সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
কন্যাসন্তান জন্মের পর এথেন্সের ক্লিনিকে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে ক্রিস্টিনা রাপতি জেলেপি এবং তার স্বামী কনস্টান্টিনোস। ছবি: সংগৃহীত
২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হলেন গ্রিসের নারী

গ্রিসের এক দম্পতি ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করে রাখা ভ্রূণ ব্যবহার করে কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। এর কয়েক মাস আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের ২১ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছিল। সন্তানের মৃত্যুর পর নতুন করে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও গ্রিসের আইনে নারীদের আইভিএফের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর হওয়ায় তাদের সামনে ছিল সময়ের কঠিন চাপ।   ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপতি-তজেলেপি সেপ্টেম্বরের শুরুতে এথেন্সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্য ব্যবহৃত ভ্রূণটি ২০০৪ সালের ১৭ মার্চ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভ্রূণটি সংরক্ষণের পর থেকে শিশুটির জন্ম পর্যন্ত সময় ছিল ২২ বছর পাঁচ মাসেরও বেশি।   ক্রিস্টিনা ও তার স্বামী কনস্তান্তিনোস রাপতিকে প্রায় ৩০ বছর আগে পরিচয়ের পর বিয়ে করেন। সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও তিন বছর সফল না হওয়ায় তারা আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৪ সালে প্রথমবারের চেষ্টাতেই ক্রিস্টিনা গর্ভবতী হন এবং একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তাদের ছেলে জর্জ একই ভ্রূণ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের একজন ছিল।   তবে প্রসবের সময় জটিলতার কারণে জর্জকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দিতে হয়। চিকিৎসকেরা তখন ক্রিস্টিনাকে ভবিষ্যতে আরেকটি সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার জরায়ুর গঠনসংক্রান্ত কিছু উদ্বেগের কারণে দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তাদের জানানো হয়। ফলে আরও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দম্পতি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে আইভিএফের সময় তৈরি হওয়া অবশিষ্ট ১২টি ভ্রূণ তারা ক্লিনিকে সংরক্ষণ করে রাখেন।   ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ২১ বছর বয়সী জর্জ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েন ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোস। কিন্তু সেই সময়ই তারা সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর কথা আবার ভাবতে শুরু করেন।   ক্রিস্টিনা বলেন, ছেলেকে হারানোর পর তারা মনে করেছিলেন, আরেকটি সন্তান হয়তো তাদের জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার শক্তি দেবে। তার স্বামীও মনে করতেন, জর্জ চাইত তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক এবং পরিবার হিসেবে সুখী হওয়ার চেষ্টা করুক।   কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি চাপ তৈরি হয়। গ্রিসের আইনে নারীদের সহায়ক প্রজনন বা আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ বয়স ৫৪ বছর। ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় সহায়ক প্রজনন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন হয়। ২০২২ সালের আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রিসে এই বয়সসীমা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫৪ করা হয়েছিল।   ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় ক্রিস্টিনাকে। ২৩ ডিসেম্বর একটি ভ্রূণ তার জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক কনস্তান্তিনোস পান্তোসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ভ্রূণটি ২০০৪ সালের একই ব্যাচের ছিল, যে ব্যাচ থেকে জর্জও জন্মেছিল।   চিকিৎসকদের মতে, গর্ভধারণের পুরো সময়টি প্রত্যাশার তুলনায় ভালোভাবেই এগিয়েছে। ৩৯ সপ্তাহ দুই দিন পর ক্রিস্টিনা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪৯ কেজি। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়ার এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাহিত্যে এর আগে ১৮ বছর তিন মাস এবং ১৭ বছর সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফল জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত ছিল।   শিশুটির জন্মের পর পরিবারটির দীর্ঘ শোকের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ক্রিস্টিনা বলেন, মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তে তাদের মনে হয়েছে যেন আবার আলো ফিরে এসেছে। তার স্বামীর ভাষায়, এই সন্তান তাদের জীবনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দিয়েছে।   তবে মেয়ের জন্মের পরও তাদের আরেকটি ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পথে বাধা রয়েছে। তাদের আরও নয়টি ভ্রূণ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে এবং তারা মেয়েটির জন্য একজন ভাই বা বোন চান। কিন্তু গ্রিসের বর্তমান বয়সসীমার কারণে ক্রিস্টিনা দেশটিতে আর আইভিএফ করতে পারবেন না। তাই আইন পরিবর্তন না হলে তারা বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও ভাবছেন।   এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রিসের আইভিএফ আইন পরিবর্তনের দাবিও উঠেছে। চিকিৎসক পান্তোস মনে করেন, বয়সসীমা প্রয়োজন হলেও তা শুধু জন্মতারিখের ওপর নির্ভর করে কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, চিকিৎসাগত পরিস্থিতি এবং পারিবারিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।   গ্রিসে সন্তান জন্মদানের বয়সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রথমবার মা হওয়ার গড় বয়স ছিল ৩১ দশমিক ২ বছর, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ছিল ২৯ দশমিক ৯ বছর।   তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বেশি বয়সে গর্ভধারণের সঙ্গে বাড়তি ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণেই গ্রিসে ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন ও চিকিৎসাগত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।   ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোসের কাছে নতুন সন্তান তাদের হারানো ছেলের বিকল্প নয়। বরং ছেলেকে হারানোর পরও জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে তারা মেয়ের জন্মকে দেখছেন।   সূত্র: Newsweek

