সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের ৫ ক্যাটাগরি
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র

পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন আত্মীয় যোগ্য হতে পারেন, তা স্পষ্ট করেছে দেশটির ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফ্যামিলি-স্পনসর্ড প্রেফারেন্স প্রোগ্রামের আওতায় মার্কিন নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট কিছু আত্মীয় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে বার্ষিক ভিসা সংখ্যার সীমা রয়েছে।   এই ব্যবস্থায় মোট পাঁচটি প্রধান ক্যাটাগরি রয়েছে—এফ১, এফ২এ, এফ২বি, এফ৩ এবং এফ৪। কোন ক্যাটাগরি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের সদস্যের সম্পর্ক এবং স্পনসর মার্কিন নাগরিক নাকি গ্রিন কার্ডধারী, তার ওপর।   এফ১: ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন, যদি তাদের স্পনসর মার্কিন নাগরিক হন।   এফ২এ: যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এই ক্যাটাগরির জন্য বিবেচিত হন।   এফ২বি: গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন।   এফ৩: মার্কিন নাগরিকের বিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন। তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধীনে সন্তানরাও সংশ্লিষ্ট পারিবারিক ইমিগ্রেশন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   এফ৪: অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। যোগ্যতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভাই বা বোনের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যও ডেরিভেটিভ সুবিধা থাকতে পারে।   তবে এসব ক্যাটাগরিতে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রেফারেন্স ক্যাটাগরি ও অগ্রাধিকার তারিখের ওপর ভিসা পাওয়ার সময় নির্ভর করে। ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে যোগ্য আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন।   এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজেদের পারিবারিক সম্পর্ক অনুযায়ী সঠিক ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এফ১, এফ২এ, এফ২বি, এফ৩ ও এফ৪—প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও ভিসা-সংক্রান্ত অপেক্ষার নিয়ম রয়েছে।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৭:৫
তারেক রহমানসহ নেতারা
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আজ জাতিসংঘে বড় বৈঠকে তারেক রহমানসহ বিশ্ব নেতারা

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় আনতে আজ বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এই আয়োজন করছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এতে সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের অংশ হিসেবে আয়োজিত বৈঠকটি নিউইয়র্ক সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম ১১-তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।    অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘The Rohingya Crisis: A Renewed Call for a Durable Solution from Protracted Displacement, with Justice and Accountability’। এতে সদস্যরাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।   বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এর আগে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করবে।   উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে শুধু প্রত্যাবাসন নয়, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকাশিত কনসেপ্ট নোট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পর সংকটটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।   জাতিসংঘ সফরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই। বৈঠকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।    জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   এদিকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি সমন্বিত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের কনট্যাক্ট গ্রুপ রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।   আজকের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক জবাবদিহি, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকা জোরদার করাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৭:০
চাকরির অফার ছাড়াই গ্রিন কার্ডের সুযোগ, রয়েছে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
গ্রিন কার্ড পেতে চাকরির অফার বাধ্যতামূলক নয়, যে ৩ শর্ত জানাল ইউএসসিআইএস

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির অফার বা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি সুযোগ রয়েছে বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য। ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ নামের এই প্রক্রিয়াটি ইবি-২ ইমিগ্রেশন শ্রেণির আওতায় পড়ে। এর মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা নিজেরাই আবেদন করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চাকরির অফার ও পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশনের শর্ত মওকুফের আবেদন করতে পারেন।   তবে এনআইডব্লিউর জন্য আবেদন করলেই সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। প্রথমে আবেদনকারীকে ইবি-২ শ্রেণির মৌলিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ তাকে অ্যাডভান্সড ডিগ্রিধারী পেশাজীবী হতে হবে অথবা বিজ্ঞান, শিল্পকলা কিংবা ব্যবসায় অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এই প্রাথমিক যোগ্যতা পূরণ না হলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বিবেচনাই করা হয় না।   ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, ইবি-২ যোগ্যতা প্রমাণের পর এনআইডব্লিউ পেতে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আবেদনকারীর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব এবং জাতীয় গুরুত্ব থাকতে হবে। অর্থাৎ শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, ওই কাজের সম্ভাব্য প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে।   দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে প্রস্তাবিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম অবস্থানে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে তার শিক্ষা, দক্ষতা, জ্ঞান, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আগের সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কাজটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে করা অগ্রগতি বিবেচনা করতে পারে ইউএসসিআইএস।   তৃতীয়ত, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চাকরির অফার এবং সংশ্লিষ্ট লেবার সার্টিফিকেশনের শর্ত মওকুফ করা লাভজনক হবে—এটি প্রমাণ করতে হবে। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে আবেদনকারীর কাজ, যোগ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার সম্ভাব্য অবদানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।   অর্থাৎ এনআইডব্লিউর ক্ষেত্রে তিনটি শর্তই পূরণ করা প্রয়োজন। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে এবং আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় প্রমাণের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হয়।   চাকরির অফারের শর্ত মওকুফ হলেও আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়। এনআইডব্লিউ আবেদনের ক্ষেত্রে লেবার সার্টিফিকেশনের কিছু আবেদনকারী-সংক্রান্ত অংশ জমা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে, যদিও নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ওই সার্টিফিকেশনের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন থাকে না।   এই পথটি বিশেষ করে গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো কাজ করতে চান যার সম্ভাব্য গুরুত্ব বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যারা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই নিজেদের পেশাগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চান।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:৫১
নিউইয়র্কে তারেক রহমান–এরদোয়ান
নিউইয়র্কে তারেক রহমান–এরদোয়ান বৈঠক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আলোচনা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতা বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী এবং বহুমাত্রিক করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।    আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে, সেগুলো আরও সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান ও এরদোয়ান।   বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই নেতা।   তুরস্কের পক্ষের বিবরণ উদ্ধৃত করে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, এরদোয়ান ঢাকা–আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।    রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এরদোয়ান আশ্রয়, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান।   বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে।    দুই নেতা বৈঠক শেষে বাংলাদেশ–তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:৪১
মেক্সিকোর উপকূলে শক্তিশালী হ্যারিকেন পোলা, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলেও ঝড়ের শঙ্কা
সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা, মেক্সিকোর কাছে শক্তিশালী হ্যারিকেন পোলা

