- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকার ওয়েস্ট ফার্মসে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন বা 'অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং' প্রকল্পের অধীনে লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক ওয়াইআইএমবিওয়াই (YIMBY) ও এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'লংফেলো মারমিয়ন অ্যাপার্টমেন্টস' নামের এই প্রকল্পে মোট ১৪টি এক ও দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ১৯০০ লংফেলো অ্যাভিনিউ ও ১৯৬৮ মারমিয়ন অ্যাভিনিউয়ের দুটি পাঁচতলা ভবনে অবস্থিত এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মাসিক ভাড়া পরিবারগুলোর আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, যা সর্বনিম্ন ১ হাজার ৩৬৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রকল্পটিতে সাধারণ ভাড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু বিশেষ ভাড়ার সুবিধাও রয়েছে। এখানে ১ হাজার ৩৬৯ ডলার ভাড়ায় এক বেডরুমের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার জন্য আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৫১ হাজার ২৫৮ থেকে ৭৬ হাজার ৩৫০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। অন্যদিকে, ২ হাজার ৮ ডলার ভাড়ায় দুই বেডরুমের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলার। এর বাইরেও এক বেডরুমের চারটি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৬৮৭ ডলারে এবং দুই বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৬২৭ ডলারে পাওয়া যাবে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এক ও তিন বেডরুমের মোট চারটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্ধারিত হবে আবেদনকারী পরিবারের মোট আয়ের মাত্র ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ। এই বিশেষ ইউনিটগুলোতে কোনো আয় না থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে হাউজিং কর্তৃপক্ষের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করতে আবাসিক তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারিনটেনডেন্ট, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী আধুনিক যন্ত্রপাতি, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ক্যামেরা, ইন্টারকম ও যৌথ লন্ড্রির মতো চমৎকার সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে ভাড়াটিয়াদের নিজেদের ব্যবহারের বিদ্যুৎ ও চুলার বিল আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির 'এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট'-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রকল্পের নাম খুঁজে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার বা ডাকযোগে পাঠানোর শেষ সময় আগামী ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে একটি পাওয়ার লাইন বা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ১০৫ মিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে প্রকল্পটির ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান 'আন্ডার আর্মার' হঠাৎ করে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় পুরো কাজটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে 'ম্যারিল্যান্ড অফিস অব পিপলস কাউন্সেল' (ওপিসি) নামের একটি ভোক্তা অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা অভিযোগ তুলেছে যে, মাঝপথে আটকে যাওয়া এই বিপুল ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। দ্য বাল্টিমোর সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপিসি দাবি করেছে যে স্থানীয় স্তরের ইউটিলিটি বা পরিষেবা প্রকল্পগুলোতে আঞ্চলিক পর্যায়ের বড় প্রকল্পগুলোর মতো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। আইনি এই ফাঁকফোকর বন্ধ করে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিপরীতে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা 'বাল্টিমোর গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক' (বিজিই) কোম্পানি নিজেদের সাফাই গেয়েছে। তাদের দাবি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ শ্রম ব্যয়, সাপ্লাই চেইনের সমস্যা এবং ডেভেলপারের করা নকশায় বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণেই প্রকল্পের খরচ এতটা বেড়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নয়ন এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি পরিচিত সংকট। পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো যদি কোনো প্রকল্পে তাদের অতিরিক্ত খরচের টাকা সহজেই গ্রাহকদের বিলের মাধ্যমে আদায় করে নেয়, তবে দৈনন্দিন খরচের চাপে থাকা পরিবারগুলো আরও বেশি বিপাকে পড়বে। এছাড়া, এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোনোর মতো বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোতে জনসমর্থন কমে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের বদলে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদেরই আর্থিক ঝুঁকি বহনের তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববারের এক প্রতিবেদনে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, কমলা হ্যারিসের সাবেক অনেক সহকারী এবং উপদেষ্টা মনে করছেন যে সাবেক এই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তই নেবেন। যদিও কমলা হ্যারিস এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি, তবে অ্যাক্সিওস আটজন সাবেক সহকারী ও উপদেষ্টার ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একজন বিশ্বাস করেন যে তিনি হয়তো নির্বাচনে লড়তে পারেন। বাকিদের মধ্যে দুজন বিষয়টিকে অনিশ্চিত বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং পাঁচজন সরাসরি বলেছেন যে তিনি সম্ভবত এই লড়াইয়ের বাইরেই থাকবেন। কমলা হ্যারিসের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রাথমিক জনমত জরিপে কমলা এখনো ডেমোক্র্যাটদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষের কাছাকাছি রয়েছেন। তিনি সরে দাঁড়ালে ২০২৮ সালকে সামনে রেখে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের নতুন পরিকল্পনা সাজাতে পারবেন। কমলার সাবেক কয়েকজন সহকারী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রম—যেমন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার চালানো, পডকাস্টে অংশ নেওয়া বা নিজের বইয়ের প্রচার—এসব কোনো নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি নয়; বরং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতর নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার একটি কৌশল মাত্র। একজন