- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ডিজিটাল মূল্যতালিকা চালুর পর গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন ফার্নার জানিয়েছেন, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, কেনাকাটার ইতিহাস, আয় বা কোনো পণ্যের জন্য তিনি কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করবে না ওয়ালমার্ট। শুক্রবার ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফার্নার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ‘ব্যক্তির পরিচয় নয়, পণ্যের মূল্য’ নির্ধারণের নীতিতে থাকবে। তার ভাষ্য, কে পণ্যটি কিনছেন বা দিনের কোন সময়ে কিনছেন, তার ওপর ভিত্তি করে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না। ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ছোট ডিজিটাল পর্দা বা ডিজিটাল শেলফ লেবেল বসানো হচ্ছে। এসব পর্দায় পণ্যের দাম দেখানো হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম পরিবর্তন করা যায়। প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গ্রাহক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীর মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হতে পারে কি না। ওয়ালমার্ট অবশ্য বলছে, ডিজিটাল শেলফ লেবেলের কাজ শুধু পণ্যের দাম প্রদর্শন করা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব লেবেল গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে না, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না এবং নিজেরা পণ্যের দাম নির্ধারণও করে না। অনুমোদিত মূল্য পরিবর্তন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয় এবং দোকানের তাকের দাম ও ক্যাশ কাউন্টারে নেওয়া দাম একই রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ফার্নার আরও জানিয়েছেন, ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটা সহকারী ‘স্পার্কি’র ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। গ্রাহক স্পার্কির সঙ্গে কী তথ্য শেয়ার করছেন বা তার কেনাকাটার ইতিহাস কী, সেসবের ভিত্তিতে বেশি দাম নেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো গ্রাহকের প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে এমন কম দামের পণ্য গোপন করার জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিজিটাল মূল্যতালিকার ব্যবহার ওয়ালমার্টে দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্চে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ওয়ালমার্ট শাখায় তখন এই প্রযুক্তি চালু ছিল এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো মার্কিন শাখা নেটওয়ার্কে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়ালমার্টের মতে, কাগজের লেবেল বদলানোর পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহারে কর্মীদের সময় সাশ্রয় হচ্ছে। নতুন পণ্য আসা, ছাড়ের দাম পরিবর্তন বা বিশেষ মূল্য নির্ধারণের মতো ক্ষেত্রে কর্মীদের হাতে হাতে হাজার হাজার কাগজের লেবেল বদলাতে হয় না। ফলে দোকানের তাকের দাম দ্রুত হালনাগাদ করা এবং ক্যাশ রেজিস্টারে থাকা দামের সঙ্গে মিল রাখা সহজ হচ্ছে। তবে বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কোনো গ্রাহক একটি পণ্যের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই ধারণার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রকাশ করে। কমিশন বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দাম নির্ধারণ করলে এবং সে বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ না করলে তা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের আওতায় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এফটিসি অবশ্য বলেছে, সব ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিষিদ্ধ করার আইনগত ক্ষমতা তাদের নেই। তবে বিভ্রান্তিকর বা অন্যায্যভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের ওপর জনমত নেওয়ার সময়সীমাও পরে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল মূল্যব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফার্নারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম কমতে বা বাড়তে পারে। কোনো পণ্য কম দামে সংগ্রহ করা গেলে ওয়ালমার্ট সেই সাশ্রয় গ্রাহকদের দিতে পারে। আবার পণ্য সংগ্রহ বা পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে দামও বাড়তে পারে। তবে ব্যক্তিগত গ্রাহকের তথ্য বা তার অর্থ দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। সূত্র: ওয়ালমার্ট
অস্ট্রেলিয়ায় নৌপথে এসে আশ্রয় চাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম নিউজ২৪ জানিয়েছে, রুড-গিলার্ড সরকারের সময় নৌপথে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের একটি বড় অংশকে এখন রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস বা আরএস (RoS) ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা পাওয়া সবাই সাবেক টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা বা সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসাধারী নন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতেও কিছু ভিসা দেওয়া হয়েছে। রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা একটি স্থায়ী ভিসা। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে আসা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা (TPV) ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা (SHEV) ধারীরা এই ভিসার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলবানিজ সরকার এই দুই ধরনের অস্থায়ী ভিসাধারীদের স্থায়ী ভিসার পথ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া এই গোষ্ঠীর অনেকেই বছরের পর বছর অস্থায়ী ভিসায় দেশটিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৩ সালের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ১৯ হাজারের বেশি টেম্পোরারি প্রোটেকশন ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসাধারীকে স্থায়ী রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সেই প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষকে এখন পর্যন্ত স্থায়ী ভিসা দেওয়া হয়েছে। দ্য অস্ট্রেলিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে এই গোষ্ঠীর স্থায়ী ভিসা পাওয়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থায় রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য, চরিত্র ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীদের অস্ট্রেলিয়ান ভ্যালুজ স্টেটমেন্টে স্বাক্ষর করতে হয়। এই ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার সুযোগ থাকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ভিসা মূলত এমন ব্যক্তিদের জন্য, যারা ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা বা সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা ধারণ করতেন বা আবেদন করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে আগের আবেদনই রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার আবেদনে রূপান্তর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী জোটের অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র জনো ডানিয়াম দাবি করেছেন, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা দেওয়ার এই সংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত সুরক্ষা নীতিকে দুর্বল করছে। তিনি পুরোনো টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা ব্যবস্থা পুনর্বহালেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকার অপারেশন সার্বভৌম বর্ডার্সের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিয়মিতভাবে নৌপথে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার নীতি পরিবর্তন করা হয়নি। সরকার আরও জানিয়েছে, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার সব অনুমোদন সাবেক টেম্পোরারি প্রোটেকশন ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক মানবিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায়ও কিছু ক্ষেত্রে এই ভিসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় এবং তাদের নিজ নিজ দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতিও মূল্যায়নের আওতায় থাকে। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই, যারা কোনো পুনর্বিবেচনা বা বিচারিক পর্যালোচনার অপেক্ষায় নেই এবং অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সব বৈধ সুযোগ শেষ করে ফেলেছেন, তাদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার প্রত্যাশা করা হয়। প্রয়োজনে তাদের নিজ দেশে ফেরার জন্য সহায়তাও দেওয়া হতে পারে। রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ব্যবস্থা চালুর পেছনে আলবানিজ সরকারের যুক্তি ছিল, বহু বছর ধরে অস্থায়ী ভিসায় থাকা সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি স্থায়ী ও সুস্পষ্ট অভিবাসন পথ তৈরি করা। ২০২৩ সালের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা স্থায়ীভাবে কাজ, ব্যবসা ও পড়াশোনা করতে পারবেন এবং যোগ্য হলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের পথেও যেতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা যায়, দেশটির ‘লিগ্যাসি ক্যাসলোড’ নামে পরিচিত নৌপথে আসা পুরোনো আশ্রয়প্রার্থী গোষ্ঠীর বিষয়ে সরকার এখনও বিভিন্ন ধরনের ভিসা ও অবস্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ৩০ হাজারের বেশি স্থায়ী ভিসা দেওয়ার তথ্যটি অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজ২৪।
