সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’ :আশনীার গ্রোভারের

ভারতের করব্যবস্থা এবং নাগরিকদের পাওয়া সরকারি সুবিধার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উদ্যোক্তা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী আশনীার গ্রোভার। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। গ্রোভারের বক্তব্য, ভারতে মানুষের ওপর করের বোঝা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মতো হলেও সরকারি সেবা ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে চিত্র বাংলাদেশের মতো।   গ্রোভারের এই মন্তব্য মূলত ভারতের করদাতাদের বিনিময়ে পাওয়া সরকারি সেবা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনারই অংশ। সাম্প্রতিক আলোচনায় তাঁর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, “ভারতে আমেরিকার মতো ট্যাক্স নেওয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশের মতো সুবিধা দেওয়া হয়।” তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো সরকারি পরিসংখ্যান বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তুলনামূলক সূচক নয়।   ভারতের করব্যবস্থা নিয়ে গ্রোভার এর আগেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালে ইটিসিআইওর একটি অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের করব্যবস্থাকে কঠোর ও শাস্তিমূলক বলে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের মানুষদের একটি বড় অংশ তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কর হিসেবে দেয়, কিন্তু এর বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা, অবকাঠামো, টোল এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার বিষয়ও উঠে আসে।   গ্রোভার আরও দাবি করেছিলেন, বেতনভোগী মানুষদের ক্ষেত্রে কর কেটে নেওয়ার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সরাসরি হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বেশি পড়ে। বিশেষ করে টিডিএস বা Tax Deducted at Source ব্যবস্থার কারণে অনেক কর্মীর বেতন থেকেই উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, একজন কর্মজীবীকে বছরের কয়েক মাসের আয়ের সমপরিমাণ অর্থ কার্যত সরকারের জন্য দিতে হচ্ছে।   তবে ভারতের করব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। দুই দেশের কর কাঠামো, আয়কর ব্যবস্থা, জিএসটি বা ভোগকর, রাজ্যভিত্তিক কর, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবার ধরন এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে, আবার নাগরিকদের সরকারি সুবিধাও বিভিন্ন কর্মসূচি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ফলে শুধু সর্বোচ্চ আয়কর হার বা কোনো একটি করের হার দিয়ে দুই দেশের সামগ্রিক করের বোঝা তুলনা করা যায় না।   ভারতের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আয়কর ছাড়াও জিএসটি, জ্বালানি কর, টোলসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করে। কোন নাগরিক কতটা সুবিধা পান, তা আয়, রাজ্য, পেশা এবং সরকারি কর্মসূচির যোগ্যতার ওপরও নির্ভর করে।   গ্রোভারের বক্তব্যের মূল বিষয় তাই শুধু করের হার নয়, বরং করদাতারা সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা ও সুযোগ পাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন। তাঁর সমালোচনায় কর প্রদানের সঙ্গে নাগরিক সুবিধার সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন ভারতের করনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত।   এর আগে ২০২৩ সালের ইটিসিআইও কনক্লেভে গ্রোভার করব্যবস্থা সহজ করার পক্ষেও মত দেন। তাঁর বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে সরল কর কাঠামো এবং কম জটিলতার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। তিনি মনে করেন, করের হার বেশি রাখলেই সরকারের রাজস্ব বাড়বে এমন নয়; সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে করদাতাদের জন্য ব্যবসা ও আয় পরিচালনা সহজ হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে গ্রোভারের বক্তব্য আবার আলোচনায় আসার পর ভারতের করব্যবস্থা, সরকারি সেবার মান এবং করদাতাদের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর “আমেরিকার মতো কর, বাংলাদেশের মতো সুবিধা” মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের কর ও সরকারি সেবা ব্যবস্থার বাস্তব তুলনা করতে হলে মাথাপিছু আয়, মোট কর আদায়, করদাতার সংখ্যা, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ একাধিক সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:০
ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ঢাকায় একটি অফিস খুলে বাংলাদেশকে তাদের আঞ্চলিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মেটার সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসার প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।    শামা ওবায়েদ বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মেটার অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও বৈঠকে থাকার কথা ছিল, তবে সময়ের কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে ঢাকায় মেটার অফিস খোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারীভিত্তি থাকায় মেটা ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে মেটা কবে অফিস খুলবে বা প্রস্তাবিত অফিসের কাঠামো ও দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।    বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে মেটার সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।    মেটার সঙ্গে বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের অর্থনৈতিক কূটনীতি কর্মসূচির অংশ। এর আগে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছিলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।    মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মেটা ও লাইটক্যাসল পার্টনার্সের আয়োজনে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে মেটা বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থানীয় পেমেন্ট সুবিধা চালুর ঘোষণা দেয়, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিকাশের মাধ্যমে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ করতে পারে।    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি অধিবেশনের উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেন। সফরকালে তিনি বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।    ঢাকায় মেটার আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা মূলত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো বৈঠকের তথ্য। অফিস স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সময়সীমা বা বিনিয়োগের পরিমাণ সম্পর্কে মেটার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও আলোচনার অগ্রগতির ওপরই বিষয়টির বাস্তব রূপ নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:৫৪
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলট বেতনের স্ক্রিনশট ভাইরাল
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলট বেতনের স্ক্রিনশট ভাইরাল, ডিজিট দেখে চোখ কপালে

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এয়ারলাইন্স আমেরিকান এয়ারলাইন্সে পাইলটদের আয় নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিজ্ঞতা, পদ, উড়োজাহাজের ধরন এবং সিনিয়রিটির ওপর নির্ভর করে একজন পাইলটের বার্ষিক আয় কয়েক লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৩ সালে অনুমোদিত পাইলটদের নতুন চুক্তিতে বেতন ও অবসর সুবিধায় বড় ধরনের উন্নতি করা হয়।    নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলটদের বেতন কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। তবে পাইলটদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাসিক বেতনের বদলে সাধারণত চুক্তিভিত্তিক ঘণ্টাপ্রতি পে রেট, মাসিক ক্রেডিট ঘণ্টা, পদ এবং উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী মোট আয় নির্ধারিত হয়। ফলে একই এয়ারলাইন্সে কাজ করলেও সব পাইলটের আয় এক নয়।   ২০২৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রায় ১৫ হাজার পাইলটের জন্য চার বছরে ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। চুক্তিতে বিভিন্ন ধাপে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পাইলটদের কোয়ালিটি অব লাইফ ও অবসর সুবিধার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।    বর্তমান পে স্কেলে প্রথম দিকে থাকা ফার্স্ট অফিসারদের ঘণ্টাপ্রতি আয় প্রায় ১১০ ডলারের বেশি হতে পারে। চাকরির মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী সিনিয়র ফার্স্ট অফিসারদের ঘণ্টাপ্রতি রেট ২০০ ডলারের বেশি হতে পারে। আর অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনদের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজভেদে ঘণ্টাপ্রতি রেট ৩৬০ থেকে ৪০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালের পে তথ্য অনুযায়ী ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের ১২ বছর মেয়াদি ক্যাপ্টেনের রেট ঘণ্টায় প্রায় ৪৬৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।    তবে ঘণ্টাপ্রতি রেটকে সরাসরি সাধারণ চাকরির বার্ষিক বেতনের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। এয়ারলাইন্স পাইলটদের আয় নির্ধারণে ক্রেডিট ঘণ্টা, রিজার্ভ ডিউটি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, বিভিন্ন প্রিমিয়াম এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক সুবিধা হিসাব করা হয়। এর বাইরে পাইলটরা পার ডায়েম এবং অবসর সুবিধাও পেয়ে থাকেন।   আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলটদের অবসর সুবিধাও মোট পারিশ্রমিকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোম্পানির পাইলট চুক্তিতে নিয়োগকর্তার অবসর তহবিলে অবদান রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলট ইউনিয়ন অ্যালায়েড পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার পাইলটের প্রতিনিধিত্ব করছে।    বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পাইলটদের জন্য হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসর সঞ্চয়, পেইড ছুটি এবং ট্রাভেল সুবিধার মতো সুযোগও রয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের কর্মী সুবিধার নথিতেও পাইলটদের জন্য আলাদা অবসর ও ইন্স্যুরেন্স সুবিধার উল্লেখ রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এয়ারলাইন পাইলটদের আয় সামগ্রিকভাবেই উচ্চ। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী এয়ারলাইন পাইলট, কো-পাইলট ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারদের জাতীয় মধ্যম বার্ষিক মজুরি ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ ডলার। তবে বড় এয়ারলাইন্সে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ পাইলটদের আয় এই জাতীয় মধ্যমের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।   আমেরিকান এয়ারলাইন্সে পাইলটদের উচ্চ আয়ের পেছনে শুধু দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা নয়, সিনিয়রিটি ও উড়োজাহাজের ধরনও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বড় ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনদের পে রেট সবচেয়ে বেশি পর্যায়ে পৌঁছায়। ফলে পাইলটিং পেশায় প্রবেশের পর ক্যারিয়ারের শুরু এবং পরবর্তী পর্যায়ের আয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:২১
ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ আয়োজন করা হয়।    এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত ব্রেকফাস্টে ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সঙ্গে গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এরপর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন।    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।    এ ছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।    এ সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে।    প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, এবারের সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্পের নৈশভোজে অংশ নেওয়াটি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়।    ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার যুক্তরাষ্ট্র সফর চলার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি ধারাবাহিক এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:১৫
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়।   দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়।   মেলানিয়া ট্রাম্পের ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য শিশুদের জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।   জুবাইদা রহমান এর আগে চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সম্মেলনে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেও মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল।   মার্চের ওই আয়োজনে জুবাইদা রহমান শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানটি ছিল শিশুদের শিক্ষা, কল্যাণ, প্রযুক্তি এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ।   মার্চে ওয়াশিংটন এবং সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের দুটি আয়োজনে জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১:৩১
জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকে বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন তিনি। আলোচনায় বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে।    সফরের প্রথম দিন ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দেন তিনি। দিনভর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমের সঙ্গে বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।    এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।    ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে মানবিক সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাচ্ছে। সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিয়ে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন তিনি।    এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।    তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে। সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য দেবেন তিনি। ১৮ জন বক্তার মধ্যে ১১তম বক্তা হিসেবে তার জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে।    ভাষণের দিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলা নিয়ে একটি বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। ভাষণ শেষে রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।    সফরের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগান আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। এরপর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সূচি রয়েছে।  সূত্র: ডিবিসি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১:২৭
নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হল খ্রিষ্টান যাজকে
গ্রিন কার্ড আবেদন রিজেক্ট, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হল খ্রিষ্টান যাজকে

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদন নাকচ হওয়ার পর হাইতিতে ফেরত পাঠানোর মুখে পড়েছেন ৩৩ বছর বয়সী খ্রিষ্টান যাজক মলিস অগাস্টাভে। পেনসিলভানিয়ায় গাড়ি থামিয়ে তাকে আটক করার পর থেকে তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন অগাস্টাভেকে চলতি সপ্তাহেই হাইতিতে ডিপোর্ট করা হতে পারে বলে তার আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।    নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর পেনসিলভানিয়ার ইয়র্কে একটি গাড়ি থামানোর সময় ওয়েস্ট ম্যানচেস্টার পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বিত অভিযানে আইসিই অগাস্টাভেকে আটক করে। এরপর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়। হাইতিতে ডিপোর্টেশনের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর তার একটি ফ্লাইট নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাকে সেই ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।    অগাস্টাভের স্ত্রী ওমারা নুনেজ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। আটক হওয়ার পর স্বামীকে মুক্ত করতে নুনেজ ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা প্রচারণা শুরু করেন। তাদের প্রচেষ্টার পর অগাস্টাভের আগের ডিপোর্টেশন সাময়িকভাবে ঠেকানো গেলেও এখন তার গ্রিন কার্ড আবেদন নাকচ হওয়ায় নতুন করে ডিপোর্টেশনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    অগাস্টাভে এর আগে হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য চালু থাকা টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের আওতায় ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান নাগরিকের জন্য ওই সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি অবস্থান আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।    ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অগাস্টাভের গ্রিন কার্ড আবেদন দ্রুত নাকচ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তার পক্ষে থাকা অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো। ওয়্যার আর কাসা এবং আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের প্রতিনিধিরা বলছেন, অগাস্টাভে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একজন যাজক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাদের দাবি, গ্রিন কার্ড আবেদন নাকচের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।    অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অগাস্টাভের ইমিগ্রেশন ইতিহাসের ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছে। বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৬ সালের জুলাইয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ইসিড্রো এলাকায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক হয়েছিলেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ২০১৮ সালের মার্চে একজন ইমিগ্রেশন জজ তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ দেন।    হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, অগাস্টাভে ডিপোর্টেশন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আইসিই হেফাজতেই থাকবেন। একই সঙ্গে বিভাগটি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার জন্য সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে এবং স্বেচ্ছায় ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে ফ্লাইটের প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে।    এদিকে অগাস্টাভের আইনজীবীরা তার ইমিগ্রেশন মামলা পুনরায় খোলার আবেদন করেছেন। বিষয়টি এখনো ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। তার পক্ষে ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব লুইজিয়ানার ফেডারেল কোর্টেও হ্যাবিয়াস করপাস পিটিশন করা হয়েছে। তবে ওই আইনি প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তাকে ডিপোর্ট করা হতে পারে বলে তার সমর্থকেরা আশঙ্কা করছেন।    হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও অগাস্টাভে অন্য বন্দিদের সঙ্গে ধর্মীয় সেবা ও প্রার্থনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার স্ত্রী নুনেজ বলেছেন, স্বামীকে ছাড়া দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে অগাস্টাভের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর আইনি প্রচেষ্টা এখনো চলমান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:৪১
