যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধের প্রথম দিকে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সন্দেহভাজন বিমান হামলায় ১২০ জন শিশুসহ অন্তত ১৫৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ধ্বংসযজ্ঞ ও স্বজন হারানোর ভয়াবহ চিত্র।
স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শনিবার সকালে রমজান মাস উপলক্ষে যখন শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলাওয়াত করছিল, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়, যা এই সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী এবং বেসামরিক মানুষের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাইমারি স্কুলের ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষিকা আমাইনেহ নাদেমি সেই ভয়াল দিনের স্মৃতিচারণ করে জানান, যুদ্ধ শুরুর পর স্কুল ছুটি ঘোষণার পরপরই সেখানে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষে তিনি তার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আটকা পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই ছাদ ধসে পড়ে এবং চারদিকে রক্ত ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধারকর্মী রেজা বেশারতি জানান, উদ্ধারের সময় কারও দেহই আস্ত পাওয়া যায়নি; ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া এসব মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের জুতা বা পোশাকের সাহায্য নিয়েছে।
এই হামলায় নিহত নয় বছর বয়সী সেতায়েশের মা মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদি প্রতিদিন গোরস্থানে মেয়ের কবরের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেয়েকে তার পরা ক্রিম রঙের মোজা দিয়ে শনাক্ত করতে হয়েছিল জানিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, "এই শিশুদের অপরাধ কী ছিল? তাদের কাছে তো কোনো অস্ত্র ছিল না, তাদের কাছে ছিল বই-খাতা, তারা কেবল শিখতে গিয়েছিল।"
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের কারণে স্কুলটিকে ভুলবশত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক ঘাঁটির অংশ ভেবে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং তারা কখনোই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে না।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের সরকার এই ঘটনাকে মার্কিন আগ্রাসনের সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলে কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে, যা দেশটিতে মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর বিএসএফ ক্যাম্পে সহকর্মীর গুলিতে দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও এক জওয়ান গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পের ১১৯ নম্বর এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কয়েকজন জওয়ানের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, রাজশাহীর ওপারে মালদহের বৈষ্ণবনগরে অবস্থিত ওই ক্যাম্পে জওয়ানরা বিশ্রামে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ও ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান শিবম মিশ্র তার সহকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের দুই জওয়ান—৫১ বছর বয়সী অজয় কুমার সিং এবং ৩৭ বছর বয়সী আম্বদর সুরেশ দরগু প্রাণ হারান। এ ছাড়া বিকাশ ব্রম্ম (৪৪) নামের আরেক জওয়ান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত দুই জওয়ানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিবম মিশ্রের বিরুদ্ধে আগেও এমন বেপরোয়া আচরণের রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, প্রায় এক বছর আগে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে তিনি বাহিনীর নিজস্ব আইনে শাস্তি পেয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে বাড়িতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, আর এর মাঝেই তিনি পুনরায় এই প্রাণঘাতী কাণ্ড ঘটালেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিবমকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। বিএসএফের মালদহ সেক্টরের ডিআইজি সুরেন্দ্র কুমার ঝা জানিয়েছেন, বাহিনীর নিজস্ব তদন্তের পাশাপাশি বৈষ্ণবনগর থানা পুলিশও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যের এসেক্সে সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী ও তাঁর কিশোরী মেয়ে। গত বুধবার বিকেলে এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ সাত বছর বয়সী এক শিশু জোয়ারের তোড়ে সাগরে ভেসে যেতে থাকে। এ সময় শিশুটিকে বাঁচাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন মা সেলিনা রহমান এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। কিন্তু শিশুটিকে স্রোতের মুখ থেকে উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের টানে তারা দুজনই সাগরের পানিতে তলিয়ে যান। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে কোস্টগার্ড, লাইফবোট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি সেবার একাধিক দল। এসেক্স পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী থেকে থাকলে অথবা কারও কাছে ঘটনার কোনো ছবি বা ভিডিও চিত্র সংরক্ষিত থাকলে তা দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
জার্মানির থুরিঙ্গিয়া অঙ্গরাজ্যের কামসডর্ফ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের সমপরিমাণ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ পুরো একটি গ্রাম। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সম্পত্তিটির বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো। বিক্রির জন্য নির্ধারিত এই বিশাল সম্পত্তিতে ১০০ বর্গমিটার আয়তনের ১৫টি একতলা ভবনের পাশাপাশি ৩০০ বর্গমিটারের একটি বড় প্রাক্তন ক্যান্টিন ভবন রয়েছে। সম্পত্তিটির বর্তমান মালিক ফ্রানৎস এবারিশ কেবল জমি বিক্রি করতে চান না, বরং এমন একজন ক্রেতা খুঁজছেন যিনি জায়গাটিকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন। প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তদানীন্তন পূর্ব জার্মানির শিক্ষানবিশদের আবাসন ও পরবর্তীতে অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এই গ্রামটি। দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর ২০১৪ সালে প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটি অনন্য আবাসিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এবারিশ সম্পত্তিটি কিনে নেন। তবে বর্তমানে এই পুরো প্রকল্পটি একটি বড় প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় জার্মান কর্তৃপক্ষের নিয়মানুসারে, দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত থাকার কারণে জায়গাটির পূর্বের আবাসিক মর্যাদা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে সেখানে নতুন করে কোনো স্থায়ী আবাসিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিশেষ অনুমোদন কিংবা সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজন পড়বে। মূলত অর্থসংকটের কারণে স্বাস্থ্যগ্রাম, ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির নিজস্ব পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে না পেরে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন এবারিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুকচ্ছলে ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককেও এই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।