আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে নজিরবিহীন হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৩:৩৯
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র I ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র I ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে এলিট ট্রুপস, ফাইটার জেট ও সামরিক চিকিৎসকদের মোতায়েন করে পেন্টাগন যখন ব্যাপক সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘ভয়াবহ হামলার’ কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমি একটি ভয়াবহ হামলার কথা ভাবছি; এমন কিছু যা আগে কখনো হয়নি। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছি এবং আমরা এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।" তিনি আরও জানান, তিনি চাইলে ইসরায়েলও 'দুই মিনিটের মধ্যে' যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই অভিযানে যোগ দেবে।

 

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই সম্ভাব্য হামলা চালানোর জন্য তাদের ‘অন্য কারও প্রয়োজন নেই’। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে শহরে এলে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

 

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে এবং এই অঞ্চলে ফাইটার স্কোয়াড্রনগুলোকে নতুন করে মোতায়েন করেছে। গত শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।

 

পেন্টাগন নিহত ওই সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে—তারা হলেন হাওয়াইয়ের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জে. ফিহান, টেক্সাসের প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং নিউইয়র্কের আর্মি সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র‌্যাম্পারসাদ। সেনাসদস্যদের থাকার বাসস্থানে এই আঘাত হানা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ঘাঁটিতে এটি ছিল ইরানের তিনটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি। সম্ভাব্য হতাহতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ১৫০ জন সামরিক চিকিৎসাকর্মীকে পাঠানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আহত সেনাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান হাসপাতাল।

 

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী বি-১ দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ১২ দিন আগে ইরানের সঙ্গে পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বি-১ মিশন, যা সংঘাতের বড় ধরনের বৃদ্ধির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার মতো "যথেষ্ট কষ্ট ইরান এখনো পায়নি," তবে তেহরান "আলোচনা করতে চায়।" অন্যদিকে একটি আঞ্চলিক সূত্রের মতে, মধ্যস্থতাকারীদের জন্য ইরানের সাথে যোগাযোগ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার পক্ষে থাকা রাজনীতিক এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাওয়া কট্টরপন্থীদের মধ্যে দেশটি এখন গভীরভাবে বিভক্ত। সূত্রটি জানায়, মূলত ইরানের ভেতরে দুটি পক্ষ ক্রমশ বিপরীত দিকে এগোচ্ছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো ভাঙন ধরেনি।

 

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই আকস্মিক শক্তি বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ক্রমশ নির্ভুল ও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠা। জর্ডানের ঘাঁটিতে তিনটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, যা ওই অঞ্চলে মোতায়েনকৃত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনাকে তেহরানের ক্রমশ আধুনিক হতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র থেকে রক্ষার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জকেই তুলে ধরে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
বন্ধু-স্বজনকে দুবাই ভ্রমণে আনলেই মিলবে ৩ হাজার দিরহামের বেশি সুবিধা
বন্ধু-স্বজনকে দুবাই ভ্রমণে আনলেই মিলবে ৩ হাজার দিরহামের বেশি সুবিধা,পর্যটক কমে যাওয়ায় নতুন কৌশল

পর্যটক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিদেশি ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই। ‘Dubai Invite’ নামে চালু হওয়া কর্মসূচির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দারা যদি বিদেশে থাকা বন্ধু বা আত্মীয়দের দুবাই ভ্রমণে উৎসাহিত করে আনতে পারেন, তাহলে তারা ৩ হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহামেরও বেশি মূল্যের বিশেষ সুবিধা পাবেন।   দুবাইয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজম পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত বাসিন্দাদের জন্য হোটেলে থাকা, রেস্তোরাঁয় ছাড়, বিনোদনকেন্দ্রের টিকিটসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।   সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পর্যটন খাতে দেখা দেওয়া বড় ধাক্কা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের একটি বড় অংশ দুবাই সফর থেকে সরে দাঁড়ায়। এর প্রভাব পড়ে বিমান চলাচল, হোটেল ব্যবসা এবং পর্যটননির্ভর সেবাখাতে।   দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত বা সীমিত হওয়ায় যাত্রী সংখ্যাও কমে যায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলতে শুরু করে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স।   স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনেক হোটেলে কক্ষ খালি পড়ে আছে এবং পর্যটননির্ভর কিছু প্রতিষ্ঠানের আয় ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরবও নির্ধারিত সময়ের আগেই দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারকাজে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে হোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়, অতিরিক্ত ফ্রি নাইটসহ বিভিন্ন অফার ঘোষণা করেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্মসূচি চালুর প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা উদ্যোগটির প্রতি বাসিন্দাদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   পর্যটন খাত দুবাইয়ের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ২০২৫ সালে শহরটি প্রায় ২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটককে স্বাগত জানিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৫:১৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

এআইয়ের কারণে চাকরি হারালে মাসে ১ হাজার ডলার সহায়তা

বাংলাদেশি মা-মেয়ে I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে সাগরে ডুবে প্রাণ গেল বাংলাদেশি মা-মেয়ের

মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র I ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে নজিরবিহীন হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

