জর্জিয়ার আলফারেটায় গড়ে উঠেছে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ আরব কমিউনিটি
কিছু শহর তাদের সেরা গল্পগুলো লুকিয়ে রাখে সাধারণ বিপণিবিতানের আড়ালে। আমি হয়তো এটি পুরোপুরি এড়িয়েই যেতাম। গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য থেমেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা সেখানেই কাটিয়ে দিলাম। জর্জিয়ার আর দশটা সাধারণ পার্কিং লটের মতোই দেখতে একটি জায়গা থেকে ভেসে আসছিল গ্রিল করা মাংসের সুবাস। সাইনবোর্ডগুলোতে ইংরেজি ও আরবি ভাষার মিশ্রণ চোখে পড়ার মতো।
বেকারিগুলোতে ওভেন থেকে বের করা গরম রুটি বিক্রি হচ্ছিল। পাশের টেবিলে নানা ভাষায় চলছিল আড্ডা। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত সাবলীল, যেন এটি অন্য যেকোনো সাধারণ দিনের মতোই। জর্জিয়ার একটি শান্ত রাস্তার পাশে এমন কিছু খুঁজে পাব, তা আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। দুপুরের খাবার অর্ডার করে শেষ পর্যন্ত তিন ঘণ্টা পর এক ব্যাগ পেস্ট্রি এবং মনে একগাদা নতুন প্রশ্ন নিয়ে সেখান থেকে ফিরলাম। বাইরে থেকে জায়গাটি যেমনই লাগুক না কেন, এর ভেতরের ব্যাপ্তি ও খাবারের স্বাদ যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
এই শহরের পরিসংখ্যানগুলো বেশ চমকপ্রদ। এখানকার প্রায় ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের আরব হিসেবে পরিচয় দেন, যেখানে পুরো অঙ্গরাজ্যে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই পার্থক্য মোটেও ছোট নয়। এর অর্থ হলো, জর্জিয়ার গড়ের চেয়ে এখানে আরবদের ঘনত্ব প্রায় সাত গুণ বেশি। ৩০০০৯ জিপ কোডের দিকে তাকালে এই সংখ্যা আরও বাড়ে। সেখানকার প্রায় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ মানুষ আরব ঐতিহ্যের অনুসারী বলে জানিয়েছেন, যা এই অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ হার। শুধু সংখ্যা দিয়ে কোনো জায়গার আসল অনুভূতি বোঝানো যায় না, তবে মুদির দোকানে কেন তিন ধরনের তাহিনি পাওয়া যায়, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়।
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে প্রায় ৬৬ হাজার ৮৫৫ জন মানুষের বসবাস। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানকার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। বৈচিত্র্যের দিক দিয়েও শহরটি পিছিয়ে নেই। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এশিয়ান, ১১ দশমিক ২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হিস্পানিক। সব মিলিয়ে এই শহরতলি পুরোনো কোনো ধ্যানধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি উত্তর ফুলটন কাউন্টিতে অবস্থিত, যা মেট্রো আটলান্টার অংশ এবং শহরটির নাম আলফারেটা।
জর্জিয়ায় প্রায় ৮০ হাজার আরব আমেরিকানের বসবাস। পীচ ও চিনাবাদামের জন্য পরিচিত একটি অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি বেশ বড় একটি সংখ্যা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আরব আটলান্টা এবং এর আশপাশের শহরতলিতে বসবাস করেন। বিশেষ করে উত্তরের শহরতলিগুলোতে এদের বড় একটি অংশ থাকেন। মেট্রো এলাকার অংশ হওয়ার কারণে এটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আরব আমেরিকান জনসংখ্যার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রযুক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পেশাদাররা এখানে আসছেন। এর ফলে এখানে কেবল জনসংখ্যাই বাড়েনি, বরং বেকারির দোকান, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার এবং সপ্তাহান্তের আড্ডার জায়গাও গড়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের কথা উঠলে প্রথমেই আসে লেবানন ও মিসরের নাম। ঐতিহাসিকভাবে জর্জিয়ার আরব আমেরিকান কমিউনিটির বড় অংশই এসেছেন এই দুই দেশ থেকে। এখানকার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর মেনুতে লেবানিজ মেজে এবং মিসরীয় ঘরোয়া খাবারের প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তবে জর্জিয়ার এই কমিউনিটিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষেরাও রয়েছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব রান্নার ধরন এবং উৎসবগুলো এখানে নিয়ে এসেছেন। ভাষার ক্ষেত্রেও একই বৈচিত্র্য দেখা যায়। কায়রো, বৈরুত এবং রামাল্লার উপভাষাগুলো একই দোকানে শোনা যায়। নতুন প্রজন্ম এই সবগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে। শিশুরা স্কুলে ইংরেজিতে এবং বাড়িতে আরবিতে কথা বলে।
হামজাহ ইসলামিক সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নীরবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করে। এখানে আরবি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের মাতৃভাষা ধরে রাখতে পারে।
