সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’ :আশনীার গ্রোভারের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:০
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’

ভারতের করব্যবস্থা এবং নাগরিকদের পাওয়া সরকারি সুবিধার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উদ্যোক্তা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী আশনীার গ্রোভার। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। গ্রোভারের বক্তব্য, ভারতে মানুষের ওপর করের বোঝা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মতো হলেও সরকারি সেবা ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে চিত্র বাংলাদেশের মতো।

 

গ্রোভারের এই মন্তব্য মূলত ভারতের করদাতাদের বিনিময়ে পাওয়া সরকারি সেবা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনারই অংশ। সাম্প্রতিক আলোচনায় তাঁর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, “ভারতে আমেরিকার মতো ট্যাক্স নেওয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশের মতো সুবিধা দেওয়া হয়।” তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো সরকারি পরিসংখ্যান বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তুলনামূলক সূচক নয়।

 

ভারতের করব্যবস্থা নিয়ে গ্রোভার এর আগেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালে ইটিসিআইওর একটি অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের করব্যবস্থাকে কঠোর ও শাস্তিমূলক বলে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের মানুষদের একটি বড় অংশ তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কর হিসেবে দেয়, কিন্তু এর বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা, অবকাঠামো, টোল এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার বিষয়ও উঠে আসে।

 

গ্রোভার আরও দাবি করেছিলেন, বেতনভোগী মানুষদের ক্ষেত্রে কর কেটে নেওয়ার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সরাসরি হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বেশি পড়ে। বিশেষ করে টিডিএস বা Tax Deducted at Source ব্যবস্থার কারণে অনেক কর্মীর বেতন থেকেই উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, একজন কর্মজীবীকে বছরের কয়েক মাসের আয়ের সমপরিমাণ অর্থ কার্যত সরকারের জন্য দিতে হচ্ছে।

 

তবে ভারতের করব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। দুই দেশের কর কাঠামো, আয়কর ব্যবস্থা, জিএসটি বা ভোগকর, রাজ্যভিত্তিক কর, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবার ধরন এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে, আবার নাগরিকদের সরকারি সুবিধাও বিভিন্ন কর্মসূচি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ফলে শুধু সর্বোচ্চ আয়কর হার বা কোনো একটি করের হার দিয়ে দুই দেশের সামগ্রিক করের বোঝা তুলনা করা যায় না।

 

ভারতের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আয়কর ছাড়াও জিএসটি, জ্বালানি কর, টোলসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করে। কোন নাগরিক কতটা সুবিধা পান, তা আয়, রাজ্য, পেশা এবং সরকারি কর্মসূচির যোগ্যতার ওপরও নির্ভর করে।

 

গ্রোভারের বক্তব্যের মূল বিষয় তাই শুধু করের হার নয়, বরং করদাতারা সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা ও সুযোগ পাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন। তাঁর সমালোচনায় কর প্রদানের সঙ্গে নাগরিক সুবিধার সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন ভারতের করনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত।

 

এর আগে ২০২৩ সালের ইটিসিআইও কনক্লেভে গ্রোভার করব্যবস্থা সহজ করার পক্ষেও মত দেন। তাঁর বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে সরল কর কাঠামো এবং কম জটিলতার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। তিনি মনে করেন, করের হার বেশি রাখলেই সরকারের রাজস্ব বাড়বে এমন নয়; সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে করদাতাদের জন্য ব্যবসা ও আয় পরিচালনা সহজ হতে পারে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে গ্রোভারের বক্তব্য আবার আলোচনায় আসার পর ভারতের করব্যবস্থা, সরকারি সেবার মান এবং করদাতাদের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর “আমেরিকার মতো কর, বাংলাদেশের মতো সুবিধা” মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের কর ও সরকারি সেবা ব্যবস্থার বাস্তব তুলনা করতে হলে মাথাপিছু আয়, মোট কর আদায়, করদাতার সংখ্যা, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ একাধিক সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’ :আশনীার গ্রোভারের