সাবেক সহকারী মন্তব্য করেছেন, ২০২৮ সালের আলোচনায় টিকে থাকার জন্য তিনি কেবল 'ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কাজটুকু' করছেন। তারা আরও বলেন, তিনি যদি সত্যিই নতুন কোনো প্রচারণার জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন, তবে আরও বেশি কর্মী নিয়োগ দিতেন, ব্যাপকভাবে সফর করতেন এবং প্রধান নীতিগত বিতর্কগুলোতে আরও ঘন ঘন নিজের মতামত তুলে ধরতেন। আরেকজন সাবেক সহকারী জানান, হ্যারিস খুব ভালো করেই জানেন যে নতুন করে প্রার্থিতা ঘোষণা করলে তাকে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তাঁর হারের বিষয়টি আবারও বিতর্কে চলে আসতে পারে। এছাড়া তহবিল সংগ্রহও একটি বড় বাধা হতে পারে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করা অনেক বড় দাতা এবার তাঁর নতুন প্রচারণার বিষয়ে দ্বিধায় আছেন এবং তারা ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর বা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের মতো অন্যান্য সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকছেন। তবে প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগতভাবে কমলা হ্যারিস বারবার জানিয়েছেন যে তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর কয়েকজন সাবেক সহকারী স্বীকার করেছেন যে, তাদের এই সংশয় ভুলও প্রমাণিত হতে পারে, অথবা এটি মূলত তাদের নিজেদেরই চাওয়া যে কমলা যেন আর নির্বাচনে অংশ না নেন। অন্যদিকে, কিছু লক্ষণ বলছে তিনি এখনো সব ধরনের পথ খোলা রেখেছেন। এই বছরের শুরুর দিকে অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল যে, তিনি চীন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে ভেনিজুয়েলাসহ নানা ইস্যুতে প্রগতিশীল নেতাসহ ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। বর্তমান দলের সাথে যুক্ত এক সাবেক সহকারী তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে খুবই নিয়মতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করেছেন। তহবিল সংগ্রহের সংকটের দাবিও নাকচ করে দিয়ে তিনি জানান, কমলার কাছে ইমেইল দাতাদের একটি বিশাল তালিকা রয়েছে। তাছাড়া, ডেমোক্র্যাটরা এখন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করায় কমলার বড় কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মত দেন। তবে কমলা হ্যারিসের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অন্যান্য প্রার্থীদের পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহেই গ্যাভিন নিউসম জানিয়েছেন, কমলা হ্যারিস নির্বাচনে দাঁড়ালে তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ও আগ্রাসী মন্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি পুরো ইরানকে "উড়িয়ে দেওয়ার" কথা বিবেচনা করছেন। গত রোববার ক্যাম্প ডেভিডে ছুটি কাটানোর মাঝপথে তড়িঘড়ি করে হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ইরানের সামনে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্পের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, হয় ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে, অথবা তিনি দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেবেন, আর না হয় পুরো দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। সাক্ষাৎকারে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেন, "আমার প্রশ্ন হলো—কখন এবং কীভাবে আমি পুরো দেশটিকে উড়িয়ে দেব? তাদের বরং সতর্ক থাকা উচিত"। তাঁর এই হুমকির ঠিক এক দিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় একটি বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। সেখানে মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পাশাপাশি হঠাৎ বিমান বাতিল বা আকাশপথ বন্ধের মতো পরিস্থিতির বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছিল। এদিকে, চলতি সপ্তাহেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। এই অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে আলোচনার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি হয়তো এমন কোনো বৈঠকের বিষয়ে সম্মত হতে পারেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এমন হুমকির পর কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এক কঠোর বার্তায় তারা জানিয়েছে, যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর কোনো বাছবিচার ছাড়াই লাগাতার ও যন্ত্রণাদায়ক হামলা চালানো হবে।
গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালকোহল বা মদ্যপানের কারণে ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিনের অধীন 'সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টার'-এর গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে যেখানে দেশটিতে মদ্যপানজনিত ক্যানসারে বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৩৬১, ২০২৩ সালে তা লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ১২৬ জনে। 'গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ'-এর তিন দশকেরও বেশি সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি এই প্রতিবেদনটি 'দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ—আমেরিকাস' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং শিকাগোতে আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সম্মেলনে তা উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক পুরুষদের মধ্যেই মদ্যপানজনিত ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এই ক্যাটাগরিতে লিভার ক্যানসার মৃত্যুর প্রধান কারণ হলেও খাদ্যনালী এবং মলাশয়ের (কোলোরেক্টাল) ক্যানসারও কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে মদ্যপানজনিত ক্যানসারে মৃত্যুর প্রধান কারণ স্তন ক্যানসার। তবে গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক দিকটি লক্ষ্য করা গেছে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী তরুণ ও মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে। এই বয়সের পুরুষদের মধ্যে মদ্যপানজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং নারীদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কোলোরেক্টাল বা মলাশয়ের ক্যানসার, যা উভয় ক্ষেত্রেই লিভার ক্যানসারের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) অ্যালকোহলকে বহু আগেই শীর্ষ শ্রেণির ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান (গ্রুপ-১ কার্সিনোজেন) হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা অত্যন্ত কম। ধূমপানের ভয়াবহতা নিয়ে সমাজে সচেতনতা থাকলেও অ্যালকোহলের সঙ্গে খাদ্যনালী, অগ্ন্যাশয়, প্রোস্টেট কিংবা মলাশয়ের ক্যানসারের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি অনেকেই জানেন না। চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে মদ্যপানের কোনো 'নিরাপদ মাত্রা' নেই; তাই মদ্যপানের পরিমাণ যতটা কমানো যায়, ক্যানসারের ঝুঁকিও ততটাই হ্রাস পায়। যেহেতু এটি একটি পরিবর্তনযোগ্য জীবনযাত্রার অভ্যাস, তাই দৈনন্দিন সচেতনতাই পারে এই প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টিকা না নেওয়া এক ব্যক্তির ট্রেন ও বাসে ভ্রমণকে ঘিরে হামের সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে অ্যামট্রাক ট্রেন ও সংযোগকারী বাসে করে অঙ্গরাজ্যের অন্তত ছয়টি কাউন্টির মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেন। এ ঘটনায় সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা যাত্রীদের সতর্ক করে সতর্কতা জারি করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ (সিডিপিএইচ) জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ১০ সেপ্টেম্বর শিকাগো থেকে অ্যামট্রাক ট্রেনে করে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছান। পরে ১২ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বেকার্সফিল্ড, সেখান থেকে স্টকটন এবং এরপর সংযোগকারী বাসে করে ওরোভিল যান। ১৩ সেপ্টেম্বর বাসে করে ওরোভিল থেকে স্যাক্রামেন্টো এবং পরে স্যাক্রামেন্টো থেকে এমেরিভিলে পৌঁছান। এরপর ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর এমেরিভিল থেকে ডেনভারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই ভ্রমণপথের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার আলামেডা, বাট, কার্ন, লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যাক্রামেন্টো ও সান জোয়াকিন কাউন্টি জড়িত। নির্দিষ্ট সময়ে এসব ট্রেন, বাস বা সংশ্লিষ্ট স্টেশনে থাকা ব্যক্তিরা হামের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর জন্য স্থানীয় কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছে সিডিপিএইচ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা যাত্রীদের নিজেদের হামের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। হামের সংস্পর্শে আসার পর সাধারণত ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল বা পানি পড়া এবং শরীরে র্যাশ অন্যতম। কারও মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না গিয়ে আগে ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এতে অন্যদের মধ্যে সং ক্র ম ণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৩টি কাউন্টিতে মোট ৫৯টি হাম শনাক্ত হয়েছে। এসব রোগীর ৯৪ শতাংশ হয় টিকা নেননি, অথবা তাদের টিকা নেওয়ার অবস্থা জানা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা টিকা না নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আ ক্রা ন্ত হতে পারেন। সিডিপিএইচ জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সং ক্রা ম ক একটি রোগ এবং শিশুদের জন্য এর ঝুঁকি বেশি। হামের বিরুদ্ধে এমএমআর টিকার দুই ডোজ পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে। যাদের টিকা নেওয়ার তথ্য নেই বা নিজেদের টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না নিশ্চিত নন, তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে টিকার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
'বেআইনি কর্মকাণ্ড' ও 'কূটনৈতিক রীতি লঙ্ঘনের' গুরুতর অভিযোগে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থাগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেহরানের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের নির্দেশে ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রটির (সিএলএফ) সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে কেবল ভাষা শিক্ষার আড়ালে অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। বিচার বিভাগের অভিযোগ, কেন্দ্রটি ভাষা শিক্ষালয় হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ মর্যাদার চরম অপব্যবহার করেছে। এ কই সঙ্গে তারা ইরানের মেধাবী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করা এবং তাদের দেশত্যাগে সরাসরি সহায়তা করার মতো অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিল, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন ও চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসে ফ্রান্সে নিযুক্ত ইরানের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল প্যারিস। মূলত ইরানে নিযুক্ত দুই ফরাসি প্রতিনিধিকে সাময়িক আটক ও তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জের ধরেই ফ্রান্স ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর আগে তেহরানও ওই দুই ফরাসি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পাল্টা অভিযোগ তুলেছিল। দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মাঝেই এবার ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রটি বন্ধ করে দিল তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে মাত্র ১১ বছর বয়সেই অনন্য এক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে নজর কেড়েছে নেহেমিয়াহ টার্নার। কুকুর-বিড়াল হাঁটানো বা আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার করার বদলে সে বেছে নিয়েছিল বই পড়ে শোনানোর কাজ। আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে বসে মোট ১০০ ঘণ্টা বই পড়ে শুনিয়ে সে গড়েছে একটি অনন্য রেকর্ড। নেহেমিয়াহ অংশ নেয় জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির ‘পজিটিভ রিডিং’ কর্মসূচিতে। এই কর্মসূচিতে শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কুকুর ও বিড়ালের পাশে বসে তাদের উদ্দেশে বই পড়ে শোনায়। ২০২৪ সালে দাদির সঙ্গে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর নিয়মিত সেখানে যেতে থাকে নেহেমিয়াহ। চলতি বছরের জুনে তার পড়ার সময় ১০০ ঘণ্টা পূর্ণ হয়। জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, নেহেমিয়াহই এই কর্মসূচির প্রথম শিশু, যে ১০০ ঘণ্টার মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ জন্য তাকে একটি সনদও দেওয়া হয়। পরে জ্যাকসনভিল সিটি কাউন্সিলেও তার এই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ‘পজিটিভ রিডিং’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করা নয়। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের জন্যও এটি একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করে। অপরিচিত পরিবেশে থাকা কুকুর-বিড়াল অনেক সময় চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে থাকে। শিশুদের শান্তভাবে বই পড়ে শোনানো তাদের মানুষের উপস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে এবং কিছুটা স্বস্তি পেতে সহায়তা করতে পারে বলে জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটি জানিয়েছে। নেহেমিয়াহর কাছে বিষয়টি শুধু স্বেচ্ছাসেবা নয়, প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোরও একটি সুযোগ। সে নিয়মিত কুকুরদের বই পড়ে শোনাত এবং আশা করত, তার কণ্ঠ তাদের শান্ত থাকতে সাহায্য করবে। তার পড়া শোনা কুকুরদের মধ্যে ছিল ‘হপার’ নামের একটি কুকুরও। প্রাণীটি প্রায় ৪০০ দিন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পর শেষ পর্যন্ত দত্তক যায়। এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি শিশু অংশ নিয়েছে। জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির মতে, প্রাণীদের সামনে জোরে জোরে বই পড়ে শোনানো শিশুদের পড়ার দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। সংস্থাটি বিভিন্ন গবেষণার তথ্যও তুলে ধরেছে, যেখানে প্রাণীদের সামনে পড়ার মাধ্যমে শিশুদের পড়ার প্রতি আগ্রহ ও সাবলীলতা বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। নেহেমিয়াহর এই অর্জন এখানেই শেষ নয়। ১০০ ঘণ্টা পূর্ণ করার পরও সে থামতে চায় না। ভবিষ্যতে ১১০, ১৫০ এমনকি ২০০ ঘণ্টা পর্যন্ত বই পড়ে শোনানোর লক্ষ্য রয়েছে তার। মাত্র ১১ বছর বয়সে তার এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, বড় কোনো পরিবর্তন আনতে সবসময় বড় কিছু করার প্রয়োজন হয় না - কখনো কখনো একটি বই, একটি কণ্ঠ আর একটু সময়ই যথেষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গাড়িতে গ্যাস ভরতে গিয়ে একটু সচেতন হলেই কিছুটা খরচ কমানো সম্ভব। লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার, নগদে পেমেন্ট এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনের দাম তুলনা করার মতো কয়েকটি সহজ কৌশলে প্রতি গ্যালনে সাশ্রয় করা যেতে পারে। বর্তমানে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের হিসাবে নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালনে ৪ দশমিক ৪৭ ডলার। একই সময়ে ডিজেলের গড় দাম উঠেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এই পরিস্থিতিতে পাম্পে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলে অতিরিক্ত টাকা খরচ এড়ানো যেতে পারে। লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করুন অনেক গ্যাস স্টেশন বিনামূল্যে লয়্যালটি প্রোগ্রাম বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এসব প্রোগ্রামে যুক্ত হলে প্রতি গ্যালনে ছাড়, পয়েন্ট কিংবা ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। নিউইয়র্কের একটি এক্সন স্টেশনের উদাহরণ দিয়েছে এবিসি নিউজ। সেখানে নিয়মিত গ্যাসের দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৭৯ ডলার। তবে এক্সনের রিওয়ার্ডস অ্যাপে যুক্ত হলে নির্দিষ্ট সুবিধার মাধ্যমে দাম কমে ৪ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে আসে। অর্থাৎ প্রতি গ্যালনে ৩৪ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। কিছু গ্যাস স্টেশন নগদে পেমেন্ট করলেও ছাড় দেয়। একই নিউইয়র্কের স্টেশনে নগদ অর্থে পেমেন্ট করলে প্রতি গ্যালনে আরও ১৬ সেন্ট কম দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে নগদে ছাড়ের পরিমাণ স্টেশনভেদে আলাদা হতে পারে। গ্যাস নেওয়ার আগে দাম তুলনা করুন একই শহর বা এলাকার সব গ্যাস স্টেশনে জ্বালানির দাম এক থাকে না। তাই পাম্পে ঢোকার আগে আশপাশের কয়েকটি স্টেশনের দাম তুলনা করা যেতে পারে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ওই সময় রাজ্যটিতে নিয়মিত গ্যাসের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ০৮ ডলার। কিন্তু উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কস্টকো স্টেশনে একই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল ৫ দশমিক ৫৭ ডলারে। আবার কস্টকো ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে গ্যাসে ৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ থাকায় কার্যকর খরচ আরও কমে ৫ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়। ওই উদাহরণে প্রতি গ্যালনে সর্বোচ্চ ৭৯ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় হয়েছে। তবে সদস্যভিত্তিক গ্যাস স্টেশনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সদস্যপদের খরচও হিসাব করা জরুরি। কস্টকোর সাধারণ সদস্যপদের বার্ষিক ফি ৬৫ ডলার। নিয়মিত বেশি পরিমাণে গ্যাস কিনলে শুধু জ্বালানিতে সাশ্রয় দিয়েই এই খরচ উঠে আসতে পারে। গ্যাসের দাম কখনো কমতে পারে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে আরও বাড়তেও পারে। তাই নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের জন্য পাম্পে যাওয়ার আগে দাম যাচাই করা, লয়্যালটি সুবিধা নেওয়া এবং কোথায় কম দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তা দেখে নেওয়া বাড়তি খরচ কমানোর কার্যকর উপায় হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় জীবনের প্রথম স্বপ্নের বাড়ি কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন এক দম্পতি। বাড়ি কেনার নথিপত্রে কোনো ধরনের বকেয়া না থাকার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, হঠাৎ করেই স্থানীয় হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এইচওএ) তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার ডলারের বিলের অভিযোগ এনে বাড়িটি বাজেয়াপ্ত (ফোরক্লোজার) করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাতিয়ানা পিমেন্টেল নামের ওই নারী আমেরিকায় ২৫ বছর কাটানোর পর ২০২৪ সালে ডেকাব কাউন্টির হোয়াইটহল ফরেস্ট কমিউনিটিতে নিজের জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। কিন্তু এক বছর না পেরোতেই হোয়াইটহল ফরেস্ট ইস্ট কন্ডোমিনিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ তাদের পথে বসার উপক্রম করেছে। আটলান্টা নিউজ ফার্স্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে আট হাজার ডলারের বকেয়া দাবি করা হলেও মাসিক ফি ও আইনি খরচ মিলিয়ে তা এখন ২০ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। অবাক করা বিষয় হলো, তাতিয়ানা বাড়িটির মালিক হয়েছেন দুই বছরেরও কম সময় ধরে, অথচ তাকে চার বছরের বকেয়া পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে! বাড়ি কেনার সময় সরকারি নথিতে এইচওএ-এর ব্যালেন্স শূন্য ছিল এবং ২০২১ সালেই এই অ্যাসোসিয়েশনটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু ২০২৪ সালে ডিন হার্ড নামের এক ব্যক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচন বা ভোটাভুটি ছাড়াই নিজেকে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এটি পুনরায় চালু করেন, যা নিয়ে স্থানীয় অন্য বাসিন্দাদের মাঝেও চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে। আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রথমে কোনো আইনজীবী না পেলেও পরবর্তীতে ডেকাব প্রো বোনো-এর ক্যান্ডেস স্নিড নামের একজন আইনজীবী বিনা পারিশ্রমিকে তাদের পক্ষে লড়তে রাজি হন। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে তাতিয়ানার টাইটেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ৯ হাজার ৬০০ ডলারের একটি চেক দিলেও অ্যাসোসিয়েশনটি বাড়তি কয়েক হাজার ডলার আইনি ফি দাবি করে বসে আছে। এদিকে, পুরো হোয়াইটহল ফরেস্ট কমিউনিটিই এক নজিরবিহীন আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। তাদের পানির বিল বাবদ ৫১ লাখ ডলার এবং আবর্জনা পরিষ্কার বাবদ আরও ২৪ হাজার ডলার বকেয়া রয়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতার কারণে কমিউনিটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মাসিক চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। উদ্ভূত এসব সমস্যার সমাধানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য সম্প্রতি এইচওএ-এর ওপর নজরদারি বাড়াতে নতুন একটি আইন পাস করলেও, তা ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের গু লি তে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে শহরের উত্তরাংশে এই গো লা গু লি র ঘটনা ঘটে। অস্টিন-ট্রাভিস কাউন্টির ইএমএস প্রধান রবার্ট লাকরিৎজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই ব্যক্তির শরীরে একটি গু লি লেগেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর। তবে অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন নিশ্চিত করেছেন যে, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হলেও আপাতত তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন অস্টিনের পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস। তবে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন অস্টিন ডিস্ট্রিক্ট ৭-এর সিটি কাউন্সিল সদস্য মাইক সিগেল। তিনি অভিযোগ করেন, আইসিই কর্মকর্তা প্রথমে নিজের গাড়ি দিয়ে ওই ব্যক্তির গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেন এবং এরপর গাড়ি থেকে নেমে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গু লি চালান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে একটি ফ্লাইওভারের নিচে পার্ক করা গাঢ় নীল রঙের একটি টয়োটা করোলা গাড়ির যাত্রীর দিকের দরজায় ব্যাপক ক্ষতি ও অন্তত দুটি গু লি র ছিদ্র দেখা গেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ এবং আইন ভঙ্গকারী আইসিই কর্মকর্তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানান। মেয়র ওয়াটসনও এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তে স্থানীয় কর্মকর্তাদের যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইসিই-এর নিজস্ব তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আসলে কী ঘটেছিল তা জানার অধিকার অস্টিনবাসীর আছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক মাত্রায় অভিবাসী বি তা ড় ন কর্মসূচির মধ্যেই এই গো লা গু লি র ঘটনা ঘটল। এর আগেও গত জুলাইয়ে হিউস্টনে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো এবং মেইনে জোহান সেবাস্তিয়ান নামে এক কলম্বিয়ান যুবক আইসিই কর্মকর্তাদের গু লি তে হতাহত হন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, পরপর এসব ঘটনা অভিবাসন নীতি ও কেন্দ্রীয় এজেন্টদের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে চলমান আইনি ও মানবিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত গরম থেকে সুরক্ষা দিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে সেই খরচ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, শ্রমিকদের তাপজনিত চাপ কমানোর পাশাপাশি এসব ব্যবস্থা কারখানার উৎপাদন ও আয় ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় ঢাকার আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অনেক সময় কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি থাকে। বিশেষ করে আয়রনিং ও ফিনিশিং বিভাগে কাজ করা শ্রমিকেরা অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। অতিরিক্ত তাপের কারণে শ্রমিকদের কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানার আয়েও প্রভাব পড়ে। গবেষকদের হিসাবে, ওই আটটি কারখানায় অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের কারণে বার্ষিক আয় গড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ফলে গরমের সমস্যা শুধু শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের বিষয় নয়, এটি পোশাক প্রস্তুতকারক এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে। তাপ কমাতে ছাদে প্রতিফলনশীল রং ব্যবহার, ছাদে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং কারখানায় বায়ু চলাচল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে গবেষণায়। গবেষকদের মতে, এসব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে পারে এবং প্রায় চার বছরের মধ্যে সেই অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড রয়টার্সকে বলেন, নতুন গবেষণা পোশাকের ক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকে তাপ মোকাবিলায় কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি ধারণা দিচ্ছে। তাঁর মতে, শীতলীকরণে বিনিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত গরমের কারণে কারখানার কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা জানা না থাকলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিভিন্ন পোশাক ব্র্যান্ডও কারখানায় তাপ মোকাবিলার বিনিয়োগ কত দিনে উঠে আসতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার খরচ কে বহন করবে, তা এখনো বড় প্রশ্ন। গবেষকেরা ব্র্যান্ডগুলোকে এমন সরবরাহকারীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যারা শ্রমিকদের জন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে। এর আগে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট ও অংশীদারদের গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করা না হলে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি আয় হারাতে পারে। এসব দেশ বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদিকে, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন বা এএএফএ গত ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রমিকদের অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষায় নতুন