২০২৭ অর্থবছরে ১৭,৫০০ শরণার্থী নেবে যুক্তরাষ্ট্র
২০২৭ অর্থবছরে ১৭,৫০০ শরণার্থী নেবে যুক্তরাষ্ট্র, বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ

ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কংগ্রেসকে জানিয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শরণার্থীদের বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ, বিশেষ করে আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের মানুষ হতে পারেন।   এই সংখ্যা গত বছরের নির্ধারিত ৭ হাজার ৫০০ শরণার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে ১৭ হাজার ৫০০ সংখ্যাটি সর্বোচ্চ সীমা, অর্থাৎ এর বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা হবে না। বাস্তবে এর পুরো সংখ্যাটি ভর্তি হবে কি না, তা আলাদা বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি অর্থবছরে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শের পর শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন।   প্রস্তাবিত নীতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আফ্রিকানাররা মূলত ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকানদের একটি সম্প্রদায়। ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর গণহত্যা চলছে এমন দাবিকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকানার শরণার্থী গ্রহণের পেছনে প্রশাসনের দেওয়া কারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ফলে নতুন শরণার্থী নীতিটি মানবিক সুরক্ষা, অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই পরিকল্পনা এমন সময়ে এসেছে যখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্বাসন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি স্থগিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। পরে সীমিত পরিসরে কিছু শরণার্থী গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচিতে কোনো ব্যক্তি শরণার্থী হিসেবে গ্রহণের আগে একাধিক ধাপে যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যান। বিদেশে থাকা এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য, যারা নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বা নিপীড়নের আশঙ্কায় দেশে ফিরতে পারেন না। শরণার্থী ও অ্যাসাইলামপ্রার্থীর মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। শরণার্থী সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করেন, আর অ্যাসাইলামপ্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সুরক্ষা চান।   ২০২৬ অর্থবছরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত শরণার্থীদের সংখ্যা অন্য দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। শরণার্থী প্রসেসিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরের দেশভিত্তিক ভর্তি ও পুনর্বাসনের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট প্রতি অর্থবছরের জন্য শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়। এরপর প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সংখ্যা কার্যকর হয়। তাই কংগ্রেসে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কার্যকর হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানারদের জন্য বড় অংশ বরাদ্দের পরিকল্পনাই এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:৩৪
অভিবাসীদের নজরদারিতে নিয়োগ ১৪০ বিশ্লেষক
আইসিইর ১০০ মিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা, অভিবাসীদের নজরদারিতে নিয়োগ ১৪০ বিশ্লেষক

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি বাড়াতে ১০ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি নতুন ইউনিটে ১৪০ জনের বেশি গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও প্রজেক্ট ম্যানেজার নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব কর্মীর অনেকেরই ‘টপ সিক্রেট’ সরকারি সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হবে।    দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ইউনিটটির নাম ‘ওভারওয়াচ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি এনফোর্সমেন্ট’। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে এই ইউনিটের সদস্যদের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তারা শ্রেণিবদ্ধ ও অশ্রেণিবদ্ধ বিভিন্ন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করবেন।    প্রস্তাব অনুযায়ী, গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ, সম্পর্ক, নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের ধরন বিশ্লেষণ করবেন। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থান, ঘটনা ও অন্যান্য তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক শনাক্ত করে আইসিইর তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে সহায়তা করাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। তবে এসব বিশ্লেষকের নিজেরা কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা থাকবে না।    প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২৭টি শহরে তিন থেকে পাঁচজন করে বিশ্লেষক মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মায়ামি ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহর রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার থাকার কথাও পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।    আইসিই বলছে, সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ‘ওভারওয়াচ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আইসিইর এক মুখপাত্র দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা ব্যক্তিদের শনাক্ত, অবস্থান নির্ধারণ এবং গ্রেপ্তারে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, অপরাধীদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতাও বাড়াতে হচ্ছে।    অভিবাসন এনফোর্সমেন্টে আইসিই এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি মোবাইল ফোনের তথ্য, নজরদারি সফটওয়্যার, ফেসিয়াল রিকগনিশন, লাইসেন্স প্লেট রিডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া মানুষকে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের ডেটা-ভিত্তিক সেবাও ব্যবহার করা হয়।    নতুন পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আইসিইর নজরদারি কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি আদালতের নথিতে মিনেসোটার একটি চার্চে আইসিইর নজরদারি কার্যক্রমের কিছু তথ্য প্রকাশ পায়। ওই নথি অনুযায়ী, এজেন্টরা চার্চের সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং তাদের গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর যাচাই করেছিলেন।    আইসিইর জনবল নিয়োগ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সংস্থাটির সাবেক এক কর্মকর্তা দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করে দাবি করেছেন, পর্যাপ্ত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই কিছু প্রার্থীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই অভিযোগের বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে অভিযোগও করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।    নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আইসিইর গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে ১০ কোটি ডলারের পরিকল্পনাটি প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে উল্লেখিত জনবল ও কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:১৯