ভারতের করব্যবস্থা এবং নাগরিকদের পাওয়া সরকারি সুবিধার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উদ্যোক্তা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী আশনীার গ্রোভার। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। গ্রোভারের বক্তব্য, ভারতে মানুষের ওপর করের বোঝা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মতো হলেও সরকারি সেবা ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে চিত্র বাংলাদেশের মতো।   গ্রোভারের এই মন্তব্য মূলত ভারতের করদাতাদের বিনিময়ে পাওয়া সরকারি সেবা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনারই অংশ। সাম্প্রতিক আলোচনায় তাঁর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, “ভারতে আমেরিকার মতো ট্যাক্স নেওয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশের মতো সুবিধা দেওয়া হয়।” তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো সরকারি পরিসংখ্যান বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তুলনামূলক সূচক নয়।   ভারতের করব্যবস্থা নিয়ে গ্রোভার এর আগেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালে ইটিসিআইওর একটি অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের করব্যবস্থাকে কঠোর ও শাস্তিমূলক বলে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের মানুষদের একটি বড় অংশ তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কর হিসেবে দেয়, কিন্তু এর বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা, অবকাঠামো, টোল এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার বিষয়ও উঠে আসে।   গ্রোভার আরও দাবি করেছিলেন, বেতনভোগী মানুষদের ক্ষেত্রে কর কেটে নেওয়ার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সরাসরি হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বেশি পড়ে। বিশেষ করে টিডিএস বা Tax Deducted at Source ব্যবস্থার কারণে অনেক কর্মীর বেতন থেকেই উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, একজন কর্মজীবীকে বছরের কয়েক মাসের আয়ের সমপরিমাণ অর্থ কার্যত সরকারের জন্য দিতে হচ্ছে।   তবে ভারতের করব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। দুই দেশের কর কাঠামো, আয়কর ব্যবস্থা, জিএসটি বা ভোগকর, রাজ্যভিত্তিক কর, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবার ধরন এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে, আবার নাগরিকদের সরকারি সুবিধাও বিভিন্ন কর্মসূচি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ফলে শুধু সর্বোচ্চ আয়কর হার বা কোনো একটি করের হার দিয়ে দুই দেশের সামগ্রিক করের বোঝা তুলনা করা যায় না।   ভারতের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আয়কর ছাড়াও জিএসটি, জ্বালানি কর, টোলসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করে। কোন নাগরিক কতটা সুবিধা পান, তা আয়, রাজ্য, পেশা এবং সরকারি কর্মসূচির যোগ্যতার ওপরও নির্ভর করে।   গ্রোভারের বক্তব্যের মূল বিষয় তাই শুধু করের হার নয়, বরং করদাতারা সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা ও সুযোগ পাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন। তাঁর সমালোচনায় কর প্রদানের সঙ্গে নাগরিক সুবিধার সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন ভারতের করনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত।   এর আগে ২০২৩ সালের ইটিসিআইও কনক্লেভে গ্রোভার করব্যবস্থা সহজ করার পক্ষেও মত দেন। তাঁর বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে সরল কর কাঠামো এবং কম জটিলতার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। তিনি মনে করেন, করের হার বেশি রাখলেই সরকারের রাজস্ব বাড়বে এমন নয়; সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে করদাতাদের জন্য ব্যবসা ও আয় পরিচালনা সহজ হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে গ্রোভারের বক্তব্য আবার আলোচনায় আসার পর ভারতের করব্যবস্থা, সরকারি সেবার মান এবং করদাতাদের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর “আমেরিকার মতো কর, বাংলাদেশের মতো সুবিধা” মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের কর ও সরকারি সেবা ব্যবস্থার বাস্তব তুলনা করতে হলে মাথাপিছু আয়, মোট কর আদায়, করদাতার সংখ্যা, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ একাধিক সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-কানাডা, ৭১ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা

ছেলের এমন অদ্ভুত দাবির বিষয়ে ইতিবাচক ও হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পেশায় আইনজীবী মা-বাবা। ছবি: সংগৃহীত

সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের

চীনের উহানে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে বান রুটির দোকান খুলেছেন সাবেক চিকিৎসক ডং মিন। ছবি: সংগৃহীত

মানসিক শান্তি পেতে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিলেন নারী, খুললেন বান রুটির দোকান

হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের হাতে আটক মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান। ছবি: সংগৃহীত
আটক মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নকল করবে ইরান