প্রশান্ত মহাসাগরে মেক্সিকোর উপকূলের কাছে শক্তিশালী হ্যারিকেন পোলা অবস্থান করছে। একই সময়ে আটলান্টিক মহাসাগরে তৈরি হওয়া আরেকটি আবহাওয়া ব্যবস্থা সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস ও উপকূলে ক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   হ্যারিকেন পোলা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বর্তমানে ঘণ্টায় প্রায় ১৫৫ মাইল বেগে বাতাস নিয়ে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে রয়েছে। এর আগে ঝড়টির সর্বোচ্চ বাতাসের গতি প্রায় ১৮০ মাইল প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছেছিল। সর্বশেষ জাতীয় হ্যারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, পোলা বর্তমানে ক্যাটাগরি ৪ হ্যারিকেন হিসেবে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী অবস্থায় থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   পোলার প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঝড়টির কেন্দ্র মেক্সিকোর উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি মূলত সমুদ্রের ওপর দিয়েই থাকার কথা।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপকূলের কাছেও নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। মধ্য-আটলান্টিক উপকূলের কাছে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়ে সপ্তাহান্তে নিউ ইংল্যান্ডের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে এর সঠিক গতিপথ নিয়ে আবহাওয়ার মডেলগুলোর মধ্যে এখনও পার্থক্য রয়েছে।   কোন পথে নিম্নচাপটি এগোবে, তার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করবে। তবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস, জলোচ্ছ্বাস এবং সৈকত ক্ষয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ফক্স ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে সপ্তাহান্তের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হবে।   আটলান্টিক অববাহিকায় সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম উদ্বেগজনক। আফ্রিকার উপকূল থেকে দূরে একটি ক্রান্তীয় তরঙ্গ রয়েছে, যেটি আগামী সাত দিনে নামকরণযোগ্য ঝড়ে পরিণত হওয়ার ৪০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   কম্পিউটার মডেলগুলো বলছে, ওই সিস্টেমটি কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের কাছে উত্তরমুখী হয়ে যেতে পারে। ফলে বর্তমানে এটি জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগ থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:৩৮
ফ্লোরিডার উপকূলে নৌযান থেকে ১৩ চীনা নাগরিকসহ ২২ জন আ টক
সাগরপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা, ফ্লোরিডার উপকূলে ১৩ চীনা নাগরিকসহ ২২ জন আ টক

সাগরপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ফ্লোরিডার উপকূলের কাছে একটি নৌকা থেকে ১৩ জন চীনা নাগরিকসহ ২২ জনকে আ টক করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি ও কোস্ট গার্ড। এ সময় নৌকাটি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কিউবার এক নাগরিককেও আ টক করা হয়েছে।   মঙ্গলবার ফ্লোরিডার কী লার্গোর কাছে অ্যাঞ্জেলফিশ ক্রিক এলাকায় ২৭ ফুটের একটি নৌযান শনাক্ত করে সিবিপির এয়ার অ্যান্ড মেরিন অপারেশনসের একটি বিমান। পরে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নৌযানটি থামানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই আ টক করা সম্ভব হয়েছে।   আ টক ২২ জনের মধ্যে ১৩ জন চীনের নাগরিক, আটজন ইকুয়েডরের এবং একজন ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। নৌযানটি জব্দ করা হয়েছে এবং আ টক ব্যক্তিদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইউএস কোস্ট গার্ডের কাটার ‘পাবলো ভ্যালেন্ট’-এ নেওয়া হয়।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যারিবীয় সাগরের এই ধরনের সমুদ্রপথ ব্যবহার করে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের স্থল সীমান্তপথে বেশি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সিবিপির এয়ার অ্যান্ড মেরিন অপারেশনসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক আন্দ্রেস ব্লাঙ্কো বলেন, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার ভাষ্য, এই অভিযান মানব পা চারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার উদাহরণ।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমুদ্রপথে এ ধরনের যাত্রায় প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। আ টক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।   ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের কর্মকাণ্ড নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:২৯
মেট্রোরেল
চলন্ত মেট্রোরেলে অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে বিপত্তি, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল

রাজধানীর উত্তরা–মতিঝিল রুটে চলন্ত মেট্রোরেলের অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে যাওয়ার ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রায় ২৬ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখার পর ত্রুটি ঠিক করে আবার ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়।    এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. মহসিন শেখের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মতিঝিলগামী একটি ট্রেন শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে থাকার সময় ঘটনাটি ঘটে। প্রথম কোচসংলগ্ন নারী যাত্রীদের অংশে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে অপারেটরের কেবিনের দরজার তালা খুলে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।    ট্রেনটি সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে আগারগাঁও স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরা–মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দরজার সমস্যাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।    প্রায় ২৬ মিনিট পর, সকাল ৮টা ৩ মিনিটে আবার মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়। ঘটনার পর উত্তরা–মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে শুধু চলন্ত ট্রেনের দরজা খুলে যাওয়ার কথা বলা হলেও, দ্য ডেইলি স্টারের বিস্তারিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এটি যাত্রী ওঠানামার সাধারণ দরজা নয়; ট্রেন অপারেটরের কেবিনের দরজার তালা খুলে যাওয়ার ঘটনা। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:১৭
তরুণদের মধ্যে বাড়ছে কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর উদ্বেগ
তরুণদের কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর হার বাড়ছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা

একসময় কোলন ও রেক্টামের ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সী মানুষের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার এখন ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এই মৃত্যুহার সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে বাড়েনি।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী কোলন ও রেক্টাল ক্যানসারে মারা যাওয়া এক লাখ এক হাজারের বেশি মানুষের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই ৩০ বছরে ওই বয়সী মানুষের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৩ জন থেকে বেড়ে প্রায় ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।   তবে তথ্য আরও বিশ্লেষণ করার পর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। যাদের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৪ জন থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ জন হয়েছে। অন্যদিকে অন্তত ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ২ দশমিক ৭ জনের কাছাকাছিই স্থির রয়েছে।   গবেষকদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে আয়, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সুযোগের সম্পর্ক রয়েছে। কলেজ ডিগ্রি না থাকা মানুষের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম বেতনের কাজে যুক্ত থাকেন, যেখানে স্বাস্থ্যবিমা বা বেতনসহ ছুটির সুবিধা কম থাকতে পারে। এর ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কঠিন হতে পারে।   শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝার সক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের মধ্যে এমন এলাকায় বসবাসের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে, যেখানে পরিবেশ দূষণ বেশি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার বা শরীরচর্চার সুযোগ তুলনামূলক কম। ধূমপান ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মতো বিষয়ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।   তবে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে তরুণদের মৃত্যুহার কেন বাড়ছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। গবেষকেরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, চিকিৎসা নিতে দেরি করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অসম প্রবেশাধিকারের মতো একাধিক কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৫৮ হাজারের বেশি নতুন কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে এবং ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ রোগের নতুন রোগীও এখন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন, কারণ সে সময় রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত।   তরুণদের মধ্যে রোগটির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ২০২১ সালে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিং শুরুর সুপারিশ করা বয়স ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৫ বছর করেছে। চিকিৎসকেরা একই সঙ্গে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সী কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে রোগটি উন্নত পর্যায়ে শনাক্ত হয়। এর একটি কারণ হতে পারে, তরুণদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেক সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তাই বয়স কম হলেও অস্বাভাবিক উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:৯
২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে আগাম রাজনৈতিক তৎপরতা
২০২৬ চলছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়ে গেছে ২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট দৌড়

যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় আসেনি, কিন্তু এরই মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমন সব রাজ্যে সফর করছেন, যেগুলো পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নীতিগত অবস্থান তুলে ধরছেন, কেউ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।   সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নিজেদের জাতীয় পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ পান। তারা দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে।   ডেমোক্র্যাট শিবিরে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস, নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার ও ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকারসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এদের কেউই এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।   ওকাসিও-কর্টেজ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি আরও জোরালো করেছেন। তিনি ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি। একইভাবে হ্যারিসও এখনো দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। শাপিরো ও বেসিয়ারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।   রিপাবলিকান শিবিরেও ২০২৮ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার পাশাপাশি সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর র‌্যান্ড পল, ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর রন ডেসান্টিসের নামও আলোচনায় রয়েছে।   ট্রাম্পের পর রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেটিও ২০২৮ সালের দৌড়ের একটি বড় প্রশ্ন। দলটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা কতটা ধরে রাখবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কীভাবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করবেন—এ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভ্যান্স ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, অন্যদিকে ক্রুজ ও পলসহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের আলাদা অবস্থানও তুলে ধরছেন।   ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্ন হলো, দলটি ২০২৮ সালে কোন রাজনৈতিক বার্তা সামনে আনবে। প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছেন।   তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান বদলে যেতে পারে। তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:০
আইসক্রিমে ধাতব পেরেক গিলে গুরুতর অসুস্থ নারী
আইসক্রিমে পেরেক গিলে গুরুতর অসুস্থ নারী পেলেন ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ

ফ্লোরিডায় বাটার পেকান আইসক্রিম খাওয়ার পর পেরেক ও ধাতব টুকরো গিলে গুরুতর স্বাস্থ্যজটিলতায় পড়া এক নারীকে ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জুরি। ব্র্যান্ডি বাকলি নামের ওই নারী ২০১৮ সালে পাম বে শহরের একটি ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের দোকান থেকে আইসক্রিম কিনেছিলেন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিচার শেষে ২০২৬ সালের মার্চে ব্রেভার্ড কাউন্টির ছয় সদস্যের জুরি তার পক্ষে রায় দেন।   ঘটনার দিন বাকলি তার ছেলেকে নিয়ে দোকান থেকে বাটার পেকান আইসক্রিম কিনেছিলেন। আইসক্রিম খাওয়ার পর তার গলায় কিছু আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। প্রথমে তিনি সেটিকে পেকানের টুকরো বলে মনে করেছিলেন। পরে আরও আইসক্রিম নেওয়ার সময় তিনি আইসক্রিমের মধ্যে একটি ধাতব পেরেক দেখতে পান। হাসপাতালে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তিনি ধাতব একটি বস্তু গিলে ফেলেছেন।   বাকলির আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে একটি পেরেক ও একাধিক ধাতব টুকরো বের করেন। এরপরও তার চিকিৎসা চলতে থাকে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি পোর্টাল ভেইন থ্রম্বোসিস অর্থাৎ রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতায় আক্রান্ত হন এবং উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে আরও একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   বাকলির আইনজীবীদের দাবি, চিকিৎসার পর তিনি স্থায়ীভাবে সন্তান ধারণের সক্ষমতা হারান। এই স্বাস্থ্যজটিলতার পাশাপাশি আইসক্রিমে ধাতব বস্তু থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালে তিনি মালাবার ক্রিমারিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের পণ্যে ধাতব পেরেক ও অন্যান্য ধাতব টুকরো ছিল, যার কারণে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।   মামলার জবাবে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি ছিল, বাকলির নিজের অবহেলাও ঘটনার জন্য দায়ী বা আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, বিক্রি করা আইসক্রিম ত্রুটিপূর্ণ ছিল না।   দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিচার চলার পর জুরি স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজার—দুই পক্ষকেই দায়ী করেন। এরপর বাকলির জন্য মোট ১৪,১৪৭,৫২৫ দশমিক ৩৯ ডলার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়। মামলার আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ব্যয়, শারীরিক ক্ষতি ও ভোগান্তিসহ বিভিন্ন ক্ষতির জন্য এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে জুরির রায়ের পরও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বাকলির আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়েশ জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে জুরির নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বাকলি কবে হাতে পাবেন, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। সোর্স- ওয়েশ, কেসিসিআই, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো, ব্রেভার্ড কাউন্টি আদালতের নথি, আলপিজার ল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৫:৪৩
পাকিস্তান-ভারত ড্রোন উত্তেজনা ও মার্কিন প্রতিরক্ষা সমীকরণ
ভারতের পর পাকিস্তান—দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশেই একই অ্যান্টি-ড্রোন চুক্তি ট্রাম্প কোম্পানির