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-কানাডা, ৭১ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।   মঙ্গলবার সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময় এই ভাষণ দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা সিটিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন।   ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্মরণ করিয়ে দেন যে এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। গাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, গাজার ভয়াবহ অবস্থার সামনে আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি তবে আমাদের আর কী গ্রহণযোগ্যতা থাকে। তথাকথিত শান্তির কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এই লজ্জাজনক দৃশ্য কি আমাদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে, কখনোই নয়।   দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রাত্যহিক নিয়ম লঙ্ঘনেরও কঠোর সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এর ফলে ইসরায়েল বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি হুমকিতে পড়বে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ম্যাক্রোঁ। তার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান।   বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উপস্থিত কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধ্বংস করবে। তিনি জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান আটকে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা বলে আখ্যা দেন তিনি। এই প্রকল্পের ফলে দখলকৃত পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে যা ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করবে।   বার্নহ্যাম বলেন, আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা অনেক কম। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান নিয়ে দশকের পর দশক কথা হলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আস্থাই কমাবে।   অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ১০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই তহবিলের ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ২০ শতাংশ শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যয় করা হবে যার মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   গাজায় ফিলিস্তিনিদের অবর্ণনীয় মানবিক দুর্দশা এবং ইসরায়েলের ওপর হামাস ও ইরানের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন কার্নি। যুক্তরাজ্যের মতো তিনিও ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করেন এবং অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের কানাডার পরিকল্পনার কথা জানান।   অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ১২টি দেশের মধ্যে কানাডা অন্যতম। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অটোয়া এখন পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৪২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:৮
ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমায় বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ওবামাকেয়ারে অনিয়মের অভিযোগ, ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় থাকা ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বিমা তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এসব তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নাম যুক্ত করা বা যোগ্যতা নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)।   মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য প্রকাশ করে সিএমএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যার আওতায় ছিলেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব বাতিলের ফলে আগাম দেওয়া প্রিমিয়াম কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ফেরত আসবে বলে আশা করছে সিএমএস।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বাতিল হওয়া তালিকাভুক্তির মধ্যে এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের অস্তিত্ব নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন রয়েছে, আবার এমন বাস্তব ব্যক্তিও রয়েছেন যারা স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেননি। কিছু মানুষকে তাদের অজান্তেই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।   সিএমএসের প্রশাসক মেহমেট ওজ জানিয়েছেন, যেসব তালিকাভুক্তিকে ‘ফ্যান্টম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিষয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন তারা হয় বাস্তবে ওই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার কথা জানতেন না, অথবা তাদের অস্তিত্বই নিশ্চিত করা যায়নি। এসব ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং তারা বিমার আওতায় কোনো দাবি জমা দিয়েছেন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   এই পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় মানুষকে যুক্ত করা এজেন্ট ও ব্রোকারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সিএমএস। সংস্থাটি ২০২৬ সালের আবেদনগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, যেমন সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, না থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক হারে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে ৫৬৯ জন ব্রোকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১০০ জনের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬৬ জনকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   সিএমএসের অভিযোগ, কিছু ব্রোকার গ্রাহকের প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই তাদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত করেছেন, অনুমতি ছাড়া পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করেছেন অথবা কমিশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক আবেদন তৈরি করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে নতুন করে নিবন্ধিত হওয়া এজেন্ট ও ব্রোকারদের সংখ্যা মোট ব্রোকারদের তুলনায় কম হলেও তাদের মধ্যে অননুমোদিত তালিকাভুক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।   এ কারণে নতুন এজেন্ট ও ব্রোকার নিবন্ধনের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশও দিয়েছে সিএমএস। ২০২৬ সালের জন্য সক্রিয় এক্সচেঞ্জ চুক্তি নেই এমন এজেন্ট ও ব্রোকাররা ২০২৭ সালের পরিকল্পনার জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।   তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রফেশনালস নামের একটি শিল্প সংগঠন বলেছে, সব নতুন ব্রোকারের ওপর একসঙ্গে স্থগিতাদেশ দিলে বৈধভাবে কাজ করা পেশাজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংগঠনটি অনিয়মে জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।   সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের পরিকল্পনা বছরে অননুমোদিত ও সন্দেহজনক ওবামাকেয়ার তালিকাভুক্তির কারণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল করা তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগাম দেওয়া কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে বলে সিএমএস জানিয়েছে। ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ওবামাকেয়ার মূলত ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্রণীত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমানোর সুযোগ রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইনটি বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তা সফল হয়নি। তার প্রশাসন বর্তমানে এই কর্মসূচির বিভিন্ন নিয়ম ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।   এর আগে চলতি বছরের জুনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের নীতিবিষয়ক কার্যালয় এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওবামাকেয়ারে নতুন করে যুক্ত হওয়া মানুষের প্রায় অর্ধেকের তালিকাভুক্তি অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এ ধরনের তালিকাভুক্তির সংখ্যা আনুমানিক ৫৬ লাখে পৌঁছেছিল। তবে এগুলো সরাসরি প্রমাণিত প্রতারণার সংখ্যা নয়, বরং সরকারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা অনুমান।   সিএমএস আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ার এক্সচেঞ্জ পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, এর মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ তালিকাভুক্তি এখনও অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিমা খাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং সরকারি হিসাবগুলো মূলত প্রশাসনিক তথ্য ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকের মাসিক বিমা প্রিমিয়াম বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে ওবামাকেয়ার থেকে অনেক মানুষের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর সরকারি পদক্ষেপ স্বাস্থ্যবিমা বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (CMS)

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২৩:৪৮
ছেলের এমন অদ্ভুত দাবির বিষয়ে ইতিবাচক ও হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পেশায় আইনজীবী মা-বাবা। ছবি: সংগৃহীত
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের

জন্মের আগে তার সম্মতি নেওয়া হয়নি, এই যুক্তিতে নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ভারতের মুম্বাইয়ের এক তরুণ। ২০১৯ সালে ২৭ বছর বয়সী রাফায়েল স্যামুয়েল এ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানান। তার দাবি ছিল, পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের ছিল না। তাই সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তের দায়ও মা-বাবার।   রাফায়েল নিজেকে অ্যান্টিন্যাটালিজম বা জন্মবিরোধী দর্শনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। এই দর্শনের অনুসারীরা মনে করেন, মানুষকে পৃথিবীতে না আনাই নৈতিকভাবে বেশি যুক্তিসংগত, কারণ জীবনের সঙ্গে দুঃখ, কষ্ট ও নানা ধরনের ভোগান্তি জড়িয়ে আছে। রাফায়েলের বক্তব্যও মূলত এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল।   মুম্বাইয়ের এই ব্যবসায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তার মতাদর্শ প্রচার করতেন। তিনি যুক্তি দেন, কোনো মানুষই জন্মের আগে পৃথিবীতে আসার বিষয়ে সম্মতি দিতে পারে না। অথচ জন্মের পর তাকে পড়াশোনা, চাকরি, পেশা ও জীবনের নানা দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার প্রশ্ন ছিল, যে জীবনের জন্য কেউ আগে থেকে সম্মতি দেয়নি, সেই জীবনের নানা বাধ্যবাধকতার দায় কেন তার ওপর থাকবে।   রাফায়েল আরও বলেছিলেন, মানুষ যদি নিজের ইচ্ছায় জন্ম নিতে না পারে, তাহলে তাদের জীবনযাপনের খরচ বহনের দায়িত্ব মা-বাবার হওয়া উচিত। তার মতে, সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত মা-বাবার, সন্তানের নয়। তাই সন্তানকে সারাজীবন সেই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে বাধ্য করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।   বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে যখন রাফায়েল জানান, তার মা-বাবা দুজনই আইনজীবী। তারপরও তিনি তাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন, কোনো বিচারক তার মামলা গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিজেও সন্দিহান। সে সময় পর্যন্ত তার মামলা নেওয়ার জন্য কোনো আইনজীবীও পাওয়া যায়নি।   তবে মা-বাবার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ ছিল না। রাফায়েল নিজেই বলেছিলেন, তিনি তাদের ভালোবাসেন এবং পরিবারের সম্পর্কও ভালো। তার বক্তব্য ছিল, বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং সন্তান জন্ম দেওয়া এবং মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে একটি দার্শনিক প্রশ্ন সামনে আনার চেষ্টা।   তার মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েলও ছেলের পরিকল্পনাকে পুরোপুরি বিরোধিতা করেননি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ছেলের সাহসের প্রশংসা করেন। তার বক্তব্য ছিল, রাফায়েল যদি যুক্তিসংগতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন যে জন্মের আগে কীভাবে তার কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া সম্ভব ছিল, তাহলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করবেন।   রাফায়েল তার মতাদর্শ প্রচারের জন্য ‘নিহিলানন্দ’ নামে একটি ফেসবুক পেজও চালু করেছিলেন। সেখানে তিনি সন্তান জন্ম দেওয়া, মানুষের অস্তিত্ব এবং জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতেন। একটি পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি শিশুকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার পর তাকে ক্যারিয়ার গড়ার মতো নানা সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে ঠেলে দেওয়া কতটা ন্যায্য।   তার বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার যুক্তিকে অদ্ভুত বলে সমালোচনা করেন, আবার কেউ জন্ম, সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে তার উত্থাপিত প্রশ্নকে দার্শনিক আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখেন। বিষয়টি ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।   অ্যান্টিন্যাটালিজম নতুন কোনো ধারণা নয়। বিভিন্ন সময়ে দর্শন ও ধর্মীয় চিন্তাধারার কিছু ধারায় মানুষের জন্ম এবং জীবনের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। আধুনিক অ্যান্টিন্যাটালিজমে মানুষের সন্তান জন্মদানের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এটি একটি দার্শনিক অবস্থান, সর্বজনস্বীকৃত বৈজ্ঞানিক বা আইনি নীতি নয়।   রাফায়েলের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, তিনি নিজের জীবনকে পুরোপুরি দুর্বিষহ বলে দাবি করেননি। বরং তিনি জানিয়েছিলেন, তার জীবন ভালোই চলছে। তার আপত্তি ছিল মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে। অর্থাৎ তার পরিকল্পিত আইনি পদক্ষেপকে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়ে একটি বৃহত্তর দার্শনিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন।   শেষ পর্যন্ত রাফায়েল সত্যিই তার মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে কোনো আদালতের রেকর্ড পাওয়া যায় না। ২০১৯ সালের সমসাময়িক প্রতিবেদনে বরং বলা হয়েছিল, তিনি মামলা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন এবং তখনও কোনো আইনজীবী তার পক্ষে মামলা নিতে রাজি হননি। তাই ঘটনাটিকে ‘মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা’ নয়, বরং ‘মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করাই সঠিক।   সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২৩:৩০
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে পুলিশের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের হোটেলের কাছে সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস, নিউইয়র্কে নিরাপত্তা জোরদার

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান করা হোটেলের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কালো স্যুটকেস ঘিরে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, নিরাপত্তা তৎপরতা চালায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডি। পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে স্যুটকেসটি পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, বস্তুটি আর সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।    স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে স্যুটকেসটি পাওয়া যায়। এনওয়াইপিডির একটি প্রশিক্ষিত কুকুর স্যুটকেসটির ভেতরে কিছু শনাক্ত করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। এরপর পুলিশের ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পূর্ব ৪২তম থেকে ৪৪তম স্ট্রিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অ্যাভিনিউ থেকে লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করে দেয়।    ঘটনাস্থলটি ক্রাইসলার ভবনের কাছাকাছি এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে কয়েকটি অ্যাভিনিউ দূরে। নিরাপত্তা তৎপরতার সময় কাছের একটি ভবন থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলায় ওই এলাকায় তখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।    তবে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে সেটিকে হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্যুটকেসের ভেতরে বোমা বা কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে এমন তথ্য নেই। একইভাবে এটি তারেক রহমান, তার সফরসঙ্গী বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অংশ ছিল, এমন কোনো তথ্যও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।    তারেক রহমান ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে থাকছেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত নাশতায় অংশ নেন এবং সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেন।    সন্দেহজনক স্যুটকেসটি যে এলাকায় পাওয়া যায়, সেটি তার হোটেলের কাছাকাছি হলেও ঘটনাস্থলটি হোটেল ভবনের ভেতরে বা প্রবেশপথে ছিল না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটি পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে, আর স্যুটকেসটি পাওয়া যায় পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হোটেলে হামলার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।    ঘটনাটির সময় নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে ম্যানহাটনের ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তারেক রহমানও এ সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তার প্রথম বক্তব্য হবে বলে বাংলাদেশি সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    মঙ্গলবারের স্যুটকেস ঘিরে নিরাপত্তা তৎপরতায় কোনো বিস্ফোরণ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশি পরীক্ষা শেষে বস্তুটি হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি একটি সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে, বোমা হামলা হিসেবে নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২২:৫৩
আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে গর্ভস্থ শিশুর মাথার ওপর হাতের মতো আকৃতি দেখতে পান আমান্ডা। ছবি: সংগৃহীত
আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে গর্ভস্থ শিশুর মাথার ওপর রহস্যময় হাত, ‘ঈশ্বরের হাত’ বলে বিশ্বাস মায়ের

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির এক অন্তঃসত্ত্বা নারী আল্ট্রাসাউন্ডের একটি ছবিতে তার অনাগত সন্তানের মাথার ওপর হাতের মতো একটি আকৃতি দেখতে পেয়েছেন। তার ছোট মেয়ে বেইলি প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করে ছবিতে থাকা আকৃতিটি কার হাত, তা জানতে চায়। এরপর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে একে ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে অভিহিত করেন।   তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ছবিটির ওই আকৃতিকে সত্যিকারের হাত বা অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনার প্রমাণ হিসেবে নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন কোনো তথ্য নেই। আমান্ডা ফস্টার নামের ওই নারী নিজেও ছবিটিকে তার বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছেন। তার কাছে এটি হয়ে উঠেছে কঠিন সময়ের মধ্যে আশা, প্রার্থনা ও সুরক্ষার প্রতীক।   ২০২৫ সালের মে মাসে ফস্টার প্রথম ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি প্রায় ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার অনাগত ছেলে কাইলারের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। এর আগে গর্ভাবস্থার পরীক্ষায় শিশুটির হৃদযন্ত্রের একটি অস্বাভাবিকতার কথা জানানো হয়েছিল। ফলে প্রতিটি আল্ট্রাসাউন্ডের আগে তিনি সন্তানের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতেন বলে জানান।   ফস্টারের সঙ্গে আল্ট্রাসাউন্ডের সময় তার ছোট মেয়ে বেইলিও ছিল। ছবির দিকে তাকিয়ে বেইলি প্রথম হাতের মতো আকৃতিটি দেখতে পায় এবং জানতে চায়, সেটি কার হাত। ফস্টার পরে জানান, ছবির একটি অংশে তার মনে হয়েছে যেন একটি হাত তার অনাগত সন্তানের মাথা ধরে বা ঢেকে রেখেছে।   