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৪৫
‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’
‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’: যোগী আদিত্যনাথ

ভারতে গরুকে ‘জাতীয় প্রাণী’ ঘোষণার দাবির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা গরুকে ‘মা’ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন, তাঁদের কাছে সেই সম্পর্কের জন্য সরকারি ঘোষণার প্রয়োজন নেই। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর লখনৌতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাবেক নেতা অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।    যোগী বলেন, গরুকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণার দাবি তিনি শুনছেন। এর জবাবে তিনি গরুর সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং গরুর সুরক্ষা ও লালনপালনে গুরুত্ব দিতে বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর সরকারের গো-আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার কথাও উল্লেখ করেন।    এই দাবির একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। গত মে মাসে জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি গরুকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এ ধরনের স্বীকৃতি গরু রক্ষার নামে গণপিটুনি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও ধর্মীয় অনুভূতির রাজনৈতিক ব্যবহার কমাতে সহায়ক হতে পারে।   যোগী জুন মাসেও ওই দাবির বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে লখনৌর বক্তব্যকে তাঁর নতুন কোনো নীতি ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; তিনি আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:১২
সাইখুন খান
থানার সামনেই পাথরের আঘাতে মুসলিম যুবক খুন, দাড়ি-টুপি দেখে টার্গেট

রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় থানার সামনে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে ৪০ বছর বয়সী সাইখুন খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বারোদা মেও থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বারাওয়াস গ্রামের বাসিন্দা সাইখুন খান নিজের মোটরসাইকেলের জন্য টায়ার কিনতে বারোদা মেও বাজারে যাচ্ছিলেন। সকাল প্রায় ১০টার দিকে তিনি বারোদা মেও থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত হর্ষ মূর্তিকার তাকে থামায়। এরপর তাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে পাথর দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।    গুরুতর আহত সাইখুনকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আলওয়ারের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।    ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত হর্ষকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে হাজির করে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, সাইখুন ও অভিযুক্তের মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে এবং তার মনোরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করার কথা জানানো হয়েছে।    তবে নিহতের পরিবার হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারণ থাকার অভিযোগ তুলেছে। সাইখুনের ভাই ইরশাদ খানের দাবি, তার ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পরিবারের সন্দেহ, সাইখুনের দাড়ি ও টুপি দেখে তাকে মুসলিম হিসেবে শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ; তদন্তে ধর্মীয় পরিচয় হত্যার কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।    পুলিশ অবশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ নাকচ করেছে। আলওয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলার স্থানটি থানার ভেতর থেকে সরাসরি দেখা যায় না এবং চিৎকার শুনে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন।    এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বারোদা মেও থানার সামনে এবং আলওয়ার জেলা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভের সময় আলওয়ার-ভরতপুর সড়কেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।    ঘটনাটি নিয়ে ভারতের বিরোধী কংগ্রেস নেতারাও পুলিশের ভূমিকা ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘটনার তদন্তের প্রমাণ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত।    সাইখুন খানকে থানার সামনে পাথর দিয়ে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তারও হয়েছে। কিন্তু হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো দুটি ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে—পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অভিযুক্তের সম্ভাব্য মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আর পরিবারের অভিযোগ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাকে টার্গেট করা হতে পারে। তদন্ত ও মেডিকেল/আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৪
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ আই এর ঝুঁকি নিয়ে বুঝাতে আগ্রহী বিল গেটস
