সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:১৫
ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ আয়োজন করা হয়। 

 

এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত ব্রেকফাস্টে ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সঙ্গে গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এরপর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। 

 

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। 

 

এ ছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। 

 

এ সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে। 

 

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, এবারের সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্পের নৈশভোজে অংশ নেওয়াটি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়। 

 

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার যুক্তরাষ্ট্র সফর চলার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি ধারাবাহিক এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
কভারেজ নিতে এখনই আবেদন করুন
স্বাস্থ্যবিমার নতুন সময় শুরু, ২০২৭ সালের কভারেজ নিতে এখনই আবেদন করুন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখো মানুষের জন্য শুরু হয়েছে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমা নিবন্ধন কার্যক্রম। যারা নিজেরা স্বাস্থ্যবিমা কিনতে চান অথবা আগের বিমা পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় শুরু হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে।হেলথকেয়ার ডট গভের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন, নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন এবং পুরোনো বিমা নবায়নের সুযোগ থাকবে ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত।   তবে যারা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই নতুন স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে চান, তাদের ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করলে এবং প্রথম কিস্তি পরিশোধ করলে সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কভারেজ শুরু হবে।   এবারের নিবন্ধনে স্বাস্থ্যবিমার খরচ নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার পূর্বাভাসে ২০২৭ সালে অনেক গ্রাহকের বিমার প্রিমিয়াম বাড়ার আশঙ্কা উঠে এসেছে। ফলে আগের বছরের বিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন না করে নতুন পরিকল্পনাগুলোর খরচ ও সুবিধা তুলনা করা গুরুত্বপূর্ণ।স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচনের আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। মাসিক প্রিমিয়াম কত, চিকিৎসকের কাছে গেলে কত টাকা দিতে হবে, হাসপাতালে ভর্তি হলে কত খরচ বহন করতে হবে এবং কোন হাসপাতাল বা চিকিৎসক বিমার আওতায় রয়েছেন—এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।   বিশেষ করে যেসব পরিবারের সন্তান রয়েছে, তাদের শিশুদের চিকিৎসা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসার সুবিধা বিবেচনা করে বিমা নির্বাচন করা উচিত।যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা পাওয়ার যোগ্যতা এক নয়। অভিবাসন অবস্থা, আয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয়।   নতুন নিয়মের কারণে কিছু অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ ও আর্থিক সহায়তায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোনো বিমা বাতিল করা বা আবেদন থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। প্রয়োজনে অনুমোদিত স্বাস্থ্যবিমা পরামর্শক অথবা অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে।যারা এখনো স্বাস্থ্যবিমা করেননি, তারা সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের এলাকার বিমার পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য খরচ দেখতে পারবেন।   আবেদনের সরকারি ওয়েবসাইট: https://www.healthcare.gov/   ১৫ ডিসেম্বরের সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারলে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যবিমার সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপ কমাতে সময়মতো সঠিক স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচন করা এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৫:১২
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে

বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে, ফেসবুকের পোস্ট দেখে ছুটে এলেন দুই কিশোর

আগুনের গ্রাসে বাড়ি দুই মেয়েকে বাঁচাতে জানালা দিয়ে ছুড়লেন

আগুনের গ্রাসে বাড়ি, দুই মেয়েকে বাঁচাতে জানালা দিয়ে ছুড়লেন মা, ধরলেন প্রতিবেশীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সম্প্রতি বিক্রি শুরু হয়েছে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের তৈরি থ্রিডি প্রিন্টেড কৃত্রিম মাংস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম মাংস, খেয়ে হতাশ খাদ্যবিশেষজ্ঞ, গন্ধ প্লাস্টিকের মতো!

অভিবাসী পরিবারকে স্বস্তি দিতে নতুন সিদ্ধান্ত হিউস্টনে
পুলিশ দেখলেই আতঙ্ক নয়, অভিবাসী পরিবারকে স্বস্তি দিতে নতুন সিদ্ধান্ত হিউস্টনে

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র জন হুইটমায়ার। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর নতুন এই নির্দেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। এর ফলে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা আতঙ্ক কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন অধিকারকর্মীরা।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নির্দেশে হিউস্টন পুলিশকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না করার কথা বলা হয়েছে।   মেয়র জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিকে এমন অপরাধে গ্রেপ্তার করা হলে, যার জন্য কারাদণ্ড হতে পারে, অথবা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে পুলিশ আইসিইর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। তবে সাধারণ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কাউকে থামালে শুধু সে কারণে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার নিয়ম থাকবে না।   মেয়র জন হুইটমায়ার বলেছেন, যারা সমাজের জন্য বিপজ্জনক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু যারা পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন, কাজ করছেন কিংবা সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন, তাদের অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্য এই নীতির নয়।   এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে মানবিক দিক উঠে এসেছে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের বক্তব্যে। হিউস্টনের অভিবাসী অধিকার সংগঠন এফআইইএলের নির্বাহী পরিচালক সিজার এসপিনোসা বলেছেন, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কারণে অনেক পরিবার পুলিশের গাড়ি দেখলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ত।তার ভাষায়, সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া একজন মাকে যেন প্রতিবার পুলিশের গাড়ি দেখলেই আতঙ্কিত হতে না হয়।   এই বক্তব্য হিউস্টনের অভিবাসী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে। অনেক অভিবাসী পরিবারে বাবা-মা সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, কাজে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা আশঙ্কার কথা বলে থাকেন।   নতুন নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা। তবে হিউস্টনের অভিবাসন আইনজীবী রুবি পাওয়ার্স মনে করেন, একটি নির্দেশ জারি হলেই মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় রাতারাতি দূর হবে না। অভিবাসী সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরতে সময় লাগবে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিই এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত করা জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।উল্লেখ্য, টেক্সাসে সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর হিউস্টনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রয়োগেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।   তবে হিউস্টনের এই নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সব শহর বা অঙ্গরাজ্যে কার্যকর হবে না। এটি শুধু হিউস্টন শহরের পুলিশের জন্য দেওয়া নির্দেশ। ফলে বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসীদের মনে রাখা প্রয়োজন, এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন, আদালতের আদেশ কিংবা আইসিইর ফেডারেল ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়নি।   তবু সন্তানদের ভবিষ্যৎ, পরিবারের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অভিবাসীদের কাছে হিউস্টনের এই পদক্ষেপ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের প্রত্যাশা, আইন মেনে চলা সাধারণ পরিবারগুলো যেন ভয় নয়, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে জীবন কাটাতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৪:২১
ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় আহত পথচারী

ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় আহত পথচারীকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক এফবিআই এজেন্ট গ্রেপ্তার

ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের কনসার্ট আয়োজন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুর বাধার মুখে পড়েছেন র‍্যাপার ম্যাকলেমোর। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট করতে বাধার মুখে মার্কিন র‍্যাপার

