- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিজের পূর্বপুরুষদের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ টেস্ট করিয়েছিলেন এক মা। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর তার পরিবার সেটি প্রকাশ্যেও আনে। কিন্তু ফল প্রকাশের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে পূর্বপুরুষের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহের অবসান হয়নি। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ওই নারীর পরিবার ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলেও অনলাইনে থাকা অনেক মানুষের সন্দেহ দূর হয়নি। বরং ছবিটি যেসব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানেই তার বংশপরিচয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। ঘটনাটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তত একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল সামনে আনা হয়েছিল। বংশপরিচয় বা পূর্বপুরুষের উৎস সম্পর্কে জানতে ডিএনএ টেস্ট বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। এ ধরনের পরীক্ষায় জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তির পূর্বপুরুষের সম্ভাব্য ভৌগোলিক উৎস ও আত্মীয়তার কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলকে ঘিরেও মানুষের প্রত্যাশা ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ের ancestry DNA test সাধারণত কোনো ব্যক্তির পূর্বপুরুষের সম্ভাব্য অঞ্চল বা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক তথ্য দেয়। এটি সবসময় পারিবারিক ইতিহাসের প্রতিটি প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয় না। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আলোচিত ঘটনাটিতে পরিবারের পক্ষ থেকে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও অনলাইনের সন্দেহ থামেনি। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে একবার ধারণা তৈরি হয়ে গেলে প্রমাণ সামনে আসার পরও সেই ধারণা কীভাবে টিকে থাকতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে ওই নারী বা তার পরিবারের পরিচয়, ডিএনএ পরীক্ষার নির্দিষ্ট ফল এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। পরিবারের প্রকাশ করা পরীক্ষার ফল থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য বা সন্দেহকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায়, সাবওয়ে স্টেশন ও অন্যান্য পাবলিক স্পেসে থাকা গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ২০২৬ সালে বেড়ে ৪ হাজার ৯৯১ জনে পৌঁছেছে। ১০ মার্চের এক রাতের গণনায় এই সংখ্যা পাওয়া যায়, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি এবং পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নিউইয়র্ক সিটির বার্ষিক হোমলেস আউটরিচ পপুলেশন এস্টিমেট বা হোপ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। এ জরিপে স্বেচ্ছাসেবকেরা এক রাত ধরে শহরের পাঁচ বরোর বিভিন্ন রাস্তা, সাবওয়ে স্টেশন ও অন্যান্য পাবলিক স্পেস ঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষকে গণনা করেন। ২০২৬ সালের জরিপে ১ হাজার ১৫৭ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। হোপ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৩৯ জন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২ জন এবং ২০২৪ সালে ৪ হাজার ১৪০ জনে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫০৪ জন। চলতি বছরের হিসাবে তা আরও বেড়ে ৪ হাজার ৯৯১ জন হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিউইয়র্ক সিটির মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা নয়। হোপ জরিপ মূলত নির্দিষ্ট একটি রাতে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে দৃশ্যমানভাবে থাকা মানুষকে গণনা করে। ফলে বিভিন্ন অস্থায়ী জায়গায় বা অন্যভাবে অবস্থানরত অনেক মানুষ এই হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন। নিউইয়র্ক স্টেটের কম্পট্রোলার কার্যালয়ের এক বিশ্লেষণেও শহরের আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা এবং তাদের জন্য পরিচালিত সেবা নিয়ে আলাদা করে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এবারের জরিপ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পরে অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র শীতের আবহাওয়ার কারণে আগের নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ১০ মার্চ রাতে হোপ জরিপ পরিচালনা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকেরা মধ্যরাত থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা গৃহহীন মানুষের সংখ্যা রাস্তায় থাকা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। শহরের উন্মুক্ত তথ্যভান্ডারে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৪ হাজার মানুষ শহরের আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে একক প্রাপ্তবয়স্ক, শিশুসম্বলিত পরিবার এবং প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। রাস্তায় থাকা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জন্য আউটরিচ ও সহায়তা কার্যক্রমও চালু রয়েছে। নিউইয়র্কের হোমলেস সার্ভিসেস বিভাগ বিভিন্ন এলাকায় আউটরিচ টিমের মাধ্যমে রাস্তায় থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। হোপ জরিপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন সেবা ও সম্পদ পরিকল্পনায় সহায়তা করা। তবে হোপের এক রাতের গণনা দিয়ে নিউইয়র্কের গৃহহীনতার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। শহরের গৃহহীনতার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ ছাড়াও অনিরাপদ বা অস্থায়ী বাসস্থানে থাকা ব্যক্তিরা রয়েছেন। ফলে রাস্তায় থাকা প্রায় ৫ হাজার মানুষের হিসাবটি সমস্যাটির একটি নির্দিষ্ট অংশের চিত্র তুলে ধরে। ২০২৬ সালের হোপ জরিপের ফল তাই নিউইয়র্কে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে শহরের আশ্রয় ব্যবস্থা, আউটরিচ কার্যক্রম এবং স্থায়ী আবাসনে স্থানান্তরের উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিও গৃহহীনতার সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ছোটবেলা থেকেই বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন সামিয়া ইসলাম আনিকা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিকবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও অর্থনীতি পড়ার আগ্রহ থেকে এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় বদলে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখানকার পড়াশোনা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপের পূর্ণ অর্থায়ন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন সামিয়া। স্নাতকে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে বিভাগ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে প্রথম হন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরে অর্জন করেন ৩.৯১ সিজিপিএ। তাঁর একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি গবেষণাপত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি জার্নালে প্রকাশিত হয়। আরেকটি গবেষণাপত্র দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের একটি সম্মেলনে উপস্থাপন করেন তিনি। সামিয়ার অর্থনীতি বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল নিজের আগ্রহ। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গণিতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। একই সঙ্গে সমাজ ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কৌতূহল ছিল। সেই দুই আগ্রহকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে অর্থনীতিকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। এক বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়ে শুরু করেন নতুন একাডেমিক যাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি সামিয়া। বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এসব কাজের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি গবেষণা, আইসিটি বিভাগের হের পাওয়ার প্রকল্প এবং সমবায় অধিদপ্তরের নারীদের জীবিকা সংশ্লিষ্ট গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন গবেষণাতেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে গবেষণামুখী একাডেমিক প্রোফাইল গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সময়ে বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনে সহসাধারণ সম্পাদক এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের কমিটিতেও সদস্য ছিলেন। ফলে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এগিয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে সামিয়ার আরেকটি বড় অর্জন ছিল জিআরই ও আইইএলটিএসের ফল। জিআরইতে ৩৩১ স্কোর করেন তিনি, যার মধ্যে কোয়ান্টিটেটিভ অংশে ছিল পূর্ণ ১৭০। আইইএলটিএসে তাঁর স্কোর ৮.