- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডালাসের উত্তরে লেক লুইসভিলকে ঘিরে গ্রীষ্মকালজুড়ে চালানো এক অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই (ICE)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবারই কোনো না কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে ভেনেজুয়েলাভিত্তিক ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইসিই। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইসিই জানায়, গত ২৭ জুন থেকে লেবার ডে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত এই অভিযান চলে। ডালাসের আইসিই কার্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থা সহায়তা করে। লেক লুইসভিল ডালাসের উত্তরে অবস্থিত একটি বড় জলাধার। গ্রীষ্মকালে এলাকাটি নৌবিহার ও বিনোদনের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আইসিই বলেছে, অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা, হ্রদসংক্রান্ত বিভিন্ন তদন্তে সহায়তা করা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নৌযান নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। আইসিইর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অতীত রেকর্ডে হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক আঘাতের ঘটনা, চুরি, বাড়িতে অবৈধ প্রবেশ, শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন, শিশুর সঙ্গে যৌন আচরণজনিত অপরাধ, গাড়ি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় নৌযান চালানো এবং বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধের মতো ঘটনা রয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১২১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল না। আইসিই আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ওই গ্যাংয়ের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাদের লেক লুইসভিলে অনুমোদনহীন নৌযানভিত্তিক পরিবহন ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে টেক্সাস পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের একটি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে হন্ডুরাস ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ রয়েছেন। কয়েকজনের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রেকর্ডও ছিল বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযান সম্পর্কে আইসিই ডালাস ফিল্ড অফিসের পরিচালক মিগুয়েল ভারগারা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমিত সরকারি সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। তার দাবি, অভিযানের ফলে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের আটক করা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব হয়েছে। লেক লুইসভিলকে ঘিরে এই অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ছিল বলে আইসিই জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, গ্রীষ্মের ব্যস্ত নৌবিহার মৌসুমে পানিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থলভাগে অপরাধ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজ চালিয়ে যেতে এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আইসিইর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহরে ভাড়া কমার তথ্যও তুলে ধরে দাবি করেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার হওয়ার সঙ্গে কিছু এলাকায় ভাড়ার বাজারে পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটি সান অ্যান্টোনিও, অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ কয়েকটি শহরের ভাড়া কমার হার উল্লেখ করেছে। তবে ভাড়া কমার কারণ হিসেবে অভিবাসন অভিযানকে সরাসরি দায়ী করার এই ব্যাখ্যাটি স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিজস্ব দাবি এবং এর সঙ্গে অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণের সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। টেক্সাসে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্প্রতি অস্টিনে একটি পৃথক ঘটনায় এক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ভেনেজুয়েলার এক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা ওই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনাটি লেক লুইসভিল অভিযানের অংশ নয় এবং পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। লেক লুইসভিলের গ্রীষ্মকালীন অভিযানের বিষয়ে আইসিই জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম শেষ হয়েছে লেবার ডে সপ্তাহান্তে। তবে সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ও অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া পৃথকভাবে চলতে পারে। সূত্র: ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পুলিশের ধাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে হাজার হাজার ডলার নগদ টাকা ছুড়ে ফেলার ঘটনা ধরা পড়েছে পুলিশের ড্যাশক্যামের ভিডিওতে। এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের খবর পাওয়ার পর দুই ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে গিয়ে এই ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা ৬ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে টেক্সাসের পিয়ারল্যান্ড শহরে ঘটে। পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রডওয়ে স্ট্রিটের ৯৯০০ ব্লকের একটি ব্যাংক থেকে এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা সেখানে যান। পুলিশকে জানানো হয়েছিল, মুখোশ পরা এক ব্যক্তি একাধিক কার্ড ব্যবহার করে পরপর কয়েকটি লেনদেনের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা তুলছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি সাদা রঙের জিএমসি সিয়েরা গাড়ির যাত্রী আসনে উঠতে দেখা যায়। গাড়িটি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর পুলিশ ড্রোনের সহায়তায় সেটির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে স্মিথ র্যাঞ্চ রোডের ২৫০০ ব্লকের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পার্কিং এলাকায় গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ সেখানে পৌঁছালে গাড়ির যাত্রী নেমে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে আটক করা হয়। তবে গাড়ির চালক পুলিশের থামার নির্দেশ উপেক্ষা করে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এরপর শুরু হয় পুলিশের গাড়ি ধাওয়া। ধাওয়ার সময় চালক গাড়ির জানালা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বাইরে ছুড়ে ফেলতে থাকেন। পুলিশের ড্যাশক্যামের ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত গাড়ি থেকে একের পর এক টাকার বান্ডিল বা নোট রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে ৬ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি স্মিথ র্যাঞ্চ রোড ধরে উত্তরে যাওয়ার পর ম্যাকহার্ড রোডে পূর্ব দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাক্স রোডের ১৬০০ ব্লকে গিয়ে থামে। সেখানে পুলিশ গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে এবং চালককে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ঘটনা ছাড়াই আটক করে। আটক চালকের নাম লেভন স্টিভেন জুনিয়র। তিনি ফ্লোরিডার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা এবং আলামত বিকৃত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। গাড়ির যাত্রী তারভেরেস গিভেন্সকেও আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিচয় জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। ওই লেনদেনের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক জালিয়াতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আরও জালিয়াতিসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হতে পারে। দুই ব্যক্তিকেই ব্রাজোরিয়া কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এটিএম থেকে ঠিক কত টাকা তোলা হয়েছিল এবং ব্যবহৃত কার্ডগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পুরো তদন্তে পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ এটিএম লেনদেন, ব্যবহৃত কার্ড এবং গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা অর্থের উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। সূত্র: পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ, রয়টার্স
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২৭ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছে দলটি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, দলের রাজনৈতিক কমিটি বৈঠক করে সর্বসম্মতভাবে লংমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ওই দিন পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে। এর আগে পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়া, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। লংমার্চের প্রস্তুতির মধ্যেই ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রশাসন ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এর আওতায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসলামাবাদে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের কয়েকটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানী ও পাঞ্জাবের কয়েকটি এলাকায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সও মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী, এই মোতায়েন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল রাখার কথা রয়েছে। পিটিআইয়ের এক জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও এর আশপাশের সড়ক আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন থাকায় দলটি কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ডনের প্রতিবেদনে ওই নেতাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দীর্ঘ সময় রাজধানীতে মোতায়েন রাখার বিষয়টিও দলটির বিবেচনায় ছিল। তবে এটি পিটিআইয়ের নিজস্ব ব্যাখ্যা। পিটিআইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে এর আগেও দলটির নেতাকর্মীদের আটক করার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩০ দিনের জন্য আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের সমালোচনা করা হয়েছে। ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরানের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে তার পরিবার ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন চলছে। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এর আগে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা হয়েছে এবং এসব মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। পিটিআইয়ের নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাজধানীতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা কর্মসূচির নতুন তারিখ পর্যন্ত কতটা বহাল থাকে এবং পিটিআই কীভাবে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। সূত্র: ডন, রয়টার্স, আল জাজিরা