Heat Stress Toolkit প্রকাশ করেছে। এতে পোশাক ব্র্যান্ড ও কারখানাগুলোর জন্য তাপ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, কর্মপদ্ধতি এবং সরবরাহকারীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, তাপ মোকাবিলার কিছু বিনিয়োগ যদি কোনো কারখানার জন্য এককভাবে আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভজনক না হয়, তাহলে ব্র্যান্ডগুলোকেও সেই খরচ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং উৎপাদন ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন গবেষণার ফল বলছে, কারখানা ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা শুধু শ্রমিক সুরক্ষার খরচ নয়; সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হলে এটি উৎপাদন ও আয়ের ক্ষতি কমানোর একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় শুরু হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো খোঁজ মেলেনি প্রায় ৬ হাজার মানুষের। রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃ তের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়ে গেছে। ভোতেকোশি নদীর তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাড়ি ও সেতু ভেসে যায়। এর ফলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন, যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতেও। রোববার নেপাল পুলিশের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলমান উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আরও ম র দে হ পাওয়ায় মোট মৃ তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চিতওয়ান জেলায়, যেখানে ৩৬৭ জনের ম র দে হ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া রাসুয়ায় ২৩৬ জন, পূর্ব নাওয়ালপরাসিতে ২৩২ জন এবং পশ্চিম নাওয়ালপরাসিতে ২২২ জনের ম র দে হ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নুওয়াকোট, গোর্খা, ধাদিং ও তানাহু জেলা থেকেও বহু মানুষের ম র দে হ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভয়াবহ এই দুর্যোগের এক মাস পরও নিখোঁজ থাকা প্রায় ৬ হাজার মানুষের সন্ধানে নদীর তীরবর্তী এলাকা, পলিমাটি জমে থাকা স্থান এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে চিরুনি তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকর্মীরা। রাসুয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে মাটি ও রডের জালের নিচ থেকে ১৭টি ম র দে হ উদ্ধারের জন্য গ্যাস কাটার ও গ্রাইন্ডারের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে এই কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ম র দে হ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া। পানিতে ভেসে থাকা অধিকাংশ ম র দে হ পচে গলে বা খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় চেনার উপায় থাকছে না। এখন পর্যন্ত ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ম র দে হ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে মাত্র ১১০টি ম র দে হ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। বন্যার ভয়াল থাবায় নেপালের বন্যাদুর্গত অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ঘরবাড়ি ও সম্বল হারিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলো এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙা সেতু এবং রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ শুরু করলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারঘাট, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভার্জিনিয়া টেক সম্প্রতি বার্ষিক ৫৪ হাজার ডলার বেতনে একজন 'রোটেটিং ইন্টার্ন' নিয়োগের জন্য এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসার আবেদন করেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে দেশীয় কর্মীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে বিদেশি কর্মী আনার অভিযোগ তুলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্রিস ব্রুনেট নামের এক ব্যক্তি মার্কিন শ্রম দপ্তরের একটি লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের (LCA) ছবি শেয়ার করে দাবি করেন, এই পদের জন্য কোনো যোগ্য মার্কিন নাগরিক পাওয়া যায়নি বলেই প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তার এই পোস্টটি শেয়ার করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (রিপাবলিকান) রাইলি এম. মুর এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন। ৫৪ হাজার ডলার বেতনের একটি ইন্টার্ন পদের জন্য একজনও যোগ্য আমেরিকান খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি এই কর্মসূচিকে ‘স্ক্যাম’ বা প্রতারণা আখ্যা দেন এবং অবিলম্বে এটি বন্ধের দাবি জানান। তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই নথিটি মূলত একটি এলসিএ (LCA), যা এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র। মার্কিন শ্রম দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে এই আবেদন করে থাকে। এর মানে এই নয় যে, কোনো বিদেশি কর্মীকে ইতোমধ্যেই নিয়োগ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে বা ভিসা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়ে গেছে। এলসিএ জমা দেওয়ার সময় নিয়োগকর্তাকে আইনিভাবে নিশ্চিত করতে হয় যে, তারা কর্মীকে নির্দিষ্ট বা প্রচলিত মজুরি প্রদান করবে এবং এর ফলে সমমনা দেশীয় কর্মীদের কাজের পরিবেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ভার্জিনিয়া টেকের ক্ষেত্রে কেবল এই এলসিএ নথির ওপর ভিত্তি করে এমনটি প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই যে, তারা মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে ইচ্ছে করেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে কিংবা ওই পদের জন্য কতজন মার্কিনি আবেদন করেছিলেন। পাবলিক ডেটাবেস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভার্জিনিয়া টেক (যার আইনি নাম ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অ্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি) এর আগেও 'রোটেটিং ইন্টার্ন' পদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদন করেছিল, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেতনসীমা ছিল ৪০ হাজার থেকে ৫২ হাজার ডলারের মধ্যে। এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও বিশেষায়িত পদের জন্য তৈরি হলেও, 'রোটেটিং ইন্টার্ন' পদের জন্য এই ভিসার ব্যবহার এবং এর বেতনকাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, যে কাজগুলো মার্কিন কর্মীরা খুব সহজেই করতে পারেন, সেগুলোর জন্যই সস্তা বিদেশি শ্রমিকের খোঁজে এই ভিসার অপব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