বিশ্ব অস্ত্র রপ্তানির বাজারে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে তুরস্ক। রাশিয়ার Centre for Analysis of World Arms Trade (CAWAT) বা বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারকদের তালিকায় অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এই তালিকায় তুরস্কের পেছনে রয়েছে চীন, যার অস্ত্র রপ্তানির মূল্য ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। CAWAT-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৪৪ দশমিক ৬০৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রাশিয়া, ১৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে। জার্মানি ৮ দশমিক ৯০৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৮ দশমিক ৭৭৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় পঞ্চম স্থানে ফ্রান্সের অস্ত্র রপ্তানির মূল্য ৮ দশমিক ৬৩০ বিলিয়ন ডলার। এরপর ইসরায়েল ৫ দশমিক ৯৯৫ বিলিয়ন, ইতালি ৫ দশমিক ২২৫ বিলিয়ন, তুরস্ক ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন, স্পেন ৩ দশমিক ৪৭৬ বিলিয়ন এবং চীন ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষ ১০-এ রয়েছে। CAWAT-এর এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো তুরস্ক এত উঁচু অবস্থানে পৌঁছেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রকাশনায় প্রকাশিত CAWAT-এর প্রতিবেদনে জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের রপ্তানি পারফরম্যান্সকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তুরস্কের এই অগ্রগতির পেছনে দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ড্রোন, সাঁজোয়া যান, নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, রাডার ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে তুরস্কের শিল্পখাত গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানির মোট পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন উৎসে ব্যবহৃত সংজ্ঞা ও হিসাবের কারণে পার্থক্য রয়েছে। তুরস্কের সরকারি প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের মোট রপ্তানি ছিল ১০ দশমিক ০৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ১৮৪ মিলিয়ন ডলার। তুরস্কের সরকারি তথ্য আরও বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে নতুন চুক্তির মূল্য ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৪ সালের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে তুরস্ক পর্তুগালের সঙ্গে সামরিক জাহাজ রপ্তানি এবং স্পেনের সঙ্গে হুরজেট প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে বড় চুক্তি করেছে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কেএএএন যুদ্ধবিমান এবং রোমানিয়ার সঙ্গে অফশোর টহল জাহাজ নিয়েও চুক্তি হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণের আরেকটি দিক হলো বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ রপ্তানি ছিল মাত্র ২৪৮ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১০ দশমিক ০৫৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণে ব্যবহৃত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা SIPRI-এর সর্বশেষ ২০২১-২৫ সময়ের তথ্য তুরস্কের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখায়। SIPRI-এর হিসাবে, ওই পাঁচ বছরে তুরস্ক বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক ছিল এবং বৈশ্বিক রপ্তানির ১ দশমিক ৭ শতাংশ তার দখলে ছিল। ২০১৫-১৯ থেকে ২০২০-২৪ সময়ে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি ১০৩ শতাংশ বেড়েছিল। SIPRI-এর হিসাব আর CAWAT-এর হিসাবের মধ্যে পার্থক্যের কারণ তাদের তথ্য সংগ্রহ ও পরিমাপের পদ্ধতি এক নয়। SIPRI মূলত বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্রের আন্তর্জাতিক হস্তান্তর পরিমাপ করতে ‘ট্রেন্ড-ইন্ডিকেটর ভ্যালু’ বা টিআইভি ব্যবহার করে, যা সরাসরি অস্ত্র বিক্রির আর্থিক মূল্য নয়। অন্যদিকে CAWAT-এর ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিংয়ে বাণিজ্যিক চুক্তি ও সরবরাহের আর্থিক মূল্যকে ভিত্তি করা হয়েছে। ফলে তুরস্ক চীনকে পেছনে ফেলে অষ্টম হয়েছে বলা হলে সেটি CAWAT-এর ২০২৫ সালের আর্থিক মূল্যভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানির একক বা সর্বজনীন র্যাঙ্কিং হিসেবে দেখলে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তবে বিভিন্ন সূচকেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের বিষয়টি স্পষ্ট। বিশেষ করে চালকবিহীন বিমান, সাঁজোয়া যান, নৌ প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় দেশটির রপ্তানি সক্ষমতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। SIPRI-ও ২০২০-২৪ সময়ে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির বাজার সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেছে। সূত্র: Centre for Analysis of World Arms Trade (CAWAT)
নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে (CUNY) গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার কমেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলোতে ছয় বছরের মধ্যে ডিগ্রি অর্জনের হার ২০২২ সালের ৬২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে সহযোগী ডিগ্রি অর্জনের হারও একই সময়ে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের তথ্য উদ্ধৃত করে এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যগুলো নিউইয়র্ক সিটির ২০২৬ সালের মেয়রের ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ওই প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের সরকারি কার্যক্রম মূল্যায়ন করেছে। CUNY-এর কমিউনিটি কলেজগুলোতে সহযোগী ডিগ্রি সাধারণত পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য দুই বছরের কর্মসূচি হলেও প্রতিবেদনে ব্যবহৃত স্নাতক হওয়ার হার ছয় বছরের হিসাবে পরিমাপ করা হয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। চার বছর মেয়াদি স্নাতক কলেজগুলোর ক্ষেত্রে ছয় বছরের মধ্যে ডিগ্রি অর্জনের হারও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২২ সালে ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী ছয় বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করলেও ২০২৬ সালে তা ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসে। CUNY-এর প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারেও স্নাতক হওয়ার হার, শিক্ষার্থী ধরে রাখার হার ও ডিগ্রি অর্জনের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। আরও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে CUNY-এর ‘অ্যাক্সেলারেটেড স্টাডি ইন অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রামস’ বা ASAP-এ। কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহযোগী ডিগ্রি শেষ করতে সহায়তা করার জন্য তৈরি এই কর্মসূচিতে তিন বছরের মধ্যে স্নাতক হওয়ার হার ২০২২ সালের ৪৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। ASAP কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরামর্শ, ব্যক্তিগত সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। CUNY বলছে, কর্মসূচিটির আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার এখনো ASAP-এর বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে স্নাতকের হার কমার কারণ হিসেবে CUNY শুধু একটি বিষয়কে দায়ী করছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে যে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো কিছু শিক্ষার্থী-গোষ্ঠীর ফলাফলে রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের গঠনেও পরিবর্তন এসেছে। CUNY-এর বক্তব্য অনুযায়ী, মহামারির পর নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক পরামর্শ বাড়ানো হয়েছে। দুই বছর মেয়াদি কমিউনিটি কলেজ থেকে চার বছর মেয়াদি কলেজে স্থানান্তরের সময় শিক্ষার্থীদের অর্জিত ক্রেডিট যাতে সহজে গণনা করা যায়, সেই ব্যবস্থাও সহজ করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার লক্ষণ দেখালে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। CUNY-এর সাবেক ট্রাস্টি জেফরি উইজেনফেল্ড অবশ্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, সমস্যাটি দুই দিক থেকে তৈরি হচ্ছে। তার মতে, নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মান কমে যাওয়ার প্রভাব CUNY-তে পড়তে পারে, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল থেকে আসে। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে নিউইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে কঠোর মানদণ্ড ছিল, পরবর্তী সময়ে তার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, CUNY-এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নয়। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে পরিবর্তনের তথ্য উঠে এসেছে। চার বছর মেয়াদি কলেজগুলোতে পূর্ণকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে পড়ানো শিক্ষার্থীর হার ২০২৫ সালের ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে এই হার ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, CUNY-এর আরও বেশি শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন বা সহযোগী শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা পাচ্ছেন। তবে স্নাতকের হার কমলেও CUNY-এর কিছু ইতিবাচক সূচকও রয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০২৫ সালের ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭১ থেকে বেড়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৩ হয়েছে, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি। কমিউনিটি কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৬ হাজার ৪৩২ থেকে ৮১ হাজার ৮৮৩ হয়েছে। প্রথমবারের মতো কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ১৬৭ থেকে ১৪ হাজার ৪৩৩ হয়েছে। চার বছর মেয়াদি কলেজগুলোতে এই সংখ্যা ২২ হাজার ৩২৩ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৫৪৩ হয়েছে। শুধু ভর্তি নয়, প্রথম বর্ষের পর শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার হারও বেড়েছে। সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচিতে প্রথমবারের পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের এক বছর পর একই শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকার হার ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচিতে এই হার ৮৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। CUNY-এর দীর্ঘমেয়াদি তথ্যেও দেখা যায়, মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের পুনরায় ভর্তি হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সালের মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, কমিউনিটি কলেজের পূর্ণকালীন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এক বছর পর ধরে রাখার হার ২০১৩ সালের ৬৫ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৫৯ শতাংশে নেমেছিল। একই সময়ে স্নাতক কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হার ৮৩ শতাংশ থেকে ৭৮ শতাংশে কমে। CUNY নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে ২৬টি কলেজ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডিগ্রিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার ডিগ্রি দেওয়া হয়। স্নাতকের হার কমার মধ্যেও সামাজিক গতিশীলতা ও কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগের জন্য CUNY-এর বিভিন্ন কলেজ ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটন মান্থলির সাম্প্রতিক র্যাংকিংয়ে ছয়টি CUNY কলেজ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, CUNY-তে একদিকে স্নাতক সম্পন্ন করার হার কমেছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রথম বর্ষের পর শিক্ষার্থী ধরে রাখার হার বেড়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন শিক্ষার্থী ধরে রাখা নয়, বরং তাদের শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের প্রাক্কালে ইসরায়েল জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সাথে প্রথাগত করমর্দন বা হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। রোববার হাঙ্গেরির নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার সময় নজিরবিহীন এই ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক সংকট এবং প্রাণহানির প্রতিবাদে আইরিশ ফুটবলারদের এই নীরব অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ ও আইরিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের ঘরের মাঠের এই ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল হাঙ্গেরির দেবরিসেন শহরের নাগিয়েরদেই স্টেডিয়ামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ম্যাচ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা যখন মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত স্বল্পসংখ্যক ইসরায়েলি সমর্থক তাদের লক্ষ্য করে দুয়ো ধ্বনি দিতে থাকেন এবং বিদ্রূপ করেন। তবে গ্যালারির সেই বিরূপ আচরণের তোয়াক্কা না করেই মাঠে নামেন আইরিশ ফুটবলাররা। এ সময় গাজা সংঘাতে প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষের স্মরণে ও শোক প্রকাশে আয়ারল্যান্ড দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের বাহুতে কালো আর্মব্যান্ড বাঁধা ছিল। ম্যাচ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা মাথা নত করে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার পর ফিফা ও উয়েফার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দুই দলের খেলোয়াড়দের পরস্পরের সাথে হাত মেলানোর কথা থাকলেও আইরিশ ফুটবলাররা তা থেকে বিরত থাকেন এবং ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের এড়িয়ে সরাসরি নিজেদের অর্ধে চলে যান। উয়েফা নেশনস লিগের এবারের আসরে লিগ বি এর ৩ নম্বর গ্রুপে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলকে একই সাথে রাখা নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা চলছিল। আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের একটি বড় অংশ এই ম্যাচ বয়কটের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে স্টপ দ্য গেম বা খেলা বন্ধ করো শীর্ষক প্রচারণার মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলারদের এই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কঠোর নিয়মকানুন এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের শাস্তির কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ম্যাচের আগে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হেইমির হ্যালগ্রিমসন দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কেবল ফুটবলের নিয়মের কারণে তারা মাঠে নামছেন এবং ইসরায়েলের বিপক্ষে এই ম্যাচে তার দলের অংশগ্রহণকে কোনোভাবেই গাজার বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি সমর্থন বা স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত হবে না। সংবাদ সম্মেলনে কোচ হ্যালগ্রিমসন আরও বলেন, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় একটি বিষয়ে একমত এবং তারা সবাইকে এটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চান যে, মাঠে নামার অর্থ এই নয় যে তারা গাজায় ঘটে চলা ঘটনাগুলোকে মেনে নিচ্ছেন। মূলত খেলোয়াড়দের সেই নৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেছে রোববারের ম্যাচে কালো ব্যাজ ধারণ এবং করমর্দন থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রশ্নে অত্যন্ত সোচ্চার এবং এই ঘটনার মাধ্যমে দেশটির ক্রীড়াবিদরাও নিজেদের অবস্থান নতুন করে তুলে ধরলেন। সূত্র: আইরিশ টাইমস ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববারের এ আয়োজনে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিরা অংশ নেন। নতুন মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনতলা ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদটি নির্মিত হলে ওজন পার্ক ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মুসল্লিদের নামাজ আদায়, ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের জন্য আরও বড় পরিসরের সুযোগ তৈরি হবে। আল ফুরকান জামে মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে ওজন পার্কের মুসলিম কমিউনিটিতে ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সালে একটি ছোট বেসমেন্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, ঈদের নামাজ, জানাজা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ইসলামি স্কুল, কোরআন তাফসির ও ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। মসজিদটির বর্তমান ঠিকানা ৭৬-১৮ গ্লেনমোর অ্যাভিনিউ, ওজন পার্ক, কুইন্স। স্থানীয় বিভিন্ন তথ্যসূত্রেও এটিকে ওই এলাকার মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ১০-এর ২০২৬ সালের জুনের সভার নথিতেও আল-ফুরকান-সংক্রান্ত নতুন ভবনের জন্য খননকাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন ভবনের জন্য খননকাজের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। রোববারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের আয়োজনে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ নতুন মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হলে নতুন ভবনটি শুধু নামাজের স্থান হিসেবে নয়, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্যও ব্যবহৃত হবে। ওজন পার্ক কুইন্সের একটি বহুজাতিক এলাকা, যেখানে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। আল ফুরকান জামে মসজিদও দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মুসলিমদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। মসজিদের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। নতুন তিনতলা মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের যে তহবিল প্রয়োজন হবে, তা সংগ্রহে কমিউনিটির সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে নতুন ভবনের মোট আয়তন, আসনসংখ্যা এবং নির্মাণের নির্দিষ্ট সমাপ্তির তারিখ সম্পর্কে মসজিদের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব বিষয়ে আয়োজকদের ঘোষণাকেই প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের গ্রিনউইচ ভিলেজের একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের লবিতে প্রস্রাব করার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যামাজন ডেলিভারি কর্মীর বিরুদ্ধে। ভবনের বাসিন্দার রিং ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে ঘটনাটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ওই বাসিন্দার বেশ কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ২৬ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে ব্লিকার স্ট্রিট ও কারমাইন অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ঘটে। ডনি নামে ৩০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা ঘটনার শিকার হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজনের হালকা নীল ও ধূসর রঙের পোশাক পরা এক ডেলিভারি কর্মী ভবনের প্রবেশপথে এসে ইলেকট্রনিক দরজার ঘণ্টা বাজান। ডনি তাকে ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন ওই কর্মীর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা তিনি লক্ষ্য করেননি। পরে রিং ক্যামেরার ভিডিও দেখার সময় তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ডেলিভারি কর্মী লবিতে ঢোকার পর চারপাশে তাকান। এরপর তিনি প্যান্ট খুলে ভবনের করিডোর ও সেখানে থাকা কয়েকটি আসবাবের ওপর প্রস্রাব করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ডনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ওই ব্যক্তি এমনভাবে ভবনের ভেতরের দিকে চলে যান, যেন তিনি এর আগেও সেখানে বহুবার এসেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, করিডোরে রাখা জুতা, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল ওই তরলের সংস্পর্শে আসে। ঘটনার পর ডনি অ্যামাজনের কাছে বিষয়টি জানান। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে অত্যন্ত খারাপ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ৫০ ডলারের একটি উপহার কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে ডনি সেটি গ্রহণ করেননি। ডনির দাবি, প্রস্রাবে ভিজে যাওয়ার কারণে জুতা, চেয়ার ও টেবিলসহ কয়েকটি জিনিস তিনি আর ব্যবহার করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো ফেলে দিতে হয়েছে। ঘটনাটির পর ভবনে কোনো ডেলিভারি কর্মী প্রবেশ করলে তিনি এখন ক্যামেরায় নজর রাখেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবনে তার পাঁচ বছর বয়সী ভাগনেও নিয়মিত আসে। ডনির আশঙ্কা, ওই সময় তার পরিবারের কেউ বা অতিথি বাইরে বের হলে তাদের সামনে এমন ঘটনা ঘটতে পারত। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনজীবী ক্যারি লন্ডন জানিয়েছেন, অ্যামাজনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিভিন্ন পথ তারা খতিয়ে দেখছেন। তবে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে অ্যামাজনের নীতিতেও পরিবর্তন চান তারা। অ্যামাজন অবশ্য ওই কর্মীর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র লেই অ্যান গুলেট এক বিবৃতিতে বলেন, ঘটনাটি অ্যামাজনের ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওই ব্যক্তি অ্যামাজনের সরাসরি কর্মী ছিলেন না। তিনি অ্যামাজনের একটি স্বাধীন ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনার প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন। অ্যামাজন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর অ্যামাজনের প্যাকেজ সরবরাহ করছেন না। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অ্যামাজনের ডেলিভারি ব্যবস্থায় চালকদের জন্য বিশ্রাম ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ থাকার কথাও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে চালকদের কাছাকাছি শৌচাগারের অবস্থান দেখানো হয়। পাশাপাশি তাদের সময়সূচিতে ৩০ মিনিটের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এবং দুটি ১৫ মিনিটের বিরতির ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে কোনো গ্রেপ্তার, পুলিশি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যও প্রকাশ্যে নেই। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পে জ্বালানি দক্ষতার নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নতুন জ্বালানি দক্ষতা মান অনুমোদন করেছেন। এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে চালু হওয়া কঠোর জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, নতুন মান কার্যকর হলে গাড়ি নির্মাণের খরচ কমবে এবং নতুন গাড়ির দামও কমতে পারে। তিনি এই পরিবর্তনকে বাইডেন আমলের বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার নীতির অবসান হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ নতুন নিয়মটি ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম সোমবার প্রকাশ করা হবে। জাতীয় মহাসড়ক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রশাসনের (NHTSA) আগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থায় ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রতি গ্যালনে ৩৪ দশমিক ৫ মাইল করার কথা রয়েছে। বর্তমানে বাইডেন প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল প্রায় ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন। জ্বালানি দক্ষতার এই মান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট গড় জ্বালানি অর্থনীতি বা CAFE ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত হয়। এতে কোনো একটি গাড়ির মাইলেজ নয়, বরং একটি গাড়ি নির্মাতার বিক্রি করা গাড়িগুলোর সামগ্রিক গড় জ্বালানি দক্ষতা বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান নিয়মগুলোর সমালোচনা করে আসছেন। তার দাবি, কঠোর জ্বালানি দক্ষতার নিয়ম গাড়ি নির্মাতাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করেছে এবং ক্রেতাদের এমন গাড়ির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা হয়তো কিনতে চান না। নতুন নিয়মের ফলে নির্মাতারা তুলনামূলক কম জ্বালানি দক্ষতার গাড়ি তৈরিতে বেশি স্বাধীনতা পাবেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, নতুন মান যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে অপচয় কমাবে এবং এর ফলে গাড়ির দাম কমতে পারে। তিনি জেনারেল মোটরস, ফোর্ড ও স্টেলান্টিসসহ বড় গাড়ি নির্মাতাদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেছেন। NHTSA-এর আগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে একটি নতুন গাড়ির গড় প্রাথমিক মূল্য প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহৃত হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি কেনার পেছনে অতিরিক্ত প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বাইডেন প্রশাসনের সময় জ্বালানি দক্ষতার মান ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ মডেল বছরের গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি দক্ষতা বছরে ৮ শতাংশ করে এবং ২০২৬ সালের জন্য ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ২ শতাংশ করে বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের চূড়ান্ত নিয়মে NHTSA জানিয়েছিল, ২০৩১ মডেল বছরের মধ্যে হালকা যানবাহনের বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রায় ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালনে পৌঁছাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব সেই ধারার বিপরীত। NHTSA-এর প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে ২০৩১ সালের লক্ষ্য প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালনে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান লক্ষ্যের তুলনায় এটি প্রায় ১৬ মাইল প্রতি গ্যালন কম। পরিবেশগত দিকটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, কম জ্বালানি দক্ষতার মান গাড়ি নির্মাতাদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারী গাড়ি উৎপাদনের সুযোগ দেবে। এতে একদিকে গাড়ির প্রাথমিক দাম কমতে পারে, অন্যদিকে গাড়ি ব্যবহারের পুরো সময়ে জ্বালানি খরচ বাড়বে। বাইডেন প্রশাসনে পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পিট বুটিগিগ রয়টার্সকে বলেছেন, জ্বালানি দক্ষতার মান কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং গাড়িচালকদের জ্বালানি পাম্পে বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। তার মন্তব্যটি বর্তমান নীতির সমালোচকদের অবস্থানকে তুলে ধরে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই পরিবর্তনকে গাড়ির দাম কমানো এবং মার্কিন গাড়ি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফির দপ্তরও এর আগে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। নতুন নিয়মটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতাদের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি ও উচ্চ জ্বালানি দক্ষতার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে পেট্রোলচালিত বড় ও তুলনামূলক কম জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি বাজারে রাখার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত নিয়মের বিস্তারিত শর্ত এবং গাড়ি নির্মাতাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ওপর। প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন জ্বালানি দক্ষতা মানকে বাইডেন আমলের তথাকথিত ‘ইভি ম্যান্ডেট’ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি বাধ্যতামূলক করার নীতির অবসান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল জ্বালানি দক্ষতা কর্মসূচি সরাসরি সব গাড়ি বৈদ্যুতিক করার বাধ্যবাধকতা নয়। বরং জ্বালানি দক্ষতার নির্ধারিত মান পূরণ করতে গাড়ি নির্মাতারা বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার যানবাহনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণা এবং পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি বাজার ও পরিবেশনীতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই ২০৩১ সাল পর্যন্ত গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ঠিক কী ধরনের মান কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হবে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত বিলটিতে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল, নাগরিকদের বাবা-মায়ের জন্য গ্রিন কার্ডের পথ সীমিত করা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বর্তমান কাঠামো বদলে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। আলাবামার সিনেটর টিউবারভিল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর S. 5485। সিনেটে উত্থাপনের পর এটি দুইবার পাঠ করা হয়েছে এবং বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন আইনে কোনো পরিবর্তন আনেনি। প্রস্তাবটি এর আগে প্রতিনিধি ব্যারি মুরের নেতৃত্বে ২৯ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে H.R. 8586 হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছিল। ওই বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান, ওয়েসলি হান্ট ও ট্রয় নেহলস। টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিবারের সম্পর্কের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বেতন, বয়স, সামরিক সেবা এবং বিশেষ অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিলটির পক্ষে টিউবারভিল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যারা দেশটির আইন মেনে চলবেন এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন। প্রস্তাবটির অন্যতম বড় পরিবর্তন হবে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে লটারির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। টিউবারভিলের বিলটি এ ব্যবস্থা বন্ধ করে দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় কর্মীদের জন্য বছরে ৩ হাজার অভিবাসী ভিসার একটি