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে কৃষি খাতে জরুরি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের কিছু ভিসা আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এটি আলাদা কোনো নতুন কৃষি ভিসা চালুর ঘোষণা নয়। ইতোমধ্যে Working Holiday Maker (WHM) ভিসার জন্য আবেদন করা এবং নির্দিষ্ট কৃষি প্রতিষ্ঠানে কাজের চুক্তি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের দ্রুত অস্ট্রেলিয়ায় আসা প্রয়োজন, তাদের আবেদন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতের সংগঠন গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ) বিষয়টি জানায়। সংগঠনটি বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গম, বার্লি ও ক্যানোলার ফসল কাটার মৌসুম শুরু হবে। এই সময়ে দেশের অনেক খামার অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন (এনএফএফ) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আলোচনার পর জরুরি ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক কৃষি সংগঠন ও পণ্যভিত্তিক কৃষি সংগঠনগুলো জরুরি আবেদনগুলো চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্র বিভাগে পাঠাতে সহায়তা করবে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় এমন আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেখানে আবেদনকারী ইতোমধ্যে Working Holiday Maker ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো খামারে কৃষিকাজের জন্য নিয়োগ বা চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং তার সময়মতো অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানো ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, কৃষি খাতে বিশেষ দক্ষতা থাকা এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় প্রয়োজন এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করতে তারা ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করবে। তবে অগ্রাধিকার পাওয়ার অর্থ ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। প্রতিটি আবেদন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। একইভাবে, নতুন প্রক্রিয়ার আওতায় আবেদন পাঠালেই দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ বা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকছে না। কৃষি খাতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ধীরগতির কারণে। অস্ট্রেলিয়ায় Working Holiday Maker ভিসায় আসা বিদেশিরা বিশেষ করে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ এলাকায় ফল সংগ্রহ, ফসল কাটা এবং অন্যান্য মৌসুমি কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে এবং ফসল কাটার ব্যস্ত মৌসুমে তাদের ওপর অনেক খামারের নির্ভরতা বেড়ে যায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া Working Holiday Maker কর্মসূচির নিয়ম ও ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। অভিবাসন কমানোর বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের গতি কমে যাওয়ায় কৃষি খাতের সংগঠনগুলো শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। কিছু দেশের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিতও রাখা হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, কারণ ফল ও শস্য সংগ্রহের মতো কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়া গেলে ফসল সময়মতো বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষি সংগঠনগুলো সরকারের কাছে জরুরি আবেদনগুলো আলাদা করে দ্রুত বিবেচনার অনুরোধ জানায়। গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ম্যাথিউ ম্যাডেন সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা একটি সমাধানের পথ তৈরি করেছে এবং এখন কৃষকদের কাছে ফসল কাটার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিকদের অস্ট্রেলিয়ায় আনার একটি কার্যকর উপায় তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, প্রতিদিন কতটি আবেদন প্রক্রিয়া করা সম্ভব হবে এবং দ্রুত অনুমোদনের নিশ্চয়তা কতটা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এনএফএফের প্রধান নির্বাহী মাইকেল গুয়েরিনও বলেছেন, জরুরি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে তিনি এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন না। কৃষি খাতে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যবস্থার আরও বিস্তৃত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে Working Holiday Maker ভিসাধারীদের অবদান সরকার স্বীকার করে। বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকায় কৃষি খাতে নির্দিষ্ট দক্ষতা নিয়ে কাজ করা কিছু বিদেশি কর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন কর্মীদের প্রয়োজনের সময় অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ তৈরি করাই লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, Working Holiday Maker ভিসার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা কৃষি খাতে কাজ করতে পারেন। নির্দিষ্ট কৃষিকাজের সময়সীমা পূরণ করলে কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মেয়াদের ভিসার জন্যও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত ইতোমধ্যে আবেদন করা এবং জরুরি কৃষি শ্রমের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় কৃষিকাজের জন্য নতুন করে ভিসা আবেদন করলেই এই বিশেষ অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফসল কাটার মৌসুম যত এগিয়ে আসছে, অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে এই অগ্রাধিকার ব্যবস্থা কতটা শ্রমিক সংকট কমাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন কৃষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা। সূত্র: রয়টার্স
জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের গৃহস্থালি আয়, ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধা ও জাপানি ভাষাজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বিদেশিদের একটি অংশ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আট বছর আগে কাজের জন্য জাপানে যাওয়া আবদুল নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকও তাদের মধ্যে রয়েছেন। উত্তর টোকিওতে বাংলাদেশি স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করা এই প্রযুক্তি প্রকৌশলী স্থায়ী বসবাসের পাশাপাশি জাপানের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নতুন নিয়মের কারণে দুই আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হলে জাপান ছাড়ার বিকল্পও তাকে ভাবতে হচ্ছে। নিজের প্রকৃত নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবদুল আল জাজিরাকে বলেন, ভবিষ্যতে জাপান সরকার নিয়ম আরও কঠোর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। দুই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কী করবেন, সে প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে তাকে। এরই মধ্যে তিনি জাপানের বাইরে কাজের সুযোগ খুঁজতে শুরু করেছেন। নতুন ব্যবস্থার আওতায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের বার্ষিক গৃহস্থালি আয় জাপানি পরিবারের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। এ শর্তটি এপ্রিল থেকে জমা দেওয়া কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীর জাপানি ভাষায় দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে। পেনশনের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ডে আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধা এমন পর্যায়ে থাকতে হবে, যা নির্দিষ্ট আয়স্তরে কর্মচারীদের পেনশন ব্যবস্থায় ৩০ বছর অবদান রাখলে পাওয়া যেতে পারে। তবে আগের খসড়া নির্দেশনায় পেনশন সুবিধা নির্ধারিত মানের নিচে থাকলে সঞ্চয় বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল। জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নতুন নীতির মূল যুক্তি হলো, স্থায়ী বাসিন্দাদের নিজেদের জীবনযাপন স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং তারা যেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ান। জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক নথিতে বিদেশিদের বসবাস ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোরতা আনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্নদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ বছর ধরে জাপানে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিনও। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাপানে আসা নেলকিন দেশটির বিনোদন শিল্পে কাজ করছেন। নতুন নিয়ম ঘোষণার কিছু আগে তিনি স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেছিলেন। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে জাপানের নাগরিকত্ব নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তবে জাপান সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি না দেওয়ায় সে ক্ষেত্রে তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়তে হতে পারে। নেলকিনের ভাষ্য, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময়টাই তিনি জাপানে কাটিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরিবারের কাছে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব ধরে রাখতে চান তিনি। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি তাকে বিবেচনা করতে হচ্ছে। জাপানের মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারা মনে করেন, নতুন পরিবর্তনগুলো দেশটির অভিবাসন নীতিকে আরও বাছাইভিত্তিক ও শর্তনির্ভর করে তুলছে। তার মতে, জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে জাপানের বিদেশি কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ কঠিন হয়ে গেলে বিদেশি কর্মীদের কাছে জাপান কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৫ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি এবং প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের নিজস্ব জনসংখ্যা কমছে। দেশটির দীর্ঘদিনের কম জন্মহারের মধ্যে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে বিদেশিদের নিয়ে নীতিতে একদিকে শ্রমবাজারের প্রয়োজন, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও সামাজিক সংহতি নিয়ে উদ্বেগ, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার চাপ তৈরি হয়েছে। বিদেশিদের নিয়ে জাপানি সমাজের মনোভাবেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের একটি প্যানেল জরিপে ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা জাপানে আরও বিদেশি বাসিন্দা গ্রহণের বিরোধী। ২০২৪ সালের একই জরিপে এই হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মানুষের উত্তর নিয়ে পরিচালিত ওই গবেষণায় তরুণদের মধ্যে বিরোধিতার বৃদ্ধিও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। এ পরিবর্তন জাপানের রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটে রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নিম্নকক্ষ নির্বাচনে এলডিপি ৩১৫টি আসন এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি ৩৬টি আসন পায়। একই নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত সানসেইতো দল ১৫টি আসন পেয়ে নিম্নকক্ষে তাদের উপস্থিতি বাড়ায়। তবে জাপানের অর্থনীতির জন্য বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট। জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও শ্রমিক সংকটের মধ্যে দেশটি বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশিদের শুধু কতজন প্রয়োজন তা নয়, তারা দীর্ঘমেয়াদে জাপানে বসবাস করলে কেমন সমাজ তৈরি হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্ন হয়ে উঠছে। নতুন নিয়মের প্রভাব তাই শুধু স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাপানে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা বিদেশিদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক যারা দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করছেন, তাদের জন্যও নতুন শর্তগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। সূত্র: আল জাজিরা
ফিনল্যান্ডের সিসমা এলাকায় ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র দিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে কয়েক হাজার রৌপ্যমুদ্রার বিশাল ভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছেন কালে লাপ্পিনেন নামে এক শৌখিন অনুসন্ধানকারী। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি এখন পর্যন্ত ফিনল্যান্ডে পাওয়া শেষ লৌহযুগের সবচেয়ে বড় মুদ্রাভাণ্ডার। গত ৩ সেপ্টেম্বর সিসমা শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় মাটির নিচে এই ভাণ্ডারের সন্ধান পান লাপ্পিনেন। আবিষ্কারের পরপরই তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। পরদিন লাহতি জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক এসকো টিক্কালার নেতৃত্বে শুরু হয় ভাণ্ডারটি উদ্ধারের কাজ। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, ভাণ্ডারটিতে রয়েছে হাজার হাজার রৌপ্যমুদ্রা, রৌপ্যের টুকরা, একটি রৌপ্য বাহুবন্ধনী এবং আরও কয়েকটি রৌপ্য সামগ্রী। মুদ্রা ও অন্যান্য বস্তু দুটি বার্চের ছাল দিয়ে তৈরি পাত্রে রাখা হয়েছিল। পাত্র দুটি মাটির প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার গভীরে পাথরের ফাঁকে পুঁতে রাখা ছিল এবং তাদের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ মিটার। উদ্ধার করা রৌপ্যের মোট ওজন প্রায় ৪ দশমিক ৫ কেজি। তবে এখনো মুদ্রাগুলো পরিষ্কার ও আলাদা করে গণনা করা হয়নি। ফলে ঠিক কতটি মুদ্রা রয়েছে এবং এগুলোর সুনির্দিষ্ট ওজন কত, তা পরবর্তী গবেষণার পর নিশ্চিত হবে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা নিশ্চিত করেছেন, মুদ্রার সংখ্যা কয়েক হাজার। মুদ্রাগুলোর সুনির্দিষ্ট সময়কালও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে এগুলো শেষ লৌহযুগের, অর্থাৎ ভাইকিং যুগের সময়কার বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিষ্কার ও বিস্তারিত পরীক্ষা শেষে মুদ্রাগুলোর বয়স আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা হবে। এই আবিষ্কারের আগে ফিনল্যান্ডে ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় পরিচিত মুদ্রাভাণ্ডারটি পাওয়া গিয়েছিল নুসিয়াইনেন এলাকায় ১৮৯৫ সালে। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি মুদ্রা পাওয়া যায় এবং পুরো ভাণ্ডারের ওজন ছিল ২ দশমিক ২ কেজির কিছু বেশি। নতুন সিসমা আবিষ্কার সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। লাহতি জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক এসকো টিক্কালা বলেন, এত বড় আকারের আবিষ্কার তাদেরও বিস্মিত করেছে। সাধারণত ওই অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে কয়েকটি বা কয়েকশ মুদ্রা পাওয়া গেলেও এবার পাওয়া গেছে কয়েক হাজার মুদ্রা। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে আবিষ্কারটির গুরুত্ব শুধু মুদ্রার সংখ্যা বা রৌপ্যের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নয়। সিসমা প্রায় এক হাজার বছর আগে বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগকেন্দ্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি সেই ধারণার পক্ষে আরও প্রমাণ যোগ করছে। বর্তমানে সিসমাকে ফিনল্যান্ডের তুলনামূলক ছোট ও প্রান্তিক একটি এলাকা হিসেবে দেখা হলেও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায়, প্রায় এক হাজার বছর আগে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। সে সময় অঞ্চলটির সঙ্গে বিভিন্ন দিকের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। তবে এত বিপুল সম্পদ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল কেন, তা এখনো রহস্য। ভাণ্ডারটির মালিক কে ছিলেন, তারও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক টিক্কালার মতে, এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো কোনো ব্যবসায়ী নিজের সম্পদের একটি অংশ নিরাপদে রাখার জন্য মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। পরে ওই এলাকায় ফিরে এসে তা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। আবার স্থানীয় কোনো ধনী ব্যক্তি সংঘাত বা শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় সম্পদ লুকিয়ে রাখতে পারেন। তবে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আরও একটি বিষয় আবিষ্কারটিকে বিশেষ করে তুলেছে। মুদ্রা ও রৌপ্য সামগ্রী দুটি আলাদা স্থানে পুঁতে রাখা হয়েছিল। দুই জায়গার মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ মিটার। ফিনল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরের মুদ্রা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ফ্রিদা এরনস্টেনের মতে, এ ধরনের দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত মুদ্রাভাণ্ডারের নজির খুব বেশি নেই। বার্চের ছাল দিয়ে তৈরি পাত্র দুটিও প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিনল্যান্ডের মাটিতে এত পুরোনো জৈব উপাদান সাধারণত খুব কমই সংরক্ষিত থাকে। ফলে মুদ্রার পাশাপাশি পাত্রগুলোর সংরক্ষণও এই আবিষ্কারের গবেষণামূলক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। আবিষ্কারটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি পেশাদার প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে নয়, একজন শৌখিন ধাতু অনুসন্ধানকারীর মাধ্যমে সামনে এসেছে। কালে লাপ্পিনেন বহু বছর ধরে ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করে অনুসন্ধান করছেন। তিনি জানান, প্রথমে একটি গভীর সংকেত পেয়েছিলেন। সেটি এত গভীর থেকে আসছিল যে তিনি প্রথমে সেটিকে ধাতব আকরিকের সংকেত মনে করেছিলেন। পরে প্রায় আট মিটার দূরে একই ধরনের আরেকটি সংকেত পেয়ে তিনি সেখানে খনন শুরু করেন। মাটির নিচ থেকে কয়েকটি রৌপ্যমুদ্রা পাওয়ার পর তিনি প্রথম স্থানটিতেও ফিরে যান। সেখানেও মুদ্রা পাওয়া যায়। এরপর তিনি দ্রুত কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এবং বিশেষজ্ঞরা এসে পুরো ভাণ্ডারটি উদ্ধার করেন। লাপ্পিনেনের মতে, ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র দিয়ে অনুসন্ধানের সময় অধিকাংশ সংকেতের পেছনে মূল্যবান কোনো বস্তু থাকে না। তার অভিজ্ঞতায় প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মাটি থেকে পাওয়া সংকেত আবর্জনা বা আকরিকের কারণে হয়ে থাকে। তাই এত বড় একটি প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার তার কাছেও ছিল অপ্রত্যাশিত। ফিনল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় শৌখিন ধাতু অনুসন্ধানকারীদের ভূমিকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতীয় জাদুঘরের গবেষকদের মতে, প্রায় ২৫ বছর আগে ফিনল্যান্ডে ভাইকিং যুগের প্রায় ৭ হাজার মুদ্রার সন্ধান জানা ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৪ হাজার হয়েছে। এর বড় অংশই শৌখিন অনুসন্ধানকারীদের আবিষ্কার। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের আবিষ্কার পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। সিসমার এই আবিষ্কারে লাপ্পিনেন দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিদর্শনগুলো উদ্ধার করতে পেরেছেন। এখন মুদ্রাগুলো পরিষ্কার, আলাদা ও বিশ্লেষণ করার কাজ হবে। এরপর এগুলোর সুনির্দিষ্ট সময়কাল, উৎস, ধাতুর গঠন এবং ফিনল্যান্ডে কীভাবে এগুলো পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। গবেষকদের আশা, এই ভাণ্ডার প্রায় এক হাজার বছর আগে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের বাণিজ্য ও রৌপ্যের চলাচল সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।
ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাত দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ববাজারেও জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে রাজি হননি। তবে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারসহ কয়েকটি দেশ সংঘাত কমাতে আলোচনার উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে। সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সাত দিনের একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও কঠোর। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন ইরান তাঁর দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছুক। তাঁর প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তেহরানকে আরও অনুকূল শর্তে আলোচনায় আনতে চায়। ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কী ধরনের বা কতটা মাত্রার হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্প জাতিসংঘে দাবি করেছেন, তাঁর ইরান নীতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘাতের অবসান নিয়ে তাঁর অবস্থান একই রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আগের সমঝোতার কাঠামোর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তেহরানের অবস্থানের মধ্যে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকার মতো বিষয় রয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অবস্থায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে। এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা হবে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ, মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন নজরে রয়েছে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিবিএস নিউজ, রয়টার্স
নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষের জন্য আবাসন বাজারে সামর্থ্যের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বাড়ির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকা এবং বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত বাড়ি না থাকায় এমনিতেই চাপে থাকা ক্রেতাদের জন্য নতুন করে সমস্যা তৈরি করেছে ৩০ বছরের স্থির বন্ধকী ঋণের সুদহার ৭ শতাংশের ওপরে উঠে যাওয়া। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যাচিভের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠিন মহানগর আবাসন বাজারগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় একটি প্রাথমিক পর্যায়ের বাড়ির গড় দাম প্রায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৯ ডলার। অন্যদিকে ওই এলাকার একটি পরিবারের মধ্যম বা মধ্যম মানের বার্ষিক আয় প্রায় ৯৯ হাজার ১৫৫ ডলার। অ্যাচিভের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ অগ্রিম অর্থ দিয়ে একটি বাড়ি কিনে এবং পরিবারের মোট আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বন্ধকী কিস্তিতে ব্যয় করার শর্ত ধরলে, ওই বাড়িটি স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৮০ ডলার। অর্থাৎ নিউইয়র্ক মহানগরের সাধারণ পরিবারের আয়ের তুলনায় প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এই হিসাব এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের স্থির বন্ধকী ঋণের গড় সুদহার আবার ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে নিম্ন সুদহারের পর ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি কেনার সামর্থ্য আরও কমে যাচ্ছে। তবে নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে সমস্যা শুধু সুদের হার নয়। স্ট্রিটম্যাট্রিক্সের মূল্যায়নকারী জোনাথন মিলারের মতে, বিক্রির জন্য বাড়ির তীব্র সংকট বাজারে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে সুদের হার বাড়লেও বাড়ির দাম প্রত্যাশিতভাবে কমছে না। সাধারণত বন্ধকী ঋণের সুদহার দ্রুত বেড়ে গেলে বাড়ি কেনার খরচ বাড়ে, ফলে বিক্রি কমে এবং বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা বাড়ার কথা। এতে বাড়ির দাম কিছুটা কমে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি তৈরি হতে পারে। কিন্তু নিউইয়র্কে পর্যাপ্ত বাড়ি বাজারে না আসায় সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে না। মিলার বলেন, বাড়ির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকাটা আবাসন সামর্থ্যের ওপর সুদের হারের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ‘মর্টগেজ লক-ইন’ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাড়ির মালিক আগের বছরগুলোতে ২ থেকে ৩ শতাংশের কাছাকাছি খুব কম সুদে বন্ধকী ঋণ নিয়েছিলেন। এখন তারা সেই বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কিনলে প্রায় ৭ শতাংশ সুদে নতুন ঋণ নিতে হবে। ফলে অনেক মালিকই বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী নন। এর ফলে বাজারে বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যাচ্ছে। নতুন ক্রেতাদের জন্য সুদের হার বাড়ছে, আবার পুরোনো মালিকেরা কম সুদের ঋণ ছেড়ে নতুন ঋণে যেতে চাইছেন না। এতে বাড়ির দামও তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে থেকে যাচ্ছে। ডগলাস এলিম্যানের জেসিকা পিটার্স বলেন, উচ্চ ঋণ ব্যয়ের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাড়ির দামও স্থিতিশীল রয়েছে, বিশেষ করে জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে। সেখানে বাড়ির সরবরাহ সীমিত হওয়ায় ক্রেতারা দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়ছেন। বাড়ি কেনার খরচ শুধু মাসিক বন্ধকী কিস্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নিউইয়র্কের ক্রেতাদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, ভবনের সাধারণ ব্যবস্থাপনা ফি, কর এবং বাড়ি কেনার সময়ের অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়। ফলে মাসিক মোট ব্যয় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা পুরোপুরি বাজার থেকে সরে না গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন। কেউ বেশি অগ্রিম অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ কম দামের বাড়ি খুঁজছেন। কেউ আবার অন্য এলাকায় খোঁজ করছেন কিংবা কনডোর পরিবর্তে ছোট অ্যাপার্টমেন্ট বা কো-অপ বেছে নিচ্ছেন। তবে যাদের হাতে নগদ অর্থ কম এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়, তাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন। বিশেষ করে প্রথমবারের ক্রেতারা সুদের হারের সামান্য পরিবর্তনেও মাসিক কিস্তিতে বড় পার্থক্য দেখতে পারেন। ম্যানহাটনের বাজারেও এই ব্যবধান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন মিলার। তার মতে, বাড়ির দাম যত বেশি হয়, ক্রেতাদের বন্ধকী ঋণের ওপর নির্ভরতা তত কমে। আর কম দামের বাড়ির ক্ষেত্রে ক্রেতারা সাধারণত ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করেন। ফলে সুদের হার বাড়লে তুলনামূলক কম দামের বাড়ির ক্রেতারা বেশি চাপে পড়েন। এঙ্গেল অ্যান্ড ভল্কার্স নিউইয়র্কের ব্রোকার ডোনাল্ড ব্রেনানও নিউইয়র্কের ক্রেতাদের মধ্যে এই পার্থক্য লক্ষ্য করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের সঙ্গে কাজ করা বাড়ির ক্রেতাদের মধ্যে নগদ অর্থে কেনার প্রবণতা বেশি। আগের সময়ে নগদ ও ঋণনির্ভর ক্রেতাদের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য ছিল। এদিকে যারা বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছেন, তাদের জন্য ভাড়া বাসাও খুব একটা সহজ বিকল্প হয়ে উঠছে না। বাড়ি কেনার পরিবর্তে বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় ভাড়া বাসায় থাকলে ভাড়ার আবাসনের ওপরও চাপ বাড়তে পারে। মিলারের মতে, উচ্চ বন্ধকী ঋণের সুদহার সম্ভাব্য ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় ভাড়াটে থাকতে বাধ্য করতে পারে। এতে ভাড়া বাসার চাহিদা বাড়ে এবং সীমিত সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়। ফলে আবাসন সামর্থ্যের সমস্যা শুধু বাড়ি কেনার বাজারে নয়, ভাড়ার বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখন সুদের হার কমার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সুদের হার কমলেই আবাসন সামর্থ্যের সমস্যা সমাধান হবে না। সুদের হার কমার সঙ্গে সঙ্গে যদি বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায়, কিন্তু বাড়ির সরবরাহ একই থাকে, তাহলে বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে। ডগলাস এলিম্যানের পিটার্সের মতে, আবাসন সামর্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে শুধু কম সুদের ঋণ নয়, বিভিন্ন দামের স্তরে আরও বেশি বাড়ি বাজারে আসাও প্রয়োজন। রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেলও ক্রেতাদের শুধু সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, একটি বাড়ির দাম, ঋণের সুদ এবং ক্রেতার সামগ্রিক আবাসন বাজেট একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রিয়েল্টর ডটকমের গবেষণা অনুযায়ী, যারা প্রায় তিন মাসের মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবেন, তাদের বর্তমান সুদের হার থেকে প্রায় ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠানামা ধরে বাজেট প্রস্তুত রাখা উচিত। কারণ চূড়ান্তভাবে ঋণ নেওয়ার সময় আজকের সুদের হার একই থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সুদের হার কমার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য ‘এখন কিনুন, পরে সুদ কমলে ঋণ পুনর্অর্থায়ন করুন’ ধরনের কৌশলও নিশ্চিত সমাধান নয়। কারণ ভবিষ্যতে সুদের হার কতটা কমবে, তা নিশ্চিত নয়। পাশাপাশি সুদের হার কমলে বাড়ির চাহিদা ও দামও বাড়তে পারে। স্ট্রিটম্যাট্রিক্সের মিলারের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা আগামী কয়েক বছর ঋণের খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফেডারেল রিজার্ভ সরাসরি ৩০ বছরের বন্ধকী ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে না। এর মুদ্রানীতি ও মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি ঋণবাজারের সুদের হারে প্রভাব ফেলে। ফলে নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আপাতত জটিলই থাকছে। বাড়ির দাম বেশি, বিক্রির জন্য বাড়ি কম এবং ঋণের খরচও বেড়েছে। একই সময়ে যারা কিনতে পারছেন না, তাদের ভাড়া বাসায় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। অর্থাৎ আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ি কেনার বাজার ছাড়িয়ে ভাড়ার বাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, অ্যাচিভ, রিয়েল্টর ডটকম
অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কমছে এবং এই ব্যবধানের পেছনে শুধু মাদক অতিরিক্ত গ্রহণ, আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ডের মতো কারণ দায়ী নয়। হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ, অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগ, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ এবং কিডনি ও মূত্রনালির বিভিন্ন অসুস্থতাও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহার বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক স্টিভেন এইচ. উলফের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘ইউএস লাইফ এক্সপেকট্যান্সি অ্যান্ড ইনক্রিজিং মর্টালিটি রেটস: অ্যান অ্যানালাইসিস অব দ্য ক্রাইসিস’ শীর্ষক গবেষণাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি’তে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ১৯৯৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তথ্য নেওয়া হয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন তথ্যভান্ডার থেকে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার দেশগুলোর মধ্যে গড় আয়ুর হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল ৩৮তম। একই সময়ে ৬০টি দেশের মানুষের ৪০ বছর বয়সের আগেই মারা যাওয়ার ঝুঁকি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের তুলনায় কম। গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি চিলি, কোস্টারিকা, পানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কিছু দেশেও মানুষের গড় আয়ু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। গবেষকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার মাত্র ১৩টি দেশের গড় আয়ু যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ছিল। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নেমে আসে ২০তম, ২০০০ সালে ২৬তম এবং ২০১০ সালে ৩২তম স্থানে। গবেষণার অন্যতম উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই বয়সী মানুষের সব ধরনের মৃত্যুহার ৭১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে মাদক অতিরিক্ত গ্রহণের পাশাপাশি অল্প বয়সে দেখা দেওয়া উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ এবং অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগের কারণে মৃত্যুও বেড়েছে। বিশেষ করে অনিচ্ছাকৃত মাদক অতিরিক্ত গ্রহণে মৃত্যুহার ১৯৯৯ সালের পর প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে এই বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে এটি হৃদ্রোগকেও ছাড়িয়ে যায়। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের আত্মহত্যার হারও ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একই বয়সী মানুষের হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুহার ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং যানবাহন দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যবয়সী ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা গেছে। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে মৃত্যুহার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বয়সীদের অনিচ্ছাকৃত মাদক অতিরিক্ত গ্রহণে মৃত্যুহার প্রায় নয় গুণ বেড়েছে। এ ছাড়া ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগে মৃত্যুহার ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগে মৃত্যুহার ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের রোগে মৃত্যুহার ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিডনি ও মূত্রনালিসংক্রান্ত রোগেও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গবেষণায় নবজাতক ও শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও কিছু উদ্বেগজনক পরিবর্তন পাওয়া গেছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুমৃত্যুর হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আকস্মিক ও ব্যাখ্যাতীত শিশুমৃত্যু এবং ঘুমের সময় দুর্ঘটনাজনিত শ্বাসরোধের মতো কারণ এ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের ব্যবধান বাড়িয়েছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মধ্যবয়সী মানুষের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে কোভিড-১৯-এ মৃত্যুহার আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়। পরে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে মহামারি কমে যাওয়ার পরও অন্যান্য রোগে মৃত্যুর দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা অব্যাহত ছিল। গবেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংকটকে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগ বা মৃত্যুর কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের সুযোগ, চিকিৎসার খরচ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, আর্থসামাজিক বৈষম্য, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয়ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় কিছু মানুষ বীমার আওতায় থাকার পরও চিকিৎসা নিতে দেরি করেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যান। ফলে শুরুতেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এমন রোগ পরবর্তী সময়ে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জগদীশ খুবচন্দানি গবেষণাটির বিষয়ে নিউজউইককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য অনেক উন্নত দেশের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবায় বেশি অর্থ ব্যয় করলেও মৃত্যুহারের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তার মতে, হৃদ্রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যা এবং বিভিন্ন বাহ্যিক কারণজনিত মৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বড় ধরনের বৈষম্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অঞ্চল, আয়, শিক্ষা এবং জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে গড় আয়ুর পার্থক্য দেখা যায়। ২০২৩ সালে আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কা নেটিভ জনগোষ্ঠীর গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ১ বছর। একই সময়ে অশ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তা ৭৪ বছর, শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৭৮ দশমিক ৪ বছর, হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৮১ দশমিক ৩ বছর এবং এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৮৫ দশমিক ২ বছর ছিল। গবেষক উলফের বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও এলাকার মধ্যেও গড় আয়ুর ব্যবধান অনেক বড় হতে পারে। আয়, শিক্ষা ও বসবাসের পরিবেশের মতো সামাজিক কারণ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণায় ১৯৬০ থেকে ২০২২ সালের তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের মৃত্যুহারের তুলনাও করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ওই দেশগুলোর মধ্যে মৃত্যুহারের ব্যবধান তৈরিতে রক্তসঞ্চালনসংক্রান্ত রোগ, বাহ্যিক কারণ, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। এর পাশাপাশি সংক্রামক রোগ, মানসিক ও আচরণগত সমস্যা, কিডনি ও মূত্রনালির রোগ এবং পরিপাকতন্ত্রের রোগও ব্যবধান তৈরিতে অবদান রেখেছে। গবেষণাটির মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আয়ু ও মৃত্যুহারের সমস্যা শুধু মাদক, আত্মহত্যা বা নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সে একাধিক রোগ ও মৃত্যুর কারণ একই সঙ্গে বাড়ছে। তাই এই ব্যবধান কমাতে শুধু চিকিৎসা বাড়ানো নয়, স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার, চিকিৎসার ব্যয়, খাদ্য ও আবাসন নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো বৃহত্তর বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। সূত্র: দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি, নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের অব্যবহৃত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, অভিবাসন, জাতিগত সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতের ১১টি তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতটি ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থার এসব তহবিলের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের সামাজিক সেবা দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই অর্থের আর প্রয়োজন নেই। ট্রাম্পের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অর্থ বাতিলের আওতায় রয়েছে বাণিজ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির কিছু তহবিলও বাতিল করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম কাটছাঁটের পরিমাণ ৭০ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য ফেলোশিপ ও অনুদান কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকেরা যেখানে এসব কর্মসূচির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনও কয়েকটি প্রকল্পকে নীতিগতভাবে আপত্তিকর হিসেবে দেখেছে। আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের একটি কর্মসূচি থেকে আরও ৫৬ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। এই অর্থ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে আবাসন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এর একটি অংশ এমন সংগঠনের কার্যক্রমে যাচ্ছিল, যেগুলো জাতিগত ও বৈচিত্র্যভিত্তিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের আরও ২৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষায়, এসব অনুদানের কিছু ছিল অপচয়মূলক, একই ধরনের কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে আপত্তিকর ছিল। তবে ঠিক কোন কোন প্রকল্পের অর্থ এই কাটছাঁটের আওতায় পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী উদ্যোগ থেকেও ২৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু সংগঠন অর্থ পেয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা না করতে উৎসাহিত করার অভিযোগ ছিল। বিচার বিভাগের কমিউনিটি রিলেশনস সার্ভিসেস কর্মসূচি থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি পরামর্শসংক্রান্ত একটি কর্মসূচি থেকেও ১৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়া সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ব্যবসায়ীদের জন্য অনুদান দেওয়া সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন সংস্থা থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার, অভিবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আরেকটি কর্মসূচি থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সংখ্যালঘু স্বাস্থ্য কার্যালয় থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার বাদ দেওয়া হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগের ট্রপিক্যাল ফরেস্ট অ্যান্ড কোরাল রিফ কনজারভেশন অ্যাক্ট কর্মসূচি থেকেও ৯ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশের ঋণ কমানোর ব্যবস্থা ছিল। এই অর্থ বাতিলের প্রক্রিয়াকে ‘পকেট রেসিশন’ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বাজেট ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ বাতিলের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠাতে পারেন এবং সাধারণ নিয়মে কংগ্রেসের তা বিবেচনার জন্য ৪৫ দিন সময় থাকে। কিন্তু অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগে এমন প্রস্তাব পাঠানো হলে কংগ্রেসের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় মেয়াদ শেষ করতে পারে। সরকারি অর্থব্যবস্থার এই পদ্ধতির আইনগত বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তর বা জিএও ২০২৫ সালে বলেছিল, এ ধরনের ‘পকেট রেসিশন’ আইনসঙ্গত নয়। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই পদক্ষেপকে ঘিরে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ভোটের আদেশে প্রশাসনকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ আটকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সেই আদেশটি মূলত নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং ‘পকেট রেসিশন’ ব্যবস্থার আইনি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ করেনি। এবারের উদ্যোগটি এসেছে ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের ব্যয় কমানোর ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অব্যবহৃত বা প্রশাসনের বর্তমান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন অর্থ বাতিল করে সরকারি ব্যয় কমানোই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। অন্যদিকে, ‘পকেট রেসিশন’ নিয়ে সমালোচকেরা বলছেন, কংগ্রেস যে অর্থ আইন করে বরাদ্দ করেছে, প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে তা বাতিলের ক্ষমতা থাকা উচিত কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তর (GAO), যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের কোনো বিকল্প নেই বলে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে ঐকমত্য পোষণ করেছে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য টু-স্টেট সলিউশন’। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জোটের কো-চেয়ারদের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ‘নিউইয়র্ক ঘোষণাপত্র’ গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী এবং গাজার বোর্ড অব পিস-এর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০টি রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই সমাধানের পেছনে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হওয়ায় সমাধানের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। বৈঠক শেষে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, উচ্ছেদ, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পবিত্র স্থানগুলোতে ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি। বিবৃতিতে ফিলিস্তিন নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় ব্যক্ত করে বলা হয়, গাজা এবং পশ্চিম তীরসহ পূর্ব জেরুজালেম মূলত একটি একক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। গাজাকে কোনোভাবেই পশ্চিম তীর থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না এবং একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে এর পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা আনা সম্ভব। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর চলমান আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ নিয়েও বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আটকে রাখা সব রাজস্ব তহবিল ফিলিস্তিনকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দাতা সংস্থাগুলোকে সরাসরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। গাজায় দ্রুত ও নিরাপদে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং জাতিসংঘ ও এর সংস্থাগুলোর, বিশেষ করে ইউএনআরডব্লিউএ-এর (UNRWA) মাধ্যমে পুনর্গঠন কাজ শুরু করার ওপর জোর দিয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স। গাজায় যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার পাশাপাশি হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সবশেষে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার যেমন অটুট রয়েছে, তেমনি ইসরায়েলকে বুঝতে হবে যে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করে কখনোই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২০টি বিড়ালকে নির্মমভাবে নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ব্যবহার করে ক্যানসারের চিকিৎসার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে অবস্থিত হেনরিকো কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ২৭ বছর বয়সী রডনি ট্র্যাভিস জুনিয়র নামের ওই ব্যক্তি প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং কম্পিউটার জালিয়াতির অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করেন। বিচারক লিন্ডা ল্যাম্বার্ট প্রসিকিউটরদের প্রস্তাবিত একটি ‘প্লি এগ্রিমেন্ট’ বা চুক্তি গ্রহণ করেন, যার অধীনে রডনিকে ১৫ বছর কারাগারে কাটাতে হবে। শুধু তাই নয়, জীবনে আর কখনোই কোনো প্রাণী পালন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সংস্পর্শে আসার ওপরও তার ক্ষেত্রে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রডনি ট্র্যাভিস বিড়ালগুলোকে পিটিয়ে এবং মারাত্মক জখম করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভিডিও আপলোড করত। ভিডিওতে বিড়ালগুলোর মিথ্যা ক্যানসারের গল্প সাজিয়ে চিকিৎসার নামে সে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে চার লাখ (৪ লাখ) ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল। হেনরিকো কমনওয়েলথের অ্যাটর্নি শ্যানন টেলর জানিয়েছেন, ভার্জিনিয়ার ইতিহাসে প্রাণী নির্যাতনের দায়ে এটিই সর্বোচ্চ মেয়াদের কারাদণ্ড। তিনি বলেন, এই শাস্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরীহ বিড়ালগুলোর ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধের মাত্রাটিই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে। দোষ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে রডনিকে ২৫ হাজার ডলার জরিমানার পাশাপাশি মুক্তির পর আরও পাঁচ বছর আইনি নজরদারিতে বা প্রবেশনে থাকতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং চেস্টারফিল্ড কাউন্টি অ্যানিমেল কন্ট্রোল কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যথায় কাতর বিড়ালের ভিডিওগুলো দেখে হেনরিকো পুলিশকে সতর্ক করলে এই তদন্তের শুরু হয়। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত সেই জায়গাটি শনাক্ত করে, যেখান থেকে ভিডিওগুলো তৈরি করা হচ্ছিল। পরদিনই চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে রডনির নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেখান থেকে উদ্ধার করা বিড়ালগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পশুচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। মামলার একটি নথিতে ‘হেডেন’ নামের একটি বিড়ালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। রডনি ভিডিওতে হেডেনের ক্যানসারের কথা বলে সাহায্য চাইলেও, পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায় যে বিড়ালটির মাথার খুলি, পাঁজরের হাড় এবং মেরুদণ্ড নির্মমভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবের সময় গ্যারেজে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার ব্যাটারি সিস্টেম লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এসে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ট্যাম্পার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এক মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুনে মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ট্যাম্পা বে এলাকার অটো ডিলার মাইকেল মারফির গ্যারেজে রাখা ২০২১ মডেলের একটি 'টেসলা মডেল এস প্লেইড' গাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সময় মাইকেল শহরের বাইরে থাকলেও তার স্ত্রী সিলভানা, দুই শিশুকন্যা এবং শ্বশুর-শাশুড়ি বাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের নিরাপদে বের করে আনতে পারলেও, চোখের সামনেই তাদের ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বিশাল বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে উদ্ধারকারীরা পরিবারের প্রিয় কুকুরটিকে বাঁচাতে পারেননি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা এই অভিযোগে মারফি পরিবার দাবি করেছে, পানিতে ভিজলে টেসলার ব্যাটারি থেকে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। হারিকেন হেলেনের প্রভাবে ট্যাম্পা বে এলাকায় গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে মারফি পরিবারের গ্যারেজে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে। পানি গাড়ির নিচের অংশে পৌঁছাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার পানি এবং আগুনের কারণে জরুরি সেবাকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে মাইকেল মারফির অনুরোধে 'গ্রে বুল রেসকিউ' নামের একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দলের সাহসিকতায় নৌকার সাহায্যে পরিবারের সদস্যদের ওই জ্বলন্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। মারফি পরিবারের দাবি, এই বিস্ফোরণের মূল কারণ টেসলার ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি প্যাক এবং এর ডিজাইন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলা ২০১০ সাল থেকেই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এই 'থার্মাল রানঅ্যাওয়ে' বা অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার সমস্যার কথা জানত। এমনকি তারা আগুন প্রতিরোধক উপাদানের পেটেন্টও করেছিল, কিন্তু নিজেদের গাড়িতে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি। উল্টো তারা গ্রাহকদের কাছে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিরাপত্তার বিষয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এসেছে। ফ্লোরিডায় এর আগেও হারিকেন হেলেনের সময় পানিতে ডুবে একাধিক টেসলা গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল, যা নেভাতে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়। সব জেনেও দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ত্রুটি সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে মারফি পরিবার এখন টেসলার কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলতি সপ্তাহে এক ইহুদি ধর্মগুরু (রাব্বি) এবং এক পথচারীর ওপর কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়েও বিচারকের নির্দেশে জামিন পেয়েছেন এরিক আবরুতভ (৩১) নামের এক ব্যক্তি। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেনসিংটনের কর্টিলিউ রোডের কাছে দাহিল রোডে ৬৬ বছর বয়সী ওই রাব্বির ওপর আকস্মিক হামলা চালায় এরিক। তাকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শক্ত করে গলা চেপে ধরা হয়, যার ফলে ভুক্তভোগীর কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই কর্টিলিউ রোডের একটি গ্যাস স্টেশনে গ্যাস ভরার সময় ৬০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির মুখে ঘুষি মেরেছিল এই হামলাকারী। ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, জোড়া হামলার এই দুটি ঘটনাতেই প্রসিকিউটররা ১০ হাজার ডলার নগদ জামিন বা ২০ হাজার ডলার বন্ডের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিচারক এডওয়ার্ড ড্যানিয়েলস সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে এরিককে আইনি নজরদারির (সুপারভাইজড রিলিজ) শর্তে মুক্তি দেন। ঠিক কী কারণে বিচারক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলাগুলোর পেছনে কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। তা সত্ত্বেও, সুকোট উৎসবের আগে এমন আকস্মিক হামলায় পুরো ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাব্বির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবরুমি হার্বস্ট জানিয়েছেন, শারীরিক আঘাতের চেয়েও রাব্বি বেশি মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং হামলাকারীর এমন সহজ মুক্তির খবরে তিনি তার ও প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এর আগে গত সোমবার ব্রাইটন বিচ এলাকায় এক তরুণ ও এক তরুণীর মুখে অকারণে ঘুষি মারার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল এরিক। তবে ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানায়, সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি জামিনযোগ্য না হওয়ায় বিচারক ডুয়েন ফ্র্যাঙ্কসন তাকে আইনি নজরদারিতে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। এছাড়া গত জুনে নিজের দাদির বাড়িতে গিয়ে সুরক্ষা আদেশের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে গত রোববারও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেবারও প্রসিকিউটরদের জামিন আবেদন নাকচ করে বিচারক তাকে মুক্তি দেন। পুলিশের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোর আগে ২৪ সালে অস্ত্র রাখা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো একাধিক অভিযোগে অন্তত পাঁচবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল এই বেপরোয়া হামলাকারী।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার নিউইয়র্কে দেওয়া এই ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার পবিত্রতার প্রতি যেকোনো হুমকি এমন এক 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা, যা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। রিয়াদের দাবি অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এই হামলায় বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও হুথিরা বরাবরই রিয়াদের এই অভিযোগকে 'জঘন্য মিথ্যা' বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর আগে গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক যৌথভাবে 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' নামে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে। শুক্রবার রিয়াদে এই তিন দেশের সেনাপ্রধানরা বৈঠক করে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তির অধীনে রিয়াদকে ঠিক কী ধরনের সহায়তা দেবে তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন গণমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান জানিয়েছেন যে, হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিকস, গোলাবারুদ কিংবা আরও বিস্তৃত সামরিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে। জাতিসংঘের এই ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখতে হরমোজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদাব জলপথ মুক্ত ও নিরাপদ রাখার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করেন। নিজ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ ভারতের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যৌথভাবে পরিচালিত সিন্ধু নদের পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। পাকিস্তানের পানির ন্যায্য হিস্যা আটকানোর যেকোনো চেষ্টাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এছাড়া কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে জোর দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, জনমিতি পরিবর্তনের মাধ্যমে কাশ্মীরের আইনি মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর থেকে চুরি হওয়া প্রায় ৪০ হাজার মোবাইল ফোন বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বিশাল এক আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে দুজন আফগান এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। মেট্রোপলিটন পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লন্ডন থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের প্রায় ৪০ শতাংশই এই সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বাইরে পাচার করা হয়েছিল। শুক্রবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট এই তিনজনকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আমির মুহাম্মদ খাদিকখেল, ৩৩ বছর বয়সী ইসমাত মিয়াখেল এবং ৩০ বছর বয়সী মনসুর মোহাম্মদ। আদালতে তারা চুরি করা মালামাল গ্রহণ এবং একটি সুসংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। খাদিকখেল ও মিয়াখেল চোরাই মাল দেশের বাইরে পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন। সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারক অ্যাডাম হিডলস্টন অপরাধের মাত্রা ও জটিলতা বিবেচনা করে খাদিকখেলকে সাড়ে ৯ বছর, মিয়াখেলকে ৯ বছর এবং মনসুর মোহাম্মদকে সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন, আর্থিকভাবে এই অপরাধের বিশালত্ব এবং চক্রটির কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও জটিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত আইফোনসহ দামি স্মার্টফোনগুলো সংগ্রহ করে চীনসহ অন্যান্য দেশে পাঠাত। রাস্তার ছিনতাইকারী বা ফোন চোরদের প্রতিটি ডিভাইসের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়া হতো, যা পরবর্তীতে চীনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করা হতো। এই চক্রের প্রথম সন্ধান মেলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এক ভুক্তভোগী তার চুরি যাওয়া ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারেন যে সেটি হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে ডিএইচএলের একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হংকংগামী একটি চালান থেকে প্রায় ৮৬৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করে, যেগুলো সিগন্যাল আড়াল করার জন্য টিনের ফয়েল দিয়ে মোড়ানো ছিল। এই ঘটনার পরই লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘অপারেশন ইকোস্টিপ’ নামে একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে এবং ধাপে ধাপে পুরো পাচার নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর-পূর্ব লন্ডন থেকে খাদিকখেল ও মিয়াখেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে চুরি করা ফোন সংগ্রহ ও পরিবহনের দায়িত্বে থাকা মনসুর মোহাম্মদকেও তার গাড়ি থেকে সিগন্যাল জ্যামিং ফ্যারাডে ব্যাগ ও টিনের ফয়েলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৫ হাজারের বেশি চোরাই ফোন উদ্ধার করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ লাখ পাউন্ড।
ফাস্ট ফুডের দুনিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডস এক বিশ্বজোড়া নাম, যার শাখা রয়েছে ৪৫ হাজারের বেশি এবং প্রতিদিন প্রায় সাত কোটি মানুষ এখানে খাবার খান। এই বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্যেই অসাধারণ এক সাফল্যের ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শাহাব হায়দার। প্রবাসজীবনের শুরুতে নতুন দেশে টিকে থাকার লড়াইয়ে অন্য অনেক অভিবাসীর মতো এই ম্যাকডোনাল্ডসেই সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর আজ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি ও তার মেয়ে ইয়াসমিন হায়দার যুক্তরাষ্ট্রে ১৭টি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের গর্বিত মালিক ও পরিচালক। একসময় যেখানে তিনি নিজেই চাকরির জন্য ঢুকেছিলেন, বর্তমানে তাদের সেই সুবিশাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭৫০ জনেরও বেশি মানুষের। বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাত হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো শাহাবের এই অভাবনীয় উত্থানের গল্প ম্যাকডোনাল্ডস তাদের ‘গোল্ডেন অপরচুনিটিজ’ বা সোনালি সুযোগ শীর্ষক প্রচারণায়ও বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পথটি মোটেও সহজ ছিল না, এর পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে নিরলস পরিশ্রম। টানা সাত বছর ম্যাকডোনাল্ডসে কর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি একটি রেস্টুরেন্টের ভেতরের খুঁটিনাটি সবকিছু গভীরভাবে রপ্ত করেছিলেন। গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং কর্মীদের সমন্বয়—সবকিছুই ছিল তার প্রতিদিনের কাজের অংশ। চাকরিটিকে কেবল জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে, তিনি একে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শেখার সবচেয়ে বড় স্কুল হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তার জীবনের সবচেয়ে বড় মোড়টি আসে, যখন তার সামনে রেস্টুরেন্ট মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ‘হায়দার ইনভেস্টমেন্টস’ নামে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মিনেসোটার ক্রিস্টাল শহরে প্রথম ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টটি চালু করেন তিনি। পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে প্রথম ব্যবসাটি সফলভাবে দাঁড় করাতে তার খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শাহাবকে। ক্রিস্টাল শহর থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসা ধীরে ধীরে মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পলসহ টুইন সিটিজের বিভিন্ন এলাকায়, যেমন ম্যাপল গ্রোভ ও ব্রুকলিন পার্কে ছড়িয়ে পড়ে। একটি-দুটি করে বাড়তে বাড়তে ২০২০ সাল নাগাদ তার পরিচালিত রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ১৭টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। বাবার দেখানো এই সফলতার পথে পরবর্তীতে যুক্ত হন মেয়ে ইয়াসমিন হায়দার। ২০১৩ সালে মাত্র দুটি রেস্টুরেন্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করে ইয়াসমিনও নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। শাহাবকে যেখানে একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছিল, সেখানে ইয়াসমিনের জন্য বাবার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গড়ে তোলা শক্ত ভিত্তি বড় একটি সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। প্রবাসজীবনে অনেককেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাধারণ কাজ দিয়ে জীবন শুরু করতে হয়। কিন্তু সেই প্রথম কাজটাই যে কারও জীবনের শেষ পরিচয় হতে পারে না, সততা ও পরিশ্রম দিয়ে যে নিজের ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া যায়—শাহাব হায়দারের এই অবিশ্বাস্য উত্থান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো ডিজেলের রেকর্ড দাম নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় নামল অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের নতুন এক বহর। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার একটি ডিপোতে স্কুল পরিবহন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'ফার্স্ট স্টুডেন্ট' এবং ইউটিলিটি কোম্পানি 'কন এডিসন' তাদের ৯ মিলিয়ন ডলারের পাইলট প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করেছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দূষণকারী ডিজেল বাসের পরিবর্তে হাজার হাজার পরিচ্ছন্ন মডেলের বাস চালু করা এবং শহুরে বৈদ্যুতিক গ্রিডের ওপর চাপ না বাড়িয়ে বরং এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ফার্স্ট স্টুডেন্টের বিদ্যুতায়ন বিভাগের প্রধান কেভিন ম্যাথিউস জানিয়েছেন, তারা পুরো প্রকল্পটিকে এমনভাবে সাশ্রয়ী করতে চাইছেন যাতে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কার্বন নির্গমনমুক্ত যাতায়াতের সুবিধা উপভোগ করতে পারে। এই বৈদ্যুতিক বাসগুলোর চার্জিং ব্যবস্থাটি অন্যান্য ইভি চার্জিং স্টেশনের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সাধারণত ভূগর্ভস্থ তার ও যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য মাটি খুঁড়তে হলেও ইস্ট নিউইয়র্কের এই সিস্টেমে সবকিছু মাটির ওপরে স্থাপন করা হয়েছে। কারণ, ওই এলাকার নিচ দিয়েই জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান জেট ফুয়েল লাইন গেছে, তাই খোঁড়াখুঁড়ির কোনো সুযোগ ছিল না। তবে এই বিকল্প পদ্ধতিটি আর্থিকভাবে বেশ লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে। মাটির ওপরের এই অবকাঠামো প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি এক মাস আগেই কাজ শেষ করতে সাহায্য করেছে। ফার্স্ট স্টুডেন্ট জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে ইস্ট নিউইয়র্কে আরও ৪০টি ব্যাটারিচালিত বাস সরবরাহ করা হবে। একইসঙ্গে কন এডিসনের সাথে তাদের প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপও চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে বাসগুলোর 'ভিহিকল-টু-গ্রিড' (V2G) সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুতের খরচ কমানো এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কন এডিসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক বাস ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনগুলো ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি করবে। গ্রীষ্মকালে যখন অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে এসি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তখন বাসগুলোর অব্যবহৃত ব্যাটারির শক্তি গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে, ইস্ট নিউইয়র্ক ও সাউথ ব্রঙ্কসের মতো এলাকাগুলোতে যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি। তাই এসব এলাকায় বৈদ্যুতিক বাসের প্রচলন জনস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফার্স্ট স্টুডেন্টের ডিপোতে ইতোমধ্যে দুটি বাসের ছাদে ৩ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, যা বাসের ব্যাটারির পাশাপাশি ডিপোর বড় ব্যাটারিকেও চার্জ করতে পারে। পরিবেশ দূষণ রোধ ও দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমানোর এসব সুবিধার পাশাপাশি সরকারি তহবিলের সহজলভ্যতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউইয়র্ক শহরের স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং গণপরিবহনে যাতায়াতকে আরও সাশ্রয়ী করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ বা ন্যায্য ভাড়া কর্মসূচির অধীনে সাবওয়ে, বাস ও প্যারাট্রানজিটে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে এই বিলটি পাস করা হয়। আগামী ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে স্পিকার জুলি মেনিন এবং সিটি কাউন্সিল এই কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের জন্য তহবিল নিশ্চিত করেছে। এর ফলে যোগ্যতার মাপকাঠি ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার নিম্ন আয়ের বাসিন্দা অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে এখন শহরটির প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসছেন। বর্তমানে এই সুবিধার যোগ্য নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ এই কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। সচেতনতার অভাব এবং আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণেই মূলত অংশগ্রহণের হার এত কম। এই হার বাড়াতেই কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন ‘ইন্ট্রোডাকশন ২৪৮-এ’ শীর্ষক বিলটি উত্থাপন করেন। নতুন এই আইনের মাধ্যমে সোশ্যাল সার্ভিসেস কমিশনারকে একটি সহজ ও সাবলীল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে, যারা বর্তমানে ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) বা নগদ আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তারা সুবিধাটি নবায়নের সময় শুধু একটি বক্সে টিক চিহ্ন দিয়েই খুব সহজে ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া যেসব যোগ্য ব্যক্তি এখনও এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সুবিধার কথা জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব টেম্পোরারি ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্সসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় শহরের সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, বিশেষ করে গণপরিবহনের খরচ শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় একটি বোঝা। তিনি আরও জানান, নতুন এই আইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যাতে যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা নিজেদের পকেট খালি না করেই গণপরিবহনে যাতায়াত করতে পারেন। অন্যদিকে, বিলটির প্রস্তাবক কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাবে এবং সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে। বিলটিতে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্তি ও ব্যবহার নিয়ে প্রতি বছর সিটি কাউন্সিলে প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে শহরের সব কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয় তালিকাভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাজ করার সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. ফিরোজ সিধওয়া। গত ২৩ মার্চ খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে কাজ করার সময় একটি ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়েন তিনি। সেদিনের সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আইসিইউর একটি দরজা ছিটকে সরাসরি তার মুখে এসে পড়েছিল। হাসপাতালে উপস্থিত ফিলিস্তিনিরা তাৎক্ষণিকভাবে বিপদের কথা বুঝতে পেরে তাকে রক্ষার জন্য ছুটে আসেন। ওই হামলায় ডা. সিধওয়ার এক রোগীসহ অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়। এত বড় একটি ঘটনার পর পরিবারের তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় গাজায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের মায়ের শত বারণ আর কান্নার জবাবে তিনি বলেছেন, কাউকে না কাউকে তো এই বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই হবে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী ও চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। স্বাধীন গবেষণা সংস্থা 'হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামস'-এর তথ্যমতে, ২০০০ সালের পর থেকে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ১৫০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর গাজা, সুদান, দক্ষিণ সুদান এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এমন হামলার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। গাজার পাশাপাশি ইউক্রেনেও চিকিৎসাকর্মীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. মাইকেল সামোতোওকা বছরে ৬ থেকে ১০ বার ইউক্রেনে চিকিৎসা দিতে যান। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার ব্যবহৃত একটি অপারেশন থিয়েটারেও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল, যা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করার মতো একটি ঘটনা। যুদ্ধের ময়দানে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর এমন ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে এই দুই চিকিৎসকই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ডা. সামোতোওকা মনে করেন, যুদ্ধরত দেশগুলোর উচিত জেনেভা কনভেনশন মেনে চলা এবং যারা বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা করে এই আইন অমান্য করছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা। অন্যদিকে ডা. সিধওয়া একধাপ এগিয়ে মার্কিন নাগরিকদের তাদের কংগ্রেস সদস্যদের কাছে একটি বিশেষ দাবি তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসক ও নার্সদের হত্যা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে তাদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসাকর্মী ও হাসপাতালের ওপর যেকোনো হামলার তারা তীব্র নিন্দা জানায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।