৫। জিআরইয়ের ফল পাওয়ার পর শিক্ষকেরা তাঁকে পিএইচডি পর্যায়ের প্রোগ্রামে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। নিজের স্কোর অক্সফোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখে তিনি আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। অক্সফোর্ডে আবেদন করার প্রস্তুতিও ছিল তুলনামূলকভাবে দ্রুত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিয়া মাত্র দুই দিনে তাঁর স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করেছিলেন। তিনি একসঙ্গে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং অক্সফোর্ডের পাশাপাশি ইয়েল, ওয়ারউইক ও ভ্যান্ডারবিল্ট থেকেও সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত তাত্ত্বিক অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ এবং গবেষণার পরিবেশ বিবেচনায় অক্সফোর্ডকে বেছে নেন। অক্সফোর্ডের এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামটি সাধারণ অর্থে শুধু একটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি সমন্বিত গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রাম, যেখানে প্রথমে দুই বছরের এমফিল সম্পন্ন করতে হয়। এরপর সন্তোষজনক ফলাফল থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার বছরের ডিফিল পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারেন। অক্সফোর্ডের ডিফিল অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির সমতুল্য। পুরো প্রোগ্রামটি মূলত প্রায় পাঁচ বছরের সমন্বিত ডক্টরাল শিক্ষার পথ হিসেবে তৈরি। এই প্রোগ্রামেই সামিয়ার জন্য রয়েছে ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য তাঁর টিউশন ফি ও জীবনযাপনের খরচের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এই অর্থায়নের পরিমাণ বছরে প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অক্সফোর্ডের ক্ল্যারেনডন স্কলার তালিকাতেও বাংলাদেশ থেকে সামিয়া ইসলামের নাম এমফিল ইন ইকোনমিকসের সঙ্গে রয়েছে। তবে সামিয়ার এই পথচলার পেছনে শুধু পরীক্ষার ভালো ফল বা একটি স্কলারশিপ নয়, ছিল নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলায় কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভর না করে বাবার কাছেই পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় বদলানো থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়া পর্যন্ত পরিবার তাঁর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে সামিয়া পরিবারের সমর্থনকে তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সিদ্ধান্ত, অর্থনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভালো ফল, গবেষণায় সম্পৃক্ততা, জিআরই ও আইইএলটিএসে সাফল্য এবং শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের সমন্বিত এমফিল-ডিফিল প্রোগ্রামে সুযোগ পাওয়া, সব মিলিয়ে সামিয়া ইসলাম আনিকার শিক্ষাজীবন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের গল্প। এখন তাঁর সামনে অর্থনীতিতে উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিয়ায় নিজের অবস্থান তৈরি করার নতুন অধ্যায়। সূত্র: প্রথম আলো
চীন এমন একটি বিশাল জাহাজ নির্মাণ করছে, যা বিশ্বের প্রথম বিশেষায়িত চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন নৌ ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সাংহাইয়ের হুডং-ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নির্মাণাধীন জাহাজটির ছবি স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটির নকশা বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযান বহন, সমুদ্রে নামানো এবং পুনরায় জাহাজে তোলার উপযোগী। নৌবিষয়ক বিশ্লেষক এইচ আই সাটনের নেতৃত্বে একাধিক স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে ধারণা করা হয়েছে, জাহাজটির সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যবহার বড় চালকবিহীন ডুবোযানের জন্য একটি বিশেষ মাদারশিপ হিসেবে কাজ করা। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ থেকে ২০৫ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ থেকে ৬৭০ ফুটের কাছাকাছি বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। জাহাজটির পেছনের অংশে এমন একটি ব্যবস্থা দেখা গেছে, যা পানির নিচে থাকা যান নামানো ও তুলে আনার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সঙ্গে একটি বড় অভ্যন্তরীণ হ্যাঙ্গারও রয়েছে বলে স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে। নকশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, জাহাজটি একই সঙ্গে কয়েকটি বড় চালকবিহীন ডুবোযান বহন করতে পারবে। চীনের তৈরি বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে ‘এক্সএক্সএলইউইউভি’ বা অতিবৃহৎ চালকবিহীন ডুবোযান বলা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্তত দুটি নকশা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ও ৪৫ মিটার। অর্থাৎ এগুলো সাধারণ ছোট আকারের পানির নিচের ড্রোনের তুলনায় অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বোয়িং অরকার মতো চালকবিহীন ডুবোযানের তুলনায়ও এগুলোর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন জাহাজটির ভেতরের হ্যাঙ্গারে চারটি পর্যন্ত বড় ডুবোযান রাখা সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক ছোট আকারের চালকবিহীন ডুবোযানও বহন করা যেতে পারে। জাহাজটির পেছনের অংশে থাকা বিশেষ কাঠামো ব্যবহার করে এগুলো পানিতে নামানো ও আবার জাহাজে তোলা সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন জাহাজ নির্মাণ করা হলে চীনের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে উপকূলীয় ঘাঁটি বা স্থির ভাসমান প্ল্যাটফর্মের ওপর কম নির্ভরশীল করে তুলতে পারে। মাদারশিপ সমুদ্রে ডুবোযানগুলো নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় নামাতে এবং প্রয়োজনে পরে তুলে আনতে পারবে। একই সঙ্গে জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। চালকবিহীন ডুবোযানের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেই দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের কাজ করা সম্ভব। এগুলো অগভীর পানিতে প্রবেশ, অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দ বা শব্দগত বৈশিষ্ট্য সংগ্রহ এবং সমুদ্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ভারতের তাকশশিলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রামানাথনের মতে, এ ধরনের ডুবোযান অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দের তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের জন্য বড় তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারে। এতে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ শনাক্ত হলে সেটি কোন ধরনের জাহাজ বা ডুবোযানের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা দ্রুত বোঝা সহজ হতে পারে। তবে সামরিক ব্যবহারও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। রামানাথনের মতে, চালকবিহীন ডুবোযান তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের সক্ষমতাও রাখতে পারে। তবে বর্তমানে চীনের নির্মাণাধীন জাহাজ বা সংশ্লিষ্ট ডুবোযানগুলো ঠিক কী ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বহন করবে, তা নিশ্চিত নয়। চীনের সামরিক বাহিনী এখনো নির্মাণাধীন জাহাজটির অস্তিত্ব বা উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার করেনি। ফলে স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে করা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নকে সম্ভাব্য বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সরকারি তথ্য হিসেবে নয়। এই উন্নয়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দক্ষিণ চীন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর চীনের দাবির সঙ্গে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের দাবির বিরোধ রয়েছে। ২০১৬ সালে হেগের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল চীনের বিস্তৃত সমুদ্রসীমার দাবির আইনগত ভিত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। বেইজিং ওই রায় মেনে নেয়নি। এদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নৌ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতাও চলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধে চালকবিহীন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পানির নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে সক্ষম বড় ডুবোযান সেই সক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, নতুন জাহাজটি যদি সত্যিই বড় চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হয়, তাহলে এটি চীনের এসব ডুবোযানের কার্যক্রমের পরিসর বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে বড় মাদারশিপটি নিজে তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্তযোগ্য হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি থাকবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাহাজটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সমুদ্র পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এরপরই এর প্রকৃত সক্ষমতা ও ব্যবহার সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, নেভাল নিউজ, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
