দক্ষিণ আফ্রিকার হাইডেলবার্গ এলাকায় দোকানে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েকদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. জসীম উদ্দীন। তার মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে হাইডেলবার্গ এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন মো. জসীম উদ্দীন। গত শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার দোকানে প্রবেশ করে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, নিহত মো. জসীম উদ্দীনের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায়।
ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। হামলার কারণ বা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর ডাকাতি, ছিনতাই ও সহিংস হামলার ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রবাসী নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
মো. জসীম উদ্দীনের মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হাইডেলবার্গ এলাকায় দোকানে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েকদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. জসীম উদ্দীন। তার মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে হাইডেলবার্গ এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন মো. জসীম উদ্দীন। গত শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার দোকানে প্রবেশ করে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, নিহত মো. জসীম উদ্দীনের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায়। ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। হামলার কারণ বা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর ডাকাতি, ছিনতাই ও সহিংস হামলার ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রবাসী নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মো. জসীম উদ্দীনের মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা সেরহি কোরেৎসকি। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘোষিত মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে তিনি ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর স্থলাভিষিক্ত হলেন। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের পার্লামেন্ট তাঁর এই নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কোরেৎসকি জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারণ করাও তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রুশ হামলায় প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সম্মুখসারির জনপদগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের যে কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। সেরহি কোরেৎসকি এর আগে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান ছিলেন। গত শীতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল। আর সেই কঠিন সময়েই নাফতোগাজের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কোরেৎসকি। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ইউক্রেনের বেসরকারি জ্বালানি খাতে কাজ করেছেন। তিনি ডব্লিউওজি পেট্রোল স্টেশন নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ‘আইডিয়ালিস্ট কফি কোম্পানি’ নামে একটি কফি চেইন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ইউক্রনাফতা ও ইউক্রতাতনাফতার প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নাফতোগাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
কানাডায় অভিবাসীদের বাবা-মা ও দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে চালু থাকা প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রামে নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। বুধবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ বিভাগ। সরকারের এই সিদ্ধান্তে কানাডায় থাকা বহু অভিবাসী পরিবারের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা বাবা-মা বা দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে কানাডায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের জন্য আপাতত নতুন করে আবেদন করার সুযোগ থাকছে না। কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটিতে নতুন অভিবাসী ও নাগরিকদের জন্য একটি কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রামে আবেদনের সংখ্যা নির্ধারিত আসনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া চলবে। ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর এই কর্মসূচির আওতায় ১৫ হাজার মানুষকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন আবেদন বন্ধ রাখলে পুরোনো আবেদনগুলোর জট কমবে এবং সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই কর্মসূচিতে আবেদনকারীদের সংখ্যা এত বেশি যে অনেক পরিবারকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে বাবা-মা ও দাদা-দাদিদের জন্য সুপার ভিসা চালু থাকছে। এই ভিসার মাধ্যমে তারা একবারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কানাডায় থাকতে পারবেন। পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদে একাধিকবার কানাডায় প্রবেশের সুযোগও রয়েছে। তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের তুলনায় সুপার ভিসার নিয়ম আলাদা হওয়ায় পরিবারগুলোকে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। কানাডা সরকার জানিয়েছে, পরিবার পুনর্মিলন এখনো দেশটির অভিবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রামে নতুন আবেদন গ্রহণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে আবেদনের চাপ কতটা বেড়েছে, তা বোঝা যায় অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা থেকেই। বর্তমানে ৬০ হাজার ৫০০টিরও বেশি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে দুই বছরেরও বেশি সময় লাগছে। এর আগে ২০২৪ সালে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ২৭ হাজার ৩৩০ জন কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৩১৩ জন। অন্যদিকে, সুপার ভিসার ক্ষেত্রেও আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে ৫৩ হাজার ৬৯৫টি সুপার ভিসা আবেদন অনুমোদন করা হয়, যেখানে ২০২৩ সালে অনুমোদনের সংখ্যা ছিল ৭৩ হাজার ১১৩টি। কানাডায় থাকা অভিবাসীদের জন্য বাবা-মা ও দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে নেওয়ার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নতুন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেক পরিবারকে পরবর্তী সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে।