ইউএই-র ঋণ শোধ করতে পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি আরব
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বকেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য চরম অর্থ সংকটে থাকা পাকিস্তানকে তিনশ কোটি ডলারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত এই বিশাল পরিমাণ অর্থ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইসলামাবাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে আলোচনা করতে আমেরিকায় অবস্থানরত অর্থমন্ত্রী সৌদি সমকক্ষের সাথে এক বিস্তারিত বৈঠকের পর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন প্রতিটি স্তরে।
পাকিস্তানের জন্য এই সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি কারণ চলতি মাসের শেষেই দেশটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বকেয়া ঋণ দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
আবুধাবির পক্ষ থেকে ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য জরুরি অনুরোধ আসার পর পাকিস্তান তাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে বড় ধরণের সংকটে পড়েছিল যা নিরসনে এখন রিয়াদ সরাসরি এগিয়ে এল।
গত সপ্তাহেও বিভিন্ন সূত্রে খবর এসেছিল যে সৌদি আরব ও কাতার যৌথভাবে পাকিস্তানকে মোট পাঁচশ কোটি ডলার দেবে যাতে দেশটির ভঙ্গুর রিজার্ভ আগামী জুন মাস পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে যা দেশটির অর্থনীতিকে এক ধরণের দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে প্রতিনিয়ত।
বর্তমানে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত প্রায় একুশ বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও এর বড় একটি অংশই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে যা সরকারি ব্যয় মেটাতে সবসময় পর্যাপ্ত নয়।
গত সপ্তাহেই পাকিস্তান ১৪০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছে যার ফলে নতুন তহবিল সংগ্রহ করা দেশটির জন্য এখন টিকে থাকার এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক মিত্রতার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যা দক্ষিণ এশিয়ার এই পারমাণবিক শক্তিধর দেশটিকে বড় ধরণের কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে।
সরকার এখন অন্যান্য আন্তর্জাতিক শরিকদের সাথেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ভবিষ্যতের কঠিন দিনগুলোতে রিজার্ভের ওপর বাড়তি কোনো চাপ তৈরি না হয় এবং অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকে প্রতিটি পর্যায়ে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreঅস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে গভীর রাতে ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে নামাজ বা প্রার্থনারত অবস্থায় দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় সামিয়া মালিক নামের এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মে মাসে অ্যাডিলেডের নর্থ ইস্ট রোডে ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে প্রায় চার মিনিট ধরে তিনি রাস্তার মাঝখানে সম্পূর্ণ একা হাঁটু গেড়ে সিজদারত ছিলেন। সে সময় অন্যান্য গাড়ির চালকরা দূর থেকে তাকে দেখে পাশ কাটিয়ে গেলেও ২০ বছর বয়সী চালক অ্যাশটন ফ্রেন্ড তার গাড়ি দিয়ে সামিয়াকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের শুনানিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর ওই ঘাতক চালক গাড়ি না থামিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও মিডিয়ার খবর দেখে তিনি ভীত হয়ে পড়েন এবং ঘটনার দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, এমন মর্মান্তিক একটি প্রাণহানির পরও আদালত অভিযুক্ত চালককে মাত্র এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়ে দায় সেরেছে। ঘাতকের এমন লঘু শাস্তিতে মানবাধিকার কর্মী ও প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যাকে তারা কোনো প্রকৃত সাজা নয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। আদালতে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিহত সামিয়ার বোন কুদসিয়া মালিক জানান, এই শূন্যতা ও বুকফাটা কষ্ট তাদের পরিবার কখনোই ভুলতে পারবে না। মর্মান্তিক এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ছাত্রসমাজ এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
অক্সফোর্ডে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর পড়তে ২৫ লাখ ডলারের বৃত্তি চালু
ফিলিস্তিনকে সমর্থন করায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় চাকরি হারালেন ৭৬ শিক্ষাবিদ
ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের ক্রুদের নিষিদ্ধ করল এয়ার ফ্রান্স
'বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের' অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এফএম রেডিও কেন্দ্র থেকে বিবিসির সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব ঘুফরান স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেশজুড়ে বিবিসি রেডিওর কার্যক্রম স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন। এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার পর এক বিবৃতিতে বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের লাখো মানুষ নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের জন্য তাদের ওপর নির্ভর করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে তারা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে এফএম সম্প্রচার বন্ধ থাকলেও পশতু, দারি ও ইংরেজি ভাষায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি। বর্তমানে শর্টওয়েভ, মিডিয়াম ওয়েভ, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আফগান শ্রোতাদের জন্য তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিবিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রতি সপ্তাহে তাদের সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান শুনে থাকেন। এসব আয়োজনের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত আফগান মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও রয়েছে। ১৯৮১ সালে দেশটিতে কার্যক্রম শুরু করা বিবিসিই ছিল আফগানিস্তানে সম্প্রচার চালানো একমাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার পর এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানের গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রচারে যেকোনো ধরনের সংগীত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পর্দায় নারীদের উপস্থিতিও চরমভাবে সীমিত করা হয়েছে; বর্তমানে নারী ও পুরুষ সংবাদকর্মীদের একসঙ্গে কোনো সংবাদ বা অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। বিদ্যুৎ সংকট, ইন্টারনেটের চড়া মূল্য এবং স্বল্প সাক্ষরতার হারের কারণে দেশটিতে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে রেডিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
বাঘের খাঁচায় ঢুকে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃ ত্যু, প্রকাশ্যে তরুণের শেষ ভিডিও
আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে স্কুলগেটে ক্লাস করলেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা
আবুধাবিতে পারিবারিক অনুষ্ঠানের যোগদানের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি মা ও ছেলে নিহত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার, ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবড়ায় একটি দুর্গাপূজার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে তাঁর অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণের উল্লেখ নেই প্রকাশিত প্রতিবেদনে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বলেন, আন্দোলনের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা ধীরে ধীরে বোঝা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখলে আন্দোলনের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। বিদেশ থেকে ভারতের পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিরোধীদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে দিলীপ মন্তব্য করেন, তাঁদের হাতে কাজ না থাকায় তাঁরা ঘোরাফেরা ও ধরনায় অংশ নিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশের কোন মন্ত্রী বা কোন পোস্টের কথা তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি। আন্দোলনকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি একটি যুব আন্দোলন, যার নেতারা দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শনিবার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁরা মুক্তি পান। বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে পুলিশি বিধিনিষেধ ও আটকের ঘটনাও ঘটেছে। মঙ্গলবার রয়টার্স জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে আর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসেবে রাখছে না এবং বিকল্প তিনটি স্থানের কথা ঘোষণা করেছে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর মন্তব্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের বা নাম উল্লেখ না করা মন্ত্রীদের কোনো প্রতিক্রিয়াও দেওয়া হয়নি। ফলে বিদেশি ইন্ধনের বিষয়টি এখন পর্যন্ত দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে।
ভারতে পুলিশি হেফাজতে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে মুসলিম যুবক দিলশাদ আনসারির মৃত্যু
অস্ট্রেলিয়ার অফিসে সিঙ্গাপুর থেকে কাজ, বসের ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়তেই গেল চাকরি