সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে যত সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাব এসেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: দাবি ইরানের

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৫:২১
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসদমন নিয়ে জাতিসংঘে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে দেশ দুটির নেতিবাচক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই কড়া মন্তব্য করা হয়।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এমন বিরোধিতাপূর্ণ আচরণের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসদমন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশ দুটির ধারাবাহিক নেতিবাচক ভোটদানের ধরন প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, “এগুলো কি তাদের আসল রূপ উন্মোচন করছে না?”

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্রের মতে, সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো একটি বৈশ্বিক ও সর্বজনীন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে আসে। বিশ্বমঞ্চে তাদের এই অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি তাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা
ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা

লারাক দ্বীপে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত আইআরজিসির একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ‘পানিশমেন্ট অব দ্য অ্যাগ্রেসর’ বা ‘আগ্রাসীর শাস্তি’ নামের এই বিশেষ সামরিক অভিযানে মিসাইল ও ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।   বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফল অভিযানের মাধ্যমে জর্ডানের কিং হুসেইন এবং আল আজরাক ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।   আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় শত্রুপক্ষের প্রযুক্তিগত ও মেরামত অবকাঠামোর পাশাপাশি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার যে মরিয়া চেষ্টা শত্রুরা করছে, আগ্রাসন ও অপরাধ দিয়ে তার কোনো সমাধান হবে না।   তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর শত্রুদের করা প্রতিটি হামলার আরও ধ্বংসাত্মক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৯:৫২
ট্রাম্পের নির্দেশে গুগল ম্যাপে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে রাখা হলো ‘লেক আমেরিকা’

ট্রাম্পের নির্দেশে গুগল ম্যাপে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে রাখা হলো ‘লেক আমেরিকা’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক খামেনির

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন আটকে থাকার পর, কান্নার শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন আটকে থাকার পর, কান্নার শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

প্রবাসী বাংলাদেশি কামরুল জামান
সৌদির তায়েফে প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হ ত্যা, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েও রক্ষা পেলেন না

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে কামরুল জামান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এক সৌদি তরুণের বন্দুক হামলায় প্রাণ হারান তিনি।   চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর ওই হামলাকারী নিজেও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত কামরুল জামানের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।   ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে স্থানীয় একটি সুপার মার্কেটে নিজের রাতের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন কামরুল। পথিমধ্যে হঠাৎ অস্ত্র হাতে ওই সৌদি তরুণ তার দিকে তেড়ে আসে।   আকস্মিক এই হামলায় প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে পুনরায় তার কর্মস্থল সেই সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে কর্মরত অন্য দুই কর্মী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি কামরুলের।   হামলাকারী পিছু নিয়ে তাকে তাড়া করে সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর খুব কাছ থেকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালিয়ে কামরুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। নিরীহ এই প্রবাসীকে হত্যার পরপরই ঘাতক ওই তরুণ নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে সেখানেই আত্মহনন করে।   তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পূর্বশত্রুতার জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং হামলাকারীর আত্মহত্যার পেছনের রহস্য কী, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৬:২৪
দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল

দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো

যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজত থেকে ছবি প্রকাশ করলেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরো

ইয়াইর নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ইরানি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে ফেরানো হলো নেতানিয়াহু-পুত্রকে

প্রচলিত অস্ত্রে ব্যর্থ হলে ইরানে পারমাণবিক হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা
প্রচলিত অস্ত্রে ব্যর্থ হলে ইরানে পারমাণবিক হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রচলিত সামরিক উপায়ে ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হয়, তবে শেষ পর্যন্ত দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাসবিরোধী সাবেক উপদেষ্টা জো কেন্ট জনপ্রিয় পডকাস্টার টাকার কার্লসনের এক সাক্ষাৎকারে এমন ভয়াবহ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন।   গত শুক্রবার ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেন্ট স্পষ্ট করেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের এই আশঙ্কাকে নিছক হুমকি হিসেবে না দেখে বাস্তব পরিস্থিতি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া চরম বোকামি হবে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত এপ্রিল মাসেই হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নেয়, তবে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। পরবর্তীতে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।   জো কেন্টের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্দেশ্যই অর্জন করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রায় সবকিছু ব্যবহার করার পরও তারা এখন এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সম্মানজনক পথ খুঁজতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।   কেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যদি এখনো ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে দেশটিকে পুরোপুরি আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, তবে ট্রাম্পের সামনে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমটি হলো পুরোদমে স্থলপথে সামরিক অভিযান এবং দ্বিতীয়টি হলো পারমাণবিক হামলা।   তবে ইরানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দেশটিতে স্থল অভিযান পরিচালনা করা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন কেন্ট। তিনি কার্লসনকে জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিস্থিতির কথা গভীরভাবে চিন্তা করলে খুব দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রসঙ্গটি সামনে চলে আসে। তাত্ত্বিকভাবে ওয়াশিংটন হয়তো ইরানের পার্বত্য এলাকায় মাটির গভীরে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক হামলার পথই বেছে নিতে পারে।   সম্প্রতি পেন্টাগনের উচ্চ নির্ভুলতার অস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যার জেরে গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর একটি সম্ভাব্য হামলা হঠাৎ স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গোলাবারুদ সংকটের এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।   তবে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান যুদ্ধে কৌশল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গত সপ্তাহে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ নামে একটি ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৩:৩৫
উত্তর সাইপ্রাসের কাছে ২৬৭ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর সাইপ্রাসের কাছে ২৬৭ আরোহী নিয়ে যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ৭

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণ স্টুডেন্ট ভিসা ও গ্র্যাজুয়েট ভিসার আবেদন ফি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ভিসার ফি দ্বিগুণ হয়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার, শিক্ষার্থী ভিসায় ২ হাজার ৫০০

পাঞ্জাবে অপহরণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার হওয়া ২৮ বছর বয়সী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিত কৌর। ছবি: সংগৃহীত

অপহরণের পর আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পাকিস্তানি সেই ইনফ্লুয়েন্সার

0 Comments