জার্মানির পূর্বাঞ্চলে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় দেশটিতে বসবাসরত অনেক অভিবাসী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাস, কাজ এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের প্রতি বিরূপ আচরণ বেড়েছে। জার্মানির বাল্টিক উপকূলীয় শহর রস্টকে বসবাসকারী শাহদ নাজিব এমনই একজন। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের হাত থেকে পালিয়ে এক দশকেরও বেশি আগে জার্মানিতে আশ্রয় নেন তিনি। স্বামী মাহমুদ হমুয়েশ ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন। স্বামী একটি নাপিতের দোকানে কাজ করেন এবং নাজিব স্থানীয় স্কুলগুলোতে খাবার পরিবেশন করেন। রয়টার্সকে নাজিব বলেন, সিরিয়া ছাড়ার সময়কার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো তার মনে রয়েছে। কিন্তু জার্মানিতে এক দশকের বেশি সময় কাটানোর পরও বর্তমানে তিনি ভাবছেন, এই দেশটিতে তিনি ও তার পরিবার আগের মতো স্বাগত কি না। রয়টার্স রস্টক ও কাছের শহর শভেরিনে অভিবাসী পরিবারের ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের বেশির ভাগই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের নিয়ে কটূক্তি ও বিরূপ আচরণের ঘটনা বেড়েছে। এসব আচরণের মধ্যে প্রকাশ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা থেকে শুরু করে অপমানজনক মন্তব্য পর্যন্ত রয়েছে। এক নারী জানিয়েছেন, তার প্রতিবেশী বারান্দা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি তার ওপর ঢেলে দিয়েছিলেন। নাজিবের নিজের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে ফেরার পথে একটি দোকানের কাছে এক বয়স্ক ব্যক্তি তাকে জার্মানিতে থাকার অধিকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে তিনি জানান। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘এই দেশ জার্মানদের জন্য।’ নাজিব বলেন, রস্টকে যে ধরনের কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, সেটি তার জীবনে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, নিজের জীবন গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পরও কেউ তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখলে সেটি অন্যায়ের অনুভূতি তৈরি করে। এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসছে এমন এক সময়ে, যখন জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন রাজ্যে ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে দলটিকে সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে দেখা হয়েছিল। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় আরেক রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে এএফডি প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্য নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পায়। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী অবস্থান নিয়ে এএফডির যাত্রা শুরু হলেও ২০১৫ সালে তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকারের অভিবাসন নীতির পর দলটির অভিবাসনবিরোধী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। ওই সময়ে প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করেন, যাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন সিরীয়। এএফডির প্রধান প্রার্থী লাইফ-এরিক হোম অবশ্য বলেছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসনের ব্যাপারে তার দলের আপত্তি নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের জার্মানিতে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাদেরই দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তবে সমালোচকদের মতে, অভিবাসন ও ‘রিমিগ্রেশন’ নিয়ে দলের বক্তব্যের কারণে বিদেশিদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নের সামাজিক গণতন্ত্রী রাজ্যপ্রধান মানুয়েলা শভেসিগ এক টেলিভিশন বিতর্কে এএফডির বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, যারা জার্মানিতে কাজ করছেন, কর ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন, তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। একই বিতর্কে মরক্কোর এক নকশাবিদকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই কর্মী নিয়মিত বর্ণবাদী কটূক্তির শিকার হচ্ছেন এবং এ কারণে তাকে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে একজন প্রকৌশলী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হোম বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করলেও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের ফেরত পাঠাতে সরকারের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অভিবাসন নিয়ে এই রাজনৈতিক বিতর্কের অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী পটভূমির মানুষ কর্মরত। দেশটির পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের মতো এই অঞ্চলও কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। জার্মানির শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জার্মান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি এমন প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার সিরীয় নাগরিক দেশটিতে কাজ করছেন। তাদের বেশির ভাগই পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন। সিরীয় নাগরিকদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলেও জার্মানিতে দীর্ঘদিন অবস্থানকারীদের কর্মসংস্থানের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সাত বছর বা তার বেশি সময় ধরে জার্মানিতে থাকা সিরীয়দের ৬০ শতাংশের বেশি কর্মরত ছিলেন। জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির উত্থানের পেছনে অভিবাসন ছাড়াও অর্থনৈতিক বৈষম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিনের পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি এক হওয়ার পর পূর্বাঞ্চলে কর্মসংস্থান ও আয় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও সম্পদের ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে পূর্বাঞ্চলে, বার্লিনসহ, গড় নিট সম্পদের পরিমাণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪৯ শতাংশ ছিল। এদিকে অনেক সিরীয় নাগরিক নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফিরে যাওয়ার আশা করছেন। আবার নাজিব ও হমুয়েশের মতো কেউ কেউ জার্মানিকেই ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন সেই সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হমুয়েশ বলেন, তিনি চান না তার সন্তানরা যে সমাজকে নিজেদের ঘর মনে করে, সেখানে বড় হয়ে নিজেদের প্রত্যাখ্যাত মনে করুক। তার কাছে পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে নদীতে টিউবিং করার সময় বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ক্লার্কস ফর্ক নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারীরা নদীর পানির নিচ থেকে কিশোরটির মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত কিশোরের নাম এফ্রাইম ডেলি। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মন্টানার ফ্রমবার্গের কাছে ক্লার্কস ফর্ক নদীতে বোনের সঙ্গে টিউবিং করার সময় তারা সমস্যায় পড়েছিল। একপর্যায়ে এফ্রাইম তার বোনকে নিরাপদে তীরে উঠতে সহায়তা করলেও নিজে পানিতে তলিয়ে যান। কার্বন কাউন্টির শেরিফ জশ ম্যাককুইলামের বরাত দিয়ে এমটিএন নিউজ জানিয়েছে, এফ্রাইম ও তার বোন নদীতে টিউবের ওপর ভেসে যাচ্ছিল। কোনো একপর্যায়ে তার বোন টিউব থেকে পড়ে যান অথবা টিউব থেকে নামার চেষ্টা করেন। তখন তিনি পানিতে সমস্যায় পড়লে এফ্রাইম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। শেরিফ ম্যাককুইলাম বলেন, এফ্রাইম শেষ পর্যন্ত তার বোনকে টিউবে উঠতে সহায়তা করতে সক্ষম হন। তবে বোনটি এফ্রাইমকে একইভাবে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে মেয়েটি তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে যান। ঘটনার পরপরই তাকে খুঁজতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ক্লার্কস ফর্ক নদীর যে অংশে এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৬ থেকে ১০ ফুট। উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিরা নদীর ওই অংশে ব্যাপক তল্লাশি চালান। অভিযানে ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও সহায়তা করে। একটি জরুরি ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নদীর আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে বিশেষ পানির নিচের অনুসন্ধান প্রযুক্তির সাহায্যে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এফ্রাইমের সন্ধান পাওয়া যায়। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, পানির নিচ থেকে এফ্রাইমকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এফ্রাইম ছিলেন নয় ভাইবোনের একজন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও পরিচিতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সহায়তার জন্য খোলা একটি তহবিলের পাতায় এক ব্যক্তি এফ্রাইমকে ‘অসাধারণ নায়ক’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। সেখানে তার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং হাসির গল্প বলে অন্যদের আনন্দ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নদীতে টিউবিংয়ের মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে পানির স্রোত, গভীরতা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্লার্কস ফর্ক নদীর দুর্ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান চলছে। সূত্র: কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, MTN News