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ আই এর ঝুঁকি নিয়ে বুঝাতে আগ্রহী বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান বিল গেটস। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বলেছেন, এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ‘ধাপ্পা’ নয়। তাঁর মতে, প্রযুক্তিটির ওপর নজরদারি বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে, এমন ধারণাও ঠিক নয়। এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।    ট্রাম্প এর আগে এআই খাতে নতুন নিয়ন্ত্রণের আহ্বানকে ‘ধাপ্পা’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ইতিমধ্যে রয়েছে; নতুন নিয়মের কারণে প্রযুক্তিটির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। চীন এতে সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন।    গেটসের মতে, ট্রাম্প তাঁর এবং অন্যদের বক্তব্য শুনলে বুঝতে পারবেন, সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমাবে না। এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানো হবে কি না, সেটি আলাদা আলোচনা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত এআই কী করছে, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা এখনই যুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।    গেটস বলেন, শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেরা নিয়ম মেনে চলার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। নজরদারি ও সুরক্ষার নিয়ম কেমন হবে, তা নির্ধারণে আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেও যুক্ত করতে হবে।    তাঁর আশঙ্কা, অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করে প্রতারণা বা সাইবার হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো ঘটনা ঘটলে তা শনাক্ত ও তদন্ত করার জন্য এআই ব্যবস্থার ভেতরেই পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন। এগুলো গেটসের তুলে ধরা সম্ভাব্য ঝুঁকি; তাঁর বক্তব্যকে কোনো নির্দিষ্ট হামলার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যাবে না।    চীনও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তবে এআই নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমঝোতা করা কঠিন হবে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৪:১০
ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন বেশি ২২ দশমিক ৪ পয়েন্ট
ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন বেশি ২২ দশমিক ৪ পয়েন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিট জনসমর্থন দুই মেয়াদ মিলিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জরিপ বিশ্লেষক নেট সিলভারের সিলভার বুলেটিন। ২৫ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ করা হিসাবে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন ২২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। নিউজউইকের দেওয়া প্রতিবেদনটি ২৪ সেপ্টেম্বরের; মূল জরিপসমষ্টি পরে হালনাগাদ হয়েছে।    নিট জনসমর্থন বের করা হয় সমর্থনের হার থেকে অসমর্থনের হার বাদ দিয়ে। ফলে ঋণাত্মক ২২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্টের অর্থ ট্রাম্পকে মাত্র ২২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেন, এমন নয়। সিলভার বুলেটিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য মিলিয়ে এই গড় হিসাব করে।    একই পর্যায়ে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিট জনসমর্থন ছিল ঋণাত্মক ১১ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ৯ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। এই তুলনাও সিলভার বুলেটিনের হিসাব থেকে এসেছে।    পৃথকভাবে, ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর নেওয়া রয়টার্স-ইপসোস জরিপে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ সমর্থন করেছেন ৩২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক। আগের সপ্তাহে একই জরিপে তা ছিল ৩৫ শতাংশ। ১ হাজার ২৭৭ জনের ওপর চালানো জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৩ শতাংশ পয়েন্ট। ইপসোসও সেপ্টেম্বরের এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে।    ওই জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করেছেন ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা। রিপাবলিকান উত্তরদাতাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন আগের সপ্তাহের ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশ হয়েছে। তবে একটি জরিপ দিয়ে এই পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যায় না। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৪:৫
কর ফেরতের তথ্য ও বকেয়া দেখার সুযোগ নিয়ে আইআরএসের নতুন অ্যাপ
কর ফেরতের তথ্য ও বকেয়া দেখার সুযোগ নিয়ে আইআরএসের নতুন অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের জন্য নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে আইআরএস। এতে কর ফেরতের অগ্রগতি দেখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখা ও কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর অ্যাপটি চালুর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। এটি আগের ‘আইআরএসটুগো’ অ্যাপের জায়গা নিয়েছে।   কর ফেরতের অবস্থা জানতে অ্যাপে সাইন ইন করতে হবে না। সাইন ইন ছাড়াই নির্দিষ্ট কর পরিশোধ এবং বিনামূল্যে কর রিটার্ন দাখিলের সহায়তা খোঁজার সুবিধাও থাকছে।   তবে সাইন ইন করলে করের বকেয়া, আগের পরিশোধের তথ্য, আইআরএসের পাঠানো নির্দিষ্ট চিঠি এবং করসংক্রান্ত নথি দেখা যাবে। সংশোধিত রিটার্নের ফেরতের অবস্থাও দেখা যাবে। আইআরএস জানিয়েছে, চালুর সময় অ্যাপে অনলাইন অ্যাকাউন্টের সব সুবিধা থাকছে না।   যাঁদের ফোনে আগে থেকেই ‘আইআরএসটুগো’ আছে, তাঁদের আলাদা অ্যাপ নামাতে হবে না। স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলে পুরোনো অ্যাপটি নতুন সংস্করণে বদলে যাবে। অ্যাপটি বিনামূল্যে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লেতে পাওয়া যাচ্ছে।   আইআরএসের নামে নকল অ্যাপ বা বার্তা থেকে সতর্ক থাকতে বলেছে সংস্থাটি। আসল অ্যাপ খুঁজতে আইআরএসের ওয়েবসাইটে থাকা যাচাইকৃত লিংক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা বা ইমেইলে আইআরএস ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চায় না বলেও জানিয়েছে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৩:৫৯
সপ্তাহে ছয় দিন যেতেন ডেটে, দুই বছরে ১৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করলেন নারী
সপ্তাহে ছয় দিন যেতেন ডেটে, দুই বছরে ১৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করলেন নারী

