নিউইয়র্কে ডেলিভারি দিতে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের লবিতে প্রস্রাব, ক্যামেরায় ধরা পড়লেন কর্মী
নিউইয়র্কের গ্রিনউইচ ভিলেজের একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের লবিতে প্রস্রাব করার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যামাজন ডেলিভারি কর্মীর বিরুদ্ধে। ভবনের বাসিন্দার রিং ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে ঘটনাটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ওই বাসিন্দার বেশ কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ২৬ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে ব্লিকার স্ট্রিট ও কারমাইন অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ঘটে। ডনি নামে ৩০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা ঘটনার শিকার হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজনের হালকা নীল ও ধূসর রঙের পোশাক পরা এক ডেলিভারি কর্মী ভবনের প্রবেশপথে এসে ইলেকট্রনিক দরজার ঘণ্টা বাজান। ডনি তাকে ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন ওই কর্মীর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা তিনি লক্ষ্য করেননি।
পরে রিং ক্যামেরার ভিডিও দেখার সময় তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ডেলিভারি কর্মী লবিতে ঢোকার পর চারপাশে তাকান। এরপর তিনি প্যান্ট খুলে ভবনের করিডোর ও সেখানে থাকা কয়েকটি আসবাবের ওপর প্রস্রাব করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ওই ব্যক্তি এমনভাবে ভবনের ভেতরের দিকে চলে যান, যেন তিনি এর আগেও সেখানে বহুবার এসেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, করিডোরে রাখা জুতা, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল ওই তরলের সংস্পর্শে আসে।
ঘটনার পর ডনি অ্যামাজনের কাছে বিষয়টি জানান। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে অত্যন্ত খারাপ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ৫০ ডলারের একটি উপহার কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে ডনি সেটি গ্রহণ করেননি।
ডনির দাবি, প্রস্রাবে ভিজে যাওয়ার কারণে জুতা, চেয়ার ও টেবিলসহ কয়েকটি জিনিস তিনি আর ব্যবহার করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো ফেলে দিতে হয়েছে। ঘটনাটির পর ভবনে কোনো ডেলিভারি কর্মী প্রবেশ করলে তিনি এখন ক্যামেরায় নজর রাখেন বলেও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভবনে তার পাঁচ বছর বয়সী ভাগনেও নিয়মিত আসে। ডনির আশঙ্কা, ওই সময় তার পরিবারের কেউ বা অতিথি বাইরে বের হলে তাদের সামনে এমন ঘটনা ঘটতে পারত।
ঘটনাটি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনজীবী ক্যারি লন্ডন জানিয়েছেন, অ্যামাজনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিভিন্ন পথ তারা খতিয়ে দেখছেন। তবে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে অ্যামাজনের নীতিতেও পরিবর্তন চান তারা।
অ্যামাজন অবশ্য ওই কর্মীর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র লেই অ্যান গুলেট এক বিবৃতিতে বলেন, ঘটনাটি অ্যামাজনের ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওই ব্যক্তি অ্যামাজনের সরাসরি কর্মী ছিলেন না। তিনি অ্যামাজনের একটি স্বাধীন ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনার প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন।
অ্যামাজন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর অ্যামাজনের প্যাকেজ সরবরাহ করছেন না। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
অ্যামাজনের ডেলিভারি ব্যবস্থায় চালকদের জন্য বিশ্রাম ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ থাকার কথাও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে চালকদের কাছাকাছি শৌচাগারের অবস্থান দেখানো হয়। পাশাপাশি তাদের সময়সূচিতে ৩০ মিনিটের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এবং দুটি ১৫ মিনিটের বিরতির ব্যবস্থা রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে কোনো গ্রেপ্তার, পুলিশি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যও প্রকাশ্যে নেই।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে (CUNY) গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার কমেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলোতে ছয় বছরের মধ্যে ডিগ্রি অর্জনের হার ২০২২ সালের ৬২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে সহযোগী ডিগ্রি অর্জনের হারও একই সময়ে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের তথ্য উদ্ধৃত করে এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যগুলো নিউইয়র্ক সিটির ২০২৬ সালের মেয়রের ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ওই প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের সরকারি কার্যক্রম মূল্যায়ন