সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৫
নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান
নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের কোনো বিকল্প নেই বলে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে ঐকমত্য পোষণ করেছে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য টু-স্টেট সলিউশন’।

 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জোটের কো-চেয়ারদের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

‘নিউইয়র্ক ঘোষণাপত্র’ গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী এবং গাজার বোর্ড অব পিস-এর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০টি রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই সমাধানের পেছনে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হওয়ায় সমাধানের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।

 

বৈঠক শেষে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, উচ্ছেদ, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

 

একইসঙ্গে পবিত্র স্থানগুলোতে ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি। বিবৃতিতে ফিলিস্তিন নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় ব্যক্ত করে বলা হয়, গাজা এবং পশ্চিম তীরসহ পূর্ব জেরুজালেম মূলত একটি একক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। গাজাকে কোনোভাবেই পশ্চিম তীর থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না এবং একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে এর পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

 

১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা আনা সম্ভব।

 

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর চলমান আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ নিয়েও বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আটকে রাখা সব রাজস্ব তহবিল ফিলিস্তিনকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দাতা সংস্থাগুলোকে সরাসরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

গাজায় দ্রুত ও নিরাপদে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং জাতিসংঘ ও এর সংস্থাগুলোর, বিশেষ করে ইউএনআরডব্লিউএ-এর (UNRWA) মাধ্যমে পুনর্গঠন কাজ শুরু করার ওপর জোর দিয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স। গাজায় যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার পাশাপাশি হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সবশেষে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার যেমন অটুট রয়েছে, তেমনি ইসরায়েলকে বুঝতে হবে যে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করে কখনোই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব নয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের নির্দেশে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিল, বড় কাটছাঁট অভিবাসন খাতে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের অব্যবহৃত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, অভিবাসন, জাতিগত সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতের ১১টি তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতটি ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থার এসব তহবিলের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের সামাজিক সেবা দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই অর্থের আর প্রয়োজন নেই।   ট্রাম্পের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অর্থ বাতিলের আওতায় রয়েছে বাণিজ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির কিছু তহবিলও বাতিল করা হচ্ছে।   দ্বিতীয় বৃহত্তম কাটছাঁটের পরিমাণ ৭০ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য ফেলোশিপ ও অনুদান কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকেরা যেখানে এসব কর্মসূচির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনও কয়েকটি প্রকল্পকে নীতিগতভাবে আপত্তিকর হিসেবে দেখেছে।   আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের একটি কর্মসূচি থেকে আরও ৫৬ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। এই অর্থ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে আবাসন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এর একটি অংশ এমন সংগঠনের কার্যক্রমে যাচ্ছিল, যেগুলো জাতিগত ও বৈচিত্র্যভিত্তিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের আরও ২৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষায়, এসব অনুদানের কিছু ছিল অপচয়মূলক, একই ধরনের কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে আপত্তিকর ছিল। তবে ঠিক কোন কোন প্রকল্পের অর্থ এই কাটছাঁটের আওতায় পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।   শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী উদ্যোগ থেকেও ২৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু সংগঠন অর্থ পেয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা না করতে উৎসাহিত করার অভিযোগ ছিল।   বিচার বিভাগের কমিউনিটি রিলেশনস সার্ভিসেস কর্মসূচি থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি পরামর্শসংক্রান্ত একটি কর্মসূচি থেকেও ১৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে।   এ ছাড়া সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ব্যবসায়ীদের জন্য অনুদান দেওয়া সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন সংস্থা থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার, অভিবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আরেকটি কর্মসূচি থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সংখ্যালঘু স্বাস্থ্য কার্যালয় থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার বাদ দেওয়া হচ্ছে।   ট্রেজারি বিভাগের ট্রপিক্যাল ফরেস্ট অ্যান্ড কোরাল রিফ কনজারভেশন অ্যাক্ট কর্মসূচি থেকেও ৯ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশের ঋণ কমানোর ব্যবস্থা ছিল।   এই অর্থ বাতিলের প্রক্রিয়াকে ‘পকেট রেসিশন’ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বাজেট ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ বাতিলের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠাতে পারেন এবং সাধারণ নিয়মে কংগ্রেসের তা বিবেচনার জন্য ৪৫ দিন সময় থাকে। কিন্তু অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগে এমন প্রস্তাব পাঠানো হলে কংগ্রেসের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় মেয়াদ শেষ করতে পারে। সরকারি অর্থব্যবস্থার এই পদ্ধতির আইনগত বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তর বা জিএও ২০২৫ সালে বলেছিল, এ ধরনের ‘পকেট রেসিশন’ আইনসঙ্গত নয়।   এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই পদক্ষেপকে ঘিরে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ভোটের আদেশে প্রশাসনকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ আটকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সেই আদেশটি মূলত নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং ‘পকেট রেসিশন’ ব্যবস্থার আইনি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ করেনি।   এবারের উদ্যোগটি এসেছে ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের ব্যয় কমানোর ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অব্যবহৃত বা প্রশাসনের বর্তমান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন অর্থ বাতিল করে সরকারি ব্যয় কমানোই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। অন্যদিকে, ‘পকেট রেসিশন’ নিয়ে সমালোচকেরা বলছেন, কংগ্রেস যে অর্থ আইন করে বরাদ্দ করেছে, প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে তা বাতিলের ক্ষমতা থাকা উচিত কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তর (GAO), যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২০:৪৫
নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি

ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি

নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত
নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলতি সপ্তাহে এক ইহুদি ধর্মগুরু (রাব্বি) এবং এক পথচারীর ওপর কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়েও বিচারকের নির্দেশে জামিন পেয়েছেন এরিক আবরুতভ (৩১) নামের এক ব্যক্তি। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেনসিংটনের কর্টিলিউ রোডের কাছে দাহিল রোডে ৬৬ বছর বয়সী ওই রাব্বির ওপর আকস্মিক হামলা চালায় এরিক।   তাকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শক্ত করে গলা চেপে ধরা হয়, যার ফলে ভুক্তভোগীর কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই কর্টিলিউ রোডের একটি গ্যাস স্টেশনে গ্যাস ভরার সময় ৬০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির মুখে ঘুষি মেরেছিল এই হামলাকারী।   ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, জোড়া হামলার এই দুটি ঘটনাতেই প্রসিকিউটররা ১০ হাজার ডলার নগদ জামিন বা ২০ হাজার ডলার বন্ডের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিচারক এডওয়ার্ড ড্যানিয়েলস সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে এরিককে আইনি নজরদারির (সুপারভাইজড রিলিজ) শর্তে মুক্তি দেন।   ঠিক কী কারণে বিচারক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলাগুলোর পেছনে কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। তা সত্ত্বেও, সুকোট উৎসবের আগে এমন আকস্মিক হামলায় পুরো ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।   রাব্বির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবরুমি হার্বস্ট জানিয়েছেন, শারীরিক আঘাতের চেয়েও রাব্বি বেশি মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং হামলাকারীর এমন সহজ মুক্তির খবরে তিনি তার ও প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।   এর আগে গত সোমবার ব্রাইটন বিচ এলাকায় এক তরুণ ও এক তরুণীর মুখে অকারণে ঘুষি মারার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল এরিক। তবে ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানায়, সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি জামিনযোগ্য না হওয়ায় বিচারক ডুয়েন ফ্র্যাঙ্কসন তাকে আইনি নজরদারিতে মুক্তি দিতে বাধ্য হন।   এছাড়া গত জুনে নিজের দাদির বাড়িতে গিয়ে সুরক্ষা আদেশের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে গত রোববারও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেবারও প্রসিকিউটরদের জামিন আবেদন নাকচ করে বিচারক তাকে মুক্তি দেন। পুলিশের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোর আগে ২৪ সালে অস্ত্র রাখা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো একাধিক অভিযোগে অন্তত পাঁচবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল এই বেপরোয়া হামলাকারী।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৮:২৬
যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকডোনাল্ডসে চাকরি দিয়ে শুরু, এখন ১৭ রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকডোনাল্ডসে চাকরি দিয়ে শুরু, এখন ১৭ রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা

নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা

আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব
আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে বিনা পরোয়ানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) গ্রেপ্তার কমানো এবং নির্দোষ অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেক্স প্যাডিলা যৌথভাবে ‘ইমিগ্রেশন ওয়ারেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি প্রস্তাব করেছেন।   আইসিই যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অথবা বর্ণবাদের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা এই বিল প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।   প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং আটকের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পরোয়ানার পাশাপাশি আটকের পর কবে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে হবে, তা-ও আটকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।   বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, আটকে রাখা প্রতিটি অনাগরিকের হেফাজতের বিষয়টি প্রতি ৬০ দিন পরপর কোনো ইমিগ্রেশন বা মার্কিন জেলা বিচারককে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে বিনা বিচারে কেউ দীর্ঘদিন আইসিই হেফাজতে না থাকেন। সিনেটর প্যাডিলা বলেন, এই আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ হবে।   তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি সহজে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ‘জননিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের যে সুযোগ আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে রাখা হয়েছে, তা অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা।   টেক্সাস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইসেস-এর সহ-প্রধান নির্বাহী ফয়সাল আল-জুবুরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ সিভিল বা দেওয়ানি অপরাধের জন্য কাউকে আটকে রাখা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৬:৫
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই সার্ভার হ্যাক, ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই সার্ভার হ্যাক, ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

0 Comments