সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিপিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের সিপিটিতে কড়াকড়ি, ইন্টার্নশিপে নতুন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং এর অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম গত আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করে। এরপর একাধিক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সিপিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ইন্টার্নশিপ, প্র্যাকটিকাম বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শুধু ঐচ্ছিক হলে সেটি সিপিটির জন্য যোগ্য নাও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকে শিক্ষার্থীর ডিগ্রি কারিকুলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একই ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য তা বাধ্যতামূলক হতে হবে।   সিপিটি হলো এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত ইন্টার্নশিপ, কো-অপারেটিভ এডুকেশন, প্র্যাকটিকাম বা অন্যান্য বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। নতুন নির্দেশনার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন আগের তুলনায় আরও সতর্কতার সঙ্গে সিপিটির আবেদন যাচাই করছে। ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও স্কলার সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার ভিত্তিতে এমন সিপিটি অনুমোদন করা যাবে না, যা ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য স্নাতক বা ডিগ্রি সম্পন্ন করার বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। একই ধরনের পরিবর্তন অন্যান্য মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরেও দেখা যাচ্ছে।   নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে। আগে কোনো একাডেমিক প্রোগ্রামের সঙ্গে ইন্টার্নশিপ বা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা যুক্ত থাকলেও সেটি সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক না হলে কিছু ক্ষেত্রে সিপিটি অনুমোদনের সুযোগ ছিল। এখন নতুন নির্দেশনার পর ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণটি যদি বাধ্যতামূলক না হয়, তাহলে সেটিকে সিপিটির জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এমন নতুন সিপিটি আবেদন অনুমোদন করা হবে না, যা ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটিও জানিয়েছে, ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপ এবং ডিগ্রি সম্পন্নের জন্য বাধ্যতামূলক নয়—এমন ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সিপিটির আওতায় পড়বে না।   তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের সিপিটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেসব ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠিত কারিকুলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ডিগ্রি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক, সেগুলো এখনও সিপিটির আওতায় থাকতে পারে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থিসিস বা গবেষণামূলক কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিশেষ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সিপিটি বিবেচনা করছে। ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ডিগ্রি শর্তের পাশাপাশি এমন কিছু ইন্টার্নশিপ, প্র্যাকটিকাম বা ফিল্ডওয়ার্ক সিপিটির জন্য বিবেচিত হতে পারে, যা প্রয়োজনীয় মাস্টার্স থিসিস বা ডক্টরাল গবেষণাপত্র সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় এবং যার যথাযথ একাডেমিক ভিত্তি রয়েছে। ফলে সিপিটির যোগ্যতা নির্ধারণে এখন প্রতিটি শিক্ষার্থীর ডিগ্রি প্রোগ্রাম, কারিকুলাম এবং একাডেমিক শর্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   নতুন নির্দেশনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীর আবেদন অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিয়ম মেনে চলার দায়িত্ব বাড়ছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভুলভাবে সিপিটি অনুমোদন করলে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিবাসন আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পুরোনো সিপিটি নীতি পুনর্বিবেচনা করছে এবং চলমান আবেদনগুলোও নতুন নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিও জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার পর তাদের কাছে থাকা চলমান সিপিটি আবেদনগুলো নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।   বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ বা ব্যবহারিক কাজের অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চাকরি, পেশাগত যোগাযোগ এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন সিপিটি নির্দেশনার কারণে ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের তাই আগেভাগেই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে সিপিটির যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিপিটি ও অপ্টি এক বিষয় নয়। সিপিটি মূলত পড়াশোনার সময়কার কারিকুলাম-সম্পর্কিত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, আর অপ্টি হলো আলাদা কর্মসংস্থান অনুমোদন ব্যবস্থা। ফলে সিপিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনাকে অপ্টি বন্ধ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে সিপিটির যোগ্যতা নির্ধারণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোরতা বৃদ্ধি।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:৫৮
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রে বাংলাদেশিরা: জাতিসংঘ
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রে বাংলাদেশিরা: জাতিসংঘ

উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষিত বাংলাদেশিদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে অনলাইন প্রতারণা চক্রে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন দালালচক্রের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিকে প্রথমে বিদেশে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের অনেককে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।   জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ‘ট্রাফিকড টু স্ক্যাম: সাউথ এশিয়ান রেসপন্সেস টু ট্রাফিকিং ইন পারসনস ফর দ্য পারপাস অব ফোর্সড ক্রিমিনালিটি ইন স্ক্যাম অপারেশনস’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় প্রকাশ করা হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন প্রতারণা কার্যক্রমে জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে পাচারের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁদের আকৃষ্ট করা হয়। প্রতারণামূলক নিয়োগের পাশাপাশি লাইসেন্সধারী নিয়োগ সংস্থা ও স্থানীয় অনানুষ্ঠানিক দালালদের কয়েক স্তরের নেটওয়ার্কও এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।   বাংলাদেশিদের জন্য যেসব দেশকে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক অনলাইন নিয়োগই পাচারকারীদের প্রধান কৌশল। অনেক সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দালালদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং বিদেশে ভালো চাকরির সুযোগের কথা বলে তাঁদের প্রলুব্ধ করা হয়।   এই পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সবাই যে কম শিক্ষিত বা অদক্ষ, তা নয়। বরং বাংলাদেশ নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতারণা কেন্দ্রে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ রয়েছেন। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জন উচ্চমাধ্যমিক, ৪৮ জন মাধ্যমিক, ২৫ জন স্নাতক এবং তিনজন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন।   গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৬ জন ঢাকার, ২৮ জন চট্টগ্রামের, ২৫ জন খুলনার এবং ২২ জন রাজশাহীর বাসিন্দা ছিলেন।   বিদেশে যাওয়ার সময় ৮৪ জন অবিবাহিত এবং ৬৬ জন বিবাহিত ছিলেন। পাচারের আগে ২২ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ জন বেকার ছিলেন। আয়ের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা ছিল অনেকের। ৫৭ জন জানিয়েছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁদের কোনো মাসিক আয় ছিল না। আর ৬০ জনের মাসিক আয় ছিল ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।   ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, প্রতারণা কেন্দ্রগুলো শিক্ষিত মানুষকে টার্গেট করে, কারণ এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।   শরিফুল হাসান আরও বলেন, বাংলাদেশে সাইবার প্রতারণা কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষতা ক্রমেই সহজলভ্য হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন কিছু কেন্দ্র ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বলেও তাঁরা সন্দেহ করছেন।   ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শুধু অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত করা হয় না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের দিয়ে অন্যান্য অপরাধও করানো হয়। তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো, ভয়ভীতি দেখানো এবং অন্য কর্মীদের ওপর সহিংসতা চালাতে বাধ্য করার ঘটনাও প্রতিবেদনে নথিভুক্ত হয়েছে।   প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একজন তরুণের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২২ সালে বিশের কোঠায় থাকা ওই বাংলাদেশি একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাসে পরিচিত একজনের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যান। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাঁর পরিবার জমি বন্ধক রেখে ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নিয়োগ ফি পরিশোধ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালরা তাঁকে একটি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর তাঁকে নমপেন থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরের দারা সাকোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের লং বে নামের একটি প্রতারণা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।.   ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং বিনিয়োগের নামে অনলাইন প্রতারণা করতে বাধ্য করা হয়। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। এমনকি অন্য কর্মীদের মারধর করতেও ওই বাংলাদেশিকে বাধ্য করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় বড় প্রতারণা কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ছোট পরিসরের জায়গা, যেমন ভাড়া করা বাড়ি, হোটেল ও অ্যাপার্টমেন্টেও এ ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এসব কেন্দ্র শনাক্ত করা এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।   এ ধরনের ঘটনায় একটি বড় সমস্যা হলো, প্রতারণা করতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের অনেক সময় প্রথমে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউএনওডিসি বলছে, কেউ ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছে, অনলাইনে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বা প্রতারণার অন্য কোনো কাজে যুক্ত আছে বলেই তাকে স্বেচ্ছায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তিনি পাচারের শিকার কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।   বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে প্রতারণা কেন্দ্র থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের নিয়মিতভাবে পাচারের শিকার কি না, তা যাচাই করা হয় না। ২০২৪ সালে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ নির্দেশিকা চালু হলেও এর প্রয়োগ এখনো ধারাবাহিক নয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আর্থিক তদন্ত এবং অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত লেনদেন অনুসন্ধানের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এর পেছনে থাকা মানবপাচার চক্র এবং জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত করা ব্যক্তিদের আলাদাভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ও দালালচক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা, কাজের স্থান, বেতন ও ভিসার তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: ইউএনওডিসি, নিউ এজ, ব্র্যাক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:৪৪
রাষ্ট্রপতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
বেকারত্বের লাগাম টানতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে।   সাক্ষাৎকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।    রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার্থীদের একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।   এর একদিন আগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থানমুখী পাঠ্যক্রম তৈরির কথা বলেন। প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছয় মাস ও এক বছর মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালুর আহ্বানও জানান তিনি।   জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। পাশাপাশি আসন্ন সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:৩০
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুন। ছবি: সংগৃহীত
‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারানো সম্মানের, ভালোবাসা ভাগ করার বিষয় নয়’: চিঠিতে মরিয়ম

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার রেখে যাওয়া বলে পরিচিত কয়েকটি হাতে লেখা নোট সামনে এসেছে। এসব লেখায় সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, ভালোবাসা এবং আত্মসম্মান নিয়ে তার ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা উঠে এসেছে।   মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সোমবার আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি তদন্ত করতে ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে কাজ করেছে।   মরিয়মের রেখে যাওয়া বলে পরিচিত নোটগুলোর কয়েকটি জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে লেখা। কোথাও কালো কালি, কোথাও লাল কালিতে লেখা এসব পাতায় তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের কথা উঠে এসেছে।   একটি লেখায় মরিয়ম লিখেছেন, তিনি গভীর বিশ্বাস নিয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ দিকে এসে তাঁর মনে হয়েছে, যাকে তিনি নিজের পাশে ভেবেছিলেন, তিনিই যেন বিপরীত অবস্থানে ছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’   অন্য একটি লেখায় নিজের অবস্থান ও সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরেছেন মরিয়ম। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’   আরেকটি পাতায় সম্পর্ককে একটি খেলায় পরিণত করার অনুভূতির কথা লিখেছেন তিনি। সেখানে রয়েছে, ‘সে বলেছিল আজ থেকে আমরা বন্ধু চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’   আরেকটি লেখায় বিশ্বাস করার কারণে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে মরিয়ম লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন বলেই তাঁকে ঠকানো সম্ভব হয়েছে। একই লেখায় নিজের কষ্টের মধ্যেও হাসিমুখে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।   লাল কালিতে লেখা আরেকটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় আত্মসম্মানের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে মরিয়ম লিখেছেন, মায়ার কারণে তিনি বারবার নত হয়েছেন, তবে নিজেকে অন্যের ধারণার মতো ‘সস্তা’ মনে করেন না।   এ ছাড়া ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ লেখা একটি পাতায় ঘুমানোর আগে পড়ার জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় আমলের তালিকাও পাওয়া গেছে। সেখানে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসী, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আস্তাগফিরুল্লাহসহ বিভিন্ন আমলের কথা লেখা ছিল।   মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে করা মামলায় তাঁর বাবা বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, জুন মাসে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয় এবং এরপর তিনি ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন। মামলায় মরিয়মকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।   মরিয়মের মৃত্যুর আগে জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে গাজী নজরুল নিজেই ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।   মরিয়মের হাতে লেখা নোটগুলোর বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও উপলব্ধির প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নোটগুলো সত্যিই তাঁর লেখা কি না এবং সেগুলোর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা ফরেনসিক ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তাই এসব লেখায় থাকা অভিযোগ বা বক্তব্যকে তদন্তের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত এখন চলমান। আদালতের আদেশ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।   সূত্র: প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), জাগো নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:১৭
শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার।
নেশার টাকার জন্য ১১ মাসের মেয়েকে ৪০ হাজারে বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ

গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য নিজের ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা হামিদুল মিয়ার বিরুদ্ধে। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।    পুলিশ ও পরিবারের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে শিশুটিকে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যান হামিদুল। এর আগে শিশুটির মা রুমানা আক্তারের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।   পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী ৯ হাজার টাকা নেওয়ার পর হামিদুলের হাতে ৩১ হাজার টাকা পৌঁছায়।    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।   আটকের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছু অমিল রয়েছে। আজকের পত্রিকা ও যুগান্তর তিনজন আটকের কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ইত্তেফাক ও দীপ্ত নিউজ বাবা হামিদুলসহ চারজন আটকের কথা বলেছে। তাই তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত তথ্য না আসা পর্যন্ত সংখ্যাটি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। শিশুটিকে কার মাধ্যমে এবং কীভাবে বিক্রি করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার কথা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:০
মিশরীয় নারী সানা আবদেল সাত্তার, যিনি দীর্ঘ অধ্যবসায়ে পুরো কোরআন হিফজ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
পড়তে-লিখতে না জেনেও ৭১ বছর বয়সে পুরো কোরআন হিফজ করলেন মিশরীয় নারী

পড়তে বা লিখতে জানেন না। ছোটবেলা থেকে রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শুনেই পবিত্র কোরআনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সেই শোনা থেকেই শুরু হয়েছিল মুখস্থ করার চেষ্টা। সংসার, সন্তান ও জীবনের নানা দায়িত্বের কারণে বারবার থেমেছে সেই পথ। কিন্তু ইচ্ছা থেকে সরে যাননি মিশরের সানা আবদেল সাত্তার জেইদান। দীর্ঘ প্রায় এক দশকের অধ্যবসায়ের পর ৭০ বছর বয়সে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ করেন এবং এক বৈঠকে প্রায় সাত ঘণ্টায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ থেকে শুনিয়ে দেন।   মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের বাসিন্দা সানার কোরআন হিফজের যাত্রা শুরু হয় জীবনের অনেক পরে। নিজের প্রথম সন্তান দুই বছর বয়সে পৌঁছানোর পর তিনি বাড়িতে বসেই কোরআন মুখস্থ করা শুরু করেন। প্রতিদিন সংসারের কাজের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় কোরআনের জন্য রাখতেন তিনি।   তবে শুরু থেকেই তাঁর এই যাত্রা সহজ ছিল না। তিন সন্তানের দেখাশোনা ও সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত মুখস্থ করা এবং তা ধরে রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্বামীও তাঁর এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি স্ত্রীর মুখস্থ করা অংশ শুনতেন এবং পুনরাবৃত্তিতে সহায়তা করতেন।   সানার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবে ধীরে ধীরে কোরআন মুখস্থ করেন তিনি। মুখস্থ সম্পন্ন করার পরও থেমে থাকেননি। বরং তাজবিদ বা শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াতের নিয়ম শেখার জন্য বাড়ির কাছের একটি মসজিদে নিয়মিত যেতে শুরু করেন। সংসারের কাজ শেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সেখানে তাজবিদের পাঠ নিতেন।   কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর তাঁর সামনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে মুখস্থ করা পুরো কোরআন একসঙ্গে শুনিয়ে দেওয়ার আয়োজন করা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে তিনি একটানা মুখস্থ থেকে কোরআন তিলাওয়াত করেন। মিশরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর দীর্ঘ হিফজযাত্রার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   সানার কাছে কোরআন হিফজ শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তিনি জানিয়েছেন, আল্লাহর কিতাব থেকে উপকৃত হওয়া এবং এর মাধ্যমে ধর্মীয় জীবনে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘ এই যাত্রা তাঁকে ধৈর্য ও নিয়মিত চর্চার গুরুত্বও শিখিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   সানার গল্পের আরেকটি দিক হলো বয়স। তিনি যখন কোরআন হিফজের কাজ শুরু করেন, তখন তিনি তরুণী নন, ছিলেন সংসারী একজন মা। প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্বের পাশাপাশি মুখস্থ ও পুনরাবৃত্তির কাজ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পুরো কোরআন হিফজ করেন।   তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে কোরআনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থেমে যায়নি। বরং মুখস্থ করা অংশ নিয়মিত পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ধরে রাখাকে তিনি প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘ অধ্যবসায়ের গল্প মিশরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে।   সানার কোরআন হিফজের এই ঘটনা নতুন করে দেখিয়েছে, জীবনের ব্যস্ততা বা বয়সের কারণে কোনো লক্ষ্য শুরু করার সময় সবসময় শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জীবনের পরবর্তী পর্যায়েও নতুন কিছু অর্জন সম্ভব।   সূত্র: মিশরীয় সংবাদমাধ্যম আল-মাসরি আল-ইয়াওম, টেলিগ্রাফ মিসর

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৬:৫১
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কারা, থাকছেন মন্ত্রী-রাজনীতিকসহ ৩৫ জন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল রয়েছে।   প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মন্ত্রীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে থাকায় সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা।    রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম প্রতিনিধিদলে রয়েছেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও সফরে অংশ নিচ্ছেন।    তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পূর্ণ প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা নিয়ে কিছু অমিল দেখা যাচ্ছে। পররাষ্ট্রসচিবের সংবাদ সম্মেলনভিত্তিক একাধিক প্রতিবেদনে ৩৫ জন বলা হলেও অন্য একটি প্রকাশিত তালিকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের মিলিয়ে ৩৮ জনের কথা বলা হয়েছে। তাই সরকারি ব্রিফিংয়ের ৩৫ জনের সংখ্যাটিকেই এখানে মূল তথ্য হিসেবে ধরা হয়েছে।    প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় উঠে আসবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৬:৪৩
বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় ইতালি। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের ঘোষণা মেলোনির, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থী