করেছে। CUNY-এর কমিউনিটি কলেজগুলোতে সহযোগী ডিগ্রি সাধারণত পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য দুই বছরের কর্মসূচি হলেও প্রতিবেদনে ব্যবহৃত স্নাতক হওয়ার হার ছয় বছরের হিসাবে পরিমাপ করা হয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। চার বছর মেয়াদি স্নাতক কলেজগুলোর ক্ষেত্রে ছয় বছরের মধ্যে ডিগ্রি অর্জনের হারও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২২ সালে ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী ছয় বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করলেও ২০২৬ সালে তা ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসে। CUNY-এর প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারেও স্নাতক হওয়ার হার, শিক্ষার্থী ধরে রাখার হার ও ডিগ্রি অর্জনের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। আরও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে CUNY-এর ‘অ্যাক্সেলারেটেড স্টাডি ইন অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রামস’ বা ASAP-এ। কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহযোগী ডিগ্রি শেষ করতে সহায়তা করার জন্য তৈরি এই কর্মসূচিতে তিন বছরের মধ্যে স্নাতক হওয়ার হার ২০২২ সালের ৪৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। ASAP কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরামর্শ, ব্যক্তিগত সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। CUNY বলছে, কর্মসূচিটির আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার এখনো ASAP-এর বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে স্নাতকের হার কমার কারণ হিসেবে CUNY শুধু একটি বিষয়কে দায়ী করছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে যে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো কিছু শিক্ষার্থী-গোষ্ঠীর ফলাফলে রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের গঠনেও পরিবর্তন এসেছে। CUNY-এর বক্তব্য অনুযায়ী, মহামারির পর নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক পরামর্শ বাড়ানো হয়েছে। দুই বছর মেয়াদি কমিউনিটি কলেজ থেকে চার বছর মেয়াদি কলেজে স্থানান্তরের সময় শিক্ষার্থীদের অর্জিত ক্রেডিট যাতে সহজে গণনা করা যায়, সেই ব্যবস্থাও সহজ করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার লক্ষণ দেখালে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। CUNY-এর সাবেক ট্রাস্টি জেফরি উইজেনফেল্ড অবশ্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, সমস্যাটি দুই দিক থেকে তৈরি হচ্ছে। তার মতে, নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মান কমে যাওয়ার প্রভাব CUNY-তে পড়তে পারে, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল থেকে আসে। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে নিউইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে কঠোর মানদণ্ড ছিল, পরবর্তী সময়ে তার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, CUNY-এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নয়। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে পরিবর্তনের তথ্য উঠে এসেছে। চার বছর মেয়াদি কলেজগুলোতে পূর্ণকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে পড়ানো শিক্ষার্থীর হার ২০২৫ সালের ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে এই হার ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, CUNY-এর আরও বেশি শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন বা সহযোগী শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা পাচ্ছেন। তবে স্নাতকের হার কমলেও CUNY-এর কিছু ইতিবাচক সূচকও রয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০২৫ সালের ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭১ থেকে বেড়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৩ হয়েছে, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি। কমিউনিটি কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৬ হাজার ৪৩২ থেকে ৮১ হাজার ৮৮৩ হয়েছে। প্রথমবারের মতো কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ১৬৭ থেকে ১৪ হাজার ৪৩৩ হয়েছে। চার বছর মেয়াদি কলেজগুলোতে এই সংখ্যা ২২ হাজার ৩২৩ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৫৪৩ হয়েছে। শুধু ভর্তি নয়, প্রথম বর্ষের পর শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার হারও বেড়েছে। সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচিতে প্রথমবারের পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের এক বছর পর একই শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকার হার ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচিতে এই হার ৮৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। CUNY-এর