানো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই জটিল বিষয়গুলোর সমাধান মিললেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসন | ছবি: সংগৃহীত
ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক মুক্তি পাচ্ছেন

ইরাকের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ অবশেষে অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।  গত মার্চের শেষ দিকে বাগদাদ থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, মুক্তির পর শেলি কিটলসনকে অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ করতে হবে।  দীর্ঘ কয়েক দিনের উৎকণ্ঠা শেষে এই মার্কিন সাংবাদিকের মুক্ত হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি ফিরলেও, তাকে দেশ ছাড়ার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘তেহরান টোল বুথ’ দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হলো জাপানি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন আশা’

ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখার ঘোষণা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই জাপানি শিপিং কোম্পানি মিৎসুই ওএসকে লাইনসের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) কোম্পানিটির এক মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ‘গ্রিন আশা’ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের পথে রয়েছে।   ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই প্রধান রুটটি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছে। মিৎসুই ওএসকে লাইনসের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, ‘গ্রিন আশা’র ক্রু সদস্য এবং জাহাজে থাকা পণ্য উভয়ই সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। এটি ছিল জাপান-সংশ্লিষ্ট তৃতীয় জাহাজ, যা উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতেও সফলভাবে প্রণালি পার হতে সক্ষম হলো।   এর আগে গত শনিবার ভারত সরকার জানিয়েছিল যে, মিৎসুইয়ের মালিকানাধীন অপর একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন সানভি’ নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। এছাড়া ১ মার্চের পর প্রথম এলএনজি ট্যাঙ্কার হিসেবে মিৎসুইয়ের ‘সোহার এলএনজি’ এই প্রণালি পার হওয়ার রেকর্ড গড়ে। শিপিং সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক জাহাজ এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করছে, তারা ইরানের অনুমোদিত একটি বিশেষ পথ ব্যবহার করছে যা লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে গেছে। এই পথটি আন্তর্জাতিক মহলে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালির এই বিকল্প ও নিয়ন্ত্রিত রুটটি বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও মার্কিন হুমকির মুখে ইরান এই পথে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে, তবুও জাপানি ও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোর এই নিরাপদ পারাপার আন্তর্জাতিক শিপিং বাণিজ্যের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।   সূত্র: এএফপি ও লয়েডস লিস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১ জন নিহত

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানায়, রবিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে সাইপ্রেস হিলস এলাকার ফুলটন স্ট্রিট ও ক্লিভল্যান্ড স্ট্রিটের কাছে ৯১১ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দু’জনকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। আহতদের দ্রুত ব্রুকডেল হাসপাতাল কেন্দ্র-এ নিয়ে যাওয়া হলে, ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্য ভুক্তভোগী, ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, কারণ তার পরিবারের সদস্যদের আগে জানানো হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা একে অপরকে বা হামলাকারীকে চিনতেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। এর আগে গত বুধবার দুপুরে পূর্ব উইলিয়ামসবার্গ এলাকায় নির্বিচারে ছোড়া গুলিতে ৭ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, শিশুটি তার মা-বাবার সঙ্গে স্ট্রোলারে করে বাইরে বেরিয়েছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে প্রথমে তারা এটিকে আতশবাজি মনে করেছিলেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, একটি মোটরচালিত মোপেডে থাকা বন্দুকধারীরা ভিড়ের দিকে গুলি ছোড়ে। গুলির একটি শিশুটির মাথায় লাগে, এবং ঘটনাস্থলেই সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একই ঘটনায় তার ছোট ভাইও সামান্য আহত হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে গণপরিবহন ফ্রি; পাঞ্জাবেও মিলবে বিনামূল্যে সেবা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আকাশচুম্বী দামের কারণে বিভিন্ন দেশে যানবাহন ও কলকারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ কমাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পর এবার পাঞ্জাব প্রদেশেও গণপরিবহন সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা জানান। তিনি জনগণকে এই সুযোগ-সুবিধার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি আরও সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই ভ্রমণের পথ প্রশস্ত করবে। মূলত জ্বালানির দাম বাড়ায় যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পরিবহন খরচ তুঙ্গে, তখন নাগরিকদের স্বস্তি দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।   মরিয়ম নওয়াজের এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজধানী ইসলামাবাদের গণপরিবহন পরিচালনার সমস্ত খরচ এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরূপ উদ্যোগ অনুসরণ করেই পাঞ্জাব প্রদেশ তাদের নিজস্ব এলাকায় বিনামূল্যে পরিবহন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপটি একা নয়; এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া এবং তাসমানিয়া রাজ্যও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। দেশগুলো জনগণকে ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করে জ্বালানি সাশ্রয়ে উৎসাহিত করতে গণপরিবহনের ভাড়া মওকুফ করার ঘোষণা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন পাকিস্তানের এই মানবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপটি বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সাহারা থেকে ধেয়ে আসা লাল ধূলিঝড়ে লণ্ডভণ্ড গ্রিস; এবার অভিমুখ উত্তর আফ্রিকা!