সীমিত ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান আইনে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকরা তাদের বাবা-মায়ের জন্য তাৎক্ষণিক আত্মীয় হিসেবে অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মাকে এই শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের সুযোগ মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে সীমিত করার কাঠামো তৈরি হবে। শুধু নতুন আবেদনকারী নয়, বর্তমানে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। যেসব পরিবারভিত্তিক আবেদনের শ্রেণি বিলটির আওতায় বাদ যাবে, সেগুলোর অপেক্ষমাণ আবেদন অনুমোদনের সুযোগ থাকবে না। আগে অনুমোদিত কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও নতুন পরিবর্তন অনুযায়ী ভিসা দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থায়ও প্রস্তাবটি বড় পরিবর্তন আনতে চায়। বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এসব শ্রেণির পরিবর্তে একটি প্রতিযোগিতামূলক পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বছরে বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ৯২ হাজার ভিসা দিয়ে শুরু করার কথা বলা হয়েছে, যদিও বিলের নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী এই সংখ্যা কমতে পারে। এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে। আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম মান পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন করার সময় বয়স ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। বেতনের বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর প্রস্তাবিত বেতন সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মধ্যম বেতনের অন্তত ২০০ শতাংশ হতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ডিগ্রি পাওয়া বা পাওয়ার কাছাকাছি থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ বেতন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি, চিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রি, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বয়স, যোগ্য সামরিক সেবা এবং অসাধারণ অর্জন বিবেচনা করা হবে। উচ্চ বেতন বা নির্দিষ্ট ধরনের উচ্চতর ডিগ্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়োগদাতাদের ওপরও নতুন দায়িত্ব আরোপ করা হবে। কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করতে হবে। একই পদে সমান বা বেশি যোগ্য মার্কিন কর্মী থাকলে তাকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এমন লঙ্ঘনের কারণে কোনো মার্কিন কর্মী চাকরি হারালে জরিমানা ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিয়ম না মানার ধারাবাহিক বা নিয়মিত চর্চা প্রমাণিত হলে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধানও প্রস্তাবটিতে রয়েছে। পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত অভিবাসী এবং যোগ্য স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের প্রথমে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই শর্তসাপেক্ষ সময় হবে দুই বছর। এ সময়ে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ, কিছু ধরনের অপরাধে দণ্ডিত হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে প্রধান আবেদনকারীর স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি থাকবে। এর প্রভাব নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের ওপরও পড়তে পারে। বিলটিতে অভিবাসীদের কাছ থেকে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ‘প্রটেকশন অব আমেরিকান ভ্যালুজ’ নামে ওই ঘোষণায় সংবিধানসম্মত নীতির প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণহত্যা, নিপীড়ন, তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যা, যৌন সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের মতো নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার বিষয়েও ঘোষণা দিতে হবে। সিনেটের প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদের আগের বিলের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যেমন, নিয়োগদাতার ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ম লঙ্ঘনের ধারাবাহিক চর্চার ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। অসাধারণ সক্ষমতার জন্য পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দুই বিলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ ছাড়া শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের বিধান তুলে নেওয়ার সময় কিছু সাক্ষাৎকার মওকুফের সুযোগ প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাবে ছিল, যা সিনেটের সংস্করণে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন পদ্ধতি চালুর সময়সীমাতেও দুই প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক অঙ্গরাজ্যের বাইরের শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন, ফি ও অন্যান্য খরচ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ বিধান লঙ্ঘন করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য অনুমোদন হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। বিলটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনছে। তবে টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইন এবং প্রশাসনের নেওয়া নির্বাহী বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক বিষয় নয়। S. 5485 এখনো কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটিতে রয়েছে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সিনেটে বিলটি কমিটির পরবর্তী পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিল H.R. 8586-ও এপ্রিল মাসে কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং এখনো আইনে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন বা কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের নিয়ম এই প্রস্তাবের কারণে পরিবর্তিত হয়নি। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ কমার বদলে আবারও বাড়ছে ঋণের চাপ। বাড়ির দাম, সীমিত আবাসন সরবরাহ এবং উচ্চ মর্টগেজ সুদের কারণে অনেক ক্রেতাই এখনো বাজারে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যেই রাজ্যভেদে মর্টগেজ সুদের হারে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কোনো কোনো রাজ্যে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে, আবার কয়েকটি রাজ্যে উল্টো কমেছে। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের ৩৭টিতে গড় মর্টগেজ সুদের হার বেড়েছে। বিশ্লেষণটি ওয়ালেটহাবের নিজস্ব ব্যবহারকারী-তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে মিসিসিপিতে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজ্যটির গড় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, এই বৃদ্ধি দেশের অন্য সব রাজ্যের তুলনায় বেশি। মিসিসিপিতে সুদের হার বাড়ার পাশাপাশি আবাসন ঋণ পরিশোধের চাপও একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কলোরাডো। সেখানে গড় মর্টগেজ সুদের হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে। টেনেসিতে বেড়েছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে উইসকনসিন, যেখানে বৃদ্ধি ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, এবং মিসৌরি, যেখানে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে যেসব রাজ্যে সুদের হার বেড়েছে, সেখানেই সবচেয়ে বেশি সুদের হার রয়েছে—এমন নয়। উদাহরণ হিসেবে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউ জার্সিতে গড় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা ওয়ালেটহাবের তালিকায় সর্বোচ্চ। কানেকটিকাটে ছিল ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। নিউইয়র্কে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আর টেক্সাসে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কয়েকটি রাজ্যে প্রথম থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে সুদের হার কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে নর্থ ডাকোটায়—৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সাউথ ডাকোটায় কমেছে ১ দশমিক ২২ শতাংশ, ওয়াইওমিংয়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মন্টানায় ০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। টেক্সাসেও গড় হার ০ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। জাতীয় পর্যায়ের সাম্প্রতিক চিত্রও ক্রেতাদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হার বেড়ে ৭ দশমিক ১২ শতাংশে উঠেছে, যা ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে বাড়ি কেনার মর্টগেজ আবেদনও কমেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি মাসিক হিসাবে ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে নেমেছে। তবে বাড়ির মজুত ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট হয়েছে, যা ৪ দশমিক ৯ মাসের সরবরাহের সমান। একই সময়ে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, উচ্চ মর্টগেজ সুদ আবাসন বাজারের পুনরুদ্ধারকে ধীর করে দিচ্ছে। বাজারে বাড়ির দাম গত কয়েক বছরে আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক দ্রুত বেড়েছে এবং আবাসন ঘাটতিও রয়ে গেছে। ফলে সুদের হার কিছুটা কমলেও অনেক ক্রেতার জন্য বাড়ি কেনা এখনো ব্যয়বহুল হয়ে আছে। আবাসন বাজারের এই চাপের মধ্যে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সবার জন্য সাশ্রয়ী বাড়ির সংখ্যা যথেষ্ট নয়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চে বছরে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার আয় করা পরিবারগুলোর নাগালের মধ্যে ছিল বাজারের মাত্র ২১ দশমিক ২ শতাংশ তালিকাভুক্ত বাড়ি। ৫০ হাজার ডলার আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শুধু মর্টগেজের সুদের হার নয়, বাড়ির দাম ও পর্যাপ্ত সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতিও ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে। রাজ্যভেদে সুদের হারের পার্থক্য এই চাপের মাত্রাকে আরও ভিন্ন করে তুলছে।
গাড়ির দাম কমানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জ্বালানি সাশ্রয় নীতি আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে গাড়ি নির্মাতাদের ওপর জ্বালানি সাশ্রয়ের যে চাপ রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। তবে এর ফলে ভবিষ্যতে গাড়িতে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নির্গমন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিবহন বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নতুন মানদণ্ডের মাধ্যমে গাড়ি তৈরির খরচ কমবে এবং এর প্রভাব নতুন গাড়ির দামের ওপরও পড়বে। তাঁর দাবি, আগের নিয়মগুলো গাড়ি নির্মাতাদের ওপর বাড়তি খরচ চাপিয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির দিকে তাদের বেশি উৎসাহিত করেছে। মার্কিন পরিবহন বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের বহরের গড় জ্বালানি সাশ্রয়ের মান প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালন করা হবে। বর্তমান নিয়মে এই মান ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন। রয়টার্সের হিসাবে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে একটি গড় নতুন গাড়ির দাম প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। পরিবহন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয়ের মান কমানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনও প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অর্থাৎ গাড়ির দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে গাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও স্বাধীনভাবে গাড়ি তৈরি করতে পারবেন। মার্কিন পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোটি মূলত জ্বালানি সাশ্রয়ের নিয়মকে পুনর্বিন্যাস করে নির্মাতাদের জন্য তা সহজ করার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগিগ। রয়টার্সকে তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের মান কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতে জ্বালানির পেছনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিবর্তনকে বাইডেন আমলের বৈদ্যুতিক গাড়ি-কেন্দ্রিক নীতির বিপরীতমুখী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মার্কিন পরিবহন বিভাগের নথিতে বিষয়টি মূলত ‘করপোরেট অ্যাভারেজ ফুয়েল ইকোনমি’ বা CAFE মানদণ্ড পুনর্নির্ধারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসায় ভ্রমণ অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। বি-১ ও বি-২ ভিসা মূলত ব্যবসায়িক কাজ, পর্যটন, ছুটি কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো অস্থায়ী ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়। এই উদ্দেশ্যকে ভ্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে নিয়ে ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করা যাবে না। বি-১ ভিসা সাধারণত অস্থায়ী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে বি-২ ভিসা পর্যটন, অবকাশযাপন, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। ভিসার আবেদন যাচাইয়ের সময় মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিজ দেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক, সফর শেষে দেশে ফেরার অভিপ্রায় এবং ভ্রমণের খরচ বহনের সক্ষমতা বিবেচনা করেন। এ ক্ষেত্রে চাকরি, পরিবার বা নিজ দেশে ফেরার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং চিকিৎসা ও ভ্রমণের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার পরও দেশটিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না। বিমানবন্দর বা সীমান্তে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীর কাগজপত্র ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ ছাড়া অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ভিসার আবেদন করার সময় ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ঢাকার জলাবদ্ধতা কমাতে খালগুলো পুনরুদ্ধার, দখলমুক্ত ও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, চলতি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই মান্ডা, জিরানী, শ্যামপুর ও কালুনগর খালের সংস্কারকাজ দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। রোববার বিকেলে রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। চারটি খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পরিবেশ উন্নয়নের চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে সেখানে যান প্রতিমন্ত্রী। সরকারি তথ্যেও জিরানী খালসহ ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। পরিদর্শন শেষে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ঢাকা গড়ে তোলা, যেখানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা কমবে। খাল পরিষ্কারের পাশাপাশি খালের পাড় সংরক্ষণ, গাছ লাগানো এবং মানুষের হাঁটার জন্য জায়গা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর খাল নয়, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ও নৌ চলাচলও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদী ও খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধের পাশাপাশি পয়োবর্জ্য শোধনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। চার খালের চলমান কাজের অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে কাজের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালের ভেতর ও দুই পাড়ে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি জায়গা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ঢাকার খালগুলোর দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ৫৫টি খাল নিয়ে এমন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নগর পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন মীর শাহে আলম। এসব কাজ শুধু সরকারের পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পরিদর্শনের সময় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানের দিকে অগ্রগতি হচ্ছে বলে দাবি করেন এবং এ বিষয়ে সরকারকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের যেখানে ব্যর্থতা রয়েছে, সেসব বিষয়ে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে তিনি সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অগ্রসর ও ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ করে স্টেজ-৪ পর্যায়ের রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় এফডিএ জানায়, ইমলুনেস্ট্র্যান্ট (ব্র্যান্ড নাম ইনলুরিও) ও অ্যাবেমাসিক্লিব (ব্র্যান্ড নাম ভারজেনিও) একসঙ্গে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যাদের ক্যানসার ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর-পজিটিভ, এইচইআর২-নেগেটিভ এবং ইএসআর১ জিনে পরিবর্তন রয়েছে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইনলুরিও ও ভারজেনিও একসঙ্গে ব্যবহার করলে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার বাড়া বা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকিয়ে রাখার সময় গড়ে ১১ দশমিক ১ মাস হয়েছে। শুধু ইনলুরিও ব্যবহার করা রোগীদের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল ৫ দশমিক ৫ মাস। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণার প্রধান তদন্তকারী কোমল ঝাভেরি বলেন, প্রথম দিকের চিকিৎসা বা সহায়ক চিকিৎসার পরও রোগের অগ্রগতি দেখা দেওয়া রোগীদের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। ক্যানসার বৃদ্ধির দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে ওষুধের সমন্বিত ব্যবহার চিকিৎসায় প্রতিরোধক্ষমতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এফডিএ জানিয়েছে, ইনলুরিও ব্যবহারে ভ্রূণের ক্ষ তির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে ভারজেনিওর ক্ষেত্রে গুরুতর ডায়রিয়া, শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া, ফুসফুসে প্রদাহ বা ক্ষ তি, লিভারের সমস্যা, শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা এবং ভ্রূণের ক্ষ তির মতো ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। দুই ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহারের সময় রোগীদের মধ্যে সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। এফডিএর সুপারিশ অনুযায়ী, ইনলুরিও প্রতিদিন একবার ৪০০ মিলিগ্রাম খালি পেটে সেবন করতে হবে। খাবার খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পর এটি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারজেনিওর ক্ষেত্রে ইনলুরিওর সঙ্গে প্রতিদিন দুইবার ১৫০ মিলিগ্রাম করে সেবনের সুপারিশ করা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে বা খাবার ছাড়াও এটি গ্রহণ করা যায়। রোগের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অসহনীয় না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটির কাছে স ন্ত্রা স ও বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনে পাঁচজনকে আ টক করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। রোববার সকালে আমেরিকার আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি যানবাহন চলাচলের খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের আ টক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আ টক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বি স্ফো র ক আইনের আওতায় অ প রা ধের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি তাদের স ন্ত্রা সী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সঙ্গেও জড়িত থাকার সন্দেহে আ টক করা হয়েছে। তারা এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার পর ফেয়ারফোর্ডের কাছের উইলফোর্ড এলাকার কয়েকটি বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। এলাকাটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু করা হয়েছে। উইলফোর্ড আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বি স্ফো র ক-নিরাপত্তা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহজনক যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে। যানবাহনগুলোর চারপাশে প্রায় ৪০০ মিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৮৫টি পরিবারের সদস্যদেরও এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিচার্ড ওকোনে জানান, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘাঁটির দিকে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন সম্পর্কে পুলিশকে জানানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আ টক করা হয়। স্থানীয় পুলিশ কাউন্টার টে র রি জ ম পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড আমেরিকান বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক কর্মকাণ্ডেও ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে বি-১ ল্যান্সার ও বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসের মতো মার্কিন বি মান অবস্থান করেছে। ঘটনার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্দেহভাজনদের দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, তারা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষ তি করার পরিকল্পনা করছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ঘটনাটি নিয়ে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, জরুরি সাড়াদানকারী দল ও সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন হলে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব শাবানা মাহমুদও ঘটনাস্থলে কাজ করা জরুরি সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে থাকা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং জানিয়েছে, ঘটনাটির পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আরএএফ লাকেনহিথের ৪৮তম ফাইটার উইং জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে পারবে না। তবে লাকেনহিথ, মাইল্ডেনহল ও ফেল্টওয়েল ঘাঁটি নিয়ে গঠিত এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন তারা। শৈশবে বাড়িতে ছিল না পানির সংযোগ, কখনো কখনো খাবারেরও অভাব ছিল। সেই দুই যমজ ভাই এখন নিজেদের বেড়ে ওঠা শহরেই একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরের ট্রাভান ও ট্রাভিস জ্যাসপার গত এপ্রিল থেকে চিপেনহ্যাম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সহ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ৪০ বছর আগে ১২ বছর বয়সে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাদের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। দুই ভাইয়ের শৈশব কেটেছে শহরের অন্যতম দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে। তাদের বাড়িতে পানির সংযোগ ছিল না। পানি সংগ্রহ করতে তাদের স্থানীয় একটি পার্কে যেতে হতো। অনেক সময় খাবারেরও সংকট ছিল। ট্রাভান জ্যাসপার বলেন, তারা শুধু ক্ষুধার্তই ছিলেন না, জীবনে সফল হওয়ার জন্যও প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবে তারা শিক্ষাকে বেছে নিয়েছিলেন। তাদের জীবনের মোড় ঘুরে যায় একসময়। তাদের এক চাচা অসুস্থ হয়ে রিচমন্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেই হাসপাতালে চাচার চিকিৎসার সময় দুই ভাই এমন একটি অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, যা তাদের চিকিৎসক হওয়ার সংকল্প আরও দৃঢ় করে। তারা জানান, চাচাকে নিয়ে তারা ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে সহানুভূতি আশা করেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের আচরণ তাদের হতাশ করে। পরে হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে দুই ভাই নিজেদের মধ্যে প্রতিজ্ঞা করেন, তারা একদিন আরও ভালো চিকিৎসক হবেন। ট্রাভান বলেন, সেই প্রতিজ্ঞা তারা পূরণ করেছেন বলে মনে করেন ট্রাভিসও। দুই ভাই তাদের উচ্চবিদ্যালয়ে যৌথভাবে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হন। এরপর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করেন। প্রায় চার দশক পর এখন তারা নিজেদের শহর রিচমন্ডে ফিরে এসেছেন। শৈশবের কষ্টের জায়গাতেই চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করছেন তারা। এই দুই ভাই বর্তমানে এইচসিএ হেলথকেয়ারের ক্যাপিটাল ডিভিশনের একমাত্র যমজ চিকিৎসক জুটি, যারা একটি হাসপাতাল বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ডিভিশনের আওতায় ভার্জিনিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের ১৮টি হাসপাতাল রয়েছে। চিপেনহ্যাম হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যান্স জোন্স বলেন, চিকিৎসার মান, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতিশীল সেবার প্রতি দুই ভাইয়ের অঙ্গীকার হাসপাতালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। হাসপাতালের বাইরেও দুই ভাই নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুজনের মিলিয়ে আট সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি তারা একটি যুব বাস্কেটবল সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করেন। ট্রাভিস জ্যাসপার বলেন, চার দশক আগে যে জায়গায় নিজেদের ভবিষ্যৎ কল্পনাও করা কঠিন ছিল, সেখানে ফিরে এসে কাজ করতে পারা তাদের জন্য অসাধারণ অনুভূতি। তার মতে, জীবনের কঠিন ও নেতিবাচক সময়গুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
রোববার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এতে সাউথ বে এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটের কিছু পর ৩ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এর প্রায় ২০ মিনিট পর ২ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। ভূ ক ম্পন দুটির কম্পন সান হোসে থেকে ওয়ালনাট ক্রিক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভূ ক ম্পনের তৎপরতা কিছুটা বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ছোট ভূ ক ম্পনও অনুভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক শনিবারে ওই অঞ্চলে ৬০টির বেশি কম মাত্রার ভূ ক ম্পন রেকর্ড করা হয়। এর বেশিরভাগের মাত্রাই ছিল ২ দশমিক ০-এর নিচে। লস এঞ্জেলেস এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ভূ ক ম্পন হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর কম্পটনের কাছে ৩ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। এর কম্পন লং বিচ, ডাউনি ও প্যারামাউন্ট এলাকায় অনুভূত হয়। এর আগে মাসের শুরুতে কম্পটনের কাছে ৩ দশমিক ২ মাত্রার আরেকটি ভূ ক ম্পন হয়েছিল। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের আরও দক্ষিণে ও সমুদ্রেও সাম্প্রতিক সময়ে ভূ ক ম্পন হয়েছে। ক্যাটালিনা দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি ভূ ক ম্পন আঘাত হানে। একই সপ্তাহান্তে সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায় ৩ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূ ক ম্পন অনুভূত হয়। সাম্প্রতিক ভূ ক ম্পনগুলোর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হলেও ক্যালিফোর্নিয়ার বড় ফল্টগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সতর্কতা রয়েছে। ক্যালটেকের ভূকম্পবিদ ড. লুসি জোন্স বলেছেন, সান আন্দ্রেয়াস ফল্ট বড় ধরনের ভয়াবহ ভূ ক ম্পন সৃষ্টি করতে পারে। তবে ঠিক কখন এমন ঘটনা ঘটবে, তা বিজ্ঞানীরা নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে পারেন না। জোন্স এর আগে সান আন্দ্রেয়াস ফল্টের দক্ষিণ অংশে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি সম্ভাব্য ভূ ক ম্পনের মডেল তৈরি করেছেন। এমন একটি ঘটনা হলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী কম্পন হতে পারে। গবেষণার মডেল অনুযায়ী, এ ধরনের ভূ ক ম্পনে পরিবহনব্যবস্থা, পানির অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হতে পারে। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব বার্নের গবেষকরাও ক্যালিফোর্নিয়ার কাহন পাস এলাকায় ভূ ক ম্পনজনিত চাপ নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেখানে সান আন্দ্রেয়াস ও সান জাসিন্টো ফল্টের মিলনস্থল রয়েছে। গবেষকেরা এলাকাটিকে সম্ভাব্য একটি ‘ভূ ক ম্পনের প্রবেশদ্বার’ হিসেবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কোনো ভূ ক ম্পনের কম্পন দুটি ফল্টব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন।
সিরিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬০ হাজারের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বা স্তু চ্যুত মানুষকে বিভিন্ন বা স্তু চ্যুতি শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে সহায়তা করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে রোববারও কয়েকশ পরিবারকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে তাদের নিজ এলাকায় পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে বা স্তু চ্যুতদের ঘরে ফেরার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই দুই মাসে মোট ৩৮ হাজার ৮৩৬ জন বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্র ছেড়েছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৬০০ জনকে বিশেষভাবে সহায়তা করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩০টি বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওসিএইচএ বলছে, এসব প্রত্যাবর্তন সিরিয়ার ‘নো ক্যাম্পস ভিশন’ বা শিবিরমুক্ত ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বা স্তু চ্যুত মানুষের ফিরে যাওয়া তাদের নিজ এলাকার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। রোববার উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে ২৬৩টি পরিবারকে নিয়ে একটি বহর তাদের নিজ এলাকায় রওনা হয়। এসব পরিবার দক্ষিণ ইদলিব এবং হামা, আলেপ্পো ও দামেস্ক প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিরে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ইদলিবের স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ ও শ্রম অধিদপ্তর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, মুজান অর্গানাইজেশন, সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্ট এবং জরুরি ও দু র্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় এই কার্যক্রম সমন্বয় করেছে। ইদলিবের সমাজকল্যাণ ও শ্রম বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকির জানান, বেশির ভাগ পরিবার দক্ষিণ ইদলিবের শহর ও গ্রামগুলোতে ফিরছে। প্রেসিডেন্টের ৫৯ নম্বর ডিক্রির আওতায় এই বহরটি আয়োজিত হয়েছে বলে তিনি জানান। আলেপ্পো ও ইদলিবের শিবিরগুলোর প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম সমন্বয়কারী মানাফ হাম্মাম বলেন, পরিবারগুলোর স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার আবেদনের ভিত্তিতেই এসব প্রত্যাবর্তন আয়োজন করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এবং তাদের মালপত্র পরিবহনের জন্য ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যারা ফিরতে চান, তাদের নিবন্ধন এখনো চলছে এবং আরও কয়েকটি বহর পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফিরে যাওয়া কয়েকটি পরিবারের সদস্য সানাকে জানিয়েছেন, বহু বছর বা স্তু চ্যুত থাকার পর নিজ এলাকায় ফিরতে পেরে তারা স্বস্তি বোধ করছেন। তবে তাদের অনেকেরই ফিরতে হচ্ছে ব্যাপকভাবে ক্ষ তি গ্র স্ত গ্রাম এবং সীমিত মৌলিক সেবার মধ্যে। ইদলিবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ডিক্রিটি জারির পর থেকে ইদলিব ও আলেপ্পোর বিভিন্ন শিবির থেকে হাজারো পরিবারকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি প্রত্যাবর্তন বহরের আয়োজন করেছে। তবে ওসিএইচএ সতর্ক করেছে, বা স্তু চ্যুতদের প্রয়োজন এখন ধীরে ধীরে শিবির থেকে তাদের ফিরে যাওয়া এলাকাগুলোর দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব, ক্ষ তি গ্র স্ত অবকাঠামো, দুর্বল জনসেবা এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে আবারও বা স্তু চ্যুত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, মানুষকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের জন্য অবকাঠামো এবং জনসেবা পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ক্ষ তি গ্র স্ত এলাকায় বেকারি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, সেতু এবং আবাসন পুনর্বাসনের কাজ চলছে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশে পুনরুদ্ধারের কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। পানি, বিদ্যুৎ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিও হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা এখনো বড় বাধা হয়ে আছে, যা ফিরে আসা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধানের পথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃ হ যু দ্ধে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বা স্তু চ্যুত হয়। এর মধ্যে ৭৪ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বা স্তু চ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা দেশের ভেতরে বা স্তু চ্যুত হওয়া ১৮ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সিরীয় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।
কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার পর ইরাকে নগদ মার্কিন ডলারের নিয়মিত চালান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাগদাদ। ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, নতুন একটি নগদ ডলারের চালান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে পৌঁছাবে। তবে চালানটির পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। ইরাকি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই এই সমঝোতা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ট্রেজারি সেক্রেটারিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আল-জাইদি। অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক জোরদার করা ছিল ওই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয়। নতুন সমঝোতার লক্ষ্য ইরাকের বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো এবং স্থানীয় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে ডলার কোথায় যাচ্ছে এবং কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাগদাদ। ইরাকি সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানো, ডলার বিতরণে নজরদারি বাড়ানো এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ধীরে ধীরে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশটি। কেন বন্ধ হয়েছিল ডলারের চালান গত এপ্রিলে ইরাকে নগদ ডলার পাঠানোর নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালানও আটকে দেওয়া হয়েছিল। ইরান-সমর্থিত স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং অবৈধ আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডলার ইরান ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল ওয়াশিংটনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। তবে জুলাইয়ের শুরুতেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। রয়টার্স নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানিয়েছিল, কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে নগদ ডলারের বিমান চালান আবার শুরু করেছে। সে সময় হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে তথ্যটি যাচাই করতে পারেনি। এ কারণে এখনকার ঘোষণাকে একেবারে প্রথমবার ‘ডলার পাঠানো আবার শুরু’ বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। বরং সর্বশেষ সমঝোতা ইরাকে নিয়মিত ও অব্যাহত নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের জন্য মার্কিন ডলার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন ইরাক এখনো বড় পরিসরে নগদনির্ভর অর্থনীতি। দেশটির তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবে রাখা হয়। সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ ডলার ইরাকে পাঠানো হয়। ডলারের সরবরাহ কমে গেলে ইরাকের অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিপরীতে দিনারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের প্রবাহ বাড়ার প্রত্যাশার মধ্যে ইরাকি দিনারের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার খবরও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় তাই একদিকে ইরাকের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে ডলার যেন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে না পৌঁছায়, সে জন্য আর্থিক নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের দিকে। ইরাকি সরকার বলছে, নতুন নগদ ডলারের চালান শিগগিরই পৌঁছাবে। তবে কত অর্থ আসছে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবধানে চালান পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বাড়িভাড়া কমার পেছনে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। তবে আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ভাড়া কমার পেছনে নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি ও ভাড়াটিয়ার চাহিদা কমে যাওয়ার মতো আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। ডিএইচএসের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও আইসিইর গ্রেপ্তার কার্যক্রমের ফলে অস্টিন, ন্যাশভিল, ফিনিক্স, সান আন্তোনিও, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, আটলান্টা ও নিউ অরলিন্সের মতো শহরে বাড়িভাড়া কমেছে। বিভাগটি বিভিন্ন শহরের ভাড়া কমার হারও উল্লেখ করেছে। তবে এসব শতাংশ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র প্রকাশ করেনি ডিএইচএস। অন্যদিকে, আবাসনবাজারের বিভিন্ন তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক নতুন ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে এসেছে। সরবরাহ বাড়ায় বাড়িওয়ালাদের মধ্যে ভাড়াটিয়া পাওয়ার প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে ৩৭তম মাসের মতো টানা বছরওয়ারি ভিত্তিতে মাঝারি ভাড়া কমেছে। সংস্থাটি বলছে, নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাড়ার চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়া এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। ডিএইচএস যেসব শহরের কথা বলেছে, সেগুলোর কয়েকটিতে ভাড়ার পতনের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন সান আন্তোনিওতে ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ ডলার, ফিনিক্সে ৭০ ডলার এবং ন্যাশভিলে ৫০ ডলার কমেছে। তবে একই সময়ে লাস ভেগাস ও সান ডিয়েগোর মতো শহরেও ভাড়ার চাপ কমেছে, যেখানে ডিএইচএসের দাবিকৃত অভিবাসন নীতির প্রভাবকে একইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় আরেকটি বিষয়ও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের অংশ উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কারণে শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেলে নির্মাণকাজ ধীর হয়ে যেতে পারে এবং শ্রম ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন। ডিএইচএসের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বাড়িভাড়া কমাতে ভূমিকা রাখছে। তবে কোন শহরে কতজন ভাড়াটিয়া অভিবাসন অভিযানের কারণে বাসস্থান ছেড়েছেন এবং মোট ভাড়া কমার কতটা সরাসরি এর সঙ্গে সম্পর্কিত—সে বিষয়ে বিভাগটি নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িভাড়া কমার বর্তমান প্রবণতায় অভিবাসন নীতির পাশাপাশি নতুন আবাসনের সরবরাহ, ভাড়াটিয়ার চাহিদা এবং স্থানীয় আবাসনবাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।