গাড়িচাপায় বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আপস করল বাদীপক্ষ
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় সই করে আসামিদের জামিন বা খালাসে আপত্তি না থাকার কথাও জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, সড়ক পরিবহন আইনের এ ধরনের মামলা আপসযোগ্য নয় এবং দুই পক্ষের সমঝোতা আদালত গ্রহণ করতে বাধ্য নয়।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে। মেহেদী ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসন থেকে বের হওয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা-পুলিশ।
মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার পর গাড়ির ড্রাইভিং সিটের দরজা দিয়ে ওই কিশোরকে বের হতে দেখা গেছে এবং তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কিশোরকে ঢাকার শিশু আদালত-৮-এ হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আরেফিন ইসলাম তাকে সংশোধনাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে কিশোরের পক্ষে আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির জামিন না দিয়ে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই পরিবারের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোট ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ এবং মেহেদীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
আপসনামায় মামলাটি প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং কিশোর ও মামলায় নাম থাকা গাড়িচালক আকাশ মারকের জামিনের বিষয়ে বাদীপক্ষের অনাপত্তির কথা রয়েছে। নিহত মেহেদীর ভাই ও মামলার বাদী মোক্তাদীর ইসলামও আপস হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, যদিও টাকার পরিমাণ সম্পর্কে তিনি তার মামার কাছে জানতে বলেন।
তবে এই আপসের পরও মামলার তদন্ত থেমে যাচ্ছে না। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফিন ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সমঝোতা তদন্তে প্রভাব ফেলবে না এবং পুলিশ তাদের মতো করে তদন্ত চালিয়ে যাবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা এ মামলা আপসযোগ্য নয়। ফলে বাদী ও আসামিপক্ষ নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছালেও আদালত সেই সমঝোতা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। মামলার তদন্ত শেষে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অপরাধ
View moreরাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় সই করে আসামিদের জামিন বা খালাসে আপত্তি না থাকার কথাও জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, সড়ক পরিবহন আইনের এ ধরনের মামলা আপসযোগ্য নয় এবং দুই পক্ষের সমঝোতা আদালত গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে। মেহেদী ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসন থেকে বের হওয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা-পুলিশ। মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার পর গাড়ির ড্রাইভিং সিটের দরজা দিয়ে ওই কিশোরকে বের হতে দেখা গেছে এবং তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কিশোরকে ঢাকার শিশু আদালত-৮-এ হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আরেফিন ইসলাম তাকে সংশোধনাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে কিশোরের পক্ষে আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির জামিন না দিয়ে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই পরিবারের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোট ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ এবং মেহেদীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আপসনামায় মামলাটি প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং কিশোর ও মামলায় নাম থাকা গাড়িচালক আকাশ মারকের জামিনের বিষয়ে বাদীপক্ষের অনাপত্তির কথা রয়েছে। নিহত মেহেদীর ভাই ও মামলার বাদী মোক্তাদীর ইসলামও আপস হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, যদিও টাকার পরিমাণ সম্পর্কে তিনি তার মামার কাছে জানতে বলেন। তবে এই আপসের পরও মামলার তদন্ত থেমে যাচ্ছে না। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফিন ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সমঝোতা তদন্তে প্রভাব ফেলবে না এবং পুলিশ তাদের মতো করে তদন্ত চালিয়ে যাবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা এ মামলা আপসযোগ্য নয়। ফলে বাদী ও আসামিপক্ষ নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছালেও আদালত সেই সমঝোতা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। মামলার তদন্ত শেষে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
লিবিয়ায় প্রবাসীকে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ২জন
বিমানের শৌচাগারে গুপ্তধন! চার ঘণ্টা তল্লাশিতে মিলল ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ
মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়ায় ক্ষোভ, একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম
রংপুরের পীরগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মো. নুরুল ইসলাম (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নের গুজিপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটির মা স্থানীয় বাজারে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি ইউক্যালিপটাস বাগানের কাছে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে দেখতে পান তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যরা একটি কক্ষের দরজা বন্ধ অবস্থায় শিশুটিকে কান্নারত দেখতে পান। তাকে বাইরে আনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তার কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, তার মেয়ে জানিয়েছে—নুরুল ইসলাম তাকে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিশুটির মা বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ৩৩। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমুল হক জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা: ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন
নেশার টাকার জন্য ১১ মাসের মেয়েকে ৪০ হাজারে বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ
কমলাপুর রেলস্টেশনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ, সিসিটিভি দেখে জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি রায়ের পর দলটির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্দিষ্ট প্রতিটি ঘটনার দায় তদন্ত ও আদালতের প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে সরকার মনে করছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডে সরকার শঙ্কিত নয় বলেও জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ঘটনায় সন্দেহভাজনদের মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট এলাকার ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। যাত্রাবাড়ীর ঘটনাতেও গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার ও মগবাজারসহ ছয়টি স্থানে মোট ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ওই সময় পুলিশ জানিয়েছিল, সব ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত চলছিল। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, রাতে চালক ও সহকারী ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় পার্ক করে রাখা কয়েকটি বাসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট মিলিয়ে রাজধানীতে তিন শতাধিক তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের পাশাপাশি বিভিন্ন উড়ালসড়কের ওঠানামার স্থানেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর কয়েক দিন আগেও সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তখন তিনি বলেছিলেন, তাঁরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি তদন্তাধীন। এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিল ঘিরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে ককটেল নিক্ষেপের খবর পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাজা ককটেল উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।
রামিসার মতো অপ্রতিম হত্যারও দ্রুত বিচার করা হবে: জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার, সিসিটিভিতে সূত্র পেয়ে আটক ৩