সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:২
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
অস্টিনে আইসিই এজেন্টের গু লি তে আহত ব্যক্তি, তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের গু লি তে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে শহরের উত্তরাংশে এই গো লা গু লি র ঘটনা ঘটে। অস্টিন-ট্রাভিস কাউন্টির ইএমএস প্রধান রবার্ট লাকরিৎজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই ব্যক্তির শরীরে একটি গু লি লেগেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর। তবে অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন নিশ্চিত করেছেন যে, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হলেও আপাতত তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

 

এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন অস্টিনের পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস। তবে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন অস্টিন ডিস্ট্রিক্ট ৭-এর সিটি কাউন্সিল সদস্য মাইক সিগেল। তিনি অভিযোগ করেন, আইসিই কর্মকর্তা প্রথমে নিজের গাড়ি দিয়ে ওই ব্যক্তির গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেন এবং এরপর গাড়ি থেকে নেমে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গু লি চালান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে একটি ফ্লাইওভারের নিচে পার্ক করা গাঢ় নীল রঙের একটি টয়োটা করোলা গাড়ির যাত্রীর দিকের দরজায় ব্যাপক ক্ষতি ও অন্তত দুটি গু লি র ছিদ্র দেখা গেছে।

 

এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ এবং আইন ভঙ্গকারী আইসিই কর্মকর্তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানান। মেয়র ওয়াটসনও এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তে স্থানীয় কর্মকর্তাদের যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইসিই-এর নিজস্ব তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আসলে কী ঘটেছিল তা জানার অধিকার অস্টিনবাসীর আছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক মাত্রায় অভিবাসী বি তা ড় ন কর্মসূচির মধ্যেই এই গো লা গু লি র ঘটনা ঘটল। এর আগেও গত জুলাইয়ে হিউস্টনে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো এবং মেইনে জোহান সেবাস্তিয়ান নামে এক কলম্বিয়ান যুবক আইসিই কর্মকর্তাদের গু লি তে হতাহত হন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, পরপর এসব ঘটনা অভিবাসন নীতি ও কেন্দ্রীয় এজেন্টদের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে চলমান আইনি ও মানবিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে বসে বই পড়ে শোনাচ্ছে ১১ বছরের নেহেমিয়াহ টার্নার
আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের ১০০ ঘণ্টা বই পড়ে শোনাল ১১ বছরের শিশু, গড়ল অনন্য রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে মাত্র ১১ বছর বয়সেই অনন্য এক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে নজর কেড়েছে নেহেমিয়াহ টার্নার। কুকুর-বিড়াল হাঁটানো বা আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার করার বদলে সে বেছে নিয়েছিল বই পড়ে শোনানোর কাজ। আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে বসে মোট ১০০ ঘণ্টা বই পড়ে শুনিয়ে সে গড়েছে একটি অনন্য রেকর্ড।   নেহেমিয়াহ অংশ নেয় জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির ‘পজিটিভ রিডিং’ কর্মসূচিতে। এই কর্মসূচিতে শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কুকুর ও বিড়ালের পাশে বসে তাদের উদ্দেশে বই পড়ে শোনায়। ২০২৪ সালে দাদির সঙ্গে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর নিয়মিত সেখানে যেতে থাকে নেহেমিয়াহ। চলতি বছরের জুনে তার পড়ার সময় ১০০ ঘণ্টা পূর্ণ হয়।   জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, নেহেমিয়াহই এই কর্মসূচির প্রথম শিশু, যে ১০০ ঘণ্টার মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ জন্য তাকে একটি সনদও দেওয়া হয়। পরে জ্যাকসনভিল সিটি কাউন্সিলেও তার এই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।   ‘পজিটিভ রিডিং’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করা নয়। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের জন্যও এটি একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করে। অপরিচিত পরিবেশে থাকা কুকুর-বিড়াল অনেক সময় চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে থাকে। শিশুদের শান্তভাবে বই পড়ে শোনানো তাদের মানুষের উপস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে এবং কিছুটা স্বস্তি পেতে সহায়তা করতে পারে বলে জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটি জানিয়েছে।   নেহেমিয়াহর কাছে বিষয়টি শুধু স্বেচ্ছাসেবা নয়, প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোরও একটি সুযোগ। সে নিয়মিত কুকুরদের বই পড়ে শোনাত এবং আশা করত, তার কণ্ঠ তাদের শান্ত থাকতে সাহায্য করবে। তার পড়া শোনা কুকুরদের মধ্যে ছিল ‘হপার’ নামের একটি কুকুরও। প্রাণীটি প্রায় ৪০০ দিন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পর শেষ পর্যন্ত দত্তক যায়।   এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি শিশু অংশ নিয়েছে। জ্যাকসনভিল হিউম্যান সোসাইটির মতে, প্রাণীদের সামনে জোরে জোরে বই পড়ে শোনানো শিশুদের পড়ার দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। সংস্থাটি বিভিন্ন গবেষণার তথ্যও তুলে ধরেছে, যেখানে প্রাণীদের সামনে পড়ার মাধ্যমে শিশুদের পড়ার প্রতি আগ্রহ ও সাবলীলতা বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।   নেহেমিয়াহর এই অর্জন এখানেই শেষ নয়। ১০০ ঘণ্টা পূর্ণ করার পরও সে থামতে চায় না। ভবিষ্যতে ১১০, ১৫০ এমনকি ২০০ ঘণ্টা পর্যন্ত বই পড়ে শোনানোর লক্ষ্য রয়েছে তার। মাত্র ১১ বছর বয়সে তার এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, বড় কোনো পরিবর্তন আনতে সবসময় বড় কিছু করার প্রয়োজন হয় না - কখনো কখনো একটি বই, একটি কণ্ঠ আর একটু সময়ই যথেষ্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:৫৬
পাম্পে খরচ কমাতে চালকদের বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