নিউইয়র্কে থাকার সময় নিয়মিত ডেটে গিয়ে খাবারের খরচ কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন মার্কিন অর্থবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ভিভিয়ান টু। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে করা পোস্টে তিনি দুই বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ডলার সাশ্রয়ের একটি আনুমানিক হিসাব দেন। তবে পরে স্পষ্ট করেন, বিনা খরচে খাবার পাওয়ার জন্য তিনি ডেটিং শুরু করেননি। ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয়; তাঁর বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৩ সালে।    ভিভিয়ান জানান, নিউইয়র্কে আসার পর মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্যই তিনি ডেটে যেতেন। অনেক সময় রেস্টুরেন্টের বিল তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষেরা দিতেন। পরে তিনি খেয়াল করেন, বাইরে খাওয়ার কারণে নিজের খাবার কেনার খরচ কমছে।   এক সাক্ষাৎকারে তিনি সপ্তাহে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ডলার খরচ কমার কথা বলেন। আর আগের পোস্টে সপ্তাহে প্রায় ১৫০ ডলার সাশ্রয়ের অনুমান করেছিলেন। দুই বছরের জন্য সপ্তাহে ১৫০ ডলার ধরলেই প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ডলার হয়। ফলে এই মোট অঙ্কটি তাঁর অনুমান, যাচাই করা খরচের হিসাব নয়।    সে সময় ম্যানহাটনে ইকুইটি ট্রেডার হিসেবে কাজ করতেন ভিভিয়ান। তাঁর বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৯৫ হাজার ডলার। তিনি জানান, নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ায় খাবারের পেছনে খরচ কমলে সেই অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগসহ অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারতেন।    তবে ভিভিয়ানের মতে, শুধু বিনা খরচে খাবার পাওয়ার উদ্দেশ্যে ডেটে যাওয়া ভালো আর্থিক কৌশল নয়। খরচ সামলাতে বাজেট তৈরি করাকেই তিনি বেশি কার্যকর মনে করেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৩:১৯
নিউ ইয়র্কে মায়েদের জন্য ফর্মুলা ও খাবার সহায়তা
নিউ ইয়র্কে মায়েদের জন্য ফর্মুলা ও খাবার সহায়তা, উইকে আবেদন করবেন যেভাবে জানুন

নিউ ইয়র্ক সিটিতে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশি পরিবারগুলো শিশুদের খাবার, নির্দিষ্ট ধরনের ইনফ্যান্ট ফর্মুলা ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার কিনতে উইক কর্মসূচির সহায়তা পেতে পারে। গর্ভবতী নারী, সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর পরিবারের জন্য এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়; যোগ্য নিউইয়র্কবাসী সবাই আবেদন করতে পারেন।    নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি তথ্যসেবা অ্যাকসেস এনওয়াইসি জানিয়েছে, উইকে আবেদনের সময় ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া হয় না। তবে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বসবাস, পরিবারের আয় এবং কর্মসূচির অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। শিশুর বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি বা অন্য প্রধান পরিচর্যাকারীও শিশুর জন্য আবেদন করতে পারেন।    উইকের সুবিধা নগদ টাকা হিসেবে দেওয়া হয় না। যোগ্য ব্যক্তিরা ই-উইক কার্ড দিয়ে অনুমোদিত খাবার কেনেন। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের পাশাপাশি পুষ্টি বিষয়ে পরামর্শ ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সহায়তাও পাওয়া যায়। কোন শিশুর জন্য কী খাবার বা ফর্মুলা পাওয়া যাবে, তা উইক অফিস নির্ধারণ করে।    আবেদন বা কাছের উইক অফিসের তথ্য জানতে ১-৮০০-৫২২-৫০০৬ নম্বরে কল করা যায়। ফোনে বা সরাসরি সাক্ষাতের সময় ঠিক করতেও এই নম্বর ব্যবহার করা যায়।    উইকের বাইরে বিনামূল্যে খাবারের প্রয়োজন হলে নিউ ইয়র্ক সিটির কমিউনিটি ফুড কানেকশন কর্মসূচির ফুড প্যান্ট্রি ও কমিউনিটি কিচেনের খোঁজ পাওয়া যায় ৩১১ নম্বরে কল করে। প্রচলিত ‘NYC FOOD’ লিখে ৩০৪-৩০৪ নম্বরে টেক্সট করার নির্দেশনাটি মূলত আগের বছরের গ্রীষ্মকালীন খাবার কর্মসূচির প্রচারে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমান ফুড প্যান্ট্রির অবস্থান জানতে সিটি কর্তৃপক্ষ ৩১১ নম্বর ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৩:১২
রুমিন ফারহানা
‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য

বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, বিএনপির ‘ট্যাগ’ বহন করতে হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন রুমিন ফারহানা। সেখানে লেখা ছিল, ‘আল্লাহর অশেষ রহমত যে আমাকে এই ট্যাগ অর্থাৎ বিএনপির ট্যাগ বহন করতে হচ্ছে না।’ পোস্টটির সঙ্গে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আল্লাহর কসম।’   তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা নতুন মন্তব্যটির প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিকবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানের বিরোধ তৈরি হয়। ওই আসনটি বিএনপি জোটের শরিক জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। একই সময়ে আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   এরপর ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী ফলাফলে তিনি জয়ী হন। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের নির্বাচনী লড়াই এবং দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়েও কথা বলেছিলেন।   নির্বাচনের সময়ও তার সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের নির্বাচনী প্রতিবেদনে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।   রুমিন ফারহানার বর্তমান মন্তব্যটি মূলত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতার ওপর আলোকপাত করছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিএনপির সঙ্গে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক কী হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানাননি।   এর আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পরও রুমিন ফারহানা বিভিন্ন বক্তব্যে দলটির রাজনীতি, নেতৃত্ব এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি তার এলাকার মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। একই সময়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।   অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে তার বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্ত অমান্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তার দলীয় রাজনীতির অতীত ও বর্তমান অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রুমিন ফারহানার সর্বশেষ মন্তব্যও এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে তার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বা ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তার পরবর্তী বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।   রুমিন ফারহানা বর্তমানে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচিত স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান।   তার সর্বশেষ বক্তব্যে বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান দূরত্বকে তিনি যে ভাষায় তুলে ধরেছেন, সেটিই মূলত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২:৩৪
ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ
ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, হতে চান প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আলেকজান্ডার ভুচিচ। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগপত্রে সই করেন। আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। তাই পদত্যাগ করলেও রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না ভুচিচ।    সার্বিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভুচিচ সোমবার সকালে পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা।    ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর সার্বিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়। দুর্ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে ছাত্রদের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। ভুচিচ ও তাঁর মিত্ররা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।    আসন্ন নির্বাচনে ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ‘স্টুডেন্টস উইন’ জোট। কয়েকটি বিরোধী দলের সমর্থন পাওয়া এই জোটের প্রার্থী তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।    এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভুচিচের জন্য এবারের নির্বাচন বড় পরীক্ষা। তাঁর পদত্যাগের পর রাষ্ট্রক্ষমতার পরবর্তী বিন্যাস কী হবে, তা নির্ধারণে ২৫ অক্টোবরের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২:৩০
ভারতে ৬০০ বছর পুরানো শাহী মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত, রাতভর মুসলিমদের অবস্থান
ভারতে ৬০০ বছর পুরানো শাহী মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত, রাতভর মুসলিমদের অবস্থান

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে সড়ক প্রশস্ত করতে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাতভর অবস্থান করেছেন স্থানীয় মুসলিমরা। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান রোববার রাতেও চলছিল। মসজিদের একটি অংশ সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সোমবার উচ্চ আদালতে শুনানির কথা রয়েছে।    ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উজ্জয়িনী পৌর কর্তৃপক্ষ একটি সড়ক প্রশস্ত করছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও যানজট সামলাতে কাজটি প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সড়কের সীমানার মধ্যে শাহী মসজিদের একটি অংশ পড়েছে।    মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, ভবনটি ১৩৯০ সালে নির্মিত। তাঁর আশঙ্কা, মসজিদের সামান্য অংশ ভাঙলেও পুরো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় মুসলিমরা মসজিদ অক্ষত রেখে সড়কের কাজ করার দাবি জানিয়েছেন। মসজিদটির বয়স নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য থাকায় ‘৬০০ বছরের পুরোনো’ দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।    গত ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একক বেঞ্চ পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা দুটি আবেদন খারিজ করে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এরপর উচ্চ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন করেছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা।    বিক্ষোভের মধ্যে মসজিদের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবারের শুনানির আগে মসজিদের অংশ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২:২২
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের

বেলজিয়ামের একটি আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্র থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের পর ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আনার অভিযোগ উঠেছে এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলাটি ওঠার পর গত রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে এর তথ্য প্রকাশিত হয়। অভিযোগের বিচার বেলজিয়ামে হওয়ার কথা রয়েছে।   দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটির শুরু ২০২৫ সালের জুনে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বেলজিয়ামের আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্র থেকে কিশোরীটিকে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি। পরে ফ্রান্স হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে তাঁরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।   কিশোরীটি তুরস্কের নাগরিক বলে আদালতে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন আশঙ্কায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নামও প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বয়স নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে; কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ভিন্ন ভিন্ন জন্মতারিখ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা জানিয়েছে, বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের খোঁজা ওই ব্যক্তিকে গত ১৯ আগস্ট পশ্চিম লন্ডনের ফেলথামে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি হেফাজতে আছেন। অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১:৩৬
শাশুড়ির সামনের চড় মারায় বাবাকে হত্যা
শাশুড়ির সামনের চড় মারায় বাবাকে হত্যা, দুই দিন পর ছেলের আত্মসমর্পণ