অ্যামাজন প্রাইমের গ্রাহকদের জন্য রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়ছে। ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে অ্যামাজনের প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের সমঝোতার আওতায় যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে সবাই এই অর্থ পাবেন না, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর আগে যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমা বেড়ে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন নিয়মে আগে যেসব প্রাইম গ্রাহক ১০টির কম সুবিধা ব্যবহার করেছেন, তাদের পাশাপাশি ১১ থেকে ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকরাও রিফান্ডের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। অর্থাৎ আগের তুলনায় আরও বেশি গ্রাহক এই অর্থ ফেরতের আওতায় আসতে পারেন। রিফান্ডের অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়া আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যোগ্য গ্রাহকদের ভেনমো, পেপ্যাল অথবা চেকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হতে পারে। তবে কার কত টাকা ফেরত দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অ্যামাজন প্রাইম ব্যবহারের তথ্য ও যোগ্যতার ওপর। যেসব গ্রাহক এরই মধ্যে রিফান্ড পেয়েছেন, তারাও অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তহবিল অবশিষ্ট থাকলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা সর্বোচ্চ আরও ১৪৯ ডলার পেতে পারেন। সব মিলিয়ে একজন গ্রাহকের মোট রিফান্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এফটিসির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন গ্রাহকদের প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত করা এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা গ্রাহকদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই অ্যামাজনকে গ্রাহকদের রিফান্ড দেওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের দেওয়ানি জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সমঝোতার আওতায় অ্যামাজন রিফান্ডের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার এবং দেওয়ানি জরিমানা হিসেবে আরও ১০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। রিফান্ডের অর্থ বিতরণের পরবর্তী ধাপ ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে এফটিসি—রিফান্ডের নামে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বা টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রাইবাররা তাদের যোগ্যতা ও রিফান্ড পাওয়ার বিষয়ে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করাই নিরাপদ।
সাইকেল চালাতে খুব ভালোবাসত ১৫ বছরের দারিয়া সারকভ। নিয়মিত সাইকেল চালানোর স্মৃতির মধ্যে সিটি বাইকে তোলা একটি ছবিও রয়েছে তার। কিন্তু এক বছর পর সেই সিটি বাইকেই চড়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল কিশোরীটি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ম্যানহাটনের ইস্ট ভিলেজ এলাকায় ১৪তম স্ট্রিটে ১৩ বছর বয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে সিটি বাইকে যাচ্ছিল দারিয়া। এ সময় একটি ভারী নির্মাণকাজের ট্রাকের সঙ্গে তার সাইকেলের সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত দারিয়াকে উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই প্রায় ১০ মিনিট ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেন জরুরি সেবাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনায় দারিয়া ও তার সাইকেল ভারী গাড়িটির নিচে আটকে যায় বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে থাকা ১৩ বছর বয়সী বন্ধুটিও আহত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দারিয়ার পরিণতি বুঝতে পেরে চালক কান্নায় ভেঙে পড়েন। দারিয়ার পরিবারের এক বন্ধু ক্রিস জ্যানসেন জানিয়েছেন, পরিবারের জন্য এই কঠিন সময়ে সহায়তা করতে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। দারিয়ার শেষকৃত্যসহ অন্যান্য খরচ এবং পরিবারকে সহযোগিতার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। রোববার সকাল পর্যন্ত তহবিলে ৬২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি জমা পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারিয়ার সাইকেল চালানোর বেশ কিছু ছবি রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তোলা একটি ছবিতে তাকে সিটি বাইকে দেখা যায়। দুর্ঘটনার প্রায় এক বছর আগে তোলা সেই ছবিটি এখন পরিবারের কাছে দারিয়ার আনন্দময় সময়ের একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে উঠেছে। দারিয়ার যমজ বোন গ্রেটার পাশেও দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন পরিবারের বন্ধুরা। পরিবারের বন্ধু জ্যানসেন দারিয়ার পরিবারকে এই কঠিন সময়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৈঠকে নিউইয়র্ক সিটি ও এর বাসিন্দাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় বা সময় সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়নি। ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগে দুইবার সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার হোয়াইট হাউসে তাদের সাক্ষাৎ হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা বৈঠক করেন, যেখানে নিউইয়র্কের আবাসন উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। রাজনৈতিকভাবে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলেও আগের বৈঠকগুলোতে তাদের আলোচনার পরিবেশ ছিল তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক। ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। পরে অবশ্য মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ফেব্রুয়ারির বৈঠকে মামদানি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের আদলে তৈরি একটি বিশেষ পত্রিকার প্রথম পাতা উপহার দেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড’। ১৯৭৫ সালের আলোচিত ‘ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড’ শিরোনামের আদলে তৈরি করা ওই উপহার দিয়ে নিউইয়র্কে নতুন ফেডারেল আবাসন বিনিয়োগের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মামদানির সহযোগীরা জানিয়েছিলেন। সোমবারের বৈঠকটি নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও মামদানির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। এর পর ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে—সিলিকন ভ্যালিতে চলমান এমন উদ্বেগ ও জল্পনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং। সম্প্রতি সিবিএস নিউজের সাংবাদিক জো লিং কেন্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এআই সংক্রান্ত সব ‘ডুমসডে ন্যারেটিভ’ বা বিশ্ব ধ্বংসের তত্ত্বকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। হুয়াং জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের কারণে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই এবং এর সম্ভাবনা একেবারে শূন্য শতাংশ। তিনি আরও যোগ করেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া অকারণে মানুষকে ভয় দেখানো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি ভাইরাল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের পর। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই ডেভেলপাররা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং দায়িত্বহীনভাবে সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার শামিল। তাঁর এমন আশঙ্কার পর অ্যানথ্রপিক সিইও দারিও আমোদেউ এবং ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানসহ বেশ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা এআইয়ের উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানান। তবে জেনসেন হুয়াং এই ধরনের নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীকে ‘বিজ্ঞানসম্মত নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান এআই বিপ্লবে এনভিডিয়া অন্যতম প্রধান অংশীদার, যারা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ প্রায় সব বড় কোম্পানিকে তাদের মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহ করে থাকে। এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো নীতিমালার বা ‘গার্ডরেইল’-এর প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতের সাথে সুর মিলিয়ে জানান যে, বর্তমান মার্কিন আইনই যথেষ্ট। সাইবার নিরাপত্তা, পণ্যের দায়বদ্ধতা এবং অননুমোদিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেই এআই খাতকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। এনভিডিয়া সিইওর মতে, বিশ্ব ধ্বংসের মতো কাল্পনিক গল্পের দোহাই দিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করে তাদের বর্তমান আইনি কাঠামোর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অ-মার্কিন নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করা এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। ডিওজে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার মামলাগুলোর ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিভাগটি অবৈধভাবে মার্কিন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করেছে। ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে বসবাসকারী আটজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আইডাহো, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, উইসকনসিন, নিউ জার্সি ও মিশিগানেও মামলা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া। তদন্তে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি, তার জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে। জর্জিয়ায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও ডিএসিএ সুবিধাভোগী অ্যানালিয়া মিলিসেন্ট একলেসের বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নয়বার ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। আইডাহোতে বসবাসকারী মেক্সিকোর নাগরিক অ্যাভিলা গোমেজের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি এবং ২০২২ সালের মে ও ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও আনা হয়েছে। নিউ জার্সিতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা সান্তানা কৌলিবালির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ২০১৮ ও ২০২০ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অস্থায়ী ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। নাইজেরিয়ার নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা গ্ল্যাডিস আদাইজে ওকাফোরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। ডিওজের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। ডিওজের ফ্রড বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এ পর্যন্ত ৫০ জন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আরও বড় পরিসরে তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টির বেশি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখের বেশি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবারের এসব মামলা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সব আসামিই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ অনলাইন নিরাপত্তা উদ্যোগকে ‘বিশ্বসেরা’ বলে প্রশংসা করেছেন অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল পার্কে কুকের সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ কথা জানিয়েছেন। রোববার অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রচারিত বক্তব্যে আলবানিজ বলেন, কুক তাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যে কাজ করছে, সেটিকে তিনি ‘বিশ্বসেরা’ হিসেবে দেখছেন। বৈঠকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়। অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। দেশটি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম এমন উদ্যোগ নেয়। চলতি মাসে অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ব্যবহারকারীদের নিজেদের ফিডে কী ধরনের কনটেন্ট দেখতে চান, সে বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়েছে সরকার। বৈঠকে কুক আলবানিজকে অ্যাপলের নতুন কিছু নিরাপত্তা ফিচার দেখান। এসব ফিচারের মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কখন কোন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে—এসব বিষয় আরও সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। অ্যাপলের পক্ষ থেকেও কুকের বক্তব্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। কুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আলবানিজের সঙ্গে নতুন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও কথা বলেছেন আলবানিজ। তার মতে, এআই প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাই এর ব্যবহারের জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো প্রয়োজন এবং প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকা উচিত। অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থান এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন।