সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

পাসপোর্ট হারালেই এবার কড়াকড়ি, দ্বিতীয়বার থেকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:৪৬
পাসপোর্ট
পাসপোর্ট

পাসপোর্ট হারানো, চুরি হওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পুনঃইস্যুর নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে। 

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা গত ২১ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনা জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ‘হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত’ নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। 

 

নতুন নিয়মে শুধু জরিমানাই নয়, হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য জানানোর প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার পর দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে।

 

জিডি করার পর সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এর সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। তবে ওই সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন না পৌঁছালে আবেদনকারী জিডির কপি সংযুক্ত করেই পুনঃইস্যুর আবেদন করতে পারবেন। এরপর পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

 

সরকার বলছে, পাসপোর্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দলিল। হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

 

নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর সেটি বাতিল বা ‘রিভোক’ করা হলে পরে খুঁজে পাওয়া গেলেও সেটি আর সক্রিয় করা যাবে না। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণও করা যাবে না। পরে পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে থানার পাশাপাশি নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। 

 

হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে এর ডেটা পেজে আগের পাসপোর্ট হারানোর তথ্য উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডেটাবেজে পুরোনো পাসপোর্টের অবস্থা ‘হারানো’ বা ‘বাতিল’ হিসেবে হালনাগাদ করা হবে। 

 

পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের মতো মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করা যাবে না। তবে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী বৈধ সংশোধনের সুযোগ আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। 

 

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও নিয়ম প্রযোজ্য। বিদেশে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। 

 

আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ থাকলে সেটি জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে এবং শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করতে হবে।

 

ফলে নতুন নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে—প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা নেই; দ্বিতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার ঘটলে নির্ধারিত পুনঃইস্যু ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

পূর্ণিমার জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাব মিলিয়ে নিউইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব নিউইয়র্ক সিটির পূর্বদিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নগরীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।   আবহাওয়াবিদদের মতে, জার্সি শোর, লং আইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে ঝড়ের প্রভাব বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উপকূলীয় বন্যা। বিশেষ করে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।   শনিবার পূর্ণিমার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। এর সঙ্গে উপকূলের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাস যুক্ত হওয়ায় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট বেশি উঠতে পারে। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের আশঙ্কা রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের নগর বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা হতে পারে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়ের মূল অংশ মেট্রোপলিটন এলাকার কাছাকাছি থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর পূর্বদিকে, বিশেষ করে সাফোক কাউন্টির দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের আগে বাসাবাড়ির বাইরে থাকা হালকা আসবাব, ময়লার পাত্র ও অন্যান্য ঢিলা জিনিস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জোয়ারের সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল এবং লং আইল্যান্ডের উত্তর উপকূলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়া থাকতে পারে। রোববারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সোমবার নাগাদ আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝড়টি চলাচল করায় এর মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ের কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে ঝড়টি সাবট্রপিক্যাল ঝড়ের মতো আচরণ করতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে। দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এই কার্ড পাবেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মীর শাহে আলম। সেখানে তিনি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ড পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হবে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এরপর নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোকে এর আওতায় আনা হবে।   মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এটি বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও কর্মসূচির আওতায় আসবেন, তবে তা সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে হবে।   অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের মেয়াদ শেষে জনগণের কাছে কর্মকাণ্ডের হিসাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।   সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় এসব এলাকার মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তায় কোনো ঘাটতি হয়ে থাকলে তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চান।   বন্যার সময় ত্রাণের সংকট দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি বাঁশখালীতে এসেছেন এবং বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন।   বাঁশখালীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বাঁশখালীর অন্য সড়কগুলো সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন হলে সেগুলোর তালিকা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মীদেরও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং দলের দুঃসময়ে যারা কাজ করেছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আইন ও বিধি মেনে চাকরি, বৈধ ডিলারশিপসহ বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৫১
পাসপোর্ট

পাসপোর্ট হারালেই এবার কড়াকড়ি, দ্বিতীয়বার থেকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা

অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি

অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি

বাবা-দাদার নামে থাকা জমির তথ্য মিলবে মোবাইলেই

বাবা-দাদার নামে থাকা জমির তথ্য মিলবে মোবাইলেই, যেভাবে খুঁজবেন জানুন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বিমানের বহরে বড় চমক, ১১ বোয়িং কেনার পথে বাংলাদেশ; দরজায় ১০ এয়ারবাসের প্রস্তাবও

বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণের পথে এগোচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি নিউইয়র্কে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। একই সময়ে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগগুলোর একটি হবে।   দ্য ডেইলি স্টারের ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে রয়েছে বলে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান রুমি আখতার হোসাইন চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চুক্তির পর বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে।   তবে নতুন ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজের মডেল, মোট মূল্য, অর্থায়নের পদ্ধতি এবং কবে থেকে সেগুলো সরবরাহ করা হবে—এসব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত এপ্রিলে বিমান ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করে। ওই বহরে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স রয়েছে। সেগুলোর সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে হওয়ার কথা।   অন্যদিকে এয়ারবাসের সঙ্গেও বিমানের আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত ১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে। তবে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, এয়ারবাস নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেন; বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকারের মধ্যকার কোনো উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি নয়। তিনি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন।   বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন ১১টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবং আগে অর্ডার করা ১৪টি বোয়িং যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বহরের আকার ৫৪টিতে পৌঁছাতে পারে। তবে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ বিভিন্ন সময়ে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   বিমান কর্তৃপক্ষের সামনে একই সঙ্গে বহর ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে মিশ্র বহর পরিচালনা করলে পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রকৌশলী, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিমান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে একাধিক নির্মাতার উড়োজাহাজ থাকলে একক সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীলতা কমার সম্ভাবনার কথাও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১০:৩০
মেট্রোরেল

চলন্ত মেট্রোরেলে অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে বিপত্তি, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল

দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী

বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে খরচ ৫০ লাখ টাকা, দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী

ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে পুলিশের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের হোটেলের কাছে সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস, নিউইয়র্কে নিরাপত্তা জোরদার

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান করা হোটেলের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কালো স্যুটকেস ঘিরে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, নিরাপত্তা তৎপরতা চালায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডি। পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে স্যুটকেসটি পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, বস্তুটি আর সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।    স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে স্যুটকেসটি পাওয়া যায়। এনওয়াইপিডির একটি প্রশিক্ষিত কুকুর স্যুটকেসটির ভেতরে কিছু শনাক্ত করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। এরপর পুলিশের ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পূর্ব ৪২তম থেকে ৪৪তম স্ট্রিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অ্যাভিনিউ থেকে লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করে দেয়।    ঘটনাস্থলটি ক্রাইসলার ভবনের কাছাকাছি এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে কয়েকটি অ্যাভিনিউ দূরে। নিরাপত্তা তৎপরতার সময় কাছের একটি ভবন থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলায় ওই এলাকায় তখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।    তবে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে সেটিকে হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্যুটকেসের ভেতরে বোমা বা কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে এমন তথ্য নেই। একইভাবে এটি তারেক রহমান, তার সফরসঙ্গী বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অংশ ছিল, এমন কোনো তথ্যও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।    তারেক রহমান ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে থাকছেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত নাশতায় অংশ নেন এবং সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেন।    সন্দেহজনক স্যুটকেসটি যে এলাকায় পাওয়া যায়, সেটি তার হোটেলের কাছাকাছি হলেও ঘটনাস্থলটি হোটেল ভবনের ভেতরে বা প্রবেশপথে ছিল না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটি পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে, আর স্যুটকেসটি পাওয়া যায় পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হোটেলে হামলার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।    ঘটনাটির সময় নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে ম্যানহাটনের ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তারেক রহমানও এ সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তার প্রথম বক্তব্য হবে বলে বাংলাদেশি সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    মঙ্গলবারের স্যুটকেস ঘিরে নিরাপত্তা তৎপরতায় কোনো বিস্ফোরণ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশি পরীক্ষা শেষে বস্তুটি হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি একটি সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে, বোমা হামলা হিসেবে নয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২২:৫৩
জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশে স্ত্রীর মৃ ত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে ঘু ষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রে প্তার আওলাদ হোসাইন

খু নের ঘটনায় পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রে প্তার

১৮৬৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ধরা পড়া ঐতিহাসিক গণ্ডার ‘বেগম’

বাংলাদেশে ১৮৬৮ সালে শেষবার ধরা পড়া গণ্ডার, এরপর চলে যায় লন্ডনের চিড়িয়াখানায়

0 Comments