সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

হুথিদের দখলে মোখা, ঘরবন্দি বাসিন্দা - বন্ধ দোকান, খালি স্কুল

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৮:৪৫
হুথিদের দখলে মোখা
হুথিদের দখলে মোখা

ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় হুথি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই থেমে গেছে। দোকানপাট বন্ধ, স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই এবং নিরাপত্তার আশঙ্কায় বহু পরিবার ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গত সপ্তাহে হুথিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

 

শহরের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মোখা ছেড়ে পালিয়েছে। অনেকেই দক্ষিণের সরকারি নিয়ন্ত্রিত শহর এডেনের দিকে যাচ্ছেন। তবে অর্থের সংকটে বহু পরিবার শহরেই আটকে আছে। এডেনে যাওয়ার বাসভাড়াও বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

মোখার বাসিন্দা মাহমুদ জানান, তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কাজে যেতে পারেননি। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। আগে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকা দোকানগুলো এখন অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহরে বিদ্যুৎ থাকলেও রাত ৮টার দিকে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। 

 

শিক্ষা কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, মোখায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শিশুদের ওপর হুথিদের প্রভাব বিস্তার বা নিয়োগের আশঙ্কাও কিছু পরিবারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। 

 

মোখা ছেড়ে পালানো মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দেশটিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

 

মোখার গুরুত্ব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত শহরটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে মোখা ও আশপাশের এলাকায় হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। 

 

মোখায় এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা, চলাচলে বাধা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্থবিরতা। শহর ছেড়ে পালানোর সামর্থ্য যাদের নেই, তাদের অনেকেই ঘরেই অবস্থান করছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায়ও সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়তে থাকায় দেশটির দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

 

Source: আরব নিউজ, রয়টার্স


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছাড়ছে না ডেনমার্ক
গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছাড়ছে না ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর করা হবে না। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে “স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ” দেবে। ফলে চুক্তির প্রকৃত পরিধি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড শুক্রবার জানিয়েছে, তারা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থাও থাকবে।    তবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির পরিমাণ কত হবে, এবং বৈদেশিক নীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ওয়াশিংটন কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা পাবে কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।    ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের “স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ” থাকবে। তিনি আরও বলেছেন, ওয়াশিংটনের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সেখানে সামরিক ঘাঁটি, সামরিক উপস্থিতি বা কিছু সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না।    অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেনও বলেছেন, চুক্তিটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ডেনমার্কের নির্ধারিত সীমারেখা বজায় রাখবে।    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কয়েক মাস ধরে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। ট্রাম্প এর আগে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলেছিলেন, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ন্যাটোও চুক্তিটিকে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।    তবে চুক্তির পূর্ণ নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কতটা বাড়বে বা ওয়াশিংটনের বাস্তব ক্ষমতার পরিধি কতটুকু হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো—গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা হয়নি; বরং নতুন চুক্তিতে নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।    Source: রয়টার্স

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৯:২৫
মঞ্চনাটকে  তুলে ধরছেন সেখানকার অভিনেতারা

যে যুদ্ধের মধ্যে বেঁচে আছেন, সেই যুদ্ধই মঞ্চে অভিনয় করছেন গাজার শিল্পীরা

হুথিদের দখলে মোখা

হুথিদের দখলে মোখা, ঘরবন্দি বাসিন্দা - বন্ধ দোকান, খালি স্কুল

সন্তানের অপরাধে মা-বাবার ভাতা বন্ধ, জেলও হতে পারে যুক্তরাজ্যে

সন্তানের অপরাধে মা-বাবার ভাতা বন্ধ, জেলও হতে পারে যুক্তরাজ্যে

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা গোপন করছে পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা গোপন করছে পেন্টাগন, তথ্যে ধোঁয়াশা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে ছয় মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত ২২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অথচ পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারে নিহতের সংখ্যা ১৮ জন দেখানো হয়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তা জানিয়েছেন নিহত সেনার সংখ্যা অন্তত ২২ জন। আরেক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সংখ্যা ২৩ জন হতে পারে। তবে প্রকাশ্য হিসাবের বাইরে থাকা সব মৃত্যুই সরাসরি ইরান যুদ্ধের কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় সেখানে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনার মৃত্যুও এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ওই অঞ্চলে থাকা তিন মার্কিন ঠিকাদারও মারা গেছেন বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।    পেন্টাগনের প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা হতাহত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ইরান সংঘাত শুরুর পর ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে শত্রুর হামলা এবং অন্যান্য কারণে হওয়া মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর পরিচয়, কখন, কোথায় এবং কীভাবে তারা মারা গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়।    এই হিসাব নিয়ে পেন্টাগনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পরে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হেগসেথ এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।   মার্কিন সেনাদের হতাহতের সরকারি হিসাব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় ইরান যুদ্ধের মৃত্যুগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং আরও চারজনের মৃত্যু ‘বিদেশি অভিযান’ শ্রেণিতে দেখানো হচ্ছিল। ফলে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ের হতাহতের সংখ্যা কীভাবে সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।    ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলেও পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে। তাদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি পাল্টা হামলার সময় মস্তিষ্কে আঘাতসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের ওপরও চাপ বেড়েছে।    যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এই অঙ্কের মধ্যে নেই।    মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন এই তথ্য প্রকাশের ফলে পেন্টাগনের হতাহত তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি এবং সরকারি হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের কর্মকর্তাভিত্তিক হিসাব এবং পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের চূড়ান্ত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ সম্পর্কে সরকারি ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:৪২
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের লোহার গেট গাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক সেন্টারে হামলা, তেল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য ১০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ১০ লাখ ডলার দিচ্ছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র পেল স্থায়ী সামরিক অধিকার, চীন-রাশিয়ার ঘাঁটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