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টে কথা বলার সময় গাজায় বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। শনিবার রাতে লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টের শুরুতে এ বক্তব্য দেন শিরান। এটি ছিল র্যাপার ম্যাকলমোরকে নিজের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের প্রথম কনসার্ট। ম্যাকলমোর এর আগে মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিতর্কে জড়ান। তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী শিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ান। কনসার্টে নিজের বক্তব্যের শুরুতে শিরান বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে রাজনৈতিক সংগীতশিল্পী হিসেবে তুলে ধরতে চাননি। তার সংগীত ও পরিবেশনা যেন বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং রাজনীতির পরিবর্তে মানবিকতার কথা বলে, সেটিই তিনি চেয়েছেন। তবে গাজা পরিস্থিতিকে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলে জানান। শিরান বলেন, এটি একটি মানবিক সংকট এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন করতে পারছেন না। ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ওই দিনের একটি সংগীত উৎসবে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে শিরান বলেন, এর সঙ্গে ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বেদনার বিষয়ও জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি। মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন শিরান। তিনি বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতেও যে অবিচার চলছে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন শিরান। তিনি বলেন, এই সংঘাত নিয়ে কথা বলা তার জন্য সহজ নয়। তবে মানবিক সংকটের কারণে তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারছেন না। এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, গাজা ও ফিলিস্তিনের পক্ষে তার বক্তব্যের পর সফর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের নয়, বরং সফরের আয়োজকদের সিদ্ধান্ত ছিল। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের অন্য কয়েকজন শিল্পীও শিরানের সঙ্গে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে ছিলেন অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম, বেওগা এবং ফিনিয়াস। তাদের কেউ কেউ ম্যাকলমোরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় শিরানের কনসার্টের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন কনসার্টস্থলের কাছে সমাবেশের আয়োজন করে। তবে বিতর্কের মধ্যেও শিরান সফর চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে তিনি বলেন, ভক্তদের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই উদ্বোধনী শিল্পী ছাড়াই তিনি মঞ্চে উঠেছেন। মঞ্চে তিনি আরও বলেন, কোনো শিল্পীর পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার ধারণা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেলেও মুক্ত সমাজে এটি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের পর দর্শকদের কাছ থেকে করতালি পান শিরান। এরপর তিনি নিয়মিত পরিবেশনায় ফিরে গিয়ে ‘ক্যাসল অন দ্য হিল’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক পরে তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ফিলিভয়েস
তুরস্কে ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্তৃপক্ষের দাবি, তুরস্ক থেকে পরিচালিত এই চক্রটি ভুয়া ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযানে ৯ ইসরায়েলি নাগরিকসহ ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের চারটি পৃথক তদন্তের ভিত্তিতে শুক্রবার ইস্তাম্বুল ও মুগলা প্রদেশে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত ৪২টি কল সেন্টারসহ ২৮৬টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে আটকাদেশ ছিল। পরে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক। এছাড়া পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দিত। সেখানে ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে দ্রুত ও বড় অঙ্কের লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন চক্রের কর্মীরা। পরে তাদের নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। তদন্তে উঠে এসেছে, বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম লাভের হিসাব দেখানো হতো। এতে অনেকেই আরও বেশি অর্থ জমা দিতেন। কিন্তু টাকা তোলার চেষ্টা করলে তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হতো। এরপর অ্যাকাউন্ট খুলতে বা কর পরিশোধের নামে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হতো। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকৃতপক্ষে এসব অর্থ কোনো বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়নি। বরং বিভিন্ন দেশের ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের অনুসন্ধানে চক্রটির কোম্পানিগুলোর মালিকানা এবং চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের মধ্যে ইসরায়েল-সংযুক্ত ব্যক্তিদের প্রাধান্য পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী গুরলেক। তদন্তে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া শত শত অভিযোগ এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, চক্রটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ব্যবস্থাপনার জন্য লোক নিয়োগ করতেন। কোম্পানি নিবন্ধন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণসহ সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য এসব ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হতো। এরপর লক্ষ্য করা দেশের বাইরে কল সেন্টার স্থাপন করে সেখান থেকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রের কর্মীদের নির্দিষ্ট পরিচয় ও ছদ্মনাম ব্যবহার করতে বলা হতো। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের ভাষায় যোগাযোগ করে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। ভুয়া লাভের হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আরও অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বলছে, চক্রটি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, দুই বছরে চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন তুর্কি লিরায় পৌঁছেছিল, যা প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। এই অর্থের একটি বড় অংশ অফিস পরিচালনা ও কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অবৈধ অর্থের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে তদন্তকারীদের দাবি। অভিযানে সন্দেহভাজনদের প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন তুর্কি লিরা মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে যানবাহন, সম্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক ও ক্রিপ্টো সম্পদের হিসাব রয়েছে বলে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানের পরও চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানটি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি, পুলিশ, সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট, আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড এবং ইন্টারপোলের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। সূত্র: তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয়, আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে চলন্ত টেসলা গাড়িতে চালকের আসনে ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে পুলিশ। গাড়িটিতে টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ ব্যবস্থা চালু ছিল বলে জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল বা সিএইচপি। সোলানো কাউন্টির ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে ঘটনাটি ঘটে। সিএইচপির এক মোটরসাইকেল কর্মকর্তা দেখতে পান, টেসলাটি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে চললেও চালক আসনে থাকা ব্যক্তি আসনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তাঁর চোখে ছিল কালো চশমা। পরে কর্মকর্তা গাড়িটিকে থামান। সিএইচপির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২ সেপ্টেম্বর ঘটে। গাড়ি থামানোর পর চালককে অনিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য টিকিট দেওয়া হয়। পাশাপাশি চালককে বোঝানো হয় যে টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ ব্যবস্থা চালু থাকলেও গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থেকে চালক নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নিতে পারেন না। সিএইচপি জানিয়েছে, বর্তমানে চালকের ঘুমিয়ে থাকার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। সিএইচপি কর্মকর্তা স্কট হেইটম্যান বলেন, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য নিরাপদ গতি হলো ঘণ্টায় শূন্য মাইল। টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামটি শুনে এটি পুরোপুরি চালকবিহীন ব্যবস্থা বলে মনে হলেও বাস্তবে এটি চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের নথিতেও চালক সহায়তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ও সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব চালকের ওপর থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সিএইচপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরে চালকদের সতর্ক করেছে। সংস্থাটি বলেছে, গাড়িতে উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও চালককে সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সোলানো কাউন্টির ঘটনাটি অবশ্য এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টিতে একটি টেসলা সাইবারট্রাকের চালককে হাইওয়ে ১০১-এ গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার মতো অবস্থায় দেখা যায়। সেই ঘটনার পরও সিএইচপি জানিয়েছিল, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় বা চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও গাড়ির দায়িত্ব চালকেরই। এর আগে মার্চ মাসে ভ্যাকাভিল শহরেও টেসলাকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় একটি টেসলা চলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে কর্মকর্তারা গাড়ির সামনের আসনে চালককে ঘুমন্ত অবস্থায় পান। গাড়িতে পিৎজার বাক্স ও ছোট আকারের কয়েকটি মদের বোতলও ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। সিএইচপি বলছে, আধুনিক চালক সহায়তা প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এগুলো চালকের দায়িত্ব পুরোপুরি সরিয়ে দেয় না। চলন্ত গাড়িতে চালকের মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি। সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল, SFGATE
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। হোয়াইট হাউস ১৮ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে। এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও অন্তত স্নাতক পর্যায়ের যোগ্যতা প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এই ভিসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন কিছু এইচ-১বি কর্মীর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালু করে। এর আগে এই ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ফি ছিল প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রশাসনের ভাষ্য, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা। নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে ১ লাখ ডলার পরিশোধের প্রমাণ থাকতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মীকে নিয়োগ প্রয়োজন এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য হুমকি নেই বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ১ লাখ ডলারের এই অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াই এখনো চলছে। চলতি বছরের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ফি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দেন। বিচারক লিও সোরোকিন বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী শাখা এই ধরনের অর্থকে কর হিসেবে আরোপ করার ক্ষমতা রাখে না। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলস মামলাটি পর্যালোচনা করছে। ২৪ জুলাই আপিল আদালত ফি কার্যকরের ওপর সরকারের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আইনি অবস্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর পাশাপাশি এইচ-১বি ভিসা আবেদনের যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্র, শ্রম ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরকে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আরও বিস্তারিত যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে একই ধরনের পদে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মসূচি পরিচালনায় মজুরি, শিল্প পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে। প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগকর্তা ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান কম মজুরির বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা পূরণ করছে। তবে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তি দিয়ে আসছে, বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালুর পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমেছে। হোয়াইট হাউস বলছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে। তবে এই পরিসংখ্যান ও নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণ করা হয়। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। ফলে নতুন ঘোষণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এর চূড়ান্ত আইনি বৈধতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট এলাকায় আকাশে দুটি গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষে এক পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সারাটোগা কাউন্টির এডিনবার্গ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার নিরাপদে বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারলেও অন্যটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৬ মিনিটের দিকে এডিনবার্গের হুইলার রোডের কাছে দুই উড়োজাহাজের সংঘর্ষের খবর পায় কর্তৃপক্ষ। এলাকাটি গ্রেট স্যাকানডাগা লেকের কাছাকাছি এবং সারাটোগা স্প্রিংস থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার কাছের প্লেটু স্কাই র্যাঞ্চ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ওই গ্লাইডারের পাইলট আহত হননি। তবে সংঘর্ষে বিমানটির সামনের অংশে কিছুটা ক্ষতি হয়। বিমানবন্দরের মালিক এলেইন ওয়েড দ্য টাইমস ইউনিয়নকে জানিয়েছেন, পাইলট দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে বিচলিত হলেও শারীরিকভাবে নিরাপদ ছিলেন। অন্য গ্লাইডারটি সংঘর্ষের পর একটি দুর্গম ও ঘন বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। সেটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেতে উদ্ধারকারী দলকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালাতে হয়। বিকেল প্রায় ৪টা ৫৪ মিনিটে স্যান্ড লেক রোডের কাছের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেখানে পৌঁছে একমাত্র আরোহী পাইলটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযানে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের বিমান ইউনিট, স্টেট ফরেস্ট রেঞ্জার, সারাটোগা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ স্থানীয় বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপদে অবতরণ করা গ্লাইডারের পাইলটও পরে অন্য গ্লাইডারটির সন্ধানে সহায়তা করতে আকাশে ফিরে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি গ্লাইডারের একটি ছিল Schempp-Hirth Ventus-2B এবং অন্যটি Schleicher ASW-24 বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)। গ্লাইডার সাধারণত ইঞ্জিনবিহীন উড়োজাহাজ, যা বায়ুর উত্থান ও অন্যান্য বায়ুগত শক্তি কাজে লাগিয়ে আকাশে অবস্থান করে। এখন পর্যন্ত কী কারণে দুটি গ্লাইডার আকাশে সংঘর্ষে জড়াল, তা জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ থাকলে তাদের ৫১৮-৪৫৭-৬৮১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ABC News, The Times Union
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর করা হবে না। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে “স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ” দেবে। ফলে চুক্তির প্রকৃত পরিধি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড শুক্রবার জানিয়েছে, তারা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থাও থাকবে। তবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির পরিমাণ কত হবে, এবং বৈদেশিক নীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ওয়াশিংটন কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা পাবে কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের “স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ” থাকবে। তিনি আরও বলেছেন, ওয়াশিংটনের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সেখানে সামরিক ঘাঁটি, সামরিক উপস্থিতি বা কিছু সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেনও বলেছেন, চুক্তিটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ডেনমার্কের নির্ধারিত সীমারেখা বজায় রাখবে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কয়েক মাস ধরে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। ট্রাম্প এর আগে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলেছিলেন, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ন্যাটোও চুক্তিটিকে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণ নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কতটা বাড়বে বা ওয়াশিংটনের বাস্তব ক্ষমতার পরিধি কতটুকু হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো—গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা হয়নি; বরং নতুন চুক্তিতে নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। Source: রয়টার্স
গাজায় যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা এবার মঞ্চনাটকে তুলে ধরছেন সেখানকার অভিনেতারা। ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নামের এই নাটকে অভিনয় করা শিল্পীদের অনেকেই নিজেরাই যুদ্ধের ক্ষত, ঘর হারানো ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মঞ্চে তারা যে গল্প বলছেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরা যুদ্ধের আগে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। যুদ্ধের সময় তার উত্তর গাজার আল-তাওয়াম এলাকার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের নিচে একটি কক্ষে থাকেন তিনি। প্রতিদিন পরিবারের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করে রান্নার ব্যবস্থা করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে মহড়ায় যেতে হয় তাকে। নাটকে কাদ্দুরা এমন এক চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি যুদ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন এবং অ্যানেসথেশিয়া ছাড়াই নিজের সন্তানের পা কেটে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। দৃশ্যটি একজন বাস্তব গাজাবাসী বাবার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়ায় দৃশ্যটি অভিনয় করতে গিয়ে কাদ্দুরা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মহড়ার মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়লেও পরে আবার মঞ্চে ফিরে একই দৃশ্য অভিনয় করেন। নাটকটির পরিচালক আলি আবু ইয়াসিন গাজায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। যুদ্ধের কারণে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বা শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি স্থাপনাও রয়েছে। ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ প্রকল্পটির শুরু ২০২৬ সালের এপ্রিলে নাট্যরচনা কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত আটজন এতে যুক্ত থাকতে পারেন। পরে তারাই নাটকটি মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন শুরুতে তাদের কোনো স্থায়ী মঞ্চ ছিল না। তাঁবু টাঙিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের গাড়ি রাখার জায়গায় মহড়া চলেছে। পরে গোলাগুলির কারণে স্থান পরিবর্তন করে একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাফের ছোট কক্ষে মহড়া করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল না। কাঠের সংকট থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠ দিয়ে শিল্পীরাই মঞ্চের সেট তৈরি করেন। ২৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী ইমান ওদাও নিজের জীবনের ভয়কে চরিত্রের মধ্যে খুঁজে পান। এক মহড়ার সময় কাছাকাছি বিস্ফোরণ হলে অভিনেতারা মহড়া বন্ধ করে পরিবারের খোঁজ নিতে ফোন করেন। নিজের বাবার মৃত্যুর স্মৃতিও নাটকের একটি চরিত্রের নামের সঙ্গে জড়িয়ে তার আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। অভিনেতা তামের নাজমের গল্পও নাটকের সঙ্গে মিশে গেছে। যুদ্ধের আগে তিনি গাজা সিটির নাসের এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য বহু বছর সঞ্চয় করেছিলেন। সেই বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন বাড়ি, ফুটপাত ও তাঁবুতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। নাটকে তিনি এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি পরিবার ও সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় থাকেন। অবশেষে গাজা সিটির আল-ওয়াহদা স্ট্রিটের এ.এম. কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয় ১৯ জুলাই। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়। পরে জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজার দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে নাটকটির প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি প্রদর্শনীতে ৫০০ জনের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। গাজার এই শিল্পীদের কাছে নাটকটি শুধু বিনোদন নয়; নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ ও যুদ্ধের বাস্তবতা নথিবদ্ধ করার একটি মাধ্যম। যুদ্ধের মধ্যেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা এমন গল্প বলছেন, যেগুলোর অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবন থেকে উঠে এসেছে। আর অভিনয় শেষ হওয়ার পরও তাদের যুদ্ধ থেমে থাকে না—মঞ্চ থেকে ফিরে আবার শুরু হয় খাবার, আশ্রয় ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব লড়াই। Source: আল জাজিরা
ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় হুথি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই থেমে গেছে। দোকানপাট বন্ধ, স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই এবং নিরাপত্তার আশঙ্কায় বহু পরিবার ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গত সপ্তাহে হুথিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মোখা ছেড়ে পালিয়েছে। অনেকেই দক্ষিণের সরকারি নিয়ন্ত্রিত শহর এডেনের দিকে যাচ্ছেন। তবে অর্থের সংকটে বহু পরিবার শহরেই আটকে আছে। এডেনে যাওয়ার বাসভাড়াও বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। মোখার বাসিন্দা মাহমুদ জানান, তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কাজে যেতে পারেননি। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। আগে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকা দোকানগুলো এখন অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহরে বিদ্যুৎ থাকলেও রাত ৮টার দিকে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। শিক্ষা কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, মোখায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শিশুদের ওপর হুথিদের প্রভাব বিস্তার বা নিয়োগের আশঙ্কাও কিছু পরিবারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। মোখা ছেড়ে পালানো মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দেশটিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মোখার গুরুত্ব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত শহরটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে মোখা ও আশপাশের এলাকায় হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মোখায় এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা, চলাচলে বাধা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্থবিরতা। শহর ছেড়ে পালানোর সামর্থ্য যাদের নেই, তাদের অনেকেই ঘরেই অবস্থান করছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায়ও সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়তে থাকায় দেশটির দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। Source: আরব নিউজ, রয়টার্স
মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর অভিবাসী পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্কুলগুলোতেও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কমেছে। গত শীতকালে মিনেসোটায় হাজার হাজার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে অপারেশন মেট্রো সার্জ চালানো হয়। অভিযানের সময় আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি স্কুলের আশপাশেও দেখা যায়। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের নতুন প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়, কেউ কেউ ক্লাসে মনোযোগ হারায় এবং কয়েকটি পরিবার সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একজন শিক্ষক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেছেন, ‘শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।’ এটি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, সরকারি পরিসংখ্যান নয়। সাহান জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি শেখা শিক্ষার্থীর হার বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে মার্চ ২০২৬-এ আগের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কম ছিল। তুলনায়, একই প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমেছিল ৮০ জনেরও কম। শিক্ষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যেতে পারে। আগামী স্টেট স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শিক্ষকরা বলছেন, শুধু নম্বর দিয়ে ওই সময়ের শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিচার করলে অভিযানের কারণে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসবে না। মিনেসোটা সরকারের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্কুল-নেতাদের জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাজ্যের ৮০ শতাংশ পাবলিক স্কুল নেতা বলেছেন, অপারেশন মেট্রো সার্জ শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টুইন সিটিজ মেট্রো এলাকায় এই হার ছিল ৯৫ শতাংশ। অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু স্কুলে উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইসিইর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিনেসোটা রিফর্মার ও এমপিআর নিউজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ পরে বহিষ্কৃত হন বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। এদিকে অপারেশন মেট্রো সার্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও এর বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযানকে বেআইনি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারক এখনো মামলাটি খারিজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টদের উদ্দেশ্য স্কুলে শিশুদের গ্রেপ্তার করা নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযানের প্রভাব নিয়ে শিক্ষক, পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, মিনেসোটার স্কুলগুলোতে অপারেশন মেট্রো সার্জের প্রভাব নিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুল পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত—সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পুরো কারণ শুধু অভিবাসন অভিযান - এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক ওই পরিসংখ্যান একা প্রমাণ করে না। Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
মিশিগানে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের পরিবারকে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া ‘আরএক্স কিডস’ কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কর্মসূচিটির অর্থব্যবহার, যোগ্যতার শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে কঠোর তদারকির দাবি তুলেছেন। মিশিগান হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জে ডিবোয়ার দাবি করেছেন, গ্যারান্টিড ইনকাম ধরনের কর্মসূচি কার্যকর নয় এবং এগুলো মূলত সম্পদ পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা। তার নেতৃত্বে একদল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আরএক্স কিডসের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন। আরএক্স কিডসের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী এলাকায় গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থায় এককালীন ১ হাজার ৫০০ ডলার পান। এরপর শিশুর জন্মের পর অধিকাংশ এলাকায় প্রতি মাসে ৫০০ ডলার করে সর্বোচ্চ ছয় মাস দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় এই মাসিক সহায়তা শিশুর প্রথম বছর পর্যন্ত চলতে পারে। আয় বা চাকরির শর্ত নেই; তবে নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারী এলাকায় বসবাস, গর্ভাবস্থা বা শিশুর অভিভাবকত্বের মতো যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। কর্মসূচিটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মিশিগানের ফ্লিন্টে শুরু হয়। পরে এটি মিশিগান ও ওহাইওর ৬০টির বেশি কমিউনিটিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি কর্মসূচিটির নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং গিভডাইরেক্টলি এর নগদ অর্থ বিতরণ পরিচালনা করছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রধান আপত্তির একটি হলো, পরিবারগুলো এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে, তার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ নেই। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের সরকারি ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালনার প্রয়োজন কেন হচ্ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল স্বাধীনভাবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক মাসে পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোই এর উদ্দেশ্য। মিশিগান সরকারের একটি স্বাস্থ্যসেবা নথিতেও আরএক্স কিডসকে গর্ভবতী নারী, শিশু ও পরিবারকে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আরএক্স কিডসের পরিচালক ড. মোনা হানা অবশ্য এটিকে প্রচলিত গ্যারান্টিড ইনকাম বা ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম কর্মসূচি হিসেবে দেখেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের শুরুর সময়কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ও পারিবারিক প্রয়োজন মোকাবিলার কর্মসূচি। তবে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগের নথিতে আরএক্স কিডসকে গ্যারান্টিড ইনকাম কর্মসূচির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মিশিগানের এই বিতর্ক এখন মূলত দুটি প্রশ্নকে ঘিরে—করদাতাদের অর্থে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া কতটা কার্যকর এবং এমন কর্মসূচির অর্থব্যবহার ও ফলাফল কীভাবে পরিমাপ করা হবে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা আরও তদারকি চান, আর কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, শিশু ও পরিবারকে আর্থিক স্থিতিশীলতা দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ফলে আরএক্স কিডস নিয়ে বিতর্কটি এখন শুধু একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়, বরং সরকারি নগদ সহায়তার ভূমিকা নিয়েও বৃহত্তর নীতিগত আলোচনায় পরিণত হয়েছে। Source: ফক্স নিউজ, মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস,
নিউইয়র্ক সিটির ইমার্জেন্সি স্নো শোভেলারদের ঘণ্টাপ্রতি বেতন বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে তারা ঘণ্টায় ৩০ ডলার পাবেন, আর সপ্তাহে প্রথম ৪০ ঘণ্টা কাজের পর ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক বেড়ে হবে ৪৫ ডলার। গত শীত মৌসুমে এই হার ছিল যথাক্রমে ১৯ দশমিক ১৪ ও ২৮ দশমিক ৭১ ডলার। নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ও স্যানিটেশন কমিশনার গ্রেগরি অ্যান্ডারসন। শীতের তুষারপাত শুরু হওয়ার আগেই কর্মী প্রস্তুত রাখতে এবার শরৎকালেই নিবন্ধন শুরু করা হচ্ছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করা কর্মীরা ডিসেম্বরে চার ঘণ্টার একটি পেইড ওরিয়েন্টেশন করার সুযোগ পাবেন। গত শীতে রেকর্ডসংখ্যক ৭ হাজার ৮০০-এর বেশি নিউইয়র্কবাসী এই অস্থায়ী কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তীব্র তুষারপাত ও তুষারঝড়ের পর সিটি স্যানিটেশন কর্মীদের সঙ্গে তারা ১ লাখ ৩৫ হাজার ক্রসওয়াক, ৩৪ হাজার বাসস্টপ এবং ২৯ হাজার ফায়ার হাইড্র্যান্ট পরিষ্কারে কাজ করেন। এই কর্মীদের কাজ শুধু রাস্তা থেকে তুষার সরানো নয়। ভারী তুষারপাতের পর বাসস্টপ, ক্রসওয়াক, ফায়ার হাইড্র্যান্ট ও বিভিন্ন জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করাও তাদের দায়িত্বের অংশ। বিশেষ করে ফায়ার হাইড্র্যান্টের আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। এবার কর্মীদের দ্রুত মাঠে নামাতে নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে অনেক সময় তুষারপাত শুরু হওয়ার পর কর্মী সংগ্রহ করা হতো। এবার আগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। নিবন্ধনের পর কাজ করলে বেতন পাওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত করা হবে; সিটির লক্ষ্য কাজের দুই সপ্তাহের মধ্যে পেমেন্ট দেওয়ার। ইমার্জেন্সি স্নো শোভেলার হতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকতে হবে এবং প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারের মধ্যে শারীরিকভাবে কঠিন কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির জন্য এই কর্মসূচির গুরুত্ব গত শীতের তীব্র আবহাওয়ার সময় আরও স্পষ্ট হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির বড় তুষারঝড়ের সময় সিটি জরুরি ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক স্নো শোভেলার নিয়োগ করেছিল এবং তাদের পারিশ্রমিক সাময়িকভাবে ঘণ্টায় ৩০ ডলারে বাড়ানো হয়েছিল। এবার সেই বাড়তি হারকেই শীত মৌসুমের নিয়মিত পারিশ্রমিক কাঠামোয় নেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর ফলে নিউইয়র্কে শীতকালীন এই অস্থায়ী কাজটি এখন আগের তুলনায় বেশি পারিশ্রমিকের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সিটি প্রশাসন বলছে, আগেভাগে কর্মী প্রস্তুত রাখার লক্ষ্য হলো তুষারঝড়ের পর গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের চলাচলের জায়গাগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা এবং শহরের জরুরি পরিষেবা সচল রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম মেয়াদে গঠিত স্পেস ফোর্সের আদলে কাজ করবে। একই সঙ্গে এআই কার্যক্রমের জন্য একজন নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন এআই ফোর্সের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ওপর নজর রাখা হবে। তবে নতুন বাহিনীটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে থাকবে, এর বাজেট কত হবে বা এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ট্রাম্প নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগকে ‘হোক্স’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এআইকে বাধাগ্রস্ত না করে এর বিকাশে