পাকিস্তান এমন একটি মার্কিন ড্রোন কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে, যার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প। একই কোম্পানি এর আগে ভারতের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশটিতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি ও বিক্রির চুক্তি করেছে। বিষয়টি পাকিস্তান-ভারতের প্রতিরক্ষা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পাওয়ারাসের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পরদিন কোম্পানিটি জানায়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের কাছ থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন-সংক্রান্ত একটি সীমিত ক্রয়াদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়েছে। তবে চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং কোন ধরনের ড্রোন সরবরাহ করা হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।   পাওয়ারাস জানিয়েছে, এমওইউটি কোনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো বাধ্যতামূলক ক্রয়ের প্রতিশ্রুতিও তৈরি হয়নি। চুক্তির পরবর্তী কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রযুক্তি উৎপাদন বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনাও তারা বিবেচনা করছে।   এই চুক্তির সঙ্গে ভারতের সংযোগটিই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ৩০ জুন ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া নথিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান পারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস জানায়, পাওয়ারাস তাদের গার্ডিয়ান-১ ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ভারতে উৎপাদন ও বিক্রির একচেটিয়া লাইসেন্স দিয়েছে। অর্থাৎ একই মার্কিন কোম্পানি পাকিস্তানে ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাওয়ারাস একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ড্রোন কোম্পানি এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের এমওইউতে প্রাথমিক ড্রোন-সংক্রান্ত অর্ডারও রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থানীয় উৎপাদন ও যৌথ উদ্যোগ নিয়েও চুক্তিতে কাঠামো রাখা হয়েছে।   পাওয়ারাস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ফ্লোরিডাভিত্তিক কোম্পানি। কোম্পানিটি নাসডাক-তালিকাভুক্ত অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন নিয়ন্ত্রক নথির বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প আমেরিকান ভেঞ্চারস নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়ারাসে বিনিয়োগ করেছেন। তবে ট্রাম্প জুনিয়রের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তিনি একজন নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির পরিচালনা বা চুক্তিতে তার কোনো ভূমিকা নেই।   পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের হাতে ইতোমধ্যে তুরস্ক ও চীনের তৈরি বিভিন্ন ড্রোন এবং নিজস্বভাবে তৈরি ড্রোন রয়েছে। আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলা একাধিক বিশ্লেষক বলেছেন, পাওয়ারাসের প্রযুক্তি পাকিস্তানের জন্য বিশেষ করে কম খরচে ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার জন্য ভবিষ্যতে সরবরাহ, স্থানীয় উৎপাদন এবং পরবর্তী ক্রয়চুক্তি কীভাবে এগোয়, তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে।   একই উৎসের প্রযুক্তি পাকিস্তান ও ভারতের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের কাছে যাওয়ায় অপারেশনাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলেছেন, একই সরবরাহকারীর কাছ থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিটির জন্য দুই পক্ষের চাহিদা ও তথ্যের নিরাপত্তা আলাদাভাবে পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সোর্স- আল জাজিরা, রয়টার্স, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৫:১৮
প্রবাসজীবনে বদলে যায় সম্পর্কের যোগাযোগ
বিদেশে গেলেই কি সম্পর্কের দায় শুধু প্রবাসীর - অভিজ্ঞতা জানালেন শিকাগোপ্রবাসী ভারতীয় নারী

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর দেশে থাকা স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্কের যোগাযোগ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন শিকাগোপ্রবাসী ভারতীয় নারী কানিশকা জাসোরিয়া। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর থাকার সময়ে নিকট পরিবারের সদস্যদের বাইরে মাত্র দুজন তাকে ফোন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—বিদেশে থাকা মানুষদেরই কেন প্রায়ই “সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া” বা “ডিট্যাচড” হিসেবে দেখা হয়?   সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কানিশকা। ভিডিওতে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর অনেক সময় দেশে থাকা মানুষজন অভিযোগ করেন যে প্রবাসীরা আর আগের মতো যোগাযোগ রাখেন না। কিন্তু তার নিজের অভিজ্ঞতায়, যোগাযোগের উদ্যোগ সবসময় একপক্ষ থেকে আসেনি। ভিডিওটির ওপর “রিয়েলিটি অব এনআরআই” লেখা ছিল এবং ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “বেইজড অন ট্রু ইভেন্টস”। বিষয়টি হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও টাইমস নাউও প্রতিবেদন করেছে।   কানিশকার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছরে পরিবারের বাইরে যে দুজন তাকে ফোন করেছিলেন, তাদের কথোপকথনের ধরনও ছিল আলাদা। একজন জানতে চেয়েছিলেন, পরিবার ছাড়া তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবন সামলাচ্ছেন এবং ঋণের মতো বাস্তব বিষয় কীভাবে মোকাবিলা করেছেন। অন্যজন প্রশ্ন করেছিলেন, কাউকে না জানিয়ে কেন তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তার বক্তব্য, এই দুটো ফোনের বাইরে নিয়মিত যোগাযোগের অভিজ্ঞতা তার হয়নি।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই কানিশকা প্রশ্ন তুলেছেন, যখন যোগাযোগের চেষ্টা দুই পক্ষ থেকে সমানভাবে না আসে, তখন শুধু বিদেশে চলে যাওয়া ব্যক্তিকেই কেন “ডিট্যাচড” বলা হবে। তার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—দূরত্ব তৈরি হলে সম্পর্ক ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু বিদেশে থাকা ব্যক্তির ওপর থাকা উচিত নয়; যোগাযোগে দুই পক্ষেরই ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।   ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যবহারকারী নিজেদের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কানিশকার বক্তব্যের মিল খুঁজে পেয়েছেন। কেউ বলেছেন, বিদেশে যাওয়ার পর সম্পর্কের বাস্তবতা বদলে যায়; আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষেরই চেষ্টা প্রয়োজন।   তবে কানিশকার বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট হিসেবেই দেখা উচিত। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। কানিশকার লিংকডইন প্রোফাইলেও শিকাগো, ইলিনয়েসে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।   উৎস: হিন্দুস্তান টাইমস, কানিশকা জাসোরিয়ার ইনস্টাগ্রাম

