সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
অপরাধ

নেশার টাকার জন্য ১১ মাসের মেয়েকে ৪০ হাজারে বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:০
শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার।
শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার।

গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য নিজের ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা হামিদুল মিয়ার বিরুদ্ধে। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। 

 

পুলিশ ও পরিবারের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে শিশুটিকে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যান হামিদুল। এর আগে শিশুটির মা রুমানা আক্তারের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

 

পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী ৯ হাজার টাকা নেওয়ার পর হামিদুলের হাতে ৩১ হাজার টাকা পৌঁছায়। 

 

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

আটকের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছু অমিল রয়েছে। আজকের পত্রিকা ও যুগান্তর তিনজন আটকের কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ইত্তেফাক ও দীপ্ত নিউজ বাবা হামিদুলসহ চারজন আটকের কথা বলেছে। তাই তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত তথ্য না আসা পর্যন্ত সংখ্যাটি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।


ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। শিশুটিকে কার মাধ্যমে এবং কীভাবে বিক্রি করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার কথা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অপরাধ

View more
রফিকুল ইসলাম ফারুক এবং সানিয়াত খান বাপ্পা ছবি:সংগৃহীত।
ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা: ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।   সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ১৩ বছর আগে সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় এলো।   মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন—সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, মো. আজাদ ও শাহজাহান। আদালত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামিই পলাতক।   এ ছাড়া মো. সুজন, ছানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রুজবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।    হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। বাদী ওই অভিযোগপত্রে নারাজি দিলে আদালতের নির্দেশে পরে সিআইডি পুনঃতদন্ত করে। ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডি আটজনের বিরুদ্ধেই পুনরায় অভিযোগপত্র জমা দেয়।   দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৮:১
শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার।

নেশার টাকার জন্য ১১ মাসের মেয়েকে ৪০ হাজারে বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ

কমলাপুর রেলস্টেশনের সিসিটিভি

কমলাপুর রেলস্টেশনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ, সিসিটিভি দেখে জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকায় আগুন-ককটেলের নেপথ্যে কারা, সরাসরি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রামিসার মতো অপ্রতিম হত্যারও দ্রুত বিচার করা হবে: জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের বিচার রামিসা হত্যার মতোই দ্রুততম সময়ে শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পুলিশ আইনানুগ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করবে এবং বিচার বিভাগ মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার শেষ করার উদ্যোগ নেবে।    অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আরও একজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি। তবে আদালতে চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।    তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র ছিল অপ্রতিমের মায়ের আইফোন। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করা হয় এবং একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন উদ্ধার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে বয়স নিশ্চিত করা হচ্ছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে এবং কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়। এ ঘটনায় কিশোর অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতার দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমের পাশাপাশি আসামিদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি দেখছে। একই সঙ্গে ফরেনসিকসহ তদন্তের অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।    অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নামেন। তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার প্রসঙ্গে রামিসা হত্যার মামলার উদাহরণ দেন। চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলাটি মাত্র ছয় কার্যদিবসে বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি করে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়ায় যায়।    রোববারের বক্তব্যে অপ্রতিম হত্যার ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্রুত বিচারিক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিচার করবে আদালত; সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সহযোগিতা করবে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার বিভাগ মামলাটিকে গুরুত্ব দিলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।    অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের পেছনে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক কারণ থাকতে পারে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমসহ সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৬:৩৯
সিসিটিভি ফুটেজ সংগৃহীত

কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার, সিসিটিভিতে সূত্র পেয়ে আটক ৩

যাত্রীবাহী বাসে আগুন

নতুন করে মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে আগুন, হতাহতের তথ্য মেলেনি

সঞ্জয় কুমার দাস , প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভের ভিডিও, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে মেহেরপুরে যুবক আটক

মালিবাগে শপিং মল ছবি:সংগৃহীত
মালিবাগে শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জুমার পর আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়

রাজধানীর মালিবাগে ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এ ঘটনায় ব্যস্ত এলাকাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধান করছে।   প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে মালিবাগ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য প্রকাশ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। অন্যদিকে ঢাকা টাইমস পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিকেল প্রায় ৩টার দিকে মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন প্রধান সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দুটি ককটেল নিচের সড়কে নিক্ষেপ করে। তবে এসব বর্ণনা একই ঘটনার ভিন্ন বিবরণ কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার পর সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে জনবহুল এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই পথচারী, ব্যবসায়ী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।কারা ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   মালিবাগের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সেখানেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। জগন্নাথ হলের সামনের বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটানো হয়েছিল, সে বিষয়ে সে সময় বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেলেও তদন্তের আগে কোনো একটি বর্ণনাকে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। টিএসসি এলাকার বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে এসে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।   এর আগে একই দিন, ১৫ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের কাছেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে সমসাময়িক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় ঘোষণার পর। তবে রায়ের সঙ্গে বিস্ফোরণের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ; শুধু সময়ের নৈকট্য থেকে কোনো উদ্দেশ্য বা দায় নির্ধারণ করা যায় না।   ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালিবাগের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সাংগঠনিক বা অন্য ধরনের যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।   মালিবাগের সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থেকেই ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালিবাগের বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর নেই। কারা ককটেল নিক্ষেপ করেছে এবং কেন করেছে—এখন তদন্তের প্রধান প্রশ্ন সেটিই।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:২৪
দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি পেয়েছিলেন, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক

দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি পেয়েছিলেন, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক

মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমাম পূর্ব লন্ডনের বেডিংটনের ক্রয়ডন রোডের বাসিন্দা

লন্ডনে নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা, বাংলাদেশি যুবকের ৬ বছরের কারাদণ্ড

শারীরিক যন্ত্রণা, মানুষের দৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই নারী

স্বামীর অ্যাসিড হামলায় বিকৃত মুখ, মৃত্যুর অনুমতি চেয়ে নারীর আকুতি

0 Comments