সহায়তা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে চীন ও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নত এআই দ্রুত ব্যবহারের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’ ঘোষণার পরও এর বাস্তব কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। এটি স্পেস ফোর্সের মতো একটি স্বতন্ত্র সামরিক শাখা হবে, নাকি প্রশাসনের অধীনে একটি নতুন সমন্বয়কারী বা তদারকি কাঠামো হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো বিস্তারিত জানাননি। ফলে ঘোষণাটি আপাতত একটি নতুন ফেডারেল উদ্যোগের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে। এদিকে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ট্রাম্প বলেছেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ‘এআই ফোর্স’ ও এআই ‘জার’ নিয়োগের মাধ্যমে সেই নীতিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে ভারতগামী ফ্লাইটের আগে হুইলচেয়ারে বসা যাত্রীদের দীর্ঘ সারির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি ঘিরে হুইলচেয়ার সহায়তা প্রকৃত প্রয়োজন নাকি সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে—এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবিটি ভ্রমণবিষয়ক মন্তব্যকারী প্রিয়েশ শর্মা এক্সে শেয়ার করেন। এতে বিমানবন্দরের একটি গেটের কাছে একাধিক যাত্রীকে হুইলচেয়ারে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের অনেকেই বয়স্ক হলেও কয়েকজনকে তুলনামূলক কম বয়সী মনে হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, সবাই কি সত্যিই হুইলচেয়ার সহায়তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেন? ছবিটি প্রকাশের পর অনেকে অভিযোগ করেন, কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হাঁটা এড়ানো, বিমানবন্দরে সহজে চলাচল কিংবা দ্রুত বোর্ডিংয়ের সুবিধার জন্য হুইলচেয়ার চাইতে পারেন। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, এ ধরনের ব্যবহার বাড়লে সীমিত সহায়তা-সেবা প্রকৃতভাবে প্রয়োজন এমন যাত্রীদের জন্য কম পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, ছবিটি দেখে কোনো যাত্রীর প্রকৃত প্রয়োজন বিচার করা সম্ভব নয় বলে পাল্টা মতও এসেছে। সব ধরনের শারীরিক সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা বাইরে থেকে দেখা যায় না। বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রীদের দীর্ঘ টার্মিনাল, গেট পরিবর্তন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও সংযোগ ফ্লাইট সামলাতে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। বিমানবন্দরের জটিলতা ও ভাষাগত সমস্যার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ না করা যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল পরিবর্তন, গেট বদল, দেরি, সংযোগ ফ্লাইট ও পুনরায় বুকিংয়ের মতো বিষয় সামলানো কঠিন হতে পারে। ফলে কোনো কোনো যাত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও বিমানবন্দরে চলাচলের সহায়তা চাইতে পারেন—এমন মতও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন পরিবহন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী হুইলচেয়ার, মোটরচালিত কার্ট, গেট পরিবর্তনের সময় সহায়তা এবং বিমান ওঠা-নামার ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে হয়। ফলে ভাইরাল ছবিটি মূলত বিমানবন্দরের হুইলচেয়ার সহায়তা ব্যবস্থাকে ঘিরে একটি পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে—সুবিধার জন্য সেবার ব্যবহার আর প্রকৃত প্রয়োজনের মধ্যে সীমারেখা কোথায়? তবে শুধু কোনো যাত্রীর বয়স বা চেহারা দেখে তার হুইলচেয়ার প্রয়োজনীয় নয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। Source: ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে দ্রুত পাঠানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা এসেছে। বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে, কোনো অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে তাকে কার্যকরভাবে জানাতে হবে এবং সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বেআইনি বলে বহাল রেখেছে। মামলাটি মূলত এমন অভিবাসীদের নিয়ে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু সরকার তাদের সেই আদেশে উল্লেখ করা হয়নি এমন দেশে পাঠাতে চায়। সহজভাবে বললে, কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের দেশে পাঠানো সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাকে গ্রহণে রাজি অন্য দেশে পাঠাতে পারে। এটিই সাধারণভাবে ‘তৃতীয় দেশে পাঠানো’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নতুন রায়ের মূল প্রশ্ন হচ্ছে—সেই ব্যক্তিকে কোথায় পাঠানো হবে তা আগে না জানিয়ে এবং সম্ভাব্য বিপদের কথা জানানোর যথেষ্ট সুযোগ না দিয়ে সরকার দ্রুত তাকে পাঠিয়ে দিতে পারবে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা থাকতে হবে। মামলাটি ২০২৫ সালের মার্চে চারজন অ-নাগরিকের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের নতুন নীতিতে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ থাকা ব্যক্তিদের এমন দেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যেসব দেশের নাম তাদের আগের অপসারণ আদেশে ছিল না। একই সঙ্গে সেই দেশে গেলে নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল না বলে তারা অভিযোগ করেন। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কোনো গ্রহণকারী দেশ কূটনৈতিকভাবে নিশ্চয়তা দিলে যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিদের সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতন করা হবে না, সেই নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করার সুযোগ ছিল ওই নীতিতে। পরবর্তী সময়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আরও একটি নির্দেশনা দিয়ে নীতিটির প্রয়োগ স্পষ্ট করে। কিন্তু অভিবাসীদের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, একটি দেশের সাধারণ কূটনৈতিক নিশ্চয়তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। কারণ একজন ব্যক্তির জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতামত কিংবা নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে কোনো দেশে আলাদা ঝুঁকি থাকতে পারে। একইভাবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্যাতনের ব্যক্তিগত আশঙ্কাও থাকতে পারে। মার্কিন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন দেশে কাউকে পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের অধীনেও নির্যাতনের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশে কাউকে পাঠানো নিয়ে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের নথিতে এই দুই ধরনের আশঙ্কার ভিত্তিতে করা দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আপিল আদালতের বিচারক সেথ আফ্রামে রায়ের ব্যাখ্যায় মূল সমস্যাটি তুলে ধরেছেন। আদালতের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হবে তা আগে জানানো না হলে সেই দেশে নিপীড়নের আশঙ্কার ভিত্তিতে অপসারণের বিরোধিতা করার অধিকার বাস্তবে খুব কমই কার্যকর থাকে। তাই গন্তব্য সম্পর্কে আগাম কার্যকর নোটিশ এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রয়োজন। এর আগে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল জেলা আদালতও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। সেই আদালত বলেছিল, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে গন্তব্য জানাতে হবে এবং সেই দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। পরে বিষয়টি আপিল আদালতে যায়। মামলাটি এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্তও পৌঁছেছিল। আগের একটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ আদালত জেলা আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল। এরপর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাকে বেআইনি ঘোষণা করে। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরকার প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে যায়। ১৮ সেপ্টেম্বরের রায়ে আপিল আদালত জেলা আদালতের সব যুক্তি অবশ্য বহাল রাখেনি। তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সরকারকে প্রথমে অভিবাসীর মনোনীত দেশ বা নাগরিকত্বের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে—এ সংক্রান্ত জেলা আদালতের দুটি ঘোষণামূলক সিদ্ধান্ত মামলাকারীদের আইনি অবস্থানসংক্রান্ত কারণে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ কার্যকর নোটিশ এবং নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কার ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বহাল রেখেছে আপিল আদালত। আদালত স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ২০২৫ সালের মার্চ ও জুলাইয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাও প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে বেআইনি হিসেবে বাতিল করার জেলা আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। অর্থাৎ সরকার তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি; বরং ওই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।