ভেটেরানস ডেতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল দপ্তরে ছুটি

ভেটেরানস ডেতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল দপ্তরে ছুটি, বন্ধ থাকবে বিভিন্ন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ৮৪তম হাউস ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবা হায়দার। ছবি: সংগৃহীত
ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম নারী সাবা হায়দার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ৮৪তম হাউস ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবা হায়দার। ডেমোক্র্যাট পার্টির এই প্রার্থী পেয়েছেন ২০ হাজার ৭৫৬ ভোট, যা মোট ভোটের ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান স্কোপা পেয়েছেন ৮ হাজার ৫২০ ভোট। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হয়েছেন সাবা।   শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪২ বছর বয়সী সাবা হায়দারের পরিবারের শিকড় ভারতের উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর জেলার আওরঙ্গাবাদ শহরে। ২০০৬ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞান প্রকৌশলী আলী কাজমিকে বিয়ে করেন তিনি। পরের বছর স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং শিকাগো এলাকায় বসবাস শুরু করেন।   সাবার বাবা সৈয়দ আলী হায়দার একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। তাঁর মা চাঁদনি। গাজিয়াবাদে পরিবারের সদস্যরা সাবার নির্বাচনী জয়ের খবর পেয়ে আনন্দ উদ্‌যাপন করেন। মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে তাঁর বাবা বলেন, এই জয় শুধু তাঁদের পরিবারের নয়, পুরো দেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত।   সাবা গাজিয়াবাদের হলি চাইল্ড স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে রাম চেলি চাড্ডা বিশ্বাস গার্লস কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্যপ্রাণী বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। অসাধারণ ফলাফলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বর্ণপদকও পান তিনি।   তাঁর মা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই জনসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন সাবা। স্কুলজীবনে নিয়মিত বিতর্ক ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। সাবা ও তাঁর স্বামী আলী কাজমির দুই সন্তান রয়েছে। তাঁদের ছেলে আজিমের বয়স ১৬ বছর এবং মেয়ে আইজার বয়স ১২ বছর।   ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর নতুনভাবে কর্মজীবন শুরু করেন সাবা। প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি সনদপ্রাপ্ত যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক হন। কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীদের যোগব্যায়াম শেখাতেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিতে শুরু করেন।   এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় সাবা জানান, যে কমিউনিটি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ইলিনয়ে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে, সেই কমিউনিটির জন্য কাজ করতেই তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।   সাবার নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম অংশগ্রহণ ২০২২ সালে। সে বছর ডুপেজ কাউন্টি বোর্ড নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় এক হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যান তিনি।   ২০২৪ সালে আবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাটি গুস্টিনকে পরাজিত করেন সাবা। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছিলেন ৪০ হাজার ৩৩০ ভোট এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ৩১ হাজার ৩৯৫ ভোট। এর মাধ্যমে ডুপেজ কাউন্টি বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।   কাউন্টি বোর্ডে দায়িত্ব পালনের সময় পরিবেশ ও কৌশলগত পরিকল্পনাবিষয়ক কমিটির সভাপতিত্ব করেন সাবা। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও কমিউনিটি উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ডুপেজ কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বোর্ড এবং ইন্ডিয়ান প্রেইরি এডুকেশনাল ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।   ২০২৬ সালের নির্বাচনে সাবার প্রচারণার প্রধান বিষয় ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা। কর্মজীবী পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।   ইলিনয়ের ৮৪তম হাউস ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে উইল, ডুপেজ, কেন ও কেন্ডাল কাউন্টির বিভিন্ন অংশ রয়েছে। এর মধ্যে অরোরা, নেপারভিল, অসওয়েগো, মন্টগোমারি ও বোল্ডার হিল এলাকাও অন্তর্ভুক্ত।   সাবা জানান, ভোটারদের সমস্যা ও প্রত্যাশা জানতে তাঁর প্রচারণা দল ১৫ মাস ধরে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছে। বিজয়ের পর তিনি এই প্রচারণাকে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় সাবা বলেন, কর্মজীবী পরিবারগুলো কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানেন। এসব সমস্যার সমাধানে অন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন সাবা।   সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৩:৪১
স্টেট ট্রুপারকে আটক করল আইসিই

ওয়ার্ক পারমিট থাকা সত্ত্বেও অ্যাসাইলাম ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষায় থাকা স্টেট ট্রুপারকে আটক করল আইসিই

টেক্সাসে সীমানা পরিবর্তন করেও প্রত্যাশিত ফল পায়নি রিপাবলিকানরা, উল্টো নিট একটি আসন কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল রিপাবলিকানদের, টেক্সাসে উল্টো হারাল একটি আসন

প্রতিবেশীর আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৪২ বছর বয়সী নারী নিকোল বটিগ্লিয়েরি-ভেগা। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় প্রতিবেশীর বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র বাইরে ফেলার অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

0 Comments