সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

পূর্ণিমার জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাব মিলিয়ে নিউইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব নিউইয়র্ক সিটির পূর্বদিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নগরীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।   আবহাওয়াবিদদের মতে, জার্সি শোর, লং আইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে ঝড়ের প্রভাব বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উপকূলীয় বন্যা। বিশেষ করে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।   শনিবার পূর্ণিমার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। এর সঙ্গে উপকূলের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাস যুক্ত হওয়ায় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট বেশি উঠতে পারে। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের আশঙ্কা রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের নগর বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা হতে পারে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়ের মূল অংশ মেট্রোপলিটন এলাকার কাছাকাছি থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর পূর্বদিকে, বিশেষ করে সাফোক কাউন্টির দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের আগে বাসাবাড়ির বাইরে থাকা হালকা আসবাব, ময়লার পাত্র ও অন্যান্য ঢিলা জিনিস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জোয়ারের সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল এবং লং আইল্যান্ডের উত্তর উপকূলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়া থাকতে পারে। রোববারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সোমবার নাগাদ আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝড়টি চলাচল করায় এর মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ের কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে ঝড়টি সাবট্রপিক্যাল ঝড়ের মতো আচরণ করতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে। দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এই কার্ড পাবেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মীর শাহে আলম। সেখানে তিনি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ড পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হবে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এরপর নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোকে এর আওতায় আনা হবে।   মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এটি বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও কর্মসূচির আওতায় আসবেন, তবে তা সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে হবে।   অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের মেয়াদ শেষে জনগণের কাছে কর্মকাণ্ডের হিসাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।   সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় এসব এলাকার মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তায় কোনো ঘাটতি হয়ে থাকলে তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চান।   বন্যার সময় ত্রাণের সংকট দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি বাঁশখালীতে এসেছেন এবং বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন।   বাঁশখালীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বাঁশখালীর অন্য সড়কগুলো সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন হলে সেগুলোর তালিকা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মীদেরও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং দলের দুঃসময়ে যারা কাজ করেছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আইন ও বিধি মেনে চাকরি, বৈধ ডিলারশিপসহ বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৫১
সপ্তাহান্তে নর’ইস্টারের প্রভাবে নিউইয়র্ক ও পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা
পূর্ণিমার জোয়ারে বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি, নিউইয়র্কবাসীকে সতর্ক করল আবহাওয়া বিভাগ

পূর্ণিমার জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাব মিলিয়ে নিউইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব নিউইয়র্ক সিটির পূর্বদিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নগরীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।   আবহাওয়াবিদদের মতে, জার্সি শোর, লং আইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে ঝড়ের প্রভাব বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উপকূলীয় বন্যা। বিশেষ করে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।   শনিবার পূর্ণিমার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। এর সঙ্গে উপকূলের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাস যুক্ত হওয়ায় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট বেশি উঠতে পারে। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের আশঙ্কা রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের নগর বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা হতে পারে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়ের মূল অংশ মেট্রোপলিটন এলাকার কাছাকাছি থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর পূর্বদিকে, বিশেষ করে সাফোক কাউন্টির দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের আগে বাসাবাড়ির বাইরে থাকা হালকা আসবাব, ময়লার পাত্র ও অন্যান্য ঢিলা জিনিস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জোয়ারের সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল এবং লং আইল্যান্ডের উত্তর উপকূলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়া থাকতে পারে। রোববারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সোমবার নাগাদ আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝড়টি চলাচল করায় এর মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ের কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে ঝড়টি সাবট্রপিক্যাল ঝড়ের মতো আচরণ করতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৪৩
প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নতুন অভিযান, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি

শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।   সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মাদক ও জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পরিবেশ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।    তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত বার্তায় কমিটিতে কারা থাকবেন, কমিটির সদস্যসংখ্যা কত হবে, ঠিক কবে থেকে কার্যক্রম শুরু হবে কিংবা কমিটির বিস্তারিত দায়িত্ব কী হবে—এসব জানানো হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপনে বাস্তবায়ন কাঠামোর বিস্তারিত আসতে পারে।    শিক্ষাঙ্গনে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের আলোচনায় রয়েছে। মাত্র চার দিন আগে, ২০ সেপ্টেম্বর, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাজ থেকে মাদকের সমস্যা দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজসেবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন।   এর আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী তথ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং সামাজিক প্রতিরোধ শক্তিশালী করা।    শিক্ষাঙ্গনে মাদক নিয়ে উদ্বেগের একটি সাম্প্রতিক ঘটনাও সামনে এসেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মাদক সেবনের অভিযোগে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করে হল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতেও পাঠানো হয়েছে।   এদিকে সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে বিভাগীয় পরীক্ষাগার এবং মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসংক্রান্ত প্রকল্পও সরকারের কার্যক্রমে রয়েছে।   সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে স্কুল, কলেজসহ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির পথ তৈরি হলো। তবে কমিটির গঠন, দায়িত্ব, নজরদারি পদ্ধতি এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ হলে উদ্যোগটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৪২
প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের সুযোগ-সুবিধা বিশ্লেষণ করা হয়েছে গবেষণায়
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য সেরা শহরের তালিকা প্রকাশ