রান্নাঘরে খাবার গ্রহণের জন্য হাঁড়ি-পাতিল হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাস্তুচ্যুত শরনার্থীরা। ছবি:সংগৃহীত
ইরান-মার্কিন সংঘাতের প্রভাব হিসেবে ২০৩০ সালে খাদ্যহীন হবে ৫২ কোটি মানুষ, জাতিসংঘের সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা শুধু জ্বালানি সংকট নয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের প্রায় ৫২ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হতে পারেন।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ২০৩০ সালেও বিশ্বের ৫১ থেকে ৫২ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার শিকার থাকবেন।   উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর আগে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সর্বনিম্ন ৫০ কোটি ৩ লাখে নামিয়ে আনার পূর্বাভাস ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করছে এই পরিসংখ্যান।   প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৭.৮ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৮.১ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৮.৬ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ এবং ২০২২ সালের তুলনায় ৪ কোটি ৩০ লাখ কম মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগেছে।   তবে এই উন্নতি বিশ্বের সব অঞ্চলে সমান নয়। আফ্রিকা এখনো সবচেয়ে সংকটাপন্ন অঞ্চল। সেখানে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ ক্ষুধার্ত, যা এশিয়ার ২৯ কোটি ২০ লাখের চেয়েও বেশি। আফ্রিকায় ক্ষুধার হার ২০.৩ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০ শতাংশে নেমে এলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ক্ষুধার্ত মানুষের মোট সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সেখানেই।   ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ২১০ কোটি মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ২৫.৮ শতাংশ মাঝারি বা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। যদিও ২০২৪ সালে এই হার ছিল ২৭.১ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ২৮.৭ শতাংশ, তথাপি এটি এখনো করোনা মহামারির আগের সময়ের চেয়ে বেশি।   আঞ্চলিক বৈষম্য স্পষ্ট। আফ্রিকার ৫৬.৬ শতাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এশিয়ায় এই হার ২০.৩ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২২.৯ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ৮.৭ শতাংশ। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ও পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।   জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি কেবল অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সম্ভাব্য ‘এল নিনো’র মতো বিধ্বংসী চরম আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরূপ প্রভাব এতে হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।   এই প্রতিবেদন বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যত বাড়বে, বিশ্বের খাদ্য সংকট তত গভীর হবে—সেটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে জাতিসংঘের এই বিশ্লেষণ।

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৩:১৪
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি | ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনকে মেহবুবা মুফতির সমর্থন

একটি ফ্ল্যাটের দামেই জার্মানির থুরিঙ্গিয়া অঙ্গরাজ্যে বিক্রি হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ আস্ত গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে মাত্র একটি ফ্ল্যাটের দামে বিক্রি হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ পুরো এক গ্রাম

ইরানে হামলায় শক্তিশালী ‘বি-১’ লং-রেঞ্জ বোমারু বিমান ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী ‘বি-১’ বোমারু বিমান হামলা, সংঘাত আরও বাড়ার তীব্র আশঙ্কা

বিদেশি নাগরিকদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭টি প্রধান আইনি পথ প্রকাশ করল যুক্তরাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭টি আইনি পথ জানাল সরকার

বিদেশি নাগরিকরা কীভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে সাতটি প্রধান আইনি পথের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক, বসবাসের ইতিহাস ও আইনি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নির্ধারণ করা হয়।   যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব, ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং কিছু ঐতিহাসিক পরিস্থিতির আওতায় আবেদন।   সরকারের প্রকাশিত সাতটি প্রধান পথ হলো: প্রথমত, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না; বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থা ও জন্মের সময়কার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।   দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারের মাধ্যমে আবেদন। নির্ধারিত সময় যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।   তৃতীয়ত, আইরিশ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ। নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী কিছু আইরিশ নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন।   চতুর্থত, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বিধান। যাদের কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই, তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেতে পারেন।   পঞ্চমত, আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এমন ব্যক্তিরা। যারা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পুনরায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।   ষষ্ঠত, বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেদন। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইনের আওতায় কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।   সপ্তমত, চাগোসিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুযোগ। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট বংশধররা বিশেষ নিয়মের অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন।   এ ছাড়া সাধারণভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে বৈধ বসবাসের নির্দিষ্ট সময় পূরণ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা ভালো নৈতিক অবস্থানের প্রমাণ দেওয়া।   তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ভিসার ধরন, যুক্তরাজ্যে থাকার ইতিহাস, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত ও প্রমাণপত্র ভালোভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ৯:৫৪
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত

তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ডোম অব দ্য রক (কুব্বাত আস-সাখরা)-এর সামনে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি পুলিশ সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত

আল-আকসা মসজিদ চত্বরে শত শত ইহুদির প্রবেশ, প্রার্থনা ঘিরে নতুন উত্তেজনা

ছবি: দুই বছর পর ভাইবোনের আলিঙ্গন! Associated Press (AP)

দুই বছর পর সাত ভাইবোনের পুনর্মিলন, এরই মাঝে যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে

0 Comments