ফস্টারের জন্য ঘটনাটির গুরুত্ব শুধু ছবিটির অস্বাভাবিক চেহারায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তার আগের জীবনে সন্তান হারানোর বেদনাও রয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ছেলেকে হারান। ওই শিশুর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় পটার সিনড্রোম বা পটার সিকোয়েন্স শনাক্ত হয়েছিল। এটি একটি গুরুতর জন্মগত অবস্থা, যেখানে শিশুর কিডনির স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং এর সঙ্গে ফুসফুসের বিকাশেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।   সেই অভিজ্ঞতার পরও ফস্টার পরবর্তী সময়ে দুই কন্যাসন্তানের মা হন। পরে আরেকটি ছেলে সন্তানের গর্ভধারণের সময় আগের সন্তান হারানোর স্মৃতি ও নতুন করে পাওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ তাকে মানসিকভাবে নাড়া দেয়। তিনি জানান, এই সময় তিনি আরও বেশি করে প্রার্থনার ওপর নির্ভর করেন।   আল্ট্রাসাউন্ডে হাতের মতো আকৃতি দেখতে পাওয়ার পর ফস্টার ও তার স্বামী এটিকে তাদের প্রার্থনার সঙ্গে যুক্ত করেন। ফস্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি দেখার পর তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করেন। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে অনুসরণমূলক পরীক্ষা করানো হলে আগের হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিকতা আর দেখা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে ওই পরিবর্তনকে সরাসরি অলৌকিক ঘটনার ফল হিসেবে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   আল্ট্রাসাউন্ডের ছবিতে শরীরের বিভিন্ন অংশের অবস্থান, ছায়া, প্রতিফলন এবং ছবির কোণের কারণে কখনো কখনো পরিচিত কোনো আকৃতির মতো কিছু দেখা যেতে পারে। এই ধরনের ছবিকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট আকৃতি দেখা গেলেই সেটিকে বাস্তব কোনো বস্তু বা অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। ফস্টারের ছবির ক্ষেত্রেও ‘হাত’ হিসেবে দেখা আকৃতিটির সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।   তবে ছবিটি অনলাইনে ব্যাপক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০২৫ সালে প্রথম ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২৬ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছবিটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে বিশ্বাস ও আশার প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ ছবিটিকে আল্ট্রাসাউন্ডের স্বাভাবিক ভিজ্যুয়াল বিভ্রম বা ছবির কোনো আকৃতিগত প্রভাব হিসেবে দেখেছেন।   ফস্টারের কাছে অবশ্য ছবিটির অর্থ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার চেয়েও ব্যক্তিগত। সন্তান হারানোর পুরোনো কষ্ট, নতুন গর্ভাবস্থার উদ্বেগ এবং সন্তানের জন্য তার নিয়মিত প্রার্থনার মধ্যে আল্ট্রাসাউন্ডের ওই মুহূর্তটি তাকে মানসিক স্বস্তি দিয়েছে। তাই অনলাইনে ছবিটি ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিত হলেও, এটি মূলত একজন মায়ের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আশার গল্প হিসেবেই দেখছেন তিনি।   সূত্র: KWTX, The Dallas Express

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২২:৪৬
ডেলিভারি দেওয়ার সময় ট্রাফিক স্টপে থামিয়ে ওই যুবকের ওপর গুলি চালান আইসিই কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিই এজেন্টের গুলিতে আহত অভিবাসী, চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে পিঠে গুলি থাকা অবস্থায় আটককেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ২৮ বছর বয়সী উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়।   ঘটনাটি রোববার টেক্সাসের অস্টিনে ঘটে। গার্সেস পেরেজ তখন ডোরড্যাশের হয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি তার গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর সেটি পুলিশের গাড়ি হিসেবে থামানো হয় এবং আইসের এক কর্মকর্তা তার গাড়িতে গুলি চালান। গুলিতে তার শরীরের ওপরের অংশে আঘাত লাগে।   গার্সেস পেরেজের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি এসইউভি তার গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি সেটিকে আক্রমণাত্মক চালকের আচরণ বলে মনে করেন এবং নিজের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে গাড়িটি আবার তার গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং পুলিশি বাতি জ্বালানো হয়। এক কর্মকর্তা তার কাছে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান এবং গাড়ি থেকে নামতে বলেন।   গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি গাড়িটি রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আইস কর্মকর্তা গুলি চালান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাইরেন ও গাড়ির টায়ারের শব্দের পর একটি অচিহ্নিত এসইউভি থেকে একজন কর্মকর্তাকে নামতে এবং এরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও গুলির পরিস্থিতি তদন্তাধীন।   গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সেস পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে অস্টিন থেকে প্রায় ১৩০ মাইল দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও তার শরীরে, মেরুদণ্ডের কাছাকাছি, গুলি আটকে ছিল বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।   গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের ফোনে জানান, তিনি ভালো নেই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। তার আইনজীবীর দাবি, আটককেন্দ্রে তিনি তীব্র ব্যথায় ছিলেন এবং একপর্যায়ে শরীরের বাম পাশ, হাত ও পায়ে অনুভূতি কমে যায়। পরে পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গের কথা জানানোর পর সোমবার রাতে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়।   তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এসব অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগটি জানিয়েছে, গার্সেস পেরেজ আটককেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা এবং ব্যথানাশক ওষুধ পাচ্ছিলেন এবং তিনি একটি বিছানায় ঘুমিয়েছেন। শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেনি। তবে গুলি অপসারণ করা হবে কি না, সেটি চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছে বিভাগটি।   ঘটনার পর গার্সেস পেরেজের আইনজীবীরা তার মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে অপসারণ বন্ধের দাবিতে মামলা করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবারের আপডেট অনুযায়ী, একজন ফেডারেল বিচারক আপাতত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ বন্ধ রাখার জন্য জরুরি আদেশও দিয়েছেন।   গার্সেস পেরেজের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বৈধতা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, তিনি জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে তার আইনজীবী বলছেন, তিনি ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু থাকা সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে বৈধভাবে সীমান্তে প্রবেশের আবেদন করে একটি প্রবেশবন্দরে হাজির হন এবং সেখানেই তাকে পরীক্ষা করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।   সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের নির্দিষ্ট প্রবেশবন্দরে সাক্ষাতের সময় নিতে পারতেন। ট্রাম্প প্রশাসন পরে এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবেশ করা অভিবাসীদের বৈধ অবস্থান বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে।   এদিকে গার্সেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় তদন্তটি পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, গুলি চালানো আইস কর্মকর্তাকে তদন্ত চলাকালে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।   অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন ঘটনাটির স্বাধীন ও তৃতীয় পক্ষের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আইস নিজেই এই ঘটনার তদন্ত করলে তা উপযুক্ত হবে না। তিনি অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম ঘিরে ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামনে এলো। এর আগে টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযানের সময় গাড়ি থামিয়ে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি আলাদা এবং গার্সেস পেরেজের ঘটনায়ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলিবর্ষণ আইনসঙ্গত ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২২:২২
চীনের উহানে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে বান রুটির দোকান খুলেছেন সাবেক চিকিৎসক ডং মিন। ছবি: সংগৃহীত
মানসিক শান্তি পেতে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিলেন নারী, খুললেন বান রুটির দোকান