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আইন করে সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা থাকলে তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।   রোববার রোমে নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক অনুষ্ঠানে মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। তবে এগুলো এখনো কার্যকর আইন নয়। সরকারের অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলোকে আইনে পরিণত করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।   মেলোনির ঘোষণায় বোরকা ও নিকাবের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা বিধানের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি। ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সীমিত রাখার একটি নীতি রয়েছে। ২০১০ সালের একটি নির্দেশনায় সাধারণভাবে কোনো স্কুল বা শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর অনুপাত ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী এ নিয়মে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে এবং বাস্তবে সব জায়গায় এটি একইভাবে কার্যকর হয়নি।   ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্কুলগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই। ফলে মেলোনির নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সীমার কী পরিবর্তন আনা হবে, সেটিই এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   মেলোনি বলেন, ইতালিতে যারা ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের ইতালীয় ভাষা শেখা, দেশটির সংস্কৃতি বোঝা এবং আইন মেনে চলা প্রয়োজন। স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বাধ্যবাধকতার প্রস্তাবও এই পরিকল্পনার অংশ।   বোরকা ও নিকাবের বিষয়ে ইতালিতে বর্তমানে সরাসরি দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা নেই। ১৯৭৫ সালের একটি আইনে এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে, যার কারণে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া একজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত স্পষ্ট করেছিল, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাক পরা যেতে পারে। পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে অবশ্য মুখ দেখাতে হবে।   মেলোনির নতুন পরিকল্পনার আগে দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিগ পার্টিও মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধের জন্য একটি বিল এনেছে। চলতি বছরের মার্চে সিনেটে জমা দেওয়া ওই প্রস্তাবে খেলাধুলা বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া মুখ ঢেকে রাখা পোশাক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।   এদিকে মেলোনির ঘোষণার সঙ্গে ইতালির রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও যোগ রয়েছে। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। অভিবাসন ও অভিবাসীদের একীভূতকরণ ইতালির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির ডানদিকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘ফুতুরো নাজিওনালে’ও সাম্প্রতিক সময়ে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে।   মেলোনির প্রস্তাব নিয়ে ইতালিতে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি কিছু সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও সমান অধিকারের প্রশ্ন উঠতে পারে। ইতালির সংবিধানের ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্কুল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।   ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে দেশভেদে এসব আইনের আওতা ও প্রয়োগের নিয়ম ভিন্ন।   মেলোনির ঘোষিত পরিকল্পনার পর এখন মূল প্রশ্ন হলো, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার নিয়ম ঠিক কীভাবে আইনে রূপ পাবে। বিশেষ করে বর্তমান ৩০ শতাংশ সীমার পরিবর্তে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা ও পরে সংসদে গেলে এর বিস্তারিত বিধান প্রকাশ পাওয়ার কথা।   সূত্র: রয়টার্স, আনসা, আল জাজিরা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৬:৩১
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তেলের দাম বাড়লেও অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কম, দাবি রিজভীর

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো জ্বালানি তেলের দাম কম বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংকট তৈরি হলেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে দেশের বাজারে দাম তুলনামূলক কম রাখার চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।   সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রিজভী এসব মন্তব্য করেন।    রিজভীর ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে এবং মূল্য সমন্বয়ের পরও আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে।    ডিজেলের আমদানি ব্যয়ের একটি হিসাবও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর দাবি, প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে প্রায় ২৫০ টাকা খরচ হচ্ছে। দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান বহন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই হিসাবটি রিজভীর দেওয়া দাবি; প্রতিবেদনে পাওয়া উৎসগুলোতে স্বাধীনভাবে এর পূর্ণ হিসাব যাচাই করা হয়নি।    রিজভী বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম রাখতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।    এ সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক লংমার্চ কর্মসূচিরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, কীভাবে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। লংমার্চে সরকার ও বিএনপিকে লক্ষ্য করে ব্যবহৃত কিছু ভাষা কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রিজভী। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত—সে বিষয়ে তাঁর অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে উপস্থাপন করা হয়নি।   রিজভীর বক্তব্যের মূল দাবি হলো—বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশেও মূল্যচাপ তৈরি হয়েছে, কিন্তু সরকারের ভর্তুকির কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম রাখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৬:৩১
মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি। ছবি: সংগৃহীত
মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি ৪৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের অন্যতম মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম বিন আদেল আল-মাদানি মারা গেছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। তিনি মসজিদুল হারামের মুকাব্বিরিয়াহর সদস্য ছিলেন এবং বিশেষ করে ফজরের আজান ও তাকবিরের জন্য পরিচিত ছিলেন। সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সোমবার মসজিদুল হারামে ফজরের প্রথম আজানও দিয়েছিলেন শেখ ইব্রাহিম। এরপর অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে সৌদি ও উপসাগরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর শেষ আজানের একটি অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি মসজিদুল হারামের ২৪ জন নিয়মিত মুয়াজ্জিনের একজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও ফজরের প্রথম আজানের দায়িত্ব পালন করেন। শেখ ইব্রাহিম বিশেষভাবে ফজরের আজান, তাকবির এবং ইমামের পেছনে মুকাব্বিরিয়াহ থেকে মুসল্লিদের কাছে তাকবির পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন।   মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে তাঁর আজানে মদিনার নিজস্ব ধারা ও সুরের প্রভাব ছিল। পরে মক্কায় এসে তিনি মক্কার আজানের রীতিও আয়ত্ত করেন। পেশাগত জীবনের শুরুতেই আজানের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন শেখ ইব্রাহিম। পরে ১৪২৮ হিজরিতে মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৪৩৯ হিজরিতে মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পান।   মসজিদুল হারামে তাঁর প্রথম আজানের স্মৃতিও এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছিলেন শেখ ইব্রাহিম। হারামাইনের মুকাব্বিরিয়াহ নিয়ে একটি পডকাস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কাবা শরিফ তাওয়াফরত মুসল্লিদের সামনে নিজের কণ্ঠে আজান শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। পবিত্র এই স্থানে নিজের কণ্ঠে আজান দেওয়ার সুযোগকে তিনি অত্যন্ত সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদুল হারামে তাঁর দেওয়া আজান ও তাকবিরের বিভিন্ন রেকর্ডিং শেয়ার করতে দেখা যায়। হারামাইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আজানের বিষয়ে আগ্রহী অনেকেই তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।   সৌদি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির জানাজার নামাজ সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরে মক্কার ঐতিহাসিক আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   তাঁর বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বয়স ৪৮ বছর এবং অন্য একটি প্রতিবেদনে ৫১ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বয়স নিশ্চিত করা হয়নি। তাই তাঁর নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ না করাই নিরাপদ।   মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির কণ্ঠ বহু বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিদের কাছে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে ফজরের আজান ও তাকবিরের মাধ্যমে তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদের ইবাদতের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   সূত্র: সৌদি আরবের ওকাজ, আল-মদিনা, সৌদি প্রেস ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৬:৩
