আন্তর্জাতিক

ব্রিটেনে ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’ গড়ার ঐতিহাসিক বিল পাস; ২০০৯-এর পর জন্মালেই আজীবন নিষিদ্ধ তামাক!

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ০:৫১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটেন সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘টোবাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’। এই আইনের ফলে ব্রিটেনে বর্তমানে ১৭ বছর বা তার কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য তামাকজাত পণ্য কেনা চিরতরে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে।

 

নতুন আইনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর সময়সীমা। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কখনোই বৈধভাবে তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন না। এমনকি বয়স বাড়লেও তাঁদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা আজীবন বহাল থাকবে। এছাড়া শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্কুল, খেলার মাঠ, হাসপাতাল এবং শিশুদের বহনকারী গাড়ির ভেতরে ধূমপান ও ভেপিং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

বিবিসি জানিয়েছে, বিলটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর এখন কেবল ‘রাজকীয় সম্মতি’ (Royal Assent) পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এটি কার্যকর হলে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। তবে পাব বাগান, সৈকত বা ব্যক্তিগত বাড়ির ভেতরে ধূমপানের ক্ষেত্রে এখনই কোনো নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। ব্রিটিশ সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে মার্কিন আদালতে সাংবাদিকের দোষ স্বীকার

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনে বসবাসরত ও কর্মরত একজন মার্কিন সাংবাদিক শেষ পর্যন্ত চীন সরকারের হয়ে 'অবৈধ এজেন্ট' হিসেবে কাজ করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করেছেন। থমাস পকেন (দ্বিতীয়) নামের ৫০ বছর বয়সী ওই সাংবাদিক চীনের কাছে মার্কিন সরকারের সংবেদনশীল তথ্য পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ। সাংবাদিকতার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, থমাস পকেন ২০১০ সাল থেকে চীনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে সিসিটিভি ও সিনহুয়া নিউজসহ বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে 'ট্রাম্প-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ' চলাকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একজন ভাষণ লেখক পকেনকে 'ক্যাথি' নামের এক গুপ্তচরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পকেন সরাসরি চীন সরকারের নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।   সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্যদাতাদের সাথে সাক্ষাতের মতো বিভিন্ন কাজ তাকে দিতেন ক্যাথি। এসব কাজের বিনিময়ে পকেন ক্যাথির কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার গ্রহণ করেছেন। এমনকি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাকে বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি চীনকে তথ্য সরবরাহ করতে পারে এমন সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।   এফবিআই-এর কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স এবং এসপিওনাজ বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোজাভস্কি জানিয়েছেন, এই আমেরিকান সাংবাদিক মূলত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুদের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা তার চীনা গোয়েন্দা হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করতেন। মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নষ্ট করতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে, এই মামলাটি তারই একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তদন্তে জানা গেছে, ক্যাথি ছাড়াও চীনে 'উইলিয়াম' এবং 'রিচার্ড' নামে আরও দুই ব্যক্তির সাথে কাজ করেছেন পকেন। এছাড়া তিনি উহানভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর কাছে মার্কিন বিচার বিভাগ ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করেছেন এবং সাইবার গোয়েন্দাগিরিতে সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ খুঁজে দিতেও ওই গোষ্ঠীকে সাহায্য করেছেন।   সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে পকেনের আইনজীবী চার্লস বার্নহ্যাম নিশ্চিত করেন যে, তার মক্কেল নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি দাবি করেন, পকেন মূলত দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি এবং চীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসার ঘটাতেই এসব কাজ করেছিলেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর গুপ্তচরবৃত্তির এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাজা ঘোষণা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই অপরাধের জন্য পকেনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ১৭:৮
ছবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানিরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও অহংকারী, তাই এখনও চুক্তি হয়নি—ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৫০ কোটি ডলারের সামরিক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, হবেও না—জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি

ছবি: আল জাজিরা
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর। শনিবার সেখানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তরুণদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সমাবেশ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য সরকারকে আগামী সাত দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।   শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের এই অভিনব প্রতিবাদ ঘিরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। সেখানে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল বলে জানা গেছে।   সমাবেশে আসা আন্দোলনকারীদের অনেকের মুখেই ছিল ককরোচ বা তেলাপোকার মাস্ক, যা অনুষ্ঠানস্থল থেকেই সবার মাঝে বিতরণ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা ক্ষমতাসীন বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। সিজেপি প্রধানের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মীরা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে কেবল দেশ, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের নামে স্লোগান দেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধানের কপি এবং ফুল দেখা যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি হাতে নিয়ে সরাসরি এই সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ দিপক।   তরুণদের এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজাসহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। যুবসমাজের এমন সৃজনশীল ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন সোনম ওয়াংচুক। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তৃতায় অভিজিৎ দিপক বলেন, এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রাম।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানোর পর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও পোস্ট মুছে ফেলার মতো কাজ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে তার মা কেঁদেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাবাসের ভয়ে অনেকেই বিক্রি হয়ে গেলেও দেশের ছাত্র ও যুবসমাজ বিক্রি হয়নি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি অসুস্থ বোধ করলে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।   সমাবেশ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আলটিমেটাম ঘোষণা করে বলেন, হয় ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করুন, না হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বরখাস্ত করুন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে এবং আজ থেকেই সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলো। নিট (এনইইটি), সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসিসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তরুণদের দ্বারা পরিচালিত একটি অনলাইন আন্দোলন থেকেই মূলত এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে উঠেছে।   এদিকে, সমাবেশ চলাকালীন সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ জনকে সতর্কতামূলক হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লি পুলিশ। নাগরিকদের যাচাই না করা তথ্য বিশ্বাস না করে কেবল অফিশিয়াল বার্তার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২:৩৬
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরানের ড্রোন ও মিসাইল কোথায় লুকানো আছে, সব তথ্য জানা আছে—ট্রাম্পের দাবি

তুষার কুমার এবং তার মা পারভীন রানী । সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা-ছেলে, একই সময়ে দুজনই মেয়র

ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস গড়লেন জাকিয়া, প্রথম আফগান নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়

ছবি: সংগৃহীত
নেপাল রুটে এভারেস্ট জয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড, এক দিনেই চূড়ায় ২৭৪ আরোহী

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আরোহণের নতুন বিশ্বরেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত বুধবার নেপাল রুট (দক্ষিণ দিক) ব্যবহার করে এক দিনেই রেকর্ডসংখ্যক ২৭৪ জন পর্বতারোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় পা রেখেছেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন আরোহী নেপাল দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন।   নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা খিমলাল গৌতম জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বুধবার ভোর ৩টা থেকে টানা ১১ ঘণ্টা আরোহীরা চূড়ায় ওঠার অভিযান চালান। চীন এবার তাদের তিব্বত রুটটি বিদেশি আরোহীদের জন্য বন্ধ রাখায় নেপাল রুটে আরোহীদের এই উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। চলতি বসন্তকালীন মৌসুমে নেপাল সরকার রেকর্ড রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৫০০ জন বিদেশি আরোহীকে এভারেস্টের অনুমতিপত্র বা পারমিট দিয়েছে।   পারমিট ফি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ডলার হলেও এভারেস্টে আরোহীদের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছে। অধিকাংশ আরোহীর সাথে অন্তত একজন নেপালি গাইড থাকায় ৮,০০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত বিপজ্জনক ‘ডেথ জোন’-এ পর্বতারোহীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা এই ভিড় নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এক্সপিডিশন আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাথে থাকলে এটি বড় কোনো সমস্যা নয়।   এবারের এভারেস্ট অভিযানে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিগত রেকর্ডও তৈরি হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী কিংবদন্তি নেপালি গাইড কামি রিতা শেরপা ৩২ বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নিজের বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন। এছাড়া ‘মাউন্টেন কুইন’ খ্যাত লাকপা শেরপা ১১ বার এবং দুই পা হারানো রুশ নাগরিক রুস্তম নাবিইভ কৃত্রিম পা ছাড়াই শুধু হাতের জোরে এভারেস্ট চূড়ায় চড়েছেন।   তবে অর্জনের আনন্দের পাশাপাশি এবারের মৌসুমে বেশ কয়েকজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় মারা যাওয়া নেপালের অনগ্রসর হিন্দু দলিত সম্প্রদায়ের প্রথম আরোহী ৩৫ বছর বয়সী বিজয় ঘিমেরে এবং তুষারপাতে পা পিছলে খাদে পড়ে যাওয়া ২১ বছর বয়সী নেপালি গাইড ফুরা গ্যালজেন শেরপা অন্যতম।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২:৩৮
ছবি: সংগৃহীত

৫ বছরে ১৫০০% প্রবৃদ্ধি, বিশ্বের প্রায় সব দেশের জিডিপিকে ছাড়াল এনভিডিয়া

ছবি: সংগৃহীত

অন-অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ অর্ধেকে নামিয়ে আনল থাইল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি কেনা নয়, ভাড়াতেই স্বস্তি, যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণ করছে চীনের তরুণরা

0 Comments