দীর্ঘমেয়াদি তথ্যেও দেখা যায়, মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের পুনরায় ভর্তি হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সালের মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, কমিউনিটি কলেজের পূর্ণকালীন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এক বছর পর ধরে রাখার হার ২০১৩ সালের ৬৫ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৫৯ শতাংশে নেমেছিল। একই সময়ে স্নাতক কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হার ৮৩ শতাংশ থেকে ৭৮ শতাংশে কমে। CUNY নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে ২৬টি কলেজ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডিগ্রিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার ডিগ্রি দেওয়া হয়। স্নাতকের হার কমার মধ্যেও সামাজিক গতিশীলতা ও কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগের জন্য CUNY-এর বিভিন্ন কলেজ ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটন মান্থলির সাম্প্রতিক র্যাংকিংয়ে ছয়টি CUNY কলেজ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, CUNY-তে একদিকে স্নাতক সম্পন্ন করার হার কমেছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রথম বর্ষের পর শিক্ষার্থী ধরে রাখার হার বেড়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন শিক্ষার্থী ধরে রাখা নয়, বরং তাদের শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্কে ডেলিভারি দিতে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের লবিতে প্রস্রাব, ক্যামেরায় ধরা পড়লেন কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, সিনেটে নতুন বিল উত্থাপন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ কমার বদলে আবারও বাড়ছে ঋণের চাপ। বাড়ির দাম, সীমিত আবাসন সরবরাহ এবং উচ্চ মর্টগেজ সুদের কারণে অনেক ক্রেতাই এখনো বাজারে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যেই রাজ্যভেদে মর্টগেজ সুদের হারে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কোনো কোনো রাজ্যে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে, আবার কয়েকটি রাজ্যে উল্টো কমেছে। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের ৩৭টিতে গড় মর্টগেজ সুদের হার বেড়েছে। বিশ্লেষণটি ওয়ালেটহাবের নিজস্ব ব্যবহারকারী-তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে মিসিসিপিতে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজ্যটির গড় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, এই বৃদ্ধি দেশের অন্য সব রাজ্যের তুলনায় বেশি। মিসিসিপিতে সুদের হার বাড়ার পাশাপাশি আবাসন ঋণ পরিশোধের চাপও একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কলোরাডো। সেখানে গড় মর্টগেজ সুদের হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে। টেনেসিতে বেড়েছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে উইসকনসিন, যেখানে বৃদ্ধি ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, এবং মিসৌরি, যেখানে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে যেসব রাজ্যে সুদের হার বেড়েছে, সেখানেই সবচেয়ে বেশি সুদের হার রয়েছে—এমন নয়। উদাহরণ হিসেবে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউ জার্সিতে গড় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা ওয়ালেটহাবের তালিকায় সর্বোচ্চ। কানেকটিকাটে ছিল ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। নিউইয়র্কে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আর টেক্সাসে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কয়েকটি রাজ্যে প্রথম থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে সুদের হার কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে নর্থ ডাকোটায়—৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সাউথ ডাকোটায় কমেছে ১ দশমিক ২২ শতাংশ, ওয়াইওমিংয়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মন্টানায় ০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। টেক্সাসেও গড় হার ০ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। জাতীয় পর্যায়ের সাম্প্রতিক চিত্রও ক্রেতাদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হার বেড়ে ৭ দশমিক ১২ শতাংশে উঠেছে, যা ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে বাড়ি কেনার মর্টগেজ আবেদনও কমেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি মাসিক হিসাবে ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে নেমেছে। তবে বাড়ির মজুত ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট হয়েছে, যা ৪ দশমিক ৯ মাসের সরবরাহের সমান। একই সময়ে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, উচ্চ মর্টগেজ সুদ আবাসন বাজারের পুনরুদ্ধারকে ধীর করে