দীর্ঘ দুই দশক ধরে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন চীনের এক নারী। কিন্তু রোগীর চাপ, প্রশাসনিক কাজ আর মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে তিন বছর আগে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ডাক্তারি ছেড়ে তিনি একটি স্টিমড স্টাফড বান বা ভাপানো রুটির দোকান খোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার এই দোকানটি শুধু টিকেই থাকেনি, বরং দারুণ সফলতা পেয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে তিনি দ্বিতীয় শাখাও চালু করেছেন।   ডং মিন নামের ৪৮ বছর বয়সী এই সাবেক চিকিৎসকের গল্পটি চীনের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি নতুন প্রবণতার চিত্র তুলে ধরেছে। যেখানে মানসিক শান্তি ও সহজ জীবনের আশায় অনেক চিকিৎসক তাদের সম্মানজনক পেশা ছেড়ে সাধারণ ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন।   চীনের সংবাদমাধ্যম চ্যাংজিয়াং ডেইলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডং মিন বলেন, যখন আমি চিকিৎসক ছিলাম, তখন প্রায়ই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতাম। এখন বান রুটির দোকান চালাতে গিয়ে আমাকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় এবং আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আমি এতটাই খুশি যে এই কাজ থামানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই।   ১৯৯৯ সালে উহান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন ডং মিন। এরপর শেনজেন শহরে গাইনোকোলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কয়েক বছর পর মায়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক পরিচালনার জন্য উহানে ফিরে আসেন তিনি।   মায়ের অবসরের পর তারা ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন এবং হুবেই প্রদেশের তিয়ানমেনে নিজেদের এলাকায় ফিরে যান। সেখানে ডং একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং আইনি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন।   পেশা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে ডং জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে তাকে চরম মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হতো। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঘন ঘন পরিদর্শনের মতো চিকিৎসা বহির্ভূত কাজেও প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে হতো। চীনে হাসপাতাল ও রোগীদের মধ্যে সম্পর্ক অনেক সময় বেশ উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। হাসপাতালের আইনি প্রতিনিধি হওয়ায় যেকোনো চিকিৎসাজনিত বিবাদের সম্পূর্ণ দায়ভার তার ওপরই বর্তাতো।   আগের কাজের সঙ্গে বর্তমান জীবনের তুলনা করে ডং বলেন, এখন তাকে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়, কিন্তু তার কোনো মানসিক চাপ নেই।   ২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের এমন একটি দোকান দেখে তিনি এই ব্যবসায় আগ্রহী হন। শুরুতে তিনি একটি বান রুটির দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে দোকানের প্রধান বাবুর্চি কাজ ছেড়ে দিলে তিনি নিজেই বান রুটি তৈরির কৌশল শেখার সিদ্ধান্ত নেন। খুব দ্রুত তিনি এই কাজে দক্ষতা অর্জন করেন এবং কাজটি উপভোগ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দোকানটি পরিচালনার জন্য ডাক্তারি পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   শুরুতে তার পরিবার এই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করেছিল। কারণ চীনে চিকিৎসকের পেশাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক মনে করা হয়। এর জবাবে ডং তার পরিবারকে বলেছিলেন, আমার বয়স এখন প্রায় ৫০ বছর এবং আমি জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। অন্যরা আমাকে নিয়ে কী ভাবল তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমি শুধু এমন একটি জীবন চাই যা আমি ভালোবাসি এবং আমি নিজের জন্য বাঁচতে চাই।   তার এই দৃঢ়তায় ধীরে ধীরে তার মা ও ভাই তাকে সমর্থন করতে শুরু করেন এবং এখন তারা মাঝেমধ্যে দোকানে এসে তাকে সাহায্যও করেন। ডং বলেন, জীবনে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই, পরিবর্তনের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না। আমি যতদিন চলাফেরা করতে পারব, ততদিন এই দোকানটি চালিয়ে যেতে চাই।   চীনে রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং প্রশাসনিক কাজের বোঝার কারণে চিকিৎসকরা প্রায়ই মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক অবসাদে ভোগেন। ডংয়ের মতো আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী এখন তুলনামূলক কম মর্যাদাপূর্ণ কিন্তু শান্তিময় পেশার দিকে ঝুঁকছেন।   ২০২৪ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি বড় হাসপাতালে ১৩ বছর ধরে কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে রাস্তার পাশে স্ন্যাকসের দোকান খোলেন। তিনি জানান, আগের চাকরিতে তিনি মাসে ১০ হাজার ইউয়ানের কম বেতন পেতেন, কিন্তু এখন তার আয় আগের চেয়ে অনেক বেশি।   চীনের চিকিৎসকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম জিং লিন ইউয়ান কমিউনিটির মতে, চিকিৎসকরা শুধু শারীরিকভাবে ক্লান্ত হন না, তারা চরম মানসিক অবসাদেও ভোগেন। এটি পুরো চিকিৎসা খাতের একটি কাঠামোগত সমস্যা। চিকিৎসকদের অন্তহীন চিকিৎসা বহির্ভূত কাজ করতে হয় এবং রোগীদের অভিযোগের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। অথচ তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী তারা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না।   সূত্র: চ্যাংজিয়াং ডেইলি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২২:৬
টেসলার সাইবারট্রাক পেছাতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নিজের ছেলেকেই পিষে মেরেছেন মিস্টার অলিম্পিয়া বিচারক টেরেক এল গিন্ডি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বাবার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ছয় বছরের শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে টেসলা সাইবারট্রাক পেছনে নেওয়ার সময় নিজের ছেলেকে গাড়ির নিচে চাপা দেওয়ার ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির বয়স ছিল ছয় বছর। দুর্ঘটনায় জড়িত তার বাবা টেরিক এল গুয়িন্ডি ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ শরীরচর্চা প্রতিযোগিতার একজন বিচারক।   ঘটনাটি শনিবার রাত ৯টার কিছু আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমেকুলা শহরের ব্রুকহেভেন কোর্ট এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেরিক এল গুয়িন্ডি গাড়িটি পেছনে নেওয়ার সময় তার ছয় বছর বয়সী ছেলে প্রেস্টন গাড়িটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। পরিবার দ্রুত জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে। পরে শিশুটিকে উইলডোমারের ইনল্যান্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তবে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।   পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টেফানি চেসব্রো শিশুটির জন্য একটি অনুদান সংগ্রহের পেজ খুলেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় প্রেস্টন বাইরে খেলছিল। একটি চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে মায়ের পাশে থাকা অবস্থায় মারা যায়। পরিবার জানিয়েছে, প্রেস্টন মাত্র গত মাসে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করেছিল।   দুর্ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা এল গুয়িন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় সাইবারট্রাকটি স্বয়ংক্রিয় চালনা বা অটোপাইলট ব্যবস্থায় চলছিল না। একই সঙ্গে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল।   তবে দুর্ঘটনার আগে গাড়ির ভেতরের কোনো সতর্কতা ব্যবস্থা চালককে গাড়ির পেছনে শিশুটির উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্তকারীদের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল।   টেরিক এল গুয়িন্ডি শরীরচর্চা জগতের পরিচিত মুখ। তিনি ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে কাজ করেন। প্রতিযোগিতাটিতে বিশ্বের শীর্ষ পেশাদার বডিবিল্ডারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে বিচারকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অলিম্পিয়া টিভির সঙ্গেও যুক্ত এবং ‘প্রাইম টাইম মাসল’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিং নিয়ে আলোচনা করেন।   বডিবিল্ডিং অঙ্গনে এল গুয়িন্ডি নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন। ছয়বারের মিস্টার অলিম্পিয়া বিজয়ী ক্রিস বামস্টেড সম্পর্কেও তিনি আগে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। বামস্টেড ২০২৪ সালে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর এল গুয়িন্ডি তাকে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   এদিকে, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেস্টন সবসময় হাসিখুশি থাকত এবং তার আশপাশের মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিত। দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির স্মৃতি তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেছেন।   ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এল গুয়িন্ডির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা বা তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার দায় বা কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল, ওয়ার্ল্ড বডিবিল্ডিং নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২১:৫৬
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের হাতে আটক মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান। ছবি: সংগৃহীত
আটক মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নকল করবে ইরান