পাম্পে গ্যাস নিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না, জানুন কৌশল

জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনা স্বপ্নের বাড়ি নিয়ে বিপাকে জর্জিয়ার এক দম্পতি

সব পাওনা শোধ করে স্বপ্নের বাড়ি কিনেছিলেন, এক বছর পর ২০ হাজার ডলারের বকেয়া দাবি

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক
৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভার্জিনিয়া টেক সম্প্রতি বার্ষিক ৫৪ হাজার ডলার বেতনে একজন 'রোটেটিং ইন্টার্ন' নিয়োগের জন্য এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসার আবেদন করেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে দেশীয় কর্মীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে বিদেশি কর্মী আনার অভিযোগ তুলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্রিস ব্রুনেট নামের এক ব্যক্তি মার্কিন শ্রম দপ্তরের একটি লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের (LCA) ছবি শেয়ার করে দাবি করেন, এই পদের জন্য কোনো যোগ্য মার্কিন নাগরিক পাওয়া যায়নি বলেই প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তার এই পোস্টটি শেয়ার করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (রিপাবলিকান) রাইলি এম. মুর এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন।   ৫৪ হাজার ডলার বেতনের একটি ইন্টার্ন পদের জন্য একজনও যোগ্য আমেরিকান খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি এই কর্মসূচিকে ‘স্ক্যাম’ বা প্রতারণা আখ্যা দেন এবং অবিলম্বে এটি বন্ধের দাবি জানান।   তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই নথিটি মূলত একটি এলসিএ (LCA), যা এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র। মার্কিন শ্রম দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে এই আবেদন করে থাকে। এর মানে এই নয় যে, কোনো বিদেশি কর্মীকে ইতোমধ্যেই নিয়োগ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে বা ভিসা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়ে গেছে।   এলসিএ জমা দেওয়ার সময় নিয়োগকর্তাকে আইনিভাবে নিশ্চিত করতে হয় যে, তারা কর্মীকে নির্দিষ্ট বা প্রচলিত মজুরি প্রদান করবে এবং এর ফলে সমমনা দেশীয় কর্মীদের কাজের পরিবেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   ভার্জিনিয়া টেকের ক্ষেত্রে কেবল এই এলসিএ নথির ওপর ভিত্তি করে এমনটি প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই যে, তারা মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে ইচ্ছে করেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে কিংবা ওই পদের জন্য কতজন মার্কিনি আবেদন করেছিলেন।   পাবলিক ডেটাবেস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভার্জিনিয়া টেক (যার আইনি নাম ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অ্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি) এর আগেও 'রোটেটিং ইন্টার্ন' পদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদন করেছিল, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেতনসীমা ছিল ৪০ হাজার থেকে ৫২ হাজার ডলারের মধ্যে।   এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও বিশেষায়িত পদের জন্য তৈরি হলেও, 'রোটেটিং ইন্টার্ন' পদের জন্য এই ভিসার ব্যবহার এবং এর বেতনকাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, যে কাজগুলো মার্কিন কর্মীরা খুব সহজেই করতে পারেন, সেগুলোর জন্যই সস্তা বিদেশি শ্রমিকের খোঁজে এই ভিসার অপব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:৫৪
অ্যামাজন প্রাইমের যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড

প্রাইম সাবস্ক্রাইবারদের অ্যাকাউন্টে আসছে ২০০ ডলার, কারা পাবেন এই অর্থ

কিশোরী দারিয়া সারকভের স্মরণে ব্যস্ত সড়কে রাখা সিটি বাইকের পাশে ফুল ও বেলুন (প্রতীকী ছবি)

সাইকেল চালাতে ভালোবাসত দারিয়া, নিউইয়র্কে সেই সিটি বাইকেই হলো শেষ যাত্রা

নিউইয়র্কে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেয়র জোহরান মামদানি

জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নিউইয়র্কে মুখোমুখি ট্রাম্প-মামদানি, বৈঠক গ্রেসি ম্যানশনে

অবৈধ ভোটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ ভোট ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অ-মার্কিন নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করা এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।   ডিওজে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার মামলাগুলোর ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিভাগটি অবৈধভাবে মার্কিন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করেছে।   ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে বসবাসকারী আটজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আইডাহো, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, উইসকনসিন, নিউ জার্সি ও মিশিগানেও মামলা হয়েছে।   অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া। তদন্তে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি, তার জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে।   জর্জিয়ায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও ডিএসিএ সুবিধাভোগী অ্যানালিয়া মিলিসেন্ট একলেসের বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নয়বার ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।   আইডাহোতে বসবাসকারী মেক্সিকোর নাগরিক অ্যাভিলা গোমেজের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি এবং ২০২২ সালের মে ও ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও আনা হয়েছে।   নিউ জার্সিতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা সান্তানা কৌলিবালির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ২০১৮ ও ২০২০ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অস্থায়ী ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   নাইজেরিয়ার নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা গ্ল্যাডিস আদাইজে ওকাফোরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। ডিওজের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন।   ডিওজের ফ্রড বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এ পর্যন্ত ৫০ জন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আরও বড় পরিসরে তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টির বেশি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখের বেশি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।   তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবারের এসব মামলা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সব আসামিই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:১৪
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়ার অভিযোগ

গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভোটের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রে প্তার মেক্সিকান নাগরিক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

১২ লাখ ডলারের সঞ্চয়ে স্টেটভেদে বদলে যাচ্ছে অবসরজীবনের হিসাব

১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর

0 Comments