দিচ্ছে। বাজারে বাড়ির দাম গত কয়েক বছরে আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক দ্রুত বেড়েছে এবং আবাসন ঘাটতিও রয়ে গেছে। ফলে সুদের হার কিছুটা কমলেও অনেক ক্রেতার জন্য বাড়ি কেনা এখনো ব্যয়বহুল হয়ে আছে। আবাসন বাজারের এই চাপের মধ্যে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সবার জন্য সাশ্রয়ী বাড়ির সংখ্যা যথেষ্ট নয়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চে বছরে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার আয় করা পরিবারগুলোর নাগালের মধ্যে ছিল বাজারের মাত্র ২১ দশমিক ২ শতাংশ তালিকাভুক্ত বাড়ি। ৫০ হাজার ডলার আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শুধু মর্টগেজের সুদের হার নয়, বাড়ির দাম ও পর্যাপ্ত সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতিও ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে। রাজ্যভেদে সুদের হারের পার্থক্য এই চাপের মাত্রাকে আরও ভিন্ন করে তুলছে।
গাড়ির দাম কমাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের নিয়ম শিথিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে ভিজিটর ভিসা নয়, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে সতর্কতা
বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজন আ টক
দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন তারা। শৈশবে বাড়িতে ছিল না পানির সংযোগ, কখনো কখনো খাবারেরও অভাব ছিল। সেই দুই যমজ ভাই এখন নিজেদের বেড়ে ওঠা শহরেই একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরের ট্রাভান ও ট্রাভিস জ্যাসপার গত এপ্রিল থেকে চিপেনহ্যাম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সহ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ৪০ বছর আগে ১২ বছর বয়সে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাদের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। দুই ভাইয়ের শৈশব কেটেছে শহরের অন্যতম দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে। তাদের বাড়িতে পানির সংযোগ ছিল না। পানি সংগ্রহ করতে তাদের স্থানীয় একটি পার্কে যেতে হতো। অনেক সময় খাবারেরও সংকট ছিল। ট্রাভান জ্যাসপার বলেন, তারা শুধু ক্ষুধার্তই ছিলেন না, জীবনে সফল হওয়ার জন্যও প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবে তারা শিক্ষাকে বেছে নিয়েছিলেন। তাদের জীবনের মোড় ঘুরে যায় একসময়। তাদের এক চাচা অসুস্থ হয়ে রিচমন্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেই হাসপাতালে চাচার চিকিৎসার সময় দুই ভাই এমন একটি অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, যা তাদের চিকিৎসক হওয়ার সংকল্প আরও দৃঢ় করে। তারা জানান, চাচাকে নিয়ে তারা ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে সহানুভূতি আশা করেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের আচরণ তাদের হতাশ করে। পরে হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে দুই ভাই নিজেদের মধ্যে প্রতিজ্ঞা করেন, তারা একদিন আরও ভালো চিকিৎসক হবেন। ট্রাভান বলেন, সেই প্রতিজ্ঞা তারা পূরণ করেছেন বলে মনে করেন ট্রাভিসও। দুই ভাই তাদের উচ্চবিদ্যালয়ে যৌথভাবে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হন। এরপর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করেন। প্রায় চার দশক পর এখন তারা নিজেদের শহর রিচমন্ডে ফিরে এসেছেন। শৈশবের কষ্টের জায়গাতেই চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করছেন তারা। এই দুই ভাই বর্তমানে এইচসিএ হেলথকেয়ারের ক্যাপিটাল ডিভিশনের একমাত্র যমজ চিকিৎসক জুটি, যারা একটি হাসপাতাল বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ডিভিশনের আওতায় ভার্জিনিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের ১৮টি হাসপাতাল রয়েছে। চিপেনহ্যাম হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যান্স জোন্স বলেন, চিকিৎসার মান, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতিশীল সেবার প্রতি দুই ভাইয়ের অঙ্গীকার হাসপাতালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। হাসপাতালের বাইরেও দুই ভাই নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুজনের মিলিয়ে আট সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি তারা একটি যুব বাস্কেটবল সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করেন। ট্রাভিস জ্যাসপার বলেন, চার দশক আগে যে জায়গায় নিজেদের ভবিষ্যৎ কল্পনাও করা কঠিন ছিল, সেখানে ফিরে এসে কাজ করতে পারা তাদের জন্য অসাধারণ অনুভূতি। তার মতে, জীবনের কঠিন ও নেতিবাচক সময়গুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুই ভূ ক ম্পন, কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা
কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে ইরাকে আবার নিয়মিত ডলার পাঠাতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র