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৫:৮
মিশিগানে আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে প্রাণ গেল অভিবাসী চালকের
মিশিগানে আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে প্রাণ গেল অভিবাসী চালকের

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিইর কর্মকর্তারা একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার পর চালক পালিয়ে যান। পরে গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ঘটনাটি ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ঘটে।   পুলিশের তথ্যমতে, সকাল প্রায় ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউয়ের কাছে আইসিই কর্মকর্তারা গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। চালক দ্রুতগতিতে সেখান থেকে চলে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেন্ড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর গাড়িতে আগুন ধরে যায়। চালক ছাড়া গাড়িতে আর কেউ ছিলেন না এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ প্রধান জো ট্রিগ জানিয়েছেন, গাড়িটি থামানোর চেষ্টা ও দুর্ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে পুলিশের তদন্তকারীরা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। এ কারণে তিনি মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করেছেন।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর ওই কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কোনো পূর্ব জ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। স্থানীয় পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহায়তা করছে।   পরবর্তী তদন্তে নিহত চালককে মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তিনি গুয়াতেমালার নাগরিক ছিলেন এবং প্রায় সাত বছর ধরে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে বসবাস ও নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন বলে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর সন্তানরা গুয়াতেমালায় রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিলারি শোলটেন আইসিইর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো ট্রাফিক স্টপ যেন প্রাণহানিতে শেষ না হয় এবং ওই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য; দুর্ঘটনার কারণ বা আইসিই কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।   এদিকে মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার মিশিগান স্টেট পুলিশকে ঘটনাটির বিষয়ে স্বাধীন পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে আইসিইর কার্যক্রম, গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে দুর্ঘটনা পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।   আইসিই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে পুলিশের বক্তব্যের বাইরে ফেডারেল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় আইসিইর থামানোর চেষ্টা ও চালকের মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি আইনগত বা কার্যকারণ সম্পর্ক স্থির হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নেই।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৪:২৭
চাকরির ইন্টারভিউতেই ম্যালওয়্যার, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ
চাকরির ইন্টারভিউতেই ম্যালওয়্যার, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ

চাকরির ইন্টারভিউ ও নিয়োগ পরীক্ষাকেই সাইবার হামলার ফাঁদে পরিণত করেছে উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট ‘ওয়াটারপ্লাম’ নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ। ভুয়া নিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে আইটি পেশাজীবীদের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে ইন্টারভিউ, কোডিং পরীক্ষা কিংবা সফটওয়্যার সমস্যা সমাধানের নামে ক্ষতিকর ফাইল ও কোড চালাতে প্রলুব্ধ করছে তারা। এতে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ঢুকে চুরি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ক্রিপ্টোকারেন্সি।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার, জাপানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি, অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং জার্মানির সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ‘ওয়াটারপ্লাম’কে ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নামেও শনাক্ত করা হয়।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই কার্যক্রমে ১০০টির বেশি দেশে অন্তত ৩০ হাজার ডিভাইস আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ৭ হাজারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট থেকে অর্থ বা অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অন্তত ১.৭ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১০.৭১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্তর কোরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।   মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপার, ওয়েব ডিজাইনার, ইঞ্জিনিয়ার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্লকচেইন ও ওয়েব৩ খাতের বিশেষজ্ঞরা এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। হ্যাকাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম, গিগ-ওয়ার্ক সেবা ও ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা এনএফটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।   ফাঁদের পরের ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়া ইন্টারভিউ বা টেকনিক্যাল অ্যাসাইনমেন্টের সময় প্রার্থীকে কোনো কোড চালানো, ফাইল ডাউনলোড করা, সফটওয়্যারের সমস্যা সমাধান করা কিংবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে বলা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনার আড়ালে থাকতে পারে ক্ষতিকর কোড। সেটি চালানোর পর ম্যালওয়্যার আক্রান্ত কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং হ্যাকাররা লগইন তথ্য, সংবেদনশীল নথি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত তথ্য চুরি করতে পারে।   কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত ডিভাইসের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানের তথ্য, মেধাস্বত্ব বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   এই ধরনের প্রতারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস-সোয়াপ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আগে থেকেই এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট কিছু আইটি কর্মী ভিডিও ইন্টারভিউতে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফলে শুধু ভিডিও কলে প্রার্থীর চেহারা দেখেই পরিচয় নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ করে আইটি চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকতে বলেছে। অচেনা নিয়োগকারীর পাঠানো কোড, ফাইল বা সফটওয়্যার নিজের মূল কম্পিউটারে চালানোর আগে তার উৎস যাচাই করা জরুরি। একইভাবে কোনো চাকরির প্রস্তাবে অস্বাভাবিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধ, অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার কিংবা পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যে অসঙ্গতি থাকলে বাড়তি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এফবিআইয়ের সাইবার সতর্কতা তালিকাতেও ‘ওয়াটারপ্লাম’ বা ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বরের যৌথ সতর্কবার্তাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, চাকরির স্বাভাবিক নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশের এই কৌশল আইটি পেশাজীবী ও নিয়োগদাতা—দুই পক্ষের জন্যই নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।   Source: এফবিআই, মার্কিন ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৪:২১
ফ্রান্সের সহায়তা না নিয়ে ৩০ ঘণ্টা সাগরে কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাল ৫১ অভিবাসী
ফ্রান্সের সহায়তা না নিয়ে ৩০ ঘণ্টা সাগরে কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাল ৫১ অভিবাসী