রংপুরের পীরগাছায় বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠার দুই দিন পর ছেলে হাসানুর রহমান (২২) থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি নিজেই পীরগাছা থানায় যান। নিহত মাহাবুর রহমান ওরফে মহুবারের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।   ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন বেড়াতে এলে তাঁদের সঙ্গে হাসানুরের আচরণ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।   স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে হাসানুরের শাশুড়ির সামনে তাঁকে চড় মারেন তাঁর বাবা। এরপর হাসানুর ঘর থেকে ছুরি এনে বাবার বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত মাহাবুর রহমানকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।   পীরগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর হাসানুর আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় তিনি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাঁকে মাদকাসক্ত বলে দাবি করেছেন, তবে এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   হাসানুরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যাবে না।    সূত্র: মাছরাঙা টিভি  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১:২৭
গোপনে উড়োজাহাজে আবুধাবি গেলেন নেতানিয়াহু, বৈঠক করলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে
গোপনে উড়োজাহাজে আবুধাবি গেলেন নেতানিয়াহু, বৈঠক করলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সফরের কথা জানিয়েছেন। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে আবুধাবি যান। সফরের বিষয়ে আগে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নেতানিয়াহুর দপ্তর বা আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।    এই সফরের আগে ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। নেতানিয়াহু ওই দাবি অস্বীকার করেছেন এবং সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। রোববারের বৈঠকে সেই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।    ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এর আগে মে মাসে নেতানিয়াহুর দপ্তর আমিরাতে তাঁর আরেকটি গোপন সফরের দাবি করলেও আমিরাত সরকার সেটি অস্বীকার করেছিল। রোববারের সফর নিয়ে আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১:১৮
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ ছয় রাজ্যে ঝড়, শত শত ফ্লাইট বাতিল
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ ছয় রাজ্যে ঝড়, শত শত ফ্লাইট বাতিল, বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়ায় শক্তিশালী উপকূলীয় ঝড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়। ঝড়ের একপর্যায়ে এক লাখের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট ৪৪৫টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩ হাজার ১৬টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। বোস্টনের লোগান বিমানবন্দরেও বহু ফ্লাইট বাতিল হয়।    শনিবার রাতের পরের হিসাবে ওই ছয় রাজ্যে ৭৩ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ছিল না। এর আগে দিনের একপর্যায়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন গ্রাহকের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছিল।   ভারী বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে নিউ জার্সির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকেছে। আবহাওয়া বিভাগ উপকূলীয় বন্যা ও প্রবল স্রোতের বিষয়ে সতর্ক করেছে। ঝড়ের আগেই নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির গভর্নররা বেশি ক্ষতির আশঙ্কায় থাকা কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ০:৪৪
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পাঠানোর কথা ছিল যে জ্বালানি, তা নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি না পাওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি।     ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে মন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী উড়োজাহাজটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, উড়োজাহাজটি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের যোগাযোগ কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত আকাশপথ ব্যবহারের ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। তবে কোন দেশ ছাড়পত্র দেয়নি, সে বিষয়ে যুগ্ম সচিব নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।   মন্ত্রী জানান, নতুন সময়সূচিতে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পাঠানোর কথা বলেছে রাশিয়া। এ বিষয়ে রোসাটমের বক্তব্য জানতে চেয়েছে এএনআই; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংস্থাটির জবাব পাওয়া যায়নি।   পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালে বাংলাদেশে আসে। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহন পিছিয়ে গেলেও তা কবে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তারিখ জানানো হয়নি।   সূত্র: কালের কন্ঠ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ০:৩৬
কানাডিয়ান কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ, আমেরিকা- কানাডা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আটক
কানাডিয়ান কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ, আমেরিকা- কানাডা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আটক

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সল্ট সেন্ট মেরিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, কিশোরকে একটি হোটেলে নেওয়ার সময় ভুল মোড় নিয়ে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রগামী সেতুতে উঠে পড়েন। কানাডায় ফেরার পথে সীমান্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসে গাড়িতে থাকা কিশোর।   সাডবেরি ডটকমের প্রতিবেদনে পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর। রাত সোয়া ১০টার কিছু পর কানাডার সীমান্ত কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।   পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, সেদিন এর আগে ওই দুই ব্যক্তি কিশোরকে গাড়িতে তোলেন এবং পরে তাকে গাড়ি থেকে নামতে দেননি। কিশোরটির সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিশোরকে একটি হোটেলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।   ভুল মোড় নেওয়ার পর গাড়িটি সল্ট সেন্ট মেরি আন্তর্জাতিক সেতুতে উঠে পড়ে। পরে কানাডায় ফেরার সময় সীমান্ত কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতর কিশোরকে দেখতে পান এবং দুই বাংলাদেশী ব্যক্তিকে আটক করেন।   অভিযুক্তরা হলেন সল্ট সেন্ট মেরির ৪০ বছর বয়সী সাহান আলম এবং সাডবেরির ২৯ বছর বয়সী হাসান আল মামুন। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জামিন শুনানির অপেক্ষায় তাঁদের হেফাজতে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।   অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত দুজনই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ০:২১