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন চালকবিহীন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ড্রোনটির প্রযুক্তি ও কাঠামো পরীক্ষা করে এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে।   মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির কিছু অংশ এখন ইরানের হাতে এসেছে।   মোহেবি বিশেষভাবে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমানে উন্নত ধাতব কাঠামো, রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন করার প্রযুক্তি, উচ্চ উচ্চতায় উড্ডয়ন এবং অস্ত্র বহনের সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির এ কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫কে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে।   ডুবো ড্রোনটি নিয়ে ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভ-এলডি মডেলের ডুবো যান হিসেবে শনাক্ত করে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান। এটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রম, পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যানটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি।   তবে ড্রোনটি আটকের গুরুত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ইরানের দাবির চেয়ে ভিন্ন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি আটকের আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না।   এ কারণে ড্রোনটি ইরানের হাতে যাওয়ার পর দেশটি এর মাধ্যমে কতটা সামরিক সুবিধা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, ইরানি প্রকৌশলীরা ড্রোনটির যান্ত্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে এর সফটওয়্যার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা একইভাবে অনুকরণ করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে।   তবে ইরানের জন্য এমন প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘটনা নতুন নয়। ২০১১ সালে দেশটি মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেনটিনেল চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান আটক করার পর সেটির নকশা বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরির দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে আটক করা মার্কিন প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে আসছে।   এবারের ডুবো ড্রোন আটকের ঘটনাটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ফলে একটি উন্নত চালকবিহীন ডুবো যান ইরানের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক ও পরিবহন বিমান, নজরদারি উড়োজাহাজ, ডুবো যান এবং চালকবিহীন যান রয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনটির যান্ত্রিক প্রযুক্তি ইরান কিছুটা কাজে লাগাতে পারলেও এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বড় কোনো অংশ হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চালকবিহীন সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রচারিত সক্ষমতার ভাবমূর্তির ওপর প্রতীকী প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, প্রেস টিভি, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২১:৩৯
ইরানি প্রতিনিধিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধিনিষেধ

দোকানেও যেতে লাগবে অনুমতি, ইরানি প্রতিনিধিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধিনিষেধ

কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস

কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস

ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম

ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম

আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লগামী এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বরের AC1730 ফ্লাইটে থাকা এক মার্কিন নারী হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের কাছে কানাডায় আশ্রয় চাওয়ার কথা জানান। ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়েই মন্ট্রিয়লে পৌঁছায় এবং অবতরণের পর ওই যাত্রীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মন্ট্রিয়ল ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ওই নারী কেবিন ক্রুদের নজরে আসেন। তিনি ১৪ নম্বর সারিতে বসেছিলেন। তার আচরণ নিয়ে ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তিনি জানান, তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধ সেবন করছেন। এরপর তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হাতে হাতে লেখা কয়েকটি নোট দেন, যেখানে কানাডায় অ্যাসাইলাম চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।   ঘটনার পর পাইলট ও ফ্লাইট অপারেশনের মধ্যে যোগাযোগ হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিট থেকে জানানো হয় যে ওই যাত্রী শান্ত ছিলেন এবং বিমানের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না। এ কারণে ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে না নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য মন্ট্রিয়লের দিকেই এগিয়ে যায়।   প্রায় চার ঘণ্টা পর বিমানটি নিরাপদে মন্ট্রিয়লে অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার অ্যাসাইলাম আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, তার অ্যাসাইলাম চাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ বা কানাডার কর্তৃপক্ষ তার দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।   কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরসহ দেশটির যেকোনো বৈধ প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর কেউ অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি প্রোটেকশনের দাবি করতে পারেন। তবে আবেদন করলেই তা গ্রহণযোগ্য বা অনুমোদিত হয় না। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ প্রথমে আবেদনটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না তা যাচাই করে। যোগ্য হলে আবেদনটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আবেদনকারীর রিফিউজি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।   কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসাইলাম পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্দিষ্ট ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। শুধু উন্নত জীবন, চাকরি, শিক্ষা বা কানাডায় দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা অ্যাসাইলামের ভিত্তি নয়। আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং দাবির পক্ষে থাকা তথ্যও যাচাই করা হয়।   এ ঘটনার ক্ষেত্রে যেহেতু যাত্রী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি বিমানে কানাডায় পৌঁছেছেন, তাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তে প্রযোজ্য সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্টের নিয়মটি একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কানাডা সরকারের বর্তমান নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, এই চুক্তির নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   মাঝ আকাশে একজন যাত্রীর হাতে লেখা নোট দিয়ে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনাটি তাই ব্যতিক্রমী হলেও, কানাডায় অ্যাসাইলাম দাবি করার পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি আইনের অধীনেই পরিচালিত হবে। এখন ওই নারীর দাবির বিষয়ে কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১:২৫
গাজায় হুইলচেয়ার, টয়লেটও  প্রবেশে নিষেধ করেছে ইসরাইল

গাজায় হুইলচেয়ার, টয়লেটও প্রবেশে নিষেধ করেছে ইসরাইল

রান্নাঘর সংস্কারের সময় মাটি খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে এই প্রাচীন দেহাবশেষ। ছবি: সংগৃহীত

রান্নাঘর সংস্কার করতে গিয়ে মিলল ১ হাজার বছরের পুরোনো কঙ্কাল, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এলো প্রাচীন রহস্য

তেহরানে সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন ইরানের সাধারণ নাগরিকরা। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি হামলা মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান

0 Comments