ফ্রান্সের উপকূলরক্ষীদের সহায়তা না নিয়ে ইংলিশ চ্যানেলে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় কাটানোর পর ৫১ অভিবাসী যুক্তরাজ্যের ডোভারে পৌঁছেছেন। ছোট নৌকাটিতে প্রায় ৬০ জন থাকার কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৫১ জনকে ডোভারে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ উদ্ধারকারী নৌযান তাদের সমুদ্র থেকে নিয়ে আসে এবং পরে সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    নৌকাটি সোমবার সকালে নরম্যান্ডি উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। ফরাসি উপকূলরক্ষী নৌকাটিকে অনুসরণ করছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীরা ৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়’ সমুদ্রে ছিলেন এবং ফ্রান্সের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নৌকাটি ইংলিশ চ্যানেল ধরে পূর্ব দিকে এগিয়ে ডোভারের দিকে যায়।    প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, অভিবাসীদের হ্যাম্পশায়ারের গোসপোর্টে নামানো হবে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সেখানে শত শত অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী জড়ো হন। স্থানীয় পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হয়। পরে নৌকাটি গোসপোর্টের পরিবর্তে ডোভারে নেওয়া হয়।    গোসপোর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জরুরি কর্মীর ওপর হামলা, অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো এবং অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।    অভিবাসীদের ডোভারে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ছোট নৌকায় আসা প্রত্যেককে আটক, পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে গোসপোর্টে যে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও পরিবহন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, অভিবাসীদের সেখানে না নেওয়ায় সেগুলো আর ব্যবহার করতে হয়নি।    ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় অভিবাসী আসা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৮০ জন ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ কম।    এ ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নৌকাটির দীর্ঘ পথযাত্রা। নরম্যান্ডি থেকে যাত্রা শুরু করে এটি চ্যানেলের পূর্বদিকে এগিয়ে ডোভারে পৌঁছায়। এর আগে চলতি মাসেও আরও পশ্চিম দিক থেকে একটি ছোট নৌকা যাত্রা করে আইল অব ওয়াইটের কাছে পৌঁছেছিল। কর্মকর্তারা তখন সেটিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখেছিলেন।    Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হ্যাম্পশায়ার অ্যান্ড আইল অব ওয়াইট পুলিশ  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:৫১
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, জাতিসংঘে মামদানিকে প্রকাশ্যে জবাব দেওয়ার ঘোষণা
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, জাতিসংঘে মামদানিকে প্রকাশ্যে জবাব দেওয়ার ঘোষণা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসার আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন এবং নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, জাতিসংঘে নিজের বক্তব্যে মামদানির সমালোচনারও জবাব দেবেন।    ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু মামদানিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি জাতিসংঘে ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়রের সমালোচনার জবাব দেবেন। নেতানিয়াহুর অভিযোগের বিষয়ে মামদানির পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি যে তিনি নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সমর্থন করেন। নেতানিয়াহুর অভিযোগকে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।    নেতানিয়াহু ও মামদানির মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। জুলাইয়ে মামদানি নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা তাঁর নেই।    মামদানির অবস্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির জারি করা নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সঙ্গেও যুক্ত। ২১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, আইসিসি যদি কাউকে গ্রেপ্তারের জন্য দায়ী করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। একই সময়ে তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বর্ণনা করেন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তোলেন। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।    মামদানি জুলাইয়ে নিউইয়র্কবাসীদের নেতানিয়াহুর সফরের সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সেই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিউইয়র্ক মেয়রের কার্যালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ সম্মেলনের ট্রান্সক্রিপ্টে মামদানি বলেন, তিনি কাউকে বিক্ষোভ করতে উৎসাহিত করেননি; বরং নিউইয়র্কবাসীর সাংবিধানিকভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে বলে তিনি সবসময় বলেছেন।    এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। মেয়রের কার্যালয়ের এক নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সময় নিউইয়র্কে প্রতিবছরই বিক্ষোভের সংখ্যা বাড়ে এবং এবারও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহিংসতা ও আইনভঙ্গ ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে।    নেতানিয়াহু ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সফরে তিনি খুব অল্প সময় নিউইয়র্কে থাকবেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে সেই সংক্ষিপ্ত সফরেও মামদানির সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ জাতিসংঘের অধিবেশনের আলোচনায় উঠে আসতে পারে।    নেতানিয়াহু ও মামদানির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে ইসরায়েলবিরোধী এবং ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। ফলে নেতানিয়াহুর সফর শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিষয় নয়, নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতেও তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:৪৬
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন

আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করে রিজেকশন পাওয়া মানেই প্রোফাইল দুর্বল, এমনটা নয়। ভালো সিজিপিএ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, এমনকি প্রকাশনা থাকার পরও একজন আবেদনকারী বাদ পড়তে পারেন। কারণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনে শুধু ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই বিবেচনা করা হয় না।   অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার সম্ভাবনা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, প্রোগ্রামের সঙ্গে ফিট এবং ওই বছরের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে দেখা হয়। ইউসি বার্কলির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতেও এমন হোলিস্টিক রিভিউয়ের কথা বলা হয়েছে।    এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রিসার্চ ফিট। একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ভালো হলেও তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টির কাজের মিল না থাকলে আবেদনটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে সম্ভাব্য অ্যাডভাইজার, ল্যাব এবং গবেষণার ক্ষেত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউসি বার্কলির বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের আগ্রহের মিল ব্যাখ্যা করতে বলে।    আরেকটি বড় বিষয় হলো রিসার্চ পটেনশিয়ালের প্রমাণ। সিভিতে শুধু “Research Assistant” লেখা থাকলেই কমিটি বুঝতে পারে না একজন আবেদনকারী আসলে কী কাজ করেছেন। কোন গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁর নিজের দায়িত্ব কী ছিল, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সেই কাজ থেকে কী শিখেছেন, এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা না থাকলেও থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ডেটা অ্যানালাইসিস, কনফারেন্স প্রেজেন্টেশন বা অন্য কোনো গবেষণাভিত্তিক কাজ গবেষণার প্রস্তুতি বোঝাতে পারে। এমআইটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন গাইডগুলোতেও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও তার নির্দিষ্ট অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।    স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা SOP-ও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে। শুধু নিজের জীবনের গল্প, স্বপ্ন বা মোটিভেশন তুলে ধরলে সাধারণত যথেষ্ট হয় না। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, কী ধরনের গবেষণা করতে চান, আগের অভিজ্ঞতা কীভাবে সেই আগ্রহ তৈরি করেছে এবং ওই প্রোগ্রামের ফ্যাকাল্টি ও রিসোর্স আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে মেলে, সেটি পরিষ্কারভাবে দেখাতে হয়। এমআইটি এবং ইউসি বার্কলির নির্দেশনাতেও প্রোগ্রাম ফিট, গবেষণার আগ্রহ এবং পূর্ববর্তী প্রস্তুতির মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    রেকমেন্ডেশন লেটার বা LOR-ও শুধু আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়। এমন শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত রেকমেন্ডেশন বেশি কার্যকর হতে পারে, যিনি আবেদনকারীর অ্যাকাডেমিক বা গবেষণার কাজ কাছ থেকে দেখেছেন এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারেন। গবেষণা করার সক্ষমতা সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমআইটির একটি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সরাসরি বলছে, অন্তত একজন এমন ফ্যাকাল্টির লেটার থাকা উপকারী যিনি আবেদনকারীর কাজ ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর স্বাধীন গবেষণার সক্ষমতা সম্পর্কে বলতে পারেন।    ফান্ডিংও এখানে আলাদা একটি বিষয়। ফুল ফান্ডেড অ্যাডমিশনে শুধু অ্যাডমিশন নয়, টিউশন, স্টাইপেন্ড, ফেলোশিপ বা টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মতো আর্থিক সহায়তার বিষয়ও জড়িত থাকে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হলেও নির্দিষ্ট বছরে ফান্ডিং কাঠামো বা উপলব্ধ পজিশন সীমিত হতে পারে। তবে সব প্রোগ্রামের ফান্ডিং মডেল এক নয়। কোথাও আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের ফান্ডিং প্যাকেজ থাকে, আবার কোথাও ফান্ডিং বিভিন্ন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউসি বার্কলির একটি এমএ/পিএইচডি প্রোগ্রাম পাঁচ বছরের ফান্ডিং প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ফেলোশিপ ও পেইড টিচিং দায়িত্বের সমন্বয় রয়েছে।    ফুল ফান্ডেড মাস্টার্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তুলনায় মাস্টার্স পর্যায়ে নিশ্চিত ফান্ডিং সীমিত হতে পারে, আবার কিছু প্রোগ্রাম তুলনামূলক ভালো ফান্ডিং দেয়। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধু “Funding Available” লেখা দেখেই আবেদন না করে কোন ধরনের ফান্ডিং, কত সময়ের জন্য এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়, তা আগে দেখা প্রয়োজন।   আবেদনকারীর অ্যাপ্লিকেশন লিস্টও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সবচেয়ে সিলেক্টিভ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং দেখে তালিকা তৈরি করলেও সমস্যা হতে পারে। ফ্যাকাল্টি ফিট, প্রোগ্রামের গবেষণার ক্ষেত্র, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী নেওয়ার ধরণ, ফান্ডিং কাঠামো এবং নিজের অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি বিবেচনা করে আবেদন তালিকা তৈরি করা বেশি তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি। কারণ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার এক নয়।    অ্যাপ্লিকেশনের ছোটখাটো ভুলও কখনো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল ডকুমেন্ট, অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট নির্দেশনা না মানা, ভুল ফরম্যাট বা ডেডলাইনের পর কোনো উপকরণ জমা দেওয়া আবেদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার কোনো প্রোগ্রাম অতিরিক্ত ডকুমেন্ট গ্রহণই নাও করতে পারে। এমআইটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কাগজপত্র না পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত উপকরণের মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ রাখতে বলে।    সবশেষে, সিজিপিএ বা ইংলিশ টেস্ট স্কোরকে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম হোলিস্টিক রিভিউয়ের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, SOP, রেকমেন্ডেশন, লেখার নমুনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনা করে।    তাই আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে একটি রিজেকশনকে নিজের যোগ্যতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক সময় একজন আবেদনকারীর সক্ষমতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন, ফ্যাকাল্টি ফিট, ওই বছরের আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের মতো বিষয়ও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। একজন আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, উপযুক্ত প্রোগ্রাম ও ফ্যাকাল্টি খুঁজে আবেদন করা এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আবেদন ও ফান্ডিং নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:৩৬
দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী
বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে খরচ ৫০ লাখ টাকা, দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী

ঢাকার বনশ্রী এলাকার গৃহিণী জোসনা বেগম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে চিকিৎসার কথা ভাবছিলেন। ভারতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচের কথা জানতে পেরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয় পরিবারকে। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয়। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হওয়া ওই অস্ত্রোপচারে জোসনার জন্য নিজের লিভারের একাংশ দান করেন তাঁর ছেলে মো. সাজ্জাদ। তিনি এই হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম পুনরায় শুরুর পর প্রথম রোগী।   জোসনার অস্ত্রোপচারের পর গত এক বছরে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মোট ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে নিয়মিতভাবে এই জটিল চিকিৎসা চালু করার লক্ষ্যেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আরও চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিএমইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতি মাসে গড়ে দুটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার সক্ষমতা তৈরি করা হবে।   দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোসনার লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে ২০২২ সালে। এরপর তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা লিভার ট্রান্সপ্লান্টের পরামর্শ দেন। পরিবার তখন ভারতের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য খরচ প্রায় ৫০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে এত বড় অর্থের ব্যবস্থা করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।   পরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে জোসনার পরিবার বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যায়। সেখানে প্রায় তিন ধাপে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন শেষে তাঁর ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পর জোসনা প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদ ছিলেন প্রায় ১৫ দিন। পরে দুজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। জোসনা বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন এবং চিকিৎসকদের ফলোআপে রয়েছেন।   জোসনার ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের আওতায় লিভার ট্রান্সপ্লান্টটি বিনামূল্যে করা হয়। তবে পরীক্ষা, ওষুধ ও পরবর্তী চিকিৎসা মিলিয়ে পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে যাতায়াত, থাকা ও চিকিৎসাসহ মোট ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে সরকারি সহায়তায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থের বিনিময়ে এই সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য খরচ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে বিএমইউ জানিয়েছে।   বিএমইউর ছয়টি ট্রান্সপ্লান্টে ১৯টি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দল কাজ করেছে। হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস এবং তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক মহসেন চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের হায়দরাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দলও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।   বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। দেশের প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০১০ সালের জুনে বারডেম জেনারেল হাসপাতালে। এরপর আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচার হলেও নিয়মিতভাবে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বিএমইউ প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করে ২০১৯ সালে এবং পরবর্তী আরেকটি ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০২৩ সালে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত সেবা হিসেবে কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল।   বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহিনুল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর লিভারজনিত রোগে প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান, যাদের বড় একটি অংশ সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় এক হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বিএমইউই দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে এই কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   জোসনার জন্য এই চিকিৎসার অর্থ শুধু বিদেশে যাওয়ার বড় খরচ থেকে বেঁচে যাওয়া নয়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগও। অস্ত্রোপচারের পর নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন জানিয়ে তিনি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদও বলেছেন, দেশেই জটিল চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হলে রোগীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমবে। বিএমইউর ধারাবাহিক ছয়টি সফল ট্রান্সপ্লান্ট এখন সেই সক্ষমতাকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় রূপ দেওয়ার নতুন উদ্যোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: ডেইলি স্টার

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:২১
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’ :আশনীার গ্রোভারের

ভারতের করব্যবস্থা এবং নাগরিকদের পাওয়া সরকারি সুবিধার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উদ্যোক্তা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী আশনীার গ্রোভার। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। গ্রোভারের বক্তব্য, ভারতে মানুষের ওপর করের বোঝা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মতো হলেও সরকারি সেবা ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে চিত্র বাংলাদেশের মতো।   গ্রোভারের এই মন্তব্য মূলত ভারতের করদাতাদের বিনিময়ে পাওয়া সরকারি সেবা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনারই অংশ। সাম্প্রতিক আলোচনায় তাঁর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, “ভারতে আমেরিকার মতো ট্যাক্স নেওয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশের মতো সুবিধা দেওয়া হয়।” তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো সরকারি পরিসংখ্যান বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তুলনামূলক সূচক নয়।   ভারতের করব্যবস্থা নিয়ে গ্রোভার এর আগেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালে ইটিসিআইওর একটি অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের করব্যবস্থাকে কঠোর ও শাস্তিমূলক বলে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের মানুষদের একটি বড় অংশ তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কর হিসেবে দেয়, কিন্তু এর বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা, অবকাঠামো, টোল এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার বিষয়ও উঠে আসে।   গ্রোভার আরও দাবি করেছিলেন, বেতনভোগী মানুষদের ক্ষেত্রে কর কেটে নেওয়ার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সরাসরি হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বেশি পড়ে। বিশেষ করে টিডিএস বা Tax Deducted at Source ব্যবস্থার কারণে অনেক কর্মীর বেতন থেকেই উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, একজন কর্মজীবীকে বছরের কয়েক মাসের আয়ের সমপরিমাণ অর্থ কার্যত সরকারের জন্য দিতে হচ্ছে।   তবে ভারতের করব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। দুই দেশের কর কাঠামো, আয়কর ব্যবস্থা, জিএসটি বা ভোগকর, রাজ্যভিত্তিক কর, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবার ধরন এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে, আবার নাগরিকদের সরকারি সুবিধাও বিভিন্ন কর্মসূচি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ফলে শুধু সর্বোচ্চ আয়কর হার বা কোনো একটি করের হার দিয়ে দুই দেশের সামগ্রিক করের বোঝা তুলনা করা যায় না।   ভারতের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আয়কর ছাড়াও জিএসটি, জ্বালানি কর, টোলসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করে। কোন নাগরিক কতটা সুবিধা পান, তা আয়, রাজ্য, পেশা এবং সরকারি কর্মসূচির যোগ্যতার ওপরও নির্ভর করে।   গ্রোভারের বক্তব্যের মূল বিষয় তাই শুধু করের হার নয়, বরং করদাতারা সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা ও সুযোগ পাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন। তাঁর সমালোচনায় কর প্রদানের সঙ্গে নাগরিক সুবিধার সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন ভারতের করনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত।   এর আগে ২০২৩ সালের ইটিসিআইও কনক্লেভে গ্রোভার করব্যবস্থা সহজ করার পক্ষেও মত দেন। তাঁর বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে সরল কর কাঠামো এবং কম জটিলতার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। তিনি মনে করেন, করের হার বেশি রাখলেই সরকারের রাজস্ব বাড়বে এমন নয়; সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে করদাতাদের জন্য ব্যবসা ও আয় পরিচালনা সহজ হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে গ্রোভারের বক্তব্য আবার আলোচনায় আসার পর ভারতের করব্যবস্থা, সরকারি সেবার মান এবং করদাতাদের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর “আমেরিকার মতো কর, বাংলাদেশের মতো সুবিধা” মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের কর ও সরকারি সেবা ব্যবস্থার বাস্তব তুলনা করতে হলে মাথাপিছু আয়, মোট কর আদায়, করদাতার সংখ্যা, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ একাধিক সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:০
ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ঢাকায় একটি অফিস খুলে বাংলাদেশকে তাদের আঞ্চলিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মেটার সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসার প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।    শামা ওবায়েদ বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মেটার অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও বৈঠকে থাকার কথা ছিল, তবে সময়ের কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে ঢাকায় মেটার অফিস খোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারীভিত্তি থাকায় মেটা ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে মেটা কবে অফিস খুলবে বা প্রস্তাবিত অফিসের কাঠামো ও দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।    বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে মেটার সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।    মেটার সঙ্গে বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের অর্থনৈতিক কূটনীতি কর্মসূচির অংশ। এর আগে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছিলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।    মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মেটা ও লাইটক্যাসল পার্টনার্সের আয়োজনে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে মেটা বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থানীয় পেমেন্ট সুবিধা চালুর ঘোষণা দেয়, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিকাশের মাধ্যমে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ করতে পারে।    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি অধিবেশনের উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেন। সফরকালে তিনি বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।    ঢাকায় মেটার আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা মূলত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো বৈঠকের তথ্য। অফিস স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সময়সীমা বা বিনিয়োগের পরিমাণ সম্পর্কে মেটার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও আলোচনার অগ্রগতির ওপরই বিষয়টির বাস্তব রূপ নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:৫৪