এআই নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক, এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব

আসন্ন ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠকের আগে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন একটি ‘নোটিফিকেশন মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাব উঠেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের প্রায় আট ঘণ্টার আলোচনায় এআইয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।   বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন ‘এআই ডায়ালগ’ চালুর মাধ্যমে এমন কোনো এআই ঘটনা, যা জাতীয় নিরাপত্তার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে দুই দেশ পরস্পরকে অবহিত করার একটি ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য এআই প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও স্বচ্ছতা বাড়ানো।   বৈঠকের পর বেসেন্ট আলোচনাকে ‘খুবই সফল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ দুই এআই শক্তির মধ্যে সাধারণ ঝুঁকি ও অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে যোগাযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।   বাণিজ্য নিয়েও বৈঠকে অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশ ‘বোর্ড অব ট্রেড’ নামে একটি প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল নয় এমন কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। সম্ভাব্য পণ্যের মধ্যে চীনের ভোক্তা ও কম প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকতে পারে।    তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ এবং দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য বিরতির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। ১০ নভেম্বর বর্তমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শুল্ক কমানো ও বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি তাই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।    এই বৈঠকের পর এখন নজর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের দিকে। নিউইয়র্কের আলোচনায় এআই নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর কোনোটি শীর্ষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    Source: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৫:৪৭
বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবের চ্যাম্পিয়নশিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গলফ খেলায় আবারও বিতর্কে ট্রাম্প, প্রতারণা করে ট্রফি জেতার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন নিউ জার্সির বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর খেলার স্কোর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ৭০ স্কোর করে প্রতিযোগিতায় জয় পেয়েছেন।   ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টারের কোর্সটির সমান স্কোর ৭২। ফলে ৭০ স্কোরের অর্থ হলো সমানের চেয়ে দুই শট কম। আগস্টের শুরুতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ট্রাম্পকে সিনিয়র ও সুপার সিনিয়র বিভাগে জয়ী হিসেবে পুরস্কার নেওয়ার ভিডিওও প্রকাশিত হয়। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ জয়ের কথা জানান।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তিনি খুব বেশি অনুশীলনের সময় না পেয়েও ৭০ স্কোরে জিতেছেন। এ সাফল্যের কারণ হিসেবে তিনি নিজের প্রতিভার কথাও উল্লেখ করেন।   তবে ট্রাম্পের জয়ের ভিডিও প্রকাশের পর কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁর স্কোর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ভিডিওতে দেখা একটি শট এবং তাঁর সামগ্রিক স্কোরকে কেন্দ্র করে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ অতীতের বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন।   তবে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণও পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে তিনি প্রতারণা করে প্রতিযোগিতাটি জিতেছেন। ডেইলি বিস্টও ভিডিওটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা জানিয়েছে, তবে সেখানেও প্রতারণার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   ট্রাম্পের গলফ খেলা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর খেলার পদ্ধতি ও স্কোর নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রীড়া লেখক রিক রেইলি তাঁর ২০১৯ সালের বই ‘Commander in Cheat’-এ ট্রাম্পের গলফ খেলা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন এবং প্রতারণার অভিযোগ তোলেন। তবে এগুলো অতীতের অভিযোগ ও লেখকের মূল্যায়ন, বেডমিনস্টারের সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতায় প্রতারণার স্বাধীন প্রমাণ নয়। ইউএসএ টুডে ট্রাম্পের আগের কয়েকটি গলফ প্রতিযোগিতা নিয়েও বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছে।   এর মধ্যে ২০২৩ সালে ফ্লোরিডার ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাব ওয়েস্ট পাম বিচে একটি সিনিয়র ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে না খেলেও ট্রাম্প আগের একটি রাউন্ডের স্কোর ব্যবহার করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে। ট্রাম্প অবশ্য নিজের সেই ফলাফলকে জয় হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।   ট্রাম্পের গলফ দক্ষতা নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। গলফের সাবেক তারকা আর্নি এলস অতীতে ট্রাম্পের খেলা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ২০২০ সালে গলফ কিংবদন্তি জ্যাক নিকলাউসও ট্রাম্পকে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে ট্রাম্পের প্রকৃত খেলার মান নিয়ে গলফ অঙ্গনে একেবারে একমত কোনো মূল্যায়ন নেই।   বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবটি ট্রাম্পের মালিকানাধীন এবং সেখানে পেশাদার গলফের বড় আয়োজনও হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এলআইভি গলফ নিউইয়র্কও এই কোর্সে অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প ন্যাশনাল বেডমিনস্টারের কোর্সটি টম ফাজিও নকশা করেছেন এবং ২০২৬ সালের এলআইভি গলফ আয়োজনের সময় কোর্সটি ৭ হাজার ৬৫১ গজ পর্যন্ত দীর্ঘ করা হয়েছিল।   ট্রাম্পের বেডমিনস্টার ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের জয়ের বিষয়ে মূল তথ্য হলো, তিনি ৭০ স্কোরে সিনিয়র ও সুপার সিনিয়র বিভাগে জয় পেয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন এবং সেই জয়ের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এরপর তাঁর স্কোর ও খেলার কয়েকটি মুহূর্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও অনলাইন মন্তব্যের বাইরে বেডমিনস্টারের এই প্রতিযোগিতায় তিনি প্রতারণা করেছেন, এমন নিশ্চিত স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।   সূত্র: ইউএসএ টুডে, দ্য ডেইলি বিস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৫:৩৩
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা। ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩ - সীমান্তে ফের উত্তেজনা

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে সোমবার ভোরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও আফগান তালেবানের মধ্যে বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনজুড়ে সংঘর্ষও বেড়েছে। কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর নতুন করে দুই দেশের উত্তেজনা বাড়ায় আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টার দিকে হামলায় একটি বাড়ি ধ্বংস হয়। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। পাকতিকা প্রদেশের বারমাল এলাকাতেও দুটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    তবে হামলার লক্ষ্য ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিমান হামলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করা হয় এবং ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।    পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপির সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছেন এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে। আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় তাদের ওপর চাপানোর বিরোধিতা করছে।    সোমবারের বিমান হামলার আগে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক হামলা হয়। কোহাটে একটি পুলিশ কমপ্লেক্সে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। এর এক দিন পর হাঙ্গু এলাকায় বন্দুকধারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও ছয় পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এসব ঘটনার পর আফগানিস্তানে অবস্থানরত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইসলামাবাদ।    নতুন হামলার ঘটনায় আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।    দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর একটি হলো ডুরান্ড লাইন ও সীমান্তপারের জঙ্গি তৎপরতা। ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। সোমবারের ঘটনাটি সেই উত্তেজনা আবারও বাড়িয়ে দিল, যা চীনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে।    Source: রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৫:১৫
আন্তর্জাতিক বাজারে কমল তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে কমল তেলের দাম, ১০০ ডলারের নিচে নামল মার্কিন ক্রুড

আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের তেল সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধারের খবরে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। ফলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।   রয়টার্সের সর্বশেষ বাজার তথ্যে, সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুরের আগের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। আগের সেশনের তুলনায় কমেছে ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে, যা আগের সেশনের তুলনায় ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ কম।    তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিও আগস্টের বড় ধাক্কার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।   কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলের ওপরে উঠেছে। আগস্টে দেশটির রপ্তানি নেমে গিয়েছিল দৈনিক প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহের পথ বদলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানো হয়েছে।   তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের রিয়াদে হামলার দাবি করেছে এবং অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে তেলের বাজারে আবারও ঝুঁকি বাড়তে পারে।   এদিকে তেলের দামের সাম্প্রতিক ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। আজ থেকেই দেশে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ৯৫ অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সরকার এই দাম বাড়িয়েছে।   অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে আজ তেলের দাম কিছুটা কমলেও ব্রেন্ট এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে। সামনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং সৌদি আরবের সরবরাহ - এই তিনটি বিষয়ই তেলের বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   Source: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৪:২১
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে এবং ইরানের নেতৃত্বও নির্মূল হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে আসার প্রস্তুতির মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।   রোববার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সামনে চুক্তি করা অথবা অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের ঝুঁকি নেওয়ার বিকল্প রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।   অন্যদিকে, ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যেসব আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেবে, তাদেরও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কাতারে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে।    ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার কয়েকটি শর্তও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিও আগের চুক্তির বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে তেহরান।    ফলে একদিকে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে তেহরানকে চুক্তিতে আনতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান নতুন হামলার আশঙ্কা তুলে পাল্টা প্রতিরোধের বার্তা দিচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা একই শহরে অবস্থান করায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।    সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।    Source: রয়টার্স, এপি, আল জাজিরা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:৫৩
ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক
ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে ডোরড্যাশের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় ২৮ বছর বয়সী এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গুলি করে আহত করেছেন এক আইসিই কর্মকর্তা। ২০ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনায় ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হলেও পরে তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।   আহত ব্যক্তির নাম উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফার্ব জানিয়েছেন, গুলির সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে একটি ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ডোরড্যাশও নিশ্চিত করেছে, ঘটনার সময় তিনি একটি ডেলিভারির কাজে ছিলেন।   অস্টিন পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তর অস্টিনের অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকায় দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর আগে একটি গাড়ি ধাওয়া ও পরে পায়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পেরেজের শরীরে একটি গুলি লাগে। স্থানীয় পুলিশ ওই গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিল না।   ঘটনার পর পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, চিকিৎসা শেষে তাকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না বলেও আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   পেরেজের অভিবাসন অবস্থান নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবী বলেছেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী পেরেজ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং আগে বৈধ ওয়ার্ক পারমিটও ছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।   ঘটনার তদন্তে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ, সঙ্গে থাকবে এফবিআই। একই সঙ্গে অস্টিনের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হতে চান। মেয়র কার্ক ওয়াটসন বলেছেন, স্থানীয় পুলিশের অংশগ্রহণ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।   ঘটনার সময় গুলির পরিস্থিতি নিয়ে এখনো সব তথ্য প্রকাশ হয়নি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক পর্যায়ে খুব বেশি তথ্য হাতে পায়নি। তাই গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ, ধাওয়া কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং পেরেজের সঙ্গে আইসিই কর্মকর্তাদের ঠিক কী ঘটেছিল - এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।    আইসিইর চলমান অভিবাসন অভিযান নিয়ে অস্টিনে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে তদন্তের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পেরেজের অভিবাসন মামলার পাশাপাশি গুলি চালানোর পরিস্থিতিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:২০
দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি
দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি - সফর ঘিরে সমালোচনা

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি চলার মধ্যেই দলটির ৩৪ সংসদ সদস্যসহ মোট ৭১ জনের বিদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ১৭ দিনের এই সফরে এমপিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, দলের কয়েকজন নেতা ও একজন লেখকও রয়েছেন।   জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনো সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই। দলটির নেতারা এটিকে মূলত শিক্ষামূলক ও অভিজ্ঞতা অর্জনের কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সফরের পরিকল্পনা সংসদের অধিবেশনের কারণে আগে পিছিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন সফরে থাকা নেতারা।   সফরকারী দলটি ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় পৌঁছায়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর তারা সিঙ্গাপুরে যায় এবং পরে ফিলিপাইনে পৌঁছেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। সফর শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।   মালয়েশিয়ায় সফরকারীদের কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কেদিলান রাকাইয়াতের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসজলি মালিকের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও জানা গেছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর চ্যালেঞ্জ, জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সংসদীয় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   সিঙ্গাপুরে জামায়াতের এমপিরা নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন এবং একটি সিম্পোজিয়ামে অংশ নেন। এরপর ফিলিপাইনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে এই সফরের সময় নিয়েই মূলত আলোচনা বেশি তৈরি হয়েছে। কারণ ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়ই ৩৪ এমপির বড় একটি দল দেশের বাইরে অবস্থান করছে।   জামায়াতের সফরকারী এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, দলের আমিরের অনুমতি নিয়েই এমপিরা সফরে গেছেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অনেক এমপি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং অনেকে আগে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাননি। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি, প্রশাসন ও উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।   জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি দলের আগে নেওয়া পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা। ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ আরও বিভিন্ন দেশে দলের সদস্যদের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।   ফলে একদিকে দেশের ভেতরে জোটের ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি, অন্যদিকে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক এমপির দীর্ঘ বিদেশ সফর - দুই ঘটনাই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে সফরটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনো বিরোধ নেই - জামায়াতের বক্তব্য এটাই।   Source: প্রথম আলো, ডেইলি সান  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:১৫
মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার
মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো দুই ডিপোর্টিকে দেশটির পুলিশ মাথায় বস্তা পরিয়ে, হাত-পা বেঁধে এবং অস্ত্র দিয়ে মারধর করে সিঁড়ি দিয়ে ঠেলে নামিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তাদের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর মালাবোর কাছে একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই হোটেলটিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ডিপোর্টিদের আটক রাখার কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।   অভিযোগের শিকার দুই ব্যক্তি হলেন মিশরের নাগরিক আহমেদ সোলিমান এবং ইরিত্রিয়ার নাগরিক স্যামসন বিরহানে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর বসবাসের পর ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট কর্মসূচির আওতায় ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে মালাবোর লা লুনা পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পুলিশ স্টেশনে নেওয়ার পর তারা দুই ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না।   আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে সোলিমান ও বিরহানে আটককেন্দ্রে থাকা মানুষের জীবনযাপন এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে বাইরে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। হোটেলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে হোটেলের একটি আয়না ভাঙার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তবে তাদের আইনজীবীরা বলছেন, গ্রেপ্তার ও পরবর্তী নির্যাতনের পেছনে মূল কারণ ছিল আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কথা বলা।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়েছে, পুলিশ দুই ব্যক্তির মাথায় বস্তা পরিয়ে হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে। এরপর তাদের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা এবং সিঁড়ি দিয়ে ঠেলে নামানোর ঘটনা ঘটে। অন্য আটক ডিপোর্টিরা ঘটনাটি দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় পুলিশ তাদের মোবাইল ফোনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ওই হোটেলে মার্কিন ডিপোর্টিদের সঙ্গে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পুলিশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের অভিবাসীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করতে দেখা যায়। ঘটনাটি মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে ওই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা ভিডিও দেখে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মালাবো শহরের বামি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা অভিবাসীদের রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট সংক্রান্ত একটি চুক্তির আওতায় তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার আওতায় ৪০ জনের বেশি মানুষকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকির কথা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে জানিয়েছিলেন।   এই ধরনের ব্যবস্থাকে তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট বলা হয়। এতে কোনো অভিবাসীকে সরাসরি তার নিজ দেশে না পাঠিয়ে অন্য একটি দেশে পাঠানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ডিপোর্টের জন্য আইনসম্মত বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি আইসিইর হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার দায়িত্বও আইসিইর ওপর থাকে না।   তবে মানবাধিকার সংগঠন ও ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট করার এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য, নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অন্য দেশে পাঠানো হলে তাদের সুরক্ষা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সোলিমান ও বিরহানেকে আটক করার ঘটনাটি তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তারা মানবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।   বামি হোটেলে থাকা ডিপোর্টিদের অভিযোগের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া, আইনি সহায়তায় বাধা এবং খাবার ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার ঘাটতির বিষয়ও রয়েছে। এর আগে সেখানে পুলিশের সহিংস আচরণের আরও অভিযোগ সামনে এসেছে। আইনজীবীদের একটি জোট জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে মুখোশধারী পুলিশ কয়েকটি কক্ষে ঢুকে কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরায় এবং অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয়।   এদিকে সোলিমান ও বিরহানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাদের আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের লা লুনা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছে বলে জানা গেলেও, আইনজীবীরা জানিয়েছেন তারা দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আটক ডিপোর্টিদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:৪৯