গ্রিন অ্যাপল একাডেমি এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ ফুলটনের সঙ্গে যুক্ত। একাডেমিটি ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য শিশু যত্ন এবং শিক্ষামূলক পরিষেবা প্রদান করে। এর কার্যক্রমে সাধারণ এবং ধর্মীয় শিক্ষার একটি চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। শিশুরা স্কুলের মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষাও গ্রহণ করে।
প্রার্থনার জায়গাগুলো কেবল উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাউথইস্ট ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার পার্শ্ববর্তী মিল্টন এলাকায় অবস্থিত হলেও এটি বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের সেবা করে। দৈনন্দিন প্রার্থনার পাশাপাশি বিয়ে, ছুটির দিন এবং সামাজিক আহারের মতো বড় আয়োজনগুলোও এখানে হয়ে থাকে। বিশেষ করে রমজান মাসে এখানে মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। নতুন বাসিন্দারা সাধারণত এখানেই তাদের প্রাথমিক সংযোগ গড়ে তোলেন।
খাবারের কথায় এলে প্রথমেই আসে ডেলবার মিডল ইস্টার্নের নাম। ৪১২০ ওল্ড মিল্টন পার্কওয়েতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি ইরানি রান্নার স্বাদ দিয়ে থাকে। পারস্যের রান্না অত্যন্ত নিখুঁত হয়, যা অনেকেরই ধারণার বাইরে। বিশেষ করে তাদের ভাত রান্নার কৌশল একটি ভালো রান্নাঘরকে সাধারণের চেয়ে আলাদা করে। জেরুজালেম বেকারি অ্যান্ড গ্রিল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাজা মধ্যপ্রাচ্যের রুটি এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া বাকলাভার মতো নানা ধরনের মিষ্টি খাবারও পাওয়া যায় এখানে।
বিজোরিয়া হাউস অব হামাস নামের আরেকটি রেস্তোরাঁ আলফারেটার মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের চাহিদা মেটায়। এটি সাধারণ দিনগুলোতে খাবার খাওয়ার জন্য বেশ জনপ্রিয়। হামাস, ফালাফেল এবং বিভিন্ন র্যাপ বা বাটি খাবার দুপুরের জন্য দারুণ মানানসই। দামও বেশ হাতের নাগালে থাকে।
খাবার সবসময় সংস্কৃতির মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে। একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া অনেক বড় ব্যাখ্যার চেয়েও বেশি কাজ করে। আলফারেটার এই আরব কমিউনিটি কেবল তাদের খাবারই নয়, তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে জর্জিয়ার বুকে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট আর মর্টগেজের মূল কিস্তি হিসাব করলেই পুরো খরচ বোঝা যায় না। মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচ যুক্ত হতে পারে। এর বাইরে হোমওনার এসোসিয়েশন ফি, ইউটিলিটিজ, মেইনটেন্যান্স ও বাড়ি মেরামতের খরচও নতুন হোমওনারের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, একটি বাড়ির প্রকৃত মাসিক খরচ হিসাব করার সময় শুধু প্রিন্সিপাল ও ইন্টারেস্ট নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সও বিবেচনা করা উচিত। অনেক মর্টগেজে এসব খরচ এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাসিক পেমেন্টের সঙ্গে সংগ্রহ করা হয়। প্রথমবার বাড়ি কিনছেন এমন ক্রেতাদের জন্য তাই শুধু “আমার মর্টগেজ পেমেন্ট কত হবে?” প্রশ্নটি যথেষ্ট নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, “প্রতি মাসে বাড়ির জন্য আমাকে মোট কত টাকা দিতে হবে?” প্রথম যে অতিরিক্ত খরচটি সামনে আসে, সেটি হলো প্রপার্টি ট্যাক্স। বাড়ির লোকেশন ও স্থানীয় ট্যাক্স রেটের ওপর এই খরচ নির্ভর করে। অনেক লেন্ডার মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্সের অর্থ এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখে এবং নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ দিয়ে ট্যাক্স পরিশোধ করে। তবে সব লোনের কাঠামো একই নয়। কিছু ক্ষেত্রে হোমওনারকে সরাসরি স্থানীয় ট্যাক্স অথরিটিকে প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হতে পারে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স। বাড়ির লোকেশন, বাড়ির ধরন, কভারেজ এবং বিভিন্ন ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের খরচ পরিবর্তিত হয়। এটিও অনেক সময় এসক্রোর মাধ্যমে মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়। কম ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাড়ি কিনলে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচও যুক্ত হতে পারে। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, কনভেনশনাল লোনে সাধারণভাবে ২০ শতাংশের কম ডাউন পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স বা পিএমআই লাগতে পারে। এফএইচএ ও অন্যান্য কিছু লোন প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের আলাদা নিয়ম রয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি। কোনো কনডো, টাউনহোম বা এইচওএ কমিউনিটিতে বাড়ি কিনলে এই ফি দিতে হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এইচওএ ফি সাধারণত মর্টগেজ পেমেন্টের মধ্যে থাকে না। এটি সাধারণত এইচওএকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়। তাই কোনো বাড়ির লিস্টিংয়ে যদি মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট কম দেখানো হয়, সেটি দেখে পুরো মাসিক হাউজিং কস্ট ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এইচওএ ফি থাকলে সেটিও মাসিক বাজেটে যোগ করতে হবে। মাসিক খরচের বাইরে বাড়ি কেনার সময়ও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ক্লোজিং কস্টস। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, ডাউন পেমেন্টের বাইরে ক্লোজিং কস্টস সাধারণত বাড়ির বিক্রয় মূল্যের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তবে প্রকৃত খরচ নির্ভর করে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, লেন্ডারের চার্জেস, লোন টাইপ, বাড়ির ধরন এবং লোকেশনের ওপর। ক্লোজিং কস্টসের মধ্যে লেন্ডার চার্জেস, অ্যাপ্রেইজাল, টাইটেল-রিলেটেড ফি, কিছু গভর্নমেন্ট ফি, প্রিপেইড ইন্টারেস্ট, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ইনিশিয়াল প্রিমিয়াম এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের ইনিশিয়াল ডিপোজিটের মতো খরচ থাকতে পারে। হোম ইন্সপেকশনের খরচও আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে। এখানে আরেকটি বিষয় ফার্স্ট-টাইম হোমবায়ারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো লেন্ডার ক্লোজিং কস্টসের কিছু অংশ বহনের জন্য লেন্ডার ক্রেডিট দিলে সেটিকে সব সময় “ফ্রি মানি” হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে এর বিনিময়ে বেশি ইন্টারেস্ট রেট হতে পারে। ফলে শুরুতে আপফ্রন্ট কস্ট কম মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। বাড়ি কেনার পর শুরু হয় আরেক ধরনের খরচ। নতুন হোমওনারকে ইলেকট্রিসিটি, গ্যাস, ওয়াটার, স্যুয়ার, ট্র্যাশ এবং ইন্টারনেটের মতো বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল দিতে হয়। এগুলো সাধারণত মর্টগেজ পেমেন্টের অংশ নয়। এর পাশাপাশি বাড়ির মেইনটেন্যান্স ও রিপেয়ারের খরচও মাথায় রাখতে হবে। রুফ, এইচভিএসি সিস্টেম, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, ওয়াটার হিটার কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ্লায়েন্সে সমস্যা হলে হোমওনারকেই খরচ বহন করতে হয়। তাই বাড়ি কেনার বাজেট করার সময় মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার, মুভিং কস্টস, ফার্নিচার এবং হোম ইমপ্রুভমেন্টের জন্যও আলাদা অর্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বাড়ি ফ্লাড-রিস্ক এলাকায় হলে অ্যাডিশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। আবার বাড়ির বয়স, এনার্জি এফিশিয়েন্সি এবং লোকেশনের মতো বিষয় ভবিষ্যতের ইউটিলিটি কস্ট এবং ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রথমবার বাড়ি কেনার সময় একটি সহজ হিসাব হলো, প্রিন্সিপাল ও ইন্টারেস্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স যোগ করে আগে টোটাল মান্থলি মর্টগেজ পেমেন্ট দেখতে হবে। এরপর এইচওএ ফি, ইউটিলিটিজ এবং ফিউচার মেইনটেন্যান্সের সম্ভাব্য খরচ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। মর্টগেজ নেওয়ার সময় লোন এস্টিমেট এবং ক্লোজিং ডিসক্লোজারও ভালোভাবে দেখা জরুরি। এসব ডকুমেন্টে মান্থলি পেমেন্ট, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এবং এসক্রোর মাধ্যমে পরিশোধ করা প্রপার্টি ট্যাক্স ও হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। ক্লোজিংয়ের আগে ক্লোজিং ডিসক্লোজার হাতে পাওয়ার পর সেটি আগের লোন এস্টিমেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে বায়ারদের খেয়াল রাখা উচিত, কোনো প্রপার্টি ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স বা এইচওএ ফি এসক্রোর বাইরে আছে কি না। থাকলে সেই অর্থ মর্টগেজ কোম্পানিকে দেওয়া মান্থলি পেমেন্টের মধ্যে নাও থাকতে পারে এবং হোমওনারকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লেন্ডার আপনাকে যত টাকার মর্টগেজের জন্য কোয়ালিফাই করাচ্ছে, সেটি আপনার পরিবারের জন্য আরামদায়কভাবে বহনযোগ্য মান্থলি হাউজিং কস্টের সমান নয়। বাড়ি কেনার সামর্থ্য নির্ধারণের সময় পরিবারের ইনকাম, অন্যান্য ডেট, সেভিংস এবং দৈনন্দিন খরচও বিবেচনা করা জরুরি। অর্থাৎ, প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু “মর্টগেজ পেমেন্ট কত?” এই প্রশ্নের উত্তর জানলেই হবে না। বরং “মর্টগেজসহ প্রতি মাসে মোট হাউজিং কস্ট কত হবে এবং বাড়ি কেনার পর হঠাৎ কোনো বড় খরচ এলে সেটি সামলানোর মতো সেভিংস থাকবে কি না”—এই দুই প্রশ্নের উত্তর জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি কেনা জীবনের বড় আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তাই বাড়ির দাম ও মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স, এইচওএ ফি, ক্লোজিং কস্টস, ইউটিলিটিজ এবং মেইনটেন্যান্সের সম্ভাব্য খরচ আগে থেকে হিসাব করে এগোলে নতুন হোমওনারদের জন্য মাসিক বাজেট অনেক বেশি বাস্তবসম্মতভাবে তৈরি করা সম্ভব।