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত

হরমুজ প্রণালিতে একটি সামুদ্রিক জাহাজে ইরানের ছোড়া জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় আট মার্কিন মেরিন আহত হয়েছেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আট মেরিনের মধ্যে সাতজন তালিকাভুক্ত সদস্য এবং একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা একটি ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং দলের অংশ হিসেবে ওই জাহাজে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর আহতদের ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থতা এবং মাথায় আঘাতজনিত সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের কয়েকজন মাথাব্যথাসহ মস্তিষ্কে আঘাতের মতো উপসর্গ অনুভব করেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর ছিল না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আটজনই আবার দায়িত্বে ফিরে যান।   ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেরিনরা ওই সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে ছিলেন না। মার্কিন কর্মকর্তারা জাহাজটির মালিকানা বা ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে শুধু একটি সামুদ্রিক জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ওই জাহাজে থাকা মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি আরও জানিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার বিষয়ে সে সময় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক হতাহত সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে আহত আট মেরিনের তথ্য যুক্ত করা হয়।   পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম বা ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, এই আটজনকে যুক্ত করার পর ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ৮৬১ জনে পৌঁছায়। ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, একই সময়ে আরও ২৯ জন মার্কিন নৌসদস্যের তথ্য যোগ হওয়ায় মোট আহতের সংখ্যা এক সপ্তাহে ৩৭ জন বেড়েছিল।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক সদস্য আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে অনেক সময় বিলম্ব হতে পারে। কোনো আঘাতের উপসর্গ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় এবং তথ্যভান্ডার তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় এমন বিলম্ব হয়। প্রকাশ্য ডিসিএএস তথ্যভান্ডারে ওই আট মেরিন কোথায়, কখন এবং কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   হরমুজ প্রণালি সামরিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। জুলাইয়ে সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানি হামলার পরও প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে।   সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।   সাম্প্রতিক ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত আট মেরিন গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না এবং হামলার পর দ্রুত দায়িত্বে ফিরে যান। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংঘাতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের হতাহতের প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: এনবিসি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ০:৫
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তার স্ত্রী প্রয়াত ডা. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ১০০ বছর বয়সে মারা গেছেন

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ও দেশটির প্রখ্যাত চিকিৎসক সিতি হাসমাহ মোহামাদ আলী মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে চ্যানেল নিউজএশিয়া ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা।   সিতি হাসমাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।   সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার প্রথমদিকের মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন ছিলেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষে তিনি দীর্ঘ সময় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। জনস্বাস্থ্য, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে জনস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা, মাদকবিরোধী সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করেন।   সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়েন সিতি হাসমাহ। ১৯৫৫ সালে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেন। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় তার ভূমিকার কথা মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোতে উঠে এসেছে।   ১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সিতি হাসমাহ। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাত সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনীতিক মুখরিজ মাহাথির এবং লেখক ও সমাজকর্মী মারিনা মাহাথির।   মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমবার ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং পরে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটির সরকারপ্রধান ছিলেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সিতি হাসমাহকে দেশটির ‘ফার্স্ট লেডি’ হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে সক্রিয় দেখা গেছে।   চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি সিতি হাসমাহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করেছেন। বিশেষ করে মা ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, সাক্ষরতা, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি ভূমিকা রাখেন।   এ বছরের ১২ জুলাই সিতি হাসমাহ ১০০ বছর পূর্ণ করেন। এর এক মাসেরও কম সময় পর, ৫ আগস্ট, মাহাথির ও সিতি হাসমাহ তাদের ৭০তম বিবাহবার্ষিকী পালন করেন। আগস্টে আসিয়ান রেকর্ডস সিতি হাসমাহকে জীবিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বয়স্ক স্ত্রী হিসেবে এবং মাহাথিরকে জীবিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।   সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজপরিবারও শোক প্রকাশ করেছে। দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম ও রানি রাজা জারিথ সোফিয়া তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।   মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ ছিলেন সিতি হাসমাহ। চিকিৎসা পেশা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রায় সাত দশকের দাম্পত্য জীবনে মাহাথির মোহাম্মদের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর সঙ্গী ছিলেন তিনি।   সিতি হাসমাহ তার স্বামী মাহাথির মোহাম্মদ এবং সাত সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: বারনামা, চ্যানেল নিউজএশিয়া ও মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ২৩:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
সুপারমার্কেটে ডিজিটাল মূল্য তালিকা নিয়ে উদ্বেগ, ক্রেতাদের আশ্বস্ত করল ওয়ালমার্ট

ডিজিটাল মূল্যতালিকা চালুর পর গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন ফার্নার জানিয়েছেন, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, কেনাকাটার ইতিহাস, আয় বা কোনো পণ্যের জন্য তিনি কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করবে না ওয়ালমার্ট।   শুক্রবার ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফার্নার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ‘ব্যক্তির পরিচয় নয়, পণ্যের মূল্য’ নির্ধারণের নীতিতে থাকবে। তার ভাষ্য, কে পণ্যটি কিনছেন বা দিনের কোন সময়ে কিনছেন, তার ওপর ভিত্তি করে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না।   ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ছোট ডিজিটাল পর্দা বা ডিজিটাল শেলফ লেবেল বসানো হচ্ছে। এসব পর্দায় পণ্যের দাম দেখানো হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম পরিবর্তন করা যায়। প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গ্রাহক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীর মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হতে পারে কি না।   ওয়ালমার্ট অবশ্য বলছে, ডিজিটাল শেলফ লেবেলের কাজ শুধু পণ্যের দাম প্রদর্শন করা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব লেবেল গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে না, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না এবং নিজেরা পণ্যের দাম নির্ধারণও করে না। অনুমোদিত মূল্য পরিবর্তন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয় এবং দোকানের তাকের দাম ও ক্যাশ কাউন্টারে নেওয়া দাম একই রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   ফার্নার আরও জানিয়েছেন, ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটা সহকারী ‘স্পার্কি’র ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। গ্রাহক স্পার্কির সঙ্গে কী তথ্য শেয়ার করছেন বা তার কেনাকাটার ইতিহাস কী, সেসবের ভিত্তিতে বেশি দাম নেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো গ্রাহকের প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে এমন কম দামের পণ্য গোপন করার জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।   ডিজিটাল মূল্যতালিকার ব্যবহার ওয়ালমার্টে দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্চে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ওয়ালমার্ট শাখায় তখন এই প্রযুক্তি চালু ছিল এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো মার্কিন শাখা নেটওয়ার্কে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   ওয়ালমার্টের মতে, কাগজের লেবেল বদলানোর পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহারে কর্মীদের সময় সাশ্রয় হচ্ছে। নতুন পণ্য আসা, ছাড়ের দাম পরিবর্তন বা বিশেষ মূল্য নির্ধারণের মতো ক্ষেত্রে কর্মীদের হাতে হাতে হাজার হাজার কাগজের লেবেল বদলাতে হয় না। ফলে দোকানের তাকের দাম দ্রুত হালনাগাদ করা এবং ক্যাশ রেজিস্টারে থাকা দামের সঙ্গে মিল রাখা সহজ হচ্ছে।   তবে বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কোনো গ্রাহক একটি পণ্যের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই ধারণার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রকাশ করে। কমিশন বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দাম নির্ধারণ করলে এবং সে বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ না করলে তা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের আওতায় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   এফটিসি অবশ্য বলেছে, সব ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিষিদ্ধ করার আইনগত ক্ষমতা তাদের নেই। তবে বিভ্রান্তিকর বা অন্যায্যভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের ওপর জনমত নেওয়ার সময়সীমাও পরে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।   এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল মূল্যব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফার্নারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম কমতে বা বাড়তে পারে। কোনো পণ্য কম দামে সংগ্রহ করা গেলে ওয়ালমার্ট সেই সাশ্রয় গ্রাহকদের দিতে পারে। আবার পণ্য সংগ্রহ বা পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে দামও বাড়তে পারে। তবে ব্যক্তিগত গ্রাহকের তথ্য বা তার অর্থ দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।   সূত্র: ওয়ালমার্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ২৩:২২