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন চালকবিহীন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ড্রোনটির প্রযুক্তি ও কাঠামো পরীক্ষা করে এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে।   মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির কিছু অংশ এখন ইরানের হাতে এসেছে।   মোহেবি বিশেষভাবে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমানে উন্নত ধাতব কাঠামো, রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন করার প্রযুক্তি, উচ্চ উচ্চতায় উড্ডয়ন এবং অস্ত্র বহনের সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির এ কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫কে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে।   ডুবো ড্রোনটি নিয়ে ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভ-এলডি মডেলের ডুবো যান হিসেবে শনাক্ত করে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান। এটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রম, পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যানটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি।   তবে ড্রোনটি আটকের গুরুত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ইরানের দাবির চেয়ে ভিন্ন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি আটকের আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না।   এ কারণে ড্রোনটি ইরানের হাতে যাওয়ার পর দেশটি এর মাধ্যমে কতটা সামরিক সুবিধা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, ইরানি প্রকৌশলীরা ড্রোনটির যান্ত্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে এর সফটওয়্যার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা একইভাবে অনুকরণ করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে।   তবে ইরানের জন্য এমন প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘটনা নতুন নয়। ২০১১ সালে দেশটি মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেনটিনেল চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান আটক করার পর সেটির নকশা বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরির দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে আটক করা মার্কিন প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে আসছে।   এবারের ডুবো ড্রোন আটকের ঘটনাটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ফলে একটি উন্নত চালকবিহীন ডুবো যান ইরানের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক ও পরিবহন বিমান, নজরদারি উড়োজাহাজ, ডুবো যান এবং চালকবিহীন যান রয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনটির যান্ত্রিক প্রযুক্তি ইরান কিছুটা কাজে লাগাতে পারলেও এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বড় কোনো অংশ হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চালকবিহীন সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রচারিত সক্ষমতার ভাবমূর্তির ওপর প্রতীকী প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, প্রেস টিভি, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২১:৩৯
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিন সপ্তাহে চার ধর্ষণ, আতঙ্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোসে (সিএসইউএসএম) চলতি শরৎ সেমিস্টার শুরুর পর তিন সপ্তাহের মধ্যে ধর্ষণের চারটি অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জেরি ম্যাককরমিকের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ঘটনা ঘটেছে ৫, ৬, ১৩ ও ১৮ সেপ্টেম্বর। ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবন দ্য কোয়াড, ইউনিভার্সিটি ভিলেজ অ্যাপার্টমেন্টস এবং ব্ল্যাক ওক হলে ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। চারটি ঘটনাই আলাদা এবং তদন্তাধীন রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত ব্যক্তি একে অপরকে চিনতেন বা তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছে না বিশ্ববিদ্যালয়। গোপনীয়তার কারণে তদন্ত চলাকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।   ঘটনাগুলোর পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী চেঞ্জ ডট অর্গে একটি আবেদন শুরু করেন। এতে ক্যাম্পাসের পার্কিং এলাকা, দ্য কোয়াড এবং পর্যাপ্ত আলো নেই এমন জায়গায় নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।   আবেদনে ওই শিক্ষার্থী বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার অধিকার রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা যথেষ্ট সাড়া পাননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে আলাদাভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট এলেন নিউফেল্টও শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস কমিউনিটির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলেছেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জেরি ম্যাককরমিক বলেন, যৌন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনার জন্য ভুক্তভোগীকে দায়ী করা উচিত নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মতি হতে হবে স্পষ্ট, স্বেচ্ছায় দেওয়া এবং চলমান। শুধু পরিচিতি বা সম্পর্ক থাকার কারণে কারও সম্মতি ধরে নেওয়া যায় না।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক শিক্ষা ও সম্মতি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা ও গোপনীয় পরামর্শের ব্যবস্থাও রয়েছে।   সেমিস্টারের শুরুতে কলেজ ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কয়েক সপ্তাহকে অনেক সময় ‘রেড জোন’ বলা হয়। সিএসইউএসএমও জানিয়েছে, শরৎ সেমিস্টারের প্রথম ছয় সপ্তাহকে এ ধরনের ঝুঁকির সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই সময়ের প্রতিটি ঘটনায় একই কারণ বা প্যাটার্ন রয়েছে।   চারটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য জানানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিএসইউএসএমের পুলিশ বিভাগও ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: এনবিসি ৭ সান দিয়েগো

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২১:১৯
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন মারাইয়া থমাস। ছবি: সংগৃহীত
দোলনা ভেবে সন্তানকে ওভেনে রেখেছিলেন মা, দোষ স্বীকারের পর ১৩ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির কানসাস সিটিতে এক মাস বয়সী মেয়েশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ২৮ বছর বয়সী মারাইয়া থমাস। আদালতে করা সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা মামলা বাদ দেওয়া হয়েছে। শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজা থেকে বাদ যাবে। ফলে তার আরও প্রায় ১১ বছর কারাভোগ করার কথা রয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কানসাস সিটির একটি বাড়িতে। সেদিন স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়, একটি শিশু শ্বাস নিচ্ছে না। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক মাস বয়সী শিশুটিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। শিশুটির নাম ছিল জা'রিয়াহ মে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভুল করে খাটের বদলে ওভেনে রেখে দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানান থমাস। তার এই বক্তব্যই পরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে কীভাবে এমন ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য আদালতের নথিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   ঘটনার সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন ছিল। তদন্তকারীদের নথিতে তার পোশাক ও ডায়াপার শরীরের সঙ্গে লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।   পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক স্বজনকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়েছিল, কারণ শিশুটির সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি ধোঁয়ার গন্ধ পান এবং শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   ঘটনার পর থমাসের বিরুদ্ধে প্রথমে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছিল এবং বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছিল।   তবে মঙ্গলবার আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে মামলার মোড় ঘুরে যায়। থমাস প্রথম-ডিগ্রির শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর বিনিময়ে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। আদালত তাকে মিসৌরি সংশোধনাগার বিভাগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং প্রবেশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   কানসাস সিটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএইচবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থমাস ইতোমধ্যে যে সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, তা তার সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কার্যত প্রায় ১১ বছর কারাভোগের কথা বলা হয়েছে।   ঘটনার পর জ্যাকসন কাউন্টির প্রসিকিউটর জ্যঁ পিটার্স বেকার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ঘটনায় একটি মূল্যবান প্রাণ হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিচারব্যবস্থা যথাযথভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।   ২০২৪ সালে মামলাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এখন দোষ স্বীকারের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। হত্যা মামলার পরিবর্তে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন থমাস এবং তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: কেএসএইচবি, জ্যাকসন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২০:৫৩