চীনের মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া রহস্যময় লেজবিহীন ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
চীনের ‘এরিয়া ৫১’ ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ড্রোনের পরীক্ষা, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন ধরনের বিশাল উড়োজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র ‘এরিয়া ৫১’-এর সঙ্গে তুলনা করা মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া এই উড়োজাহাজটি চীনের পরবর্তী প্রজন্মের নজরদারি ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সামরিক ও বিমান বিশেষজ্ঞরা।   চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে অবস্থিত মালান বিমানঘাঁটিতে সম্প্রতি রহস্যময় নতুন একটি উড়োজাহাজের ছবি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক উপগ্রহচিত্রেও একই ধরনের একটি বিশাল উড়োজাহাজকে ঘাঁটিটির কাছে দেখা গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সেটিকে আকাশে উড়তে দেখা গেছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জেনস উড়োজাহাজটির সম্ভাব্য নাম ডব্লিউজেড-এক্স বলে উল্লেখ করেছে।   ছবিতে দেখা উড়োজাহাজটির নকশা অনেকটা লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার মতো। জেনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর ডানার বিস্তার প্রায় ৫২ থেকে ৫৩ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ মিটার। আকার ও নকশা বিবেচনায় এটি দীর্ঘ সময় ও অনেক উচ্চতায় উড়তে সক্ষম গোয়েন্দা, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহকারী ড্রোন হিসেবে তৈরি করা হতে পারে। তবে এটি আক্রমণাত্মক কাজে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।   বিমান বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস রুপপ্রেখটের বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মালান ঘাঁটি চীনের বিভিন্ন ধরনের ড্রোন পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ নতুন উড়োজাহাজটিকে ডব্লিউজেড-এক্স হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে এর প্রকৃত সক্ষমতা, ব্যবহার এবং চীনের সামরিক বাহিনীতে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।   মালান বিমানঘাঁটির গুরুত্ব অবশ্য নতুন নয়। শিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি ঐতিহাসিকভাবে চীনের সামরিক ও পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাছাকাছি লপ নুর এলাকায় ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত চীন প্রায় ৪৫টি পরমাণু পরীক্ষা চালায়। পরবর্তী সময়ে মালান ঘাঁটি পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ ও ড্রোন উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘাঁটিটিতে উন্নত সামরিক উড়োজাহাজ পরীক্ষার কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মালানে জে-১১সহ বিভিন্ন ধরনের চীনা গোপনীয় ড্রোনের উপস্থিতি উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। বড় আকারের লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার নকশার একাধিক ড্রোনও সেখানে দেখা গেছে।   চীনের আরেকটি গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র লপ নুর বিমানঘাঁটিতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত স্যাটেলাইটচিত্র বিশ্লেষণে সেখানে নতুন হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দ্য ওয়ার জোনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘাঁটিটি এখন উন্নত সামরিক উড়োজাহাজের পরীক্ষার জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে।   লপ নুর ঘাঁটিতে এর আগে চীনের নতুন প্রজন্মের জে-৩৬ ও জে-এক্সডিএস যুদ্ধবিমানের উপস্থিতিও উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। এসব উড়োজাহাজকে সাধারণত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ কারণেই চীনের প্রত্যন্ত সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সামরিক বিশ্লেষকদের আগ্রহ বাড়ছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা আশঙ্কাগুলোকে সরাসরি নিশ্চিত সামরিক সক্ষমতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন উড়োজাহাজটির উদ্দেশ্য, পাল্লা, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রকাশ্যে আসা ছবি ও উপগ্রহচিত্রের ভিত্তিতেই এসব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।   মালান বিমানঘাঁটির নতুন উড়োজাহাজের উপস্থিতি তাই চীনের উন্নত ড্রোন ও গোপনীয় বিমান প্রযুক্তি কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উচ্চ আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম বড় আকারের গোয়েন্দা ড্রোন তৈরি হলে তা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতা বাড়াতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে প্রকল্পটির প্রকৃত সামরিক প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।   সূত্র: ডেইলি মেইল, জেনস, দ্য ওয়ার জোন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২১:৩
'আইভি লিগের যোগ্য নন’ বলা সেই ১৭ বছরের সেই কিশোরী মিশেল ওবামাই হলেন ফার্স্ট লেডি

'আইভি লিগের যোগ্য নন’ বলা সেই ১৭ বছরের সেই কিশোরী মিশেল ওবামাই হলেন ফার্স্ট লেডি

আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার দিনই ইতালিতে ধর্মঘট ডাকলো অ্যাপল কর্মীরা

আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার দিনই ইতালিতে ধর্মঘট ডাকলো অ্যাপল কর্মীরা

নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার পর ইউরোপে মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে চলছে বিতর্ক

নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার পর ইউরোপে মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে চলছে বিতর্ক

0 Comments