প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য উপযুক্ত শহর বেছে নেওয়া অনেক সময় অন্যদের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। যাতায়াত ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার খরচ, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সামগ্রিক জীবনমান—সবকিছুই বিবেচনায় নিতে হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ১৮০টির বেশি বড় শহর বিশ্লেষণ করে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি ও কম সুবিধাজনক শহরের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব।   গবেষণায় মিসৌরির সেন্ট লুইসকে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুবিধাজনক শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস এবং ওহাইওর কলম্বাস। এসব শহরে সহজে ব্যবহারযোগ্য জনপরিকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এবং তুলনামূলকভাবে কম জীবনযাত্রার খরচকে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।   ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধিতা থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের ২৮ শতাংশের বেশি নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের জন্য আবাসন, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি চলাচলের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় জনসেবার সহজলভ্যতাও শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।   গবেষণায় এগিয়ে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে সেন্ট লুইস, মিনিয়াপোলিস, কলম্বাস, ক্যালিফোর্নিয়ার হান্টিংটন বিচ, মিনেসোটার সেন্ট পল, মিশিগানের গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস, অ্যারিজোনার স্কটসডেল, পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ, মিসৌরির কানসাস সিটি এবং মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়া।   এছাড়া তালিকায় রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার ও পিওরিয়া, মেইনের পোর্টল্যান্ড, কলোরাডোর ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড ও গ্লেনডেল, ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ এবং অ্যারিজোনার মেসা। মূল প্রতিবেদনে শীর্ষ ২০ শহরের কথা বলা হলেও প্রকাশিত তালিকায় ১৮টি শহরের নাম দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে আলাস্কার জুনোসহ তালিকার নিচের দিকে থাকা কিছু শহরকে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়া, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য জনসেবা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকার মতো বিষয়গুলো সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে।   ওয়ালেটহাবের এই বিশ্লেষণে মূলত অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনমানের মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে শহরগুলোর তুলনা করা হয়েছে। ফলে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য কোনো শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার একটি উপায় হিসেবে তালিকাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৩৩
রক্তে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পাওয়ার পর ৬ মাসের শিশুকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়
৬ মাসের শিশুর রক্তে ভয়াবহ মাত্রার অ্যালকোহল, ফ্লোরিডায় গ্রে প্তার বাবা-মা

ফ্লোরিডায় ৬ মাসের এক শিশুর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে শিশু অবহেলার অভিযোগে গ্রে প্তার করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, আরও কিছুটা দেরি হলে শিশুটির মৃ ত্যু হতে পারত।   ঘটনাটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর। পুলিশ জানায়, শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাই স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে বসার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সে তার ছোট বোনকে দেখতে গিয়ে তাকে প্লে-পেনের ভেতর অ চেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করা হয়।   প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল, কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে শিশুদের একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর শিশুটির রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়া যায়।   চিকিৎসকদের মতে, রক্তে ০.৩ শতাংশের বেশি অ্যালকোহল থাকলে অ্যালকোহল পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রাণ ঘা তী হতে পারে। হাসপাতালে করা আরও কিছু পরীক্ষায় শিশুটির পেটে, মাথায় ও উরুতে কালশিটের দাগ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রতিবেদনে এসব আঘাতকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   চিকিৎসাকর্মীরা পুলিশকে জানান, শিশুটির অবস্থা ছিল ‘গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল’। তাদের ধারণা, আরও দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারত। এ ঘটনায় শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাইয়ের দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারা এবং সাহায্য চাওয়া তার জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানান।   জনস হপকিন্স অল চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক মেঘান মার্টিন জানান, অল্প বয়সী শিশুদের শরীরে অ্যালকোহল গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম কমে যেতে পারে। পাশাপাশি চেতনার পরিবর্তন, বমি এবং বমি শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে।   শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী জেসি ওয়ালড্রপ এবং মা ২৭ বছর বয়সী দেশিরে উজুনবয়লুকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দুজনই দাবি করেন, কীভাবে শিশুটির শরীরে অ্যালকোহল গেল সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তারা নিজেদের মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন।   মা পুলিশকে জানান, ঘটনার আগের দিন তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, পরিবারের কেউ হয়তো একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে দিয়েছিল। পরে সেই বোতল থেকেই বাবা শিশুটির জন্য দুধ তৈরি করে থাকতে পারেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাবাও একই ধরনের বক্তব্য দেন।   তদন্তে পরিবারের এক সদস্য জানান, তিনি একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে সেটি বন্ধ ব্যাকপ্যাকে রেখেছিলেন। পরে তিনি দেখতে পান বোতলটি ব্যাকপ্যাকের বাইরে চলে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক ভাই ওই বোতল থেকে কিছু ভদকা পান করেছিলেন।   ওয়ালড্রপ ও উজুনবয়লুকে ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রে প্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তারা জা মিনে মুক্তি পেলেও আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আইনজীবী ব্রায়ান্ট কামারেনো জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি ও আঘাতের মাত্রার ওপর নির্ভর করে অভিযুক্তদের কয়েক বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাজা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:১৭
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ফ্যামিলি কার্ডে ভিআইপি-সাধারণের ভেদ নেই, জুবাইদাও পাবেন: মীর শাহে আলম

দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ।    ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এটি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চার কোটি পরিবার পর্যায়ক্রমে কার্ডের আওতায় আসবে এবং কার্ড পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হবে না। ডা. জুবাইদা রহমানও কার্ড পাবেন উল্লেখ করে তিনি এটিকে সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।   তবে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া এবং নগদ আর্থিক সহায়তা পাওয়া এক বিষয় নয়। সরকারের প্রকাশিত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন গাইডলাইনে বলা হয়েছে, জরিপ ও তথ্যভুক্ত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নগদ সহায়তা দেওয়া হবে নির্ধারিত আর্থসামাজিক মানদণ্ড বা পিএমটি স্কোর অনুযায়ী। সরকারি গাইডলাইনে ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়ভিত্তিক কার্ডে রূপান্তরের লক্ষ্যও রয়েছে।    ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতি বছরের মার্চে শুরু হয়। কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় সরকার জানিয়েছিল, প্রাথমিকভাবে তিন লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যোগ্য নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   এদিন মীর শাহে আলম সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আকস্মিক ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় এসব এলাকার মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছিলেন এবং জেলা প্রশাসন ও সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সরকারি কার্যক্রমে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারকে ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য পরিবারপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।   বাঁশখালীর উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:১২
ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ
৩ হাজার ৪০০ ছাড়াল হাম আক্রান্ত, বিমানবন্দর ঘিরে নতুন সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাম আক্রান্ত এক যাত্রী অবস্থান করায় সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ওই যাত্রী বিমানবন্দরে ছিলেন।   ফিলাডেলফিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের বি ও এফ টার্মিনালে ছিলেন। পাশাপাশি সি, ডি ও ই টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু এলাকাতেও তার চলাচল ছিল। তবে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে যাননি। ওই সময় এসব এলাকায় থাকা যাত্রী ও কর্মীদের নিজেদের হাম প্রতিরোধী কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকার বিষয়ে নিশ্চিত নন, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। সম্ভাব্য সংক্রমণের পর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারও হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই সতর্কবার্তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালেও হামের সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৭১টি নিশ্চিত হামের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে যেখানে ২ হাজার ২৮৯টি আক্রান্তের ঘটনা ছিল, চলতি বছর এরই মধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩৯টি হামের প্রাদুর্ভাবও শনাক্ত করেছে সিডিসি।   অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৭৪৫। এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ৬৭০ এবং ইউটাহ ৫২৭। এছাড়া টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন, ফ্লোরিডা, ওহাইও ও অ্যারিজোনাতেও ১০০টির বেশি আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।   তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। টেক্সাসে ২০২৫ সালে ৮০৩টি আক্রান্তের ঘটনা থাকলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯২টি হয়েছে। অ্যারিজোনায় গত বছর ২২২টি আক্রান্তের বিপরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১০টি ঘটনা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস, হাওয়াই, মিসিসিপি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাডায় এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়নি।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে র্যা শ দেখা দিতে পারে। র্যা শ সাধারণত প্রথম উপসর্গের তিন থেকে পাঁচ দিন পর দেখা দিয়ে মাথা থেকে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।   গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং কোনো বদ্ধ জায়গায় ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।   সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার একটি ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুটি ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। টিকা নেওয়ার পরও বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ হতে পারে, তবে সাধারণত উপসর্গ ও জটিলতার মাত্রা কম থাকে এবং অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমএমআর টিকা নেওয়ার হারও কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই হার ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীর এমএমআর টিকা সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র ছিল না বলে সিডিসির তথ্য জানিয়েছে।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:০
পাসপোর্ট
পাসপোর্ট হারালেই এবার কড়াকড়ি, দ্বিতীয়বার থেকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা

পাসপোর্ট হারানো, চুরি হওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পুনঃইস্যুর নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা গত ২১ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনা জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ‘হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত’ নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে।    নতুন নিয়মে শুধু জরিমানাই নয়, হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য জানানোর প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার পর দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে।   জিডি করার পর সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এর সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। তবে ওই সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন না পৌঁছালে আবেদনকারী জিডির কপি সংযুক্ত করেই পুনঃইস্যুর আবেদন করতে পারবেন। এরপর পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।   সরকার বলছে, পাসপোর্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দলিল। হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।    নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর সেটি বাতিল বা ‘রিভোক’ করা হলে পরে খুঁজে পাওয়া গেলেও সেটি আর সক্রিয় করা যাবে না। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণও করা যাবে না। পরে পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে থানার পাশাপাশি নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে।    হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে এর ডেটা পেজে আগের পাসপোর্ট হারানোর তথ্য উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডেটাবেজে পুরোনো পাসপোর্টের অবস্থা ‘হারানো’ বা ‘বাতিল’ হিসেবে হালনাগাদ করা হবে।    পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের মতো মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করা যাবে না। তবে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী বৈধ সংশোধনের সুযোগ আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।    বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও নিয়ম প্রযোজ্য। বিদেশে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।    আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ থাকলে সেটি জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে এবং শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করতে হবে।   ফলে নতুন নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে—প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা নেই; দ্বিতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার ঘটলে নির্ধারিত পুনঃইস্যু ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:৪৬
ড্রোন ঠেকাতে লেজার অ স্ত্রের ব্যবহার বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী
মি সাইল নয়, এবার লেজার! ড্রোন ও ক্রুজ মি সাইল ঠেকাতে নতুন অ স্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের

ড্রোন ও ক্রুজ মি সাইলের মতো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় লেজার অ স্ত্র ব্যবহারে বড় অগ্রগতি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোন ধ্বং স ও অকার্যকর করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। প্রচলিত মি সাইলের তুলনায় এই প্রযুক্তিতে প্রতিটি লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলার খরচ কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।   প্রায় ৫০ বছর ধরে লেজার অ স্ত্র তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে গবেষণাগারের পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে এসব অ স্ত্র বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনী যুদ্ধের উপযোগী লেজার অ স্ত্র তৈরিতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি চুক্তিও করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   লেজার অ স্ত্র মূলত জেনারেটর বা ব্যাটারি থেকে পাওয়া শক্তিকে আলোক কণায় বা ফোটনে রূপান্তর করে। এরপর সেই শক্তিকে একটি নির্দিষ্ট রশ্মিতে কেন্দ্রীভূত করে লক্ষ্যবস্তুর ওপর কয়েক সেকেন্ড ধরে প্রয়োগ করা হয়। এতে লক্ষ্যবস্তুর নির্দিষ্ট অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে ক্ষতি গ্রস্ত বা ধ্বং স হতে পারে।   বিশেষজ্ঞ মার্ক নাইসের মতে, লেজার দিয়ে নির্দিষ্টভাবে ড্রোন শনাক্ত করে তার সেন্সর অকার্যকর করা বা পুরো ড্রোন ধ্বং স করা সম্ভব। তবে লক্ষ্যবস্তুতে রশ্মি কয়েক সেকেন্ড ধরে স্থির রাখতে হয়, যাকে ‘ডুয়েল টাইম’ বলা হচ্ছে।   এই প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সামরিক বাহিনীর কিছু লেজার অ স্ত্র পরিচালনায় সাধারণ গেম কনসোলের মতো এক্সবক্স কন্ট্রোলার ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, গেমিং শিল্পের উন্নত কন্ট্রোলার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আলাদা জটিল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজন কমানো সম্ভব হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তেও লেজার প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। মেক্সিকো থেকে মাদক পাচারকারীদের পাঠানো ড্রোন ঠেকাতে জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন বর্ডার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১১টি ড্রোন লেজার ব্যবহার করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ সীমান্তে ব্যবহৃত এসব লেজার এখন পর্যন্ত মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এগুলোর প্রধান ব্যবহার ড্রোনসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায়।   মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিওস বা হাই-এনার্জি লেজার উইথ ইন্টিগ্রেটেড অপটিক্যাল ড্যাজলার অ্যান্ড সার্ভেইলেন্স সিস্টেমের মতো প্রযুক্তি ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হেলিওস ব্যবস্থায় ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার উচ্চশক্তির লেজার ব্যবহার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে লেজার অ স্ত্রের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পরিষ্কার আকাশ না থাকলে এগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে একসঙ্গে অনেক ড্রোনের ঝাঁক মোকাবিলা করাও কঠিন হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত বড় লেজার সিস্টেমগুলো ভারী হওয়ায় এগুলো যুদ্ধজাহাজের মতো বড় প্ল্যাটফর্মে স্থাপন করতে হয়।  মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও এই প্রযুক্তির পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস মি সাইল রেঞ্জে লেজার অ স্ত্রের একটি প্রদর্শনীতে অংশ নেন এবং প্রশিক্ষণের পর কন্ট্রোলার ব্যবহার করে একটি ড্রোন ধ্বং স করেন।   লেজার প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহার পৃথিবীর বাইরেও হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতায়ও এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে লেজার অ স্ত্র এখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে এবং এর কার্যকারিতা আবহাওয়া, দূরত্ব ও লক্ষ্যবস্তুর ধরনের ওপর নির্ভর করে।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:৪৪
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলায় ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই তাঁর প্রথম ভাষণ। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে এ সময়সূচি জানিয়েছেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুও স্থান পাবে। বিশেষভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।    রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ার কথা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। জাতিসংঘের মঞ্চে এই সংকটের ব্যাপকতা এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।    এর পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার এবং বর্তমান বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে জলবায়ু ইস্যুকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাধারণ পরিষদে ভাষণের আগে আজ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে সেখানে।   একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন এবং নিউইয়র্কে পৌঁছে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন।    সরকারের পক্ষ থেকে এবারের অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কারণ, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ। তাঁর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা তুলে ধরবেন।   নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষ করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:৩২
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট বেড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে
বাড়ি কিনতে ঋণের খরচ আরও বাড়ল, ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট ৭.১৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজ ঋণের সুদের হার দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ২২ সেপ্টেম্বরের হিসাবে সুদের হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলে নের্ডওয়ালেটের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর ফলে নতুন করে বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষের মাসিক ঋণের কিস্তি আগের তুলনায় বাড়তে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুর সময়ের পর এই প্রথম ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট ৭ শতাংশের ওপরে উঠল। মর্টগেজ রেট বাড়ার কারণে বাড়ি কেনার সামগ্রিক খরচও বেড়েছে। বিশেষ করে যারা বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনতে চান, তাদের মাসিক পেমেন্টে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।   মর্টগেজ রেটের সঙ্গে ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি নোটের সুদের হারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ১০ বছরের ট্রেজারি নোটের ইয়েল্ড গত দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।   গত কয়েক মাসে মর্টগেজের সুদের হার এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে হিসাব করছেন। বাড়তি ঋণ খরচ এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ হাউজিং মার্কেটের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে বাড়ি কেনার আগ্রহ পুরোপুরি কমে যায়নি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটার এর আগে ফক্স বিজনেসকে জানিয়েছিলেন, মর্টগেজ রেট বাড়লেও বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার মতে, ক্রেতারা পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।   অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান জিলোরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বাড়ি বিক্রি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে। একই সময়ে বাজারে বাড়ির সরবরাহ বা ইনভেন্টরি বাড়ছে। জিলোরের হিসাবে, এক বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি ১০ শতাংশের কিছু বেশি বেড়েছে, যা বছরের প্রথম প্রান্তিকের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি।   বাড়ির সরবরাহ বাড়ার ফলে ক্রেতাদের সামনে তুলনামূলক বেশি বিকল্প তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু বিক্রেতাকে দাম কমানোর দিকে যেতে হতে পারে। এতে ক্রেতাদের দরদাম করার সুযোগও বাড়তে পারে বলে জিলোরের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ টনি জিওর্দানো বলেছেন, সুদের হার বাড়লেও কিছু ক্রেতা বাড়ি কেনার দিকে এগোচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমার অপেক্ষায় থাকা কেউ কেউ এখন আর অপেক্ষা না করে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সক্ষমতা ও মাসিক পেমেন্ট বহনের সামর্থ্য বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যারা এখনই বাড়ি কেনার জন্য প্রস্তুত নন, তাদের জন্য ভাড়া বাসায় থেকে সঞ্চয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জিলোর জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২০২৫ সালের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে, যদিও বছরের শেষ দিকে বাজারে কিছুটা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, জিলোর, ফক্স নিউজ, ফক্স বিজনেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:১৭
পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএসসিআইএস
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা, যা জানাল ইউএসসিআইএস

পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডে আনতে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টের ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত পরিবারের আকার অনুযায়ী ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়।   ৪৮টি কনটিগুয়াস স্টেট, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া, পুয়ের্তো রিকো, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসে ২০২৬ সালের হিসাবে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের জন্য ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে।   ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ করতে হবে।   হাওয়াইয়ের ক্ষেত্রে আয়সীমা তুলনামূলক বেশি। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার, তিন সদস্যের জন্য ৩৯ হাজার ২৭৫ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪৭ হাজার ৪৩৮ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৬০০ ডলার। আট সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন ৮০ হাজার ৮৮ ডলার। এরপর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যোগ হবে।   স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলেও সব ক্ষেত্রে আবেদন শেষ হয়ে যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা যেতে পারে, পরিবারের অন্য সদস্যের যোগ্য আয় ফর্ম আই-৮৬৪এ-এর মাধ্যমে হিসাব করা যেতে পারে অথবা নির্দিষ্ট যোগ্য সম্পদ ব্যবহার করে আয়ের ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।   ফর্ম আই-৮৬৪ মূলত এমন একটি আর্থিক অঙ্গীকার, যার মাধ্যমে স্পনসর যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানান যে তিনি স্পনসর করা অভিবাসীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে সক্ষম। কিছু ক্ষেত্রে স্পনসর করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা নিলে সেই সুবিধার খরচ ফেরত দেওয়ার দায়ও স্পনসরের ওপর আসতে পারে।   তবে সামরিক বাহিনীর কিছু স্পনসরের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বা কোস্ট গার্ডের সদস্য যদি নিজের স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্পনসর করেন, তাহলে সাধারণ ১২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ ফেডারেল দারিদ্র্যসীমা প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:৬
ভিসা জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্রের

ভিসা জালিয়াতি, অপব্যবহার ও অভিবাসন আইনের অন্যান্য লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সাধারণ মানুষ এই পোর্টালের মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের তথ্য জানাতে পারবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে চালু করা পোর্টালটির লক্ষ্য হলো ভিসা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা, যা প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ভিত্তি হতে পারে। দপ্তর জানিয়েছে, জমা দেওয়া প্রতিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করা হবে এবং মার্কিন আইন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অভিযোগ জানানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তত ভালো। নাম, যোগাযোগের তথ্যসহ বিস্তারিত তথ্য দিলে তদন্তকারীদের প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে যোগাযোগ করা সহজ হবে। তবে চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই পোর্টাল চালু করা হয়েছে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।   নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন থেকে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও সরাসরি সংগ্রহ করা হবে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জন্ম পর্যটন বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে এক নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে এসেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি ও ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চুরির অভিযোগ রয়েছে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, লেজিট ডট এনজি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৫:৫০
আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও
আইসিইর আটকের ভয়ে পালাতে গিয়ে নিহত অভিবাসী চালকের পরিবারের আহাজারি

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে আইসিইর গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। ৩৬ বছর বয়সী মারিও ছিলেন তিন সন্তানের বাবা। যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণকাজ করে উপার্জনের অর্থ তিনি গুয়াতেমালায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে পাঠাতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   মারিওর স্ত্রী মাসাদোনিয়া জানিয়েছেন, স্বামী প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। কিন্তু গত রোববার সকালে তার নিয়মিত ফোনটি আসেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি সন্তানদের জানান, কেন তাদের বাবা ফোন করছেন না, তা তিনি জানেন না। পরে তারা জানতে পারেন, মারিও গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। স্ত্রী বলেন, মারিও সন্তানদের নিয়ে সবসময় চিন্তা করতেন এবং তাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মারিওর ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং ৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তিনি গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ করছিলেন এবং উপার্জনের অর্থ নিয়মিত পরিবারকে পাঠাতেন। এখন তার মরদেহ গুয়াতেমালায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে পরিবার।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় আইসিই এজেন্টরা মারিওর গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ বলছে, চালক সেখান থেকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেনড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি একটি গাছে ধাক্কা দেয় এবং আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের কোনো পূর্বজ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। ফেডারেল এজেন্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় তদন্তকারীদের সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশ প্রধান জোসেফ ট্রিগ মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত করার অনুরোধ করেন। গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   নিহত ব্যক্তিকে গুয়াতেমালার নাগরিক মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করেছেন গুয়াতেমালার শিকাগো কনসাল জেনারেল রোজারিও ওভান্দো। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারিও গুয়াতেমালার সান মার্কোস শহরের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছিলেন।   এদিকে ঘটনার পর গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি তুলেছেন। তবে আইসিইর থামানোর চেষ্টা এবং পরবর্তী দুর্ঘটনার মধ্যে আইনগত দায় বা চূড়ান্ত কারণ এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   মারিওর স্ত্রী এখন স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ গুয়াতেমালায় নিয়ে গিয়ে স্বজনদের কাছে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাস্থলের কাছে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিল বা স্মরণসভা আয়োজনের কথাও জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   সূত্র: ফক্স ১৭, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৫:২৩
জাতিসংঘ ভাষণের পর কূটনৈতিক বার্তায় ‘এআই’-এর বদলে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ
ট্রাম্পের নির্দেশের পর ‘এআই’ বদলে ‘এসআই’ লিখতে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর কূটনৈতিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পাঠানো এক ইমেইলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা ওই ইমেইলে ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইকেল ড্রেগার কর্মকর্তাদের সরকারি ডকুমেন্ট, অবস্থানপত্র ও প্রেস স্টেটমেন্টে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন।   ইমেইলটির বিষয় ছিল—‘এআই থেকে এসআই নাম পরিবর্তন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।   এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল কিছু হিসেবে উপস্থাপন করে। এ কারণে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি ব্যবহারের কথা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যরাও এই শব্দ ব্যবহার করবে।   পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   তবে এই নির্দেশ পুরো মার্কিন সরকার বা পররাষ্ট্র দপ্তারের সব শাখার জন্য প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশটি মূলত পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিমালা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে শব্দ পরিবর্তনের এই নির্দেশ সামনে এলো। তবে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নামকরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৫:৭
‘মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ’ - তারেক রহমান
‘মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ’ - তারেক রহমান

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক।” বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন।   বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। তার ভাষায়, এখন শুধু সহমর্মিতা প্রকাশের সময় নয়; সংকটের মূল কারণ খুঁজে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে যেতে হবে।   প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা এবং প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে তাদের প্রভাব কাজে লাগানোর কথাও বলেন তিনি।   দ্বিতীয় প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আস্থা তৈরি হবে না।   তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তার মতে, এই অর্থ মূলত ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটাতেই সীমিত।    চতুর্থ প্রস্তাবে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।   পঞ্চম প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাড়তে থাকা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের কথা বলেন তিনি। এর মধ্যে মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিষয় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।   তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এবং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রভাব পড়ছে।   জাতিসংঘের অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী, বক্তব্যের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ ঘরে ফিরে যেতে দেখতে চায় এবং প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের মতো করে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।   Source: জাতিসংঘের অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৪:৩৭
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থকের আত্মীয়ই বহিষ্কারের মুখে, ঠেকাতে মরিয়া লেপেজ
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থকের আত্মীয়ই বহিষ্কারের মুখে, ঠেকাতে মরিয়া লেপেজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত মেইনের সাবেক গভর্নর পল লেপেজ এবার নিজের পরিবারের এক সদস্যের বহিষ্কার ঠেকাতে সরব হয়েছেন। লেপেজ জানিয়েছেন, তার ছেলের শ্বশুরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে, যদিও তার দাবি—ওই ব্যক্তির বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন।   সোমবার অগাস্টায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লেপেজ তার আত্মীয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার ছেলের স্ত্রীর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে আছেন এবং তার ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। লেপেজের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যেটি ওয়াশিংটনের কিছু মানুষের পছন্দ নয়—এ কারণেই তাকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “এটা ঠিক নয়। তার ওয়ার্ক পারমিট আছে, তার থাকার সুযোগ পাওয়া উচিত।”   তবে লেপেজ তার আত্মীয়ের নাম, কোন দেশের নাগরিক তিনি বা তার অভিবাসন মামলার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ হয়েছে কি না, নাকি তিনি এখনো অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন—তা স্পষ্ট নয়।   লেপেজ একই অনুষ্ঠানে বলেন, আইসিইর অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও কাজ করা মানুষদের বদলে গ্যাং সদস্য ও অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং যারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের সবাইকে লক্ষ্য করা তিনি সমর্থন করেন না। বরং গ্যাং ও অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দিয়ে অভিযান শুরু করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।   এদিকে লেপেজের বক্তব্যের পর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়ার্ক অথরাইজেশন বা কোনো আবেদন চলমান থাকা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস নিশ্চিত করে না। ফলে লেপেজের আত্মীয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের অভিবাসন স্ট্যাটাস রয়েছে এবং কেন তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে, তা আলাদা করে যাচাইয়ের বিষয়।   লেপেজ বর্তমানে মেইনের ২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিনিধি পরিষদের আসনে প্রার্থী। তার নির্বাচনী প্রচারে সীমান্ত ও অভিবাসন নীতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। একই সঙ্গে তিনি আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করার মেইনের একটি আইন নিয়েও সমালোচনা করেছেন এবং ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।    মেইনে আইসিইর অভিযান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেইনে আইসিইর অভিযানে আটক প্রায় ২০০ জনের মধ্যে ১১ জনেরই অপরাধমূলক সাজা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এই পরিসংখ্যান ও অভিযানের অগ্রাধিকার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।   লেপেজের আত্মীয়ের ঘটনা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিবাসন মামলা রয়েছে বা শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   Source: The Independent, The Washington Post

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৪:২৯
অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি
অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি

অনার্সে সিজিপিএ ২.৯৩, মাস্টার্সে ২.৮৮। ছিল না আইইএলটিএস স্কোর, ছিল না গবেষণার অভিজ্ঞতা কিংবা কোনো প্রকাশিত গবেষণাপত্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সেই শিক্ষার্থীই এখন চীনের ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করছেন। মাঝের এই পথ তৈরি হয়েছে চীনে দ্বিতীয়বার মাস্টার্স, গবেষণা এবং কিউ ওয়ান জার্নালে প্রথম লেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে।   শামীম নামের ওই শিক্ষার্থীর এই যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন তাকবীর হোসাইন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শামীম নিজেকে ব্যাচের পিছনের দিকের শিক্ষার্থীদের একজন মনে করতেন। মাস্টার্সও করেছিলেন অ-গবেষণাভিত্তিক ধারায়। সে সময় তাঁর কোনো গবেষণার অভিজ্ঞতা বা প্রকাশনা ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ও কোচিংয়ে বেশি সময় দেওয়ায় সহপাঠীদের মধ্যে তিনি মজা করে ‘টিউশন ব্যবসায়ী’ নামেও পরিচিত ছিলেন।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পর ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন বছর চাকরি করেন শামীম। এরপর চীনের সাংহাইয়ের ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রকৌশলে দ্বিতীয় মাস্টার্স শুরু করেন। চীনে যাওয়ার আগে তাঁর কোনো গবেষণার অভিজ্ঞতা বা প্রকাশিত গবেষণাপত্র ছিল না। সেখানে গিয়ে তিনি নাইট্রেট হ্রাস বিক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হন।   মাস্টার্স চলাকালেই কিউ ওয়ান জার্নালে প্রথম লেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন তিনি। অর্থাৎ একেবারে শূন্য গবেষণা অভিজ্ঞতা থেকে চীনে গিয়ে ধীরে ধীরে নিজের গবেষণার পরিচিতি তৈরি করেন। এরপর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসে পিএইচডির সুযোগ পান। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পিএইচডির জন্য আগের বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকেও তিনি চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের বৃত্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ক্যাস-আনসো বৃত্তি নিয়ে ইউসিএএসে পিএইচডি শুরু করেন।   ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাস-আনসো বৃত্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ দেয়। ২০২৬ সালের কর্মসূচিতে পিএইচডির জন্য প্রতি বছর ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে সহায়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইউসিএএসের বিভিন্ন স্কুল এবং চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থী গবেষণা ও ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।   গবেষণার দিক থেকেও ইউসিএএসের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। নেচার ইনডেক্সের ২০২৬ সালের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকায় ইউসিএএস বিশ্বের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। একই বছরের রসায়নভিত্তিক তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান তৃতীয়। নেচার ইনডেক্সের এই তালিকা মূলত নির্দিষ্ট উচ্চমানের গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। অন্যদিকে কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং ২০২৭-এ ইউসিএএসের অবস্থান ৩৬০তম।   দুটি র‍্যাংকিংয়ের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি এক নয়। কিউএস একটি সামগ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং, যেখানে একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে নেচার ইনডেক্স নির্দিষ্ট উচ্চমানের গবেষণা প্রকাশনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে ইউসিএএসের সামগ্রিক র‍্যাংকিং এবং গবেষণাভিত্তিক অবস্থানকে একই মাপকাঠিতে দেখা যায় না। তবে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান যে গুরুত্বপূর্ণ, নেচার ইনডেক্সের তথ্য তা তুলে ধরে।   শামীমের গল্পের আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। তাকবীর হোসাইনের বর্ণনা অনুযায়ী, কিছুদিন আগে শামীম যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান অ্যান আরবারের একজন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছিলেন এবং সেখানে পরিচিত কেউ আছেন কি না জানতে চেয়েছিলেন। পরে সেই সম্ভাব্য সুযোগ কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে চীনে স্থিরভাবে আছেন বলে জানানো হয়েছে।   এই অভিজ্ঞতা থেকে যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো প্রথম ডিগ্রির ফলাফল পরবর্তী উচ্চশিক্ষার পুরো পথ নির্ধারণ করে দেয় না। কম সিজিপিএ বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাক্রমে সুযোগ সীমিত করতে পারে। আইইএলটিএস, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনাও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরবর্তী পর্যায়ে ভালো গবেষণা, প্রকাশনা, শিক্ষকদের সঙ্গে একাডেমিক যোগাযোগ এবং উপযুক্ত বৃত্তির সুযোগ তৈরি করতে পারলে নিজের শিক্ষাগত ও গবেষণাগত অবস্থান বদলানোর পথও তৈরি হতে পারে।   চীনের উচ্চশিক্ষা নিয়েও আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে চীনের ৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে রয়েছে। একই র‍্যাংকিংয়ে চীনের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ৪০-এ জায়গা পেয়েছে।   তাই উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের ওপর নির্ভর না করে নিজের একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার আগ্রহ, অর্থায়নের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তির সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। শামীমের যাত্রা অন্তত এটুকু দেখায়, দুর্বল একাডেমিক ফলাফল দিয়ে পথ শুরু হলেও পরবর্তী ধাপে গবেষণা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তাঁর ক্ষেত্রে চীনে পাওয়া সেই সুযোগই শূন্য গবেষণা অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণার পথে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৩:৫০
'ইসলাম গ্রহণের পর, বাবা ফেরারি কিনে বলেন, হিজাব খুললে গাড়িটি তোমার’
'ইসলাম গ্রহণের পর, বাবা ফেরারি কিনে বলেন, হিজাব খুললে গাড়িটি তোমার’: মার্কিন অধ্যাপক ড. শারিফা

