আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পর্যটনকেন্দ্রে বন্দুক হামলা, ১৬ বছরের কিশোর গ্রেপ্তার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ২১:৬
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা পিয়ারের কাছে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা পিয়ারের কাছে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

​বিনোদন ও পর্যটনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্টা মনিকা পিয়ার সংলগ্ন এলাকায় এক মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পার্কিং লটে গভীর রাতে দুটি দলের মধ্যবর্তী বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির জের ধরে চলা এই গোলাগুলিতে এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তথ্যসূত্র: কেএবিসি (KABC News) ও সান্টা মনিকা পুলিশ বিভাগ।

 

​পুলিশ সূত্র ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত সোমবার রাতে প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ের ১৫৫০ ব্লকে অবস্থিত 'পার্কিং লট ১ নর্থ' এলাকায় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে অতি দ্রুত সান্টা মনিকা পুলিশের একটি উদ্ধারকারী ও টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পার্কিং লটের নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে এক তরুণকে মারাত্মক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে।

 

​ঘটনাস্থলেই ওই তরুণকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় জানা গেছে, তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে মারাত্মক বুলেটের আঘাত লেগেছিল, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়।

 

​পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রাথমিক প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছেন, গোলাগুলির ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, পার্কিং লট এলাকায় রাত গভীর হওয়ার পর দুটি আলাদা কিশোর বা তরুণের দলের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা শারীরিক ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। হাতাহাতি চলাকালেই এক কিশোর তার সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে প্রতিপক্ষের তরুণকে লক্ষ্য করে একাধিক বার গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

 

​হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পর সান্টা মনিকা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এসএমপিডি) একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে দ্রুত সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার অভিযান শুরু করে। পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও তদন্তের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন ১৬ বছরের ওই কিশোর নিজে থেকেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।

 

​যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি মার্কিন আইন অনুযায়ী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নাবালক, তাই স্থানীয় আইনি বিধি ও সুরক্ষা নীতি মেনে পুলিশ কিংবা আদালত তার নাম, পরিচয় বা ছবি সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ওই কিশোর মূলত নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহরের বাসিন্দা। সে কেন এবং কীভাবে ওই রাতে সান্টা মনিকায় এসে পৌঁছাল এবং তার নিকট আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এলো—এসব বিষয়ে আরও বিষদ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

 

​উল্লেখ্য, সান্টা মনিকা পিয়ার ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী এই সমুদ্রসৈকত ও বিনোদন পার্কটি দেখতে আসেন। ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী এমন একটি পাবলিক প্লেসে রাতের আঁধারে এমন সহিংস গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং এই গোলাগুলির পেছনে আরও কারও ইন্ধন বা উপস্থিতি ছিল কি না তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মিশিগানের সাগিনো এলাকার এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতির অভিযোগে বিচার চলছে। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে ফুড স্ট্যাম্পের টাকায় কেনা উপকরণ দিয়ে খাবার বিক্রির অভিযোগ, ১০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি (SNAP) বা ফুড স্ট্যাম্পের সুবিধা ব্যবহার করে কেনা উপকরণ দিয়ে বেকড খাবার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে এক নারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন।    আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত টালিয়া সি. টেনেইউকে (৩২) মিশিগানের সাগিনো এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি মিশিগানের ব্রিজ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া এসএনএপি সুবিধা ব্যবহার করে ময়দা, ডিম, চিনি ও অন্যান্য খাদ্য উপকরণ কিনতেন। পরে সেগুলো দিয়ে কেক, কুকি ও অন্যান্য বেকড খাবার তৈরি করে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করতেন।    প্রসিকিউটরদের দাবি, এসএনএপি কর্মসূচির সুবিধা কেবল উপকারভোগী পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহার করা যায়। এসব সুবিধা দিয়ে কেনা খাদ্যপণ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা পুনরায় বিক্রি করা ফেডারেল আইনের পরিপন্থী। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই নারী এভাবে কয়েক হাজার ডলার আয় করেছেন।    তার বিরুদ্ধে এক হাজার ডলারের বেশি মূল্যের ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতির একটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।    আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, প্রাথমিক শুনানিতে প্রসিকিউশন একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে তিনি একটি লঘু অপরাধে দোষ স্বীকার করলে গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করা হতে পারত। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ২১:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা পিয়ারের কাছে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পর্যটনকেন্দ্রে বন্দুক হামলা, ১৬ বছরের কিশোর গ্রেপ্তার

৬২ বছরের বেশি বয়সী ৩০ লাখ আমেরিকান এখনও শোধ করছেন স্টুডেন্ট লোন

অবসর অনিশ্চিত, ৬২ বছরের বেশি বয়সী ৩০ লাখ আমেরিকান এখনও শোধ করছেন স্টুডেন্ট লোন

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চান? ডাউন পেমেন্ট নিয়ে যা জানা জরুরি

আটলান্টায় শিশু হাসপাতালের ৫৩ লাখ ডলার পাচার
আটলান্টায় শিশু হাসপাতালের ৫৩ লাখ ডলার পাচার, সাবেক অ্যাকাউনট্যান্টের ৪ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিলড্রেন্স হেলথকেয়ার অব আটলান্টা’ থেকে চুরি হওয়া ৫৩ লাখ ডলার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে রোনাল্ড ডিবলার নামের এক সাবেক অ্যাকাউনট্যান্টকে কারাদণ্ড দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ৬৬ বছর বয়সী ডিবলার আটলান্টার একজন ব্যবসায়ী এবং সাবেক সার্টিফাইড পাবলিক অ্যাকাউনট্যান্ট (সিপিএ)। চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি জুরিবোর্ড তাকে এই অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাত এক হ্যাকার চিলড্রেন্স হেলথকেয়ার অব আটলান্টার একটি ফার্নিচার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এই প্রতারণার সূত্রপাত করে। ওই হ্যাকার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী সেজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বোকা বানায় এবং একটি বৈধ পেমেন্টের নামে ৫৩ লাখ ডলার ডিবলারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বাধ্য করে।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে ডিবলার এই অর্থ বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিতে রাজি হন এবং লেনদেনের জন্য তিনি একটি নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলেন। কিন্তু ব্যাংক যখন পুরো অর্থ একসঙ্গে স্থানান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ডিবলার প্রায় ৩৫ লাখ ডলার ক্যাশিয়ার চেকে রূপান্তর করেন এবং তা ডাকযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে দেন।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ওই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিশাল প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তদন্তে ডিবলারের অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।   ইউএস অ্যাটর্নি থিওডোর এস. হার্টজবার্গ বলেন, ডিবলার ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে তার পেশাদারি জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এমন একটি অলাভজনক শিশু হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া অর্থ পাচার করেছেন, যা মূলত জর্জিয়ার শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণে নিবেদিত। যারা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং যারা তাদের চুরি করা অর্থ পাচারে সহায়তা করে, তাদের সবাইকে এমন কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।   গুরুতর এই অপরাধের দায়ে বিচারক রোনাল্ড ডিবলারকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কারামুক্তির পর আরও দুই বছর নজরদারিতে (সুপারভাইজড রিলিজ) রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ৬ লাখ ৮২ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৯:০
অ্যাঞ্জেলকে সম্মান জানাতে নিউইয়র্কে সড়ক নামকরণের প্রস্তাব I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ইরান হামলায় নি হত সেনা অ্যাঞ্জেলকে সম্মান জানাতে নিউইয়র্কে সড়ক নামকরণের প্রস্তাব

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ৩৭ মিনিটের বৃষ্টিতে তছনছ জনপদ, প্রাণ গেল ২ জনের

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের সাক্ষ্য তলব নোটিশ প্রত্যাহার করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে বিচারকের তোপে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের সাক্ষ্য তলব নোটিশ প্রত্যাহার করল ট্রাম্প প্রশাসন

আপন মায়ের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার তিন শিশু I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আপন মায়ের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার তিন শিশু, সন্তানদের বীভৎস ছবি প্রকাশ না করতে বাবার আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের মাসাচুসেটসে নিজ তিন সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচারকাজ শুরুর ঠিক আগে আদালতের কাছে এক আবেগঘন আরজি জানিয়েছেন নিহত শিশুদের বাবা প্যাটরিক ক্ল্যান্সি। আদালতে বিচার চলাকালে নিজের তিন সন্তানের বীভৎস ছবি প্রদর্শন না করা এবং ৯১১ নম্বরে তাঁর করা জরুরি ফোনালাপের রেকর্ড জনসম্মুখে না আনার জন্য তিনি বিচারকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে প্যাটরিক উল্লেখ করেছেন, সংবেদনশীল ও বীভৎস এসব ছবি এবং অডিও প্রকাশ পেলে তা তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি এবং অপূরণীয় মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।   ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ডাক্সবারির নিজ বাসা থেকে প্যাটরিক নিজেই তাঁর তিন সন্তানকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছিলেন। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর লিন্ডসে ও প্যাটরিকের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এবং প্যাটরিক সম্প্রতি পুনরায় বিয়ে করেছেন। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে এই চাঞ্চল্যকর মামলার জন্য ১৭ সদস্যের জুরি প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। চার শতাধিক সম্ভাব্য জুরির মধ্য থেকে প্যানেল গঠনের এই প্রক্রিয়ায় একাধিক ব্যক্তি শিশু হত্যার ভয়াবহ বিবরণ শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কান্নাভেজা চোখে বিচারকাজ থেকে নিজেদের অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানান। দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী চলতে যাওয়া এই বিচারে প্রায় ২০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে, যেখানে প্যাটরিক ক্ল্যান্সি নিজেও সাক্ষ্য দেবেন।   অভিযুক্ত ৩৫ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যান্সি বর্তমানে হুইলচেয়ারে জীবনযাপন করছেন; তিন সন্তানকে হত্যার পর তিনি উঁচু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। তাঁর আইনজীবীদের মূল কৌশল হলো লিন্ডসে যে ঘটনার সময়ে সন্তান জন্মদান-পরবর্তী তীব্র মানসিক অসুস্থতা বা ‘পোস্টপার্টম সাইকোসিস’-এ ভুগছিলেন তা প্রমাণ করা। তাদের দাবি, একাধিক অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটেছিল। সব পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে আদালত।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৭:২১
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদনকারীদের জন্য বড় সুবিধা, অনলাইনে মিলবে আবেদনের সব আপডেট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদনকারীদের জন্য বড় সুবিধা, অনলাইনে মিলবে আবেদনের সব আপডেট

ইরান যুদ্ধে নিহত ১৮ মার্কিন সেনা

কেউ ছিলেন সদ্য হাইস্কুল পাস, কেউ দুই সন্তানের বাবা; ইরান যুদ্ধে নিহত ১৮ মার্কিন সেনার গল্প

ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজিট বাড়ানোর অধিকার আছে বাড়িওয়ালার - নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ

ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজিট বাড়ানোর অধিকার আছে বাড়িওয়ালার - নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ

0 Comments