ছবি: ডিবিসি নিউজ
হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে বাছুরের জন্ম, দেখতে কৌতূহলী মানুষের ঢ্ল

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে একটি বাছুরের জন্ম হয়েছে। গত শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী পৌরসভার দুদু মিয়ার পাহাড় এলাকায় খামারি মো. মাসুদের গাভীটি বাছুরটির জন্ম দেয়। স্বাভাবিক চার পায়ের পাশাপাশি পিঠ ও পেছনের অংশে আরও তিনটি অতিরিক্ত পা থাকায় বাছুরটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বাছুরটি জীবিত ও সুস্থ রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    বাছুরটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারবাড়িতে ভিড় করছেন। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে বিরল শারীরিক গঠনের বাছুরটিকে একনজর দেখছেন। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।    ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাছুরটির মালিক মো. মাসুদ স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে। খবর পেয়ে হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। তবে মালিকপক্ষ বাছুরটি তাদের দেখাতে সম্মতি দেয়নি।   হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাবিল ফারাবী জানিয়েছেন, বাছুরটির এমন শারীরিক গঠনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালিকপক্ষকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়া অতিরিক্ত পা তৈরির নির্দিষ্ট কারণ এখনই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।    প্রাণিবিজ্ঞানে জন্মগতভাবে স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত অঙ্গ থাকার ঘটনাকে পলিমেলিয়া বলা হয়। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পা নিয়ে জন্মের নজির বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সাত পা-ওয়ালা একটি বাছুরের শারীরিক গঠন পরীক্ষা করে এমন জন্মগত অস্বাভাবিকতার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাটহাজারীর বাছুরটির ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের জন্মগত ত্রুটি রয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাচ্ছে না।    বাংলাদেশেও এর আগে সাত পা নিয়ে বাছুর জন্মের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে ফেনীর দাগনভূঞায় এমন একটি বাছুরের জন্মের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে ঘটনাতেও অতিরিক্ত তিনটি পা থাকার কথা জানানো হয় এবং স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা এটিকে জন্মগত ত্রুটির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছিলেন।    হাটহাজারীর বর্তমান ঘটনায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বাছুরটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চাইলেও মালিকপক্ষের সম্মতি না পাওয়ায় এখনো বিস্তারিত পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অতিরিক্ত তিনটি পায়ের গঠন, ভেতরের অস্থি ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। আপাতত বাছুরটি জীবিত ও সুস্থ থাকার তথ্যই পাওয়া গেছে। সূত্র: ডিবিসি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:৪৩
৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা
সন্দেহে ডিএনএ পরীক্ষা! ৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা

ব্রিটেনের দুই বোন মিশেল ও ল্যাভিনিয়া অসবর্নের জীবনে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর এক ডিএনএ পরীক্ষা বদলে দিয়েছে পরিবার সম্পর্কে তাদের ধারণা। একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠা এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া এই দুই বোন জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। অর্থাৎ তারা যমজ হলেও জেনেটিকভাবে তারা সৎবোন। ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল একটি জৈবিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।    মিশেল ও ল্যাভিনিয়া ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন। তাদের মা জানিয়েছিলেন, তাদের বাবার নাম জেমস। তবে কৈশোরে জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলেও মিশেলের মনে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল, তিনি আসলেই তার জৈবিক বাবা কি না।    এই সন্দেহ থেকেই ২০২১ সালের শেষ দিকে মিশেল বাড়িতে করার জন্য একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট কিনেছিলেন। পরীক্ষার ফল ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হাতে আসে। ফলাফলে দেখা যায়, জেমস তার জৈবিক বাবা নন। এরপর নিজের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে মিশেল জানতে পারেন, তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্স নামে একজন ব্যক্তি, যিনি তাদের মায়ের পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন।    এরপর ল্যাভিনিয়াও নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রথমে ধারণা করেছিলেন, পরীক্ষার ফল মিশেলের ফলের সঙ্গে মিলবে। কিন্তু ফলাফল পাওয়ার পর সামনে আসে আরও বড় সত্য। দেখা যায়, মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার বাবা একই ব্যক্তি নন। ল্যাভিনিয়ার জৈবিক বাবা হিসেবে আরেক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়, যার নাম আর্থার।    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন। সাধারণভাবে একজন নারীর একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু বের হলে এবং সেগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দুই ভ্রূণ একই গর্ভে বেড়ে উঠে একই সময়ে জন্ম নিলে তাদের যমজ হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু তাদের জৈবিক বাবা আলাদা হয়।    বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রায় ২০টি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা অনেক সময় ধরা পড়ে না, কারণ পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ না থাকলে যমজ সন্তানদের আলাদাভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। যুক্তরাজ্যে মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার ঘটনাটিকে এ ধরনের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    ডিএনএ পরীক্ষার ফল শুধু তাদের পারিবারিক পরিচয়ই বদলে দেয়নি, দুই বোনের সম্পর্কেও গভীর আবেগ তৈরি করে। ল্যাভিনিয়া জানান, সত্যটি জানার পর তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশেল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও পরীক্ষার ফল তার দীর্ঘদিনের সন্দেহের সঙ্গে মিলে যায়। পরে ল্যাভিনিয়া তার জৈবিক বাবা আর্থারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন।    দুই বোনের এই ঘটনা বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘দ্য গিফট’ অনুষ্ঠানের নতুন মৌসুমেও উঠে এসেছে। সেখানে তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় তাদের জৈবিক পরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এলেও তারা একে অপরের জীবনে যমজ বোন হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ। চার দশকের বেশি সময় পর পাওয়া এই তথ্য তাদের পরিবারের অতীত সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করলেও, একই গর্ভে বেড়ে ওঠা এবং একসঙ্গে জীবন কাটানোর সম্পর্কটি তাদের কাছে আলাদা বাস্তবতা হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:২১