ইসলাম গ্রহণের আগে নারীর অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শারিফা কার্লো। নিজের লেখা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কিশোর বয়সে এমন একটি গোষ্ঠীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, যারা তাঁকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়িয়ে মুসলিম নারীদের মধ্যে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাঁর নিজের বিশ্বাসই বদলে যায়। ১৯৮৫ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।    শারিফা কার্লোর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি যখন কিশোরী ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়ার পরামর্শ দেন। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশরে দূতাবাসে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম নারীদের সঙ্গে কাজ করা এবং তাঁদের তৎকালীন নারী অধিকার আন্দোলনের দিকে উৎসাহিত করা।   এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে গিয়ে শুরুতে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মটির দুর্বলতা খুঁজে বের করা। কিন্তু তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পড়াশোনা যত এগোয়, ইসলামের বার্তা তাঁকে তত বেশি আকৃষ্ট করতে থাকে। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বক্তব্য তাঁর কাছে যুক্তিসংগত মনে হতে শুরু করে।   ইসলাম সম্পর্কে নিজের ধারণা যাচাই করতে তিনি খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব নিয়েও পড়াশোনা করেন। তাঁর প্রকাশিত বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অধ্যাপকের কাছ থেকে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস ও বাইবেলের বিভিন্ন ভাষার উৎস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। প্রায় তিন বছর ধরে ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনার পর এক মুসলিম ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর নিজের লেখায় উল্লেখ রয়েছে।    ইসলাম গ্রহণের পর পরিবারের প্রতিক্রিয়াও ছিল কঠিন বলে জানিয়েছেন শারিফা। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় তাঁর বাবা জার্মানিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের খবর জানালে বাবা তাঁকে জার্মানিতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেন এবং ফিরে না এলে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এই বক্তব্যের অনুরূপ বিবরণ তাঁর ২০০৭ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক লেখাতেও রয়েছে।    হিজাব পরার বিষয়টিও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিরোধের কারণ হয়ে ওঠে বলে শারিফা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা তাঁকে একটি ফেরারি গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, তবে শর্ত ছিল তাঁকে হিজাব খুলতে হবে। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনার বিবরণ পরবর্তী বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও তাঁর জীবনের গল্প নিয়ে প্রকাশিত লেখাতেও এসেছে।    ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর পড়াশোনার পথও সহজ ছিল না বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে শারিফা দাবি করেন, হিজাব পরার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে এসব ঘটনার স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক নথি সহজে পাওয়া যায় না, তাই বিষয়গুলো তাঁর নিজের বর্ণনা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।   পরবর্তী সময়ে শারিফা কার্লো আল আন্দালুসিয়া নামে তিনি ইসলাম নিয়ে লেখালেখি ও বক্তৃতার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর নামে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখায় ইসলামি বিশ্বাস, হিজাব, রমজান ও মুসলিম জীবনের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২৫ সালে কুয়েত টাইমসেও তাঁর নামে রমজানের বিভিন্ন ঐতিহ্য নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে।   তাঁর ইসলাম গ্রহণের গল্পের মূল অংশটি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বিভিন্ন ইসলামি প্রকাশনা ও বক্তৃতার মাধ্যমে প্রচারিত হয়ে আসছে। তবে গোষ্ঠীটি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠান ছিল, সেটির সরকারি পরিচয় বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে শারিফা কার্লোর নিজের বক্তব্যকেই প্রধান উৎস হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৩:৪৪
গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের
গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের লুইশামে সামাজিক আবাসনে বেড়ে ওঠা মোনে থমাস একসময় পরিবারের সঙ্গে দুই বছর অস্থায়ী বাসস্থানে ছিলেন। সেই মোনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছেন।   ২৫ বছর বয়সী এই তরুণী ২০২৫ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে আইন ও নৃবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন। হার্ভার্ডের নিজস্ব তথ্যেও তাঁর বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।    মোনে তাঁর বাবা-মা ও পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে লন্ডনের লুইশামে সামাজিক আবাসনে বড় হয়েছেন। পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর শৈশবে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই বছর পরিবারটি অস্থায়ী বাসস্থানে থেকেছে। তিনি বিগ ইস্যুকে জানিয়েছেন, এসব পরিস্থিতি তাঁর শিক্ষাজীবনেও প্রভাব ফেলেছিল।   ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোনে। কিশোর বয়সে নাটকের কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সমস্যাগুলোকে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ পান। পরে স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি আর্টস প্রকল্পে যুক্ত হন। এসব উদ্যোগে তরুণদের নিজেদের এলাকার পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহ দেওয়া হতো।   শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও তরুণদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যান তিনি। বিগ ইস্যুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের ১০টি সরকারি স্কুলের ৩০০টির বেশি শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছেন মোনে। বিভিন্ন দেশে ১০০ জনের বেশি তরুণের শেখার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ৬০ জনের বেশি তরুণকে মেন্টরিং করেছেন। তাঁর কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে শিক্ষা, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে।   হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগটি আসে ২০২৬ সালের মার্চে। এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনার পর তিনি হার্ভার্ডের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে খোঁজ নেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মসূচিটিকে নিজের দীর্ঘদিনের কাজ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন। ভর্তির খবর পাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি। পরে বাবা যে বক্সিং জিমে ছিলেন, সেখানেও মেয়ের হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়ার খবর জানান।   তবে হার্ভার্ডে ভর্তি হলেও আর্থিক চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিগ ইস্যুর হিসাবে, টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচসহ সেখানে পড়তে আনুমানিক ৮০ হাজার পাউন্ড প্রয়োজন হতে পারে। মোনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন এবং বাকি অর্থের জন্য অনলাইন তহবিল সংগ্রহ করছেন। তাঁর নিজের তহবিল সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি বড় অংশ এখনো সংগ্রহ করা বাকি।    মোনের অভিজ্ঞতা যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় আর্থসামাজিক বৈষম্যের আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত। বিগ ইস্যু ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, র‍্যাসেল গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা স্কুলজীবনে বিনামূল্যে স্কুল খাবারের জন্য যোগ্য ছিল, তাদের অংশ ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে সাটন ট্রাস্টের গবেষণার উল্লেখ করে স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের র‍্যাসেল গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার হারের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।    আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মোনে হার্ভার্ডে ক্লাস শুরু করেন। হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ে এডমাস্টার ডিগ্রি করছেন এবং তরুণদের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া, বিকাশ ও নিজেদের কমিউনিটিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরিতে কাজ করতে চান।    হার্ভার্ডের পড়াশোনা শেষ করার পর শিক্ষা ও সরকারি ব্যবস্থাপনার সংযোগস্থলে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে মোনের। তাঁর লক্ষ্য, শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সেবাকে কাজে লাগিয়ে এমন তরুণ ও কমিউনিটির জন্য সুযোগ তৈরি করা, যারা সবসময় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ পায় না। তাঁর নিজের ভাষায়, নিজের শৈশবের পরিস্থিতি যেন কোনো তরুণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে, সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি সামনে এগোতে চান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২:৫৯