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী 'লাল ধূলিঝড়' এখন পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং উত্তর আফ্রিকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সাহারা মরুভূমি থেকে আসা এই ধূলিকণার প্রভাবে আকাশ পুরোপুরি লালচে-কমলা বর্ণ ধারণ করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। গত দুই দিন ধরে ক্রিট দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর এই ধূলিমেঘ এখন মিশর ও লিবিয়ার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।   সাহারা মরুভূমি থেকে শক্তিশালী বাতাসের মাধ্যমে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ধূলিকণা ইউরোপের এই অংশে পৌঁছেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অস্বাভাবিক এই লাল আকাশের কারণে সড়ক ও আকাশপথে দৃষ্টিসীমা (Visibility) মারাত্মকভাবে কমে গেছে, যা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং তীব্র বায়ুদূষণের আশঙ্কায় লোকজনকে বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা রোগীদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। সাধারণত এই ধরনের 'সাহারান ডাস্ট স্টর্ম' মাঝেমাঝে ঘটলেও, বর্তমান ঝড়ের তীব্রতা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানানো হয়েছে। তীব্রতা বাড়লে এই ধূলিমেঘ ইউরোপের মূল ভূখণ্ডেও পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: সামা টিভি

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের ৪ শর্ত!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানে চারটি প্রধান শর্তের রূপরেখা ঘোষণা করেছে ইরান। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। রাষ্ট্রদূত জানান, গঠনমূলক যেকোনো উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করছে এই শর্তগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।   ইরানের ঘোষিত চারটি শর্ত হলো: ১. দেশটিতে সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্তভাবে বন্ধ করতে হবে। ২. ভবিষ্যতে যেন পুনরায় যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বস্তুনিষ্ঠ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। ৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৪. সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার ও নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দিতে হবে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির অনুরোধ নিয়ে ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত এবং নৌ-চলাচল নিরাপদ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই অনুরোধ বিবেচনা করতে পারে। তবে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দুই পক্ষের এমন অনড় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে চীনের মধ্যস্থতায় আলোচনায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান

সীমান্তে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমাতে চীনের উরুমকিতে আলোচনায় বসেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বেইজিংয়ের বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগে এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে বলে উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদাব্রাবি জানান, সীমান্তে চলমান অস্থিরতা নিরসন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো হয়েছে।   গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ‘টিটিপি’কে (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে—ইসলামাবাদের এমন অভিযোগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে আফগান সরকার বরাবরই তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই আস্থার সংকট কাটাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে।   এর আগে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের অনুরোধে গত ১৮ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীনের এই মধ্যস্থতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, উরুমকির এই আলোচনা দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও আস্থার সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে ভোটাভুটি
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে ভোটাভুটি, বিপক্ষে চীন

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় বাহরাইনের প্রস্তাবিত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শনিবার সকালে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ এই বৈঠকে বসবে বলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা নিশ্চিত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। রয়টার্সের দেখা খসড়া অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' গ্রহণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে এই প্রস্তাবে। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে স্থায়ী সদস্য চীন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। চীন ছাড়াও রাশিয়া ও ফ্রান্সের আপত্তির মুখে প্রস্তাবের ভাষায় কিছুটা পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হতে অন্তত নয়টি ভোটের প্রয়োজন এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কারো ভেটো থাকা চলবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও বেইজিং মনে করে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। পুরো বিশ্ব এখন শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ত্রিমুখী হামলা: ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত

লেবাননে জল, স্থল ও আকাশপথে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ত্রিমুখী হামলায় অন্তত ৪০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, তাদের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাইটগুলোতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে স্থলবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কিছু গোপন আস্তানা শনাক্ত করে তা উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি নৌবাহিনী হিজবুল্লাহর একটি বড় অস্ত্রের গুদামে সফল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক দিনে ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়।   এদিকে, ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে হিজবুল্লাহও। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে লেবাননের মালিকিয়াহ ও ইয়েরুন এলাকায় ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। এছাড়া লেবাননের মেনাহেম এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে সংগঠনটি। তবে হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় কঠোর নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। গত মার্চ মাসের শেষদিকে সংঘটিত এই প্রাণঘাতী হামলায় তিন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্লু লাইন বরাবর চলমান সংঘাতের মধ্যে শান্তিরক্ষীদের ওপর এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম অবমাননা। পরিষদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষী বাহিনী বা তাদের কোনো স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করা অপরাধ। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ ইউনিফিলের তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই হামলার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। শান্তিরক্ষীদের চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিবৃতিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পুনরায় দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর সরাসরি আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বোমা পেতে চীনে চম্পট যুবক: বোন গ্রেপ্তার ও মায়ের নির্বাসনের আদেশ

ফ্লোরিডার ম্যাকডিল বিমানঘাঁটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরক রাখার দায়ে অভিযুক্ত এক মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে চীনে পলাতক রয়েছেন।   অভিযুক্ত যুবক এলেন ঝেং গত ১০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির দর্শনার্থী কেন্দ্রের সামনে একটি হাতে তৈরি বোমা পেতে রাখেন।   ঘটনার পরপরই অজ্ঞাত পরিচয়ে জরুরি সেবায় ফোন করে বোমার কথা জানানো হলেও দীর্ঘ ছয় দিন পর গত ১৬ মার্চ গোপন এলাকা থেকে সেই জীবন্ত বোমাটি উদ্ধার করে এফবিআই।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এলেন তার বোন অ্যান মেরি ঝেং-এর সহায়তায় অপরাধ আড়াল করে চীনে পালিয়ে যান। তবে তার বোন পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এলে তাকে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করা হয়।   সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, এলেন ঝেং এর বোন তাকে দেশ ছাড়তে এবং প্রমাণ লোপাট করতে ব্যবহৃত গাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে সরাসরি সহায়তা করেছেন যা জঘন্য অপরাধের শামিল।   তদন্তে এলেনের বাসা থেকে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম এবং গাড়িতে বোমার অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের মা-ও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তাকে বর্তমানে নির্বাসনের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।   উল্লেখ্য যে, এই ম্যাকডিল বিমানঘাঁটি থেকেই বর্তমানে ইরান বিরোধী যৌথ সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনার সাথে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা এখনও পাওয়া যায়নি।   অভিযুক্ত এলেন ঝেং-এর বোন বৃহস্পতিবার আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে তাদের মা ও বোন দুজনেই এলেনের এই নাশকতামূলক পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানতেন বলে স্বীকার করেছেন।   বর্তমানে এলেন ঝেংকে ফিরিয়ে আনতে জোর আইনি তৎপরতা চালাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের চেষ্টা ও বিস্ফোরক রাখার তিনটি গুরুতর অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এবার ইরানে স্প্লিন্টার ছাড়া গ্রেনেড ব্যাবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র

ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এক বিধ্বংসী হ্যান্ড গ্রেনেড নিজেদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করল মার্কিন সেনাবাহিনী। প্লাস্টিক বডির এই এম-১১১ গ্রেনেডটি মূলত প্রচণ্ড বায়ুচাপ বা শক ওয়েভের মাধ্যমে শত্রুকে মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম।   প্রথাগত গ্রেনেডগুলোর মতো এটি লোহার টুকরো বা স্প্লিন্টার ছড়িয়ে শত্রু মারে না। এর পরিবর্তে এটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে এমন এক বায়বীয় তরঙ্গ তৈরি করে, যা মানুষের ফুসফুস ও কানের পর্দা মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন করে দেয়।   দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রাণঘাতী অস্ত্রটি সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সর্বশেষ নতুন প্রযুক্তির গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।   বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর বা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের দমনে এই গ্রেনেডটি হবে মার্কিন সৈন্যদের প্রধান অস্ত্র। এর প্লাস্টিক বডি বিস্ফোরণের সময় বাষ্পীভূত হয়ে যায়, ফলে আশেপাশের দেয়াল বা সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমে।   আগের এম-৬৭ গ্রেনেডগুলো বিস্ফোরণের পর চারদিকে লোহার টুকরো ছড়িয়ে দিত, যা অনেক সময় দেয়াল ভেদ করে নিজেদের সৈন্য বা সাধারণ মানুষের প্রাণহানির কারণ হতো। নতুন এই গ্রেনেড সেই ঝুঁকি দূর করে কেবল নির্দিষ্ট কক্ষের শত্রুদের ধ্বংস করবে।   মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই গ্রেনেডের শক ওয়েভ দেয়াল বা আসবাবপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুকেও রেহাই দেবে না। প্রচণ্ড চাপের এই ঢেউ মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে তাৎক্ষণিক মৃত্যু নিশ্চিত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রচণ্ড বায়ুচাপ মানুষের কানের পর্দা, ফুসফুস, চোখ এবং পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম। এমনকি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঢেউ মানুষের মস্তিস্কে আঘাত করে অঙ্গহানি পর্যন্ত ঘটাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।   নিউ জার্সির পিকাতিনি আর্সেনালে তৈরি এই অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রটি মূলত ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করা হয়েছে। শহর অঞ্চলে ঘরবাড়ি দখলের লড়াইয়ে এটি সৈন্যদের জন্য এক নতুন গেম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।   পুরনো এম-৩এ২ গ্রেনেডটি সত্তরের দশকে বাতিল করা হয়েছিল কারণ সেটিতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই শূন্যতা পূরণে দীর্ঘ সময় পর এই নিরাপদ কিন্তু শক্তিশালী প্লাস্টিক গ্রেনেডটি অন্তর্ভুক্ত করা হলো।   তবে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, পুরনো এম-৬৭ ফ্র্যাগমেন্টেশন গ্রেনেডগুলো এখনই পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। খোলা ময়দানে শত্রুর ওপর মারণাঘাত হানতে সেগুলো আগের মতোই ব্যবহার করা হবে, আর ঘর পরিষ্কারের অভিযানে ব্যবহৃত হবে নতুন এম-১১১।   নতুন এই গ্রেনেডে অত্যন্ত শক্তিশালী আরডিএক্স বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছোট আকৃতির হলেও বিশাল ধ্বংসক্ষমতা সম্পন্ন। হাতের তালুর সমান এই সিলিন্ডার আকৃতির অস্ত্রটি সহজেই বহনযোগ্য এবং ব্যবহার করাও অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভুল।   মার্কিন মেরিন কোরও একই ধরনের প্রযুক্তি সম্পন্ন এম-২১ গ্রেনেড সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা নরওয়ের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। আধুনিক যুদ্ধের কৌশল বদলে যাওয়ার সাথে সাথে অস্ত্রের ধরণও যে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, এটি তারই একটি প্রমাণ।   পেন্টাগন মনে করছে, এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন যুদ্ধের ময়দানে লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও ঘরের ভেতরে যুদ্ধের সময় নিজেদের সৈন্যদের জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিখ্যাত ‘পাইনঅ্যাপল’ গ্রেনেড থেকে শুরু করে আজকের এই প্লাস্টিক গ্রেনেড পর্যন্ত দীর্ঘ বিবর্তন ঘটেছে। প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা মার্কিন সামরিক শক্তিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   ভবিষ্যতে এই গ্রেনেডটি কেবল মার্কিনিদের নয়, বরং নেটো জোটভুক্ত মিত্র দেশগুলোর অস্ত্রাগারেও জায়গা করে নিতে পারে। একুশ শতকের আধুনিক যুদ্ধে এ ধরনের স্মার্ট মারণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এখন সবচাইতে বেশি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সামরিক মহল।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0