‘বার্থ ট্যুরিজম’ সহায়তাকারীদের ভিসা সীমিত করার ঘোষণা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
যারা আমেরিকাকে বদলাতে চান তাদের অন্য দেশে যাওয়ার পরামর্শ বিচারক জুডির
জর্জিয়ার আলফারেটায় গড়ে উঠেছে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ আরব কমিউনিটি
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা এই রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে অভিযানের শুরু থেকে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এসব ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবারের তারিখ দেওয়া ওই চিঠিটি বুধবার প্রকাশ্যে আসে। গিলিব্র্যান্ড ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জাহাজের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে নৌবাহিনীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। হাং কাওয়ের চিঠি অনুযায়ী, আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার হিসাব শুধু ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মূল ক্রুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে ক্যারিয়ারের বিমান শাখা, ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের কর্মী, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং জাহাজে অবস্থানরত বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় কোনো নাবিক আত্মহত্যা করে মারা যাননি। এর আগে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বাড়তি সংকট দেখা যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। নতুন তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। কাও জানান, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য জাহাজে পাঁচজন ধর্মীয় পরামর্শদাতা, একজন মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিরোধবিষয়ক সমন্বয়কারী, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী, তিনজন আচরণগত স্বাস্থ্যকর্মী এবং একটি প্রশিক্ষিত সহায়ক কুকুর ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য জাহাজেও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা ছিল। নতুন এই তথ্যের সঙ্গে জাহাজটির দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এর অভিযান ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে। পরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজটির দায়িত্বের ক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছানোর আগে জাহাজটি প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানের সময় জাহাজটির স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিল। দীর্ঘ সময় কোনো বন্দরে না থেমে দায়িত্ব পালনের কারণে নাবিকদের কর্মপরিবেশ, বিশ্রাম, খাবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে নাবিকদের পরিবার ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগস্টে মার্কিন সিনেটের কয়েকজন সদস্য নৌবাহিনীর কাছে পরিস্থিতি নিয়ে জবাবও দাবি করেন। আগস্টে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ অভিযান মিশনের প্রয়োজনেই বাড়ানো হয়েছিল। তিনি তখন জানান, নাবিক ও মেরিনদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ওই বিবৃতিতে ২৬৬ দিনের মোতায়েন ও ২০০ দিন যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনা চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছিল, তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। এদিকে জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ অভিযানের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এমন বক্তব্যকে খাটো করে দেখেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নতুন করে আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার তথ্য প্রকাশের পর তাঁর অবস্থান নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশাসন যে উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি, সেগুলো এখন গুরুতর পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের এই অংশটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে এবং এটি গিলিব্র্যান্ডের নিজস্ব মূল্যায়ন। তবে আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার সংখ্যা পুরো নৌবাহিনীর তুলনায় কী অবস্থানে রয়েছে, সে বিষয়েও প্রেক্ষাপট রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে ৩৫৬টি আত্মহত্যার চেষ্টা নথিভুক্ত হয়েছিল। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপে প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে মোতায়েন ছিলেন। তবে একটি নির্দিষ্ট অভিযানের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের বার্ষিক পরিসংখ্যানের সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সময়কাল ও জনসংখ্যার পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগস্টের শুরুতে ক্যারিয়ার এয়ার উইংয়ের একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার করা হয় এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মার্চে আরেক নাবিক পানিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে সহকর্মীরা তাকে থামিয়ে দেন এবং পরে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। দীর্ঘ অভিযানের অবসানে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ থাইল্যান্ডে নির্ধারিত বন্দর সফরে যায়। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, লায়েম চাবাংয়ে অবস্থানটি ছিল দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর নাবিক ও মেরিনদের বিশ্রাম নেওয়ার একটি সুযোগ। ৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাইক গ্রুপটি থাইল্যান্ড ত্যাগ করে। আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার নতুন তথ্য প্রকাশের ফলে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য, যুদ্ধকালীন দায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: নিউজউইক, সিএনএন ও মার্কিন নৌবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়েও চিকিৎসা না নেওয়ায় স্বাস্থ্যবিমা থেকে বাদ ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাইবারট্রাক ব্যাক করতে গিয়ে নিজের ৬ বছরের ছেলেকে চাপা দিলেন বাবা, প্রাণ গেল শিশুর
নিউইয়র্কে গ্র্যাসি ম্যানশনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে স্বাগত জানালেন মামদানী
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও করণিক ভুলের কারণে ২০০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক ভুলবশত ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা সরকারি নথিপত্র থেকে জানা গেছে, মূলত ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং স্টেট আইডি প্রক্রিয়াকরণের সময় এই মারাত্মক ভুলগুলো ঘটেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের শাসিত প্রায় এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থায় এই দুর্বলতা ধরা পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৭ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ভোটারের দেশে এই সংখ্যাটি এতটাই নগণ্য যে এর কারণে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই। এই অ-নাগরিকদের মধ্যে ঠিক কতজন বাস্তবে ভোট দিয়েছেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে, অবৈধভাবে অভিবাসীদের ভোটার করার কোনো সংঘবদ্ধ অপচেষ্টার বদলে মূলত আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক ত্রুটিই এর পেছনে দায়ী। অথচ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদেশিদের দিয়ে ভোট দেওয়ানোর এক ব্যাপক জালিয়াতি চলছে। এই তথাকথিত জালিয়াতি ঠেকাতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কংগ্রেসে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) পাসের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ভোটার নিবন্ধনের জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার জন্য ছবিযুক্ত আইডি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, এই আইন পাস হলে পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সংগ্রহে জটিলতার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও সংখ্যালঘুরা ব্যাপক হারে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, আর কাঠামোগত ত্রুটিগুলো রয়েই যাবে। সম্প্রতি নিউজার্সিতে এমন একটি বড় ত্রুটির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। অঙ্গরাজ্যটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন অ-নাগরিক ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, যদিও তারা লাইসেন্সের আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা মার্কিন নাগরিক নন। আইওয়া, টেক্সাস ও সাউথ ডাকোটার মতো রিপাবলিকান অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যসহ মোট ১১টি অঙ্গরাজ্যে এমন আমলাতান্ত্রিক ভুলের প্রমাণ মিলেছে। ১৯৯৩ সালের 'ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট'-এর অধীনে চালু হওয়া 'মোটর-ভোটার' সিস্টেমের মাধ্যমেই মূলত এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় মানুষ যখন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অন্যান্য সরকারি সেবার জন্য আবেদন করেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে যান। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন থেকে শুরু করে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলসের (DMV) এমন ভুলে বহু বৈধ এবং অবৈধ অভিবাসী ভুলবশত ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন, যা মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকেই সামনে আনছে।
নিউইয়র্কের রাস্তায় দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেন বগুড়ার রুশমী, উচ্ছ্বসিত তাঁর শিক্ষক
নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত